বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ২৫
৪৮১. ক্রিয়ামূল, ক্রিয়ার কাল ও পুরুষ ইত্যাদি ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, টেলার) (২০১৯)
- কধ্বনিতত্ত্ব
- খবাক্যতত্ত্ব
- গপদক্রম
- ঘরূপতত্ত্ব
সঠিক উত্তর: ঘ. রূপতত্ত্ব
প্রশ্নটা ব্যাকরণের আলোচ্য ভাগ চিনতে বলছে। বাংলা ব্যাকরণের প্রধান ভাগ চারটি: ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব আর অর্থতত্ত্ব।
রূপতত্ত্বে শব্দ ও পদের গঠন আর রূপ বদলের আলোচনা হয়। শব্দ, পদ, লিঙ্গ, বচন, ধাতু বা ক্রিয়ামূল, প্রত্যয়, উপসর্গ, বিভক্তি, কারক, সমাস, ক্রিয়ার কাল ও পুরুষ, সবই এখানে পড়ে। তাই উত্তর রূপতত্ত্ব।
ধ্বনিতত্ত্বে আলোচিত হয় ধ্বনি, বর্ণ, সন্ধি, ণত্ব-ষত্ব বিধান। বাক্যতত্ত্বে বাক্যের গঠন, পদক্রম, বাচ্য, উক্তি, যতিচিহ্ন।
ফাঁদ হলো বাক্যতত্ত্ব। ক্রিয়া বাক্যে কাজ করে বলে অনেকে বাক্যতত্ত্ব ভাবেন, কিন্তু ক্রিয়ার রূপ, মানে কাল আর পুরুষভেদে রূপ বদল, রূপতত্ত্বের বিষয়।
মনে রাখুন: শব্দ বা পদের ভেতরের রূপ বদলের কথা হলে রূপতত্ত্ব; একাধিক পদ সাজানোর কথা হলে বাক্যতত্ত্ব।
৪৮২. দাপ্তরিক কোন শব্দটি ইংরেজি ভাষা থেকে আগত? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, টেলার) (২০১৯)
- কআইন
- খএজেন্ট
- গদাখিল
- ঘমুচলেকা
সঠিক উত্তর: খ. এজেন্ট
প্রশ্নটা দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত শব্দের উৎস নিয়ে। এজেন্ট ইংরেজি agent শব্দ থেকে এসেছে, মানে প্রতিনিধি। ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজি থেকে বহু দাপ্তরিক শব্দ বাংলায় আসে।
ইংরেজি থেকে আসা আরও দাপ্তরিক শব্দ: অফিস, ব্যাংক, চেক, ফাইল, রেজিস্টার, টেবিল, কমিশন।
আইন, দাখিল, মুচলেকা এসেছে মুসলিম শাসনামলে, আরবি-ফারসি-তুর্কি উৎস থেকে। তখন রাজকাজের ভাষা ছিল ফারসি, তাই আদালত, খাজনা, দলিল, নালিশের মতো প্রশাসনিক শব্দ এই উৎসের।
ফাঁদ হলো দাপ্তরিক শব্দ মানেই ইংরেজি ভেবে নেওয়া। আইন বা দাখিল দপ্তরে খুব চলে, কিন্তু সেগুলো ইংরেজি নয়।
মনে রাখুন: উচ্চারণে যে শব্দ সরাসরি ইংরেজি শোনায় (এজেন্ট = agent), সেটাই ইংরেজি; বাকিগুলো মুসলিম আমলের।
৪৮৩. গ্রিক শব্দ কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, টেলার) (২০১৯)
- কতুফান
- খলুঙ্গি
- গদাম
- ঘকুপন
সঠিক উত্তর: গ. দাম
প্রশ্নটা বিদেশি শব্দের উৎস নিয়ে। দাম গ্রিক শব্দ; গ্রিক মুদ্রার নাম drachma থেকে এর উৎপত্তি ধরা হয়। বাংলায় গ্রিক শব্দ খুব কম, পরীক্ষায় তিনটির নাম সবচেয়ে বেশি আসে: দাম, কেন্দ্র, সুড়ঙ্গ।
অন্য বিকল্পগুলো ভিন্ন ভাষার। লুঙ্গি বর্মি বা মিয়ানমারের ভাষার শব্দ; কুপন ফরাসি coupon থেকে; তুফান ব্যাকরণ বইয়ে আরবি শব্দ হিসেবে দেখানো হয়।
উৎস মনে রাখতে ছোট দল বানিয়ে পড়া ভালো: বর্মি লুঙ্গি, ফুঙ্গি; ফরাসি কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ; গ্রিক দাম, কেন্দ্র, সুড়ঙ্গ।
ফাঁদ হলো কুপন। ইউরোপীয় শোনায় বলে অনেকে গ্রিক ভাবেন, কিন্তু এটি ফরাসি।
মনে রাখুন: গ্রিক তিন: দাম, কেন্দ্র, সুড়ঙ্গ।
৪৮৪. কোনটি ক্ষুধার্ত শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, টেলার) (২০১৯)
- কক্ষুধা + ঋত
- খক্ষুৎ + আর্ত
- গক্ষুধ + আর্ত
- ঘক্ষুধা + আর্ত
সঠিক উত্তর: ক. ক্ষুধা + ঋত
প্রশ্নটা স্বরসন্ধি যাচাই করছে। সাধারণ নিয়মে অ বা আ-এর পরে ঋ থাকলে দুটো মিলে অর্ হয়, যেমন মহা যোগ ঋষি সমান মহর্ষি। কিন্তু পরে ঋত শব্দ থাকলে অ বা আ আর ঋ মিলে হয় আর্, আর র্ রেফ হয়ে পরের বর্ণের মাথায় বসে।
ক্ষুধা শব্দের শেষে আ, তার পরে ঋত। আ আর ঋ মিলে আর্, আর র রেফ হয়ে ত-এর মাথায়: ক্ষুধা যোগ ঋত সমান ক্ষুধার্ত। ঋত এখানে পীড়িত অর্থে।
একই নিয়মে: তৃষ্ণা যোগ ঋত সমান তৃষ্ণার্ত, শীত যোগ ঋত সমান শীতার্ত, শোক যোগ ঋত সমান শোকার্ত।
ফাঁদ হলো ক্ষুধা যোগ আর্ত। শেষ রূপে আর্ত দেখা যায় বলে অনেকে আর্তকে আলাদা শব্দ ধরেন, কিন্তু সন্ধিবিচ্ছেদে মূল শব্দ ঋত, আর আ ও ঋ মিলেই আর্ হয়েছে।
মনে রাখুন: শেষে আর্ত থাকলে সন্ধিবিচ্ছেদ প্রায় সবসময় ... + ঋত: শীতার্ত, তৃষ্ণার্ত, ক্ষুধার্ত।
৪৮৫. কোনটি শুদ্ধ বানান? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, টেলার) (২০১৯)
- কনৈঋিত
- খনৈঋত
- গনৈর্ঋত
- ঘনৈহৃত
সঠিক উত্তর: গ. নৈর্ঋত
প্রশ্নটা নৈর্ঋত বানান যাচাই করছে। নৈর্ঋত মানে দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ। শব্দটা এসেছে নির্ঋতি থেকে, যিনি পুরাণে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের অধিপতি।
নির্ঋতি শব্দে নি, তারপর র্ রেফ, তারপর ঋ। তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে প্রথম ই বৃদ্ধি পেয়ে ঐ হয়, তাই নৈ; র্ আর ঋ আগের মতোই থাকে। ফলে বানান ন-এ ঐ-কার, তারপর রেফ যুক্ত ঋ, শেষে ত: নৈর্ঋত।
এখানে মূল কৌশল হলো র্ আর ঋ দুটোই রাখা। রেফ বাদ দিলে নৈঋত হয়, যা ভুল; আবার ঋ-এর জায়গায় হৃ লিখলে উচ্চারণ কাছাকাছি হলেও বানান ভুল।
একইভাবে অন্য কোণের নাম: ঈশান উত্তর-পূর্ব, অগ্নি দক্ষিণ-পূর্ব, বায়ু উত্তর-পশ্চিম, আর নৈর্ঋত দক্ষিণ-পশ্চিম।
মনে রাখুন: নির্ঋতি থেকে নৈর্ঋত: র্ আর ঋ দুটোই থাকবে।
৪৮৬. 'ভিষক' শব্দের সঠিক অর্থ কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, টেলার) (২০১৯)
- কদরবেশ
- খচিকিৎসক
- গওঝা
- ঘকবিরাজ
সঠিক উত্তর: খ. চিকিৎসক
প্রশ্নটা শব্দের অর্থ জানতে চায়। ভিষক একটি সংস্কৃত শব্দ, মানে চিকিৎসক বা বৈদ্য।
শব্দটা চিকিৎসা-সংক্রান্ত পুরোনো লেখায় বেশি পাওয়া যায়। বাংলায় এর সমার্থক শব্দ বৈদ্য, চিকিৎসক, ডাক্তার।
দরবেশ মানে মুসলিম সাধক; ওঝা মানে যে ঝাড়ফুঁক বা মন্ত্রে রোগ সারানোর দাবি করে; কবিরাজ মানে আয়ুর্বেদ মতে চিকিৎসা করা ব্যক্তি।
ফাঁদ হলো কবিরাজ। কবিরাজও এক ধরনের চিকিৎসক, কিন্তু ভিষক শব্দের সাধারণ অর্থ চিকিৎসক, নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি নয়; তাই চিকিৎসকই সবচেয়ে সঠিক।
মনে রাখুন: ভিষক = বৈদ্য = চিকিৎসক।
৪৮৭. নিচের কোনটি মুণ্ডারী ভাষার শব্দ? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, জনতা ও রূপালী): অফিসার (২০১৯)
- কচাকু
- খচিনি
- গচাকর
- ঘচুলা
সঠিক উত্তর: ঘ. চুলা
প্রশ্নটা শব্দের উৎস নিয়ে। বাংলা ভাষার দেশি শব্দ হলো এদেশের আদি অধিবাসী, যেমন কোল, মুণ্ডা, সাঁওতাল, দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে আসা শব্দ। মুণ্ডারী ভাষা থেকে আসা দেশি শব্দের প্রচলিত উদাহরণ হলো চুলা, মানে উনুন।
বাংলা ব্যাকরণ বইয়ের পরিচিত উদাহরণ মনে রাখুন: কুড়ি এসেছে কোল ভাষা থেকে, পেট এসেছে তামিল থেকে, আর চুলা এসেছে মুণ্ডারী থেকে।
বাকি তিনটি বিদেশি শব্দ: চাকু তুর্কি; চাকরকে কোনো বইয়ে তুর্কি, কোনোটিতে ফারসি উৎসের বলা হয়, তবে দেশি নয়; আর চিনি এসেছে চীন দেশের নাম থেকে, তাই চীনা শব্দ হিসেবে পড়ানো হয়। চ দিয়ে শুরু হওয়া চারটি শব্দ পাশাপাশি দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
মনে রাখুন: দেশি শব্দের তিন জোড়া মুখস্থ রাখুন: কুড়ি কোল, পেট তামিল, চুলা মুণ্ডারী।
৪৮৮. 'রফতানি' কোন ভাষার শব্দ? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, জনতা ও রূপালী): অফিসার (২০১৯)
- কআরবি
- খফারসি
- গফরাসি
- ঘগুজরাটি
সঠিক উত্তর: খ. ফারসি
প্রশ্নটা শব্দের উৎস নিয়ে। ‘রফতানি’ শব্দটি এসেছে ফারসি ভাষা থেকে। মুসলিম শাসনামলে প্রায় ছয়শো বছর ফারসি ছিল রাজদরবার, খাজনা আর ব্যবসার ভাষা, তাই বাণিজ্য ও প্রশাসনের বহু শব্দ বাংলায় ফারসি থেকে এসেছে।
রফতানির জোড়া শব্দ ‘আমদানি’ও ফারসি। একই দলে পড়ে দোকান, বাজার, সওদাগর, চাকরি, দপ্তর, খাজনা, কারখানা। এগুলো মনে রাখলে ব্যবসা-বাণিজ্যের শব্দ দেখলেই ফারসি সন্দেহ করা যায়।
বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানে শব্দটি এখন ‘রপ্তানি’ লেখা হয়, তবে উৎস একই: ফারসি।
ফাঁদ হলো আরবি ও ফারসি গুলিয়ে ফেলা, আর ‘ফারসি’ ও ‘ফরাসি’ নামের মিল। ফরাসি থেকে এসেছে কার্তুজ, রেস্তোরাঁ, বুর্জোয়ার মতো অল্প কিছু শব্দ।
মনে রাখুন: ব্যবসা, দপ্তর, খাজনার শব্দ দেখলে আগে ফারসি ভাবুন: আমদানি-রফতানি দুটোই ফারসি।
৪৮৯. কোনটি পারিভাষিক শব্দ? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, জনতা ও রূপালী): অফিসার (২০১৯)
- কইনসান
- খটোপর
- গবিশ্ববিদ্যালয়
- ঘডাক্তারখানা
সঠিক উত্তর: গ. বিশ্ববিদ্যালয়
পারিভাষিক শব্দ মানে বিদেশি, বিশেষ করে ইংরেজি পরিভাষার বদলে তৈরি করা বাংলা শব্দ। জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রশাসন ও শিক্ষার ইংরেজি শব্দের জন্য বাংলায় যে প্রতিশব্দ বানানো হয়েছে, সেগুলোই পারিভাষিক শব্দ।
বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটি ইংরেজি University-এর পরিভাষা হিসেবে তৈরি। একইভাবে Secretariat থেকে সচিবালয়, Oxygen থেকে অম্লজান, Hydrogen থেকে উদজান।
বাকি তিনটি পরিভাষা নয়। ইনসান আরবি শব্দ, টোপর দেশি শব্দ, আর ডাক্তারখানা হলো ইংরেজি ডাক্তার ও ফারসি খানা মিলে মিশ্র শব্দ।
ফাঁদ হলো ডাক্তারখানা: এতে ইংরেজি অংশ থাকায় অনেকে পরিভাষা ভাবেন, কিন্তু এটা দুই ভাষার শব্দ জোড়া দেওয়া মিশ্র শব্দ, ইংরেজির অনুবাদ নয়।
মনে রাখুন: শব্দটির পেছনে কোনো ইংরেজি শব্দের অনুবাদ খুঁজুন: সচিবালয়, অম্লজান, বিশ্ববিদ্যালয় সবই পরিভাষা।
৪৯০. দ্বিতীয়বার ব্যবহারের সময় ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তন দ্বারা কোন শব্দটি গঠন হয়েছে? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, জনতা ও রূপালী): অফিসার (২০১৯)
- কফিটফাট
- খসরাসরি
- গছটফট
- ঘখটাখট
সঠিক উত্তর: গ. ছটফট
প্রশ্নটা দ্বিরুক্ত শব্দ গঠন নিয়ে। একটা শব্দ দুবার বলার সময় দ্বিতীয়বারে কখনো স্বরধ্বনি বদলায়, কখনো ব্যঞ্জনধ্বনি বদলায়। এখানে জানতে চাওয়া হয়েছে ব্যঞ্জন বদলের উদাহরণ।
ছটফট শব্দে প্রথম অংশ ছট, দ্বিতীয় অংশে প্রথম ব্যঞ্জন ছ বদলে হয়েছে ফ, কিন্তু স্বর অ একই আছে। তাই এটা ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তন। একই রকম নিশপিশ, যেখানে ন বদলে প হয়েছে।
ফিটফাট শব্দে ব্যঞ্জন ফ আর ট একই আছে, বদলেছে শুধু স্বর: ই থেকে আ। তাই ফিটফাট স্বরধ্বনির পরিবর্তনের উদাহরণ, যেমন মিটমাট, চুপচাপ।
ফাঁদ হলো ফিটফাট: দুই অংশ আলাদা দেখায় বলে অনেকে এটাই বেছে নেন। কোন ধ্বনি বদলেছে, তা অক্ষর ধরে মিলিয়ে দেখলেই ভুল এড়ানো যায়।
মনে রাখুন: অক্ষর মিলিয়ে দেখুন: ব্যঞ্জন বদলালে ছটফট, নিশপিশ; স্বর বদলালে ফিটফাট, মিটমাট।
৪৯১. 'বিজ্ঞান' শব্দের 'জ্ঞ ' কোন বর্ণদ্বয়ের সমন্বয়ে ঘটেছে? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, জনতা ও রূপালী): অফিসার (২০১৯)
- কজ + ঞ
- খঞ + জ
- গজ +ণ
- ঘণ +জ
সঠিক উত্তর: ক. জ + ঞ
যুক্তবর্ণ জ্ঞ লেখায় একটি মনে হলেও এটি দুটি বর্ণের জোড়া: জ আর ঞ। অর্থাৎ জ্ঞ মানে জ প্লাস ঞ।
উচ্চারণে কিন্তু জ বা ঞ কোনোটাই স্পষ্ট শোনা যায় না; বাংলায় জ্ঞ উচ্চারিত হয় অনেকটা গ্যঁ-এর মতো। তাই বিজ্ঞান বলি বিগ্যাঁন। উচ্চারণ দেখে বর্ণ চেনা যায় না, এটাই ঝামেলার জায়গা।
একই রকম আরেকটি বিভ্রান্তিকর যুক্তবর্ণ ক্ষ, যা ক আর ষ মিলে তৈরি। জ্ঞান, যজ্ঞ, প্রজ্ঞা সব শব্দেই জ্ঞ মানে জ আর ঞ।
ফাঁদ হলো ক্রম উল্টে ঞ আর জ ধরা, কিংবা ণ বসানো। মনে রাখুন ঞ হলো চ-বর্গের নাসিক্য, তাই চ-বর্গের জ-এর সঙ্গেই সে বসে; ণ ট-বর্গের।
মনে রাখুন: ঞ চ-বর্গের নাসিক্য, তাই চ-বর্গের জ-এর সঙ্গে জুড়ে জ্ঞ; ণ ট-বর্গের, জ-এর সঙ্গে বসে না।
৪৯২. 'বিলাতি> বিলিতি' -কিসের উদাহরণ? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, জনতা ও রূপালী): অফিসার (২০১৯)
- কমধ্য স্বরাগম
- খঅপিনিহিতি
- গপ্রগত
- ঘমধ্যগত
সঠিক উত্তর: ঘ. মধ্যগত
প্রশ্নটা ধ্বনি পরিবর্তনের স্বরসঙ্গতি নিয়ে। স্বরসঙ্গতি মানে পাশাপাশি দুটি ভিন্ন স্বরের একটি অন্যটির প্রভাবে বদলে গিয়ে কাছাকাছি হয়ে যাওয়া। কোন দিক থেকে প্রভাব আসছে, সেই অনুযায়ী এর চার ভাগ: প্রগত, পরাগত, মধ্যগত, অন্যোন্য।
বিলাতি থেকে বিলিতি: এখানে মাঝের লা-এর আ বদলে হয়েছে ই। শব্দের মাঝের স্বর আগের ই আর পরের ই, দুই দিকের প্রভাবে বদলেছে, তাই এটা মধ্যগত স্বরসঙ্গতি।
তুলনায় প্রগত হলো আগের স্বরের প্রভাবে পরের স্বর বদলানো, যেমন মুলা থেকে মুলো; পরাগত হলো পরের স্বরের প্রভাবে আগেরটা বদলানো, যেমন দেশি থেকে দিশি; অন্যোন্য হলো দুটোই পরস্পরের প্রভাবে বদলানো, যেমন মোজা থেকে মুজো।
ফাঁদ হলো মধ্য স্বরাগম আর অপিনিহিতি। মধ্য স্বরাগমে নতুন স্বর ঢোকে, যেমন রত্ন থেকে রতন; অপিনিহিতিতে ই বা উ আগেভাগে উচ্চারিত হয়, যেমন আজি থেকে আইজ। বিলিতিতে নতুন কোনো স্বর আসেনি, শুধু একটা স্বর বদলেছে।
মনে রাখুন: নতুন স্বর ঢুকলে স্বরাগম, স্বর বদলালে স্বরসঙ্গতি; মাঝের স্বর বদলালে মধ্যগত।
৪৯৩. 'মধ্য স্বরাগম' -এর অপর নাম কী? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, জনতা ও রূপালী): অফিসার (২০১৯)
- কঅসমীকরণ
- খবিপ্রকর্ষ
- গবিষমীভবন
- ঘসমীভবন
সঠিক উত্তর: খ. বিপ্রকর্ষ
মধ্য স্বরাগম মানে উচ্চারণ সহজ করতে যুক্ত ব্যঞ্জনের মাঝখানে একটা স্বরধ্বনি ঢুকে পড়া। যেমন রত্ন থেকে রতন, ধর্ম থেকে ধরম, স্বপ্ন থেকে স্বপন, প্রীতি থেকে পিরীতি।
এই প্রক্রিয়ার অপর নাম বিপ্রকর্ষ, আবার স্বরভক্তিও বলা হয়। বিপ্রকর্ষ শব্দের অর্থ টেনে আলাদা করা: যুক্ত দুটি ব্যঞ্জনকে মাঝে স্বর বসিয়ে আলাদা করে দেওয়া হয়।
বাকি তিনটি ভিন্ন প্রক্রিয়া। সমীভবন হলো দুটি ভিন্ন ব্যঞ্জন একরকম হয়ে যাওয়া, যেমন জন্ম থেকে জম্ম। বিষমীভবন হলো দুটি একই ব্যঞ্জনের একটি বদলে যাওয়া, যেমন শরীর থেকে শরীল। অসমীকরণে একই ধ্বনির পুনরাবৃত্তি এড়াতে মাঝে স্বর বসে, যেমন ধপধপ থেকে ধপাধপ।
ফাঁদ হলো সমীভবন ও অসমীকরণ নামের মিল। মনে রাখুন, মধ্য স্বরাগমের একমাত্র অন্য নাম বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
মনে রাখুন: রত্ন থেকে রতন, স্বপ্ন থেকে স্বপন: যুক্তবর্ণ ভেঙে মাঝে স্বর এলেই বিপ্রকর্ষ।
৪৯৪. কোনটি বানানটি সঠিক? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, জনতা ও রূপালী): অফিসার (২০১৯)
- কনশ্ট
- খকৃশক
- গওষ্ঠ
- ঘকণ্টক
সঠিক উত্তর: গ. ওষ্ঠ
প্রশ্নটা ষত্ব-বিধি নিয়ে। তৎসম শব্দে ঋ, র, ক বা অ-আ ছাড়া অন্য স্বরের পরে স সাধারণত ষ হয়, আর ষ-এর সঙ্গে ট-বর্গের ট বা ঠ যুক্ত হলে লেখা হয় ষ্ট বা ষ্ঠ।
ওষ্ঠ শব্দে ও-এর পরে ষ, তার সঙ্গে ঠ যুক্ত হয়ে ষ্ঠ; তাই ওষ্ঠ শুদ্ধ। নশ্ট ভুল, শুদ্ধ নষ্ট, কারণ ট-এর সঙ্গে ষ বসে, শ নয়। কৃশক ভুল, শুদ্ধ কৃষক, কারণ ঋ-কারের পরে ষ হয়।
লক্ষ করুন, কণ্টক বানানটিও শুদ্ধ। ণত্ব-বিধি বলে, ট-বর্গের ট ঠ ড ঢ-এর আগে নাসিক্য বর্ণ সবসময় ণ হয়; তাই কণ্টক, ঘণ্টা, লুণ্ঠন। ফলে ছাপা প্রশ্ন অনুযায়ী দুটি অপশন সঠিক; পরীক্ষার কী ওষ্ঠ ধরেছে।
মূল ফাঁদ হলো শ আর ষ গুলিয়ে ফেলা। ট বা ঠ-এর আগে সবসময় ষ, আর ঋ-কারের পরে ষ: এই দুটি নিয়ম মনে রাখলেই নষ্ট, কৃষক, ওষ্ঠ ঠিক হয়।
মনে রাখুন: ট-বর্গের আগে নাসিক্য হলে ণ (কণ্টক, ঘণ্টা), শিস হলে ষ (নষ্ট, ওষ্ঠ, কষ্ট)।
৪৯৫. 'জগজ্জীবন' শব্দটি সন্ধির কোন নিয়ম অনুসরণে করা হয়েছে? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, জনতা ও রূপালী): অফিসার (২০১৯)
- কত + ঝ = জ্জ
- খদ + জ =জ্জ
- গদ + ঝ =জ্জ
- ঘত + জ =জ্জ
সঠিক উত্তর: ঘ. ত + জ =জ্জ
জগজ্জীবন শব্দটি ব্যঞ্জনসন্ধিতে তৈরি: জগৎ আর জীবন। জগৎ শব্দের শেষে আছে খণ্ড-ত, যা আসলে ত-এর একটি রূপ। তাই সন্ধির হিসাবে এটা ত প্লাস জ।
নিয়মটা হলো: ত বা দ-এর পরে চ বা ছ থাকলে ত বা দ বদলে চ হয়, আর জ বা ঝ থাকলে ত বা দ বদলে জ হয়। এখানে ত-এর পরে জ, তাই ত হয়ে গেল জ, আর পরের জ-এর সঙ্গে মিলে হলো জ্জ।
একই নিয়মে উৎ আর জ্বল মিলে উজ্জ্বল, বিপৎ আর জাল মিলে বিপজ্জাল, সৎ আর জন মিলে সজ্জন।
ফাঁদ হলো দ বেছে নেওয়া। জগৎ শব্দে দ নেই, খণ্ড-ত আছে; আর জীবন শুরু হয়েছে জ দিয়ে, ঝ দিয়ে নয়। তাই সঠিক জোড়া ত প্লাস জ।
মনে রাখুন: ত বা দ-এর পরে জ এলে জ্জ: উৎ + জ্বল = উজ্জ্বল, সৎ + জন = সজ্জন।
৪৯৬. 'গবেষণা ' শব্দের সঠিক সন্ধি -বিচ্ছেদ কোনটি? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, জনতা ও রূপালী): অফিসার (২০১৯)
- কগো + এষণা
- খগব + এষণা
- গগো + ষণা
- ঘগ + বেষণা
সঠিক উত্তর: ক. গো + এষণা
গবেষণা শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ গো আর এষণা। গো মানে গরু, এষণা মানে খোঁজা। প্রাচীনকালে হারানো গরু খোঁজা থেকে শব্দটি এসেছে, পরে অর্থ বদলে দাঁড়িয়েছে অনুসন্ধান বা গবেষণা।
এটা স্বরসন্ধির অযাদি নিয়ম। ও-কারের পরে অন্য স্বর থাকলে ও বদলে হয় অব। তাই গো-এর ও বদলে অব, মানে গব, আর তার সঙ্গে এষণা যোগ হয়ে গবেষণা।
একই নিয়মে পো আর অন মিলে পবন, ভো আর অন মিলে ভবন। আর এ-কারের পরে স্বর এলে এ হয় অয়, যেমন নে আর অন মিলে নয়ন।
ফাঁদ হলো গব প্লাস এষণা। সন্ধি-বিচ্ছেদে মূল শব্দ ফিরিয়ে দিতে হয়; গব কোনো মূল শব্দ নয়, এটা গো-এর বদলে যাওয়া রূপ।
মনে রাখুন: পবন, ভবন, গবেষণা: তিনটিতেই ও বদলে অব, মূল রূপ পো, ভো, গো।
৪৯৭. কোনটির শেষে স্ত্রীবাচক শব্দ যোগ করে লিঙ্গান্তর করতে হয়? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, জনতা ও রূপালী): অফিসার (২০১৯)
- কপুলিশ
- খকবি
- গগয়লা
- ঘকর্মী
সঠিক উত্তর: গ. গয়লা
পুরুষবাচক থেকে স্ত্রীবাচক শব্দ তৈরির কয়েকটি উপায় আছে: প্রত্যয় যোগ করে, আলাদা শব্দ ব্যবহার করে, আর শব্দের আগে বা শেষে একটি স্ত্রীবাচক শব্দ জুড়ে দিয়ে। প্রশ্নটা শেষে জুড়ে দেওয়ার উদাহরণ চাইছে।
গয়লা শব্দের শেষে বউ যোগ করে হয় গয়লা বউ। একইভাবে জেলে থেকে জেলে বউ, বোনপো থেকে বোনঝি, ঠাকুরপো থেকে ঠাকুরঝি।
অন্যদিকে পুলিশ ও কবি শব্দে স্ত্রীবাচক শব্দ বসে আগে: মহিলা পুলিশ, মহিলা কবি। আর কর্মী শব্দে প্রত্যয় যোগ হয়: কর্মী থেকে কর্মিণী।
ফাঁদ হলো পুলিশ আর কবি: এগুলোতেও শব্দ যোগ হয়, তবে শুরুতে, শেষে নয়। আগে না শেষে, এই পার্থক্যটাই প্রশ্নের মূল।
মনে রাখুন: শেষে শব্দ যোগের চেনা উদাহরণ: গয়লা বউ, জেলে বউ, বোনঝি, ঠাকুরঝি।
৪৯৮. কোনটি যুগ্মরীতির দ্বিরুক্ত? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, জনতা ও রূপালী): অফিসার (২০১৯)
- কগরম গরম
- খটুপটাপ
- গঝমঝম
- ঘঅতিক্রম অর্থে
সঠিক উত্তর: খ. টুপটাপ
দ্বিরুক্ত শব্দ দুই রকমে তৈরি হতে পারে। একটি হলো একই শব্দ হুবহু দুবার বলা, যেমন গরম গরম, ঝমঝম। অন্যটি যুগ্মরীতি, যেখানে দুটি শব্দ জোড়া লাগে কিন্তু দ্বিতীয়টি হুবহু এক নয়।
যুগ্মরীতিতে দুটি অংশ জোড়া লাগে, কিন্তু দ্বিতীয়টি প্রথমটির হুবহু নকল নয়। কখনো সমার্থক বা বিপরীত শব্দ জোড়া লাগে, যেমন ধনদৌলত, আসা-যাওয়া; কখনো একই ধ্বনির শব্দ খানিকটা বদলে জোড়া লাগে, যেমন টুপটাপ।
টুপটাপ শব্দে টুপ দ্বিতীয়বার এসেছে টাপ হয়ে: উ বদলে আ। শব্দটি হুবহু পুনরাবৃত্তি নয়, স্বর বদলে জোড়া; তাই এটা যুগ্মরীতির দ্বিরুক্ত।
ফাঁদ হলো ঝমঝম। ধ্বনির শব্দ বলে এটাকেও বিশেষ ভাবা হয়, কিন্তু ঝম অবিকৃত দুবার এসেছে, তাই এটা হুবহু পুনরাবৃত্তি। গরম গরমও একই রকম।
মনে রাখুন: দ্বিতীয় অংশ হুবহু এক হলে সাধারণ পুনরাবৃত্তি; একটু বদলালে বা ভিন্ন শব্দ জুড়লে যুগ্মরীতি।
৪৯৯. 'উদ্বেল' শব্দটি কী অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়েছে? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, জনতা ও রূপালী): অফিসার (২০১৯)
- কআবেগ অর্থে
- খবীপ্সা অর্থে
- গসামীপ্য অর্থে
- ঘঅতিক্রম অর্থে
সঠিক উত্তর: ঘ. অতিক্রম অর্থে
অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদ একটি অব্যয়, আর সেই অব্যয়ের অর্থই সমাসের প্রধান অর্থ। উপ, প্রতি, অনু, উৎ, নির-এর মতো অব্যয় নানা অর্থে বসে: সামীপ্য, বীপ্সা, অভাব, অতিক্রম ইত্যাদি।
উদ্বেল শব্দের ব্যাসবাক্য বেলাকে অতিক্রম করে। এখানে উৎ অব্যয়টি অতিক্রম অর্থ দিচ্ছে। বেলা মানে তীর বা কূল; কূল ছাপিয়ে যাওয়া মানেই উদ্বেল।
একই অর্থে উচ্ছৃঙ্খল, মানে শৃঙ্খলাকে অতিক্রম করে; আর অতিমাত্র, মানে মাত্রাকে অতিক্রম করে। তুলনায় সামীপ্য অর্থে উপকূল, মানে কূলের কাছে; বীপ্সা অর্থে প্রতিদিন, মানে দিন দিন।
ফাঁদ হলো আবেগ অর্থে। উদ্বেল শব্দটি আবেগের প্রসঙ্গে বেশি ব্যবহৃত হয়, যেমন আবেগে উদ্বেল; কিন্তু সমাসের অর্থ ঠিক হয় অব্যয়ের কাজ দেখে, আর আবেগ অব্যয়ীভাবের কোনো অর্থ-শ্রেণিই নয়।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে ‘অতিক্রম করে’ থাকলে অতিক্রম অর্থে অব্যয়ীভাব: উদ্বেল, উচ্ছৃঙ্খল, অতিমাত্র।
৫০০. 'ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে' - বাক্যটিতে 'ফুলে ফুলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, জনতা ও রূপালী): অফিসার (২০১৯)
- ককর্মে ১ মা
- খঅধিকরণে ৭মী
- গকরণে ৭মী
- ঘকর্তায় ৭মী
সঠিক উত্তর: গ. করণে ৭মী
কারক ঠিক করতে ক্রিয়াকে প্রশ্ন করতে হয়। এখানে ক্রিয়া ভরেছে। ঘর কী দিয়ে ভরেছে? ফুল দিয়ে। যা দিয়ে বা যার সাহায্যে কাজটি হয়, তা করণ কারক।
বিভক্তি দেখি শব্দের রূপ থেকে। ফুল শব্দের সঙ্গে এ যুক্ত হয়ে হয়েছে ফুলে। এ, য়, তে বিভক্তিকে সপ্তমী ধরা হয়। তাই ফুলে ফুলে হলো করণে সপ্তমী।
একই রকম উদাহরণ: টাকায় কী না হয়, কিংবা তেলে মাছ ভাজা। এখানেও কী দিয়ে প্রশ্নের উত্তর মেলে, আর শব্দে এ বিভক্তি।
ফাঁদ হলো অধিকরণ। এ বিভক্তি দেখে অনেকে স্থান ভাবেন, কিন্তু অধিকরণ জবাব দেয় কোথায় প্রশ্নের। এখানে কোথায় ভরেছে প্রশ্নের উত্তর ঘর, ফুল নয়।
মনে রাখুন: কী দিয়ে প্রশ্নের উত্তর করণ, কোথায় প্রশ্নের উত্তর অধিকরণ; এ-তে-য় বিভক্তি সপ্তমী।