বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৪৪
৮৬১. 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' নাটকের পটভূমি কী? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কসিপাহীযুদ্ধ
- খমুক্তিবাহিনীর গ্রামে প্রবেশের ঘটনা
- গভাষা আন্দোলন
- ঘমুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর: ঘ. মুক্তিযুদ্ধ
প্রশ্নটা পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় নাটকের পটভূমি নিয়ে। এটি সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাট্য, প্রথম মঞ্চায়ন ১৯৭৬ সালে, থিয়েটার নাট্যগোষ্ঠীর প্রযোজনায়।
নাটকের পটভূমি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। যুদ্ধের শেষ দিকে এক গ্রামে মুক্তিবাহিনীর এগিয়ে আসার পায়ের আওয়াজ শোনা যায়, আর পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর গ্রামের মাতবরের মুখোশ খুলে যায়।
অপশন খ মুক্তিবাহিনীর গ্রামে প্রবেশের ঘটনা আসলে নাটকের কাহিনির একটি অংশ; পটভূমি বা বড় প্রেক্ষাপট হলো মুক্তিযুদ্ধ। তাই প্রশ্নের পটভূমি শব্দ ধরে উত্তর মুক্তিযুদ্ধ।
সিপাহীযুদ্ধ আর ভাষা আন্দোলন এর পটভূমি নয়। ভাষা আন্দোলন নিয়ে বিখ্যাত নাটক মুনীর চৌধুরীর কবর।
মনে রাখুন: সৈয়দ শামসুল হকের দুই কাব্যনাট্য: পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মুক্তিযুদ্ধ, নূরলদীনের সারাজীবন কৃষক বিদ্রোহ।
৮৬২. নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কনিশিথিনী
- খনীশিথিনী
- গনিশীথিনী
- ঘনিশিথিনী
সঠিক উত্তর: গ. নিশীথিনী
প্রশ্নটা শুদ্ধ বানানের। নিশীথিনী মানে রাত্রি; এটা তৎসম শব্দ নিশীথ থেকে এসেছে, যার অর্থ মধ্যরাত।
নিশীথ বানানে নি তে হ্রস্ব ই-কার আর শী তে দীর্ঘ ঈ-কার; নিশা বা নিশি থেকে নি, আর শীথ অংশে দীর্ঘ ঈ। তার সাথে ইনী যুক্ত হয়ে নিশীথিনী।
তৎসম শব্দের বানান সংস্কৃত মূল মেনে চলে, তাই এখানে ই-কার ঈ-কার বদলানো যায় না। নিশিথিনী তে দ্বিতীয় অক্ষরে হ্রস্ব ই-কার, আর নীশিথিনী তে প্রথমে দীর্ঘ ঈ-কার, দুটোই ভুল।
দুটি অপশন হুবহু একই বানান নিশিথিনী, যা প্রশ্নপত্রের মুদ্রণ বা প্রতিলিপির ত্রুটি হতে পারে, তবে দুটোই ভুল।
মনে রাখুন: আগে মূল শব্দের বানান মনে রাখুন: নিশীথ, তারপর প্রত্যয় যোগ করুন। একই রকম: শরীর থেকে শারীরিক, দীন থেকে দীনতা।
৮৬৩. ন্যায় শব্দের বিশেষণ- (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কন্যায়কৃত
- খন্যায্য
- গন্যায়সঙ্গত
- ঘনীতিবান
সঠিক উত্তর: খ. ন্যায্য
প্রশ্নটা বিশেষ্য থেকে বিশেষণ গঠনের। ন্যায় একটি বিশেষ্য, অর্থ ধর্মসংগত বিচার বা নীতি। এর সাথে য প্রত্যয় যোগে হয় ন্যায্য, মানে ন্যায়সম্মত বা উচিত।
বাক্যে দেখি: ন্যায্য দাবি, ন্যায্য মজুরি। এখানে ন্যায্য শব্দটি দাবি বা মজুরির গুণ বোঝাচ্ছে, তাই এটা বিশেষণ।
ন্যায়সঙ্গত অর্থে কাছাকাছি হলেও এটা সমাসবদ্ধ পদ, ন্যায় শব্দের প্রত্যয়জাত বিশেষণ রূপ নয়। নীতিবান আলাদা শব্দ নীতি থেকে এসেছে, আর ন্যায়কৃত প্রচলিত শব্দ নয়।
ফাঁদ হলো ন্যায়সঙ্গত; অর্থ মিলে যায় বলে অনেকে বেছে নেন, কিন্তু ব্যাকরণগত বিশেষণ রূপ ন্যায্য।
মনে রাখুন: বিশেষ্য-বিশেষণ প্রশ্নে শব্দটি একটি বিশেষ্যের আগে বসিয়ে দেখুন: ন্যায্য দাবি বলা যায়।
৮৬৪. ণ-ত্ব বিধি সাধারণত কোন শব্দে প্রযোজ্য? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কদেশি
- খবিদেশি
- গতদ্ভব
- ঘতৎসম
সঠিক উত্তর: ঘ. তৎসম
প্রশ্নটা ণত্ব বিধানের প্রয়োগক্ষেত্র নিয়ে। ণত্ব বিধান হলো কোথায় মূর্ধন্য ণ আর কোথায় দন্ত্য ন বসবে তার নিয়ম, আর এটা কেবল তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে খাটে।
যেমন ঋ, র, ষ এর পরে দন্ত্য ন মূর্ধন্য ণ হয়: ঋণ, বর্ণ, বিষ্ণু। আবার ট-বর্গের সাথে যুক্ত হলে ণ হয়: কণ্ঠ, ঘণ্টা। এসব শব্দ সংস্কৃত থেকে অবিকৃতভাবে এসেছে।
দেশি, বিদেশি আর তদ্ভব শব্দে ণত্ব বিধান মানা হয় না, সেখানে দন্ত্য ন লেখা হয়। যেমন কান, সোনা, রানি, ইরান, কোরান।
ফাঁদ হলো তদ্ভব; তদ্ভব শব্দও সংস্কৃত থেকে এসেছে, কিন্তু রূপ বদলে গেছে, তাই এখানে ণত্ব বিধান খাটে না। যেমন কর্ণ থেকে কান।
মনে রাখুন: ণত্ব ও ষত্ব দুই বিধানই শুধু তৎসম শব্দের জন্য।
৮৬৫. 'বলাম' শব্দের 'ব' উপসর্গ কী অর্থ নির্দেশ করে? (প্রকৃতপক্ষে শব্দটি হতো - বনাম / বমাল) (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কসহিত
- খবাইরে
- গঅধীন
- ঘপ্রতি
সঠিক উত্তর: ক. সহিত
প্রশ্নটা বিদেশি উপসর্গ নিয়ে। প্রশ্নপত্রে শব্দটি বলাম ছাপা হয়েছে, যা প্রকৃতপক্ষে বনাম বা বমাল হওয়ার কথা; বলাম নামে কোনো শব্দ নেই।
ব একটি ফারসি উপসর্গ, অর্থ সহিত বা সাথে। বমাল মানে মালসহ, যেমন চোর বমাল ধরা পড়েছে। বকলম মানে কলমসহ বা অন্যের হাতে সই, আর বনাম শব্দেও ব উপসর্গ ধরা হয়।
তাই ব উপসর্গের অর্থ সহিত। দেখতে কাছাকাছি আরেকটি ফারসি উপসর্গ বে, যার অর্থ না বা বিনা, যেমন বেহুঁশ, বেআইনি। বাইরে, অধীন বা প্রতি, কোনো অর্থই ব উপসর্গ বোঝায় না।
ফাঁদ হলো ব আর বে গুলিয়ে ফেলা: ব মানে সহিত, বে মানে বিনা।
মনে রাখুন: ফারসি ব = সহিত, বে = বিনা; একটা অক্ষরের পার্থক্যে অর্থ উল্টে যায়।
৮৬৬. 'শিক্ষায় আমাদের আগ্রহ বাড়ে' - শিক্ষায় কোন কারক? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- ককর্ম
- খকর্তৃ
- গঅধিকরণ
- ঘকরণ
সঠিক উত্তর: গ. অধিকরণ
প্রশ্নটা কারক নির্ণয়ের। বাক্যের অর্থ: শিক্ষার বিষয়ে আমাদের আগ্রহ বাড়ে। আগ্রহটা কোন বিষয়ে, সেই বিষয়কে বোঝাতে শিক্ষায় পদটি এসেছে।
ক্রিয়া সম্পাদনের স্থান, কাল বা বিষয়কে অধিকরণ কারক বলে। বিষয় বোঝালে তাকে বলে বিষয়াধিকরণ, যেমন সে অঙ্কে কাঁচা, তার গানে মন আছে। এখানেও শিক্ষায় মানে শিক্ষা বিষয়ে, তাই অধিকরণ কারক, সপ্তমী বিভক্তি য়।
প্রশ্ন করে যাচাই করা যায়: আগ্রহ কোথায় বা কোন বিষয়ে বাড়ে? উত্তর শিক্ষায়। কোথায় বা কোন বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরই অধিকরণ।
ফাঁদ হলো করণ; শিক্ষায় মন উন্নত হয় বাক্যে শিক্ষা উপায়, তাই সেখানে করণ। কিন্তু এখানে শিক্ষা আগ্রহের বিষয়, উপায় নয়।
মনে রাখুন: কোথায়, কখন বা কোন বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর এলে অধিকরণ; কী দিয়ে প্রশ্নের উত্তর এলে করণ।
৮৬৭. নিচের কোনটির পুরুষবাচক রূপ নেই? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কবেহান (বেয়াইন)
- খকুলটা
- গঠাকুরঝি
- ঘননদ
সঠিক উত্তর: খ. কুলটা
প্রশ্নটা লিঙ্গ নিয়ে, বিশেষ করে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ। কিছু শব্দ শুধু নারীকে বোঝায়, তাদের কোনো পুরুষবাচক রূপ নেই; এদের নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
কুলটা মানে কুলত্যাগিনী বা অসতী নারী। এর কোনো পুরুষবাচক প্রতিশব্দ নেই, তাই এটা নিত্য স্ত্রীবাচক। একই রকম শব্দ সতিন, সধবা, এয়ো।
বাকি তিনটির পুরুষবাচক রূপ আছে: বেয়াইন এর পুরুষবাচক বেয়াই, ঠাকুরঝি এর ঠাকুরপো, আর ননদ এর নন্দাই।
ফাঁদ হলো ননদ বা ঠাকুরঝি; এগুলো শুনে শুধু মেয়েলি সম্পর্ক মনে হয়, কিন্তু ব্যাকরণে এদের পুরুষবাচক জোড়া আছে।
মনে রাখুন: নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দের তালিকা: সতিন, সৎমা, সধবা, এয়ো, কুলটা।
৮৬৮. 'প্রিয়ংবদা' শব্দটি কোন সমাস? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কবহুব্রীহি
- খরূপক কর্মধারয়
- গষষ্ঠী তৎপুরুষ
- ঘউপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর: ঘ. উপপদ তৎপুরুষ
প্রশ্নটা সমাস নির্ণয়ের। প্রিয়ংবদা শব্দের অর্থ যে নারী প্রিয় কথা বলে। ব্যাসবাক্য: প্রিয় বলে যে নারী।
কৃদন্ত পদের আগে যে পদ বসে তাকে উপপদ বলে; উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের সমাসকে উপপদ তৎপুরুষ বলে। এখানে উপপদ প্রিয়, আর বদ ধাতু থেকে বদা, মাঝে ম আগম হয়ে প্রিয়ংবদা।
একই ধরনের উদাহরণ: জলে চরে যে জলচর, পঙ্কে জন্মে যে পঙ্কজ, ছেলে ধরে যে ছেলেধরা।
ফাঁদ হলো বহুব্রীহি; যে দিয়ে ব্যাসবাক্য দেখে বহুব্রীহি মনে হয়, কিন্তু এখানে ক্রিয়ামূল আছে, তাই উপপদ তৎপুরুষ।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে বলে যে, করে যে, জন্মে যে এর মতো ক্রিয়া থাকলে আগে উপপদ তৎপুরুষ ভাবুন।
৮৬৯. 'নবোঢ়া' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কনব + ঊঢ়া
- খনবঃ + উঢ়া
- গনবো + ঊঢ়া
- ঘনব + উয়া
সঠিক উত্তর: ক. নব + ঊঢ়া
প্রশ্নটা স্বরসন্ধির। নবোঢ়া মানে নববিবাহিতা নারী। এখানে নব এর শেষে অ, আর ঊঢ়া এর শুরুতে ঊ, মানে বিবাহিতা।
স্বরসন্ধির নিয়ম: অ বা আ এর পরে উ বা ঊ থাকলে দুটো মিলে ও হয়, আর ও-কার আগের বর্ণে যুক্ত হয়। তাই নব আর ঊঢ়া মিলে নবোঢ়া।
একই নিয়মের উদাহরণ: গঙ্গা আর ঊর্মি মিলে গঙ্গোর্মি, চল আর ঊর্মি মিলে চলোর্মি, সূর্য আর উদয় মিলে সূর্যোদয়।
ফাঁদ হলো নবো যোগ ঊঢ়া; শব্দে নবো দেখে অনেকে ভাঙেন নবো হিসেবে, কিন্তু ও-কার আসলে সন্ধির ফল।
মনে রাখুন: সন্ধিযুক্ত শব্দে ও-কার দেখলে আগে ভাবুন অ বা আ এর সাথে উ বা ঊ মিলেছে কিনা।
৮৭০. 'বক্তব্য' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কবক্ + তব্য
- খবক্ত + অব্য
- গবচ্ + তব্য
- ঘবক্ত + ব্য
সঠিক উত্তর: গ. বচ্ + তব্য
প্রশ্নটা কৃৎ প্রত্যয় বা প্রকৃতি-প্রত্যয়ের। বক্তব্য শব্দের মূল ধাতু বচ্, অর্থ বলা; তার সাথে তব্য প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে, অর্থ যা বলা উচিত।
বচ্ ধাতুর চ্ প্রত্যয়ের ত এর আগে ক্ হয়ে যায়। তাই বচ্ আর তব্য মিলে বক্তব্য। একই কারণে বচ্ আর তৃচ্ থেকে বক্তা।
তব্য প্রত্যয়ের আরও উদাহরণ: কৃ ধাতু থেকে কর্তব্য, দা ধাতু থেকে দাতব্য, শ্রু ধাতু থেকে শ্রোতব্য।
ফাঁদ হলো বক্ যোগ তব্য; শব্দে ক দেখা যায় বলে ধাতুকে বক্ ভাবা হয়, কিন্তু আসল ধাতু বচ্।
মনে রাখুন: বক্তা, বক্তব্য, উক্তি: সবগুলোর মূল ধাতু বচ্।
৮৭১. 'নালিশটা অযৌক্তিক' - কোন ধরনের বাক্য? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কনেতিবাচক
- খঅস্তিবাচক
- গঅনুজ্ঞাবাচক
- ঘপ্রশ্নবাচক
সঠিক উত্তর: খ. অস্তিবাচক
প্রশ্নটা অর্থ অনুসারে বাক্যের প্রকারভেদ নিয়ে। বাক্যে না, নি, নাই, নয় জাতীয় নঞর্থক শব্দ না থাকলে তা অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-বাচক বাক্য।
নালিশটা অযৌক্তিক বাক্যে কোনো না বা নয় নেই। অযৌক্তিক শব্দে অ উপসর্গ নেতিবাচক অর্থ দিলেও সেটা শব্দের ভেতরের অর্থ, বাক্যের গঠন নয়। তাই বাক্যটি অস্তিবাচক।
একই অর্থ নেতিবাচক বাক্যে লিখলে হবে: নালিশটা যৌক্তিক নয়। তখন নয় শব্দটা বাক্যকে নেতিবাচক করে।
ফাঁদ হলো নেতিবাচক; অযৌক্তিক শব্দের অ দেখে অনেকে নেতিবাচক ধরে নেন।
মনে রাখুন: বাক্যের প্রকার ঠিক হয় বাক্যের গঠনে: না, নি, নয় আলাদা শব্দ হিসেবে থাকলে তবেই নেতিবাচক।
৮৭২. 'যে বন হিংস্র জন্তুতে পরিপূর্ণ' এক কথায় কী হবে? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কদুর্গম
- খঅরণ্য জনপদ
- গবিপদসংকুল
- ঘশ্বাপদসংকুল
সঠিক উত্তর: ঘ. শ্বাপদসংকুল
প্রশ্নটা এক কথায় প্রকাশের। শ্বাপদ মানে হিংস্র মাংসাশী বন্য প্রাণী, যেমন বাঘ, চিতা; সংকুল মানে পরিপূর্ণ। তাই হিংস্র জন্তুতে ভরা বন শ্বাপদসংকুল।
শব্দটা সাধারণত বন বা অরণ্যের বিশেষণ হিসেবে বসে, যেমন শ্বাপদসংকুল অরণ্য, যেখানে চলাফেরা বিপজ্জনক।
দুর্গম মানে যেখানে যাওয়া কঠিন, বিপদসংকুল মানে বিপদে ভরা, কিন্তু কোনটি হিংস্র জন্তুর কথা বলে না। অরণ্য জনপদ কোনো এক কথায় প্রকাশ নয়।
ফাঁদ হলো বিপদসংকুল; হিংস্র জন্তু থাকলে বিপদ থাকে, কিন্তু নির্দিষ্টভাবে হিংস্র জন্তু বোঝাতে শ্বাপদ লাগবে।
মনে রাখুন: সংকুল যুক্ত শব্দে প্রথম অংশটাই বলে কিসে পূর্ণ: শ্বাপদসংকুল, বিপদসংকুল, জনসংকুল।
৮৭৩. নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কনিরিক্ষণ
- খনীরীক্ষণ
- গনীরিক্ষণ
- ঘনিরীক্ষণ
সঠিক উত্তর: ঘ. নিরীক্ষণ
প্রশ্নটি তৎসম শব্দের বানান যাচাই করছে। নিরীক্ষণ শব্দটি এসেছে নির্ উপসর্গ আর ঈক্ষণ শব্দ মিলে, মানে মনোযোগ দিয়ে দেখা বা পর্যবেক্ষণ।
নির্ উপসর্গে সবসময় হ্রস্ব ই-কার থাকে, তাই প্রথম অক্ষর নি। আর মূল শব্দ ঈক্ষণ দীর্ঘ ঈ দিয়ে শুরু, তাই দ্বিতীয় অক্ষর রী, দীর্ঘ ঈ-কার সহ।
ক্ষ-এর পরের ণ মূর্ধন্য, কারণ ক্ষ-তে ষ আছে, আর ণত্ব বিধান অনুযায়ী ষ-এর পরে দন্ত্য ন মূর্ধন্য ণ হয়। তাই শুদ্ধ রূপ নিরীক্ষণ।
ফাঁদ হলো প্রথম অক্ষরে দীর্ঘ ঈ-কার বসানো। নীর মানে পানি, তার সাথে এই শব্দের কোনো সম্পর্ক নেই; উপসর্গটি নির্।
মনে রাখুন: নির্ উপসর্গের পরে ঈ দিয়ে শুরু শব্দ এলে বানান হয় নিরী: নিরীক্ষা, নিরীহ, নিরীশ্বর।
৮৭৪. 'দেবতা' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কবিভূতি
- খসুর
- গদেউল
- ঘভূত
সঠিক উত্তর: খ. সুর
প্রশ্নটি দেবতা শব্দের সমার্থক শব্দ চাইছে। দেবতার প্রচলিত প্রতিশব্দ হলো সুর, অমর, দেব, ত্রিদশ, অমর্ত্য ইত্যাদি।
সুর শব্দের বিপরীত অসুর। দেবতা আর অসুরের যুদ্ধের কাহিনি থেকেই এই জোড়া মনে রাখা সহজ; সুরলোক মানে দেবলোক।
দেউল মানে দেবালয় বা মন্দির, দেবতা নন। বিভূতি মানে ঐশ্বর্য বা অলৌকিক ক্ষমতা, আর ভূত মানে প্রেতাত্মা বা অতীত।
ফাঁদ হলো দেউল, কারণ শব্দটি দেবতার সাথে জড়িত মনে হয়; কিন্তু এটি দেবতার থাকার জায়গা, দেবতা নিজে নন।
মনে রাখুন: দেবতা = সুর, অমর, দেব, অমর্ত্য, ত্রিদশ। সুর আর অসুর জোড়ায় মনে রাখুন।
৮৭৫. 'নেই আঁকড়া' -এর সঠিক অর্থ কোনটি? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কদ্বন্দ্ব
- খসখ্যতা
- গএকগুঁয়ে
- ঘরগচটা
সঠিক উত্তর: গ. একগুঁয়ে
প্রশ্নটি বাগ্ধারা নেই আঁকড়া-র অর্থ জানতে চায়। এর অর্থ একগুঁয়ে, মানে যে নিজের জেদ ধরে থাকে, কারও কথা মানে না।
আঁকড়ে ধরা মানে শক্ত করে ধরে রাখা। যার কোনো যুক্তি নেই তবু নিজের কথা আঁকড়ে থাকে, তাকেই নেই আঁকড়া বলা হয়।
রগচটা মানে যে অল্পতেই রেগে যায়; এটি একগুঁয়ে থেকে আলাদা স্বভাব। দ্বন্দ্ব মানে বিরোধ, আর সখ্যতা মানে বন্ধুত্ব।
ফাঁদ হলো রগচটা, কারণ দুটো শব্দই খারাপ স্বভাব বোঝায়। কিন্তু একগুঁয়ে মানে জেদি, রগচটা মানে বদমেজাজি।
মনে রাখুন: আঁকড়া থেকে ভাবুন: যে নিজের কথা আঁকড়ে থাকে, সে একগুঁয়ে।
৮৭৬. 'অভিনিবেশ' শব্দটির অর্থ কী? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কমনোযোগ
- খনিস্পৃহ
- গবিশেষভাবে
- ঘঅভিরুচি
সঠিক উত্তর: ক. মনোযোগ
অভিনিবেশ শব্দের অর্থ মনোযোগ, অর্থাৎ কোনো বিষয়ে মন গভীরভাবে নিবিষ্ট করা।
শব্দটির গঠন অভি উপসর্গ, নি উপসর্গ আর বিশ্ ধাতু। নিবিষ্ট বা নিবেশ মানে ভেতরে প্রবেশ করা; মন কোনো কাজে ঢুকে যাওয়াই অভিনিবেশ।
নিস্পৃহ মানে আগ্রহহীন, যা মনোযোগের প্রায় উল্টো। অভিরুচি মানে পছন্দ বা ইচ্ছা, আর বিশেষভাবে একটি ক্রিয়াবিশেষণ।
ফাঁদ হলো অভিরুচি, কারণ দুটো শব্দই অভি দিয়ে শুরু। শুরুর মিল দেখে অর্থ মেলানো যায় না।
মনে রাখুন: নিবিষ্ট মনে কাজ করা মানেই অভিনিবেশ; নিবিষ্ট আর নিবেশ একই ধাতু থেকে।
৮৭৭. 'ক্ষীয়মান ' - এর বিপরীত শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কবৃহৎ
- খবর্ধমান
- গবৃদ্ধিপ্রাপ্ত
- ঘবর্ধিষ্ণু
সঠিক উত্তর: খ. বর্ধমান
ক্ষীয়মান মানে যা ক্রমশ ক্ষয় পাচ্ছে বা কমে যাচ্ছে। এটি একটি চলমান অবস্থা বোঝায়, তাই বিপরীত শব্দও হতে হবে চলমান অবস্থার।
বর্ধমান মানে যা ক্রমশ বাড়ছে। ক্ষীয়মান আর বর্ধমান, দুটোই মান প্রত্যয়যুক্ত, চলমান প্রক্রিয়া বোঝায়; তাই এরা নিখুঁত বিপরীত জোড়া।
বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মানে যা ইতোমধ্যে বেড়ে গেছে, এটি সমাপ্ত অবস্থা। বৃহৎ মানে বড়, যার বিপরীত ক্ষুদ্র।
ফাঁদ হলো বর্ধিষ্ণু। এর অর্থ উন্নতিশীল বা সমৃদ্ধিশালী, যেমন বর্ধিষ্ণু গ্রাম; এর প্রচলিত বিপরীত ক্ষয়িষ্ণু।
মনে রাখুন: প্রত্যয় মিলিয়ে বিপরীত খুঁজুন: মান-এর জোড়া মান (ক্ষীয়মান-বর্ধমান), ইষ্ণু-র জোড়া ইষ্ণু (ক্ষয়িষ্ণু-বর্ধিষ্ণু)।
৮৭৮. 'চর্মকার' কী ধরনের শব্দ? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কবাংলা
- খপ্রাকৃত
- গতদ্ভব
- ঘসংস্কৃত
সঠিক উত্তর: ঘ. সংস্কৃত
চর্মকার শব্দটি সংস্কৃত থেকে অবিকৃতভাবে বাংলায় এসেছে, তাই এটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। চর্ম মানে চামড়া, কার মানে যে করে।
একই শব্দ প্রাকৃতের মধ্য দিয়ে বদলে বাংলায় এসেছে চামার বা মুচি রূপে। চামার হলো তদ্ভব শব্দ।
তৎসম আর তদ্ভব চেনার উপায়: সংস্কৃত রূপ হুবহু থাকলে তৎসম, বদলে গেলে তদ্ভব। চর্ম থেকে চাম, হস্ত থেকে হাত, চন্দ্র থেকে চাঁদ।
ফাঁদ হলো তদ্ভব, কারণ পেশাবাচক শব্দ বলে অনেকে খাঁটি বাংলা ভাবেন। কিন্তু চর্মকার রূপটি অবিকৃত সংস্কৃত।
মনে রাখুন: অবিকৃত সংস্কৃত রূপ মানেই তৎসম; ভাঙা রূপ (চামার, কামার) মানে তদ্ভব।
৮৭৯. নিচের কোন বাগধারাটি ভিন্নার্থক? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কআদায় -কাঁচকলায়
- খরুই-কাতলা
- গদা -কুমড়া
- ঘঅহি-নকুল
সঠিক উত্তর: খ. রুই-কাতলা
প্রশ্নটি চায় কোন বাগ্ধারার অর্থ বাকিদের থেকে আলাদা। চারটির মধ্যে তিনটির অর্থ একই: চরম শত্রুতা বা তীব্র বিরোধ।
আদায়-কাঁচকলায়, দা-কুমড়া আর অহি-নকুল, তিনটিই শত্রুতা বোঝায়। অহি মানে সাপ, নকুল মানে বেজি; এরা চিরশত্রু। দা আর কুমড়ার সম্পর্কও তেমনই।
রুই-কাতলা মানে প্রভাবশালী বা গণ্যমান্য ব্যক্তি, যেমন সমাজের রুই-কাতলারা। তাই এটিই ভিন্নার্থক।
এ ধরনের প্রশ্নে প্রত্যেকটির অর্থ লিখে ফেলুন; তিনটির মিল পেলে যেটি বাকি থাকে সেটিই উত্তর।
মনে রাখুন: শত্রুতার বাগ্ধারা: আদায়-কাঁচকলায়, দা-কুমড়া, অহি-নকুল, সাপে-নেউলে।
৮৮০. স্বর সংগতির উদাহরণ কোনটি? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কদেশী> দিশী
- খরাত্রি> রাইত
- গহইবে> হবে
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. দেশী> দিশী
স্বরসংগতি হলো এমন ধ্বনি পরিবর্তন, যেখানে একটি স্বর পাশের স্বরের প্রভাবে বদলে গিয়ে তার কাছাকাছি হয়ে যায়।
দেশি থেকে দিশি উদাহরণে শেষের ই-এর প্রভাবে প্রথম অক্ষরের এ বদলে ই হয়েছে। দুই স্বর একরকম হয়ে গেছে, তাই এটি স্বরসংগতি। একইভাবে বিলাতি থেকে বিলিতি, মুলা থেকে মুলো।
রাত্রি থেকে রাইত হলে ই-ধ্বনি আগেভাগে উচ্চারিত হয়েছে, যা অপিনিহিতির লক্ষণ। হইবে থেকে হবে হলে মাঝের ই বাদ পড়েছে, এটি স্বরলোপ।
একটি উদাহরণ সঠিক থাকায় কোনোটিই নয় বিকল্পটি বাদ।
মনে রাখুন: স্বর বদলে পাশের স্বরের মতো হলে স্বরসংগতি; স্বর আগে সরে এলে অপিনিহিতি; স্বর হারিয়ে গেলে স্বরলোপ।