সাধারণ বিজ্ঞান · পাতা ১৮
৩৪১. বৈদ্যুতিক হিটার ও ইস্ত্রিতে কোন ধাতুর তার ব্যবহার করা হয়? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কতামা
- খনাইক্রোম
- গস্টেনিয়াম
- ঘপ্লাটিনাম
সঠিক উত্তর: খ. নাইক্রোম
প্রশ্নটা তাপ উৎপাদক যন্ত্রের কুণ্ডলীর উপাদান জানতে চেয়েছে। বৈদ্যুতিক হিটার ও ইস্ত্রিতে নাইক্রোমের তার ব্যবহার হয়; নাইক্রোম হলো নিকেল ও ক্রোমিয়ামের সংকর ধাতু।
তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চললে উৎপন্ন তাপ তারের রোধের উপর নির্ভর করে। নাইক্রোমের রোধ বেশি, তাই অল্প দৈর্ঘ্যের তারেই অনেক তাপ তৈরি হয়।
আরেকটি গুণ হলো, উচ্চ তাপমাত্রায় নাইক্রোম বাতাসের অক্সিজেনে সহজে জারিত হয় না, আর এর গলনাঙ্কও উঁচু; তাই লাল হয়ে গরম থাকলেও দীর্ঘদিন টেকে।
ফাঁদ হলো তামা। তামা খুব ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী, কিন্তু রোধ কম বলে তাপ কম তৈরি হয়; তাই তামা ব্যবহার হয় বিদ্যুৎ পরিবহনের তারে। প্লাটিনাম অত্যন্ত দামি, ঘরোয়া হিটারে চলে না।
মনে রাখুন: আলো দিতে টাংস্টেন, তাপ দিতে নাইক্রোম, বিদ্যুৎ বইতে তামা।
৩৪২. রেফ্রিজারেটরে কমপ্রেসরের কাজ কি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কফ্রেয়নকে ঘনীভূত করা
- খফ্রেয়নকে বাষ্পে পরিণত করা
- গফ্রেয়নকে সংকুচিত করে এর তাপ ও তাপমাত্রা বাড়ানো
- ঘফ্রেয়নকে ঠাণ্ডা করা
সঠিক উত্তর: খ. ফ্রেয়নকে বাষ্পে পরিণত করা
প্রশ্নটা রেফ্রিজারেটরের শীতলীকরণ চক্র পরীক্ষা করছে। ফ্রিজের ভেতর ঠান্ডা হয় কারণ তরল ফ্রেয়ন ভেতরের নলে বাষ্পে পরিণত হওয়ার সময় চারপাশ থেকে সুপ্ততাপ শোষণ করে।
চক্রটা চার ধাপে চলে। ভেতরের ইভাপোরেটরে তরল ফ্রেয়ন বাষ্প হয়ে তাপ শোষণ করে। কম্প্রেসর সেই বাষ্প টেনে নিয়ে সংকুচিত করে, এতে চাপ ও তাপমাত্রা বাড়ে। পেছনের কনডেনসারে গরম বাষ্প তাপ ছেড়ে আবার তরল হয়, তারপর সরু নল দিয়ে চাপ কমে আবার ভেতরে ফেরে।
প্রচলিত গাইডে এখানে উত্তর ধরা হয় ফ্রেয়নকে বাষ্পে পরিণত করা। এর পক্ষে একটি যুক্তি দেওয়া যায়: কম্প্রেসর ইভাপোরেটর থেকে বাষ্প অনবরত টেনে নেয় বলে সেখানে চাপ কম থাকে, আর সেই কম চাপেই তরল ফ্রেয়ন বারবার বাষ্প হতে পারে।
তবে মনে রাখা দরকার, কম্প্রেসরের সরাসরি কাজ হলো ফ্রেয়ন বাষ্পকে সংকুচিত করে চাপ ও তাপমাত্রা বাড়ানো; বাষ্পীভবন নিজে ঘটে ইভাপোরেটরে, আর ঘনীভবন ঘটে কনডেনসারে। তাই এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে গাইডগুলোর মধ্যে মতভেদ আছে।
মনে রাখুন: চক্রের ক্রম: ইভাপোরেটরে বাষ্প, কম্প্রেসরে সংকোচন, কনডেনসারে তরল।
৩৪৩. এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি হতে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বৃদ্ধির জন্যে কত তাপের প্রয়োজন? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ক১০ ক্যালরি
- খ২ ক্যালরি
- গ৩ ক্যালরি
- ঘ৪ ক্যালরি
সঠিক উত্তর: ক. ১০ ক্যালরি
প্রশ্নটা ক্যালরির সংজ্ঞা আর তাপের সূত্র পরীক্ষা করছে। এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়াতে যে তাপ লাগে, তাকেই এক ক্যালরি বলে। এ কারণে পানির আপেক্ষিক তাপ প্রতি গ্রামে প্রতি ডিগ্রিতে এক ক্যালরি।
তাপের সূত্র হলো: প্রয়োজনীয় তাপ সমান ভর গুণ আপেক্ষিক তাপ গুণ তাপমাত্রার পরিবর্তন।
এখানে ভর এক গ্রাম, আপেক্ষিক তাপ এক, আর তাপমাত্রা ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রিতে উঠছে, মানে পরিবর্তন ১০ ডিগ্রি। তাই তাপ লাগবে এক গুণ এক গুণ দশ, অর্থাৎ ১০ ক্যালরি।
ফাঁদ হলো শুরু বা শেষের তাপমাত্রা নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়া। হিসাবে লাগে শুধু পরিবর্তন, অর্থাৎ পার্থক্য ১০ ডিগ্রি; ২, ৩ বা ৪ ক্যালরি দিলে তাপমাত্রা বাড়বে মাত্র ২, ৩ বা ৪ ডিগ্রি।
মনে রাখুন: পানির ক্ষেত্রে ক্যালরি = গ্রাম × ডিগ্রির পার্থক্য: ১ × ১০ = ১০।
৩৪৪. কোন শব্দ শোনার পরে কত সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ক১ সেকেন্ড
- খ০.১ সেকেন্ড
- গ০.০১ সেকেন্ড
- ঘ০.০০১ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর: খ. ০.১ সেকেন্ড
প্রশ্নটা শব্দানুভূতির স্থায়িত্ব পরীক্ষা করছে। কোনো শব্দ শোনার পর তার রেশ আমাদের মস্তিষ্কে প্রায় শূন্য দশমিক এক সেকেন্ড, অর্থাৎ এক সেকেন্ডের দশ ভাগের এক ভাগ সময় থাকে।
এই সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় কোনো শব্দ কানে এলে মস্তিষ্ক দুটিকে আলাদা করতে পারে না, মিশিয়ে ফেলে। এ কারণেই প্রতিধ্বনি আলাদা শুনতে হলে মূল শব্দ আর প্রতিধ্বনির মাঝে অন্তত শূন্য দশমিক এক সেকেন্ডের ব্যবধান লাগে।
শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসে বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ৩৩২ মিটার প্রতি সেকেন্ড ধরলে, শূন্য দশমিক এক সেকেন্ডে শব্দ যায় প্রায় ৩৩ দশমিক ২ মিটার। এই পথ যাওয়া আর ফেরা মিলিয়ে, তাই প্রতিফলককে থাকতে হয় অন্তত প্রায় ১৬ দশমিক ৬ মিটার দূরে।
ফাঁদ হলো এক সেকেন্ড। এক সেকেন্ড ধরলে প্রতিধ্বনির জন্য দেয়াল লাগত প্রায় ১৬৬ মিটার দূরে, অথচ বাস্তবে এর চেয়ে অনেক কাছের দেয়াল থেকেও প্রতিধ্বনি শোনা যায়।
মনে রাখুন: ০.১ সেকেন্ড মনে রাখলেই প্রতিধ্বনির ন্যূনতম দূরত্ব বের হয়: বেগ × ০.১ ÷ ২।
৩৪৫. টেপ রেকর্ডার এবং কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় কি ধরনের চুম্বক ব্যবহৃত হয়? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কস্থায়ী চুম্বক
- খঅস্থায়ী চুম্বক
- গসংকর চুম্বক
- ঘপ্রাকৃতিক চুম্বক
সঠিক উত্তর: ক. স্থায়ী চুম্বক
প্রশ্নটা স্থায়ী আর অস্থায়ী চুম্বকের ব্যবহার পরীক্ষা করছে। যে চৌম্বক পদার্থ চুম্বকিত করার পর চুম্বকত্ব ধরে রাখে, তা দিয়ে হয় স্থায়ী চুম্বক; আর যা চুম্বকক্ষেত্র সরালেই চুম্বকত্ব হারায়, তা অস্থায়ী চুম্বক, যেমন কাঁচা লোহার তড়িৎচুম্বক।
টেপ রেকর্ডারের ফিতা আর কম্পিউটারের চৌম্বক টেপে আয়রন অক্সাইডের মতো চৌম্বক গুঁড়ার প্রলেপ থাকে। রেকর্ডের সময় শব্দ বা তথ্য অনুযায়ী এই গুঁড়া চুম্বকিত হয়, আর পরে মুছে না ফেলা পর্যন্ত সেই চুম্বকত্ব ধরে রাখে; এভাবেই তথ্য জমা থাকে।
তথ্য সংরক্ষণের জন্য চুম্বকত্ব ধরে রাখা জরুরি বলে একে স্থায়ী চুম্বকের ব্যবহার ধরা হয়। অন্যদিকে রেকর্ডিং হেড কাজ করে অস্থায়ী তড়িৎচুম্বক হিসেবে, যা শুধু বিদ্যুৎ চললে চুম্বক হয়।
ফাঁদ হলো অস্থায়ী চুম্বক, কারণ টেপের রেকর্ড মুছে আবার লেখা যায়। কিন্তু মুছতে আলাদা চুম্বকক্ষেত্র লাগে; নিজে থেকে চুম্বকত্ব হারালে তো রেকর্ডই থাকত না।
মনে রাখুন: তথ্য জমিয়ে রাখতে হলে চুম্বকত্বও ধরে রাখতে হয়: স্থায়ী চুম্বক।
৩৪৬. টেলিভিশনে রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্যে কয়টি মৌলিক রং- এর ছবি ব্যবহার করা হয়? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ক১ টি
- খ২ টি
- গ৩ টি
- ঘ৪ টি
সঠিক উত্তর: গ. ৩ টি
প্রশ্নটা রঙিন টেলিভিশনে রং তৈরির নীতি পরীক্ষা করছে। আলোর তিনটি মৌলিক রং হলো লাল, সবুজ আর নীল; এদের বিভিন্ন অনুপাতে মিশিয়ে প্রায় সব রং তৈরি করা যায়।
রঙিন টেলিভিশনের পর্দার প্রতিটি বিন্দুতে লাল, সবুজ ও নীলের তিনটি ক্ষুদ্র অংশ থাকে। প্রতিটি কতটা উজ্জ্বল হবে তা বদলে সব রঙের ছবি তৈরি হয়; তিনটি সমান উজ্জ্বল হলে সাদা দেখায়।
তাই রঙিন ছবির জন্য তিনটি মৌলিক রঙের ছবি লাগে। সাদাকালো টেলিভিশনে শুধু উজ্জ্বলতার একটি সংকেতই যথেষ্ট ছিল।
ফাঁদ হলো চারটি। ছাপাখানায় রঙিন ছবি ছাপতে চার রঙের কালি লাগে, কিন্তু আলো মেশানো পর্দায় তিনটি রঙেই সব রং পাওয়া যায়।
মনে রাখুন: টেলিভিশন, মোবাইল, কম্পিউটারের পর্দা: সবখানে লাল, সবুজ, নীল তিন রং।
৩৪৭. যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তার নাম কি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কট্রান্সফর্মার
- খমোটর
- গজেনারেটর
- ঘডায়নামো
সঠিক উত্তর: ক. ট্রান্সফর্মার
প্রশ্নটা ট্রান্সফর্মারের কাজ পরীক্ষা করছে। ট্রান্সফর্মার এমন যন্ত্র, যা পরিবর্তী বা এসি বিদ্যুতের বিভব বাড়ায় বা কমায়; বিভব বাড়ালে তাকে স্টেপ আপ আর কমালে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে।
এটি কাজ করে তড়িৎচৌম্বক আবেশের নীতিতে। একটি লোহার মজ্জার উপর দুটি কুণ্ডলী থাকে। মুখ্য কুণ্ডলীতে পরিবর্তী প্রবাহ চললে মজ্জায় পরিবর্তনশীল চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি হয়, আর তা গৌণ কুণ্ডলীতে বিভব আবিষ্ট করে। দুই কুণ্ডলীর পাকসংখ্যার অনুপাতই ঠিক করে বিভব কত গুণ বাড়বে বা কমবে।
সমপ্রবাহ বা ডিসিতে চৌম্বকক্ষেত্র বদলায় না, তাই ট্রান্সফর্মার ডিসিতে কাজ করে না। বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দূরে বিদ্যুৎ পাঠাতে বিভব বাড়ানো হয়, আর বাড়িতে দেওয়ার আগে আবার কমানো হয়।
মোটর বিদ্যুৎশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপ দেয়, আর জেনারেটর ও ডায়নামো যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎশক্তিতে। এরা শক্তির রূপ বদলায়, বিভবের মান নয়।
মনে রাখুন: বিভব বাড়ানো-কমানো মানেই ট্রান্সফর্মার; শক্তির রূপ বদল মানে মোটর বা জেনারেটর।
৩৪৮. বিদ্যুৎ বিলের হিসাব কিভাবে করা হয়? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কওয়াট আওয়ারে
- খওয়াটে
- গভোল্টে
- ঘকিলোওয়াট ঘণ্টায়
সঠিক উত্তর: ঘ. কিলোওয়াট ঘণ্টায়
প্রশ্নটা ক্ষমতা আর শক্তির পার্থক্য পরীক্ষা করছে। ওয়াট হলো ক্ষমতার একক, মানে প্রতি সেকেন্ডে কতটা শক্তি খরচ হচ্ছে। কিন্তু বিল হয় মোট কতটা শক্তি খরচ হলো তার উপর, আর শক্তি সমান ক্ষমতা গুণ সময়।
বিদ্যুৎ বিলে শক্তির একক কিলোওয়াট ঘণ্টা, যাকে সংক্ষেপে এক ইউনিট বলে। এক হাজার ওয়াট ক্ষমতার যন্ত্র এক ঘণ্টা চললে খরচ হয় এক কিলোওয়াট ঘণ্টা বা এক ইউনিট বিদ্যুৎ, যা ছত্রিশ লক্ষ জুলের সমান।
যেমন একশো ওয়াটের বাল্ব দশ ঘণ্টা জ্বললে খরচ হয় এক হাজার ওয়াট ঘণ্টা, অর্থাৎ এক ইউনিট।
ফাঁদ হলো ওয়াট আওয়ার। এটিও শক্তির একক এবং হিসাবটা ঠিক পথেই, কিন্তু বিলের একক এর এক হাজার গুণ বড় কিলোওয়াট ঘণ্টা। ভোল্ট হলো বিভবের একক, খরচের নয়।
মনে রাখুন: বিলের ১ ইউনিট = ১ কিলোওয়াট ঘণ্টা।
৩৪৯. কোনটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কগ্লিসারিন
- খফিটকিরি
- গসোডিয়াম ক্লোরাইড
- ঘক্যালসিয়াম কার্বনেট
সঠিক উত্তর: ঘ. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
প্রশ্নটা কোন পদার্থ পানিতে দ্রবণীয় আর কোনটি নয়, তা পরীক্ষা করছে। ক্যালসিয়াম কার্বনেট, যা চুনাপাথর, মার্বেল আর ঝিনুকের খোলসের মূল উপাদান, পানিতে প্রায় অদ্রবণীয়।
তবে কার্বন ডাইঅক্সাইড মেশানো পানিতে ক্যালসিয়াম কার্বনেট ধীরে ধীরে ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেট হয়ে দ্রবীভূত হয়; এভাবেই চুনাপাথরের গুহা তৈরি হয়, আর পানিতে খরতা আসে।
গ্লিসারিন পানির সঙ্গে যেকোনো অনুপাতে মিশে যায়। ফিটকিরি পানিতে দ্রবীভূত হয় বলেই একে পানি পরিষ্কারে ব্যবহার করা হয়। আর সোডিয়াম ক্লোরাইড, মানে খাবার লবণ, পানিতে সহজেই গলে যায়।
ফাঁদ হলো ফিটকিরি; দানাদার পাথরের মতো দেখায় বলে অনেকে একে অদ্রবণীয় ভাবেন, কিন্তু এটি পানিতে ভালোভাবেই দ্রবীভূত হয়।
মনে রাখুন: চুনাপাথর, মার্বেল, ঝিনুক: সবই ক্যালসিয়াম কার্বনেট, পানিতে প্রায় অদ্রবণীয়।
৩৫০. পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কসোডিয়াম
- খপটাসিয়াম
- গম্যাগনেসিয়াম
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. সোডিয়াম
প্রশ্নটা পারমাণবিক চুল্লির কুল্যান্ট বা তাপ পরিবাহক নিয়ে। চুল্লির জ্বালানিতে ফিশন বিক্রিয়ায় বিপুল তাপ তৈরি হয়; সেই তাপ সরিয়ে নিয়ে বাষ্প তৈরির কাজে লাগাতে একটি তাপ পরিবাহক পদার্থ লাগে।
সাধারণ চুল্লিতে এ কাজে পানি ব্যবহার হলেও, ফাস্ট ব্রিডার বা দ্রুত প্রজনন চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে ব্যবহার হয় গলিত ধাতু সোডিয়াম। প্রশ্নে ধাতু জানতে চাওয়ায় উত্তর সোডিয়াম।
সোডিয়াম প্রায় ৯৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গলে, কিন্তু ফোটে প্রায় ৮৮৩ ডিগ্রিতে। তাই অনেক বড় তাপমাত্রার পরিসরে এটি তরল থাকে, আর ধাতু বলে খুব ভালো তাপ পরিবহন করে।
ফাঁদ হলো পটাশিয়াম; এটিও সোডিয়ামের মতো ক্ষার ধাতু, তবে চুল্লির প্রচলিত ধাতব তাপ পরিবাহক সোডিয়াম। ম্যাগনেসিয়ামের সংকর ব্যবহার হয়েছে ব্রিটিশ ম্যাগনক্স চুল্লিতে জ্বালানির আবরণ হিসেবে, তাপ পরিবাহক হিসেবে নয়।
মনে রাখুন: চুল্লি আর ধাতব তাপ পরিবাহক একসাথে দেখলেই সোডিয়াম।
৩৫১. চা পাতায় কোন ভিটামিন থাকে? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কভিটামিন-ই
- খভিটামিন-কে
- গভিটামিন-বি কমপ্লেক্স
- ঘভিটামিন-এ
সঠিক উত্তর: গ. ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স
প্রশ্নটা চা পাতার পুষ্টি উপাদান নিয়ে। প্রচলিত উত্তর অনুযায়ী চা পাতায় থাকে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, অর্থাৎ বি গোষ্ঠীর কয়েকটি ভিটামিন, অল্প পরিমাণে।
ভিটামিন দুই ধরনের: পানিতে দ্রবণীয় বি গোষ্ঠী ও সি, আর চর্বিতে দ্রবণীয় এ, ডি, ই ও কে। চা আমরা গরম পানিতে ভিজিয়ে খাই, তাই পাতার পানিতে দ্রবণীয় উপাদানগুলোই কাপে আসে; বি কমপ্লেক্স এই দলের।
চায়ের আসল পরিচিতি অবশ্য ভিটামিনে নয়। চায়ে থাকা ক্যাফেইন স্নায়ুকে উদ্দীপ্ত করে, আর ট্যানিনের কারণে চায়ের স্বাদ কষা হয়।
ভিটামিন এ, ই আর কে চর্বিতে দ্রবণীয়, তাই পানিতে ভেজানো চায়ে এগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশ আসে না; এ কারণে এগুলো উত্তর নয়।
মনে রাখুন: চায়ে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, উদ্দীপক ক্যাফেইন, কষা স্বাদের ট্যানিন।
৩৫২. উদ্ভিদের পাতা হলদে হয়ে যায় কিসের অভাবে? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কনাইট্রোজেনের
- খফসফরাসের
- গইউরিয়ার
- ঘপটাসিয়ামের
সঠিক উত্তর: ক. নাইট্রোজেনের
প্রশ্নটা উদ্ভিদের পুষ্টির অভাবজনিত লক্ষণ পরীক্ষা করছে। পাতা সবুজ থাকে ক্লোরোফিলের কারণে, আর ক্লোরোফিল অণু তৈরিতে নাইট্রোজেন অপরিহার্য। তাই নাইট্রোজেনের অভাবে ক্লোরোফিল কমে পাতা হলদে হয়ে যায়; একে ক্লোরোসিস বলে।
নাইট্রোজেন গাছের ভেতরে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরতে পারে। অভাব হলে গাছ পুরোনো পাতা থেকে নাইট্রোজেন সরিয়ে কচি পাতায় পাঠায়, তাই হলদে ভাব আগে দেখা যায় নিচের পুরোনো পাতায়।
অন্য উপাদানের অভাবের লক্ষণ আলাদা। ফসফরাসের অভাবে গাছের বৃদ্ধি কমে এবং পাতায় অনেক সময় গাঢ় সবুজ বা বেগুনি আভা আসে। পটাশিয়ামের অভাবে পাতার কিনারা পুড়ে যাওয়ার মতো বাদামি হয়। ম্যাগনেসিয়াম বা লোহার অভাবেও পাতা হলদে হতে পারে, তবে এরা বিকল্পে নেই।
ফাঁদ হলো ইউরিয়া। ইউরিয়া সার দিলে হলদে পাতা আবার সবুজ হয়, তাই নামটা মনে আসে; কিন্তু ইউরিয়া নিজে পুষ্টি উপাদান নয়, এটি নাইট্রোজেনের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত সার।
মনে রাখুন: হলুদ পাতা মানে নাইট্রোজেনের অভাব, প্রতিকার ইউরিয়া সার।
৩৫৩. মানুষের স্পাইনাল কর্ডের দৈর্ঘ্য কত? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ক১৫ ইঞ্চি (প্রায়)
- খ১৭ ইঞ্চি (প্রায়)
- গ১৮ ইঞ্চি (প্রায়)
- ঘ২০ ইঞ্চি (প্রায়)
সঠিক উত্তর: গ. ১৮ ইঞ্চি (প্রায়)
প্রশ্নটা সুষুম্নাকাণ্ড বা স্পাইনাল কর্ডের দৈর্ঘ্য জানতে চেয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সুষুম্নাকাণ্ড প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার, অর্থাৎ প্রায় ১৮ ইঞ্চি লম্বা।
সুষুম্নাকাণ্ড মস্তিষ্কের নিচের অংশ থেকে শুরু হয়ে মেরুদণ্ডের নালির ভেতর দিয়ে নেমে কোমরের প্রথম ও দ্বিতীয় কশেরুকার কাছে শেষ হয়। তাই এটি পুরো মেরুদণ্ডের চেয়ে খাটো।
এটি মস্তিষ্ক আর দেহের মধ্যে স্নায়ুসংকেত আনা নেওয়া করে, আর প্রতিবর্ত ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
ফাঁদ হলো ১৭ ইঞ্চি। প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সুষুম্নাকাণ্ড প্রায় ৪৩ সেন্টিমিটার, যা প্রায় ১৭ ইঞ্চি; কিন্তু প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর হিসেবে ১৮ ইঞ্চিই ধরা হয়।
মনে রাখুন: ৪৫ সেমি ≈ ১৮ ইঞ্চি; সেমিকে ২.৫৪ দিয়ে ভাগ করলেই ইঞ্চি।
৩৫৪. ক্যান্সার রোগের কারণ কি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ককোষের অস্বাভাবিক মৃত্যু
- খকোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
- গকোষের অস্বাভাবিক জমাট বাঁধা
- ঘউপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর: খ. কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
প্রশ্নটা ক্যান্সারের মূল প্রকৃতি জানতে চেয়েছে। ক্যান্সার হলো কোষের অনিয়ন্ত্রিত ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিভাজন। স্বাভাবিক কোষ প্রয়োজন অনুযায়ী বিভাজিত হয়, আর পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে নিয়ম মেনে মারা যায়; ক্যান্সার কোষ এই নিয়ন্ত্রণ মানে না।
এর পেছনে থাকে কোষের ডিএনএতে পরিবর্তন বা মিউটেশন, যা তামাক, কিছু রাসায়নিক, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ, কিছু ভাইরাস বা বংশগত কারণে হতে পারে।
অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনে কোষ জমে টিউমার তৈরি হয়। ক্ষতিকর বা ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের কোষ রক্ত ও লসিকার মাধ্যমে দেহের অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে, একে মেটাস্টেসিস বলে।
কোষের অস্বাভাবিক মৃত্যু ক্যান্সারের কারণ নয়; বরং ক্যান্সার কোষ যথাসময়ে মরে না। জমাট বাঁধা রক্তের প্রক্রিয়া, কোষ বিভাজনের নয়। তাই সবগুলো বিকল্পটিও ভুল।
মনে রাখুন: ক্যান্সার মানে কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি, মৃত্যু নয়।
৩৫৫. ইনসুলিন নিঃসৃত হয় কোথা থেকে? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কঅগ্ন্যাশয় হতে
- খপ্যানক্রিয়াস হতে
- গলিভার হতে
- ঘপিটুইটারী গ্ল্যান্ড হতে
সঠিক উত্তর: ক. অগ্ন্যাশয় হতে
প্রশ্নটা ইনসুলিন হরমোনের উৎস জানতে চেয়েছে। ইনসুলিন নিঃসৃত হয় অগ্ন্যাশয় থেকে; অগ্ন্যাশয়ের ইংরেজি নামই প্যানক্রিয়াস।
অগ্ন্যাশয়ে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট কোষগুচ্ছকে আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স বলে। এর বিটা কোষ ইনসুলিন আর আলফা কোষ গ্লুকাগন তৈরি করে। ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজকে কোষে ঢুকতে সাহায্য করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায়; এর অভাবে বা কার্যকারিতা কমে গেলে ডায়াবেটিস হয়।
এখানে প্রশ্নে একটা ত্রুটি আছে: প্রথম দুটি বিকল্প আসলে একই অঙ্গের বাংলা ও ইংরেজি নাম, তাই দুটোই সঠিক। প্রচলিত উত্তরে বাংলা নাম অগ্ন্যাশয় ধরা হয়েছে।
যকৃৎ বা লিভার গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা রাখে, কিন্তু ইনসুলিন তৈরি করে না। পিটুইটারি গ্রন্থি বৃদ্ধি হরমোনসহ অনেক হরমোন নিঃসরণ করে, তবে ইনসুলিন নয়।
মনে রাখুন: অগ্ন্যাশয় আর প্যানক্রিয়াস একই অঙ্গ; ইনসুলিন আসে বিটা কোষ থেকে।
৩৫৬. সুষম খাদ্যের উপাদান কয়টি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ক৪ টি
- খ৫ টি
- গ৬ টি
- ঘ৮ টি
সঠিক উত্তর: গ. ৬ টি
প্রশ্নটা খাদ্যের উপাদান কয়টি, তা জানতে চেয়েছে। খাদ্যের উপাদান ছয়টি: শর্করা, আমিষ, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন, খনিজ লবণ আর পানি।
এদের কাজ অনুযায়ী মনে রাখা সহজ। শর্করা আর স্নেহ পদার্থ প্রধানত শক্তি দেয়, আমিষ দেহের গঠন ও ক্ষয়পূরণ করে, আর ভিটামিন ও খনিজ লবণ রোগ প্রতিরোধ ও দেহের নানা কাজ নিয়ন্ত্রণে লাগে। পানি দেহের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যম এবং তাপমাত্রা ঠিক রাখে।
যে খাদ্যে এই ছয়টি উপাদান দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক অনুপাতে থাকে, তাকে সুষম খাদ্য বলে।
ফাঁদ হলো পাঁচটি। অনেকে পানিকে খাদ্যের উপাদান হিসেবে গোনেন না, তাই পাঁচ আসে; কিন্তু পানি খাদ্যের অপরিহার্য উপাদান।
মনে রাখুন: শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ, পানি: ছয়।
৩৫৭. জীবজগতের জন্যে সবচেয়ে ক্ষতিকারক রশ্মি কোনটি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কআলট্রা-ভায়োলেট রশ্মি
- খবিটা রশ্মি
- গআলফা রশ্মি
- ঘগামা রশ্মি
সঠিক উত্তর: ঘ. গামা রশ্মি
প্রশ্নটা বিভিন্ন বিকিরণের ক্ষতিকর ক্ষমতার তুলনা চায়। গামা রশ্মি উচ্চশক্তির তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ, যার ভেদনক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। এটি দেহ ভেদ করে গভীরে কোষ ও ডিএনএর ক্ষতি করে, তাই একে জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ধরা হয়।
ভেদনক্ষমতার ক্রম মনে রাখুন: আলফা কণা এক টুকরো কাগজেই আটকে যায়, বিটা কণা আটকাতে কয়েক মিলিমিটার অ্যালুমিনিয়ামের পাত লাগে, আর গামা রশ্মি আটকাতে লাগে পুরু সিসা বা কংক্রিট।
অতিবেগুনি রশ্মিও ক্ষতিকর, ত্বকে পোড়া ও ক্যান্সার ঘটাতে পারে; তবে এর শক্তি গামার চেয়ে অনেক কম, এর বড় অংশ ওজোন স্তরে শোষিত হয়, আর এটি ত্বক পেরিয়ে দেহের গভীরে যায় না।
ফাঁদ হলো অতিবেগুনি রশ্মি, কারণ দৈনন্দিন জীবনে এর ক্ষতির কথাই বেশি শোনা যায়। তবে শক্তি ও ভেদনক্ষমতা বিচারে গামা রশ্মিই সবচেয়ে ক্ষতিকর।
মনে রাখুন: ভেদনক্ষমতা আলফা থেকে বিটা থেকে গামার দিকে বাড়ে; সবচেয়ে ক্ষতিকর গামা।
৩৫৮. ছায়াপথ তার নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরে আসতে যে সময় লাগে তাকে কি বলে? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কসৌর বছর
- খকসমিক ইয়ার
- গআলোক বর্ষ
- ঘপলিসার
সঠিক উত্তর: খ. কসমিক ইয়ার
প্রশ্নটা জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটি সময়ের একক নিয়ে। সূর্য তার গ্রহগুলোকে নিয়ে আমাদের ছায়াপথ আকাশগঙ্গার কেন্দ্রকে একবার প্রদক্ষিণ করতে যে সময় নেয়, তাকে কসমিক ইয়ার বা ছায়াপথ বছর বলে।
এই সময় প্রায় ২২ কোটি ৫০ লক্ষ বছর। অর্থাৎ সৌরজগৎ তৈরির পর থেকে সূর্য মাত্র প্রায় বিশ বার ছায়াপথ ঘুরে এসেছে।
প্রশ্নের ভাষায় বলা হয়েছে ছায়াপথের নিজ অক্ষে ঘোরা, যা নিখুঁত নয়। ছায়াপথ কঠিন বস্তুর মতো একসাথে ঘোরে না, কেন্দ্র থেকে দূরত্বভেদে নক্ষত্রের প্রদক্ষিণকাল আলাদা; তাই প্রচলিত সংজ্ঞায় সূর্যের প্রদক্ষিণকালকেই কসমিক ইয়ার ধরা হয়।
ফাঁদ হলো আলোকবর্ষ। নামে বর্ষ থাকলেও এটি সময় নয়, দূরত্বের একক: আলো এক বছরে যতটা পথ যায়। সৌর বছর হলো পৃথিবীর সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণের সময়।
মনে রাখুন: নামে বর্ষ থাকলেই সময় নয়: আলোকবর্ষ দূরত্ব, কসমিক ইয়ার সময়।
৩৫৯. কোন ইঞ্জিনে কার্বুরেটর থাকে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কপেট্রোল ইঞ্জিনে
- খডিজেল ইঞ্জিনে
- গরকেট ইঞ্জিনে
- ঘবিমান ইঞ্জিনে
সঠিক উত্তর: ক. পেট্রোল ইঞ্জিনে
প্রশ্নটা অন্তর্দহন ইঞ্জিনে জ্বালানি জ্বালানোর পদ্ধতি পরীক্ষা করছে। কার্বুরেটর এমন একটি যন্ত্রাংশ, যা বাতাসের সঙ্গে পেট্রোল সঠিক অনুপাতে মিশিয়ে ইঞ্জিনের সিলিন্ডারে পাঠায়।
পেট্রোল ইঞ্জিনে এই মিশ্রণ সিলিন্ডারে সংকুচিত হওয়ার পর স্পার্ক প্লাগের বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গে জ্বলে ওঠে। আধুনিক অনেক গাড়িতে অবশ্য কার্বুরেটরের জায়গায় ফুয়েল ইনজেকশন ব্যবস্থা ব্যবহার হয়।
ডিজেল ইঞ্জিনে কার্বুরেটর বা স্পার্ক প্লাগ নেই। সেখানে শুধু বাতাসকে খুব বেশি চাপে সংকুচিত করা হয়, এতে বাতাস এত গরম হয় যে ইনজেক্টর দিয়ে ছিটানো ডিজেল নিজে থেকেই জ্বলে যায়।
ফাঁদ হলো বিমান ইঞ্জিন। বড় বিমানের জেট বা টারবাইন ইঞ্জিনে কার্বুরেটর থাকে না; ছোট কিছু পিস্টনচালিত বিমানে কার্বুরেটর থাকলেও সেগুলো আসলে পেট্রোলজাতীয় জ্বালানির ইঞ্জিন। রকেট বাইরের বাতাসই নেয় না, তাই সেখানে বাতাস মেশানোর প্রশ্ন ওঠে না।
মনে রাখুন: স্পার্ক প্লাগ যেখানে, কার্বুরেটর সেখানে: পেট্রোল ইঞ্জিন।
৩৬০. সর্বাপেক্ষা ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ হচ্ছে- (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কআলফা রশ্মি
- খবিটা রশ্মি
- গগামা রশ্মি
- ঘরঞ্জন রশ্মি
সঠিক উত্তর: গ. গামা রশ্মি
প্রশ্নটা তড়িৎচৌম্বক বর্ণালির ক্রম পরীক্ষা করছে। তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট, কম্পাঙ্ক আর শক্তি তত বেশি। বর্ণালির সবচেয়ে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের প্রান্তে আছে গামা রশ্মি।
বড় থেকে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রমে বর্ণালি হলো বেতার তরঙ্গ, মাইক্রোওয়েভ, অবলোহিত, দৃশ্যমান আলো, অতিবেগুনি, রঞ্জন রশ্মি বা এক্স রে, আর সবশেষে গামা রশ্মি। গামা রশ্মি সাধারণত তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বের হয়।
আলফা আর বিটা আসলে তরঙ্গ নয়, কণার স্রোত। আলফা কণা হলো হিলিয়াম নিউক্লিয়াস, অর্থাৎ দুটি প্রোটন আর দুটি নিউট্রন; বিটা কণা সাধারণত দ্রুতগামী ইলেকট্রন। তাই এদের তড়িৎচৌম্বক বর্ণালিতে রাখা যায় না।
ফাঁদ হলো রঞ্জন রশ্মি। এর তরঙ্গদৈর্ঘ্যও খুব ছোট, কিন্তু বর্ণালিতে এর অবস্থান গামা রশ্মির আগে, তাই সবচেয়ে ছোট নয়।
মনে রাখুন: তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট মানে শক্তি বেশি; সবচেয়ে শক্তিশালী গামা, তাই তরঙ্গদৈর্ঘ্যে সবচেয়ে ছোট।