বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ১৫
২৮১. বাংলাদেশের কোন স্মৃতি বিজড়িত এলাকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারির জন্য ঘুরে বেড়ান? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- ককালিগ্রাম
- খসখিপুর
- গটুনির হাট
- ঘব্যারিস্টার বাজার
সঠিক উত্তর: ক. কালিগ্রাম
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পারিবারিক জমিদারি দেখাশোনার জন্য বর্তমান বাংলাদেশের তিনটি অঞ্চলে দীর্ঘ সময় কাটান: কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর আর নওগাঁর পতিসর।
পতিসর ছিল কালীগ্রাম পরগনার সদর কাছারি। তাই বিকল্পের কালিগ্রাম রবীন্দ্রনাথের জমিদারির স্মৃতিবিজড়িত এলাকা।
পতিসরে তিনি কৃষকদের জন্য কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন এবং নোবেল পুরস্কারের অর্থের একটি অংশ সেখানে দেন। জমিদারির এই সময়েই গল্পগুচ্ছের অনেক গল্প ও ছিন্নপত্রের চিঠি লেখা।
সখিপুর টাঙ্গাইলের একটি উপজেলা, আর বাকি দুটি নামও রবীন্দ্রনাথের জমিদারির সঙ্গে যুক্ত নয়।
মনে রাখুন: রবীন্দ্রনাথের জমিদারি = শিলাইদহ, শাহজাদপুর, পতিসর (কালীগ্রাম)।
২৮২. 'রক্ষকই ভক্ষক' বাক্যটি কোন জাতীয় বাক্য? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কজটিল বাক্য
- খসরল বাক্য
- গযৌগিক বাক্য
- ঘমিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর: খ. সরল বাক্য
গঠন অনুসারে বাক্য তিন প্রকার: সরল, জটিল বা মিশ্র, আর যৌগিক। যে বাক্যে একটি উদ্দেশ্য ও একটি সমাপিকা ক্রিয়াযুক্ত বিধেয় থাকে, সেটি সরল বাক্য।
রক্ষকই ভক্ষক বাক্যে উদ্দেশ্য রক্ষক, বিধেয় ভক্ষক। এখানে হয় বা হলো ক্রিয়াটি উহ্য আছে: রক্ষকই ভক্ষক হয়। ক্রিয়া উহ্য থাকলেও বাক্যটি একটি মাত্র অংশ নিয়ে গঠিত।
জটিল বাক্যে যে, যদি, যখন জাতীয় সাপেক্ষ শব্দ দিয়ে একটি প্রধান ও একটি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে। যৌগিক বাক্যে এবং, কিন্তু, অথবা দিয়ে দুটি স্বাধীন বাক্য জোড়া থাকে।
এখানে কোনো খণ্ডবাক্য বা সংযোজক নেই, তাই এটি সরল বাক্য। মনে রাখবেন, জটিল আর মিশ্র বাক্য একই জিনিস, তাই এ দুটি একসঙ্গে সঠিক হতে পারে না।
মনে রাখুন: প্রবাদ বা ছোট বাক্যে সাপেক্ষ শব্দ বা সংযোজক না থাকলে সরল। যেমন: অতি লোভে তাঁতি নষ্ট, সময় অমূল্য।
২৮৩. 'অহি' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কসাপ
- খহাতি
- গহরিণ
- ঘশশধর
সঠিক উত্তর: ক. সাপ
অহি একটি তৎসম শব্দ, যার অর্থ সাপ। সাপের আরও প্রতিশব্দ: সর্প, ভুজঙ্গ, ভুজগ, নাগ, ফণী, উরগ, আশীবিষ, পন্নগ।
এই প্রতিশব্দগুলোর পেছনে সাপের বৈশিষ্ট্য লুকিয়ে আছে: উরগ মানে যে বুকে ভর দিয়ে চলে, ফণী মানে যার ফণা আছে, ভুজঙ্গ মানে যে বাঁকা হয়ে চলে।
হাতির প্রতিশব্দ হস্তী, গজ, করী, দ্বিপ; হরিণের প্রতিশব্দ মৃগ, কুরঙ্গ, সারঙ্গ। আর শশধর মানে চাঁদ, কারণ চাঁদের বুকে শশ বা খরগোশের মতো দাগ দেখা যায়।
অহি শব্দটি আরবি ওহি বা ঐশী বাণীর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না; বাংলা প্রতিশব্দের প্রশ্নে অহি মানে সাপ।
মনে রাখুন: সাপের প্রতিশব্দ প্রায়ই ভুজঙ্গ, ফণী, উরগ, অহি; বিকল্পে এর একটি থাকলেই উত্তর।
২৮৪. কোনটি নিত্য স্ত্রী বাচক শব্দ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কসপত্নী
- খবিপত্রী
- গসতীন
- ঘবিধাতা
সঠিক উত্তর: গ. সতীন
কিছু শব্দ কেবল নারীকেই বোঝায়, এদের কোনো পুরুষবাচক রূপ নেই। এদের বলে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: সতীন, সৎমা, এয়ো, সধবা, দাই।
সতীন মানে একই স্বামীর অন্য স্ত্রী। এমন সম্পর্ক কেবল নারীর ক্ষেত্রেই হয়, তাই সতীনের কোনো পুরুষবাচক রূপ নেই। এজন্য সতীন নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দের সবচেয়ে প্রচলিত উদাহরণ।
বিধাতা শব্দটি পুরুষবাচক, এর স্ত্রীবাচক রূপ বিধাত্রী; কর্তা থেকে কর্ত্রী, দাতা থেকে দাত্রী যেমন হয়। উল্টো দিকে কবিরাজ, অকৃতদার, বিপত্নীক হলো নিত্য পুরুষবাচক শব্দ।
সপত্নী সতীন শব্দেরই তৎসম রূপ, তাই এটিও অর্থে কেবল নারী বোঝায়; প্রশ্নে এটি থাকায় সতর্ক থাকুন। তবে পরীক্ষায় নিত্য স্ত্রীবাচকের আদর্শ উত্তর হিসেবে সতীনই ধরা হয়।
মনে রাখুন: সতীন, সৎমা, এয়ো, সধবা: সংসারের নারীসম্পর্ক, পুরুষ রূপ নেই।
২৮৫. 'রেস্তোরাঁ' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কচৈনিক
- খফারসি
- গপর্তুগিজ
- ঘফরাসি
সঠিক উত্তর: ঘ. ফরাসি
রেস্তোরাঁ শব্দটি এসেছে ফরাসি restaurant থেকে, যার অর্থ খাবারের দোকান বা হোটেল। শেষের চন্দ্রবিন্দু ফরাসি উচ্চারণের নাসিক্য ধ্বনির ছাপ।
বাংলায় ফরাসি ভাষার শব্দ কম, তাই কয়েকটি মুখস্থ রাখলেই চলে: কার্তুজ, কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ, রেনেসাঁ, বুর্জোয়া, ক্যাফে।
ফারসি আর ফরাসি নাম দুটো কাছাকাছি, এটাই বড় ফাঁদ। ফারসি ইরানের ভাষা, যেমন কারখানা, দোকান, বাদশাহ; আর ফরাসি ফ্রান্সের ভাষা।
পর্তুগিজ শব্দ: আনারস, আলমারি, বালতি, চাবি, গির্জা। চীনা শব্দ: চা, চিনি, লিচু।
মনে রাখুন: ফরাসি শব্দের মনে রাখার বাক্য: রেস্তোরাঁয় কুপন নিয়ে কার্তুজ কিনে ডিপোতে গেলাম।
২৮৬. 'অম্বু' শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কজল
- খবাতাস
- গপাহাড়
- ঘপর্বত
সঠিক উত্তর: ক. জল
অম্বু একটি তৎসম শব্দ, অর্থ জল। জলের আরও প্রতিশব্দ: বারি, সলিল, নীর, অপ, উদক, তোয়, পানি, জীবন।
অম্বু থেকে তৈরি শব্দগুলোও পরীক্ষায় আসে। অম্বুদ মানে যে জল দেয়, অর্থাৎ মেঘ। অম্বুধি মানে জলের আধার, অর্থাৎ সাগর। অম্বুজ মানে জলে জন্মে, অর্থাৎ পদ্ম।
বাতাসের প্রতিশব্দ পবন, বায়ু, সমীরণ, অনিল; পাহাড় বা পর্বতের প্রতিশব্দ অচল, গিরি, ভূধর, শৈল।
অম্বর শব্দের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না: অম্বর মানে আকাশ বা কাপড়, আর অম্বু মানে জল।
মনে রাখুন: জলের প্রতিশব্দের সঙ্গে দ জুড়লে মেঘ (বারিদ, অম্বুদ, তোয়দ), ধি জুড়লে সাগর (বারিধি, অম্বুধি)।
২৮৭. নিচের কোনটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কসংশপ্তক
- খক্রীতদাসের হাসি
- গএকটি কালো মেয়ের কথা
- ঘচিলেকোঠার সেপাই
সঠিক উত্তর: গ. একটি কালো মেয়ের কথা
একটি কালো মেয়ের কথা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ উপন্যাস, ১৯৭১ সালে লেখা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি গভীর সহমর্মিতা থেকে তিনি এটি লেখেন, আর এর প্রকাশ দেখার আগেই মারা যান।
উপন্যাসে সীমান্তে আটক এক তরুণ পুলিশের জেরার মুখে পঁচিশে মার্চের কালরাতে ঢাকার গণহত্যার বিবরণ দেয়। তাই এটি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক।
বিকল্পের বাকি তিনটি বিখ্যাত উপন্যাস, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের নয়। চিলেকোঠার সেপাই আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের, পটভূমি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান; সময়টা কাছাকাছি বলে এটিই সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
সংশপ্তক শহীদুল্লা কায়সারের, পটভূমি দেশভাগের আগে-পরের গ্রামীণ সমাজ। ক্রীতদাসের হাসি শওকত ওসমানের, আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের রূপক।
মনে রাখুন: অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস: রাইফেল রোটি আওরাত (আনোয়ার পাশা), নিষিদ্ধ লোবান (সৈয়দ শামসুল হক), জাহান্নাম হইতে বিদায় (শওকত ওসমান)।
২৮৮. নিচের কোনটি 'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ নয়? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কশৈবালিনী
- খতরঙ্গিনী
- গস্রোতোবহা
- ঘলহরী
সঠিক উত্তর: ঘ. লহরী
প্রশ্নটা সমার্থক শব্দ চিনতে পারা যাচাই করছে। চারটি শব্দের মধ্যে তিনটি নদী বোঝায়, একটি বোঝায় নদীর সঙ্গে জড়িত অন্য কিছু; সেটাই খুঁজতে হবে।
নদীর অনেক সমার্থক শব্দ ইন যুক্ত নারীবাচক রূপে গড়া: শৈবালিনী মানে শৈবাল বা শেওলা আছে যার বুকে, তরঙ্গিণী মানে তরঙ্গ আছে যার, স্রোতোবহা মানে যে স্রোত বয়ে নেয়। তিনটিই নদী।
লহরী শব্দের অর্থ ঢেউ বা তরঙ্গ। ঢেউ নদীর অংশ, কিন্তু নদী নয়; তাই লহরী নদীর সমার্থক শব্দ নয়।
ফাঁদ হলো তরঙ্গিণী আর লহরী দুটোতেই ঢেউয়ের ভাব আছে। মনে রাখুন, তরঙ্গিণী মানে ঢেউ আছে যার, অর্থাৎ নদী; আর লহরী মানে শুধু ঢেউ।
মনে রাখুন: নদীর সমার্থক শব্দের বেশিরভাগ ‘-ইনী/-ইণী’ বা ‘-বহা/-বতী’ দিয়ে শেষ: তটিনী, তরঙ্গিণী, স্রোতস্বিনী, স্রোতস্বতী, কল্লোলিনী।
২৮৯. বিপরীতার্থে 'পরা' উপসর্গ যুক্ত শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কপরাকাষ্ঠা
- খপরাক্রান্ত
- গপরায়ণ
- ঘপরাভব
সঠিক উত্তর: ঘ. পরাভব
প্রশ্নটা ‘পরা’ উপসর্গের বিভিন্ন অর্থ যাচাই করছে। পরা একটি তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ, আর এটি মূলত দুটি অর্থে বসে: আতিশয্য বা বেশি বোঝাতে, এবং বিপরীত বা উল্টো বোঝাতে।
আতিশয্য অর্থে: পরাক্রান্ত মানে অতি শক্তিশালী, পরাকাষ্ঠা মানে চরম সীমা। বিপরীত অর্থে: জয়ের উল্টো পরাজয়, আর পরাভব মানেও হার বা পরাজয়।
তাই বিপরীতার্থে পরা উপসর্গ যুক্ত শব্দ হলো পরাভব।
পরায়ণ শব্দের অর্থ কোনো কাজে তৎপর বা আসক্ত, যেমন কর্তব্যপরায়ণ। এখানে কোনো উল্টো অর্থ নেই, তাই এটি ফাঁদ।
মনে রাখুন: বিপরীত অর্থে পরা: পরাজয়, পরাভব। আতিশয্যে পরা: পরাক্রান্ত, পরাকাষ্ঠা।
২৯০. 'এক' এর বিশেষ্য রূপ কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কএকাধিক
- খবহু
- গএকতা
- ঘএকক
সঠিক উত্তর: গ. একতা
প্রশ্নটা পদ পরিবর্তন যাচাই করছে: বিশেষণ বা সংখ্যাবাচক শব্দ ‘এক’-কে বিশেষ্য করতে হবে। বিশেষ্য হলো যা কোনো নাম, গুণ বা অবস্থার নাম বোঝায়।
এক শব্দের সঙ্গে তা প্রত্যয় যোগ করলে হয় একতা, মানে এক হয়ে থাকার অবস্থা বা ঐক্য। এটি একটি ভাববাচক বিশেষ্য। এক থেকে আরেকটি বিশেষ্য হলো ঐক্য।
একই নিয়মে মানব থেকে মানবতা, সরল থেকে সরলতা, দীন থেকে দীনতা।
একাধিক আর বহু দুটোই বিশেষণ, কোনো কিছুর সংখ্যা বোঝায়। একক শব্দ অনেক সময় বিশেষ্য হিসেবেও বসে, তবে এর অর্থ মাপের একক বা একটি মাত্র, এক-এর ভাবগত বিশেষ্য নয়; পরীক্ষায় তাই একতাই প্রত্যাশিত উত্তর।
মনে রাখুন: বিশেষণের বিশেষ্য রূপ চাইলে আগে ‘-তা’ বা ‘-ত্ব’ যোগ করে দেখুন: এক থেকে একতা, মহৎ থেকে মহত্ত্ব।
২৯১. 'অনুগ্রহ' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কদয়া
- খবিগ্রহ
- গপ্রতিগ্ৰহ
- ঘনিগ্রহ
সঠিক উত্তর: ঘ. নিগ্রহ
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দ যাচাই করছে। অনুগ্রহ মানে দয়া বা কৃপা, কারো প্রতি সদয় আচরণ।
এর উল্টো হলো নিগ্রহ, মানে পীড়ন, শাস্তি বা কষ্ট দেওয়া। গ্রহ ধাতুর আগে অনু বসলে হয় দয়া, আর নি বসলে হয় দমন বা পীড়ন।
একই মূলের অন্য শব্দগুলোর অর্থ আলাদা: বিগ্রহ মানে দেবমূর্তি বা যুদ্ধ, প্রতিগ্রহ মানে দান গ্রহণ।
দয়া অনুগ্রহের সমার্থক, বিপরীত নয়; সমার্থক আর বিপরীত গুলিয়ে ফেললে এই ফাঁদে পড়তে হয়।
মনে রাখুন: জোড়া মনে রাখুন: অনুগ্রহ ↔ নিগ্রহ, অনুরাগ ↔ বিরাগ, আবির্ভাব ↔ তিরোভাব।
২৯২. 'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কশামসুর রাহমান
- খআবুল হাসান
- গআহসান হাবীব
- ঘরফিক আজাদ
সঠিক উত্তর: গ. আহসান হাবীব
প্রশ্নটা আধুনিক বাংলা কবিতার লেখক ও গ্রন্থ মেলানো যাচাই করছে। বিদীর্ণ দর্পণে মুখ কবি আহসান হাবীবের কাব্যগ্রন্থ, প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে।
আহসান হাবীবের প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষ, ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত। তাঁর অন্য পরিচিত কাব্য ছায়া হরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো। তিনি দীর্ঘদিন দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।
শামসুর রাহমান, আবুল হাসান আর রফিক আজাদও একই যুগের কবি, তাই নাম দেখে গুলিয়ে যেতে পারে। শামসুর রাহমান সবচেয়ে পরিচিত নাম বলে অনেকে আন্দাজে তাঁকেই বেছে নেন; সেটিই ফাঁদ।
মনে রাখুন: আহসান হাবীবের কাব্যনামে প্রকৃতি আর আয়না ঘুরে আসে: ছায়া হরিণ, সারা দুপুর, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।
২৯৩. কবি শামসুর রাহমানের 'আদিগন্ত নগ্ন প্রতিধ্বনি' প্রকাশিত হয় কত সালে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- ক১৯৭৪
- খ১৯৮২
- গ১৯৯০
- ঘ১৯৯৫
সঠিক উত্তর: ক. ১৯৭৪
প্রশ্নটা শামসুর রাহমানের একটি কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল জানতে চায়। গ্রন্থটির প্রকৃত নাম আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি; প্রশ্নে প্রতিধ্বনি ছাপা হয়েছে, তবে বোঝানো হয়েছে এই বইটিকেই। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে।
শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, ১৯৬০ সালে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের কবিতা নিয়ে বন্দী শিবির থেকে বের হয় ১৯৭২ সালে। এর দুই বছর পর আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি।
তাঁর বিখ্যাত কবিতা স্বাধীনতা তুমি আর তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা; আসাদের শার্ট কবিতাও খুব পরিচিত।
১৯৮২, ১৯৯০, ১৯৯৫ সালেও তাঁর অনেক বই বেরিয়েছে, তাই আন্দাজে উত্তর দিলে ভুল হবে। সহজে মনে রাখুন: বন্দী শিবির থেকে ১৯৭২ সালে, তার দুই বছর পর আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি।
মনে রাখুন: স্বাধীনতার পরপর: ১৯৭২ বন্দী শিবির থেকে, ১৯৭৪ আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি।
২৯৪. ‘চতুরঙ্গ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ধরনের গ্রন্থ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কনাটক
- খউপন্যাস
- গপ্রবন্ধ
- ঘকাব্য
সঠিক উত্তর: খ. উপন্যাস
চতুরঙ্গ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উপন্যাস, প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে। প্রথমে এটি প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয়েছিল।
নামের চতুরঙ্গ মানে চার অংশ। উপন্যাসটি চারটি পর্বে ভাগ করা: জ্যাঠামশাই, শচীশ, দামিনী ও শ্রীবিলাস। প্রতিটি পর্ব একেকটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে, আর পুরো কাহিনি বর্ণনা করে শ্রীবিলাস।
রবীন্দ্রনাথের অন্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো চোখের বালি, গোরা, ঘরে বাইরে, শেষের কবিতা ও যোগাযোগ। নাম শুনে নাটক মনে হতে পারে, কারণ চতুরঙ্গ শব্দটা দাবা খেলা বা প্রাচীন চতুরঙ্গ সেনাবাহিনীকেও বোঝায়; কিন্তু এটি নাটক নয়, উপন্যাস।
মনে রাখুন: চার অঙ্গ বা চার পর্বের উপন্যাস: চতুরঙ্গ। পর্বের নামগুলো চরিত্রের নাম, এটা মনে রাখলে নাটক বলে ভুল হবে না।
২৯৫. বাংলা ভাষায় সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন কে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কউইলিয়াম কেরি
- খএডওয়ার্ড ডিমক
- গশ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায়
- ঘপ্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর: গ. শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায়
বাংলা ভাষার লেখ্য সাধু রূপ আর মুখের চলিত রূপের পার্থক্য নিয়ে প্রথম তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেন শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায়। ১৮৭৭ সালে তিনি Bengali, Spoken and Written নামে একটি ইংরেজি প্রবন্ধ লেখেন।
সেই প্রবন্ধে তিনি দেখান, বইয়ের সংস্কৃত-ঘেঁষা বাংলার ব্যাকরণ আর মানুষের মুখের বাংলার ব্যাকরণ অনেক আলাদা। তিনি প্রস্তাব করেন, দরকার ছাড়া সংস্কৃত শব্দ না নিয়ে জীবন্ত মুখের ভাষাকে লেখায় জায়গা দেওয়া উচিত।
প্রমথ চৌধুরী এখানে বড় ফাঁদ। তিনি ১৯১৪ সালে সবুজপত্র পত্রিকা বের করে সাহিত্যে চলিত রীতি প্রতিষ্ঠা করেন, তাই তাঁকে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়। কিন্তু দুই রূপের তুলনামূলক গবেষণার কৃতিত্ব শ্যামাচরণের, যা প্রমথ চৌধুরীর প্রায় চার দশক আগের।
উইলিয়াম কেরি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক, বাংলা ব্যাকরণ ও কথোপকথন বইয়ের লেখক। এডওয়ার্ড ডিমক মার্কিন বাংলা সাহিত্য গবেষক, যিনি বৈষ্ণব পদাবলি ও মধ্যযুগের সাহিত্য নিয়ে কাজ করেছেন।
মনে রাখুন: তুলনা করেছেন শ্যামাচরণ, চালু করেছেন প্রমথ: প্রশ্নে "তুলনামূলক" থাকলে শ্যামাচরণ, "প্রবর্তক" থাকলে প্রমথ চৌধুরী।
২৯৬. নিচের কোনটি সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের দৃষ্টান্ত নয়? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কসাজসজ্জা
- খলেনদেন
- গছাইভস্ম
- ঘগোলাগুলি
সঠিক উত্তর: খ. লেনদেন
দ্বন্দ্ব সমাসে দুটি পদই প্রধান থাকে, আর ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর দিয়ে যুক্ত হয়। যখন দুটি পদের অর্থ একই বা প্রায় একই, তখন তাকে বলে সমার্থক দ্বন্দ্ব।
সাজসজ্জা মানে সাজ ও সজ্জা, দুটোরই অর্থ সাজানো। ছাইভস্ম মানে ছাই ও ভস্ম, দুটোই পোড়ার পরের গুঁড়া। গোলাগুলি মানে গোলা ও গুলি, দুটোই অস্ত্রের নিক্ষিপ্ত বস্তু। তাই এই তিনটি সমার্থক দ্বন্দ্ব।
লেনদেন মানে লেন ও দেন: লেন মানে নেওয়া, দেন মানে দেওয়া। দুটি পদের অর্থ উল্টো, তাই এটি বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস। একই ধরনের উদাহরণ আয়ব্যয়, দিনরাত, জমাখরচ।
প্রশ্নে নয় শব্দটা খেয়াল না করলে ভুল হয়: তিনটি সমার্থক উদাহরণের মাঝে একমাত্র বিপরীতার্থকটিই উত্তর।
মনে রাখুন: দুই পদের মাঝে "বনাম" বসানো গেলে বিপরীতার্থক (নেওয়া বনাম দেওয়া); "মানে" বসানো গেলে সমার্থক (ছাই মানে ভস্ম)।
২৯৭. নিচের কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কআশীবিষ
- খহাতেনাতে
- গকানাকানি
- ঘহাতেখড়ি
সঠিক উত্তর: গ. কানাকানি
ব্যতিহার বহুব্রীহিতে একই শব্দ দুবার বসে, আর বোঝায় দুই পক্ষের মধ্যে একই কাজ পরস্পর ঘটছে। ব্যাসবাক্যে দুই পদেই এ বিভক্তি থাকে, যেমন কানে কানে; আর সমাসবদ্ধ পদে প্রথম পদে আ আর দ্বিতীয় পদে ই যুক্ত হয়, যেমন কান আ, কান ই মিলে কানাকানি।
কানাকানি মানে কানে কানে যে কথা হয়। দুজন পরস্পরের কানে কথা বলছে, কাজটা দুই দিক থেকে ঘটছে। তাই এটি ব্যতিহার বহুব্রীহি। একই ধরনের উদাহরণ হাতাহাতি, লাঠালাঠি, কোলাকুলি, গলাগলি।
হাতেখড়ি দেখতে কাছাকাছি, কারণ এখানেও হাতে শব্দে এ বিভক্তি আছে। কিন্তু হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে, তাই এটি অলুক বহুব্রীহি; এখানে পরস্পর কিছু ঘটছে না। হাতেনাতে হলো হাতে ও নাতে, অলুক দ্বন্দ্ব।
আশীবিষ মানে আশীতে, অর্থাৎ দাঁতে, বিষ যার, মানে সাপ। এটি ব্যধিকরণ বহুব্রীহি। তাই একমাত্র কানাকানিতেই একই শব্দের পুনরাবৃত্তি আর পারস্পরিক কাজ দুটোই আছে।
মনে রাখুন: শব্দটা ভাঙলে একই শব্দ দুবার আসে এবং মারামারি-কানাকানির মতো দুজনের কাজ বোঝায়? তাহলেই ব্যতিহার বহুব্রীহি।
২৯৮. ‘সৌম্য’ শব্দের বিপরীত শব্দ কী? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কশীলিত
- খদুজন
- গউদ্ধত
- ঘউগ্র
সঠিক উত্তর: ঘ. উগ্র
সৌম্য মানে শান্ত, স্নিগ্ধ, কোমল ও প্রসন্ন চেহারা বা স্বভাব। এর বিপরীত হলো উগ্র, মানে প্রচণ্ড, রুক্ষ ও তীব্র। তাই সৌম্য আর উগ্র পরস্পর বিপরীত শব্দজোড়া।
শব্দের বিপরীত খুঁজতে আগে মূল অর্থটা ঠিক করুন। সৌম্যের কেন্দ্রীয় অর্থ শান্ত ও কোমল ভাব, তাই তার উল্টো হবে তীব্র বা রুক্ষ ভাব বোঝানো শব্দ।
উদ্ধত মানে অহংকারী বা অবিনয়ী; এর বিপরীত বিনীত, সৌম্য নয়। শীলিত মানে চর্চিত বা মার্জিত, যা সৌম্যের কাছাকাছি, উল্টো নয়। দুজন মানে দুই ব্যক্তি; ছাপার ভুলে দুর্জন বোঝানো হলে সেটা সুজনের বিপরীত।
ফাঁদ হলো উদ্ধত: রূঢ় স্বভাব বোঝায় বলে উগ্রের কাছাকাছি মনে হয়। কিন্তু উদ্ধতের মূল ভাব অহংকার, যার বিপরীত বিনয়।
মনে রাখুন: জোড়া মুখস্থ রাখুন: সৌম্য-উগ্র, উদ্ধত-বিনীত, সুজন-দুর্জন।
২৯৯. কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়— (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কআজাদ
- খসবুজপত্র
- গবিজলী
- ঘদৈনিক পূর্বকোণ
সঠিক উত্তর: গ. বিজলী
কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায়, ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি, বাংলা ১৩২৮ সালের ২২ পৌষ।
কবিতাটি প্রকাশের সাথে সাথেই ব্যাপক সাড়া ফেলে। একই সময়ে মাসিক মোসলেম ভারত পত্রিকার কার্তিক সংখ্যাতেও কবিতাটি ছাপা হয়, তবে সেই সংখ্যা বের হয়েছিল দেরিতে। পরে কবিতাটি অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থে ১৯২২ সালে সংকলিত হয়, আর এর জন্যই নজরুল বিদ্রোহী কবি নামে পরিচিত।
বাকি পত্রিকাগুলো অন্য কারণে বিখ্যাত। সবুজপত্র ১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত মাসিক, চলিত ভাষার পত্রিকা। দৈনিক আজাদ মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর পত্রিকা, ১৯৩৬ সালে প্রকাশ শুরু। দৈনিক পূর্বকোণ চট্টগ্রামের পত্রিকা, যা বিদ্রোহীর অনেক পরে প্রকাশিত হয়েছে।
মনে রাখুন: বিদ্রোহী বজ্রের মতো, তাই প্রথম ছাপা হয় বিজলীতে।
৩০০. কোন বানানটি শুদ্ধ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কব্যাকুল
- খব্যাকুল
- গব্যকূল
- ঘব্যকুল
সঠিক উত্তর: খ. ব্যাকুল
শুদ্ধ বানান ব্যাকুল: ব-এ য-ফলা, তারপর আ-কার, ক, আর তার নিচে হ্রস্ব উ-কার। শব্দটি তৎসম, গঠন বি উপসর্গ আর আকুল মিলে।
বি আর আকুল যুক্ত হলে সন্ধির নিয়মে ই-কার য-ফলা হয়ে যায়, আর আকুলের আ-টি থেকে যায়। তাই ব্যাকুল লিখতে য-ফলার পরে আ-কার অবশ্যই লাগবে। একই নিয়মে বি আর অবস্থা মিলে ব্যবস্থা, বি আর আপক মিলে ব্যাপক।
আকুল শব্দে কু-তে হ্রস্ব উ-কার, তাই ব্যাকুলেও হ্রস্ব উ-কার থাকবে। দীর্ঘ ঊ-কার দিয়ে ব্যকূল লেখা ভুল, আর আ-কার বাদ দিয়ে ব্যকুল লেখাও ভুল।
লক্ষ করুন, এখানে প্রথম ও দ্বিতীয় অপশন হুবহু একই বানানে ছাপা, তাই দুটোই শুদ্ধ। মূল প্রশ্নে সম্ভবত একটিতে ভিন্ন বানান ছিল।
মনে রাখুন: মূল শব্দ আকুল মনে রাখুন: আ আছে বলে ব্যা, কু-তে হ্রস্ব উ বলে ব্যাকুল।