বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৫১
১০০১. ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’র লোকপালাসমূহের সংগ্রাহক কে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কদক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
- খহরপ্রসাদ শাস্ত্রী
- গচন্দ্রকুমার দে
- ঘদীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর: গ. চন্দ্রকুমার দে
প্রশ্নটি লোকসাহিত্যের সংগ্রাহক ও সম্পাদকের পার্থক্য বুঝতে চেয়েছে। পূর্ববঙ্গের লোকপালা বা গীতিকাগুলো গ্রামে গ্রামে ঘুরে সংগ্রহ করেছিলেন চন্দ্রকুমার দে।
দীনেশচন্দ্র সেন এই সংগৃহীত পালাগুলো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন, প্রথমে মৈমনসিংহ গীতিকা এবং পরে কয়েক খণ্ডে পূর্ববঙ্গ গীতিকা নামে। তাই তিনি সম্পাদক, প্রধান সংগ্রাহক নন।
মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, দেওয়ানা মদিনার মতো বিখ্যাত পালা এসব সংকলনে আছে। পূর্ববঙ্গ গীতিকার কাজে চন্দ্রকুমার দে ছাড়াও আরও কয়েকজন সংগ্রাহক ছিলেন, তবে প্রধান নাম তাঁরই।
ফাঁদ হলো দীনেশচন্দ্র সেন। গীতিকার সঙ্গে তাঁর নাম সবচেয়ে বেশি জড়িত বলে অনেকে তাঁকে বেছে নেন; প্রশ্ন কিন্তু সংগ্রাহক জানতে চেয়েছে।
মনে রাখুন: গীতিকার প্রশ্নে সংগ্রাহক হলে চন্দ্রকুমার দে, সম্পাদক হলে দীনেশচন্দ্র সেন।
১০০২. ‘জলে-স্থলে’ কী সমাস? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কসমার্থক দ্বন্দ্ব
- খবিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
- গঅলুক দ্বন্দ্ব
- ঘএকশেষ দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর: গ. অলুক দ্বন্দ্ব
প্রশ্নটি দ্বন্দ্ব সমাসের ভাগ চিনতে চেয়েছে। দ্বন্দ্ব সমাসে দুটি পদই সমান প্রধান, আর ব্যাসবাক্যে মাঝে ও, এবং, আর বসে।
জলে-স্থলে শব্দের ব্যাসবাক্য জলে ও স্থলে। সাধারণত সমাস হলে বিভক্তি লোপ পায়, কিন্তু এখানে দুটি পদেই এ বিভক্তি থেকে গেছে। বিভক্তি লোপ না পেলে তাকে অলুক বলে, তাই এটি অলুক দ্বন্দ্ব।
একই রকম উদাহরণ: হাতে-কলমে, দুধে-ভাতে, পথে-ঘাটে, মায়ে-ঝিয়ে। প্রতিটিতে দুই পদেই বিভক্তি রয়ে গেছে।
ফাঁদ হলো জল আর স্থল দুটো ভিন্ন ধরনের জায়গা বলে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব ভাবা। কিন্তু এখানে নির্ণায়ক লক্ষণ হলো দুই পদেই বিভক্তি থেকে যাওয়া, তাই প্রচলিত উত্তর অলুক দ্বন্দ্ব।
মনে রাখুন: দ্বন্দ্ব সমাসে দুই পদেই বিভক্তি দেখলে চোখ বুজে অলুক দ্বন্দ্ব; যেমন হাতে-কলমে, পথে-ঘাটে।
১০০৩. ‘ঔ’ কোন ধরনের স্বরধ্বনি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কযৌগিক স্বরধ্বনি
- খতালব্য স্বরধ্বনি
- গমিলিত স্বরধ্বনি
- ঘকোনোটি নয়
সঠিক উত্তর: ক. যৌগিক স্বরধ্বনি
প্রশ্নটি স্বরধ্বনির শ্রেণি নিয়ে। দুটি স্বরধ্বনি দ্রুত পরপর উচ্চারিত হয়ে একটি ধ্বনির মতো শোনালে তাকে যৌগিক স্বরধ্বনি বা দ্বিস্বর বলে।
ঔ উচ্চারণে ও এবং উ মিলে যায়, যেমন মৌ, বৌ। তেমনি ঐ উচ্চারণে ও এবং ই মিলে যায়, যেমন বৈ। বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরের জন্য আলাদা বর্ণ মাত্র দুটি: ঐ এবং ঔ।
বাংলায় মৌলিক স্বরধ্বনি সাতটি: অ, আ, ই, উ, এ, অ্যা, ও। এদের ভাঙা যায় না, কিন্তু ঐ ও ঔ ভাঙা যায়।
মিলিত স্বরধ্বনি নামটি অর্থে কাছাকাছি শোনায় বলে ফাঁদ হয়; ব্যাকরণের প্রচলিত নাম যৌগিক স্বরধ্বনি।
মনে রাখুন: বর্ণমালায় যৌগিক স্বরবর্ণ মাত্র দুটি, ঐ ও ঔ; বাকি স্বরবর্ণ মৌলিক বা দীর্ঘ রূপ।
১০০৪. ‘বিস্ময়াপন্ন’ সমস্ত পদটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কবিস্ময় দ্বারা আপন্ন
- খবিস্ময়ে আপন্ন
- গবিস্ময়কে আপন্ন
- ঘবিস্ময়ে যে আপন্ন
সঠিক উত্তর: গ. বিস্ময়কে আপন্ন
প্রশ্নটি তৎপুরুষ সমাসের ব্যাসবাক্য চিনতে চেয়েছে। তৎপুরুষে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় আর পরপদের অর্থ প্রধান থাকে।
বিস্ময়াপন্ন শব্দের পরপদ আপন্ন, মানে প্রাপ্ত বা পেয়েছে এমন। যে বিস্ময়কে প্রাপ্ত হয়েছে, সে বিস্ময়াপন্ন। তাই ব্যাসবাক্য বিস্ময়কে আপন্ন; কে বিভক্তি লোপ পেয়েছে, অর্থাৎ দ্বিতীয়া তৎপুরুষ।
একই ছাঁচের শব্দ: বিপদাপন্ন মানে বিপদকে আপন্ন, দুঃখাপন্ন মানে দুঃখকে আপন্ন। আপন্ন, প্রাপ্ত, আশ্রিত, অতীত জাতীয় পরপদ থাকলে সাধারণত দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হয়।
ফাঁদ হলো বিস্ময়ে আপন্ন। বাংলায় বিস্ময়ে অভিভূত বলা হয় বলে এটি স্বাভাবিক শোনায়, কিন্তু আপন্ন শব্দটি কর্ম চায়, তাই কে বিভক্তিই ঠিক।
মনে রাখুন: পরপদ আপন্ন বা প্রাপ্ত হলে ব্যাসবাক্যে কে বসান: বিপদকে আপন্ন, স্বর্গকে প্রাপ্ত।
১০০৫. কবি কায়কোবাদ রচিত ‘মহাশ্মশান’ কাব্যের ঐতিহাসিক পটভূমি ছিল - - (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কপলাশীর যুদ্ধ
- খতৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ
- গ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ
- ঘছিয়াত্তরের মন্বন্তর
সঠিক উত্তর: খ. তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ
প্রশ্নটি কায়কোবাদের মহাকাব্য মহাশ্মশানের পটভূমি জানতে চেয়েছে। কাব্যটি রচিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ নিয়ে, যা হয়েছিল ১৭৬১ সালে মারাঠা শক্তি আর আহমদ শাহ আবদালীর মধ্যে।
যুদ্ধে বিপুল প্রাণহানি ঘটেছিল, যুদ্ধক্ষেত্র যেন বিশাল শ্মশান; এই ভাব থেকেই কাব্যের নাম মহাশ্মশান। কায়কোবাদকে বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে মহাকাব্য রচনার পথিকৃৎ ধরা হয়।
কায়কোবাদের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরায়শী। তাঁর আরেকটি পরিচিত কাব্য অশ্রুমালা।
ফাঁদ হলো পলাশীর যুদ্ধ। বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে পরিচিত যুদ্ধ বলে অনেকে এটিই বেছে নেন, কিন্তু পলাশী নিয়ে বিখ্যাত কাব্য নবীনচন্দ্র সেনের পলাশির যুদ্ধ।
মনে রাখুন: যুদ্ধ নিয়ে কাব্য মেলান: পলাশী মানে নবীনচন্দ্র সেন, পানিপথ মানে কায়কোবাদ।
১০০৬. সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের গ্রন্থ কোনটি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- করহু চণ্ডালের হাড়
- খকৈবর্ত খণ্ড
- গফুল বউ
- ঘঅলীক মানুষ
সঠিক উত্তর: ঘ. অলীক মানুষ
প্রশ্নটি পশ্চিমবঙ্গের কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের রচনা চিনতে চেয়েছে। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস অলীক মানুষ, যার জন্য তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান।
অলীক মানুষ এক পীর পরিবারকে ঘিরে লেখা, যেখানে কয়েক দশকের গ্রামীণ সমাজবদল ধরা আছে। বিশ্বাস ও অলৌকিকতার সঙ্গে বাস্তবের দ্বন্দ্ব এ উপন্যাসের মূল সুর।
বাকি তিনটি বইও পশ্চিমবঙ্গের কথাসাহিত্য, তাই বিভ্রান্তি হয়। রহু চণ্ডালের হাড় অভিজিৎ সেনের, কৈবর্ত খণ্ড মহাশ্বেতা দেবীর, আর ফুলবউ আবুল বাশারের উপন্যাস।
ফাঁদ হলো ফুলবউ। আবুল বাশারও মুর্শিদাবাদ অঞ্চলের মুসলমান জীবন নিয়ে লেখেন, তাই সিরাজের সঙ্গে তাঁকে গুলিয়ে ফেলা সহজ।
মনে রাখুন: সিরাজ মানেই অলীক মানুষ; তাঁর গোয়েন্দা চরিত্র কর্নেল নীলাদ্রি সরকারও প্রায়ই আসে।
১০০৭. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্য প্রকাশিত হয় কত সনে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৯১০
- খ১৯১১
- গ১৯১২
- ঘ১৯১৩
সঠিক উত্তর: ক. ১৯১০
প্রশ্নটি বাংলা গীতাঞ্জলির প্রকাশসাল জানতে চেয়েছে। বাংলা গীতাঞ্জলি প্রকাশিত হয় ১৯১০ সালে।
এরপর রবীন্দ্রনাথ নিজেই এর কিছু কবিতা এবং অন্য কয়েকটি বইয়ের কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। সেই ইংরেজি সংকলন Song Offerings ১৯১২ সালে লন্ডন থেকে বের হয়।
এই ইংরেজি বইয়ের জন্যই ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। তিনি প্রথম এশীয় নোবেলজয়ী।
ফাঁদ হলো ১৯১২ আর ১৯১৩। ইংরেজি অনুবাদ আর নোবেলের সাল মাথায় থাকে বলে অনেকে সেগুলো বেছে নেন, অথচ প্রশ্ন বাংলা কাব্যের প্রকাশসাল চেয়েছে।
মনে রাখুন: গীতাঞ্জলির তিন সাল পরপর: দশ, বারো, তেরো; বাংলা বই, ইংরেজি বই, নোবেল।
১০০৮. ‘আসাদের শার্ট’ কবিতার লেখক কে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কআল মাহমুদ
- খআব্দুল মান্নান সৈয়দ
- গঅমিয় চক্রবর্তী
- ঘশামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর: ঘ. শামসুর রাহমান
প্রশ্নটি একটি বিখ্যাত রাজনৈতিক কবিতার কবি জানতে চেয়েছে। আসাদের শার্ট শামসুর রাহমানের কবিতা।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রনেতা আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, যিনি আসাদ নামে পরিচিত, পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। তাঁর রক্তমাখা শার্টকে কবি প্রাণের পতাকা হিসেবে দেখিয়েছেন। কবিতাটি তাঁর নিজ বাসভূমে কাব্যগ্রন্থে আছে।
শামসুর রাহমানের আরও দুটি বিখ্যাত কবিতা স্বাধীনতা তুমি এবং তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা; দুটিই বন্দী শিবির থেকে কাব্যে। তাঁর প্রথম কাব্য প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে।
আল মাহমুদও ষাটের দশকের বড় কবি, তাই তাঁকে বেছে নেওয়ার ঝোঁক থাকে; কিন্তু তাঁর পরিচিত কাব্য সোনালী কাবিন।
মনে রাখুন: আন্দোলনের শহিদদের নিয়ে কবিতা মানেই প্রায়ই শামসুর রাহমান: আসাদের শার্ট, বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা।
১০০৯. ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ –এর অর্থ কী? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ককোনটি চর্যাগান, আর কোনটি নয়
- খকোনটি আচরণীয়, আর কোনটি নয়
- গকোনটি চরাচরের, আর কোনটি নয়
- ঘকোনটি আচার্যের, আর কোনটি নয়
সঠিক উত্তর: খ. কোনটি আচরণীয়, আর কোনটি নয়
প্রশ্নটি চর্যাপদের পুঁথির নামের অর্থ জানতে চেয়েছে। চর্যাচর্যবিনিশ্চয় শব্দটি তিন ভাগে ভাঙে: চর্য, অচর্য আর বিনিশ্চয়।
চর্য মানে যা আচরণ করা উচিত, অচর্য মানে যা আচরণ করা উচিত নয়, আর বিনিশ্চয় মানে নির্ণয়। তাই পুরো নামের অর্থ কোনটি আচরণীয় আর কোনটি নয়, তার নির্ণয়। বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের সাধনার নিয়মই চর্যাপদের বিষয়।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে পুঁথিটি আবিষ্কার করেন। চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
ফাঁদ হলো চর্যাগান। বইটি গানের সংকলন বলে অনেকে ভাবেন নামের অর্থও চর্যাগান বাছাই; কিন্তু চর্য শব্দের মূল অর্থ আচরণ।
মনে রাখুন: কঠিন সংস্কৃত নাম ভেঙে পড়ুন: চর্য আর অচর্য পাশাপাশি থাকলে অর্থ করণীয় আর অকরণীয়।
১০১০. ‘গোরক্ষ বিজয়’ কাব্য কোন ধর্মমতের কাহিনি অবলম্বনে লেখা? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কশৈবধর্ম
- খবৌদ্ধ সহজযান
- গনাথধর্ম
- ঘকোনোটি নয়
সঠিক উত্তর: গ. নাথধর্ম
প্রশ্নটি মধ্যযুগের নাথসাহিত্য নিয়ে। শেখ ফয়জুল্লাহর গোরক্ষবিজয় কাব্য নাথধর্মের গুরু মীননাথ ও তাঁর শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি নিয়ে লেখা।
কাহিনিতে গুরু মীননাথ কদলী নগরে নারীদের মোহে পড়ে সাধনা ভুলে যান, আর শিষ্য গোরক্ষনাথ নানা কৌশলে তাঁকে উদ্ধার করে আনেন। মোহের ওপর গোরক্ষনাথের এই জয় থেকেই নাম গোরক্ষবিজয়।
নাথধর্ম শৈব ভাবধারার সঙ্গে যোগসাধনা মিশিয়ে গড়ে ওঠা একটি লৌকিক ধর্মমত। এর সাহিত্যকে বলে নাথসাহিত্য, যার আরেকটি ধারা ময়নামতী বা গোপীচন্দ্রের গান।
ফাঁদ হলো শৈবধর্ম। নাথ গুরুরা শিবকে আদিনাথ মানেন বলে অনেকে শৈবধর্ম বেছে নেন; কিন্তু কাব্যটি আলাদা ধর্মমত নাথধর্মের গুরুদের কাহিনি।
মনে রাখুন: নাথসাহিত্যের দুই ধারা: গোরক্ষবিজয় আর ময়নামতী গোপীচন্দ্রের গান।
১০১১. শাক্ত পদাবলির জন্য বিখ্যাত- (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- করামনিধি গুপ্ত
- খদাশরথি রায়
- গএন্টনি ফিরিঙ্গি
- ঘরামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর: ঘ. রামপ্রসাদ সেন
প্রশ্নটি শাক্ত পদাবলির শ্রেষ্ঠ কবি জানতে চেয়েছে। শক্তিদেবী কালী বা উমাকে নিয়ে লেখা ভক্তিগীতিকে শাক্ত পদাবলি বলে, আর এর শ্রেষ্ঠ কবি রামপ্রসাদ সেন।
রামপ্রসাদের গান শ্যামাসংগীত নামে পরিচিত, আর তাঁর নিজস্ব সুর রামপ্রসাদী সুর নামে আজও গাওয়া হয়। শাক্ত পদের আরেক বড় কবি কমলাকান্ত ভট্টাচার্য।
শাক্ত পদের দুটি ভাগ মনে রাখুন: আগমনী ও বিজয়া, যেখানে উমার বাপের বাড়ি আসা আর ফিরে যাওয়া; এবং ভক্তের আকুতি, যেখানে মায়ের কাছে সন্তানের অভিমান।
বাকি তিনজনও আঠারো ও উনিশ শতকের গীতিকবি, তাই বিভ্রান্তি হয়। নিধুবাবু টপ্পা, দাশরথি রায় পাঁচালি আর এন্টনি ফিরিঙ্গি কবিগানের জন্য বিখ্যাত।
মনে রাখুন: ধারা আর কবি জোড়া মিলান: শাক্ত রামপ্রসাদ, টপ্পা নিধুবাবু, পাঁচালি দাশরথি, কবিগান এন্টনি।
১০১২. ‘অলৌকিক ইস্টিমার’ গ্রন্থের রচয়িতা কে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কহুমায়ুন আজাদ
- খহেলাল হাফিজ
- গআসাদ চৌধুরী
- ঘরফিক আজাদ
সঠিক উত্তর: ক. হুমায়ুন আজাদ
প্রশ্নটি একটি কাব্যগ্রন্থের কবি চিনতে চেয়েছে। অলৌকিক ইস্টিমার হুমায়ুন আজাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ, প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।
হুমায়ুন আজাদ কবি, ভাষাবিজ্ঞানী ও প্রথাবিরোধী লেখক। তাঁর অন্য কাব্য জ্বলো চিতাবাঘ, আর ভাষা নিয়ে বিখ্যাত বই লাল নীল দীপাবলি ও কতো নদী সরোবর।
বাকি তিনজনই ষাট ও সত্তরের দশকের কবি, তাই বিভ্রান্তি। হেলাল হাফিজের বিখ্যাত কাব্য যে জলে আগুন জ্বলে, আসাদ চৌধুরীর তবক দেওয়া পান, আর রফিক আজাদের চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া।
মনে রাখুন: হুমায়ুন আজাদের দুই দিক মনে রাখুন: কাব্যে অলৌকিক ইস্টিমার, ভাষায় লাল নীল দীপাবলি।
১০১৩. ‘Custom’ শব্দের পরিভাষা কোনটি যথার্থ? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কআইন
- খপ্রথা
- গশুল্ক
- ঘরাজস্বনীতি
সঠিক উত্তর: খ. প্রথা
প্রশ্নটি একটি ইংরেজি শব্দের বাংলা পরিভাষা চেয়েছে। Custom শব্দের পরিভাষা প্রথা বা রীতি, অর্থাৎ সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অভ্যাস।
সমস্যা হলো এর বহুবচনের মতো দেখতে Customs শব্দটি। Customs মানে আমদানি রপ্তানির ওপর বসানো শুল্ক বা শুল্ক বিভাগ। একটি এস যোগ হলে অর্থ পুরো বদলে যায়।
পরিভাষার প্রশ্নে বানানের শেষ অক্ষর পর্যন্ত খেয়াল করতে হয়। যেমন Custom প্রথা, Customs শুল্ক; Good ভালো, Goods পণ্য।
ফাঁদ হলো শুল্ক। Customs House বা কাস্টমস শব্দটি দৈনন্দিন কথায় বেশি শোনা যায় বলে অনেকে শুল্ক বেছে নেন, কিন্তু প্রশ্নে এস ছাড়া Custom।
মনে রাখুন: শব্দের শেষে এস আছে কি না দেখুন: Custom প্রথা, Customs শুল্ক।
১০১৪. কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতায় ‘কালাপাহাড়’- কে স্মরণ করেছেন কেন? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কব্রাহ্মণ্যযুগে নব মুসলিম ছিলেন বলে
- খইসলামের গুণকীর্তন করেছিলেন বলে
- গপ্রাচীন বাংলার বিদ্রোহী ছিলেন বলে
- ঘপ্রচলিত ধর্ম ও সংস্কার-বিদ্বেষী ছিলেন বলে
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রচলিত ধর্ম ও সংস্কার-বিদ্বেষী ছিলেন বলে
প্রশ্নটি নজরুলের কবিতায় একটি প্রতীকের তাৎপর্য বুঝতে চেয়েছে। কালাপাহাড় ষোড়শ শতকে বাংলার কররানি সুলতানদের সেনাপতি, যিনি উড়িষ্যা অভিযানে বহু মন্দির ও মূর্তি ভাঙার জন্য কিংবদন্তি হয়ে আছেন।
লোকমুখে তিনি প্রচলিত ধর্মাচার ও সংস্কারের ঘোর বিরোধীর প্রতীক হয়ে ওঠেন। নজরুল নিজেও গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর ভণ্ডামির বিরুদ্ধে লিখেছেন, তাই তাঁর কবিতায় কালাপাহাড় এসেছে সংস্কার ভাঙার প্রতীক হিসেবে।
প্রশ্ন জানতে চেয়েছে নজরুল কেন তাঁকে স্মরণ করেছেন। কারণ কালাপাহাড় প্রচলিত ধর্ম ও সংস্কারের বিদ্বেষী ছিলেন, আর নজরুলের বিদ্রোহী চেতনার সঙ্গে সেটি মেলে।
ফাঁদ হলো নব মুসলিম পরিচয়। কিংবদন্তিতে বলা হয় তিনি ব্রাহ্মণ থেকে মুসলমান হয়েছিলেন, কিন্তু নজরুল তাঁকে ধর্মান্তরের জন্য নয়, সংস্কার ভাঙার জন্য স্মরণ করেছেন।
মনে রাখুন: প্রতীকের প্রশ্নে চরিত্রটির কোন গুণ কবির ভাবনার সঙ্গে মেলে, সেটিই উত্তর।
১০১৫. ‘প্রদীপ নিবিয়া গেল!’ -এ বিখ্যাত বর্ণনা কোন উপন্যাসের? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কবঙ্কিমচন্দ্রের ‘বিষবৃক্ষ’
- খরবীন্দ্রনাথের ‘চোখের বালি’
- গবঙ্কিমচন্দ্রের ‘কপালকুণ্ডলা’
- ঘরবীন্দ্রনাথের ‘যোগাযোগ’
সঠিক উত্তর: গ. বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কপালকুণ্ডলা’
প্রশ্নটি একটি বিখ্যাত বাক্য কোন উপন্যাসের, তা জানতে চেয়েছে। প্রদীপ নিবিয়া গেল বর্ণনাটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের।
বাক্যটি সাধু ভাষায় লেখা, নিবিয়া ক্রিয়াপদের রূপ দেখলেই বোঝা যায় এটি উনিশ শতকের গদ্য। কপালকুণ্ডলা প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
এ উপন্যাসের আরেকটি বিখ্যাত উক্তি পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ? এটি কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে বলে। চরিত্রগুলোর মধ্যে আছে নবকুমার, কপালকুণ্ডলা আর কাপালিক।
ফাঁদ হলো বিষবৃক্ষ। লেখক একই, বঙ্কিমচন্দ্র, তাই অনেকে গুলিয়ে ফেলেন; কিন্তু বাক্যটি কপালকুণ্ডলার।
মনে রাখুন: কপালকুণ্ডলার দুই বিখ্যাত বাক্য একসঙ্গে মনে রাখুন: পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ? আর প্রদীপ নিবিয়া গেল।
১০১৬. ‘মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।’ -কার উক্তি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কমীর মশাররফ হোসেনের
- খইসমাইল হোসেন সিরাজীর
- গরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
- ঘকাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর: ক. মীর মশাররফ হোসেনের
প্রশ্নটি মাতৃভাষা নিয়ে একটি বিখ্যাত উক্তির রচয়িতা জানতে চেয়েছে। মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে, উক্তিটি মীর মশাররফ হোসেনের বলে প্রচলিত।
উনিশ শতকে বাঙালি মুসলমান সমাজের একাংশ বাংলার বদলে উর্দু বা ফারসিকে নিজেদের ভাষা ভাবত। সে সময় বাংলাকেই মাতৃভাষা হিসেবে ভালোবাসার আহ্বান জানিয়েছিলেন মীর মশাররফ হোসেন।
তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা বিষাদ-সিন্ধু, কারবালার কাহিনি নিয়ে লেখা। নাটক জমীদার দর্পণ আর আত্মজীবনীমূলক আমার জীবনীও প্রায়ই জিজ্ঞাসিত হয়।
রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের নামে বহু উক্তি চলে বলে তাঁদের বেছে নেওয়ার ঝোঁক থাকে; কিন্তু এ উক্তি মীর মশাররফ হোসেনের।
মনে রাখুন: মাতৃভাষার প্রতি ভক্তি নিয়ে উক্তি দেখলে মীর মশাররফ হোসেন মনে করুন।
১০১৭. বর্গের কোন বর্ণসমূহের ধ্বনি মহাপ্রাণধ্বনি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কতৃতীয় বর্ণ
- খদ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ
- গপ্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ
- ঘদ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ণ
সঠিক উত্তর: খ. দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ
প্রশ্নটি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্গ ও প্রাণ নিয়ে। ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শবর্ণ পাঁচটি বর্গে ভাগ করা, প্রতিটি বর্গে পাঁচটি বর্ণ।
উচ্চারণের সময় মুখ দিয়ে বেশি বাতাস বের হলে তাকে মহাপ্রাণ, কম বের হলে অল্পপ্রাণ বলে। বর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ মহাপ্রাণ, যেমন খ, ঘ, ছ, ঝ, ঠ, ঢ, থ, ধ, ফ, ভ।
প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম বর্ণ অল্পপ্রাণ। আরেকটি ভাগও মনে রাখুন: প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ অঘোষ, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ণ ঘোষ।
ফাঁদ হলো প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ। এটি অঘোষ বর্ণের ভাগ, প্রাণের নয়; দুটি ভাগ গুলিয়ে ফেললেই এই ভুল হয়।
মনে রাখুন: উচ্চারণ করে দেখুন: ক আর খ, গ আর ঘ। যেটিতে হ এর মতো বাতাস লাগে সেটিই মহাপ্রাণ।
১০১৮. ‘কদাকার’ শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কদেশি উপসর্গযোগে
- খবিদেশি উপসর্গযোগে
- গসংস্কৃত উপসর্গযোগে
- ঘকোনোটি নয়
সঠিক উত্তর: ক. দেশি উপসর্গযোগে
প্রশ্নটি উপসর্গের উৎস চিনতে চেয়েছে। কদাকার শব্দটি কদ এবং আকার মিলে গঠিত, যেখানে কদ মানে মন্দ বা খারাপ; কদাকার মানে কুৎসিত আকারের।
বাংলা ব্যাকরণের প্রচলিত তালিকায় কদ খাঁটি বাংলা বা দেশি উপসর্গ। খাঁটি বাংলা উপসর্গ একুশটি, যেমন অ, অঘা, অনা, আড়, কদ, পাতি, ভর, রাম, হা ইত্যাদি। কদ যোগে আরও শব্দ: কদবেল, কদছাঁট।
উপসর্গের তিন উৎস মনে রাখুন: খাঁটি বাংলা একুশটি, তৎসম বা সংস্কৃত বিশটি, আর বিদেশি উপসর্গ যেমন বে, বদ, না, ফি, হর। বদ আর কদ শুনতে কাছাকাছি হলেও বদ ফারসি, কদ বাংলা।
ফাঁদ হলো বিদেশি উপসর্গ। বদমেজাজ, বদনাম এর বদ ফারসি বলে অনেকে কদকেও বিদেশি ভাবেন; কিন্তু ব্যাকরণের তালিকায় কদ দেশি।
মনে রাখুন: বদ ফারসি, কদ বাংলা: বদনাম বিদেশি উপসর্গে, কদাকার দেশি উপসর্গে।
১০১৯. মুক্তাক্ষর এক মাত্রা এবং বদ্ধাক্ষরও এক মাত্রা গণনা করা হয় কোন ছন্দে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কমাত্রাবৃত্ত
- খঅক্ষরবৃত্ত
- গমুক্তক
- ঘস্বরবৃত্ত
সঠিক উত্তর: ঘ. স্বরবৃত্ত
প্রশ্নটি তিন প্রধান ছন্দে মাত্রা গোনার পার্থক্য জানতে চেয়েছে। যে অক্ষরের শেষে স্বর থাকে তা মুক্তাক্ষর, যেমন মা; যে অক্ষর ব্যঞ্জনে শেষ হয় তা বদ্ধাক্ষর, যেমন চাঁদ।
স্বরবৃত্ত ছন্দে মুক্তাক্ষর আর বদ্ধাক্ষর দুটোই এক মাত্রা। এটি ছড়ার ছন্দ, দ্রুত লয়ের, প্রতি পর্বে সাধারণত চার মাত্রা। যেমন বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।
মাত্রাবৃত্তে বদ্ধাক্ষর সবসময় দুই মাত্রা। অক্ষরবৃত্তে বদ্ধাক্ষর শব্দের শুরু বা মাঝে এক মাত্রা, কিন্তু শব্দের শেষে দুই মাত্রা।
ফাঁদ হলো অক্ষরবৃত্ত। শব্দের শুরুতে বদ্ধাক্ষর এক মাত্রা পায় বলে মনে হয় এখানেও সব এক, কিন্তু শব্দের শেষে বদ্ধাক্ষর দুই মাত্রা।
মনে রাখুন: ছড়ার ছন্দ স্বরবৃত্ত; ছড়ার মতো দ্রুত পড়লে সব অক্ষর এক মাত্রায় ছোটে।
১০২০. নিচের কোনটি অশুদ্ধ? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কঅহিংস – সহিংস
- খপ্রসন্ন – বিষণ্ন
- গদোষী – নির্দোষী
- ঘনিষ্পাপ – পাপিনী
সঠিক উত্তর: গ. দোষী – নির্দোষী
প্রশ্নটি শব্দজোড়ের মধ্যে অশুদ্ধ গঠনটি খুঁজতে বলেছে। দোষী শব্দের বিপরীত নির্দোষ, নির্দোষী নয়।
নির্ উপসর্গ মানে নেই। নির্দোষ মানে যার দোষ নেই, এখানেই অর্থ সম্পূর্ণ। এর সঙ্গে আবার ই প্রত্যয় যোগ করে নির্দোষী বানালে একই ভাব দুবার আসে, তাই এটি অশুদ্ধ।
একই ধরনের অশুদ্ধ শব্দ: নিরপরাধী অশুদ্ধ, শুদ্ধ নিরপরাধ; নির্দোষী অশুদ্ধ, শুদ্ধ নির্দোষ। বাকি জোড়াগুলো ঠিক: অহিংস ও সহিংস, প্রসন্ন ও বিষণ্ন, নিষ্পাপ ও পাপিনী।
বানানটিও খেয়াল রাখুন: শুদ্ধ বিষণ্ন, ষ এর পরে মূর্ধন্য ণ, তারপর দন্ত্য ন। বিষন্ন বা বিষণ্ণ দুটোই ভুল। তবে এ প্রশ্নের লক্ষ্য গঠনের ভুল, আর সেটি নির্দোষী।
মনে রাখুন: নির্ বা নিঃ যোগে শব্দ তৈরি হলে শেষে আর ই প্রত্যয় বসে না: নির্দোষ, নিরপরাধ, নিরহংকার।