বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ২২
৪২১. “অল্পপ্রাণ” যে সমাসের উদাহরণ? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কদ্বন্দ্ব
- খতৎপুরুষ
- গউপপদ তৎপুরুষ
- ঘবহুব্রীহি
সঠিক উত্তর: ঘ. বহুব্রীহি
প্রশ্নটা সমাস নির্ণয়ের। অল্পপ্রাণ শব্দের ব্যাসবাক্য হলো অল্প প্রাণ যার। এখানে অল্প বা প্রাণ কোনো পদের অর্থই প্রধান নয়, বরং তৃতীয় একটি জিনিস, মানে এক ধরনের ধ্বনি, বোঝানো হচ্ছে।
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ প্রধান না হয়ে অন্য কোনো অর্থ প্রধান হয়, তা বহুব্রীহি সমাস। ব্যাসবাক্যে সাধারণত যার, যাতে, যে থাকে।
ধ্বনিতত্ত্বে অল্পপ্রাণ বলে সেই ব্যঞ্জনকে, যা উচ্চারণে কম বায়ু বা প্রাণ লাগে, যেমন ক, গ। বিপরীত মহাপ্রাণ, যেমন খ, ঘ; সেটাও বহুব্রীহি: মহা প্রাণ যার।
ফাঁদ হলো তৎপুরুষ বা কর্মধারয়, কারণ অল্প বিশেষণ আর প্রাণ বিশেষ্য মনে হয়। কিন্তু অল্প প্রাণ বোঝানো হচ্ছে না, বোঝানো হচ্ছে যার প্রাণ অল্প, তাই বহুব্রীহি।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে যার, যাতে, যে বসলে আর তৃতীয় কিছু বোঝালে বহুব্রীহি: মহাপ্রাণ, নীলকণ্ঠ, বীণাপাণি।
৪২২. বাংলা লোকসাহিত্য সংশ্লিষ্ট 'আলকাপ' হল একপ্রকার- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- ককর্মসঙ্গীত
- খপালাগান
- গসারি গান
- ঘবিবেকের গান
সঠিক উত্তর: খ. পালাগান
আলকাপ উত্তরবঙ্গের এক ধরনের লোকনাট্যধর্মী পালাগান। এতে গান, নাচ, অভিনয় আর ছড়া একসঙ্গে মিশে থাকে, অনেকটা যাত্রার মতো।
রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আর পশ্চিমবঙ্গের মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম অঞ্চলে আলকাপ প্রচলিত। দলের নেতাকে বলে সরকার বা গুরু, আর মেয়ে সেজে নাচে যে কিশোরেরা, তাদের বলে ছোকরা।
আসরে গান আর রসাত্মক সংলাপ দুটো অংশই থাকে, যার বিষয় পুরাণের রাধাকৃষ্ণ থেকে সমকালীন সমাজ পর্যন্ত। যাত্রার মতো বাঁধা সংলাপ নয়, শিল্পীরা অনেকটা তাৎক্ষণিকভাবে বানিয়ে বলেন।
ফাঁদ হলো সারি গান বা কর্মসংগীত; সারি গান নৌকা বাইচ বা ছাদ পেটানোর মতো সমবেত কাজের গান, কাহিনিনির্ভর পালা নয়।
মনে রাখুন: উত্তরবঙ্গের দুই জোড়া মনে রাখুন: আলকাপ ও গম্ভীরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-মালদহের, ভাওয়াইয়া রংপুরের।
৪২৩. নিচে যে বাগধারাটি অপর তিনটি থেকে বিসদৃশ- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- ককেতাদুরস্ত
- খকেউকেটা
- গকাপুড়ে বাবু
- ঘকলম পেশা
সঠিক উত্তর: ঘ. কলম পেশা
প্রশ্নটা বাগ্ধারার অর্থ মিলিয়ে দলছুট খোঁজার। প্রথমে প্রতিটির অর্থ জানতে হবে, তারপর দেখতে হবে কোন তিনটি একই ধরনের।
কেতাদুরস্ত মানে পরিপাটি, ফিটফাট, আদবকায়দায় দুরস্ত। কাপুড়ে বাবু মানে শুধু পোশাকে বাবু, ভেতরে সারবস্তু নেই। কেউকেটা মানে গণ্যমান্য বা হোমরাচোমরা, প্রায়ই ব্যঙ্গ করে বলা হয়।
এই তিনটিই একজন মানুষের ভাবভঙ্গি, সাজসজ্জা বা কেতা দেখিয়ে বড় সাজার দিক বোঝায়। কিন্তু কলম পেশা মানে কেরানিগিরি বা লেখালেখি করে জীবিকা, অর্থাৎ একটা পেশা। তাই এটাই বিসদৃশ।
ফাঁদ হলো কেউকেটা, কারণ এটা সাজপোশাক নয়, মর্যাদা বোঝায়। তবু এটাও মানুষের জাহির করা অবস্থান বোঝায়, পেশা নয়।
মনে রাখুন: বিসদৃশ খুঁজতে প্রতিটির অর্থ লিখে ফেলুন; যে অর্থটা আলাদা শ্রেণির (এখানে পেশা), সেটাই উত্তর।
৪২৪. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ'র ইংরেজি ভাষায় লিখিত একটি রচনা হল- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কNight of no moon
- খHow to cook beans
- গTree without roots
- ঘCry River cry
সঠিক উত্তর: খ. How to cook beans
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ নিজে সরাসরি ইংরেজিতে কোনটি লিখেছিলেন। উত্তর “How to Cook Beans”, একটি নাটক, যা তিনি ইংরেজিতেই লিখেছিলেন। লেখাটি অসমাপ্ত ছিল এবং তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
বাকি তিনটি নাম তাঁর বাংলা উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ। “Tree Without Roots” হলো “লালসালু”-র অনুবাদ, যা লেখক নিজেই ১৯৬৭ সালে করেছিলেন। “Night of No Moon” হলো “চাঁদের অমাবস্যা”, আর “Cry, River Cry” হলো “কাঁদো নদী কাঁদো”-র অনুবাদ।
অর্থাৎ মূল লেখা বাংলায়, পরে ইংরেজিতে রূপান্তর, এমন বইগুলো ইংরেজি রচনা নয়। ইংরেজিতে মৌলিকভাবে লেখা তাঁর আরেকটি বই হলো উপন্যাস “The Ugly Asian”।
ফাঁদ হলো “Tree Without Roots”: লেখক নিজে অনুবাদ করেছেন বলে অনেকে একে ইংরেজি রচনা ভাবেন। কিন্তু এর মূল লেখা বাংলা “লালসালু”।
মনে রাখুন: ওয়ালীউল্লাহর তিন উপন্যাসের ইংরেজি নাম মুখস্থ রাখুন; এর বাইরে যেটি, সেটিই মৌলিক ইংরেজি রচনা।
৪২৫. তখন রতন ধুলায় পড়িয়া তাহার পা জড়াইয়া ধরিয়া কহিল, "দাদাবাবু তোমার দুটি পায়ে পড়ি তোমার দুটি পায়ে পড়ি আমাকে কিছু দিতে হবে না তোমার দুটি পায়ে পড়ি আমার জন্যে কাউকে কিছু ভাবতে হবে না"। - বলিয়া একদৌড়ে সেখান হইতে পলাইয়া গেল। - উদ্ধৃতিতে অনুপস্থিত সেমিকোলন ও ড্যাশের সংখ্যা যথাক্রমে- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- ক১টি: ১টি
- খ২টি:১টি
- গ০টি: ১ টি
- ঘ১টি: ০টি
সঠিক উত্তর: ঘ. ১টি: ০টি
উদ্ধৃতিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প “পোস্টমাস্টার”-এর শেষ অংশ। প্রশ্নে কিছু যতিচিহ্ন সরিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে, কয়টি সেমিকোলন আর কয়টি ড্যাশ বাদ পড়েছে। প্রশ্নের “দেশের” শব্দটি আসলে “ড্যাশের”।
মূল পাঠে রতনের কথা এমন: দাদাবাবু, তোমার দুটি পায়ে পড়ি, তোমার দুটি পায়ে পড়ি, আমাকে কিছু দিতে হবে না; তারপর আবার, তোমার দুটি পায়ে পড়ি, আমার জন্যে কাউকে কিছু ভাবতে হবে না। “দিতে হবে না”-র পরে একটিই সেমিকোলন।
সেমিকোলন বসে দুটি স্বাধীন বাক্যাংশের মাঝে, যখন দাঁড়ির মতো পুরো থামা নয় অথচ কমার চেয়ে বেশি বিরতি দরকার। এখানে প্রথম অংশে টাকা নিতে আপত্তি, দ্বিতীয় অংশে ভাবনা করতে নিষেধ; তাই মাঝে সেমিকোলন।
বিশ্বভারতীর গল্পগুচ্ছে উদ্ধৃতি শেষ হওয়ার পর সরাসরি “বলিয়া একদৌড়ে” লেখা, কোনো ড্যাশ নেই; প্রশ্নেও ড্যাশটি আগে থেকেই বসানো। তাই বাদ পড়া সেমিকোলন ১টি, ড্যাশ ০টি। অনেকে উদ্ধৃতির পরের ড্যাশ ধরে নিয়ে ১টি ড্যাশ গোনেন; এটাই এখানকার ফাঁদ।
মনে রাখুন: যতিচিহ্ন গোনার প্রশ্নে আগে প্রশ্নের লেখায় কোন চিহ্ন আগেই বসানো আছে দেখে নিন; সেটা “অনুপস্থিত” নয়।
৪২৬. যে রচনাটির সঙ্গে রোকেয়ার সাহিত্যকর্মের সম্পর্ক নেই- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কপিপাসা
- খসওগাত
- গসৌরজগৎ
- ঘলুৎফোউন্নেসা
সঠিক উত্তর: ঘ. লুৎফোউন্নেসা
প্রশ্নের “পরকীয়ার” শব্দটি ছাপার ভুল, আসলে “রোকেয়ার”, কারণ চারটির তিনটিই বেগম রোকেয়ার লেখা। প্রশ্নটা জানতে চায় কোনটি রোকেয়ার রচনা নয়।
“পিপাসা” রোকেয়ার প্রথম প্রকাশিত লেখা, ১৯০২ সালে নবপ্রভা পত্রিকায় ছাপা হয়; এর বিষয় মহররম। “সৌরজগৎ” তাঁর একটি প্রবন্ধ, যা পরে মতিচূরের দ্বিতীয় খণ্ডে স্থান পায়।
“সওগাত” রোকেয়ার একটি কবিতা। মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সওগাত পত্রিকার প্রথম সংখ্যায়, ১৩২৫ বঙ্গাব্দে, এই কবিতাটি ছাপা হয়েছিল।
“লুৎফুন্নেসা” নামে রোকেয়ার কোনো রচনা নেই, তাই এটিই উত্তর। ফাঁদ হলো “সওগাত”: পত্রিকার নাম ভেবে অনেকে একে বাদ দিতে চান, অথচ একই নামে রোকেয়ার কবিতা আছে।
মনে রাখুন: রোকেয়ার প্রধান বই: মতিচূর, সুলতানার স্বপ্ন, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী; প্রবন্ধে পিপাসা, সৌরজগৎ, অর্ধাঙ্গী, স্ত্রীজাতির অবনতি।
৪২৭. 'সন্তরণ' শব্দের প্রমিত উচ্চারণ হল- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কসন্ তোরন
- খশন্ তরোন
- গশন্ তরন্
- ঘসন্তরোন্
সঠিক উত্তর: খ. শন্ তরোন
অপশনগুলো দেখলে বোঝা যায় শব্দটি “সন্তরণ”, মানে সাঁতার; প্রশ্নে ছাপা “সম্বরণ” ভুল প্রতিলিপি। প্রশ্নটা প্রমিত উচ্চারণের দুটি নিয়ম পরীক্ষা করছে।
প্রথম নিয়ম: শব্দের শুরুতে দন্ত্য স সাধারণত শ উচ্চারিত হয়, যেমন সন্তান উচ্চারণ শন্তান্, সংসার উচ্চারণ শংশার্। তাই সন্তরণের শুরু হবে শন্।
দ্বিতীয় নিয়ম: তৎসম শব্দে “অণ” বা “অন” দিয়ে শেষ হওয়া অংশের আগের অ প্রায়ই ও হয়ে যায়, যেমন মরণ উচ্চারণ মরোন্, করণ উচ্চারণ করোন্। তেমনি তরণ হয় তরোন্। সব মিলিয়ে উচ্চারণ শন্তরোন্।
ফাঁদ দুটি: শুরুতে স রেখে দেওয়া, অথবা মাঝের র-এর অ-কে ও না করে “শন্তরন্” লেখা।
মনে রাখুন: একই ছাঁচ: সন্তান = শন্তান্, মরণ = মরোন্, হরণ = হরোন্; তাই সন্তরণ = শন্তরোন্।
৪২৮. নিচে যে বানানটি অশুদ্ধ- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কভগ্নস্তূপ
- খভূমিধ্বস
- গভৌগলিক
- ঘভস্মীভূত
সঠিক উত্তর: গ. ভৌগলিক
প্রশ্নটা অশুদ্ধ বানান খুঁজতে বলেছে। “ভৌগলিক” নিশ্চিতভাবে ভুল; শুদ্ধ রূপ “ভৌগোলিক”। ভূগোল শব্দের সঙ্গে ইক প্রত্যয় যোগ হলে প্রথম স্বর ঊ বৃদ্ধি পেয়ে ঔ হয়, আর গোল অংশের ও-কার ঠিক থাকে: ভূগোল থেকে ভৌগোলিক।
একই নিয়মে ইতিহাস থেকে ঐতিহাসিক, সমাজ থেকে সামাজিক। মূল শব্দে যে ও-কার আছে, প্রত্যয় লাগলেও তা হারায় না; তাই ভৌগলিক লেখা চলে না।
“ভগ্নস্তূপ” আর “ভস্মীভূত” দুটোই শুদ্ধ; স্তূপ শব্দে দীর্ঘ ঊ-কার, আর ভস্ম থেকে ভস্মীভূত। তবে “ভূমিধ্বস” বানানটিও বাংলা একাডেমির প্রমিত রূপ নয়; প্রমিত বানান “ভূমিধস”, ধস শব্দে ব-ফলা নেই।
অর্থাৎ এই প্রশ্নে দুটি অশুদ্ধ বানান আছে। কোনো কোনো গাইড ভূমিধ্বস-কে উত্তর ধরে; কিন্তু ভৌগলিক ভুল হওয়াটা কোনো অভিধানেই বিতর্কিত নয়।
মনে রাখুন: ইক প্রত্যয়ের শব্দে মূল শব্দের বানান খুঁজুন: ভূগোল → ভৌগোলিক, ইতিহাস → ঐতিহাসিক, পরলোক → পারলৌকিক।
৪২৯. মানবদেহের যে প্রত্যঙ্গ ঘোষতা নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কজিভ
- খস্বরতন্ত্রী
- গকন্ঠনালী
- ঘমুখবিবর
সঠিক উত্তর: খ. স্বরতন্ত্রী
ঘোষতা মানে কোনো ধ্বনি ঘোষ না অঘোষ, তা। এটা ঠিক করে স্বরতন্ত্রী, মানে গলার ভেতরে স্বরযন্ত্রের দুটি পাতলা পর্দা।
কথা বলার সময় ফুসফুস থেকে বাতাস স্বরতন্ত্রীর ফাঁক দিয়ে বের হয়। স্বরতন্ত্রী কাছাকাছি এসে কাঁপলে ধ্বনিতে গুঞ্জন আসে, তাকে বলে ঘোষ ধ্বনি, যেমন গ, জ, দ, ব। না কাঁপলে অঘোষ ধ্বনি, যেমন ক, চ, ত, প।
গলায় আঙুল রেখে গ আর ক বলে দেখুন: গ বলার সময় কাঁপুনি টের পাবেন, ক বলার সময় পাবেন না।
জিভ আর মুখবিবর ঠিক করে ধ্বনিটি কোথায় তৈরি হবে, মানে উচ্চারণস্থান। কণ্ঠনালী বাতাসের পথ মাত্র। তাই ঘোষতার মূল নিয়ামক স্বরতন্ত্রী।
মনে রাখুন: ঘোষ-অঘোষ = স্বরতন্ত্রী; অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ = বাতাসের জোর; স্থান = জিভ ও মুখ।
৪৩০. 'বসুন্ধরা' শব্দের সমার্থক শব্দ যুগল- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কবসুমতি, অনন্ত
- খপৃথিবী, যামিনী
- গপৃথ্বী, তটিনী
- ঘদুনিয়া, সিতারা
সঠিক উত্তর: ক. বসুমতি, অনন্ত
বসুন্ধরা মানে পৃথিবী। শব্দটির ভেতরেই অর্থ লুকানো: বসু মানে ধন, আর ধরা মানে যে ধারণ করে; যে সব ধনসম্পদ ধারণ করে, সে বসুন্ধরা।
এই জোড়ায় দুটি শব্দই পৃথিবী বোঝাতে হবে। বসুমতী একই গঠনের শব্দ, ধন যার আছে। আর অনন্ত বা অনন্তা শব্দটিও অভিধানে পৃথিবী অর্থে আছে। তাই প্রথম জোড়াই ঠিক।
বাকি জোড়াগুলোর প্রথম শব্দ ঠিক হলেও দ্বিতীয়টি অন্য অর্থের। যামিনী মানে রাত, তটিনী মানে নদী, সিতারা মানে তারা।
ফাঁদ হলো প্রথম শব্দ দেখে উত্তর দেওয়া: পৃথিবী, পৃথ্বী, দুনিয়া সব ঠিক, কিন্তু জোড়ার দুটি শব্দই মিলতে হবে।
মনে রাখুন: জোড়া প্রশ্নে দ্বিতীয় শব্দটা আগে যাচাই করুন; ভুল সাধারণত সেখানেই লুকানো।
৪৩১. বিদেশি উৎস থেকে আগত অব্যয় শব্দ হলো- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কখুব
- খআবার
- গআর
- ঘযদি
সঠিক উত্তর: ক. খুব
অব্যয় এমন শব্দ যার রূপ বদলায় না, যেমন আর, যদি, খুব। প্রশ্ন জানতে চায় কোন অব্যয়টি বিদেশি ভাষা থেকে এসেছে।
খুব শব্দটি ফারসি খুব থেকে এসেছে, যার মূল অর্থ ভালো বা সুন্দর। বাংলায় এটি অতিশয় বা বেশি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন খুব ভালো। তাই এটি বিদেশি অব্যয়।
যদি ও আবার তৎসম বা সংস্কৃত উৎসের, আর “আর” এসেছে সংস্কৃত অপর থেকে, অর্থাৎ তদ্ভব। এগুলো বাংলার নিজস্ব শব্দভান্ডারের।
আরও কিছু বিদেশি অব্যয় মনে রাখুন: শাবাশ, মাইরি, বহুত, খাসা। ফাঁদ হলো “আর”: ছোট আর সহজ বলে অনেকে বিদেশি ভাবেন, অথচ এটি খাঁটি তদ্ভব।
মনে রাখুন: বিদেশি অব্যয়: খুব, শাবাশ, বহুত, মাইরি, খাসা।
৪৩২. 'নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল' শব্দে মোট অক্ষরের সংখ্যা- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- ক৬ টি
- খ৭ টি
- গ৮ টি
- ঘ৯ টি
সঠিক উত্তর: খ. ৭ টি
ব্যাকরণে অক্ষর মানে বর্ণ নয়, অক্ষর মানে সিলেবল: এক ঝোঁকে যতটুকু উচ্চারিত হয়। তাই অক্ষর গুনতে হয় উচ্চারণ ভেঙে।
নাতিশীতোষ্ণ উচ্চারণ ভাঙলে হয় না, তি, শী, তোশ্, নো: পাঁচটি অক্ষর। এখানে ষ্ণ যুক্তবর্ণ ভেঙে আগের অক্ষরে শ্ যায়, পরের অক্ষর হয় নো।
মণ্ডল ভাঙলে হয় মন্ আর ডল্: দুটি অক্ষর। মোট পাঁচ যোগ দুই, সাত।
ফাঁদ হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন গোনা; তখন সংখ্যা অনেক বেশি আসে। আরেক ভুল, যুক্তবর্ণকে এক অক্ষর ধরে ছয় গোনা।
মনে রাখুন: অক্ষর গুনতে শব্দটা ধীরে হাততালি দিয়ে উচ্চারণ করুন; যতবার তালি, ততটি অক্ষর।
৪৩৩. 'Ameliorate' এর বাংলা পরিভাষা হল_ (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কঅনন্য
- খউৎকর্ষ সাধন
- গঅভূতপূর্ব
- ঘঅকুতোভয়
সঠিক উত্তর: খ. উৎকর্ষ সাধন
Ameliorate মানে কোনো খারাপ অবস্থাকে ভালো করা, উন্নত করা। বাংলা পরিভাষায় একে বলা হয় উৎকর্ষ সাধন বা উন্নয়ন।
শব্দটি এসেছে লাতিন melior থেকে, যার অর্থ আরও ভালো। যেমন, The new policy ameliorated the living conditions of workers, মানে নতুন নীতি শ্রমিকদের জীবনমানের উৎকর্ষ সাধন করেছে।
অন্য অপশনগুলো অন্য ইংরেজি শব্দের পরিভাষা: অনন্য মানে unique, অভূতপূর্ব মানে unprecedented, অকুতোভয় মানে fearless।
ফাঁদ হলো শব্দের শুরুর a দেখে না-বোধক কিছু ভাবা; অনন্য বা অকুতোভয় সেই ভুল থেকেই আকর্ষণ করে।
মনে রাখুন: melior মানে better; ameliorate মানে make better।
৪৩৪. কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের 'শাহ' উপাধি থেকে অনুমান করা যায় যে,........ (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কতিনি সুলতানি আমলের কবি
- খতিনি দরবেশ বংশজাত
- গতিনি রাজকর্মচারী ছিলেন
- ঘতিনি পারস্যের অধিবাসী ছিলেন
সঠিক উত্তর: খ. তিনি দরবেশ বংশজাত
শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম মুসলমান কবি হিসেবে পরিচিত, তাঁর কাব্য “ইউসুফ-জোলেখা”। প্রশ্নটা একটি নির্দিষ্ট অনুমান জানতে চায়: শুধু তাঁর নামের “শাহ” উপাধি দেখে কী বলা যায়।
বাংলায় শাহ উপাধি সাধারণত সুফি, পীর বা দরবেশদের নামে থাকে, যেমন শাহজালাল, শাহ মখদুম। তাই সাহিত্য-ইতিহাসবিদেরা অনুমান করেন, কবি কোনো দরবেশ বা ফকির পরিবারের সন্তান ছিলেন।
তিনি সুলতানি আমলের কবি, আর গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজকর্মচারী ছিলেন বলেও অনেক গবেষক মনে করেন। কিন্তু এসব জানা যায় কাব্যে সুলতানের প্রশংসা থেকে, “শাহ” উপাধি থেকে নয়।
ফাঁদ হলো সত্য তথ্য দেখে সেটিকেই উত্তর ভাবা। প্রশ্নের শর্ত “শাহ উপাধি থেকে”; সেই শর্ত মেলে শুধু দরবেশ বংশের অনুমানে।
মনে রাখুন: “থেকে অনুমান” ধরনের প্রশ্নে শুধু প্রশ্নের দেওয়া সূত্রটা ধরুন, অন্য সত্য তথ্য নয়।
৪৩৫. তুলনা বোঝাতে নিচের যে বাক্যে 'না' ব্যবহৃত হয়েছে- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কহয় তুমি যাবে, না হয় আমি
- খতার না আছে লোভ, না আছে হিংসা
- গআমি না গেলে তুমি যেও
- ঘছেলেতো না, একটা বিচ্ছু
সঠিক উত্তর: ঘ. ছেলেতো না, একটা বিচ্ছু
না অব্যয়টি বাংলায় নানা অর্থে বসে: নিষেধ, বিকল্প, শর্ত, আবার তুলনা বা উপমাতেও। প্রশ্ন খুঁজছে যেখানে না দিয়ে তুলনা বোঝানো হয়েছে।
“ছেলে তো না, একটা বিচ্ছু” বাক্যে ছেলেটিকে বিচ্ছুর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে: সে এতই দুষ্টু যে তাকে ছেলে না বলে বিচ্ছু বলাই ভালো। এখানে না দিয়ে একটি জিনিস অস্বীকার করে অন্যটির সঙ্গে মিলিয়ে দেখানো হয়েছে।
“হয় তুমি যাবে, না হয় আমি” বাক্যে না বিকল্প বোঝায়। “না আছে লোভ, না আছে হিংসা” বাক্যে না-না জোড়ায় দুটোকেই অস্বীকার করা হয়েছে। “আমি না গেলে তুমি যেও” বাক্যে না শর্তের ভেতরে অস্বীকার।
ফাঁদ হলো দ্বিতীয় বাক্য: সেখানে দুটি জিনিস পাশাপাশি বসেছে বলে তুলনা মনে হয়, কিন্তু আসলে দুটোকেই নাকচ করা হয়েছে।
মনে রাখুন: “X তো না, যেন Y” ছাঁচ দেখলেই তুলনা।
৪৩৬. নিচের যে বাক্যটিতে ভাষার অপপ্রয়োগ ঘটেনি- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কছেলেটি মারাত্মক মেধাবী
- খদরিদ্র শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার সম্ভাবনা প্রচুর
- গআজ তার পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিকী
- ঘসে পান্তা ভাত খেয়ে মাঠে গেল
সঠিক উত্তর: ঘ. সে পান্তা ভাত খেয়ে মাঠে গেল
ভাষার অপপ্রয়োগ মানে শব্দকে ভুল অর্থে বা ভুল প্রসঙ্গে ব্যবহার করা। প্রশ্ন খুঁজছে কোন বাক্যে এমন ভুল নেই।
“মারাত্মক মেধাবী” ভুল, কারণ মারাত্মক মানে প্রাণঘাতী; প্রশংসায় বলা উচিত অসাধারণ মেধাবী। “ঝরে পড়ার সম্ভাবনা” ভুল, কারণ সম্ভাবনা বসে ভালো কিছুর জন্য; খারাপ কিছুর জন্য বলতে হয় আশঙ্কা।
“আজ তার পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিকী” বাক্যে আজ তার বলে জীবিত মানুষের কথা বোঝানো হয়েছে। জীবিত মানুষের জন্য প্রমিত শব্দ জন্মদিন; জন্মবার্ষিকী সাধারণত প্রয়াত ব্যক্তির জন্মদিন স্মরণে বলা হয়। তা ছাড়া পঞ্চাশতম বানানটিও ভুল, শুদ্ধ রূপ পঞ্চাশত্তম।
“সে পান্তা ভাত খেয়ে মাঠে গেল” বাক্যটি স্বাভাবিক ও শুদ্ধ। ফাঁদ হলো জন্মবার্ষিকীর বাক্য: শুনতে আনুষ্ঠানিক আর সুন্দর, তাই অনেকে একে শুদ্ধ ভাবেন।
মনে রাখুন: ভালো কিছুর জন্য সম্ভাবনা, খারাপ কিছুর জন্য আশঙ্কা; জীবিতের জন্মদিন, প্রয়াতের জন্মবার্ষিকী।
৪৩৭. বাংলা সাহিত্যে “ভোরের পাখি” নামে পরিচিত (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কবিহারীলাল চক্রবর্তী
- খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গসত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঘসৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর: ক. বিহারীলাল চক্রবর্তী
প্রশ্নটা বাংলা সাহিত্যের একটি উপাধি নিয়ে। “ভোরের পাখি” বলা হয় কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীকে। উপাধিটা দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
কেন এই নাম? মাইকেল মধুসূদনের মহাকাব্যধারার পর বিহারীলালই প্রথম কবি, যিনি নিজের মনের আবেগ নিয়ে ব্যক্তিগত গীতিকবিতা লিখলেন। আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার সূর্য ওঠার আগে তিনিই প্রথম গান গেয়েছিলেন, তাই তিনি ভোরের পাখি।
রবীন্দ্রনাথ তরুণ বয়সে বিহারীলালকে কাব্যগুরু মানতেন। বিহারীলালের বিখ্যাত কাব্য “সারদামঙ্গল”, “বঙ্গসুন্দরী” ও “নিসর্গসন্দর্শন”।
ফাঁদ হলো রবীন্দ্রনাথ: উপাধিটা তাঁর দেওয়া, তাঁর নিজের নয়। আবার সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের উপাধি “ছন্দের যাদুকর”; নামের মিল দেখে বিভ্রান্ত হবেন না।
মনে রাখুন: ভোরের পাখি মানে আধুনিক গীতিকবিতার প্রথম কণ্ঠ: বিহারীলাল চক্রবর্তী।
৪৩৮. "After meat comes mustard" (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কসুখের পর দুঃখ আসে
- খকষ্টে কেষ্ট মেলে
- গনুন আনতে পান্তা ফুরায়
- ঘযত গর্জে তত বর্ষে না
সঠিক উত্তর: গ. নুন আনতে পান্তা ফুরায়
প্রশ্নটা ইংরেজি প্রবাদের সমার্থক বাংলা প্রবাদ খুঁজতে বলছে। After meat comes mustard মানে মাংস খাওয়া শেষ হওয়ার পর সরিষার চাটনি এলো, অর্থাৎ দরকারের জিনিস এলো তখন, যখন আর কাজে লাগে না।
বাংলায় ঠিক এই ভাবটাই আছে “নুন আনতে পান্তা ফুরায়” প্রবাদে। নুন আনতে আনতেই পান্তাভাত শেষ, এক জিনিস জোগাড় হলে অন্যটা থাকে না। দুটো প্রবাদেই সময়মতো না পাওয়ার অভাব আর টানাটানির ছবি।
প্রবাদ অনুবাদে শব্দ ধরে নয়, ভাব ধরে মেলাতে হয়। এখানে মাংস আর পান্তা, সরিষা আর নুন একে অপরের জায়গায় বসে গেছে।
বাকি তিনটির নিজস্ব ইংরেজি জোড়া আছে: কষ্টে কেষ্ট মেলে মানে No pains, no gains; যত গর্জে তত বর্ষে না মানে Barking dogs seldom bite।
মনে রাখুন: প্রবাদের মূল ভাব এক লাইনে বলুন, তারপর বাংলা প্রবাদ মেলান: শেষ হওয়ার পর আসা = নুন আনতে পান্তা ফুরায়।
৪৩৯. “অনতিবৃহৎ বনে মৃগ অনুসন্ধান ও সংহার করা সাতিশয় দুঃসাধ্য কার্য” বাক্যটিতে মোট উপসর্গ রয়েছে (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কচারটি
- খপাঁচটি
- গসাতটি
- ঘআটটি
সঠিক উত্তর: ঘ. আটটি
প্রশ্নটা উপসর্গ গোনার। উপসর্গ হলো শব্দের শুরুতে বসা অব্যয়, যার নিজের আলাদা অর্থ নেই কিন্তু শব্দের অর্থ বদলে দেয়। বাক্যের প্রতিটি শব্দ ভেঙে শুরুর অংশ দেখতে হবে।
অনতিবৃহৎ শব্দে আছে নঞর্থক অন্ আর অতি, দুটি। অনুসন্ধান শব্দে আছে অনু আর সম্, দুটি। সংহার শব্দে সম্, একটি। সাতিশয় শব্দে সহার্থক স আর অতি, দুটি। দুঃসাধ্য শব্দে দুঃ বা দুর্, একটি।
সব যোগ করলে দুই যোগ দুই যোগ এক যোগ দুই যোগ এক, মোট আটটি। বন, মৃগ, করা, কার্য শব্দে কোনো উপসর্গ নেই।
সতর্ক থাকুন: শুধু বিশটি তৎসম উপসর্গ গুনলে ছয়টি হয়, যা অপশনে নেই। তাই প্রশ্নকর্তা অন্ আর স দুটোকেই উপসর্গ ধরেছেন। একটিকে বাদ দিলে সাত আসে, এটাই এখানকার সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
মনে রাখুন: যুক্ত শব্দে একাধিক উপসর্গ লুকিয়ে থাকে: অনুসন্ধান (অনু, সম্), সমুৎপন্ন (সম্, উৎ), অনতিদূর (অন্, অতি)।
৪৪০. নিচের কোনটি বিষমীভবনের উদাহরণ? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কলাফ>ফাল
- খপ্রীতি>পিরীতি
- গদেশি>দিশি
- ঘলাল>নাল
সঠিক উত্তর: ঘ. লাল>নাল
প্রশ্নটা ধ্বনি পরিবর্তনের একটি নিয়ম নিয়ে: বিষমীভবন। একই শব্দে পাশাপাশি বা কাছাকাছি দুটি একই ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে উচ্চারণ সহজ করতে একটিকে বদলে অন্য ধ্বনি করা হয়। এটাই বিষমীভবন, মানে দুটি সম ধ্বনি বিষম হয়ে যায়।
লাল শব্দে দুটি ল আছে। প্রথম ল বদলে ন হয়ে গেল, শব্দটা হলো নাল। দুটি এক রকম ধ্বনি এখন আলাদা, তাই এটি বিষমীভবন। আরেকটি পরিচিত উদাহরণ শরীর থেকে শরীল, যেখানে দুটি র-এর একটি ল হয়েছে।
বিষমীভবন আসলে সমীভবনের উল্টো। সমীভবনে দুটি ভিন্ন ধ্বনি এক হয়ে যায়, যেমন জন্ম থেকে জম্ম; বিষমীভবনে দুটি এক ধ্বনি ভিন্ন হয়ে যায়।
বাকি অপশনগুলো অন্য নিয়মের। লাফ থেকে ফাল হলো ধ্বনি বিপর্যাস, কারণ ল আর ফ জায়গা বদল করেছে।
মনে রাখুন: দুটি একই ব্যঞ্জন দেখলেই বিষমীভবন খুঁজুন: লাল > নাল, শরীর > শরীল।