বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ১৯
৩৬১. কোনটি 'পরপদ' প্রধান সমাস? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- ককর্মধারয়
- খঅব্যয়ীভাব
- গদ্বন্দ্ব
- ঘবহুব্রীহি
সঠিক উত্তর: ক. কর্মধারয়
সমাস চেনার সহজ উপায় হলো দেখা, সমস্তপদে কোন পদের অর্থ প্রধান। পূর্বপদ, পরপদ, দুটোই, নাকি কোনোটাই নয়, এর উপর ভিত্তি করে সমাস ভাগ হয়।
কর্মধারয় সমাসে বিশেষণ আর বিশেষ্যের মিলন হয়, এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে। যেমন নীলপদ্ম মানে নীল যে পদ্ম; এখানে পদ্মটাই মূল কথা। তৎপুরুষ সমাসও পরপদ প্রধান।
অব্যয়ীভাবে পূর্বপদের অর্থ প্রধান, যেমন উপকূল মানে কূলের সমীপে। দ্বন্দ্বে দুটো পদের অর্থই প্রধান, যেমন মা-বাবা। বহুব্রীহিতে কোনো পদের অর্থ নয়, অন্য কিছু বোঝায়, যেমন পীতাম্বর মানে শ্রীকৃষ্ণ।
এই প্রশ্নে তৎপুরুষ অপশনে নেই, তাই পরপদ প্রধান হিসেবে কর্মধারয়ই সঠিক।
মনে রাখুন: পরপদ প্রধান: কর্মধারয় ও তৎপুরুষ; পূর্বপদ: অব্যয়ীভাব; উভয়: দ্বন্দ্ব; অন্য: বহুব্রীহি।
৩৬২. ‘অনুধাবন’ সমস্তপদটির 'অনু' পূর্বপদটি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কবিরোধ
- খপশ্চাৎ
- গঅতিপ্রাপ্ত
- ঘঈষৎ
সঠিক উত্তর: খ. পশ্চাৎ
অনু একটি সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ। শব্দের আগে বসে এটি কয়েকটি অর্থ দেয়: পশ্চাৎ বা পরে, সাদৃশ্য, প্রতি, আর বারবার।
অনুধাবন শব্দে অনু মানে পশ্চাৎ। ধাবন মানে দৌড়ানো, তাই অনুধাবন মূলত পেছনে পেছনে ধাবন বা অনুসরণ। সেখান থেকে অর্থ দাঁড়িয়েছে কোনো বিষয়ের পেছনে লেগে থেকে তা বুঝে নেওয়া।
একই অর্থে অনু আছে অনুগমন, অনুসরণ, অনুতাপ শব্দে। সাদৃশ্য অর্থে আছে অনুরূপ, অনুকরণ; প্রতি অর্থে অনুদিন; বারবার অর্থে অনুক্ষণ।
ঈষৎ অর্থ দেয় আ উপসর্গ, যেমন আরক্ত মানে ঈষৎ লাল। বিরোধ অর্থ দেয় প্রতি বা বি, যেমন প্রতিবাদ। তাই এগুলো অনুর অর্থ নয়।
মনে রাখুন: অনু দেখলেই প্রথমে পশ্চাৎ ভাবুন: অনুগমন, অনুসরণ, অনুধাবন।
৩৬৩. নিচের কোনগুলো পরাশ্রয়ী বর্ণ? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কঙ,ঞ
- খং, ঃ
- গশ,ঘ
- ঘর, ঢ়
সঠিক উত্তর: খ. ং, ঃ
যে বর্ণ নিজে স্বাধীনভাবে উচ্চারিত হয় না, অন্য বর্ণের আশ্রয়ে উচ্চারিত হয়, তাকে পরাশ্রয়ী বর্ণ বলে। বাংলায় এমন বর্ণ তিনটি: অনুস্বার, বিসর্গ আর চন্দ্রবিন্দু।
অনুস্বার আর বিসর্গ সবসময় কোনো স্বর বা ব্যঞ্জনের পরে বসে। যেমন রং শব্দে ং বসেছে র এর পরে, আর দুঃখ শব্দে ঃ বসেছে দু এর পরে। চন্দ্রবিন্দু বসে বর্ণের মাথায়, যেমন চাঁদ।
এই তিনটি বর্ণ এককভাবে লিখে উচ্চারণ করা যায় না, আগে বা সাথে অন্য বর্ণ লাগে। এদের মধ্যে অনুস্বার আর বিসর্গকে অযোগবাহ বর্ণও বলা হয়।
ঙ আর ঞ নাসিক্য বর্ণ, এরা স্বাধীন ব্যঞ্জন। তাই নাসিক্যের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: পরাশ্রয়ী তিন বর্ণ: ং ঃ ঁ। এরা কখনো শব্দের শুরুতে একা বসে না।
৩৬৪. নিচের কোন বানানটি সঠিক? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কজিগিয়া
- খজাগীষা
- গজিগীষা
- ঘজীগিয়া
সঠিক উত্তর: গ. জিগীষা
জিগীষা একটি তৎসম শব্দ, অর্থ জয় করার ইচ্ছা। সংস্কৃত জি ধাতু থেকে ইচ্ছা অর্থে সন্ প্রত্যয় যোগে এর জন্ম।
বানানটা এভাবে মনে রাখুন: প্রথমে জ এ হ্রস্ব ই-কার, তারপর গ এ দীর্ঘ ঈ-কার, আর শেষে মূর্ধন্য ষ। জি, গী, ষা।
একই গঠনে তৈরি আরও শব্দ: জিজ্ঞাসা মানে জানার ইচ্ছা, পিপাসা মানে পান করার ইচ্ছা, বুভুক্ষা মানে খাওয়ার ইচ্ছা, মুমূর্ষা মানে মরার ইচ্ছা। এগুলোর বিশেষণ রূপ যথাক্রমে জিজ্ঞাসু, পিপাসু, বুভুক্ষু, মুমূর্ষু; জিগীষার বিশেষণ জিগীষু।
ভুল বানানগুলোতে হয় প্রথম অক্ষরে দীর্ঘ ঈ-কার বা আ-কার দেওয়া হয়েছে, নয়তো ষ এর জায়গায় অন্য বর্ণ বসেছে।
মনে রাখুন: জয়ের ইচ্ছা জিগীষা, জানার ইচ্ছা জিজ্ঞাসা; দুটোতেই প্রথম অক্ষর হ্রস্ব ই-কার।
৩৬৫. কোন শব্দটি শুদ্ধ বানানে লিখিত নয়? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কশ্মশান
- খপ্রজ্বল
- গআকাঙ্ক্ষা
- ঘআষাঢ়
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটা চেয়েছে কোন বানানটা শুদ্ধ নয়। কিন্তু যেভাবে অপশনগুলো লেখা আছে, তাতে শ্মশান, আকাঙ্ক্ষা ও আষাঢ় তিনটিই বাংলা একাডেমির অভিধান অনুযায়ী শুদ্ধ। তাই এখানে নিশ্চিত একটি উত্তর বাছা যাচ্ছে না।
শ্মশান বানানে প্রথমে শ আর ম এর যুক্তবর্ণ, শেষে দন্ত্য ন। অনেকে ণত্ব বিধান ভেবে শেষে মূর্ধন্য ণ দেন, কিন্তু র, ঋ বা ষ এর প্রভাব না থাকায় এখানে দন্ত্য ন-ই ঠিক।
আকাঙ্ক্ষা বানানে ঙ এর সাথে ক্ষ যুক্ত হয়, মানে ঙ্ক্ষ। আষাঢ় তৎসম শব্দ, লেখা হয় মূর্ধন্য ষ দিয়ে, আর শেষে ড-এ বিন্দু দেওয়া ঢ়।
জ্বল ধাতুর শব্দে সবচেয়ে বেশি ভুল হয় জ দুবার লেখায়। শুদ্ধ রূপ প্রজ্বলিত ও প্রজ্বলন, এক জ দিয়ে; দুই জ লাগে উজ্জ্বল জাতীয় শব্দে, কারণ সেখানে উৎ এর ত জ হয়ে যায়।
মনে রাখুন: জ্বল ধাতুতে উপসর্গ প্র বসলে এক জ (প্রজ্বলিত), উৎ বসলে দুই জ (উজ্জ্বল)।
৩৬৬. 'সুতি কাপড় অনেক দিন টিকে' কোন বাচ্য? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- ককর্তৃবাচ্য
- খকর্মকর্তৃবাচ্য
- গভাববাচ্য
- ঘকর্মবাচ্য
সঠিক উত্তর: খ. কর্মকর্তৃবাচ্য
যে বাক্যে কর্তা থাকে না, কর্মপদই কর্তার মতো কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে। সাধারণত বস্তুর গুণ বা স্বভাব বোঝাতে এমন বাক্য হয়।
সুতি কাপড় অনেক দিন টিকে বাক্যে কে কাপড়টা টিকিয়ে রাখছে, তা বলা নেই। কাপড় আসলে কর্ম, কিন্তু বাক্যে সেটাই কর্তার জায়গায় বসেছে, আর ক্রিয়া টিকে সেই অনুযায়ী চলেছে।
একই রকম উদাহরণ: বাঁশি বাজে, কলসি ভরে, কাচের গ্লাস সহজে ভাঙে। প্রতিটিতে বাজানো, ভরা বা ভাঙার কর্তা নেই, কর্মই কর্তা।
কর্মবাচ্যে কর্তা থাকে বা থাকতে পারে এবং ক্রিয়ায় হওয়া বা যাওয়া যুক্ত হয়, যেমন কাপড়টি ধোয়া হলো। ভাববাচ্যে ক্রিয়ার ভাবই প্রধান, যেমন আমার যাওয়া হবে না। তাই এ দুটো এখানে খাটে না।
মনে রাখুন: কর্তা নেই, বস্তু নিজেই কিছু করছে বলে মনে হয় (বাঁশি বাজে, কলসি ভরে): কর্মকর্তৃবাচ্য।
৩৬৭. 'এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে'। কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে কবি আঠারো প্রত্যাশা করেছেন? (i) উদ্দীপনা (ii) সেবাব্রত (iii) সাহসিকতা (iv) চলার দুর্বার (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কi, ii, iii, iv
- খiv
- গi ও ii
- ঘii ও iii
সঠিক উত্তর: ক. i, ii, iii, iv
পঙ্ক্তিটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের আঠারো বছর বয়স কবিতার শেষ লাইন। কবিতাটি তাঁর ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
কবিতায় কবি আঠারো বছর বয়সের নানা গুণ তুলে ধরেছেন: এ বয়স ভয় পায় না, দুঃসাহসে মাথা তোলে, রক্তদানের পুণ্য জানে, অন্যের বিপদে এগিয়ে আসে, আর কোনো বাধায় থেমে যায় না।
এই গুণগুলোই প্রশ্নের চারটি বৈশিষ্ট্যের সাথে মেলে। প্রাণশক্তি আর উদ্দীপনা, মানুষের সেবায় আত্মত্যাগ, সাহসিকতা, আর দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলা। এসবের জন্যই কবি চান দেশের বুকে আঠারো নেমে আসুক।
শুধু একটা বা দুটো বৈশিষ্ট্য বেছে নেওয়া ফাঁদ; কবিতার মূল সুর হলো তারুণ্যের সব শক্তির সমন্বয়, তাই চারটিই সঠিক।
মনে রাখুন: আঠারো বছর বয়স কবিতার প্রশ্নে তারুণ্যের সব ইতিবাচক গুণ সাধারণত সঠিক।
৩৬৮. সনেটের বৈশিষ্ট্য- i. চৌদ্দ চরণবিশিষ্ট ii. প্রতি চরণে চৌদ্দ মাত্রা iii. তিন পর্ব। নিচের কোনটি সঠিক? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কi, ii, iii
- খi
- গi ও ii
- ঘii ও iii
সঠিক উত্তর: গ. i ও ii
সনেট হলো চৌদ্দ চরণের এক ধরনের গীতিকবিতা, যা এসেছে ইতালি থেকে। বাংলায় প্রথম সনেট লেখেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত, আর তিনি এর নাম দেন চতুর্দশপদী কবিতা।
বাংলা সনেটে চরণ থাকে চৌদ্দটি, আর প্রতিটি চরণে সাধারণত চৌদ্দ মাত্রা বা অক্ষর। তাই প্রথম দুটি বৈশিষ্ট্য সঠিক।
সনেটের গঠন দুই ভাগে, তিন ভাগে নয়। প্রথম আট চরণকে বলে অষ্টক, যেখানে ভাব তৈরি হয়; পরের ছয় চরণকে বলে ষটক, যেখানে ভাবের পরিণতি আসে।
তাই তিন পর্ব কথাটা ভুল, আর উত্তর i ও ii। মধুসূদনের চতুর্দশপদী কবিতাবলী প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে; কপোতাক্ষ নদ এর বিখ্যাত সনেট।
মনে রাখুন: সনেট = ১৪ চরণ, প্রতি চরণে ১৪ মাত্রা, ভাগ ৮ + ৬।
৩৬৯. 'মিছা মণি মুক্তা হেম, স্বদেশের প্রিয় প্রেম, তার চেয়ে রত্ন নাই আর'। এই কবিতাংশের ভাব নিচের কোন কবিতায় প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কজীবন-সঙ্গীত
- খআমার পরিচয়
- গতাহারেই পড়ে মনে
- ঘকপোতাক্ষ
সঠিক উত্তর: ঘ. কপোতাক্ষ
কবিতাংশটির ভাব হলো: মণি, মুক্তা, সোনা সবই তুচ্ছ, স্বদেশের প্রতি ভালোবাসার চেয়ে মূল্যবান রত্ন আর নেই। অর্থাৎ এখানে স্বদেশপ্রেমই মূল সুর।
মাইকেল মধুসূদন দত্তের সনেট কপোতাক্ষ নদ লেখা হয়েছিল ফ্রান্সের ভার্সাই শহরে বসে। দূর প্রবাসে কবি শৈশবের নদ কপোতাক্ষকে স্মরণ করে বলেন, বহু দেশে বহু নদ দেখলেও কোনোটিই তার তৃষ্ণা মেটায়নি। জন্মভূমির প্রতি এই টানই কবিতাংশের ভাবের সাথে মিলে যায়।
অন্য কবিতাগুলোর মূল ভাব আলাদা। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন-সঙ্গীত কর্মময় জীবনের আহ্বান, সুফিয়া কামালের তাহারেই পড়ে মনে বসন্ত ও প্রকৃতি নিয়ে কবিমনের বেদনা, আর সৈয়দ শামসুল হকের আমার পরিচয় বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পরিচয়।
আমার পরিচয় কবিতাটিও দেশের কথা বলে, তাই অনেকে সেটি বেছে নেন। কিন্তু সেখানে মূল বিষয় জাতিসত্তার পরিচয়; সব রত্নের চেয়ে স্বদেশের প্রেমকে বড় করে দেখার আবেগ কপোতাক্ষ নদেই প্রকট।
মনে রাখুন: ভাব-মেলানো প্রশ্নে প্রতিটি কবিতার এক শব্দের মূল ভাব মনে রাখুন: জীবন-সঙ্গীত = কর্ম, কপোতাক্ষ নদ = স্বদেশপ্রেম।
৩৭০. “আমরা আলোচনা করে ঠিক করেছি, যাই হোক না কেন, আমরা অনশন ভাঙব না। যদি এই পথেই মৃত্যু এসে থাকে তবে তাই হবে।” উক্তিগুলো কার রচিত? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- ককাজী নজরুল ইসলাম
- খআবদুর রশিদ তর্কবাগীশ
- গবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
- ঘমহিউদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর: গ. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
উক্তিটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থ থেকে নেওয়া। এটি ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়।
১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজবন্দি বঙ্গবন্ধু ও মহিউদ্দিন আহমেদ মুক্তির দাবিতে অনশনের সিদ্ধান্ত নেন। অনশন শুরুর আগেই তাঁদের ঢাকা থেকে ফরিদপুর জেলে সরিয়ে নেওয়া হয়, আর সেখানেই অনশন চলে। মৃত্যুর ঝুঁকি জেনেও অনশন না ভাঙার এই দৃঢ় সিদ্ধান্তের কথা বইটিতে লেখা আছে।
এখানেই ফাঁদ: মহিউদ্দিন আহমেদ অনশনের সঙ্গী ছিলেন, তাই তাঁর নাম দেখে অনেকে বিভ্রান্ত হন। কিন্তু উক্তিগুলো লেখা বঙ্গবন্ধুর কলমে। বঙ্গবন্ধুর অন্য দুটি বই কারাগারের রোজনামচা ও আমার দেখা নয়াচীন।
মনে রাখুন: ‘অনশন’, ‘জেল’, ‘১৯৫২’, ‘আমরা ঠিক করেছি’: অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
৩৭১. 'লাজুক' কোন ধরনের শব্দ? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কমৌলিক শব্দ
- খরূঢ়ি শব্দ
- গযৌগিক শব্দ
- ঘযোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর: গ. যৌগিক শব্দ
অর্থ অনুযায়ী শব্দ তিন রকম: যৌগিক, রূঢ়ি আর যোগরূঢ়। যে শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ মিলিয়েই আসল অর্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগিক শব্দ বলে।
লাজুক শব্দটি গঠিত লাজ এবং উক প্রত্যয় মিলে। লাজ মানে লজ্জা, আর উক প্রত্যয় বোঝায় যার ওই স্বভাব আছে। তাই লাজুক মানে যার লজ্জা বেশি, যা শব্দের আক্ষরিক অর্থের সাথে হুবহু মেলে। সুতরাং এটি যৌগিক শব্দ।
রূঢ়ি শব্দে আক্ষরিক অর্থ আর আসল অর্থ আলাদা, যেমন হস্তী মানে আক্ষরিকভাবে হাত আছে যার, কিন্তু বোঝায় হাতি। যোগরূঢ় শব্দে আক্ষরিক অর্থের একটি বিশেষ অর্থ চলে, যেমন পঙ্কজ মানে পদ্ম।
মৌলিক শব্দ ভাঙা যায় না, যেমন গোলাপ, নাক। লাজুক ভাঙা যায় বলে এটি মৌলিক নয়।
মনে রাখুন: আক্ষরিক অর্থ = আসল অর্থ → যৌগিক; আক্ষরিক অর্থ ছাড়িয়ে অন্য অর্থ → রূঢ়ি; আক্ষরিক অর্থের একটি বিশেষ অর্থ → যোগরূঢ়।
৩৭২. 'চকোলেট' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কফরাসি
- খতুর্কি
- গপর্তুগিজ
- ঘমেক্সিকান
সঠিক উত্তর: ঘ. মেক্সিকান
চকোলেট শব্দের আদি উৎস মেক্সিকোর আদিবাসী আজটেকদের নাহুয়াতল ভাষা। সেখানে কোকোর তৈরি পানীয়কে বলা হতো শোকোলাতল জাতীয় একটি শব্দে।
স্প্যানিশরা মেক্সিকো জয়ের পর শব্দটি ইউরোপে নিয়ে যায়, সেখান থেকে ইংরেজি হয়ে বাংলায় আসে। বাংলা ব্যাকরণে বিদেশি শব্দের তালিকায় তাই চকোলেট মেক্সিকান শব্দ হিসেবে পড়ানো হয়।
পর্তুগিজ শব্দের উদাহরণ আনারস, আলপিন, বালতি, চাবি; ফরাসি শব্দ কার্তুজ, রেস্তোরাঁ; তুর্কি শব্দ চাকর, দারোগা, বাবুর্চি। এদের সাথে গুলিয়ে ফেলাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: পর্তুগিজ শব্দে সাধারণত গৃহস্থালি জিনিস (চাবি, বালতি), তুর্কিতে পদবি (দারোগা), আর চকোলেট মেক্সিকো।
৩৭৩. ভাবাধিকরণে সবসময় কোন বিভক্তি যুক্ত হয়? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- ক৫মী
- খ৬ষ্ঠী
- গ৭মী
- ঘ৩য়া
সঠিক উত্তর: গ. ৭মী
অধিকরণ কারকের একটি ভাগ হলো ভাবাধিকরণ। যখন একটি কাজ ঘটার ফলে বা সময়ে আরেকটি কাজ ঘটে, তখন প্রথম কাজটির ভাবকে অধিকরণ ধরা হয়।
ভাবাধিকরণে সবসময় সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত হয়, অর্থাৎ এ, য়, তে বা এতে। যেমন: সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূর হয়। এখানে সূর্যোদয় ঘটার সাথে সাথেই অন্ধকার দূর হওয়ার কাজটি ঘটছে, তাই সূর্যোদয়ে ভাবাধিকরণ।
আরও উদাহরণ: সূর্যাস্তে অন্ধকার নামে, কান্নায় শোক কমে। দুই ক্ষেত্রেই প্রথম কাজটি ঘটার ফলে দ্বিতীয় কাজটি ঘটছে, আর প্রথম পদে সপ্তমী বিভক্তি এ বা য় যুক্ত। অধিকরণ মানেই আধার বা সময়, আর আধার বোঝাতে বাংলায় সপ্তমী বিভক্তিই চলে।
মনে রাখুন: অধিকরণ ও ভাবাধিকরণে প্রায় সবসময় সপ্তমী; উদাহরণ: সূর্যোদয়ে, সূর্যাস্তে, কান্নায়।
৩৭৪. “টাকাটা ধার দিয়ে তুমি আমার মুখ রেখেছ”- এ বাক্যে ‘মুখ’ কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কসুনাম
- খপ্রত্যঙ্গ বিশেষ
- গমূল্য
- ঘসম্মান
সঠিক উত্তর: ঘ. সম্মান
মুখ শব্দের আক্ষরিক অর্থ শরীরের একটি অঙ্গ, কিন্তু বাংলায় শব্দটি নানা প্রসঙ্গে নানা অর্থ দেয়। মুখ রাখা একটি বাগ্ধারা, এর অর্থ সম্মান বা মান রক্ষা করা।
বাক্যে বক্তা বিপদে টাকার দরকারে ছিলেন। ধার দিয়ে অন্যজন তাঁকে অপমান বা লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছেন, অর্থাৎ তাঁর সম্মান রক্ষা করেছেন।
একই শব্দের অন্য প্রয়োগ: মুখ পোড়ানো মানে বদনাম করা, মুখ চাওয়া মানে কারও দিকে তাকিয়ে থাকা বা ভরসা করা, মুখে চুনকালি মানে অপমান।
সুনামকে অনেকে কাছাকাছি অর্থ ভাবেন। কিন্তু সুনাম হলো সমাজে ভালো খ্যাতি; এখানে প্রসঙ্গ তাৎক্ষণিক লজ্জা থেকে মান বাঁচানো, তাই সম্মানই সবচেয়ে উপযুক্ত।
মনে রাখুন: ‘মুখ রাখা / মুখ বাঁচানো’ = মান রক্ষা; ‘মুখ পোড়ানো’ = মান নষ্ট।
৩৭৫. 'আশীবিষ' কোন বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কব্যধিকরণ বহুব্রীহি
- খসমানাধিকরণ বহুব্রীহি
- গব্যতিহার বহুব্রীহি
- ঘপ্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর: ক. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
আশীবিষ মানে সাপ। এর ব্যাসবাক্য: আশীতে বিষ যার। আশী মানে সাপের দাঁত।
বহুব্রীহি সমাসে যদি পূর্বপদ ও পরপদ দুটোই বিশেষ্য হয়, এবং পূর্বপদে সাধারণত সপ্তমী বিভক্তি থাকে, তবে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি বলে। আশী আর বিষ দুটোই বিশেষ্য, আর আশীতে পদে সপ্তমী বিভক্তি, তাই এটি ব্যধিকরণ বহুব্রীহি।
সমানাধিকরণ বহুব্রীহিতে পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হয়, যেমন হত শ্রী যার, হতশ্রী। ব্যতিহারে পরস্পর একই কাজ বোঝায়, যেমন লাঠালাঠি। প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহিতে শেষে প্রত্যয় যুক্ত হয়, যেমন একচোখা।
আরেকটি পরিচিত উদাহরণ: কথায় সর্বস্ব যার, কথাসর্বস্ব। এটিও ব্যধিকরণ বহুব্রীহি।
মনে রাখুন: বিশেষণ + বিশেষ্য = সমানাধিকরণ; বিশেষ্য + বিশেষ্য = ব্যধিকরণ।
৩৭৬. 'নয়ন' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কী? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- ক√নী + অনট্
- খ√নে + অনট্
- গ√নী + অট্
- ঘ√নে + অয়ন
সঠিক উত্তর: ক. √নী + অনট্
নয়ন শব্দটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়ে গঠিত। মূল ধাতু হলো নী, মানে নিয়ে যাওয়া বা পরিচালনা করা; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অনট্ প্রত্যয়। তাই নয়নের প্রকৃতি-প্রত্যয় নী ধাতু যোগ অনট্।
অনট্ প্রত্যয়ের ট্ লোপ পায়, থাকে অন। এর আগে ধাতুর ঈ গুণ হয়ে এ হয়: নী থেকে নে। তারপর সন্ধির নিয়মে এ আর অ মিলে হয় অয়: নে যোগ অন সমান নয়ন।
একই নিয়মে গঠিত আরও শব্দ: শী যোগ অনট্ সমান শয়ন, ভূ যোগ অনট্ সমান ভবন, শ্রু যোগ অনট্ সমান শ্রবণ।
ফাঁদ হলো √নে যোগ অনট্ বেছে নেওয়া। মূল ধাতু নী, নে নয়; নে হলো গুণ হওয়ার পরের রূপ। আর নে যোগ অন আসলে সন্ধিবিচ্ছেদের ধাপ, প্রকৃতি-প্রত্যয় নয়।
মনে রাখুন: ই/ঈ-কারান্ত ধাতু + অনট্ = অয়ন: শী → শয়ন, নী → নয়ন।
৩৭৭. বাক্যের প্রকাশভঙ্গি অনুসারে কর্তা কয় প্রকার? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- ক২
- খ৩
- গ৪
- ঘ৬
সঠিক উত্তর: খ. ৩
কর্তাকে দুইভাবে ভাগ করা হয়। ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য অনুসারে কর্তা চার প্রকার। আর বাক্যের প্রকাশভঙ্গি, মানে বাচ্য অনুসারে কর্তা তিন প্রকার।
প্রকাশভঙ্গি অনুসারে তিন প্রকার: কর্মবাচ্যের কর্তা, যেমন পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে। ভাববাচ্যের কর্তা, যেমন আমার খাওয়া হলো। আর কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা, যেমন বাঁশি বাজে।
অন্যদিকে ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য অনুসারে চার প্রকার হলো মুখ্য কর্তা, প্রযোজক কর্তা, প্রযোজ্য কর্তা আর ব্যতিহার কর্তা।
ফাঁদ হলো চার বেছে নেওয়া, কারণ কর্তার চার প্রকারভেদ বেশি পরিচিত। প্রশ্নের মূল শব্দ প্রকাশভঙ্গি, তাই উত্তর তিন।
মনে রাখুন: প্রকাশভঙ্গি শুনলেই বাচ্য: কর্ম, ভাব, কর্ম-কর্তৃ = ৩।
৩৭৮. 'ব্রহ্মপুত্র' শব্দে 'হ্ম' যুক্তবর্ণে কোন কোন বর্ণ রয়েছে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কক, ষ
- খম,হ
- গহ, ম
- ঘম, ম
সঠিক উত্তর: গ. হ, ম
ব্রহ্মপুত্র শব্দের হ্ম যুক্তবর্ণটি গঠিত হ ও ম মিলে। লেখায় আগে হ, পরে ম। দেখতে অনেকটা ক্ষ এর মতো লাগে বলে প্রশ্নটা জনপ্রিয়।
মজার ব্যাপার হলো, বাংলা উচ্চারণে হ্ম শোনায় উল্টো, ম্হ এর মতো: ব্রহ্ম বলি ব্রোম্হো, ব্রাহ্মণ বলি ব্রাম্হোন। কিন্তু বানানে বর্ণের ক্রম হ তারপর ম। একই যুক্তবর্ণ আছে ব্রাহ্মণ আর ব্রহ্মা শব্দে।
ক্ষ গঠিত হয় ক আর ষ মিলে, যেমন পক্ষ। আবার হ্ন গঠিত হয় হ আর ন মিলে, যেমন চিহ্ন, অপরাহ্ন। এগুলো দেখতে কাছাকাছি বলে গুলিয়ে যায়।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো ম আর হ, মানে উল্টো ক্রম। উচ্চারণে ম আগে শোনায় বলে অনেকে এটি বেছে নেন, কিন্তু লেখার যুক্তবর্ণে আগে হ, পরে ম।
মনে রাখুন: হ্ম = হ + ম (ব্রহ্ম, ব্রাহ্মণ); হ্ন = হ + ন (চিহ্ন); ক্ষ = ক + ষ।
৩৭৯. 'ক' বর্গের ধ্বনিসমূহের উচ্চারণ স্থান কোনটি? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কজিহ্বামূল
- খঅগ্রতালু
- গপশ্চাৎ দন্তমূল
- ঘঅগ্রদন্তমূল
সঠিক উত্তর: ক. জিহ্বামূল
ক, খ, গ, ঘ, ঙ, এই ক-বর্গের ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময় জিহ্বার পেছনের অংশ, মানে জিহ্বামূল, নরম তালুর কাছে উঠে বাতাস আটকায়। তাই এদের উচ্চারণস্থান জিহ্বামূল, আর এদের বলা হয় জিহ্বামূলীয় বা কণ্ঠ্য ধ্বনি।
প্রতিটি বর্গের নিজস্ব উচ্চারণস্থান আছে। চ-বর্গ অগ্রতালু থেকে, তাই তালব্য। ট-বর্গ পশ্চাৎ দন্তমূল থেকে, তাই মূর্ধন্য। ত-বর্গ অগ্রদন্তমূল থেকে, তাই দন্ত্য। আর প-বর্গ দুই ঠোঁটে, তাই ওষ্ঠ্য।
নিজে উচ্চারণ করে দেখলেই বোঝা যায়: ক বলার সময় জিহ্বার গোড়া উপরে ওঠে, ত বলার সময় জিহ্বার ডগা দাঁতের গোড়ায় লাগে।
ফাঁদ হলো অগ্রতালু, যা চ-বর্গের উচ্চারণস্থান। বর্গের ক্রমে উচ্চারণস্থান মুখের ভেতর থেকে বাইরের দিকে আসে: জিহ্বামূল, তালু, মূর্ধা, দাঁত, ঠোঁট।
মনে রাখুন: বর্গের ক্রম = মুখের ভেতর থেকে বাইরে: ক জিহ্বামূল, চ তালু, ট মূর্ধা, ত দাঁত, প ঠোঁট।
৩৮০. 'শশাঙ্ক'-এর সমার্থক শব্দ কোনটি? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০২১)
- কসমুদ্র
- খসূর্য
- গসৈকত
- ঘচাঁদ
সঠিক উত্তর: ঘ. চাঁদ
শশাঙ্ক শব্দের অর্থ চাঁদ। শব্দটি গঠিত শশ আর অঙ্ক মিলে: শশ মানে খরগোশ, অঙ্ক মানে চিহ্ন বা কোল। চাঁদের গায়ে খরগোশের মতো কালো দাগ দেখা যায় বলে চাঁদকে বলা হয় শশাঙ্ক, মানে যার কোলে খরগোশ।
চাঁদের আরও সমার্থক শব্দ: শশধর, শশী, সুধাংশু, হিমাংশু, নিশাকর, ইন্দু, সোম। এগুলোর অনেকগুলোতেই শশ বা নিশা আছে, যা চাঁদ চেনার সূত্র।
সূর্যের সমার্থক শব্দ আবার আলাদা: দিবাকর, ভাস্কর, রবি, তপন। শশাঙ্ক আর দিবাকর দুটোই সংস্কৃত বলে অনেকে গুলিয়ে ফেলেন; এটাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: শশ (খরগোশ) দেখলেই চাঁদ: শশাঙ্ক, শশধর, শশী।