বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ২০
৩৮১. নিচের যেটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ - (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কমৌমাছি
- খভ্রাতৃস্নেহ
- গস্বর্ণসৌধ
- ঘদ্রুতগামী
সঠিক উত্তর: ক. মৌমাছি
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদটি লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় বলে। যেমন সিংহ চিহ্নিত আসন থেকে সিংহাসন, এখানে মাঝের চিহ্নিত শব্দটি বাদ গেছে।
মৌমাছির ব্যাসবাক্য: মৌ আশ্রিত মাছি, বা মৌ সংগ্রহকারী মাছি। মাঝের আশ্রিত বা সংগ্রহকারী পদটি লোপ পেয়ে হয়েছে মৌমাছি। পাঠ্যবইয়ে এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয়ের প্রচলিত উদাহরণ।
ভ্রাতৃস্নেহ হলো ভ্রাতার প্রতি স্নেহ, অর্থাৎ ষষ্ঠী তৎপুরুষ। দ্রুতগামী মানে দ্রুত গমন করে যে, এটি উপপদ তৎপুরুষ।
সতর্কতা: স্বর্ণসৌধকে স্বর্ণ নির্মিত সৌধ ধরলে সেটিও একই ধরনের সমাস হয়, যেমন স্বর্ণাঙ্গুরীয়। তবে পরীক্ষায় প্রত্যাশিত উত্তর মৌমাছি।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে ‘মিশ্রিত, আশ্রিত, নির্মিত, চিহ্নিত’ জাতীয় শব্দ মাঝখানে থাকলে মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।
৩৮২. ’ব্যঞ্জনা’ শব্দে ’ন’ স্বাভাবিক উচ্চারণ স্থান পাল্টে হয়- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কদন্তমূলীয়
- খপ্রতিবেষ্টিত
- গতালব্য
- ঘজিহ্বমূলীয়
সঠিক উত্তর: ক. দন্তমূলীয়
প্রশ্নটি ধ্বনির উচ্চারণ স্থান নিয়ে। ব্যঞ্জনা শব্দে নাসিক্য ধ্বনিটি লেখা হয় ঞ দিয়ে, যা বর্ণমালায় চ-বর্গের বা তালব্য বর্ণ। প্রশ্নে এই নাসিক্য ধ্বনিটিকেই ন বলা হয়েছে।
কিন্তু প্রমিত বাংলা উচ্চারণে চ, ছ, জ, ঝ এর আগে যুক্ত ঞ আসলে উচ্চারিত হয় ন এর মতো। তাই ব্যঞ্জনা উচ্চারণ হয় ব্যান্জোনা ধরনের। অঞ্চল, অঞ্জন, পঞ্চম শব্দেও একই ঘটনা।
বাংলায় ন এর উচ্চারণ স্থান দন্তমূল, অর্থাৎ ওপরের দাঁতের গোড়া। লেখায় তালব্য ঞ থাকলেও উচ্চারণ স্থান পাল্টে দন্তমূলীয় হয়ে যায়, তাই উত্তর দন্তমূলীয়।
তালব্য বিকল্পটি ফাঁদ: লেখা ঞ তালব্য বর্ণ বলে অনেকে তালব্য বেছে নেন, কিন্তু প্রশ্ন জানতে চেয়েছে বদলে যাওয়া উচ্চারণ স্থান।
মনে রাখুন: ঞ্চ, ঞ্জ যুক্তবর্ণে ঞ পড়া হয় ন এর মতো, অর্থাৎ দন্তমূলীয়।
৩৮৩. অন্যোন্য সমীভবনের একটি দৃষ্টান্ত হলো- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কবড্ড
- খউচ্ছ্বাস
- গবিলিতি
- ঘBey
সঠিক উত্তর: খ. উচ্ছ্বাস
সমীভবন মানে পাশাপাশি থাকা দুটি ভিন্ন ব্যঞ্জনধ্বনি একে অপরের প্রভাবে এক রকম বা কাছাকাছি হয়ে যাওয়া। এর তিন ভাগ: প্রগত, পরাগত আর অন্যোন্য।
প্রগত সমীভবনে আগের ধ্বনি পরের ধ্বনিকে বদলায়, যেমন পদ্ম থেকে পদ্দ। পরাগত সমীভবনে পরের ধ্বনি আগেরটিকে বদলায়, যেমন তৎ ও জন্য মিলে তজ্জন্য।
অন্যোন্য বা পারস্পরিক সমীভবনে দুটি ধ্বনিই একে অপরের প্রভাবে বদলে যায়। পাঠ্যবইয়ের উদাহরণ: সত্য থেকে সচ্চ, বিদ্যা থেকে বিজ্জা। উৎ ও শ্বাস মিলে উচ্ছ্বাস হওয়ার সময়ও ত বদলে চ হয় আর শ বদলে ছ হয়; দুটিই বদলায় বলে এটি অন্যোন্য সমীভবনের দৃষ্টান্ত।
বিলিতি শব্দে বদল ঘটেছে স্বরধ্বনিতে, বিলাতি থেকে বিলিতি; এটি স্বরসঙ্গতি, সমীভবন নয়।
মনে রাখুন: ‘অন্যোন্য’ মানে পরস্পর: দুই ধ্বনিই বদলালে অন্যোন্য সমীভবন।
৩৮৪. ক্রিয়ার দ্বিরুক্তি যোগে গঠিত বিশেষণের দৃষ্টান্ত হলো- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কডেকে ডেকে
- খবারে বারে
- গযায় যায়
- ঘদেখতে দেখতে
সঠিক উত্তর: গ. যায় যায়
একই শব্দ দুবার বসলে তাকে দ্বিরুক্তি বলে। ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি বাক্যে কখনো বিশেষণ, কখনো ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। বিশেষণ হলে তা কোনো বিশেষ্যের দোষ, গুণ বা অবস্থা বোঝায়।
যায় যায় এর প্রয়োগ: রোগীর যায় যায় অবস্থা। এখানে যায় যায় অবস্থা নামের বিশেষ্যকে বিশেষিত করছে, তাই এটি বিশেষণ। এ রকম আরেকটি: তার মরো মরো অবস্থা।
ডেকে ডেকে আর দেখতে দেখতে বাক্যে ক্রিয়ার ধরন বা সময় বোঝায়, যেমন ডেকে ডেকে হয়রান হলাম, দেখতে দেখতে বছর গেল। এগুলো ক্রিয়াবিশেষণ। আর বারে বারে ক্রিয়া নয়, বার নামক বিশেষ্যের দ্বিরুক্তি।
ক্রিয়াপদ দেখে অনেকে ডেকে ডেকে বা দেখতে দেখতে বেছে নেন; পরীক্ষা করুন পদটি বিশেষ্যকে বিশেষিত করছে, নাকি ক্রিয়াকে।
মনে রাখুন: দ্বিরুক্তির পরে বিশেষ্য (অবস্থা, ভাব) থাকলে বিশেষণ; পরে ক্রিয়া থাকলে ক্রিয়াবিশেষণ।
৩৮৫. মীর মশাররফ হোসেনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয় যে ধরনের সাহিত্যকর্ম (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কপ্রহসন
- খউপন্যাস
- গট্রাজেডি
- ঘপ্রবন্ধ
সঠিক উত্তর: গ. ট্রাজেডি
মীর মশাররফ হোসেন উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ। তিনি উপন্যাস, নাটক, প্রহসন ও প্রবন্ধ, সব ধারাতেই লিখেছেন।
তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস বিষাদ-সিন্ধু, কারবালার কাহিনি নিয়ে লেখা। প্রহসনের মধ্যে আছে এর উপায় কি এবং ভাই ভাই এইত চাই। প্রবন্ধগ্রন্থ গো-জীবন, আর নাটক জমীদার দর্পণ ও বসন্তকুমারী নাটক।
ট্রাজেডি হিসেবে আলাদা কোনো রচনার জন্য তিনি পরিচিত নন। বাংলা ট্রাজেডি নাটক বলতে সাধারণত মাইকেল মধুসূদন দত্তের কৃষ্ণকুমারী নাটককে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি ধরা হয়।
বিষাদ-সিন্ধু করুণ রসের বলে অনেকে ট্রাজেডি ভেবে ভুল করেন, কিন্তু সেটি উপন্যাস, নাটক নয়।
মনে রাখুন: মশাররফ = বিষাদ-সিন্ধু (উপন্যাস), জমীদার দর্পণ (নাটক), গো-জীবন (প্রবন্ধ), এর উপায় কি (প্রহসন)।
৩৮৬. ‘যাচ্ঞা’ এর ধাতু অংশ হলো- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- ক√ যাচ্
- খ√যাঞ
- গ√যা
- ঘ√যাচা
সঠিক উত্তর: ক. √ যাচ্
যাচ্ঞা মানে প্রার্থনা বা চাওয়া। শব্দটি গঠিত হয়েছে যাচ্ ধাতুর সাথে না প্রত্যয় যোগে, যার অর্থ চাওয়া।
যাচ্ আর না পাশাপাশি বসলে ন বদলে ঞ হয়ে যায়, কারণ চ তালব্য বর্ণ, আর তার পরের নাসিক্যও তালব্য ঞ রূপ নেয়। তাই যাচ্ ও না থেকে হয় যাচ্ঞা। একই ধাতু থেকে আসে যাচক, অযাচিত, যাচাই।
√যাঞ বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ শব্দে ঞ চোখে পড়ে; কিন্তু ঞ এসেছে প্রত্যয়ের ন থেকে, ধাতুর অংশ নয়।
মনে রাখুন: একই ধাতুর অন্য শব্দ মনে করুন: যাচক, অযাচিত; সবখানে ‘যাচ্’।
৩৮৭. ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাহিত্য সাময়িকী ‘ প্রগতি’র অন্যতম সম্পাদক ছিলেন- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কনরেশ সেনগুপ্ত
- খবুদ্ধদেব বসু
- গআশুতোষ ভট্টাচার্য
- ঘমনীশ ঘটক
সঠিক উত্তর: খ. বুদ্ধদেব বসু
প্রগতি পত্রিকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। এর যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিত কুমার দত্ত, তখন দুজনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
কলকাতার কল্লোল পত্রিকার মতো প্রগতিও রবীন্দ্র-প্রভাবমুক্ত আধুনিক সাহিত্যের মুখপত্র ছিল। পরে বুদ্ধদেব বসু কলকাতা থেকে কবিতা পত্রিকা সম্পাদনা করেন, যা আধুনিক বাংলা কবিতার গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা।
অন্য নামগুলো একই যুগের লেখক বা গবেষক, তাই বিভ্রান্তি তৈরি করে। মনীশ ঘটক কল্লোল যুগের কবি, আর আশুতোষ ভট্টাচার্য লোকসাহিত্যের গবেষক।
মনে রাখুন: বুদ্ধদেব বসুর দুই পত্রিকা: ঢাকায় প্রগতি, কলকাতায় কবিতা।
৩৮৮. ডাক ও খনার বচনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো - (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কছন্দ-বৈচিত্র্য
- খহাস্যরস
- গবিদেশী শব্দের আধিক্য
- ঘভণিতার উপস্থিতি
সঠিক উত্তর: ঘ. ভণিতার উপস্থিতি
ডাক ও খনার বচন বাংলা লোকসাহিত্যের প্রাচীন ধারা। এগুলো ছোট ছড়ার মতো উক্তি, যাতে কৃষি, আবহাওয়া, জ্যোতিষ আর দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান রয়েছে।
এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ভণিতা, অর্থাৎ রচয়িতার নাম যুক্ত করা। বচনের শেষে প্রায়ই থাকে কহে ডাক বা বলে খনা, এভাবে বক্তার নাম জানিয়ে দেওয়া হয়। মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য ও পদাবলিতেও ভণিতার রীতি দেখা যায়।
খনার একটি পরিচিত বচন: যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্য রাজার পুণ্য দেশ। বচনগুলো সরল ছন্দে লেখা, তবে ছন্দের বৈচিত্র্য বা হাস্যরস এদের মূল বৈশিষ্ট্য নয়, আর বিদেশি শব্দও প্রায় নেই।
মনে রাখুন: রচয়িতার নাম রচনার ভেতরে থাকলে তাকে ভণিতা বলে; ডাক-খনা, চর্যাপদ, মঙ্গলকাব্য সবখানেই আছে।
৩৮৯. নিচের যে গুচ্ছে কোনো অপপ্রয়োগ ঘটেনি- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কঅধীন, অজ্ঞানতা
- খতনুদেহ, পান্তাভাত
- গসমসাময়িক কালে, জন্মবার্ষিক
- ঘভাষী ও সবান্ধব
সঠিক উত্তর: ঘ. ভাষী ও সবান্ধব
অপপ্রয়োগ মানে শব্দের ভুল ব্যবহার। এর দুটি সাধারণ রূপ: ভুল শব্দগঠন, আর বাহুল্য দোষ, অর্থাৎ একই অর্থের শব্দ দুবার ব্যবহার।
অধীন শব্দটি ঠিক, কিন্তু অজ্ঞানতা ভুল; শুদ্ধ রূপ অজ্ঞতা বা অজ্ঞান। তনু মানেই দেহ, তাই তনুদেহ বাহুল্য; পান্তা মানেই পানিতে ভেজানো ভাত, তাই পান্তাভাতও বাহুল্য।
সমসাময়িক মানেই একই কালের, তাই সমসাময়িক কালে বাহুল্য। আর বার্ষিক বিশেষণ, বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান বোঝাতে শুদ্ধ রূপ জন্মবার্ষিকী।
শেষ গুচ্ছের ভাষী, যেমন বাংলাভাষী, এবং সবান্ধব, অর্থাৎ বন্ধুসহ, দুটিই শুদ্ধ। তাই এই গুচ্ছে কোনো অপপ্রয়োগ নেই। পান্তাভাত মুখের ভাষায় এত চলে যে অনেকে একে শুদ্ধ ভাবেন, এটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: দুই শব্দের একটি অন্যটির অর্থ ধারণ করলে বাহুল্য: তনুদেহ, সমসাময়িক কালে, অশ্রুজল।
৩৯০. নিচের যে শব্দটি আঞ্চলিক প্রভাবিত নয়- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- ককাটারি
- খখপর
- গমেয়া
- ঘএর্কি
সঠিক উত্তর: ক. কাটারি
প্রশ্নটি জানতে চায় কোন শব্দটি প্রমিত বাংলা, অর্থাৎ আঞ্চলিক উচ্চারণের প্রভাবে বদলে যায়নি।
কাটারি প্রমিত বাংলা শব্দ, মানে ছোট দা বা কাটার অস্ত্র। অভিধানে এই রূপেই আছে, তাই এটি আঞ্চলিক প্রভাবিত নয়।
বাকি তিনটি প্রমিত শব্দের আঞ্চলিক রূপ। খপর এসেছে খবর থেকে, ব বদলে প হয়েছে। মেয়া এসেছে মিয়া থেকে, আর এর্কি হলো ইয়ার্কির আঞ্চলিক উচ্চারণ।
প্রতিটি শব্দের পাশে তার প্রমিত রূপ বসিয়ে দেখলেই উত্তর পাওয়া যায়; যে শব্দের আলাদা প্রমিত রূপ নেই, সেটিই উত্তর।
মনে রাখুন: প্রমিত রূপ বসিয়ে দেখুন: যার আলাদা প্রমিত রূপ নেই, সেটিই আঞ্চলিক প্রভাবমুক্ত।
৩৯১. শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধের শরণার্থী অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটেছে যে রচনায়- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কপতঙ্গ পিঞ্জর
- খনেকড়ে অরণ্যে
- গজাহান্নম হইতে বিদায়
- ঘচৌরসন্ধি
সঠিক উত্তর: গ. জাহান্নম হইতে বিদায়
প্রশ্নটা শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসগুলোর মধ্যে পার্থক্য জানতে চেয়েছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কয়েকটি উপন্যাস লিখেছেন, কিন্তু প্রতিটির বিষয় আলাদা।
জাহান্নম হইতে বিদায় যুদ্ধের বছরেই, ১৯৭১ সালে প্রকাশিত হয়। নামটাই বলে দেয় কাহিনি: পাকিস্তানি বাহিনীর দখলে থাকা অবরুদ্ধ দেশ, মানে জাহান্নাম, ছেড়ে চলে যাওয়া। ঘরবাড়ি ছেড়ে সীমান্তের দিকে পাড়ি দেওয়া মানুষের শরণার্থী অভিজ্ঞতাই এর মূল বিষয়।
নেকড়ে অরণ্যে উপন্যাস ১৯৭৩ সালের; এতে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে বন্দি নারীদের উপর নির্যাতনের চিত্র আছে, শরণার্থী জীবনের নয়। তাঁর আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস দুই সৈনিক, সেটিও ১৯৭৩ সালের।
ফাঁদ হলো নেকড়ে অরণ্যে, কারণ এটিও মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস। মনে রাখুন, শরণার্থী বা দেশত্যাগের কাহিনি মানে জাহান্নম হইতে বিদায়।
মনে রাখুন: শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধের ৩টি উপন্যাস: জাহান্নম হইতে বিদায়, নেকড়ে অরণ্যে, দুই সৈনিক। শরণার্থী মানে জাহান্নম হইতে বিদায়।
৩৯২. আচমন’ এর সমার্থক হলো- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কস্নিগ্ধ
- খআবীর
- গপ্রক্ষালন
- ঘঅবহেলা
সঠিক উত্তর: গ. প্রক্ষালন
প্রশ্নটা সমার্থক শব্দ জানতে চেয়েছে। আচমন শব্দের মানে হলো শুদ্ধ হওয়ার জন্য পানি মুখে নেওয়া, মুখ ধোয়া বা পানি দিয়ে পরিষ্কার করা। পূজা বা প্রার্থনার আগে হাত-মুখ ধোয়াকে আচমন বলে।
প্রক্ষালন মানে পানি দিয়ে ধোয়া বা পরিষ্কার করা, যেমন হস্ত প্রক্ষালন মানে হাত ধোয়া। দুটো শব্দেই পানি দিয়ে শুদ্ধ বা পরিষ্কার করার ভাব আছে, তাই প্রক্ষালনই সমার্থক।
বাকি শব্দগুলোর অর্থ একেবারে আলাদা। স্নিগ্ধ মানে কোমল বা শীতল, আবীর হলো রঙিন গুঁড়া, আর অবহেলা মানে অযত্ন। আচমন ও আবীর দুটোই পূজার সঙ্গে জড়িত বলে অনেকে আবীর বেছে নেন; এটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: প্রক্ষালন, ধৌতকরণ, আচমন একই পরিবারের শব্দ: সবকটিতে পানি দিয়ে ধোয়ার ভাব।
৩৯৩. ’বিহ্বলতা’- র প্রমিত উচ্চারণ হলো- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কবিহভলতা
- খবিউভলতা
- গবিওভলোতা
- ঘবিওভোলোতা
সঠিক উত্তর: খ. বিউভলতা
প্রশ্নটা যুক্তবর্ণ হ্ব-এর উচ্চারণ যাচাই করছে। হ্ব লিখলে হ আর ব আলাদা শোনা যায় না; হ প্রায় হারিয়ে যায়, আর ব উচ্চারিত হয় ভ-এর মতো, সঙ্গে একটি উ বা ও ধ্বনি যোগ হয়।
কোন স্বর যোগ হবে তা নির্ভর করে আগের বর্ণের উপর। আগে ই-কার থাকলে হয় উভ, যেমন জিহ্বা হয় জিউভা, বিহ্বল হয় বিউভল্। আগে অ বা আ থাকলে হয় ওভ, যেমন আহ্বান হয় আওভান্, গহ্বর হয় গওভর্।
বিহ্বলতা শব্দে হ্ব-এর আগে বি, মানে ই-কার, তাই শুরুটা বিউভ। তাই উ-যুক্ত রূপ বিউভলতাই সঠিক অপশন; অভিধানের পূর্ণ রূপে শেষের তা-এর আগে একটি ও ধ্বনি যোগ হয়ে বিউভলোতা হয়।
ফাঁদ হলো ও-যুক্ত রূপগুলো। আহ্বান শব্দের আওভান উচ্চারণ মনে রেখে অনেকে সব জায়গায় ওভ বসিয়ে দেন, কিন্তু ই-কারের পরে ওভ নয়, উভ হয়।
মনে রাখুন: হ্ব-এর আগে ই-কার দেখলেই উভ: জিহ্বা, বিহ্বল, বিহ্বলতা। অ/আ দেখলে ওভ: আহ্বান, গহ্বর, আহ্বায়ক।
৩৯৪. ’রূপার চেয়ে সোনার দাম বেশি’। স্ফীত হরফের শব্দটিতে কারকের দৃষ্টান্ত- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- ককর্ম
- খকর্তৃ
- গকরণ
- ঘঅধিকরণ
সঠিক উত্তর: খ. কর্তৃ
কারক খুঁজতে হলে আগে বাক্যের ক্রিয়া খুঁজতে হয়, তারপর ক্রিয়াকে প্রশ্ন করতে হয়। এই বাক্যে ক্রিয়া উহ্য আছে: পূর্ণ রূপ হলো সোনার দাম রূপার চেয়ে বেশি হয়।
কী বেশি হয়? উত্তর দাম। ক্রিয়াটা যে সম্পন্ন করে বা যার সম্পর্কে বলা হয়, সে কর্তা; তাই দাম শব্দটি কর্তৃকারক, শূন্য বিভক্তি।
বাক্যের অন্য পদগুলো আলাদা ভূমিকায় আছে। সোনার শব্দটি দামের সঙ্গে সম্পর্ক বোঝায়, তাই এটি সম্বন্ধ পদ; সম্বন্ধ পদ কারক নয়। রূপার চেয়ে অংশটি তুলনা বোঝায়।
ফাঁদ হলো কর্ম। এখানে কোনো সকর্মক ক্রিয়া নেই, কাউকে কিছু করা হচ্ছে না, তাই কর্মকারক আসার সুযোগ নেই।
মনে রাখুন: উহ্য ক্রিয়া বসিয়ে কে বা কী দিয়ে প্রশ্ন করুন; যে উত্তর আসে সেটাই কর্তা।
৩৯৫. ’বিরল’ এর বিপরীতার্থক রূপ হলো- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কব্যতিক্রম
- খসুলভ
- গসরল
- ঘবিশেষ
সঠিক উত্তর: খ. সুলভ
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দ জানতে চেয়েছে। বিরল মানে যা সহজে পাওয়া যায় না, অল্প পরিমাণে আছে।
এর উল্টো হলো যা সহজে পাওয়া যায়, মানে সুলভ। সুলভ শব্দটা সু উপসর্গ আর লভ ধাতু থেকে, অর্থ সহজলভ্য। দুর্লভ আর সুলভ যেমন বিপরীত, বিরল আর সুলভও তেমনি।
বিরলের আরেকটি অর্থ ফাঁকা বা অঘন; সেই অর্থে বিপরীত হলো ঘন বা অবিরল। কিন্তু অপশনে সেগুলো নেই, তাই সুলভই উত্তর।
ব্যতিক্রম আর বিশেষ শব্দ দুটো বিরলের কাছাকাছি অর্থের, বিপরীত নয়; এগুলোই ফাঁদ। সরল শব্দটা বিরলের সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে বিভ্রান্ত করতে দেওয়া হয়েছে।
মনে রাখুন: বিরল, দুর্লভ, দুষ্প্রাপ্য: সবকটির বিপরীত সুলভ বা সহজলভ্য।
৩৯৬. নিচের যেটি বাংলা ভাষার অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কসবগুলো
- খএকত্র
- গকর্তৃপক্ষ
- ঘঅনুষ্ঠাতব্য
সঠিক উত্তর: ক. সবগুলো
প্রশ্নটা অপপ্রয়োগ, মানে ভুলভাবে ব্যবহৃত শব্দ খুঁজতে বলেছে। বাংলায় একই শব্দে দুবার বহুবচন বসানো অপপ্রয়োগ, একে বলে দ্বিরুক্ত বহুবচন।
সব শব্দটা নিজেই বহুবচন বোঝায়, আবার গুলো-ও বহুবচনের চিহ্ন। তাই সবগুলো লিখলে বহুবচন দুবার হয়ে যায়। শুদ্ধ হবে শুধু সব, অথবা বইগুলো, কলমগুলো এভাবে।
বাকি তিনটি শব্দ শুদ্ধ। একত্র নিজেই শুদ্ধ; অপপ্রয়োগ হলো একত্রিত। কর্তৃপক্ষ শুদ্ধ। অনুষ্ঠাতব্য শুদ্ধ সংস্কৃত গঠন; বহুল প্রচলিত অনুষ্ঠিতব্য রূপটিই আসলে ভুল।
ফাঁদ হলো একত্র আর অনুষ্ঠাতব্য। এগুলো চেনা ভুলের শুদ্ধ রূপ, কিন্তু দেখতে অপরিচিত লাগে বলে অনেকে এগুলোকেই ভুল ভাবেন।
মনে রাখুন: সকল, সব, সমস্ত, বহু শব্দের পরে গুলো, গণ, বৃন্দ বসালেই দ্বিরুক্ত বহুবচন, মানে ভুল।
৩৯৭. আলংকারিক প্রয়োগ বর্জনীয় যে ক্ষেত্রে- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কপত্র লিখন
- খভাবসম্প্রসারণ
- গপ্রবন্ধ রচনা
- ঘসারাংশ লিখন
সঠিক উত্তর: ঘ. সারাংশ লিখন
প্রশ্নটা রচনার বিভিন্ন ধরনে ভাষার রীতি নিয়ে। আলংকারিক প্রয়োগ মানে উপমা, রূপক, অলংকারপূর্ণ সাজানো ভাষা।
সারাংশ লিখনের উদ্দেশ্য মূল লেখার মূল ভাবটুকু অল্প কথায়, সহজ ও সরল ভাষায় তুলে ধরা। সেখানে অলংকার, উদ্ধৃতি, উদাহরণ বা নিজের মত যোগ করা যায় না, কারণ তাতে লেখা বড় হয় আর মূল ভাব ঘোলাটে হয়।
উল্টো দিকে ভাবসম্প্রসারণ আর প্রবন্ধে ভাবকে বিস্তৃত করতে হয়, সেখানে উপমা বা উদ্ধৃতি লেখাকে সমৃদ্ধ করে। ব্যক্তিগত পত্রেও আবেগ প্রকাশে কিছুটা আলংকারিক ভাষা চলে।
ফাঁদ হলো পত্র লিখন। দাপ্তরিক চিঠি সাদামাটা হয় ঠিকই, কিন্তু পত্রের সব ধরনে অলংকার বর্জনীয় নয়; সারাংশে সব সময়ই বর্জনীয়।
মনে রাখুন: যেখানে লেখা ছোট করতে হয় (সারাংশ, সারমর্ম), সেখানে অলংকার নয়; যেখানে বড় করতে হয় (ভাবসম্প্রসারণ, প্রবন্ধ), সেখানে চলে।
৩৯৮. বাংলা লিপি সংস্কারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গরামমোহন রায়
- ঘবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
প্রশ্নটা বাংলা বর্ণমালা ও লিপি সংস্কারের কারিগর কে, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
১৮৫৫ সালে প্রকাশিত বর্ণপরিচয় বইয়ে বিদ্যাসাগর বাংলা বর্ণমালাকে নতুন করে সাজান। তিনি দীর্ঘ ঋ ও দীর্ঘ ঌ বর্ণ দুটি বাদ দেন, অনুস্বার ও বিসর্গকে স্বরবর্ণ থেকে ব্যঞ্জনবর্ণে নেন, আর ড়, ঢ়, য় বর্ণগুলো যুক্ত করেন। এভাবে স্বরবর্ণ দাঁড়ায় ১২টি, ব্যঞ্জনবর্ণ ৪০টি।
তাঁকে বাংলা গদ্যের জনকও বলা হয়, কারণ তিনি বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক ব্যবহার শুরু করেন।
ফাঁদ হলো রামমোহন রায়। তিনি বাংলা গদ্য ও ব্যাকরণ চর্চায় অগ্রণী ছিলেন, গৌড়ীয় ব্যাকরণ লিখেছেন, কিন্তু লিপি সংস্কারের কৃতিত্ব বিদ্যাসাগরের।
মনে রাখুন: বর্ণপরিচয় মানেই বিদ্যাসাগর; বাংলা লিপি ও বর্ণমালা সংস্কারের প্রশ্নে উত্তর তিনিই।
৩৯৯. উক্তি পরিবর্তন “ মা রেগে আমাকে বললেন, তোমার গিয়ে কাজ নেই- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- করাগান্বিতভাবে মা আমাকে যেতে নিষেধ করেছিলেন
- খমা রেগে আমাকে বললেন যে, আমার যেয়ে কী হবে?
- গমা রাগ করে বললেন যে, যেও না।
- ঘরাগ করে মা আমাকে বললেন যে, আমার যাওয়া অকার্যকর হবে
সঠিক উত্তর: ক. রাগান্বিতভাবে মা আমাকে যেতে নিষেধ করেছিলেন
প্রশ্নটা প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে বদলাতে বলেছে। মূল বাক্য: মা রেগে আমাকে বললেন, তোমার গিয়ে কাজ নেই। এর ভাব হলো যেতে নিষেধ করা।
আদেশ, অনুরোধ বা নিষেধসূচক উক্তি পরোক্ষে নিলে বললেন ক্রিয়ার জায়গায় ভাব অনুযায়ী ক্রিয়া বসে: আদেশ করলেন, অনুরোধ করলেন, নিষেধ করলেন। আর উদ্ধৃতির ভেতরের কথা সরাসরি না বসিয়ে তার মূল ভাব বসে।
তাই পরোক্ষ রূপ হয়: মা রেগে আমাকে যেতে নিষেধ করলেন। প্রথম অপশনে ঠিক এই ভাবটাই আছে; রেগে কথাটা রাগান্বিতভাবে হয়েছে।
ফাঁদ হলো যে দিয়ে জোড়া অপশনগুলো। পরোক্ষ উক্তিতে যে বসিয়ে প্রশ্নবোধক বা হুবহু আদেশ রাখা যায় না, আর যেও না অংশে সর্বনামও বদলায়নি।
মনে রাখুন: নিষেধসূচক উক্তি পরোক্ষে: বললেন বাদ, বসে নিষেধ করলেন; উদ্ধৃতির জায়গায় ক্রিয়ার মূল রূপ, যেমন যেতে, করতে।
৪০০. 'হাড়হদ্দ' বাগ্ধারা দিয়ে বোঝায় - (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কস্পর্ধা
- খঅকৃত্রিম
- গনাড়ীনক্ষত্র
- ঘদৃঢ়তা
সঠিক উত্তর: গ. নাড়ীনক্ষত্র
প্রশ্নটা বাগ্ধারার অর্থ জানতে চেয়েছে। হাড়হদ্দ মানে কোনো কিছুর বা কারও সব খুঁটিনাটি খবর, ভেতর-বাইরের সব তথ্য।
হাড় মানে শরীরের ভেতরের কাঠামো, হদ্দ মানে সীমা বা শেষ। দুটো মিলে বোঝায় একেবারে শেষ সীমা পর্যন্ত জানা। যেমন: লোকটার হাড়হদ্দ আমার জানা।
নাড়ীনক্ষত্রও একই অর্থ বহন করে: সমস্ত খবর বা গোপন তথ্য। তাই হাড়হদ্দ আর নাড়ীনক্ষত্র সমার্থক বাগ্ধারা।
ফাঁদ হলো দৃঢ়তা। হাড় শব্দ শুনে শক্ত বা মজবুত কিছু মনে হয়, কিন্তু বাগ্ধারার অর্থ আক্ষরিক নয়।
মনে রাখুন: সব খবর জানা বোঝাতে তিনটি বাগ্ধারা: হাড়হদ্দ, নাড়ীনক্ষত্র, নাড়ির খবর।