বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ১৬
৩০১. ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ গানটির রচয়িতা কে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- ককাজী নজরুল ইসলাম
- খআবদুল গফফার চৌধুরী
- গনজরুল ইসলাম বাবু
- ঘআলতাফ মাহমুদ
সঠিক উত্তর: গ. নজরুল ইসলাম বাবু
সব কটা জানালা খুলে দাও না গানটির গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে লেখা এই দেশাত্মবোধক গানটি গেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন।
নজরুল ইসলাম বাবু জামালপুরের মানুষ, জন্ম ১৯৪৯ সালে, মৃত্যু ১৯৯০ সালে। তিনি দেশাত্মবোধক ও চলচ্চিত্রের গানের গীতিকার হিসেবে পরিচিত।
ফাঁদ হলো কাজী নজরুল ইসলাম: দুজনের নামে নজরুল ইসলাম আছে বলে অনেকে বিদ্রোহী কবিকে বেছে নেন। কিন্তু এই গানটি স্বাধীনতার পরের, কাজী নজরুলের নয়।
আবদুল গাফফার চৌধুরী লিখেছেন আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আর সেই গানের বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের গান বলে এই নামগুলোও বিভ্রান্তি তৈরি করে।
মনে রাখুন: নামের শেষে "বাবু" মনে রাখুন: জানালা খোলার গান নজরুল ইসলাম বাবুর, বিদ্রোহী কবির নয়।
৩০২. ‘দুনিয়া’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কফারসি
- খফরাসি
- গগুজরাটি
- ঘআরবি
সঠিক উত্তর: ঘ. আরবি
দুনিয়া শব্দটি আরবি থেকে বাংলায় এসেছে, মানে পৃথিবী বা জগৎ। মুসলিম শাসনামলে ধর্ম, প্রশাসন ও বিচারের সূত্রে বহু আরবি ও ফারসি শব্দ বাংলায় ঢুকেছে।
আরবি শব্দ চেনার একটা উপায় হলো বিষয়। ধর্ম ও বিশ্বাস সংক্রান্ত অনেক শব্দ আরবি: আল্লাহ, ঈমান, কিতাব, দুনিয়া, আখেরাত। আইন ও বিচারের কিছু শব্দও আরবি: আদালত, উকিল, মামলা।
ফাঁদ হলো ফারসি: আরবি আর ফারসি শব্দ একসাথে এসেছে বলে গুলিয়ে যায়। ফারসি শব্দের উদাহরণ খোদা, নামাজ, রোজা, দোকান, চশমা। ফরাসি থেকে এসেছে কার্তুজ, রেস্তোরাঁ; গুজরাটি থেকে খদ্দর, হরতাল।
মনে রাখুন: নামাজ-রোজা-খোদা ফারসি, আল্লাহ-ঈমান-দুনিয়া আরবি: ধর্মীয় শব্দের এই ভাগটা মুখস্থ রাখুন।
৩০৩. ‘উপজেলা’ শব্দটিতে ‘উপ’ পূর্বপদটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কসামীপ্য
- খআংশিক
- গসাদৃশ্য
- ঘছোট
সঠিক উত্তর: ঘ. ছোট
উপ একটি তৎসম উপসর্গ, যা শব্দের আগে বসে অনেক রকম অর্থ দেয়। কোন অর্থে বসেছে তা বোঝা যায় নতুন শব্দটা মূল শব্দের সাথে কী সম্পর্ক বোঝাচ্ছে তা দেখে।
উপজেলা হলো জেলার ভেতরের ছোট প্রশাসনিক একক। এটি জেলার কাছে নয়, জেলার মতোও নয়, বরং জেলার চেয়ে ছোট ও অধীন। তাই এখানে উপ ছোট বা ক্ষুদ্র অর্থে বসেছে, যেমন উপগ্রহ মানে ছোট গ্রহ, উপনদী মানে ছোট নদী, উপসাগর মানে ছোট সাগর।
অন্য অর্থগুলোর উদাহরণ আলাদা। সামীপ্য অর্থে উপকূল, মানে কূলের কাছে, আর উপকণ্ঠ। সাদৃশ্য অর্থে উপবন, মানে বনের মতো বাগান, আর উপদ্বীপ।
ফাঁদ হলো সাদৃশ্য: উপজেলায়ও জেলার মতো প্রশাসন আছে বলে অনেকে জেলার সদৃশ ভাবেন। কিন্তু উপজেলা জেলার অংশ ও তার চেয়ে ছোট; সাদৃশ্যের মূল কথা হলো আলাদা জিনিস কিন্তু দেখতে একই রকম।
মনে রাখুন: উপ-যুক্ত শব্দটি মূলের "চেয়ে ছোট অংশ" হলে ক্ষুদ্র অর্থ: উপজেলা, উপনদী, উপগ্রহ, উপসাগর।
৩০৪. গিরিসংকট’ শব্দের অর্থ কী? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কপর্বতের গিরি
- খপর্বত
- গপার্বত্য বন্ধুরতা
- ঘপাহাড় চূড়া
সঠিক উত্তর: গ. পার্বত্য বন্ধুরতা
প্রশ্নটা একটি তৎসম সমাসবদ্ধ শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছে। গিরিসংকট শব্দটি ভাঙলে পাই গিরি আর সংকট। গিরি মানে পাহাড় বা পর্বত, আর সংকট শব্দের মূল অর্থ বিপদ নয়, বরং সংকীর্ণ বা সরু জায়গা।
তাই গিরিসংকট মানে দুই পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে যাওয়া সরু, দুর্গম পথ, ইংরেজিতে যাকে mountain pass বলে। খাইবার গিরিপথ এর পরিচিত উদাহরণ।
অপশনগুলোর কোনোটি হুবহু এই অর্থ দেয় না। তবে পার্বত্য বন্ধুরতা মানে পাহাড়ি এলাকার উঁচুনিচু, দুর্গম অবস্থা, যা গিরিসংকটের ধারণার সবচেয়ে কাছে। তাই এটিই গ্রহণযোগ্য উত্তর।
ফাঁদ হলো গিরি শব্দটা দেখে পর্বত বা পাহাড় চূড়া বেছে নেওয়া। শব্দের দ্বিতীয় অংশ সংকট যে সরু পথের ভাব আনে, সেটা ভুলে গেলেই এই ভুল হয়।
মনে রাখুন: সংকট শব্দের মূল অর্থ ‘সংকীর্ণ স্থান’; তাই গিরিসংকট = গিরিপথ। একইভাবে গিরিকন্দর = পাহাড়ের গুহা, গিরিশৃঙ্গ = পাহাড়চূড়া।
৩০৫. `সত্য বই মিথ্যে বলবো না’ এখানে ‘বই’ শব্দটি কী? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কউপসর্গ
- খপাঠ্যঊন
- গপ্রত্যয়
- ঘঅনুসর্গ
সঠিক উত্তর: ঘ. অনুসর্গ
প্রশ্নটা অনুসর্গ চেনার। অনুসর্গ হলো সেই অব্যয় শব্দ, যা বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে আলাদা শব্দ হিসেবে বসে বিভক্তির মতো কাজ করে। যেমন দ্বারা, দিয়ে, থেকে, ছাড়া, বিনা, বই।
এখানে বই মানে পড়ার বই নয়। সত্য বই মিথ্যা বলব না মানে সত্য ছাড়া মিথ্যা বলব না। অর্থাৎ বই শব্দটি ছাড়া অর্থে সত্য শব্দের পরে আলাদাভাবে বসে সম্পর্ক তৈরি করছে, তাই এটি অনুসর্গ।
উপসর্গ আর প্রত্যয় কখনো আলাদা শব্দ হিসেবে বসে না। উপসর্গ শব্দের আগে জুড়ে যায়, যেমন প্র যোগে প্রভাত; প্রত্যয় ধাতু বা শব্দের শেষে জুড়ে যায়, যেমন পড় যোগে আ, পড়া।
ফাঁদ হলো বই শব্দটিকে বিশেষ্য ভেবে নেওয়া। বাক্যে অর্থ মিলিয়ে দেখলেই বোঝা যায়, এখানে বই মানে ছাড়া।
মনে রাখুন: বই, বিনা, ছাড়া, ব্যতীত, দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক, থেকে: শব্দের পরে আলাদা বসলে সবই অনুসর্গ।
৩০৬. ‘আপণ’ শব্দের অর্থ কী? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কনিজ
- খপরম আত্মীয়
- গদোকান
- ঘঅফিস
সঠিক উত্তর: গ. দোকান
প্রশ্নটা একটি তৎসম শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছে, যেখানে কাছাকাছি উচ্চারণের আরেকটি শব্দ ফাঁদ হিসেবে আছে।
আপণ শব্দে মূর্ধন্য ণ, এর অর্থ দোকান বা বিপণি। এখান থেকেই আপণিক মানে দোকানদার বা ব্যবসায়ী। বিপণি আর বিপণন শব্দেও একই মূল দেখা যায়।
অন্যদিকে দন্ত্য ন দিয়ে আপন মানে নিজ বা আত্মীয়। নিজ ও পরম আত্মীয় অপশন দুটি আসলে আপন শব্দের অর্থ, আপণের নয়।
তাই এই প্রশ্নে বানানের ণ আর ন এর পার্থক্যই আসল পরীক্ষা। উচ্চারণ এক হলেও বানান বদলালে অর্থ পুরো বদলে যায়।
মনে রাখুন: সমোচ্চারিত শব্দজোড়া মনে রাখুন: আপণ (দোকান) ও আপন (নিজ), দিন (দিবস) ও দীন (গরিব), শব (মৃতদেহ) ও সব (সকল)।
৩০৭. ‘ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে’- বাক্যটি কোন কালের? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কসাধারণ বর্তমান
- খপুরাঘটিত অতীত
- গনিত্যবৃত্ত বর্তমান
- ঘপুরাঘটিত বর্তমান
সঠিক উত্তর: ঘ. পুরাঘটিত বর্তমান
প্রশ্নটা ক্রিয়ার কাল চেনার। বাক্যের মূল ক্রিয়া হলো স্বাধীন হয়েছে। এই ক্রিয়ার রূপই কাল ঠিক করে দেয়।
পুরাঘটিত বর্তমান কাল বোঝায়, কাজটি অতীতে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো বর্তমান। ক্রিয়ার শেষে এছে, য়েছে যুক্ত হয়, যেমন করেছে, গিয়েছে, হয়েছে।
বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয়েছে, আর সেই স্বাধীনতা আজও বহাল। কাজ শেষ, ফল চলমান, তাই এটি পুরাঘটিত বর্তমান।
ফাঁদ হলো ঘটনাটি অনেক পুরোনো বলে পুরাঘটিত অতীত ধরা। পুরাঘটিত অতীতে ক্রিয়ার রূপ হতো হয়েছিল; এখানে হয়েছে, তাই বর্তমান।
মনে রাখুন: ক্রিয়ার শেষে ‘-য়েছে/-এছে’ দেখলে পুরাঘটিত বর্তমান, ‘-য়েছিল/-এছিল’ দেখলে পুরাঘটিত অতীত।
৩০৮. ‘ভূত’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কপেত্নী
- খভবিষ্যৎ
- গভয়
- ঘনির্ভীক
সঠিক উত্তর: খ. ভবিষ্যৎ
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দের, আর এর ফাঁদ হলো ভূত শব্দের একাধিক অর্থ। বাংলায় ভূত মানে প্রেতাত্মা যেমন, তেমনই অতীত বা যা হয়ে গেছে।
ব্যাকরণ ও কালের প্রসঙ্গে ভূত মানে অতীত, যেমন ভূতকাল বা ভূতপূর্ব। অতীতের বিপরীত হলো ভবিষ্যৎ। তাই ভূত শব্দের বিপরীত শব্দ ভবিষ্যৎ।
প্রেতাত্মা অর্থে ভূতের কোনো বিপরীত শব্দ হয় না। পেত্নী হলো স্ত্রী প্রেত, বিপরীত নয়; আর ভয় ও নির্ভীক শুধু ভাবনার সূত্রে ভূতের সঙ্গে জড়ানো শব্দ, বিপরীত অর্থের নয়।
এ ধরনের প্রশ্নে শব্দের তৎসম, শাস্ত্রীয় অর্থ ধরে ভাবতে হয়। ভূত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ: তিন কালের জোড়া মনে রাখলেই উত্তর সহজ।
মনে রাখুন: ভূতপূর্ব = আগে যা ছিল; ভূতকাল = অতীত কাল। ভূত দেখলে অতীত ভাবুন, বিপরীত হবে ভবিষ্যৎ।
৩০৯. ‘তার বয়স হলেও বুদ্ধি হয়নি’ - কোন ধরনের বাক্য? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কসরল
- খজটিল
- গযৌগিক
- ঘমিশ্র
সঠিক উত্তর: ক. সরল
প্রশ্নটা গঠন অনুযায়ী বাক্য চেনার। সরল বাক্যে একটিই সমাপিকা ক্রিয়া থাকে। জটিল বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকে, যেমন যে, যদি, যখন দিয়ে। যৌগিক বাক্যে দুটি স্বাধীন বাক্য এবং, কিন্তু, তবু দিয়ে জোড়া থাকে।
তার বয়স হলেও বুদ্ধি হয়নি বাক্যে হলেও হলো অসমাপিকা ক্রিয়া, এটি একা বাক্য শেষ করতে পারে না। একমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া হলো হয়নি। তাই এটি সরল বাক্য।
এর যৌগিক রূপ হবে: তার বয়স হয়েছে, কিন্তু বুদ্ধি হয়নি। জটিল রূপ হবে: যদিও তার বয়স হয়েছে, তবু বুদ্ধি হয়নি।
ফাঁদ হলো হলেও দেখে দুটি অংশ মনে করে যৌগিক বা জটিল ধরা। গুনে দেখুন সমাপিকা ক্রিয়া কয়টি; একটি হলেই সরল। আর মিশ্র বাক্য বলে আলাদা প্রকার নেই, এটি জটিল বাক্যেরই আরেক নাম।
মনে রাখুন: অসমাপিকা ক্রিয়া (করে, হলে, হলেও, গিয়ে) দিয়ে জোড়া অংশ থাকলে বাক্য সরল; এবং/কিন্তু থাকলে যৌগিক; যদি/যদিও/যে থাকলে জটিল।
৩১০. মৃত্যুঞ্জয়’ শব্দটির সন্ধিবিচ্ছেদ কী? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কমৃতঃ+জয়
- খমৃত্যুম্+জয়
- গমৃত্যুঃ+জয়
- ঘমৃত+ জয়
সঠিক উত্তর: খ. মৃত্যুম্+জয়
মৃত্যুঞ্জয় শব্দটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। এর বিচ্ছেদ মৃত্যুম্ যোগ জয়।
নিয়মটি হলো: ম্ এর পরে কোনো বর্গীয় ব্যঞ্জন, মানে ক থেকে ম পর্যন্ত কোনো বর্ণ এলে, ম্ বদলে যায় পরের বর্ণটির বর্গের পঞ্চম বর্ণে, মানে সেই বর্গের নাসিক্য বর্ণে। জ হলো চ-বর্গের বর্ণ, আর চ-বর্গের পঞ্চম বর্ণ ঞ। তাই ম্ হয়ে যায় ঞ্, আর জ এর সঙ্গে মিলে হয় ঞ্জ।
একই নিয়মে সম্ যোগ চয় হয় সঞ্চয়, শম্ যোগ কর হয় শঙ্কর, সম্ যোগ তাপ হয় সন্তাপ, আর ধনম্ যোগ জয় হয় ধনঞ্জয়।
মৃত্যুঃ যোগ জয় অপশনটি বিসর্গসন্ধির মতো দেখায় বলে ফাঁদ; কিন্তু বিসর্গ থেকে কখনো ঞ তৈরি হয় না। ঞ্জ দেখলেই বুঝবেন পেছনে ম্ আছে।
মনে রাখুন: যুক্তবর্ণে ঙ্ক, ঞ্চ, ঞ্জ, ন্ত দেখলে বিচ্ছেদে প্রথম পদ সাধারণত ম্ দিয়ে শেষ হয়: শম্+কর, সম্+চয়, ধনম্+জয়।
৩১১. ‘ভূষন্ডির কাক’ বাগধারাটির সঠিক অর্থ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- ককপটচারী
- খদীর্ঘজীবী
- গচির অশান্তি
- ঘউভয় সংকট
সঠিক উত্তর: খ. দীর্ঘজীবী
ভূষণ্ডির কাক বাগ্ধারার অর্থ দীর্ঘজীবী, মানে যে মানুষ অনেক বছর ধরে বেঁচে আছেন। শুদ্ধ বানানে মূর্ধন্য ণ: ভূষণ্ডি, কারণ ট-বর্গের ড এর আগে ণত্ব বিধানে ণ বসে।
পৌরাণিক কাহিনিতে ভুশুণ্ডি নামের এক কাকের কথা আছে, যে যুগের পর যুগ বেঁচে থেকে বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বলে কথিত। সেখান থেকেই অনেক দিন বেঁচে থাকা মানুষকে বলা হয় ভূষণ্ডির কাক। যেমন: গ্রামের ওই বৃদ্ধ যেন ভূষণ্ডির কাক, তিন প্রজন্মের ইতিহাস তাঁর মুখস্থ।
অন্য অর্থগুলোর জন্য আলাদা বাগ্ধারা আছে: কপটচারী বোঝাতে বিড়াল তপস্বী, উভয় সংকট বোঝাতে শাঁখের করাত, আর চির অশান্তি বোঝাতে রাবণের চিতা।
কাক শুনে অনেকে ধূর্ত বা কপট অর্থ ধরে নেন; কিন্তু এখানে কাকের বৈশিষ্ট্য তার দীর্ঘ আয়ু।
মনে রাখুন: অপশনের প্রতিটি অর্থের জন্য একটি করে বাগ্ধারা মনে করুন; যেটি মেলে না, বাদ দিন।
৩১২. ‘কাছা ঢিলা’ বাগধারাটির সঠিক অর্থ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কনির্জীব
- খসহজেই বিশ্বাসপ্রবণ
- গঅসাবধান
- ঘসামান্য
সঠিক উত্তর: গ. অসাবধান
কাছা ঢিলা বাগ্ধারার অর্থ অসাবধান বা অগোছালো। একই অর্থে কাছা আলগাও বলা হয়।
ধুতি পরার সময় পেছনে গুঁজে রাখা অংশকে কাছা বলে। কাছা ঢিলা থাকলে যেকোনো সময় খুলে যেতে পারে; যে মানুষ এমনভাবে চলেন, তিনি নিজের ব্যাপারে খেয়াল রাখেন না। সেখান থেকেই অর্থ দাঁড়িয়েছে অসাবধান। যেমন: ছেলেটা এমন কাছা ঢিলা যে প্রায়ই মানিব্যাগ হারায়।
সহজেই বিশ্বাসপ্রবণ বোঝাতে আলাদা বাগ্ধারা আছে: কান পাতলা। ঢিলা শব্দ থেকে নির্জীব বা দুর্বল অর্থ ভেবে নেওয়া এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: শরীর বা পোশাকের অংশ দিয়ে তৈরি বাগ্ধারা (কাছা ঢিলা, কান পাতলা) সাধারণত স্বভাব বোঝায়।
৩১৩. ‘অহি’ শব্দটির সমার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কআগুন
- খজাল
- গগিরি
- ঘসাপ
সঠিক উত্তর: ঘ. সাপ
অহি একটি তৎসম শব্দ, এর অর্থ সাপ। তাই অহি এর সমার্থক শব্দ সাপ।
সাপের আরও কয়েকটি সমার্থক শব্দ পরীক্ষায় বারবার আসে: সর্প, ভুজঙ্গ, উরগ, নাগ, ফণী, আশীবিষ। সাপে-নেউলে সম্পর্ক বোঝাতে যে অহিনকুল শব্দ, সেখানেও অহি মানে সাপ।
অন্য অপশনগুলোর সমার্থক শব্দ আলাদা: আগুনের অনল, বহ্নি, পাবক; পাহাড়ের গিরি, শৈল, অচল। গিরি নিজেই পাহাড়ের সমার্থক, অহির নয়।
অহি আর অহ শব্দ গুলিয়ে ফেলার ঝুঁকি আছে; অহ মানে দিন, যেমন অহরহ বা পূর্বাহ্ণ।
মনে রাখুন: অহিনকুল (সাপে-নেউলে) শব্দটি মনে রাখলে অহি মানে সাপ ভুলবেন না।
৩১৪. নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা উপন্যাস? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কপঞ্চগ্রাম
- খচার-ইয়ারী কথা
- গচতুষ্কোণ
- ঘচতুরঙ্গ
সঠিক উত্তর: ঘ. চতুরঙ্গ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস চতুরঙ্গ, প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে। শচীশ, দামিনী আর শ্রীবিলাসকে ঘিরে লেখা এই উপন্যাসের চারটি অংশ: জ্যাঠামশায়, শচীশ, দামিনী আর শ্রীবিলাস; চার অংশ বলেই নাম চতুরঙ্গ।
রবীন্দ্রনাথের অন্য পরিচিত উপন্যাস: চোখের বালি, নৌকাডুবি, গোরা, ঘরে বাইরে, যোগাযোগ, শেষের কবিতা আর চার অধ্যায়।
বাকি তিনটি বই অন্য লেখকের। পঞ্চগ্রাম তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস, চার-ইয়ারী কথা প্রমথ চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ, আর চতুষ্কোণ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস।
সব অপশনেই সংখ্যাবাচক শব্দ, তাই চতুষ্কোণ আর চতুরঙ্গ গুলিয়ে যায়; মনে রাখুন রবীন্দ্রনাথের চার দিয়ে দুটি উপন্যাস: চতুরঙ্গ আর চার অধ্যায়।
মনে রাখুন: রবীন্দ্রনাথের চার দিয়ে দুই উপন্যাস: চতুরঙ্গ ও চার অধ্যায়।
৩১৫. ‘কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল’ এই বাক্যে ‘কাননে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- ককর্মে ৭মী
- খঅপাদানে ৭মী
- গঅধিকরণে ৭মী
- ঘকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর: গ. অধিকরণে ৭মী
ক্রিয়া যেখানে, যখন বা যে বিষয়ে ঘটে, সেই স্থান, কাল বা বিষয়কে বলে অধিকরণ কারক। কারক চেনার সহজ উপায় হলো ক্রিয়াকে প্রশ্ন করা।
এখানে ক্রিয়া ফুটিল। প্রশ্ন করি: কোথায় ফুটিল? উত্তর কাননে, মানে বনে। তাই কাননে হলো ক্রিয়ার স্থান বা আধার, অর্থাৎ অধিকরণ কারক।
কানন শব্দের সঙ্গে এ বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। এ, য়, তে, এতে বিভক্তি সপ্তমী বিভক্তি। তাই উত্তর অধিকরণে সপ্তমী।
এ বিভক্তি দেখে অনেকে করণ বা কর্ম কারক ধরে নেন, কারণ এ বিভক্তি অন্য কারকেও বসে। বিভক্তি নয়, ক্রিয়াকে প্রশ্ন করে কারক ঠিক করুন: কোথায় বা কখন হলে অধিকরণ।
মনে রাখুন: ক্রিয়াকে কোথায় বা কখন প্রশ্ন করলে যে উত্তর, সেটিই অধিকরণ; যেমন বনে বাঘ আছে, প্রভাতে সূর্য ওঠে।
৩১৬. ‘সমুদ্র’ শব্দটির প্রতিশব্দটি কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কজলদ
- খশর্বরী
- গজলধি
- ঘস্রোতস্বতী
সঠিক উত্তর: গ. জলধি
সমুদ্রের প্রতিশব্দ জলধি। জল ধারণ করে যে, সে জলধি; ধি অংশটি ধারণ অর্থ বহন করে। একই অর্থে বারিধি, পয়োধি, অম্বুধি, সাগর, পারাবার, রত্নাকর ও সিন্ধুও বলা হয়।
জলদ শব্দটি দেখতে কাছাকাছি হলেও অর্থ মেঘ, কারণ যে জল দেয় সে জলদ। জলধি জল ধরে রাখে, জলদ জল দেয়: এই পার্থক্যটাই প্রশ্নের মূল ফাঁদ।
শর্বরী মানে রাত, যেমন রজনী বা যামিনী। স্রোতস্বতী মানে নদী, যেমন তটিনী বা তরঙ্গিণী।
মনে রাখুন: শেষে -ধি থাকলে সাধারণত সমুদ্র (জলধি, বারিধি, পয়োধি); শেষে -দ থাকলে সাধারণত মেঘ (জলদ, নীরদ, বারিদ)।
৩১৭. ‘আলো’ শব্দটির প্রতিশব্দটি নয় কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কময়ূখ
- খরওশন
- গভাতি
- ঘতমিস্র
সঠিক উত্তর: ঘ. তমিস্র
প্রশ্নটা জানতে চায় কোনটি আলোর প্রতিশব্দ নয়। তমিস্র মানে অন্ধকার, আলোর ঠিক বিপরীত; তাই এটিই উত্তর। তমিস্রা বলতে অন্ধকার রাতও বোঝায়।
বাকি তিনটিই আলোর সমার্থক। ময়ূখ মানে কিরণ বা রশ্মি, ভাতি মানে দীপ্তি বা আলো, আর রওশন ফারসি থেকে আসা শব্দ, অর্থ আলো বা উজ্জ্বলতা।
আলোর আরও প্রতিশব্দ: জ্যোতি, প্রভা, দ্যুতি, আভা, নূর। অন্ধকারের প্রতিশব্দ: তমঃ, তিমির, আঁধার, তমিস্র।
তম বা তিমির থেকে আসা শব্দ মানেই অন্ধকার; এই সূত্র মনে রাখলে তমিস্রকে আলো ভাবার ভুল হবে না। আর রওশন শব্দটি বিদেশি বলে অনেকে একে বাদ দিতে চান, কিন্তু এর অর্থ আলোই।
মনে রাখুন: তম-, তিমির-, তমিস্র- দিয়ে শুরু শব্দ অন্ধকারের দলে।
৩১৮. ‘আকাশনীলা’ কাব্য কার লেখা? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- ককাজী নজরুল ইসলাম
- খআল মাহমুদ
- গজীবনানন্দ দাশ
- ঘশামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর: গ. জীবনানন্দ দাশ
প্রশ্নে আকাশনীলা লেখা, তবে আসল নাম আকাশলীনা। এটি জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কবিতা, সুরঞ্জনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি: এই চরণ দিয়ে শুরু। কবিতাটি তাঁর সাতটি তারার তিমির কাব্যগ্রন্থে আছে।
জীবনানন্দ দাশকে বলা হয় রূপসী বাংলার কবি, আর বুদ্ধদেব বসু তাঁকে নির্জনতম কবি বলেছিলেন। তাঁর প্রধান কাব্য: ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির আর রূপসী বাংলা।
অন্য তিন কবির পরিচিত কাব্য: কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা, আল মাহমুদের সোনালী কাবিন, শামসুর রাহমানের বন্দী শিবির থেকে।
আকাশ শব্দ দেখে অনেকে প্রকৃতির কবি হিসেবে অন্য কাউকে ভাবেন; কিন্তু সুরঞ্জনা নামটি মনে পড়লেই জীবনানন্দ।
মনে রাখুন: সুরঞ্জনা, বনলতা সেন, শঙ্খমালা: নারী-নামের কবিতা মানেই জীবনানন্দ।
৩১৯. ‘মেঘের মত নাদ যার’ কোন সমাস? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কসমানাধিকার বহুব্রীহি
- খমধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
- গব্যধিকরণ বহুব্রীহি
- ঘব্যতিহার বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর: খ. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
মেঘের মতো নাদ যার, এই ব্যাসবাক্যের সমস্তপদ মেঘনাদ, মানে রাবণের পুত্র ইন্দ্রজিৎ। সমাসটি মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি।
বহুব্রীহি, কারণ সমস্তপদ মেঘ বা নাদ কোনোটিকেই বোঝায় না, বোঝায় তৃতীয় একজনকে, যার গর্জন মেঘের মতো। আর মধ্যপদলোপী, কারণ ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ মতো লোপ পেয়েছে: মেঘের মতো নাদ থেকে শুধু মেঘ আর নাদ থেকে গেছে।
একই রকম উদাহরণ: বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর, সে বিড়ালচোখী; চাঁদের মতো মুখ যার, সে চাঁদমুখ।
সমানাধিকরণ বহুব্রীহিতে পূর্বপদ বিশেষণ থাকে, যেমন নীল কণ্ঠ যার, নীলকণ্ঠ। ব্যধিকরণে দুটি পদই বিশেষ্য, কিন্তু মাঝে কিছু লোপ পায় না, যেমন আশীতে বিষ যার, আশীবিষ। ব্যতিহারে পারস্পরিক ক্রিয়া বোঝায়, যেমন লাঠালাঠি। মেঘ আর নাদ দুটোই বিশেষ্য বলে ব্যধিকরণ ভাবা এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে মতো বা ন্যায় থেকে শেষে যার থাকলে, এবং সমস্তপদে মতো নেই, তবে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি।
৩২০. ‘এক থেকে আরম্ভ করে’ বাক্যটির সংকুচিত রূপ কী? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কএকাদিক্রমে
- খঅধিক
- গএকাধিক
- ঘবহু
সঠিক উত্তর: ক. একাদিক্রমে
প্রশ্নটি বাক্য সংকোচন বা এক কথায় প্রকাশের। “এক থেকে আরম্ভ করে” একটানা পরপর চলা বোঝাতে একটি শব্দ আছে: একাদিক্রমে।
শব্দটি গড়া হয়েছে এক, আদি আর ক্রম মিলিয়ে। এক যার আদি বা শুরু, সেই ক্রম অনুসারে; তাই একাদিক্রমে মানে প্রথম থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে। যেমন: তিনি একাদিক্রমে দশ বছর এই পদে ছিলেন।
এখানে এক আর আদি মিলে স্বরসন্ধিতে হয় একাদি, অ আর আ মিলে আ-কার। তারপর ক্রম যুক্ত হয়ে একাদিক্রম, সঙ্গে এ বিভক্তি।
ফাঁদ হলো একাধিক। নামে মিল থাকলেও একাধিক মানে একের বেশি, অর্থাৎ সংখ্যার কথা; শুরু থেকে পরপর চলার কথা নয়।
মনে রাখুন: একাধিক = একের বেশি; একাদিক্রমে = এক থেকে শুরু করে পরপর। আদি মানে শুরু, অধিক মানে বেশি।