বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৩৬
৭০১. 'জ্যান্ত' শব্দটির প্রকৃতি-প্রত্যয় কী? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৮)
- কজ্যান + ত
- খজান + তচ
- গজ + এ্যান্ত
- ঘজী+অন্ত
সঠিক উত্তর: ঘ. জী+অন্ত
প্রকৃতি-প্রত্যয় মানে শব্দের মূল অংশ আর তার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যয় আলাদা করা। জ্যান্ত শব্দের মূলে আছে জী ধাতু, যার অর্থ বেঁচে থাকা।
জী ধাতুর সঙ্গে অন্ত প্রত্যয় যোগে হয় জীয়ন্ত, মানে যে বেঁচে আছে। মুখের ভাষায় জীয়ন্ত বদলে হয়েছে জ্যান্ত। তাই প্রকৃতি-প্রত্যয় জী যোগ অন্ত।
অন্ত প্রত্যয় দিয়ে আরও শব্দ হয়: ফুট যোগ অন্ত সমান ফুটন্ত, চল যোগ অন্ত সমান চলন্ত, ডুব যোগ অন্ত সমান ডুবন্ত। সব ক্ষেত্রেই অর্থ, কাজটা চলছে এমন।
জ্যান বা জান যোগ ত দেখতে শব্দের মতো লাগলেও বাংলায় জ্যান বা জান নামে এই অর্থের কোনো ধাতু নেই; তাই এগুলো বানানো ভাঙন।
মনে রাখুন: শব্দের শেষে ‘অন্ত’ ধ্বনি মানেই কাজ চলছে: ফুটন্ত, চলন্ত, জ্যান্ত।
৭০২. যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেকটিকে কী পদ বলে? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৮)
- কপূর্বপদ
- খসমস্তপদ
- গউত্তর পদ
- ঘসমস্যমান পদ
সঠিক উত্তর: ঘ. সমস্যমান পদ
সমাসের প্রতিটি অংশের আলাদা নাম আছে। যে যে পদ মিলে সমাস হয়, তাদের প্রত্যেকটিকে বলে সমস্যমান পদ।
যেমন সিংহাসন সমাসে সিংহ আর আসন দুটোই সমস্যমান পদ। এর মধ্যে প্রথমটি সিংহ হলো পূর্বপদ, পরেরটি আসন হলো উত্তরপদ। আর মিলে তৈরি পুরো শব্দ সিংহাসন হলো সমস্তপদ।
আর সমাস ভেঙে যে বাক্যাংশ দিয়ে অর্থ বোঝানো হয়, যেমন সিংহ চিহ্নিত আসন, তাকে বলে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য।
সমস্তপদ আর সমস্যমান পদ নামে কাছাকাছি, তাই এটাই বড় ফাঁদ। সমস্ত মানে একত্র হয়ে যাওয়া পুরো শব্দ; সমস্যমান মানে যে পদগুলো মিলছে।
মনে রাখুন: সমস্যমান = মিলছে যেগুলো; সমস্ত = মিলে যা হলো।
৭০৩. কোনটি সঠিক? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৮)
- কভদ্রতাচিত
- খভদ্রোচিত
- গভদ্রচিত
- ঘভদ্রাচিত
সঠিক উত্তর: খ. ভদ্রোচিত
শব্দটা দুটি অংশে গঠিত: ভদ্র আর উচিত। মানে ভদ্রের পক্ষে যা উচিত। তাই সন্ধি করে শুদ্ধ রূপ খুঁজতে হবে।
স্বরসন্ধির নিয়ম: অ-কারের পরে উ এলে দুটো মিলে হয় ও-কার। তাই ভদ্র যোগ উচিত সমান ভদ্রোচিত।
একই নিয়মে হয় সূর্যোদয়, মানে সূর্য যোগ উদয়; পরোপকার, মানে পর যোগ উপকার; যথোচিত, মানে যথা যোগ উচিত, যেখানে আ যোগ উ হয়ে ও।
ভদ্রতাচিত লিখলে অর্থহীন অংশ “তাচিত” আসে; ভদ্রচিত বা ভদ্রাচিত লিখলে উ ধ্বনিটাই হারিয়ে যায়।
মনে রাখুন: উচিত যুক্ত শব্দে সবসময় ও-কার: ভদ্রোচিত, যথোচিত, সময়োচিত।
৭০৪. সংশয়-এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৮)
- কদ্বিধা
- খনির্ভয়
- গবিষ্ময়
- ঘপ্রত্যয়
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রত্যয়
সংশয় মানে সন্দেহ বা অনিশ্চয়তা। এর বিপরীত হলো দৃঢ় বিশ্বাস বা নিশ্চয়তা, আর অপশনে সেই অর্থের শব্দ হলো প্রত্যয়।
প্রত্যয় শব্দের দুই অর্থ: ব্যাকরণে শব্দ গঠনের প্রত্যয়, আর সাধারণ অর্থে বিশ্বাস বা আস্থা। এখানে দ্বিতীয় অর্থটা কাজ করছে, যেমন “সে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করল”।
দ্বিধা আসলে সংশয়ের সমার্থক, বিপরীত নয়। নির্ভয় হলো ভয়ের বিপরীত। আর বিস্ময় মানে অবাক হওয়া; অপশনের বিষ্ময় বানানও ভুল, শুদ্ধ বানান বিস্ময়।
অনেকে প্রত্যয় শব্দটাকে শুধু ব্যাকরণের শব্দ ভেবে বাদ দেন; এটাই এখানকার ফাঁদ।
মনে রাখুন: সংশয় বনাম প্রত্যয়, সন্দেহ বনাম বিশ্বাস; জোড়ায় মুখস্থ রাখুন।
৭০৫. 'কাক নিদ্রা' -এর সঠিক অর্থ কোনটি? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৮)
- ককপট চিন্তা
- খঅগভীর নিদ্রা
- গপরের অনিষ্ট চিন্তা
- ঘনিদ্রার ভান করা
সঠিক উত্তর: খ. অগভীর নিদ্রা
কাকনিদ্রা একটি বাগ্ধারা, যার অর্থ অগভীর বা সতর্ক ঘুম; একটু শব্দ হলেই ভেঙে যায় এমন ঘুম।
কাক ঘুমের মধ্যেও সজাগ থাকে, সামান্য শব্দেই উড়ে যায়; সেই স্বভাব থেকেই এই বাগ্ধারা। যেমন “পরীক্ষার আগের রাতে তার শুধু কাকনিদ্রা হলো”।
এর উল্টো ভাবের বাগ্ধারা হলো কুম্ভকর্ণের ঘুম, মানে খুব গভীর ঘুম। দুটো জোড়া বেঁধে মনে রাখলে অর্থ গুলিয়ে যায় না।
কাক চতুর পাখি বলে অনেকে কপট চিন্তা বা ভান বেছে নেন; কিন্তু এখানে কাকের চালাকি নয়, কাকের হালকা ঘুমটাই মূল কথা।
মনে রাখুন: কাক বা পাখির বাগ্ধারায় গুণটা দেখুন: কাকনিদ্রা হালকা, কুম্ভকর্ণের ঘুম গভীর।
৭০৬. সমার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্তি হয়েছে কোনটিতে? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৮)
- কভালো - মন্দ
- খতোড়-জোড়
- গধন-দৌলত
- ঘআমীর-ফকির
সঠিক উত্তর: গ. ধন-দৌলত
দ্বিরুক্তি মানে একই শব্দ বা কাছাকাছি শব্দ দুবার ব্যবহার করে বিশেষ অর্থ তৈরি। এর একটি ধরন হলো সমার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্তি, যেখানে একই অর্থের দুটি আলাদা শব্দ পাশাপাশি বসে।
ধন আর দৌলত দুটোরই অর্থ সম্পদ। দুটো মিলে ধন-দৌলত মানে সব ধরনের সম্পদ। তাই এটি সমার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্তি। একইরকম: টাকা-পয়সা, হাসি-খুশি, লালন-পালন।
ভালো-মন্দ আর আমীর-ফকির এর উল্টো: দুটো বিপরীত অর্থের শব্দ মিলেছে, তাই এগুলো বিপরীতার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্তি। তোড়জোড় মানে আয়োজন বা প্রস্তুতি; এখানে তোড় আর জোড় আলাদা করে একই অর্থের দুটি শব্দ নয়।
ফাঁদ হলো তোড়জোড়, কারণ এটা দেখতে জোড়া শব্দ। কিন্তু সমার্থক হতে হলে দুটো অংশকেই আলাদাভাবে একই অর্থ দিতে হবে।
মনে রাখুন: সমার্থক জোড়ার চেনা উদাহরণ: ধন-দৌলত, টাকা-পয়সা, হাসি-খুশি, লালন-পালন।
৭০৭. 'সৌম্য'- এর বিপরীত শব্দ কী? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৮)
- কঅসুন্দর
- খকুৎসিত
- গকাপুরুষ
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঘ. কোনোটিই নয়
সৌম্য মানে শান্ত, স্নিগ্ধ ও প্রসন্ন চেহারা বা স্বভাব; যেমন “সৌম্যদর্শন বৃদ্ধ”। এর বিপরীত শব্দ হলো উগ্র বা রুদ্র, মানে রাগী বা ভয়ংকর।
অপশনের অসুন্দর আর কুৎসিত হলো সুন্দর বা সুশ্রী শব্দের বিপরীত। সৌম্য শুধু সৌন্দর্য নয়, শান্ত ভাবকে বোঝায়; তাই এরা ঠিক বিপরীত নয়।
কাপুরুষ হলো বীর বা সাহসী শব্দের বিপরীত। তাই দেওয়া কোনো অপশনই সৌম্যের প্রকৃত বিপরীত নয়, উত্তর কোনোটিই নয়।
সৌম্য শব্দে সৌন্দর্যের ছোঁয়া আছে বলে অনেকে কুৎসিত বেছে নেন; কিন্তু শান্তের বিপরীত হলো উগ্র, কুৎসিত নয়।
মনে রাখুন: সৌম্য বনাম উগ্র; শান্ত বনাম রাগী। কুৎসিত সুন্দরের জোড়া।
৭০৮. নিচের যে ভাষাগুচ্ছ একই পরিবারভুক্ত নয় __ (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০১৮)
- কবাংলা, মগহি, ভোজপুরিয়া
- খআসাম, তামিল, উড়িষ্যা
- গহিন্দি, গুজরাটি, মারাঠি
- ঘপাঞ্জাবি, বাংলা , মারাঠি
সঠিক উত্তর: খ. আসাম, তামিল, উড়িষ্যা
প্রশ্নটা ভাষার পরিবার নিয়ে। অপশনে কয়েকটি জায়গায় রাজ্যের নাম লেখা, সেগুলো দিয়ে সেখানকার ভাষা বোঝানো হয়েছে: আসাম মানে অসমিয়া, উড়িষ্যা মানে ওড়িয়া।
বাংলা, অসমিয়া, ওড়িয়া, হিন্দি, মারাঠি, গুজরাটি, পাঞ্জাবি, মগহি, ভোজপুরি সবই ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারের ভারতীয় আর্য শাখার ভাষা। বাংলা, অসমিয়া, ওড়িয়া, মগহি আর ভোজপুরি এসেছে মাগধী প্রাকৃতের পূর্বী ধারা থেকে।
কিন্তু তামিল দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের সদস্য, যেমন তেলুগু, কন্নড় আর মালয়ালম। তাই অসমিয়া, তামিল, ওড়িয়া এই গুচ্ছটি একই পরিবারের নয়।
এই প্রশ্নে কৌশল হলো দক্ষিণ ভারতের ভাষা খোঁজা। আসাম আর উড়িষ্যা রাজ্যের নাম দেখে বিভ্রান্ত হবেন না; আসল বিষয় তামিল।
মনে রাখুন: উত্তর ও পূর্ব ভারতের ভাষা আর্য, দক্ষিণের চার ভাষা দ্রাবিড়; যে গুচ্ছে দক্ষিণের ভাষা, সেটাই আলাদা।
৭০৯. 'কোথায় এমন হরিৎ ক্ষেত্র আকাশ তলে মেশে।' কবি ডিএল রায় কোন প্রসঙ্গে উক্তিটি করেছেন _ (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০১৮)
- কবাংলার ঋতুবৈচিত্র্য
- খবাংলার সবুজ মাঠ
- গবাংলার সামাজিক জীবন
- ঘবাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
সঠিক উত্তর: খ. বাংলার সবুজ মাঠ
চরণটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গান “ধনধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা” থেকে নেওয়া। গানে কবি বাংলার প্রকৃতির রূপ তুলে ধরেছেন।
হরিৎ মানে সবুজ, ক্ষেত্র মানে মাঠ। তাই হরিৎ ক্ষেত্র আকাশ তলে মেশে মানে সবুজ মাঠ দূরে গিয়ে আকাশের সঙ্গে মিশে গেছে। এখানে বাংলার দিগন্তজোড়া সবুজ মাঠের কথাই বলা হয়েছে।
ঋতুবৈচিত্র্য, সামাজিক জীবন বা সম্প্রীতির কথা এই চরণে নেই। শব্দের অর্থ বুঝলেই প্রসঙ্গ ধরা যায়: হরিৎ শব্দটিই উত্তরের চাবি।
মনে রাখুন: কবিতার প্রসঙ্গ প্রশ্নে মূল শব্দের অর্থ ধরুন: হরিৎ মানে সবুজ।
৭১০. সন্ধির নিয়মানুসারে ঈ + অ =? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০১৮)
- কয্ + অ
- খয্ + আ
- গআ + য্
- ঘঅ + য্
সঠিক উত্তর: ক. য্ + অ
এটা স্বরসন্ধির নিয়ম। ই বা ঈ-কারের পরে ই ও ঈ ছাড়া অন্য কোনো স্বর এলে, ই বা ঈ বদলে য-ফলা হয়ে যায়, মানে য্ হয়, আর পরের স্বরটি তার সঙ্গে যুক্ত হয়।
তাই ঈ যোগ অ হলে ঈ হয় য্, আর পরের অ বসে তার সঙ্গে: য্ যোগ অ। উদাহরণ: নদী যোগ অম্বু হয় নদ্যম্বু। একইভাবে ই যোগ অ: অতি যোগ অন্ত হয় অত্যন্ত।
অপশন গুলিয়ে দেওয়া হয়েছে স্বরের দিক বদলে। পরের স্বর অ-ই থাকে, আ হয় না; আর য্ সবসময় আগে বসে, পরে নয়।
মনে রাখুন: ই/ঈ + অন্য স্বর = য-ফলা; উ/ঊ + অন্য স্বর = ব-ফলা (সু + আগত = স্বাগত)।
৭১১. 'টেনিদা' যে সাহিত্যিকের কিশোরপাঠ্য লেখার কেন্দ্রীয় চরিত্র- (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০১৮)
- কপ্রেমেন্দ্র মিত্র
- খনারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
- গসত্যজিৎ রায়
- ঘশরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: খ. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
টেনিদা নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের কিশোর গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র। পটলডাঙার চার বন্ধু টেনিদা, প্যালা, হাবুল আর ক্যাবলার মজার কাণ্ড নিয়ে লেখা গল্পগুলো খুব জনপ্রিয়; চার মূর্তি এই সিরিজের একটি বিখ্যাত বই।
বাংলা কিশোর সাহিত্যের এমন কয়েকটি “দা” চরিত্র পরীক্ষায় একসঙ্গে আসে। ঘনাদা প্রেমেন্দ্র মিত্রের, ফেলুদা সত্যজিৎ রায়ের। আর গোয়েন্দা ব্যোমকেশ বক্সী শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃষ্টি।
অপশনের সব লেখকই একটা করে বিখ্যাত চরিত্রের স্রষ্টা, তাই চরিত্র ও স্রষ্টার জোড়া মুখস্থ না থাকলে ভুল হয়। ফেলুদার জনপ্রিয়তার কারণে অনেকে সত্যজিৎ রায় বেছে নেন।
মনে রাখুন: টেনিদা-নারায়ণ, ঘনাদা-প্রেমেন্দ্র, ফেলুদা-সত্যজিৎ, ব্যোমকেশ-শরদিন্দু।
৭১২. 'বউদি ফাগুন মাসের সক্কাল বেলা অযথাই বড়দার সঙ্গে তক্ক কত্তে লাগল। ' __ এই বাক্যে যে -কয়টি শব্দে ধ্বনি -পরিবর্তন ঘটেছে_ (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০১৮)
- ক৬ টি
- খ৭টি
- গ৮টি
- ঘ৯টি
সঠিক উত্তর: ক. ৬ টি
বাক্যটি কথ্য ভঙ্গিতে লেখা, তাই কয়েকটি শব্দ তাদের মূল রূপ থেকে বদলে গেছে। প্রতিটি শব্দের মূল রূপের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই গোনা যায়।
ফাল্গুন থেকে ফাগুন, এখানে ল ধ্বনি লোপ পেয়েছে। সকাল থেকে সক্কাল, জোর দিতে ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয়েছে। তর্ক থেকে তক্ক আর করতে থেকে কত্তে, দুটোতেই র আগের ধ্বনিকে পরের ধ্বনির মতো করে নিয়েছে, যাকে বলে সমীভবন।
বড়দাদা থেকে বড়দা, পাশাপাশি একই অক্ষরের একটি বাদ পড়েছে, যাকে বলে সমাক্ষর লোপ। আর বধূদিদি থেকে বউদি, এখানেও ধ্বনি বদলে ও ক্ষয়ে শব্দটি ছোট হয়েছে। মোট ছয়টি শব্দ।
মাস, বেলা, অযথা, সঙ্গে শব্দগুলো নিজের রূপেই আছে, এগুলো গুনলে সংখ্যা বেড়ে যায়; এটাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: প্রতিটি শব্দের প্রমিত রূপ পাশে লিখুন; যেটা বদলেছে, সেটাই গুনুন।
৭১৩. 'নদী' শব্দের সমার্থক নয়_ (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০১৮)
- কফল্গু
- খতরঙ্গিণী
- গশৈবলিনী
- ঘপাটনি
সঠিক উত্তর: ঘ. পাটনি
নদীর সমার্থক শব্দের তালিকায় আছে তটিনী, তরঙ্গিণী, প্রবাহিনী, স্রোতস্বিনী, শৈবলিনী, কল্লোলিনী। এগুলোর বেশিরভাগ ইনী প্রত্যয়ে শেষ, কারণ নদীকে নারীরূপে কল্পনা করা হয়।
তরঙ্গিণী মানে যার তরঙ্গ আছে, শৈবলিনী মানে যাতে শৈবাল জন্মায়; দুটোই নদী। ফল্গু একটি নদীর নাম, আর অন্তঃসলিলা বা উপরে বালি নিচে জল এমন নদী বোঝাতেও শব্দটি ব্যবহার হয়।
কিন্তু পাটনি মানে খেয়াঘাটের মাঝি, যে নৌকায় মানুষ পারাপার করে। শব্দটি নদীর সঙ্গে জড়িত হলেও নদী নয়, তাই এটাই সমার্থক নয়।
মনে রাখুন: নদীর নাম প্রায়ই ইনী-তে শেষ; নদীর কাজের মানুষ (পাটনি, মাঝি) নদী নয়।
৭১৪. নিচের বিপরীত শব্দযুগলের মধ্যে অশুদ্ধ_ (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০১৮)
- কখাতক - মহাজন
- খআসমান - জমিন
- গসিক্ত - রিক্ত
- ঘস্বপ্ন - বাস্তব
সঠিক উত্তর: গ. সিক্ত - রিক্ত
বিপরীত শব্দ মানে যে শব্দ ঠিক উল্টো অর্থ দেয়। তাই প্রতিটি জোড়ায় দেখতে হবে প্রথম শব্দের অর্থ উল্টালে দ্বিতীয় শব্দটি আসে কি না।
সিক্ত মানে ভেজা, তাই তার বিপরীত শুষ্ক। রিক্ত মানে শূন্য বা নিঃস্ব, তার বিপরীত পূর্ণ। দুটো শব্দ শুনতে ছন্দে মেলে, কিন্তু অর্থে বিপরীত নয়। তাই সিক্ত আর রিক্ত জোড়াটি অশুদ্ধ।
খাতক মানে ঋণগ্রহীতা আর মহাজন মানে ঋণদাতা, তাই এরা বিপরীত। আসমান আর জমিন মানে আকাশ আর মাটি; স্বপ্ন আর বাস্তবও বিপরীত। খাতক শব্দটি কম চেনা বলে অনেকে প্রথম জোড়াকে ভুল ভাবেন; এটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: ছন্দে মেলা জোড়া দেখলে সন্দেহ করুন: সিক্ত-রিক্ত শুনতে মেলে, অর্থে নয়।
৭১৫. 'কারকিত' শব্দের অর্থ - (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০১৮)
- ককৃষিজমি
- খকৃষিকর্ম
- গনিষ্কর জমি
- ঘভূমিজীবী
সঠিক উত্তর: খ. কৃষিকর্ম
কারকিত একটি ফারসি থেকে আসা শব্দ। এর অর্থ চাষবাস বা কৃষিকর্ম, মানে জমিতে চাষাবাদের কাজ।
অপশনগুলো সবই কৃষির সঙ্গে জড়িত, তাই অর্থের সূক্ষ্ম পার্থক্য বুঝতে হবে। কৃষিজমি হলো জমি, ভূমিজীবী হলো মানুষ, আর নিষ্কর জমি হলো খাজনামুক্ত জমি। কিন্তু কারকিত বোঝায় কাজটিকে, জমি বা মানুষকে নয়।
ফারসি “কার” শব্দের অর্থ কাজ; কারখানা, কারবার, কারিগর শব্দেও এটি আছে। এভাবে মনে রাখলে বোঝা সহজ যে কারকিত একটা কাজের নাম।
মনে রাখুন: কার মানে কাজ: কারকিত = চাষের কাজ।
৭১৬. '..... মাইকেল -রবীন্দ্রনাথ-নজরুল ইসলাম আমার মাতৃভাষা।' উক্তিটি __ (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০১৮)
- কমুহম্মদ শহীদুল্লাহর
- খমুহম্মদ আবদুল হাই -এর
- গমুনীর চৌধুরীর
- ঘমুহম্মদ এনামুল হকের
সঠিক উত্তর: গ. মুনীর চৌধুরীর
প্রচলিত উত্তর অনুযায়ী মাইকেল, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ইসলাম আমার মাতৃভাষা, এই উক্তিটি মুনীর চৌধুরীর। এখানে বাংলা ভাষাকে তার শ্রেষ্ঠ কবিদের সৃষ্টির মধ্য দিয়ে চেনানো হয়েছে।
মুনীর চৌধুরী ছিলেন নাট্যকার, শিক্ষাবিদ ও ভাষাবিজ্ঞানী। ভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় কারাবন্দি অবস্থায় তিনি লেখেন বিখ্যাত নাটক কবর। বাংলা টাইপরাইটারের মুনীর অপটিমা কিবোর্ড তাঁর উদ্ভাবন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি শহীদ হন।
অপশনের সবাই ভাষাবিদ, তাই নাম মেলানো কঠিন। মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি অন্যটি: আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। এই দুই উক্তি গুলিয়ে ফেলাই সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: মাতৃভাষা আর তিন কবির নাম একসঙ্গে: মুনীর চৌধুরী।
৭১৭. সহচর শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ _ (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০১৮)
- কধুতি-চাদর
- খঘর-বার
- গআকার-ইঙ্গিত
- ঘবুক-পিঠ
সঠিক উত্তর: ক. ধুতি-চাদর
দ্বন্দ্ব সমাসে দুটি পদই প্রধান, আর ব্যাসবাক্যে মাঝে ও, এবং, আর বসে। অর্থের ধরন অনুযায়ী দ্বন্দ্ব সমাসকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়: মিলনার্থক, বিরোধার্থক, বিপরীতার্থক, সমার্থক, অঙ্গবাচক ইত্যাদি।
সহচর শব্দ মানে যে দুটি জিনিস সাধারণত একসঙ্গে চলে বা ব্যবহার হয়। ধুতি আর চাদর একসঙ্গে পরার পোশাক; ধুতি ও চাদর মিলে ধুতি-চাদর। তাই এটি সহচর শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাস।
অন্যগুলো অন্য শ্রেণির: ঘর ও বার বিপরীত অর্থের, আকার ও ইঙ্গিত প্রায় একই অর্থের, আর বুক ও পিঠ শরীরের অঙ্গ, তাই অঙ্গবাচক। সব কটিই দ্বন্দ্ব সমাস, কিন্তু উপশ্রেণি আলাদা; এটাই প্রশ্নের ফাঁদ।
মনে রাখুন: চারটিই দ্বন্দ্ব হলে অর্থের সম্পর্ক দেখুন: উল্টো, একই, অঙ্গ, নাকি একসঙ্গে চলা।
৭১৮. 'ফুটপাতে ওরা সব এলিয়ে পড়ে রয়েছে। ছড়ানো খড় যেন।' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্-র 'নয়নচারা' গল্প থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশটি __ এর দৃষ্টান্ত । (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০১৮)
- কউৎপ্রেক্ষাঋদ্ধ চিত্রকল্প
- খউপমাসঞ্জাত রূপক
- গপ্রতীকায়িত ব্যাজস্তুতি
- ঘঅন্যাসক্ত রূপকাভাস
সঠিক উত্তর: ক. উৎপ্রেক্ষাঋদ্ধ চিত্রকল্প
উদ্ধৃতিতে ফুটপাতে এলিয়ে পড়া মানুষগুলোকে বলা হয়েছে “ছড়ানো খড় যেন”। এখানে যেন শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ: উপমেয়কে উপমান বলে কল্পনা বা সংশয় করলে তাকে বলে উৎপ্রেক্ষা অলংকার, আর যেন, মনে হয়, বুঝি এই শব্দগুলো তার চিহ্ন।
এই উৎপ্রেক্ষা দিয়ে লেখক চোখের সামনে একটা ছবি তৈরি করেছেন: দুর্ভিক্ষে নিস্তেজ মানুষ খড়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে আছে। ভাষার মাধ্যমে এমন ছবি তৈরি করাকে বলে চিত্রকল্প। তাই উত্তর উৎপ্রেক্ষাঋদ্ধ চিত্রকল্প।
রূপকে উপমেয় আর উপমানকে অভিন্ন বলা হয়, যেমন মুখচন্দ্র; সেখানে যেন থাকে না। ব্যাজস্তুতিতে নিন্দার ছলে প্রশংসা বা প্রশংসার ছলে নিন্দা থাকে। এই উদ্ধৃতিতে এগুলোর কোনোটিই নেই।
মনে রাখুন: যেন দেখলেই উৎপ্রেক্ষা; মতো দেখলে উপমা; কিছু না থাকলে রূপক।
৭১৯. 'Brevity is the soul of wit' এর যথাযথ বাংলা অনুবাদ? (বাংলাদেশ ব্যাংক: সহকারী পরিচালক, সাধারণ) (২০১৮)
- কঅতি অল্প হইল
- খমানিকের খানিক ভালো
- গপ্রাণের কথা বুকে বাজে
- ঘকথা কম কাজ বেশি
সঠিক উত্তর: খ. মানিকের খানিক ভালো
Brevity is the soul of wit কথাটি শেক্সপিয়রের হ্যামলেট নাটকে পোলোনিয়াসের সংলাপ। Brevity মানে সংক্ষিপ্ততা, wit মানে বুদ্ধিদীপ্ত কথা। মানে, অল্প কথাতেই বুদ্ধির আসল সৌন্দর্য।
বাংলা প্রবাদ মানিকের খানিক ভালো মানে মূল্যবান জিনিস অল্প হলেই ভালো। অল্পতেই মূল্য, এই ভাবটি মিলে যায় বলে এটিকে যথাযথ ভাবানুবাদ ধরা হয়।
প্রবাদ অনুবাদে শব্দে শব্দে নয়, ভাব মিলিয়ে দেখতে হয়। অতি অল্প হইল কথাটি অল্পকে অভাব হিসেবে দেখায়, আর কথা কম কাজ বেশি কাজের কথা বলে, বুদ্ধির নয়; এটাই প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: প্রবাদ অনুবাদে শব্দ নয়, ভাব মেলান: অল্পেই মূল্য।
৭২০. বাংলা নাটকের ফর্ম ও ভাষা নিয়ে নিরীক্ষাধর্মী কাজ করেছেন - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৮)
- কমঈনুল আহসান সাবের
- খকায়েস আহমেদ
- গমামুন আহমেদ
- ঘসেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর: ঘ. সেলিম আল দীন
বাংলা নাটকের ফর্ম ও ভাষা নিয়ে সবচেয়ে বেশি নিরীক্ষা করেছেন নাট্যকার সেলিম আল দীন। তাঁকে বলা হয় নাট্যাচার্য।
তিনি পাশ্চাত্যের অঙ্ক ও দৃশ্যভাগের কাঠামো ছেড়ে বাংলার নিজস্ব পরিবেশনা রীতি, যেমন পাঁচালি, কথকতা ও মঙ্গলকাব্যের বর্ণনা, নাটকে ফিরিয়ে আনেন। তাঁর এই রীতিকে বলা হয় বর্ণনাত্মক নাট্যরীতি বা কথানাট্য।
তাঁর বিখ্যাত নাটক কিত্তনখোলা, কেরামতমঙ্গল, হাত হদাই, চাকা, যৈবতী কন্যার মন ও হরগজ। ভাষাতেও তিনি আঞ্চলিক ও কাব্যিক ভাষা মিশিয়ে নতুন রূপ দেন।
মঈনুল আহসান সাবের মূলত ঔপন্যাসিক, আর কায়েস আহমেদ ছোটগল্পকার; তাঁদের পরিচিতি নাটকের নিরীক্ষায় নয়।
মনে রাখুন: নাটকের ফর্ম, কথানাট্য, বর্ণনাত্মক রীতি শুনলেই সেলিম আল দীন।