বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ২১
৪০১. ডাক ও খনার বচনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট ভূমিকা রেখেছেন- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গরামমোহন রায়
- ঘবঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
এই প্রশ্নের ছাপা বাক্যটি ভাঙা, তাই অর্থ পুরো পরিষ্কার নয়। প্রচলিত উত্তর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, যিনি বাংলা গদ্যকে সুশৃঙ্খল ও শিল্পসম্মত রূপ দেওয়ায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন।
বিদ্যাসাগরকে বলা হয় বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক শিল্পী। তিনি বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক ব্যবহার শুরু করেন এবং বাক্যে ছন্দ ও ভারসাম্য আনেন। তাঁর বিখ্যাত রচনা বেতাল পঞ্চবিংশতি, শকুন্তলা ও সীতার বনবাস।
ডাক ও খনার বচন বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন লোকজ উপাদান। ডাকের বচনে আছে মানুষের আচরণ ও জীবনযাত্রার উপদেশ, আর খনার বচনে আছে কৃষি, আবহাওয়া ও জ্যোতিষবিষয়ক জ্ঞান। এগুলো মুখে মুখে প্রচলিত ছিল।
রবীন্দ্রনাথ, রামমোহন ও বঙ্কিমচন্দ্রও গদ্যে বড় অবদান রেখেছেন, তাই অপশনগুলো বিভ্রান্তিকর। রামমোহন ছিলেন বিতর্কমূলক গদ্যের পথিকৃৎ, বঙ্কিমচন্দ্র প্রথম সার্থক উপন্যাসিক, আর যতিচিহ্নসহ শিল্পিত গদ্যের কৃতিত্ব বিদ্যাসাগরের।
মনে রাখুন: বাংলা গদ্যের জনক বা যতিচিহ্ন দেখলেই বিদ্যাসাগর।
৪০২. 'খনার বচন'-এর মূলভাব কী? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কলৌকিক প্রণয়সংগীত
- খশুদ্ধ জীবনযাপন রীতি
- গসামাজিক মঙ্গলবোধ
- ঘরাষ্ট্র পরিচালনার নীতি
সঠিক উত্তর: খ. শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি
খনার বচন হলো ছোট ছোট ছড়া বা প্রবাদধর্মী উক্তি, যেগুলো খনা নামের এক কিংবদন্তি নারীর নামে প্রচলিত। এগুলো মুখে মুখে ছড়িয়েছে, তাই লোকসাহিত্যের অংশ।
এদের বিষয় মূলত কৃষিকাজ, আবহাওয়া, ঋতু, স্বাস্থ্য আর দৈনন্দিন আচরণ। যেমন কখন কোন ফসল বুনতে হবে, কেমন আকাশ দেখলে বৃষ্টি হবে, কতটা খেতে হবে। অর্থাৎ বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে সঠিকভাবে জীবন চালানোর উপদেশ।
তাই খনার বচনের মূলভাব হিসেবে শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি সবচেয়ে উপযুক্ত। বিখ্যাত উদাহরণ: যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্যি রাজার পুণ্যি দেশ।
এগুলো প্রেমের গান নয়, রাষ্ট্র চালানোর নীতিও নয়। সামাজিক মঙ্গলবোধ শুনতে কাছাকাছি লাগলেও বচনগুলো মূলত ব্যক্তি ও কৃষকের ব্যবহারিক জীবনের পরামর্শ।
মনে রাখুন: লোকসাহিত্যের ধারা মনে রাখুন: খনার বচন = কৃষি ও জীবনযাপনের উপদেশ; মৈমনসিংহ গীতিকা = লৌকিক প্রণয়।
৪০৩. সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য কোন পদে বেশী বেশী দেখা যায়? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কবিশেষ্য ও ক্রিয়া
- খবিশেষণ ও ক্রিয়া
- গবিশেষ্য ও বিশেষণ পদে
- ঘক্রিয়া ও সর্বনামে
সঠিক উত্তর: ঘ. ক্রিয়া ও সর্বনামে
সাধু আর চলিত ভাষার পার্থক্য সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদে। সাধু ভাষায় এ দুটি পদের রূপ পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘ, চলিতে সংক্ষিপ্ত।
ক্রিয়াপদের উদাহরণ: সাধুতে করিয়াছিলাম, চলিতে করেছিলাম; সাধুতে যাইতেছে, চলিতে যাচ্ছে। সর্বনামের উদাহরণ: তাহারা থেকে তারা, যাহা থেকে যা, ইহা থেকে এটা।
বিশেষ্য আর বিশেষণ পদে সাধারণত বড় পরিবর্তন হয় না; শুধু কিছু তৎসম শব্দ চলিতে তদ্ভব রূপ নেয়। তাই মূল পার্থক্যের জায়গা সর্বনাম ও ক্রিয়া।
অনেকে বিশেষ্য ও ক্রিয়া বেছে নেন, কারণ ক্রিয়ার পার্থক্য চোখে পড়ে; কিন্তু সঙ্গী পদটি বিশেষ্য নয়, সর্বনাম।
মনে রাখুন: সাধু থেকে চলিত করতে হলে আগে ক্রিয়া আর সর্বনাম বদলান।
৪০৪. কোনটি মৌলিক শব্দ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কমানব
- খগোলাপ
- গএকাঙ্ক
- ঘধাতব
সঠিক উত্তর: খ. গোলাপ
মৌলিক শব্দ হলো যে শব্দকে আর ভাঙা বা বিশ্লেষণ করা যায় না, যেমন গোলাপ, নাক, লাল, হাত। এদের ভেতরে আলাদা প্রকৃতি ও প্রত্যয় বা সন্ধি নেই।
বাকি তিনটি সাধিত শব্দ। মানব এসেছে মনু থেকে, অপত্য অর্থে প্রত্যয় যোগে; ধাতব এসেছে ধাতু থেকে, প্রত্যয় যোগে; একাঙ্ক হলো এক আর অঙ্ক মিলে সন্ধি।
তাই চারটির মধ্যে শুধু গোলাপ মৌলিক শব্দ।
মানব শব্দটা খুব পরিচিত বলে মৌলিক মনে হয়, এটাই ফাঁদ; মনু-র সন্তান অর্থে মানব, তাই এটি প্রত্যয়সাধিত।
মনে রাখুন: শব্দকে ভেঙে অর্থপূর্ণ মূল পাওয়া গেলে সাধিত, না গেলে মৌলিক। আরও মৌলিক: ফুল, মা, বই।
৪০৫. নীচের কোন বানানগুচ্ছের সবগুলো বানানই অশুদ্ধ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কনির্গুণ, সূচগ্র, অনূর্ধ্ব
- খঅনুর্বর, ঊর্ধ্বর্যামী, শুদ্ধাশুদ্ধি
- গশুদ্ধাশুদ্ধি, দুরতিক্রম্য,নির্গুণ
- ঘরানি, বিকিরণ, দুরতিক্রম্য
সঠিক উত্তর: ক. নির্গুণ, সূচগ্র, অনূর্ধ্ব
প্রশ্নটা চাইছে এমন একটি গুচ্ছ, যার তিনটি বানানই ভুল। প্রতিটি শব্দ গঠন অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।
সূচ্যগ্র হলো সূচি আর অগ্র মিলে সন্ধি, ই-এর পরে অ এলে য-ফলা হয়; তাই সূচগ্র ভুল। নির্গুণ মানে গুণহীন, নির্ আর গুণ; অনূর্ধ্ব মানে ঊর্ধ্ব নয়, নঞ্ সমাসে অন্ যোগে ঊ থেকে অনূ। এই দুটি শুদ্ধ রূপ।
অন্য গুচ্ছগুলোর প্রায় সব বানান শুদ্ধ: অনুর্বর, শুদ্ধাশুদ্ধি, দুরতিক্রম্য, রানি, বিকিরণ। খ গুচ্ছে শুধু ঊর্ধ্বর্যামী ভুল, যার শুদ্ধ রূপ ঊর্ধ্বগামী।
দুই উৎসেই উত্তর ক। তবে এখানে যেমন লেখা আছে, তাতে ক গুচ্ছে একটি আর খ গুচ্ছেও একটি বানান ভুল; সম্ভবত মূল প্রশ্নপত্রে ক গুচ্ছের তিনটি শব্দই ভুল বানানে ছাপা ছিল। তাই উত্তর ক ধরা হলেও প্রশ্নের প্রতিলিপি যাচাইসাপেক্ষ।
মনে রাখুন: ই/ঈ-এর পরে অ এলে য-ফলা: সূচি + অগ্র = সূচ্যগ্র, অতি + অন্ত = অত্যন্ত।
৪০৬. 'অলৌকিক ইস্টিমার' গ্রন্থের রচয়িতা কে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কহুমায়ুন আজাদ
- খহেলাল হাফিজ
- গআসাদ চৌধুরী
- ঘরফিক আজাদ
সঠিক উত্তর: ক. হুমায়ুন আজাদ
অলৌকিক ইস্টিমার হুমায়ুন আজাদের কাব্যগ্রন্থ, প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। এটিই তাঁর প্রকাশিত প্রথম বই।
হুমায়ুন আজাদ ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী ও প্রথাবিরোধী প্রাবন্ধিক। তাঁর আরও পরিচিত কাব্য জ্বলো চিতাবাঘ, উপন্যাস ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল, আর প্রবন্ধগ্রন্থ নারী।
অন্য কবিরাও একই সময়ের, তাই বিভ্রান্তি হয়: হেলাল হাফিজের বিখ্যাত কাব্য যে জলে আগুন জ্বলে, আসাদ চৌধুরীর তবক দেওয়া পান, আর রফিক আজাদের অসম্ভবের পায়ে।
মনে রাখুন: হুমায়ুন আজাদের প্রথম বই কাব্য: অলৌকিক ইস্টিমার (১৯৭৩)।
৪০৭. 'মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে'- কার উক্তি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কমীর মশাররফ হোসেনের
- খইসমাইল হোসেন সিরাজীর
- গরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
- ঘকাজী নজরুল ইসলামের
সঠিক উত্তর: ক. মীর মশাররফ হোসেনের
উক্তিটি মীর মশাররফ হোসেনের। তিনি হিতকরী পত্রিকায় প্রকাশিত আমাদের শিক্ষা প্রবন্ধে মাতৃভাষার প্রতি অনুরাগের কথা জোর দিয়ে বলেছিলেন; উক্তিটি বিভিন্ন বইয়ে সামান্য ভিন্ন শব্দে উদ্ধৃত হয়।
উনিশ শতকে মুসলিম সমাজের একাংশ বাংলাকে নিজের ভাষা মানতে দ্বিধা করত। মশাররফ হোসেন বাংলায় লিখে আর এমন বক্তব্য দিয়ে প্রমাণ করেন যে বাংলাই বাঙালি মুসলমানেরও মাতৃভাষা।
তিনি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাস, জমীদার দর্পণ নাটক আর আত্মজীবনী আমার জীবনীর জন্য বিখ্যাত। তাঁর জন্ম কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়ায়।
মাতৃভাষা নিয়ে আরেকটি বিখ্যাত উক্তি, যে সব বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, আবদুল হাকিমের। দুটো গুলিয়ে ফেলা সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: মাতৃভাষা নিয়ে দুই বিখ্যাত উক্তি: “ভক্তি নাই সে মানুষ নহে” মশাররফ; “বঙ্গেতে জন্মি” আবদুল হাকিম।
৪০৮. “" কোন ধরনের স্বরধ্বনি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কযৌগিক স্বরধ্বনি
- খতালব্য স্বরধ্বনি
- গমিলিত স্বরধ্বনি
- ঘকোনটি নয়
সঠিক উত্তর: ক. যৌগিক স্বরধ্বনি
প্রশ্নটা যৌগিক স্বরধ্বনি যাচাই করছে। পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি দ্রুত একটানা উচ্চারিত হয়ে একটি স্বরের মতো শোনালে তাকে যৌগিক স্বর বা দ্বিস্বর বলে।
বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরের চিহ্ন দুটি: ঐ আর ঔ। ঐ হলো অ যোগ ই, আর ঔ হলো অ যোগ উ। যেমন কৈ, বৌ।
দুটি স্বর মিলেই যৌগিক স্বর তৈরি হয় বলে ব্যাকরণ বইয়ে বর্ণনায় মিলিত স্বর কথাটি আসে; কিন্তু এর পারিভাষিক নাম যৌগিক স্বরধ্বনি।
তালব্য স্বর বলা হয় যে স্বরের উচ্চারণে জিভ তালুর দিকে ওঠে, যেমন ই, ঈ, এ; এটি উচ্চারণস্থানের শ্রেণি, যৌগিক কি না তা নয়।
মনে রাখুন: বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরবর্ণ মাত্র ২টি: ঐ ও ঔ।
৪০৯. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গীতাঞ্জলি' কাব্য প্রকাশিত হয় কত সালে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- ক১৯১০
- খ১৯১১
- গ১৯১২
- ঘ১৯১৩
সঠিক উত্তর: ক. ১৯১০
বাংলা গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯১০ সালে, বাংলা ১৩১৭ সনে। এতে মূলত ভক্তিমূলক গান ও কবিতা আছে।
এরপর ১৯১২ সালে লন্ডন থেকে বের হয় ইংরেজি Gitanjali, যার উপশিরোনাম Song Offerings। এতে বাংলা গীতাঞ্জলির পাশাপাশি নৈবেদ্য, খেয়া, গীতিমাল্য ইত্যাদি বই থেকেও কবিতা নেওয়া হয়।
এই ইংরেজি অনুবাদের জন্য রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান; তিনি প্রথম এশীয় নোবেলজয়ী।
তিনটি সাল গুলিয়ে যায় বলে প্রশ্ন কঠিন লাগে: ১৯১০ বাংলা প্রকাশ, ১৯১২ ইংরেজি প্রকাশ, ১৯১৩ নোবেল। প্রশ্নে বাংলা কাব্যের কথা, তাই ১৯১০।
মনে রাখুন: ১০-১২-১৩: বাংলা, ইংরেজি, নোবেল।
৪১০. কোন শব্দজোড় বিপরীতার্থক নয়? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কঅনুলোম-প্রতিলোম
- খনশ্বর- শাশ্বত
- গগরিষ্ঠ- লঘিষ্ঠ
- ঘহৃষ্ট- পুষ্ট
সঠিক উত্তর: ঘ. হৃষ্ট- পুষ্ট
বিপরীতার্থক শব্দজোড় মানে দুটি শব্দের অর্থ পরস্পরের উল্টো। প্রতিটি জোড়ের দুই শব্দের অর্থ আলাদা করে দেখলে উত্তর বের হয়।
অনুলোম মানে ক্রম অনুসারে, প্রতিলোম মানে উল্টো ক্রমে; নশ্বর মানে যা নষ্ট হয়, শাশ্বত মানে চিরস্থায়ী; গরিষ্ঠ মানে সবচেয়ে বড়, লঘিষ্ঠ মানে সবচেয়ে ছোট। তিনটিই বিপরীত জোড়।
হৃষ্ট মানে আনন্দিত বা সতেজ, পুষ্ট মানে পরিপুষ্ট। দুটো মিলে হৃষ্টপুষ্ট মানে স্বাস্থ্যবান, মোটাসোটা। এরা কাছাকাছি অর্থের শব্দ, বিপরীত নয়।
জোড় শব্দ দেখলেই বিপরীত ভাবা ভুল; বাংলায় হৃষ্টপুষ্ট, ধনদৌলত, কাজকর্মের মতো অনেক জোড় সমার্থক।
মনে রাখুন: নশ্বরের বিপরীত শাশ্বত বা অবিনশ্বর; গরিষ্ঠের বিপরীত লঘিষ্ঠ।
৪১১. নিচের কোন শব্দটি প্রত্যয় সাধিত? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কপ্রলয়
- খখণ্ডিত
- গনিশ্বাস
- ঘঅনুপম
সঠিক উত্তর: খ. খণ্ডিত
প্রশ্নটা শব্দ গঠন নিয়ে: কোন শব্দটা প্রত্যয় যোগে তৈরি। প্রত্যয় বসে শব্দ বা ধাতুর পরে, আর উপসর্গ বসে শব্দের আগে। তাই দেখতে হবে কোন শব্দের শেষে কিছু যুক্ত হয়েছে।
খণ্ডিত শব্দটা ভাঙলে পাই খণ্ড আর ইত প্রত্যয়। খণ্ড মানে টুকরো, ইত যোগে হলো যা খণ্ড করা হয়েছে। একইভাবে পুষ্প থেকে পুষ্পিত, কুসুম থেকে কুসুমিত, তরঙ্গ থেকে তরঙ্গিত।
বাকি তিনটায় যোগ হয়েছে শব্দের আগে। প্রলয়-এ প্র উপসর্গ, নিশ্বাস-এ নিঃ উপসর্গ যুক্ত শ্বাস, আর অনুপম মানে যার উপমা নেই; এটি নঞর্থক অন্ যোগে উপমা থেকে গঠিত, প্রত্যয়ে নয়।
ফাঁদ হলো প্রলয়: এর ভেতরে লী ধাতু আছে বলে কেউ কেউ প্রত্যয় খোঁজেন, কিন্তু পরীক্ষায় প্রলয়কে উপসর্গযুক্ত শব্দ হিসেবেই ধরা হয়, কারণ প্র যোগে অর্থ বদলেছে।
মনে রাখুন: শব্দের শেষে ইত, ইক, আমি, তা ইত্যাদি থাকলে প্রত্যয় খুঁজুন; শুরুতে প্র, নিঃ, অনু, পরা থাকলে সেটা উপসর্গ; তবে অনুপম-এর “অনু” উপসর্গ নয়, এটি ন (অন্) + উপমা।
৪১২. কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কস্মৃতি কথামালা
- খআত্মচরিত
- গআত্মকথা
- ঘআমার কথা
সঠিক উত্তর: খ. আত্মচরিত
প্রশ্নটা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী নিয়ে। তিনি নিজের জীবনের কথা লিখেছিলেন “বিদ্যাসাগর চরিত” নামে, যাকে স্বরচিত বিদ্যাসাগর চরিত বলা হয়। লেখাটা অসম্পূর্ণ, প্রকাশিত হয় তাঁর মৃত্যুর পরে।
অপশনে হুবহু এই নাম নেই। আত্মচরিত শব্দের অর্থ নিজের লেখা জীবনচরিত, মানে আত্মজীবনী। তাই চারটি অপশনের মধ্যে আত্মচরিত-ই বিদ্যাসাগরের স্বরচিত জীবনকথাকে বোঝায়।
বিদ্যাসাগরকে বলা হয় বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী, কারণ তিনি গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক ব্যবহার করেন। তাঁর প্রথম সাহিত্যকর্ম বেতালপঞ্চবিংশতি, আর শিশুদের জন্য বর্ণপরিচয়, কথামালা, বোধোদয় বিখ্যাত।
ফাঁদ হলো কথামালা নামটা: এটা বিদ্যাসাগরের সত্যিকারের বই, কিন্তু ঈশপের গল্পের অনুবাদ, আত্মজীবনী নয়। “স্মৃতি কথামালা” নামের ভেতরে সেই পরিচিত শব্দটা ঢুকিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
মনে রাখুন: “আত্মচরিত” মানেই নিজের লেখা জীবনী; বিদ্যাসাগরের ক্ষেত্রে বইয়ের নাম বিদ্যাসাগর চরিত।
৪১৩. কোন গ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্য কর্তৃক রচিত? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কহরতাল
- খপালাবদল
- গউত্তীর্ণ পঞ্চাশে
- ঘঅনীষ্ট স্বদেশ
সঠিক উত্তর: ক. হরতাল
প্রশ্নটা কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচনা নিয়ে। সুকান্ত মাত্র ২১ বছর বয়সে মারা যান, তাই তাঁর প্রায় সব বই প্রকাশিত হয় মৃত্যুর পরে।
হরতাল সুকান্তের লেখা, এটি গল্প ও রচনার একটি সংকলন, প্রকাশিত ১৯৬২ সালে। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, মিঠেকড়া, অভিযান; আর গানের সংকলন গীতিগুচ্ছ।
সুকান্তকে বলা হয় কিশোর কবি, তাঁর কবিতায় শোষিত মানুষের কথা আর বিপ্লবের সুর। তিনি “আকাল” নামে একটি কবিতা সংকলন সম্পাদনাও করেছিলেন।
বাকি তিনটি নাম সুকান্তের রচনার তালিকায় নেই। হরতাল নামটা রাজনৈতিক শোনায় বলে অনেকে এটাকে কোনো রাজনৈতিক লেখকের বই ভাবেন, কিন্তু এটাই সুকান্তের।
মনে রাখুন: সুকান্তের বই মনে রাখার ছড়া: ছাড়পত্র নিয়ে ঘুম নেই, পূর্বাভাস পেয়ে হরতাল।
৪১৪. “ঢাকের কাঠি” বাগধারার অর্থ কী? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- ককপট ব্যক্তি
- খঘনিষ্ঠ সম্পর্ক
- গহতভাগ্য
- ঘমোসাহেব
সঠিক উত্তর: ঘ. মোসাহেব
প্রশ্নটা বাগ্ধারার অর্থ নিয়ে। ঢাকের কাঠি দিয়ে ঢাক বাজে; কাঠির নিজের কোনো সুর নেই, ঢাকের তালে তালে সে শুধু বাজিয়ে যায়।
তাই যে লোক নিজের মত না রেখে ক্ষমতাবান কারও পেছনে থেকে সব কথায় সায় দেয় আর তার গুণগান গেয়ে বেড়ায়, তাকে বলে ঢাকের কাঠি, মানে মোসাহেব বা তোষামোদকারী। যেমন: মন্ত্রীর চারপাশে কয়েকজন ঢাকের কাঠি সব সময় ঘুরঘুর করে।
অন্য অপশনের অর্থের নিজস্ব বাগ্ধারা আছে: কপট ব্যক্তি বোঝাতে বলা হয় বিড়াল তপস্বী বা বকধার্মিক, আর হতভাগ্য বোঝাতে কপাল পোড়া।
ফাঁদ হলো হতভাগ্য: ঢাকের কাঠি পিটুনি খায় বলে কেউ কেউ তাকে দুর্ভাগা ভাবেন। কিন্তু বাগ্ধারাটি বোঝায় তোষামোদকারীকে।
মনে রাখুন: ঢাকের সঙ্গে কাঠি যায়, মনিবের সঙ্গে মোসাহেব যায়।
৪১৫. ‘আনোয়ারা’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- ককাজী এমদাদুল হক
- খমীর মশাররফ হোসেন
- গমোহাম্মদ মজিবর রহমান
- ঘইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর: গ. মোহাম্মদ মজিবর রহমান
প্রশ্নটা মুসলিম সমাজজীবন নিয়ে লেখা বিখ্যাত উপন্যাস আনোয়ারার লেখক নিয়ে। আনোয়ারার লেখক মোহাম্মদ নজিবর রহমান, যাঁকে সাহিত্যরত্ন উপাধি দেওয়া হয়েছিল।
আনোয়ারা প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে; এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস এবং সে সময়ে বিপুল জনপ্রিয় হয়। তাঁর অন্য উপন্যাস প্রেমের সমাধি, চাঁদতারা, পরিণাম, গরীবের মেয়ে।
অপশনে নামটি ছাপা হয়েছে মজিবর, কিন্তু সঠিক নাম নজিবর। ‘মোহাম্মদ’ আর ‘রহমান’ মিলিয়ে অপশন গ-ই বোঝানো হয়েছে।
ফাঁদ হলো কাজী এমদাদুল হক ও মীর মশাররফ হোসেন। কাজী এমদাদুল হকের বিখ্যাত উপন্যাস আবদুল্লাহ, আর মীর মশাররফ হোসেনের বিষাদ-সিন্ধু; দুটিও মুসলিম সমাজের উপন্যাস বলে গুলিয়ে যায়।
মনে রাখুন: আনোয়ারা-নজিবর, আবদুল্লাহ-এমদাদুল, বিষাদ-সিন্ধু-মশাররফ: তিনটি একসঙ্গে মুখস্থ করুন।
৪১৬. “মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।” এটি একটি— (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কজটিল বাক্য
- খযৌগিক বাক্য
- গসরল বাক্য
- ঘমিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর: গ. সরল বাক্য
প্রশ্নটা বাক্যের গঠন নিয়ে: সরল, জটিল না যৌগিক। সরল বাক্যের মূল লক্ষণ হলো একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া, মানে যে ক্রিয়ায় কথা শেষ হয়।
বাক্যটায় সমাপিকা ক্রিয়া একটাই: দেয়নি। “মা ছিল না বলে” অংশটা কারণ বোঝানো একটি বাক্যাংশ; এখানে বলে শব্দটি অনুসর্গের মতো কাজ করছে, আলাদা কোনো খণ্ডবাক্য তৈরি করছে না। তাই বাক্যটি সরল।
জটিল বাক্য হতো যদি লেখা থাকত “যেহেতু মা ছিল না, সেহেতু কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি”; এখানে যেহেতু-সেহেতু দিয়ে দুটি খণ্ডবাক্য যুক্ত। আর যৌগিক হতো “মা ছিল না, তাই কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি”, যেখানে দুটি স্বাধীন বাক্য তাই দিয়ে জোড়া।
ফাঁদ হলো “ছিল” ক্রিয়াটা দেখে দুটি ক্রিয়া গুনে ফেলা। লক্ষ করুন, জটিল আর মিশ্র একই জিনিস, তাই দুটি অপশন একসঙ্গে সঠিক হতে পারে না; এটাও ইঙ্গিত দেয় উত্তর সরল।
মনে রাখুন: বাক্যে “বলে”, “করে”, “হলে” দিয়ে কারণ বা শর্ত বোঝালে সাধারণত বাক্যটি সরল; যে-সে, যদি-তবে থাকলে জটিল; এবং, তাই, কিন্তু থাকলে যৌগিক।
৪১৭. বাংলা ভাষায় প্রথম ব্যাকরণ রচনা করেন কে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কঅক্ষয় দত্ত
- খমার্সম্যান
- গব্র্যাশি হ্যালহেড
- ঘরাজা রামমোহন
সঠিক উত্তর: ঘ. রাজা রামমোহন
প্রশ্নটা বাংলা ব্যাকরণের ইতিহাস নিয়ে, আর এখানে সূক্ষ্ম পার্থক্যটা হলো “বাংলা ভাষায়” লেখা প্রথম ব্যাকরণ। বাংলা ভাষার উপর প্রথম ব্যাকরণ আর বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম ব্যাকরণ দুটো আলাদা প্রশ্ন।
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ লেখেন পর্তুগিজ পাদরি মনোএল দা আসসুম্পসাঁও, ১৭৪৩ সালে লিসবন থেকে, পর্তুগিজ ভাষায়। এরপর ১৭৭৮ সালে নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন; বাংলা হরফ প্রথম ছাপা হয় এই বইয়েই।
বাংলা ভাষায়, বাঙালির লেখা প্রথম পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ হলো রাজা রামমোহন রায়ের গৌড়ীয় ব্যাকরণ, প্রকাশিত ১৮৩৩ সালে। তাই এই প্রশ্নের উত্তর রামমোহন।
ফাঁদ হলো হ্যালহেড: তাঁর বই বিখ্যাত, কিন্তু তা ইংরেজিতে লেখা। আর মার্শম্যান বাংলা গদ্য ও পত্রিকা প্রকাশে ভূমিকা রাখলেও প্রথম বাংলা ব্যাকরণের লেখক নন।
মনে রাখুন: প্রশ্নে “বাংলা ভাষায়” থাকলে রামমোহন, “বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ” থাকলে মনোএল, “ইংরেজিতে” থাকলে হ্যালহেড।
৪১৮. “যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর”— এখানে ‘হারায়’ কোন ধাতু? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কপ্রযোজক ধাতু
- খভাববাচ্যের ধাতু
- গসংযোগমূলক ধাতু
- ঘনামধাতু
সঠিক উত্তর: ক. প্রযোজক ধাতু
প্রশ্নটা ধাতুর প্রকারভেদ নিয়ে। বাংলায় ধাতু মূলত তিন রকম: মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু, সাধিত ধাতু আর সংযোগমূলক ধাতু। সাধিত ধাতুর ভেতরে আছে প্রযোজক ধাতু আর নামধাতু।
প্রযোজক ধাতু তৈরি হয় মৌলিক ধাতুর সঙ্গে আ যোগ করে: পড়্ থেকে পড়া, কর্ থেকে করা, দেখ্ থেকে দেখা। ব্যাকরণ বইয়ের ব্যাখ্যায় হার্ ধাতুর সঙ্গে আ যোগে হারা ধাতু গঠিত, তাই হারায় ক্রিয়াপদটি প্রযোজক ধাতু থেকে এসেছে বলে ধরা হয়।
নামধাতু আসে বিশেষ্য বা বিশেষণ থেকে, যেমন ঘুম থেকে ঘুমা, বেত থেকে বেতা। আর সংযোগমূলক ধাতু হয় বিশেষ্যের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা যোগে, যেমন ভয় পা, মনে কর্।
সতর্কতা: বাক্যে হারায় মানে হারিয়ে যায়, কাজটা কেউ ঘটাচ্ছে না; তাই অর্থের দিক থেকে কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন। পরীক্ষায় অবশ্য গঠন ধরে প্রযোজক ধাতুই উত্তর হিসেবে নেওয়া হয়। ভাববাচ্যের ধাতু বলে আলাদা কোনো শ্রেণি নেই।
মনে রাখুন: মৌলিক ধাতুর শেষে আ যোগ দেখলে প্রযোজক; বিশেষ্য থেকে ধাতু হলে নামধাতু; বিশেষ্য + কর্/হ্/দে হলে সংযোগমূলক।
৪১৯. “সর্বাঙ্গে ব্যথা, ঔষধ দিব কোথা”— এই বাক্যে ‘ঔষধ’ কোন কারকে কোন বিভক্তির উদাহরণ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- ককর্ম কারকে শূন্য
- খসম্প্রদানে শূন্য
- গঅধিকরণে শূন্য
- ঘকর্তৃকারকে শূন্য
সঠিক উত্তর: ক. কর্ম কারকে শূন্য
প্রশ্নটা কারক ও বিভক্তি নিয়ে। কারক বের করার সহজ কৌশল হলো ক্রিয়াকে প্রশ্ন করা। কর্তাকে কর্ম করতে দেখলে “কী” বা “কাকে” দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর আসে, সেটি কর্মকারক।
বাক্যের ক্রিয়া “দিব”। প্রশ্ন করি: কী দিব? উত্তর: ঔষধ। তাই ঔষধ কর্মকারক। শব্দটির সঙ্গে কোনো বিভক্তি চিহ্ন যুক্ত নেই, তাই এটি শূন্য বিভক্তি।
সাধারণত বস্তুবাচক বা অপ্রাণিবাচক কর্মে বিভক্তি লাগে না, যেমন ভাত খাই, বই পড়ি। ব্যক্তিবাচক কর্মে কে লাগে, যেমন শিক্ষককে ডাকো।
ফাঁদ হলো অধিকরণ, কারণ বাক্যে “কোথা” আর “সর্বাঙ্গে” আছে, যা স্থান বোঝায়। কিন্তু অধিকরণ হলো “সর্বাঙ্গে”, ঔষধ নয়। আর ঔষধ কাউকে দান করা হচ্ছে না, তাই সম্প্রদানও নয়।
মনে রাখুন: কী বা কাকে দিয়ে প্রশ্নের উত্তর কর্ম; চিহ্ন না থাকলে শূন্য বিভক্তি।
৪২০. ‘সুন্দর মাত্রেরই একটা আকর্ষণ আছে।’— এই বাক্যে ‘সুন্দর’ কোন পদ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কবিশেষ্য
- খবিশেষণ
- গসর্বনাম
- ঘবিশেষণের বিশেষণ
সঠিক উত্তর: ক. বিশেষ্য
প্রশ্নটা পদ নির্ণয় নিয়ে। একই শব্দ বাক্যে কী কাজ করছে তার উপর পদ বদলায়। সুন্দর শব্দটা সাধারণত বিশেষণ, যেমন সুন্দর ফুল।
কিন্তু “সুন্দর মাত্রেরই একটা আকর্ষণ আছে” বাক্যে সুন্দর কোনো বিশেষ্যকে বিশেষিত করছে না; বরং নিজেই একটা ধারণা বা বস্তুর নাম হিসেবে বসেছে, মানে যা কিছু সুন্দর। তার সঙ্গে মাত্র আর এর বিভক্তিও যুক্ত হয়েছে, যা বিশেষ্যের বৈশিষ্ট্য।
একে বলে বিশেষণের বিশেষ্যরূপে প্রয়োগ। আরও উদাহরণ: “সবুজই চোখের আরাম”, “ভালোর সঙ্গে থাকো”, “গরিবের দুঃখ কে বোঝে” — এখানে সবুজ, ভালো, গরিব সবাই বিশেষ্য।
ফাঁদ হলো বিশেষণ, কারণ সুন্দর শব্দটা মুখস্থে বিশেষণ হিসেবেই আছে। পদ ঠিক হয় বাক্যে কাজ দেখে, অভিধানের তালিকা দেখে নয়।
মনে রাখুন: বিশেষণের সঙ্গে বিভক্তি (এর, কে, রা) বা মাত্র যুক্ত হলে সেটা সাধারণত বিশেষ্য হিসেবে বসেছে।