বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ১৮
৩৪১. নীচের কোন ব্যাকরণ ভাষার ধ্বনিগত মাধুর্য স্থাপন ও সম্পাদন করে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কসমাস
- খকারক
- গসন্ধি
- ঘধ্বনি
সঠিক উত্তর: গ. সন্ধি
পাশাপাশি দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধির মূল উদ্দেশ্য উচ্চারণ সহজ করা আর ভাষায় ধ্বনিগত মাধুর্য আনা।
যেমন হিম আর আলয় আলাদা উচ্চারণের চেয়ে মিলে হিমালয় অনেক সহজ ও শ্রুতিমধুর। বিদ্যা আর আলয় মিলে বিদ্যালয়।
সমাস অর্থের দিক থেকে একাধিক পদকে এক পদে পরিণত করে, এতে ভাষা সংক্ষিপ্ত হয়। কারক ক্রিয়ার সঙ্গে পদের সম্পর্ক দেখায়। আর ধ্বনি হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম একক, নিজে কোনো প্রক্রিয়া নয়।
সমাসেও শব্দ মেলে বলে অনেকে গুলিয়ে ফেলেন; মনে রাখুন, সন্ধি ধ্বনির মিলন, সমাস পদের মিলন।
মনে রাখুন: সন্ধিতে মাধুর্য, সমাসে সংক্ষেপ। আরও উদাহরণ: বিদ্যালয়, নরেশ, সূর্যোদয়।
৩৪২. নীচের কোন বানানটি শুদ্ধ? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কবিভিষীকা
- খদুরাবস্থা
- গমুহুর্মুহু
- ঘধস
সঠিক উত্তর: গ. মুহুর্মুহু
প্রশ্নটা শুদ্ধ বানান নিয়ে। মুহুর্মুহু শব্দটি এসেছে মুহুঃ আর মুহুঃ মিলে, বিসর্গ সন্ধিতে বিসর্গ র হয়ে রেফ হয়েছে। দুই জায়গাতেই হ্রস্ব উ-কার, তাই মুহুর্মুহু শুদ্ধ।
বিভীষিকা তৎসম শব্দ, এতে ভ এর পরে দীর্ঘ ঈ-কার আর ষ। তাই বিভিষীকা অশুদ্ধ। দুরবস্থা এসেছে দুঃ আর অবস্থা মিলে, তাই দুরাবস্থা অশুদ্ধ, শুদ্ধ রূপ দুরবস্থা।
ধস বানানটিও বাংলা একাডেমির অভিধান অনুযায়ী শুদ্ধ, ধ্বস লেখা ভুল। তাই এখানে আসলে দুটি অপশনই শুদ্ধ; প্রশ্নকর্তা সম্ভবত ধস-কে ভুল বানান ভেবেছিলেন, তাই প্রচলিত উত্তর মুহুর্মুহু।
সাধারণ ভুল হলো মুহূর্ত শব্দের দীর্ঘ ঊ-কার মুহুর্মুহুতে বসিয়ে দেওয়া; দুটো আলাদা শব্দ।
মনে রাখুন: উপসর্গ দুঃ এর পরে অ থাকলে আ-কার আসে না: দুরবস্থা, দুরতিক্রম্য।
৩৪৩. 'কপোল ভাসিয়া গেল নয়নের জলে'- বাক্যটিতে কোন কারকে কোন বিভক্তি ব্যবহৃত হয়েছে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- ককরণে ৭মী
- খকর্মে শূন্য
- গকরণে ষষ্ঠী
- ঘঅপাদানে ৩য়া
সঠিক উত্তর: ক. করণে ৭মী
কারক নির্ণয়ে ক্রিয়াকে প্রশ্ন করতে হয়। এখানে প্রশ্ন: কী দিয়ে কপোল ভেসে গেল? উত্তর: নয়নের জলে। যা দিয়ে বা যার সাহায্যে কাজ হয়, তা করণ কারক।
জল শব্দের সঙ্গে এ বিভক্তি যুক্ত হয়ে জলে হয়েছে। এ, য়, তে বিভক্তিগুলো সপ্তমী বিভক্তি। তাই জলে হলো করণে সপ্তমী।
নয়নের শব্দে এর বিভক্তি আছে, তা ষষ্ঠী, কিন্তু সেটি সম্বন্ধ পদ; জলের সঙ্গে সম্পর্ক বোঝায়, ক্রিয়ার সঙ্গে নয়। তাই করণে ষষ্ঠী ভুল। আর অপাদানে তৃতীয়া হতে হলে দ্বারা বা দিয়ে জাতীয় চিহ্ন আর বিচ্যুতির ভাব লাগত, বাক্যে তা নেই।
ফাঁদ হলো নয়নের দেখে ষষ্ঠী ধরে নেওয়া। আরেকটি সতর্কতা: আগের কিছু পরীক্ষায় একই বাক্যে শুধু কপোল শব্দটি দাগিয়ে প্রশ্ন এসেছিল, তখন গাইডে উত্তর ধরা হয়েছে কর্মে শূন্য। তাই প্রশ্নে কোন পদ দাগানো, তা আগে দেখে নিন।
মনে রাখুন: এ, য়, তে বিভক্তি দেখলে সপ্তমী; কী দিয়ে প্রশ্নের উত্তর হলে করণ।
৩৪৪. পৃথিবীতে কয়টি জাত মহাকাব্য আছে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- ক২টি
- খ৩টি
- গ৫টি
- ঘ৪টি
সঠিক উত্তর: ঘ. ৪টি
মহাকাব্য দুই ধরনের: জাত মহাকাব্য আর সাহিত্যিক মহাকাব্য। যে মহাকাব্য লোকমুখে দীর্ঘকাল ধরে গড়ে উঠেছে, তাকে জাত মহাকাব্য বা Epic of Growth বলে।
পৃথিবীতে এমন জাত মহাকাব্য চারটি: হোমারের ইলিয়াড ও ওডিসি, বাল্মীকির রামায়ণ, আর ব্যাসদেবের মহাভারত।
যে মহাকাব্য একজন কবি পরিকল্পিতভাবে লেখেন, তা সাহিত্যিক মহাকাব্য বা Epic of Art, যেমন মিল্টনের প্যারাডাইস লস্ট বা মধুসূদনের মেঘনাদবধ কাব্য।
হোমারের দুটো কাব্যকে একটি গুনে বা রামায়ণ-মহাভারত দুটি গুনে অনেকে ভুল সংখ্যা বলেন; গ্রিকের দুই আর ভারতের দুই মিলে চার।
মনে রাখুন: গ্রিসের দুই (হোমার) আর ভারতের দুই (বাল্মীকি, ব্যাস) = চার।
৩৪৫. নীচের কোন সাহিত্যে প্রাচীন হিন্দু ও আগত মুসলিম সংস্কৃতির চমৎকার মিথস্ক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কনাথসাহিত্য
- খশায়ের
- গমৈমনসিংহ গীতিকা
- ঘমার্সিয়া সাহিত্য
সঠিক উত্তর: খ. শায়ের
প্রশ্নটা মধ্যযুগের এমন সাহিত্য খোঁজে, যেখানে প্রাচীন হিন্দু ঐতিহ্য আর বাইরে থেকে আসা মুসলিম সংস্কৃতি মিশে গেছে। পুঁথি সাহিত্যের কবিদের বলা হতো শায়ের, আরবি শব্দ, মানে কবি।
শায়েরদের রচনায় বাংলার সঙ্গে আরবি, ফারসি, হিন্দুস্তানি শব্দ মিশে দোভাষী ভাষা তৈরি হয়। কাহিনিতেও মিশ্রণ: সত্যপীরের পাঁচালির মতো রচনায় মুসলিম পীর-ফকিরের সঙ্গে হিন্দু দেবদেবীর বিরোধ আর পরে বন্ধুত্ব দেখা যায়।
নাথসাহিত্য শিব ও নাথযোগীদের ধর্মমত নিয়ে, মুসলিম আগমনের আগের ধারা। মর্সিয়া সাহিত্য কারবালার বিয়োগান্ত কাহিনি নিয়ে শোককাব্য, যা মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক।
মৈমনসিংহ গীতিকাও অসাম্প্রদায়িক লোকগাথা, তাই এটি জোরালো বিকল্প; তবে এর মূল বৈশিষ্ট্য গ্রামীণ প্রেম ও মানবিকতা, সংস্কৃতির মিশ্রণ নয়।
মনে রাখুন: আরবি-ফারসি মেশানো বাংলা আর পীর-দেবতার মিলন মানেই শায়ের বা দোভাষী পুঁথি।
৩৪৬. নীচের কোনটি উপন্যাস? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- ককাকজ্যোৎস্না
- খকোকিলারা
- গএখন দুঃসময়
- ঘপ্রথম যৌবন
সঠিক উত্তর: ক. কাকজ্যোৎস্না
প্রশ্নটা সাহিত্যকর্মের ধরন চেনার। কাকজ্যোৎস্না কল্লোল যুগের লেখক অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের উপন্যাস।
উপন্যাসটির কেন্দ্রে নমিতা নামের এক বিধবা নারী; তৎকালীন সমাজে বিধবাদের প্রতি কঠোর আচরণ আর তার বিরুদ্ধে তার বদলে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গি এর বিষয়।
অচিন্ত্যকুমার কল্লোল পত্রিকাকে ঘিরে গড়ে ওঠা আধুনিক লেখকগোষ্ঠীর অন্যতম, আর কল্লোল যুগ নামে স্মৃতিকথাও লিখেছেন। তাঁর আরেক বিখ্যাত রচনা পরমপুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণ।
এ ধরনের প্রশ্নে কাব্যধর্মী নাম দেখে কবিতা ভেবে নেওয়া সহজ; কাকজ্যোৎস্না নামটা কাব্যিক হলেও এটি উপন্যাস।
মনে রাখুন: অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত: কাকজ্যোৎস্না (উপন্যাস), কল্লোল যুগ (স্মৃতিকথা)।
৩৪৭. মেঘ বলে চৈত্রে যাবো - কি জাতীয় রচনা? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কউপন্যাস
- খনাটক
- গসম্পাদনা
- ঘকাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর: ঘ. কাব্যগ্রন্থ
প্রশ্নটা একটি গ্রন্থের ধরন জানতে চায়। মেঘ বলে চৈত্রে যাবো একটি কাব্যগ্রন্থ, মানে কবিতার সংকলন।
এ ধরনের প্রশ্নে চারটি ধরন আলাদা করে চিনতে হয়: উপন্যাস দীর্ঘ গদ্যকাহিনি, নাটক মঞ্চে অভিনয়ের জন্য সংলাপভিত্তিক রচনা, সম্পাদনা মানে অন্যের লেখা সংকলন করে প্রকাশ, আর কাব্যগ্রন্থ হলো কবিতার বই।
নামটি লক্ষ করুন: হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস মেঘ বলেছে যাব যাব, আর রবীন্দ্রনাথের গান মেঘ বলেছে যাব যাব। মিল থাকলেও এরা আলাদা রচনা।
এই নামের মিলই ফাঁদ: হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের কথা মনে করে অনেকে উপন্যাস বেছে নেন।
মনে রাখুন: নাম মিললেও রচনা আলাদা: মেঘ বলেছে যাব যাব উপন্যাস, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো কাব্যগ্রন্থ।
৩৪৮. ”ধূসরতার কবি” নামে কে পরিচিত? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কনীলিমা ইব্রাহিম
- খকাজী নজরুল ইসলাম
- গকামিনী রায়
- ঘজীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর: ঘ. জীবনানন্দ দাশ
প্রশ্নটা কবিদের উপাধি নিয়ে। জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়, কারণ তাঁর কবিতায় ধূসর, ম্লান, বিষণ্ণ রং আর ক্লান্ত সময়ের ছবি বারবার আসে।
তাঁর আরও কিছু উপাধি: রূপসী বাংলার কবি, নির্জনতার কবি, তিমির হননের কবি। বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, রূপসী বাংলা।
তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থের নামই ধূসর পাণ্ডুলিপি, এটাই উপাধিটা মনে রাখার সহজ সূত্র।
কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহী কবি, কামিনী রায় উনিশ শতকের নারী কবি, তাঁর পরিচিত কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া, আর নীলিমা ইব্রাহিম মূলত শিক্ষাবিদ ও গদ্যলেখক।
মনে রাখুন: ধূসর পাণ্ডুলিপি থেকে ধূসরতার কবি: জীবনানন্দ।
৩৪৯. নিচের কোনটি 'সূর্য' এর প্রতিশব্দ? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কঅবনী
- খসবিতা
- গসুধাকর
- ঘকলানিধি
সঠিক উত্তর: খ. সবিতা
প্রশ্নটা প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ নিয়ে। সূর্যের তৎসম প্রতিশব্দের তালিকায় আছে সবিতা, ভানু, রবি, দিবাকর, দিনমণি, অর্ক, আদিত্য, মার্তণ্ড, তপন ইত্যাদি।
সবিতা শব্দটি সংস্কৃত সবিতৃ থেকে এসেছে, যার অর্থ যিনি জগৎকে প্রসব করেন বা জাগিয়ে তোলেন। বৈদিক সাহিত্যে সবিতা সূর্যদেবের একটি নাম, তাই এটি সূর্যের প্রতিশব্দ।
বাকি তিনটি শব্দ অন্য জিনিস বোঝায়। অবনী মানে পৃথিবী। সুধাকর আর কলানিধি দুটোই চাঁদের প্রতিশব্দ: সুধা অর্থাৎ অমৃতের আকর, আর কলা অর্থাৎ চাঁদের ষোলো কলার আধার।
এখানে ফাঁদ হলো আকাশের জ্যোতিষ্ক বলে সুধাকর বা কলানিধিকে সূর্য ভেবে নেওয়া। শব্দের শেষে কর বা নিধি থাকলেই সূর্য নয়; কী তার আকর, সেটা দেখতে হয়।
মনে রাখুন: সূর্যের নামে প্রায়ই কর (দিবাকর, প্রভাকর), পতি (দিনপতি) বা মণি (দিনমণি) থাকে দিনের বা আলোর সঙ্গে; চাঁদের নামে থাকে সুধা, নিশা বা হিম (সুধাকর, নিশাকর, হিমাংশু)।
৩৫০. কোন দেশেতে তরুলতা, সকল দেশের চাইতে শ্যামল’- 'চাইতে' ক্রিয়াটির ব্যবহার কোন ধরণের? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কঅনন্বয়ী অব্যয়
- খক্রিয়াবাচক বিশেষণ
- গবিশেষণ বাচকতা
- ঘঅনুসর্গ তৈরী
সঠিক উত্তর: ঘ. অনুসর্গ তৈরী
প্রশ্নটা অনুসর্গ নিয়ে। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের পঙ্ক্তি “কোন দেশেতে তরুলতা, সকল দেশের চাইতে শ্যামল”-এ “চাইতে” আসলে কোনো কাজ বোঝাচ্ছে না, বোঝাচ্ছে তুলনা।
চাইতে শব্দটি এসেছে চাওয়া ক্রিয়ার অসমাপিকা রূপ থেকে। কিন্তু এখানে কেউ কিছু চাইছে না; শব্দটি “সকল দেশের” পদের পরে বসে “অপেক্ষা” অর্থ দিচ্ছে। এভাবে ক্রিয়া থেকে জাত শব্দ যখন বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে বসে বিভক্তির মতো কাজ করে, তখন তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
একই রকম ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: দিয়ে, থেকে, হতে, চেয়ে, করে। যেমন “ছুরি দিয়ে কাটা”, “বাড়ি থেকে আসা”, “তোমার চেয়ে বড়”। তাই চাইতে-র ব্যবহার অনুসর্গ তৈরি।
ক্রিয়াবাচক বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন ধরলে ভুল হবে, কারণ চাইতে কোনো বিশেষ্যের গুণ বলছে না। আর অনন্বয়ী অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে না, অথচ চাইতে সরাসরি “সকল দেশের”-এর সঙ্গে যুক্ত।
মনে রাখুন: তুলনা বোঝাতে চেয়ে বা চাইতে বসলেই ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: আমার চেয়ে, তোমার চাইতে, সবার চেয়ে।
৩৫১. ‘ছেলেটি গোল্লায় গেছে।’ এ বাক্যের ক্রিয়াপদ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কমিশ্র ক্রিয়া
- খযৌগিক ক্রিয়া
- গদ্বিকর্মক ক্রিয়া
- ঘপ্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর: ক. মিশ্র ক্রিয়া
প্রশ্নটা গঠন অনুযায়ী ক্রিয়ার প্রকার নিয়ে। বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের সঙ্গে কর্, হ্, যা, দে, পা, কাট্ ইত্যাদি ধাতু যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে মিশ্র বা সংযোগমূলক ক্রিয়া বলে।
“গোল্লায় গেছে” অংশে গোল্লা একটি বিশেষ্য, তার সঙ্গে যা ধাতু মিলে একটি নতুন অর্থ তৈরি করেছে: নষ্ট হয়ে যাওয়া। তাই এটি মিশ্র ক্রিয়া। একই রকম উদাহরণ: ভয় পাওয়া, দর্শন করা, ঘেউ ঘেউ করা।
যৌগিক ক্রিয়ায় থাকে একটি অসমাপিকা আর একটি সমাপিকা ক্রিয়া, যেমন “খেয়ে ফেলল”, “বেজে উঠল”। এখানে “গোল্লায়” কোনো ক্রিয়াই নয়, তাই যৌগিক ক্রিয়া হয় না।
“গোল্লায় গেছে” দুটি শব্দ মিলে ক্রিয়া হয়েছে দেখে অনেকে যৌগিক ক্রিয়া বেছে নেন; এটাই প্রধান ফাঁদ। মনে রাখবেন, প্রথম অংশটা বিশেষ্য হলে মিশ্র, অসমাপিকা ক্রিয়া হলে যৌগিক।
মনে রাখুন: প্রথম অংশ নাম-শব্দ (ভয়, গান, দর্শন, ঘেউ ঘেউ) হলে মিশ্র; প্রথম অংশ “-এ” দিয়ে শেষ হওয়া অসমাপিকা (খেয়ে, বেজে) হলে যৌগিক।
৩৫২. অপরাজেয় কথাশিল্পী কার ছদ্মনাম? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কসত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
- খবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- গশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- ঘমধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর: গ. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা কথাসাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকদের একজন। তাঁর উপন্যাস ও গল্প পাঠকের মন এমনভাবে জয় করেছিল যে তাঁকে বলা হয় অপরাজেয় কথাশিল্পী।
লক্ষ করুন, এটি আসলে উপাধি বা অভিধা, ছদ্মনাম নয়। শরৎচন্দ্রের প্রকৃত ছদ্মনাম ছিল অনিলা দেবী। তবে প্রশ্নের চারটি নামের মধ্যে এই অভিধা কেবল শরৎচন্দ্রেরই।
তাঁর বিখ্যাত রচনা দেবদাস, শ্রীকান্ত, গৃহদাহ, পল্লীসমাজ ও পথের দাবী। অন্য তিনজনেরও আলাদা অভিধা আছে, যা পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
বঙ্কিমচন্দ্রকে বলা হয় সাহিত্যসম্রাট, তাই কথাসাহিত্যের সঙ্গে মিলিয়ে অনেকে বঙ্কিমচন্দ্র বেছে নেন। কিন্তু অপরাজেয় কথাশিল্পী শুধুই শরৎচন্দ্র।
মনে রাখুন: কথাশিল্পী শব্দ দেখলে কথাসাহিত্য, মানে উপন্যাস-গল্প; আর অপরাজেয় মানে যাকে কেউ হারাতে পারেনি: পাঠকপ্রিয়তায় শরৎচন্দ্র।
৩৫৩. সৌম্য এর বিপরীত শব্দ কি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কউদ্ধত
- খউগ্র
- গকঠিন
- ঘশান্ত
সঠিক উত্তর: খ. উগ্র
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দ নিয়ে। সৌম্য এসেছে সোম, মানে চাঁদ থেকে; অর্থ চাঁদের মতো স্নিগ্ধ, শান্ত ও কোমল চেহারা বা স্বভাব।
এর বিপরীত হলো এমন শব্দ যা প্রখর, কঠোর ও ভয়ংকর ভাব বোঝায়: উগ্র। সৌম্যমূর্তি আর উগ্রমূর্তি জোড়াটি তাই ব্যাকরণ বইয়ে সরাসরি বিপরীত হিসেবে আসে।
উদ্ধত মানে অহংকারী বা অবিনীত, যার বিপরীত বিনীত। কঠিন-এর বিপরীত কোমল বা সহজ। আর শান্ত তো সৌম্যের কাছাকাছি অর্থই দেয়।
এখানে ফাঁদ হলো উদ্ধত বা কঠিন; দুটোই নেতিবাচক শোনায়, কিন্তু সৌম্যের স্নিগ্ধতার সরাসরি বিপরীত উগ্রতা।
মনে রাখুন: সৌম্যমূর্তি বনাম উগ্রমূর্তি জোড়াটা মনে রাখুন।
৩৫৪. ‘ইংরেজি’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কগ্রীক
- খতুর্কী
- গফারসি
- ঘপর্তুগীজ
সঠিক উত্তর: ঘ. পর্তুগীজ
প্রশ্নটা বিদেশি শব্দের উৎস নিয়ে। ইংরেজ ও ইংরেজি শব্দ সরাসরি ইংরেজি ভাষা থেকে আসেনি, এসেছে পর্তুগিজ ভাষা থেকে।
কারণ ইংরেজদের আগে পর্তুগিজ বণিকরাই বাংলার উপকূলে ব্যবসা শুরু করে। তারা ইংল্যান্ডের মানুষকে বলত Inglez, সেখান থেকে বাংলায় ইংরেজ, আর তা থেকে ইংরেজি।
পর্তুগিজ থেকে আসা আরও কিছু শব্দ: আলমারি, আনারস, চাবি, গির্জা, বালতি, পাউরুটি, পেয়ারা, বোতাম, সাবান, তোয়ালে, পাদ্রি।
ইংরেজি শব্দ দেখে অনেকে ভাবেন ইংরেজি থেকেই এসেছে, বা গ্রিক মনে করেন; কিন্তু বাংলায় শব্দটি ঢুকেছে পর্তুগিজদের মুখ থেকে।
মনে রাখুন: পর্তুগিজ শব্দের তালিকা মনে রাখতে বাক্য: “গির্জায় আলমারির চাবি দিয়ে বালতি ভরে আনারস আর পাউরুটি”।
৩৫৫. 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কার লেখা? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- ককাজী নজরুল ইসলাম
- খফররুখ আহমদ
- গমুনীর চৌধুরী
- ঘজহির রায়হান
সঠিক উত্তর: ক. কাজী নজরুল ইসলাম
“রাজবন্দীর জবানবন্দী” কাজী নজরুল ইসলামের লেখা একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ। ১৯২২ সালে ধূমকেতু পত্রিকায় “আনন্দময়ীর আগমনে” কবিতা প্রকাশের জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে রাজদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে।
বিচারের সময় ১৯২৩ সালের জানুয়ারিতে আদালতে তিনি যে লিখিত জবানবন্দি দেন, সেটাই রাজবন্দীর জবানবন্দী নামে পরিচিত। এতে তিনি নিজেকে সত্যের পক্ষের কবি বলে ঘোষণা করেন।
নজরুলের অন্য প্রবন্ধগ্রন্থ যুগবাণী, দুর্দিনের যাত্রী, রুদ্রমঙ্গল। ভেতরের যুক্তি মনে রাখলে সহজ: জেলে যাওয়া বিদ্রোহী কবিই রাজবন্দী।
মুনীর চৌধুরীর নামের সঙ্গে কারাগার জড়িত, কারণ তিনি জেলে বসে কবর নাটক লেখেন; এই মিলের কারণেই অনেকে ভুল করেন।
মনে রাখুন: রাজদ্রোহে জেল খাটা কবি নজরুল, তাই রাজবন্দী নজরুলই।
৩৫৬. ‘সন্ধি’ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- করূপতত্তে
- খধ্বনিতত্তে
- গASCE
- ঘGIST
সঠিক উত্তর: খ. ধ্বনিতত্তে
বাংলা ব্যাকরণের প্রধান আলোচ্য অংশ চারটি: ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব আর অর্থতত্ত্ব। কোন বিষয় কোথায় পড়ে, তা ঠিক হয় বিষয়টির মূল একক কী, তা দেখে।
সন্ধি মানে পাশাপাশি দুটি ধ্বনির মিলন। যেমন বিদ্যা আর আলয় মিলে বিদ্যালয়: আ আর আ মিলে একটি আ হয়েছে। এখানে মূল কাজটা ধ্বনির পরিবর্তন, তাই সন্ধি ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য।
ধ্বনিতত্ত্বে আরও পড়ে ধ্বনির উচ্চারণ, বর্ণ, ণত্ব ও ষত্ব বিধান। অন্যদিকে সমাস, কারক, প্রত্যয়, উপসর্গ, শব্দ গঠন পড়ে রূপতত্ত্বে।
সন্ধিতে নতুন শব্দ তৈরি হয় বলে অনেকে রূপতত্ত্ব বেছে নেন; সেটাই ফাঁদ। শব্দ তৈরি হলেও পরিবর্তনটা ঘটে ধ্বনিতে, তাই উত্তর ধ্বনিতত্ত্ব।
মনে রাখুন: যা ধ্বনি বদলায় (সন্ধি, ণত্ব-ষত্ব) তা ধ্বনিতত্ত্বে; যা শব্দ জোড়ে বা ভাঙে অর্থ দিয়ে (সমাস, প্রত্যয়) তা রূপতত্ত্বে।
৩৫৭. ‘গায়ক’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কগা + অক
- খগৈ + অক
- গগা + য়ক
- ঘগো + অক
সঠিক উত্তর: খ. গৈ + অক
প্রশ্নটা স্বরসন্ধির একটি বিশেষ নিয়ম, অয়াদি সন্ধি নিয়ে। নিয়মটি হলো: এ, ঐ, ও, ঔ-এর পরে অন্য স্বর এলে এ হয় অয়, ঐ হয় আয়, ও হয় অব, আর ঔ হয় আব।
গায়ক শব্দে আছে আয়, তাই মূলে ছিল ঐ। গৈ, মানে গান করা অর্থের ধাতু, তার সঙ্গে অক প্রত্যয় যুক্ত। ঐ আর অ মিলে হয় আয় অ, তাই গৈ যোগ অক থেকে হয় গায়ক।
একই নিয়মে নৈ যোগ অক থেকে নায়ক, শে যোগ অন থেকে শয়ন, পো যোগ অন থেকে পবন, আর পৌ যোগ অক থেকে পাবক।
গা যোগ অক দেখতে সহজ মনে হলেও আ আর অ মিলে আ হয়, তাতে হতো গাক; য় আসত না। আর গো যোগ অক নিলে ও অব হয়ে হতো গবক। তাই য় দেখলেই বুঝবেন মূলে এ বা ঐ ছিল।
মনে রাখুন: শব্দে য় থাকলে মূলে এ বা ঐ খুঁজুন (শয়ন, নায়ক), ব থাকলে ও বা ঔ খুঁজুন (পবন, পাবক)।
৩৫৮. “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই'- কে বলেছেন? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কচণ্ডীদাস
- খবিদ্যাপতি
- গরামকৃষ্ণ পরমহংস
- ঘবিবেকানন্দ
সঠিক উত্তর: ক. চণ্ডীদাস
“সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই” পঙ্ক্তিটি মধ্যযুগের বৈষ্ণব কবি চণ্ডীদাসের নামে প্রচলিত। এটি বাংলা সাহিত্যে মানবতাবাদের সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি।
মধ্যযুগের সাহিত্য মূলত দেবদেবী-কেন্দ্রিক ছিল। সেখানে মানুষকেই সবার উপরে স্থান দেওয়া ছিল সাহসী ভাবনা, তাই উক্তিটি চণ্ডীদাসকে মানবতাবাদী কবির পরিচয় দিয়েছে।
চণ্ডীদাস নামে একাধিক কবি ছিলেন; বড়ু চণ্ডীদাস লিখেছেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, যা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন। পদাবলির চণ্ডীদাস রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের পদ লিখেছেন।
বিদ্যাপতিও বৈষ্ণব পদাবলির কবি, তাই দুজনকে গুলিয়ে ফেলা সাধারণ ভুল। কিন্তু বিদ্যাপতি লিখতেন ব্রজবুলি ভাষায় এবং তাঁর পরিচয় মৈথিল কোকিল।
মনে রাখুন: মানবতাবাদের দুটি বিখ্যাত পঙ্ক্তি: চণ্ডীদাসের “সবার উপরে মানুষ সত্য” আর নজরুলের “মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই”।
৩৫৯. কোন বানানটি সঠিক? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কway
- খমুমূর্ষু
- গaL
- ঘমুমুর্ষ
সঠিক উত্তর: খ. মুমূর্ষু
মুমূর্ষু মানে মৃত্যুর কাছাকাছি, মরণাপন্ন। এটি তৎসম শব্দ, সংস্কৃত মৃ ধাতু থেকে ইচ্ছা অর্থে গঠিত: যে মরতে চলেছে।
বানানের কৌশল হলো তিনটি উ-কারের জায়গা মনে রাখা। প্রথম ম-তে হ্রস্ব উ-কার, দ্বিতীয় ম-তে দীর্ঘ ঊ-কার, আর শেষের র্ষ-তে আবার হ্রস্ব উ-কার: মু, মূ, র্ষু।
র্ষ-তে ষ হয়েছে ষত্ব বিধানের নিয়মে: র-এর পরে মূর্ধন্য ষ বসে, যেমন বর্ষা, হর্ষ, ঘর্ষণ।
সাধারণ ভুল হলো দুটো উ-কারই হ্রস্ব লেখা (মুমুর্ষু) বা শেষের উ-কার বাদ দেওয়া (মুমুর্ষ)। মাঝের ঊ-কারটাই এ প্রশ্নের মূল পরীক্ষা।
মনে রাখুন: মু-মূ-র্ষু: ছোট, বড়, ছোট।
৩৬০. হিমাংশু শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কহিমবাহ
- খনির্মল বাতাস
- গসূর্য
- ঘচন্দ্র
সঠিক উত্তর: ঘ. চন্দ্র
হিমাংশু শব্দটি হিম আর অংশু মিলে গঠিত। হিম মানে শীতল, অংশু মানে কিরণ বা রশ্মি। যার কিরণ শীতল, সে হলো চাঁদ।
এর ঠিক বিপরীত গঠন হলো অংশুমালী বা উষ্ণাংশু, অর্থাৎ যার কিরণ উষ্ণ: সূর্য। তাই অংশু শব্দ দেখে সূর্য ভেবে নেওয়া এখানে প্রধান ফাঁদ।
চাঁদের আরও প্রতিশব্দ: শশী, শশাঙ্ক, সুধাংশু, সুধাকর, নিশাকর, ইন্দু, বিধু, চন্দ্রমা।
হিমবাহ শব্দেও হিম আছে, তবে তা মানে বরফের নদী; শব্দের প্রথম অংশ দেখে এটিও ফাঁদ।
মনে রাখুন: অংশুর আগে হিম বা সুধা থাকলে চাঁদ, উষ্ণ বা মালী থাকলে সূর্য।