বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ৪
৬১. ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কপ্রায় উনিশ কোটি
- খপ্রায় সাড়ে ষোলো কোটি
- গপ্রায় আঠারো কোটি
- ঘপ্রায় সতেরো কোটি
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রায় সতেরো কোটি
প্রশ্নটা ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা জানতে চেয়েছে। চূড়ান্ত বা সমন্বিত হিসাবে জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি ৯৮ লাখ, যা প্রায় সতেরো কোটি।
জনশুমারির ফল দুই ধাপে প্রকাশ হয়। ২০২২ সালের ২৭ জুলাই প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে গণনা করা সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬। এরপর গণনা পরবর্তী যাচাই জরিপে যারা বাদ পড়েছিলেন তাঁদের হিসাব যোগ করে সংখ্যাটি সমন্বয় করা হয়।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম সমন্বিত সংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ঘোষণা করেন। ১৬ কোটি ৯৮ লাখকে সাড়ে ষোলো নয়, সতেরো কোটির কাছাকাছি ধরতে হয়।
ফাঁদ হলো প্রায় সাড়ে ষোলো কোটি বিকল্পটি, যা প্রাথমিক প্রতিবেদনের সংখ্যা। চূড়ান্ত হিসাব ধরলে উত্তর প্রায় সতেরো কোটি।
মনে রাখুন: জনশুমারি ২০২২: প্রাথমিক সাড়ে ষোলো কোটি, চূড়ান্ত প্রায় সতেরো কোটি।
৬২. ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রধানত- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কদারিদ্র হ্রাস করে
- খভিক্ষাবৃত্তি হ্রাস করে
- গনারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে
- ঘনারীর অংশগ্রহণ হ্রাস করে
সঠিক উত্তর: গ. নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ক্ষুদ্রঋণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রধানত কী প্রভাব ফেলে। প্রত্যাশিত উত্তর নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, কারণ বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণের সবচেয়ে স্পষ্ট প্রভাব গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কাজে যুক্ত করা।
ক্ষুদ্রঋণ মানে জামানত ছাড়া ছোট অঙ্কের ঋণ, যা দলভিত্তিক দায়বদ্ধতায় দেওয়া হয়। গ্রামীণ ব্যাংকসহ বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণগ্রহীতার বিশাল অংশই নারী। ঋণ নিয়ে তাঁরা হাঁস মুরগি ও গবাদিপশু পালন, সেলাই বা ছোট ব্যবসা শুরু করেন, ফলে পরিবারের আয় ও সিদ্ধান্তে তাঁদের ভূমিকা বাড়ে।
ক্ষুদ্রঋণের ঘোষিত লক্ষ্য দারিদ্র্য বিমোচন, কিন্তু এর প্রভাব নিয়ে গবেষণার ফল মিশ্র; কোথাও দারিদ্র্য কমার প্রমাণ মিলেছে, কোথাও ঋণের চক্রে পড়ার উদাহরণও আছে। তাই প্রধান প্রভাব হিসেবে প্রচলিত উত্তর নারীর অংশগ্রহণ, যা নিয়ে বিতর্ক তুলনামূলক কম।
ভিক্ষাবৃত্তি হ্রাস একটি সীমিত ও পরোক্ষ প্রভাব, আর নারীর অংশগ্রহণ হ্রাস বিকল্পটি বাস্তবতার একেবারে উল্টো।
মনে রাখুন: ক্ষুদ্রঋণের প্রধান প্রভাব জানতে চাইলে ভাবুন ঋণগ্রহীতা কারা: বেশিরভাগই নারী।
৬৩. বর্তমানে পৃথিবীর কোন্ দেশে বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কসৌদি আরব
- খমালয়েশিয়া
- গসংযুক্ত আরব আমিরাত
- ঘইতালি
সঠিক উত্তর: ক. সৌদি আরব
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন দেশে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। উত্তর সৌদি আরব; পরীক্ষার সময়ও সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি কর্মী সেখানে ছিলেন, আর প্রতিবছর নতুন কর্মীও সবচেয়ে বেশি সেখানে যান।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর হিসাবে ১৯৭৬ সাল থেকে বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর সবচেয়ে বড় অংশ গেছে সৌদি আরবে। নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা, কৃষি ও গৃহকর্মে সেখানে বিপুল চাহিদা আছে।
অন্য বড় শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ওমান ও কাতার। ইউরোপে ইতালিতে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি থাকলেও সংখ্যায় তা মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় অনেক কম।
একটি পার্থক্য মনে রাখুন: কর্মীর সংখ্যায় শীর্ষ সৌদি আরব, কিন্তু কোনো কোনো অর্থবছরে একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে অন্য দেশ, যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। তাই রেমিট্যান্সের তথ্য দিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর বাছাই করলে ভুল হতে পারে।
মনে রাখুন: কর্মী সংখ্যার প্রশ্নে সৌদি আরব; রেমিট্যান্সের প্রশ্নে বছরভিত্তিক তথ্য দেখে নিতে হয়।
৬৪. বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির সহনশীল মাত্রা হলো- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক০৬-০৮ শতাংশ
- খ০১-০৫ শতাংশ
- গ০৯-১২ শতাংশ
- ঘ১৩-১৫ শতাংশ
সঠিক উত্তর: ক. ০৬-০৮ শতাংশ
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে মূল্যস্ফীতির সহনীয় মাত্রা কত। প্রত্যাশিত উত্তর ছয় থেকে আট শতাংশ।
সহনীয় মাত্রা মানে মূল্যস্ফীতির সেই সীমা, যার নিচে থাকলে দাম বাড়া প্রবৃদ্ধির বড় ক্ষতি করে না। সীমা পেরোলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে, সঞ্চয় ও বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা বাড়ে, আর প্রবৃদ্ধি কমে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষক সায়েরা ইউনুস ও আখতারুজ্জামানের ২০১২ সালের এক গবেষণায় বাংলাদেশের জন্য এই সীমা পাওয়া গেছে সাত থেকে আট শতাংশের মধ্যে, যা প্রশ্নের ছয় থেকে আট শতাংশের সাথে মেলে।
এক থেকে পাঁচ শতাংশ উন্নত দেশের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি; যেমন অনেক উন্নত দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুই শতাংশ লক্ষ্য ধরে। নয় শতাংশ বা তার বেশি হলে তা উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যা দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতা দ্রুত কমিয়ে দেয়।
মনে রাখুন: উন্নত দেশ দুই শতাংশের আশপাশে, উন্নয়নশীল দেশ ছয় থেকে আটের মধ্যে; বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণায় সীমা সাত থেকে আট শতাংশ।
৬৫. বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি করা অর্থ পাচার করা হয়- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কযুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়ায়
- খযুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে
- গযুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনে
- ঘশ্রীলংকা ও ফিলিপাইনে
সঠিক উত্তর: ঘ. শ্রীলংকা ও ফিলিপাইনে
প্রশ্নটা ২০১৬ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির অর্থ কোথায় পাঠানো হয়েছিল, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইন।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে হ্যাকাররা সুইফট বার্তাব্যবস্থায় ভুয়া নির্দেশ পাঠিয়ে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে মোট প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেয়।
এর মধ্যে প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার যায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের কয়েকটি হিসাবে, যার বড় অংশ সেখানকার ক্যাসিনো হয়ে হারিয়ে যায়। বাকি প্রায় ২ কোটি ডলার যায় শ্রীলঙ্কার একটি সংস্থার নামে, কিন্তু নামের বানানে ভুল দেখে সন্দেহ হওয়ায় সেই অর্থ আটকে ফেরত আসে।
ফাঁদ হলো যুক্তরাষ্ট্র। টাকা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে সরানো হয়েছে, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র উৎস, গন্তব্য নয়; প্রশ্ন জানতে চেয়েছে টাকা কোথায় পাচার হয়েছে।
মনে রাখুন: উৎস যুক্তরাষ্ট্র, গন্তব্য ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কা: যে বিকল্পে যুক্তরাষ্ট্র আছে সেটি বাদ।
৬৬. অর্থ পাচারের কারণ নয় কোনটি? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কঅবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ গোপন করা
- খকর ফাঁকি না দেয়া
- গকোম্পানির মুনাফা লুকানো
- ঘদেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি না থাকা
সঠিক উত্তর: খ. কর ফাঁকি না দেয়া
প্রশ্নটা অর্থপাচারের কারণগুলোর মধ্যে কোনটি কারণ নয়, তা খুঁজতে বলেছে। উত্তর কর ফাঁকি না দেওয়া; কারণ যিনি সঠিকভাবে কর দেন, তাঁর অর্থ লুকানোর প্রয়োজন নেই।
অর্থপাচার মানে অবৈধ বা অপ্রদর্শিত অর্থের উৎস গোপন করে তাকে বৈধ দেখানো, অথবা নিয়মবহির্ভূত পথে দেশের বাইরে পাঠানো। বাংলাদেশে এ বিষয়ের মূল আইন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২, আর তদারকি করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।
পাচারের সাধারণ কারণ হলো দুর্নীতি বা অপরাধে উপার্জিত অর্থ গোপন করা, কর ফাঁকি দেওয়া, কোম্পানির মুনাফা লুকানো, এবং দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা। আমদানি রপ্তানিতে পণ্যের দাম কমবেশি দেখানো পাচারের একটি প্রচলিত পদ্ধতি।
না শব্দযুক্ত প্রশ্নে সাবধান থাকুন। কর ফাঁকি দেওয়া পাচারের কারণ, কিন্তু বিকল্পে লেখা আছে কর ফাঁকি না দেওয়া; এই একটি না শব্দই উত্তর ঠিক করে দেয়।
মনে রাখুন: নেতিবাচক প্রশ্নে বিকল্পের ভেতরের না শব্দটি আগে খুঁজুন।
৬৭. বাংলাদেশ কোন্ দুটি দেশ হতে সিংহভাগ সয়াবিন তেল আমদানী করে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কমালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া
- খভারত ও চীন
- গজার্মানি ও ভিয়েতনাম
- ঘআর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল
সঠিক উত্তর: ঘ. আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল
প্রশ্নটা বাংলাদেশের ভোজ্যতেল আমদানির উৎস জানতে চেয়েছে, বিশেষ করে সয়াবিন তেলের। বাংলাদেশ চাহিদার বেশির ভাগ ভোজ্যতেল আমদানি করে, আর অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের বড় অংশ আসে দক্ষিণ আমেরিকার দুই দেশ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে।
কারণটা সহজ: আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল বিশ্বের শীর্ষ সয়াবিন উৎপাদক ও সয়াবিন তেল রপ্তানিকারক। চট্টগ্রাম বন্দরে অপরিশোধিত সয়াবিন তেল নিয়ে যে জাহাজগুলো আসে, সেগুলোর বেশির ভাগ এই দুই দেশ থেকেই রওনা দেয়; পরে দেশের শোধনাগারে তা পরিশোধন করা হয়।
এই প্রশ্নে আসল ফাঁদ হলো পাম তেল আর সয়াবিন তেলকে গুলিয়ে ফেলা। পাম তেল আসে মূলত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে, কারণ এই দুই দেশ বিশ্বের প্রধান পাম তেল উৎপাদক। তাই ভোজ্যতেল শুনেই মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া বেছে নিলে ভুল হবে।
মনে রাখুন: সয়াবিন মানে দক্ষিণ আমেরিকা, পাম মানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।
৬৮. বিশ্বব্যাংকের মতে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণ নয় কোনটি? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কবৈদেশিক মুদ্রা বৃদ্ধি পাওয়া
- খঅভ্যন্তরীণ জ্বালানীর মূল্যবৃদ্ধি
- গদুর্বল মুদ্রানীতি
- ঘটাকার অবমূল্যায়ন
সঠিক উত্তর: ক. বৈদেশিক মুদ্রা বৃদ্ধি পাওয়া
প্রশ্নটা নেতিবাচক: বিশ্বব্যাংক যে কারণগুলো দেখিয়েছে তার বাইরের কারণটি খুঁজতে হবে। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ বিষয়ক প্রতিবেদনে উচ্চ মূল্যস্ফীতির পেছনে জ্বালানির উচ্চ দাম, টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়া এবং মুদ্রানীতির দুর্বল কার্যকারিতার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিটির যুক্তি বোঝা দরকার। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়ে, তাই সব পণ্যের দাম বাড়ে। টাকার মান কমলে আমদানি পণ্য কিনতে বেশি টাকা লাগে। আর সুদের হারের ঊর্ধ্বসীমার মতো কারণে মুদ্রানীতি দুর্বল থাকলে বাজারে অর্থের জোগান কমানো যায় না।
অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা প্রবাহ বাড়লে টাকার ওপর চাপ কমে, টাকা স্থিতিশীল বা শক্তিশালী হয় এবং আমদানি সস্তা হয়। এটি মূল্যস্ফীতি কমানোর দিকে কাজ করে, বাড়ানোর দিকে নয়।
নেতিবাচক প্রশ্নে তাড়াহুড়ো করে প্রথম পরিচিত কারণটি বেছে নেওয়াই সাধারণ ভুল। তিনটি বিকল্প দাম বাড়ায়, একটি দাম কমায়; সেটিই উত্তর।
মনে রাখুন: তিন বিকল্প যদি দাম বাড়ায় আর একটি কমায়, নেতিবাচক প্রশ্নে কমানোটিই উত্তর।
৬৯. বাংলাদেশের বৃহত্তম সার কারখানার নাম- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড
- খযমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড
- গপলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড
- ঘন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড
সঠিক উত্তর: গ. পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে পরীক্ষার সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সার কারখানা কোনটি। উত্তর নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা, যা বিকল্পে পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার নামে এসেছে।
কারখানাটি ২০২৩ সালের নভেম্বরে উদ্বোধন করা হয়। এর বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার টন ইউরিয়া, যা দেশের অন্য যেকোনো সার কারখানার চেয়ে বেশি। এটি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের অধীন।
এর আগে বড় কারখানা হিসেবে পরিচিত ছিল জামালপুরের তারাকান্দির যমুনা ফার্টিলাইজার, যার দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭০০ টন। পুরোনো তথ্য মনে রেখে যমুনা বেছে নেওয়াই এই প্রশ্নের প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: নতুন ও সবচেয়ে বড়: পলাশ, নরসিংদী, চালু ২০২৩।
৭০. বাংলাদেশের সংবিধানের রক্ষাকর্তা- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কপ্রেসিডেন্ট
- খজাতীয় সংসদ
- গবাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
- ঘহাই কোর্ট
সঠিক উত্তর: গ. বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে সংবিধানের রক্ষক বা অভিভাবক কে। উত্তর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, কারণ সংবিধানের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেওয়ার এবং সংবিধানবিরোধী আইন বা কাজকে অবৈধ ঘোষণা করার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের।
সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ বলে সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন, এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন যতটুকু অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততটুকু বাতিল। আর ১০২ অনুচ্ছেদে হাইকোর্ট বিভাগ মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে রিট জারি করতে পারে। একে বিচারিক পর্যালোচনা বলে।
সুপ্রিম কোর্টের দুটি বিভাগ: আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ। হাইকোর্ট আলাদা কোনো আদালত নয়, সুপ্রিম কোর্টেরই একটি বিভাগ; তাই পুরো প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টই সংবিধানের অভিভাবক।
রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ায় প্রেসিডেন্ট বা আইন প্রণেতা হওয়ায় জাতীয় সংসদ বেছে নেওয়াই সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: সংবিধান রক্ষার প্রশ্নে সবসময় সর্বোচ্চ আদালত, অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট।
৭১. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য সংবিধানের যে সংশোধন বাতিল করতে হবে- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কপঞ্চদশ
- খদ্বাদশ
- গএকাদশ
- ঘত্রয়োদশ
সঠিক উত্তর: ক. পঞ্চদশ
প্রশ্নটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্ম ও বিলুপ্তির সংশোধনী চিনতে চেয়েছে। ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়।
২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। তাই ব্যবস্থাটি ফিরিয়ে আনতে হলে পঞ্চদশ সংশোধনীর সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল করতে হবে, এটিই পরীক্ষার সময়ের যুক্তি।
এখানে প্রধান ফাঁদ ত্রয়োদশ সংশোধনী। ত্রয়োদশ সংশোধনী ব্যবস্থাটি এনেছিল; তা বাতিল করলে ব্যবস্থা ফিরে আসবে না, বরং আরও দূরে সরে যাবে। দ্বাদশ সংশোধনী ১৯৯১ সালে সংসদীয় পদ্ধতি ফিরিয়ে আনে, আর একাদশ সংশোধনী একই বছরে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রধান বিচারপতি পদে ফেরার বিষয় বৈধ করে।
মনে রাখুন: যে সংশোধনী কোনো ব্যবস্থা বাতিল করেছে, সেটি বাতিল করলেই ব্যবস্থা ফেরে।
৭২. জুলাই শহিদ দিবস কোনটি? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক০১ জুলাই
- খ২৯ জুলাই
- গ০৫ আগস্ট
- ঘ১৬ জুলাই
সঠিক উত্তর: ঘ. ১৬ জুলাই
প্রশ্নটা জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ঘোষিত দিবসগুলোর একটি জানতে চেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ১৬ জুলাইকে জুলাই শহিদ দিবস ঘোষণা করেছে, আর ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই দিনটিতে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। শুরুতে দিনটির নাম শহিদ আবু সাঈদ দিবস প্রস্তাব করা হয়েছিল, পরে নাম বদলে জুলাই শহিদ দিবস রাখা হয়।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দিন, তাই এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। শহিদ দিবস আর গণঅভ্যুত্থান দিবস গুলিয়ে ৫ আগস্ট বেছে নেওয়াই এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: শহিদ দিবস মানে প্রথম শহিদের দিন, ১৬ জুলাই; অভ্যুত্থান দিবস মানে বিজয়ের দিন, ৫ আগস্ট।
৭৩. বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কবে শপথ গ্রহণ করেন? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক২০২৪ সালের ০৫ আগস্ট
- খ২০২৪ সালের ০৮ আগস্ট
- গ২০২৪ সালের ০৬ আগস্ট
- ঘ২০২৪ সালের ০৯ আগস্ট
সঠিক উত্তর: খ. ২০২৪ সালের ০৮ আগস্ট
প্রশ্নটা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার শপথের তারিখ জানতে চেয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট রাতে বঙ্গভবনে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন; রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথ পড়ান।
ঘটনাগুলো পরপর সাজালে উত্তর সহজ হয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন। ৮ আগস্ট ড. ইউনূস দেশে ফেরেন এবং সেদিন রাতেই উপদেষ্টা পরিষদসহ শপথ নেন।
৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন হওয়ায় অনেকে সেটিকেই শপথের দিন ভেবে ভুল করেন; ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশে কোনো সরকার ছিল না।
মনে রাখুন: পাঁচে পতন, ছয়ে সংসদ ভাঙা, আটে শপথ।
৭৪. বাংলাদেশে মোট কতবার জরুরি অবস্থা জারী করা হয়েছে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক৫ বার
- খ৩ বার
- গ৪ বার
- ঘ৭ বার
সঠিক উত্তর: ক. ৫ বার
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশে মোট কতবার জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। পরীক্ষার সময় পর্যন্ত মোট পাঁচবার: ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৮৭, ১৯৯০ ও ২০০৭ সালে।
মূল সংবিধানে জরুরি অবস্থার বিধান ছিল না। ১৯৭৩ সালের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে নবম-ক ভাগ যোগ করে ১৪১ক অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
সর্বশেষ জরুরি অবস্থা জারি হয় ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি, যা এক-এগারো নামে পরিচিত। সাল পাঁচটি মনে রাখলেই গুনে উত্তর পাওয়া যায়; তিন বা চার বলা মানে কোনো একটি সাল বাদ পড়ে যাওয়া।
মনে রাখুন: সাল মনে রাখুন: চুয়াত্তর, একাশি, সাতাশি, নব্বই, সাত।
৭৫. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল কত সালে আইনে পরিণত হয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক০৭ মার্চ ১৯১৭
- খ১৮ মার্চ ১৯২০
- গ২১ মার্চ ১৯১৯
- ঘ১১ মার্চ ১৯১৮
সঠিক উত্তর: খ. ১৮ মার্চ ১৯২০
প্রশ্নটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সাল জানতে চেয়েছে। দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট ১৯২০ সালের মার্চে ভারতীয় আইনসভায় পাস হয় এবং ২৩ মার্চ ১৯২০ গভর্নর জেনারেলের সম্মতি পেয়ে ১৯২০ সালের ১৮ নম্বর আইন হিসেবে কার্যকর হয়।
পটভূমি জানলে সাল গুলিয়ে যায় না। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর পূর্ববঙ্গের ক্ষোভ প্রশমনে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ১৯১২ সালে নাথান কমিটি প্রস্তাব তৈরি করে, আর ১৯১৭ সালে গঠিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন বা স্যাডলার কমিশন ১৯১৯ সালে প্রতিবেদন দেয়।
এরপর ১৯২০ সালে আইন পাস হয় এবং ১৯২১ সালের ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বিকল্পগুলোর মধ্যে একমাত্র ১৯২০ সালের তারিখ ১৮ মার্চ, তাই সাল জানলেই উত্তর মেলে।
১৯১৭ ও ১৯১৯ সাল স্যাডলার কমিশনের সঙ্গে যুক্ত বলে চেনা লাগে; এ কারণেই এ দুটি বিকল্প ফাঁদ।
মনে রাখুন: আইন ১৯২০, যাত্রা ১৯২১; বিকল্পে ১৯২০ খুঁজলেই হয়।
৭৬. একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক দুটোই পেয়েছেন- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কভাস্কর শামীম শিকদার
- খভাস্কর হামিদুর রহমান
- গভাস্কর নিতুন কুণ্ডু
- ঘভাস্কর নভেরা আহমেদ
সঠিক উত্তর: ঘ. ভাস্কর নভেরা আহমেদ
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন ভাস্কর একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার দুটোই পেয়েছেন। উত্তর নভেরা আহমেদ: তিনি ১৯৯৭ সালে একুশে পদক এবং ২০২৫ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পান।
নভেরা আহমেদকে বাংলাদেশের আধুনিক ভাস্কর্যের পথিকৃৎ বলা হয়। ১৯৬০ সালে ঢাকায় তাঁর প্রথম একক ভাস্কর্য প্রদর্শনী হয়, আর তিনি শিল্পী হামিদুর রহমানের সঙ্গে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল নকশায় কাজ করেছিলেন। ২০১৫ সালে প্যারিসে তাঁর মৃত্যু হয়।
বাকি তিনজনও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী: হামিদুর রহমান ১৯৮০ সালে, নিতুন কুণ্ডু ১৯৯৭ সালে, শামীম শিকদার ২০০০ সালে একুশে পদক পান। কিন্তু দুটি পুরস্কারই পাওয়ার তথ্য শুধু নভেরার ক্ষেত্রে আছে।
শহীদ মিনারের সূত্রে হামিদুর রহমানের নাম বেশি পরিচিত, তাই তাঁকে বেছে নেওয়াই এখানে সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: দুই পুরস্কারের প্রশ্নে সাম্প্রতিক স্বাধীনতা পুরস্কারের তালিকা দেখুন: ২০২৫ সালে মরণোত্তর পুরস্কার পান নভেরা।
৭৭. বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কবিকেন্দ্রীভূত
- খফেডারেল
- গরাজতান্ত্রিক
- ঘকেন্দ্রীভূত
সঠিক উত্তর: ঘ. কেন্দ্রীভূত
প্রশ্নটা বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর ধরন জানতে চেয়েছে। বাংলাদেশ এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র; সংবিধানের ১ অনুচ্ছেদেই বলা আছে বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র। তাই প্রশাসনিক কাঠামো কেন্দ্রীভূত।
কেন্দ্রীভূত মানে সব প্রশাসনিক ক্ষমতার উৎস কেন্দ্রীয় সরকার। মন্ত্রণালয় থেকে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যন্ত কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। স্থানীয় সরকার থাকলেও তার ক্ষমতা আইন দিয়ে কেন্দ্রই দেয় এবং কেন্দ্রই নিয়ন্ত্রণ করে।
যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের মতো দেশে অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব সংবিধানস্বীকৃত ক্ষমতা থাকে, একে ফেডারেল কাঠামো বলে; বাংলাদেশে তেমন কোনো প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্য নেই।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান দেখে বিকেন্দ্রীভূত বলাই এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: একক রাষ্ট্র মানেই কেন্দ্রীভূত প্রশাসন; প্রদেশ নেই তো ফেডারেলও নয়।
৭৮. টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করেন- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কসাকিব-আল-হাসান
- খমমিনুল হক
- গনাজমুল হোসেন শান্ত
- ঘমুশফিকুর রহিম
সঠিক উত্তর: ঘ. মুশফিকুর রহিম
প্রশ্নটা টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ানের নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর মুশফিকুর রহিম: ২০১৩ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনি ঠিক ২০০ রান করেন।
এরপর ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব আল হাসান ২১৭ রান করে দ্বিতীয় বাংলাদেশি ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হন। ২০১৮ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ২১৯ রান করে মুশফিক আবার রেকর্ড নিজের করে নেন।
সাকিবের ২১৭ রান এক সময় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল বলে অনেকে তাঁকেই প্রথম ভেবে ভুল করেন। প্রথম আর সর্বোচ্চ আলাদা প্রশ্ন।
মনে রাখুন: প্রথম ডাবল মুশফিক, দ্বিতীয় সাকিব, সর্বোচ্চ আবার মুশফিক।
৭৯. ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় কোন পত্রিকাটি নিষিদ্ধ ছিল? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কদৈনিক ইত্তেফাক
- খবাংলাদেশ অবজার্ভার
- গদৈনিক গণকণ্ঠ
- ঘবাংলাদেশ টাইমস
সঠিক উত্তর: গ. দৈনিক গণকণ্ঠ
প্রশ্নটা ১৯৭৫ সালের একদলীয় শাসনের সময় সংবাদপত্র বন্ধের ঘটনা জানতে চেয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন সংবাদপত্র ঘোষণা বাতিল অধ্যাদেশ জারি করে মাত্র চারটি পত্রিকা সরকারি ব্যবস্থাপনায় রেখে বাকি সব বন্ধ করা হয়।
যে চারটি রাখা হয়েছিল: দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ অবজারভার ও বাংলাদেশ টাইমস। বিকল্পের বাকি তিনটি এই তালিকায় আছে, শুধু দৈনিক গণকণ্ঠ নেই। তাই গণকণ্ঠই নিষিদ্ধ পত্রিকা।
গণকণ্ঠ ছিল জাসদ সমর্থিত দৈনিক, সম্পাদক ছিলেন কবি আল মাহমুদ; সরকারের কড়া সমালোচনার জন্য পত্রিকাটি পরিচিত ছিল। ১৬ জুন দিনটিকে সাংবাদিক সংগঠনগুলো সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালন করে।
কৌশল হলো উল্টো দিক থেকে ভাবা: চালু থাকা চারটি পত্রিকার নাম মনে রাখলে বাকিটা নিজেই বেরিয়ে আসে।
মনে রাখুন: চালু থাকা চার পত্রিকার নাম মনে রাখুন; তালিকার বাইরেরটিই নিষিদ্ধ।
৮০. ওয়াসফিয়া নাজরীন বিখ্যাত- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কঅ্যাথলেট হিসেবে
- খক্রিকেটার হিসেবে
- গএভারেস্টজয়ী হিসেবে
- ঘনারী উদ্যোক্তা হিসেবে
সঠিক উত্তর: গ. এভারেস্টজয়ী হিসেবে
প্রশ্নটা ওয়াসফিয়া নাজরীনের পরিচয় জানতে চেয়েছে। তিনি পর্বতারোহী; ২০১২ সালে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন, তাই এভারেস্টজয়ী হিসেবে খ্যাত।
তাঁর বড় অর্জন সাত মহাদেশের সর্বোচ্চ সাতটি শৃঙ্গ জয়, যাকে সেভেন সামিট বলে। ২০১৫ সালের নভেম্বরে ওশেনিয়ার কার্স্টেনজ পিরামিড জয় করে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সেভেন সামিট সম্পন্ন করেন। ২০২২ সালে তিনি কে টু শৃঙ্গও জয় করেন।
বাংলাদেশের এভারেস্টজয়ীদের মধ্যে প্রথম মুসা ইব্রাহীম, ২০১০ সালে; প্রথম নারী নিশাত মজুমদার, ২০১২ সালের মে মাসে। ওয়াসফিয়া একই মৌসুমে এভারেস্ট জয় করে দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হন। প্রথম নারী এভারেস্টজয়ী কে, এই প্রশ্নে তাঁর নাম লিখলে ভুল হবে।
মনে রাখুন: ওয়াসফিয়া মানে সেভেন সামিট; প্রথম নারী এভারেস্টজয়ী নিশাত।