বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৩৭
৭২১. চর্যাপদ হলো - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৮)
- কএকগুচ্ছ ধর্মোপদেশ
- খসাধন সংগীত
- গজীবনাচরণ পদ্ধতি
- ঘদেবী বন্দনা
সঠিক উত্তর: খ. সাধন সংগীত
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন। এটি বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের লেখা সাধন সংগীত, মানে সাধনার গান।
সিদ্ধাচার্যরা তাঁদের গোপন ধর্মসাধনার তত্ত্ব রূপক আর প্রতীকের মাধ্যমে গানের আকারে লিখেছেন। প্রতিটি পদের শুরুতে রাগের নাম দেওয়া আছে, তাই এগুলো গাওয়ার জন্যই লেখা।
১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। এর ভাষাকে বলা হয় সন্ধ্যা ভাষা, কারণ এর অর্থ আলো-আঁধারির মতো, পুরো স্পষ্ট নয়।
চর্যাপদে ধর্মের কথা থাকায় অনেকে একগুচ্ছ ধর্মোপদেশ বেছে নেন। কিন্তু এগুলো উপদেশ নয়, সাধনার গান।
মনে রাখুন: চর্যা মানে আচরণ, পদ মানে গান: সাধকের আচরণের গান।
৭২২. বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ নয় - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৮)
- কসজল
- খসপ্ন
- গসুশ্রী
- ঘএকগুঁয়ে
সঠিক উত্তর: খ. সপ্ন
বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ প্রধান হয় না, বরং তৃতীয় কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়। ব্যাসবাক্যে তাই যার, যাতে, যে ধরনের শব্দ আসে।
সজল মানে জলের সঙ্গে বর্তমান যা, এটি সহার্থক বহুব্রীহি। সুশ্রী মানে শোভন শ্রী যার, এটি সমানাধিকরণ বহুব্রীহি। একগুঁয়ে মানে এক দিকে গোঁ যার, এটি প্রত্যয়যুক্ত বহুব্রীহি।
সপ্ন, মানে স্বপ্ন, কোনো সমাসবদ্ধ পদই নয়; এটি একটি মৌলিক শব্দ। তাই বহুব্রীহির উদাহরণ নয় এমন শব্দ এটিই।
স দিয়ে শুরু হওয়ায় সজল আর সুশ্রীকে অনেকে উপসর্গযুক্ত সাধারণ শব্দ ভাবেন, কিন্তু দুটোই বহুব্রীহি সমাস।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে যার, যাতে বসানো গেলে বহুব্রীহি; যেমন সবাক, সফল, নীলকণ্ঠ।
৭২৩. নিচের কোনটি একটি মাইকেল ধাতুর দৃষ্টান্ত - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৮)
- কবেড়ি
- খপবিত্রি
- গঢালি
- ঘরাঙ্গি
সঠিক উত্তর: খ. পবিত্রি
বিশেষ্য বা বিশেষণ শব্দকে ক্রিয়ার মূল হিসেবে ব্যবহার করলে তাকে বলে নামধাতু। মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর কাব্যে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ থেকে এমন অনেক নতুন নামধাতু তৈরি করেছিলেন, যেগুলোকে বলা হয় মাইকেলি ধাতু।
পবিত্র একটি তৎসম বিশেষণ। একে ধাতু বানিয়ে পবিত্রি, আর তা থেকে অতীত কালের কাব্যিক রূপ পবিত্রিলা, মানে পবিত্র করল। মাইকেল এভাবেই গম্ভীর তৎসম শব্দকে সরাসরি ক্রিয়া বানিয়ে মহাকাব্যের ভাষা তৈরি করেছেন।
বেড়ি, ঢালি, রাঙ্গি এগুলোও নামধাতু, তবে এরা দেশি বা তদ্ভব শব্দ থেকে আসা এবং মুখের ভাষায় বহুদিন ধরে চলছে, যেমন বেড়া থেকে বেড়ানো, ঢাল থেকে ঢালা, রাঙা থেকে রাঙানো। এগুলো মাইকেলের নিজস্ব সৃষ্টি নয়।
তাই প্রশ্নের চাবিকাঠি হলো তৎসম শব্দ থেকে কবির হাতে তৈরি ধাতু খোঁজা; অপশনগুলোর মধ্যে শুধু পবিত্রি তেমন।
মনে রাখুন: অপশনে তৎসম শব্দ থেকে বানানো ক্রিয়ামূল খুঁজুন; দেশি শব্দ থেকে আসা চলিত নামধাতু বাদ।
৭২৪. প্রাচীন রোমান্সমূলক প্রণয়োপাখ্যানের রচয়িতা - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৮)
- কদৌলত উজির বাহরাম খান
- খআলাওল
- গশাহ মুহাম্মদ সগীর
- ঘজৈনুদ্দিন
সঠিক উত্তর: গ. শাহ মুহাম্মদ সগীর
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে প্রণয়োপাখ্যান বা রোমান্টিক প্রেমকাহিনির ধারা শুরু করেন শাহ মুহম্মদ সগীর। তাঁর ইউসুফ-জোলেখা এই ধারার প্রাচীনতম কাব্য।
তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি মনে করা হয়। ধারণা করা হয়, তিনি সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সময়ে, চতুর্দশ শতকের শেষ বা পঞ্চদশ শতকের শুরুতে কাব্যটি লেখেন।
বাকি তিনজনও প্রণয়োপাখ্যান লিখেছেন, তবে পরে। দৌলত উজির বাহরাম খান লেখেন লায়লী-মজনু, আর আলাওল লেখেন পদ্মাবতী। জৈনুদ্দিনের বিখ্যাত কাব্য রসুলবিজয়, যা প্রণয়কাব্য নয়।
প্রশ্নে প্রাচীন শব্দটিই মূল সূত্র। আলাওল সবচেয়ে বিখ্যাত বলে অনেকে তাঁকে বেছে নেন, কিন্তু তিনি সপ্তদশ শতকের কবি।
মনে রাখুন: প্রথম মুসলমান কবি, প্রথম প্রণয়োপাখ্যান, ইউসুফ-জোলেখা: তিনটিই শাহ মুহম্মদ সগীর।
৭২৫. শামসুদ্দীন আবুল কালামের সাহিত্যের মুখ্য উপজীব্য হলো - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৮)
- কমানবচৈতন্য ও দর্শন
- খনিম্নবর্গের মানুষ ও তাদের জীবন
- গদেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
- ঘনাগরিক জীবনের রূপ রূপান্তর
সঠিক উত্তর: খ. নিম্নবর্গের মানুষ ও তাদের জীবন
উপজীব্য মানে যে বিষয়কে ভিত্তি করে লেখা হয়। শামসুদ্দীন আবুল কালামের কথাসাহিত্যের মূল বিষয় গ্রামবাংলার নিম্নবর্গের মানুষ আর তাদের জীবনসংগ্রাম।
তিনি বরিশাল অঞ্চলের মানুষ, তাই নদীতীরের জেলে, মাঝি, কৃষক আর দরিদ্র মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাঁর লেখায় বারবার এসেছে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস কাশবনের কন্যা, আলমনগরের উপকথা, কাঞ্চনগ্রাম ও দুই মহল। গল্পগ্রন্থের মধ্যে আছে অনেক দিনের আশা ও ঢেউ।
নাগরিক জীবন বা দর্শনচর্চা তাঁর লেখার কেন্দ্রে নয়; তিনি মূলত গ্রামীণ জীবনের লেখক।
মনে রাখুন: কাশবনের কন্যা মনে থাকলেই বোঝা যায়, তাঁর বিষয় গ্রামের সাধারণ মানুষ।
৭২৬. পাকিস্তান আমলে সামরিক শাসনের প্রতিক্রিয়ায় বাঙালি লেখকরা বক্তব্য প্রকাশ করেছেন - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৮)
- কমিথ রূপকের অবয়ব
- খবিশিষ্ট ভাষারীতি
- গবিশিষ্ট কাঠামো
- ঘঅতিপ্রাকৃত আবহ
সঠিক উত্তর: ক. মিথ রূপকের অবয়ব
পাকিস্তান আমলে, বিশেষ করে ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের পর, সরাসরি সরকারের সমালোচনা করা ছিল বিপজ্জনক। তাই লেখকরা প্রতিবাদ জানাতে মিথ, রূপক ও প্রতীকের আশ্রয় নেন।
পুরাণ বা লোককাহিনির চরিত্র দিয়ে গল্প বললে সরাসরি শাসকের নাম নিতে হয় না, অথচ পাঠক ঠিকই আসল অর্থ বুঝে নেন। একে বলে রূপকের অবয়বে বক্তব্য প্রকাশ।
উদাহরণ হিসেবে শওকত ওসমানের ক্রীতদাসের হাসি, যা প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। আরব্য রজনীর খলিফা হারুনুর রশীদের কাহিনির আড়ালে এটি আইয়ুবের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। শামসুর রাহমানের কবিতায়ও এমন প্রতীকী প্রতিবাদ আছে।
বিশিষ্ট ভাষারীতি বা কাঠামো লেখার বৈশিষ্ট্য হতে পারে, কিন্তু সেন্সর এড়িয়ে প্রতিবাদের প্রধান কৌশল ছিল মিথ আর রূপক।
মনে রাখুন: সামরিক শাসনে সাহিত্য মানেই রূপক; উদাহরণ ক্রীতদাসের হাসি।
৭২৭. তরজা হলো - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৮)
- কএক প্রকার সাহিত্য
- খপ্রার্থনা সংগীত বিশেষ
- গকবিগান জাতীয় লোকসংগীত
- ঘপাঁচালির বিবর্তিত রূপ
সঠিক উত্তর: গ. কবিগান জাতীয় লোকসংগীত
তরজা হলো কবিগান জাতীয় এক ধরনের লোকসংগীত। এখানে দুই দল বা দুই কবি মুখোমুখি বসে গানে গানে প্রশ্ন আর উত্তরের লড়াই করেন।
এক পক্ষ ছড়ার মতো গানে কোনো ধাঁধা বা প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, অন্য পক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে গান বেঁধে তার জবাব দেয়। তাই উপস্থিত বুদ্ধি আর মুখে মুখে ছড়া বানানোর দক্ষতাই তরজার প্রাণ।
কবিগান, কবির লড়াই আর তরজা একই পরিবারের, সবখানেই প্রতিযোগিতামূলক গান। বিখ্যাত কবিয়ালদের মধ্যে আছেন ভোলা ময়রা, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি ও রমেশ শীল।
পাঁচালি হলো বর্ণনামূলক গান ও কথা, আর প্রার্থনা সংগীত ভক্তিমূলক; তরজার তর্কযুদ্ধের চরিত্র এদের নেই।
মনে রাখুন: তরজা মানে তর্ক করে গান; তাই কবিগানের আত্মীয়।
৭২৮. অভি - উপসর্গ নিচের যে অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৮)
- কসম্যক
- খআগমন
- গআধিপত্য
- ঘব্যাপ্তি
সঠিক উত্তর: ক. সম্যক
অভি একটি তৎসম উপসর্গ। এটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার একটি হলো সম্যক বা পুরোপুরি। যেমন অভিজ্ঞ মানে যিনি সম্যকভাবে জানেন, অভিব্যক্ত মানে সম্যকভাবে প্রকাশিত।
অভির আরেকটি পরিচিত অর্থ সম্মুখ বা দিকে, যেমন অভিমুখ, অভিযান। আবার বিশেষ অর্থেও আসে, যেমন অভিনব।
আধিপত্য অর্থ দেয় অধি উপসর্গ, যেমন অধিপতি, অধিকার। ব্যাপ্তি বা পর্যন্ত অর্থ দেয় আ উপসর্গ, যেমন আকণ্ঠ, আসমুদ্র।
অভি আর অধি শুনতে কাছাকাছি, তাই আধিপত্য অপশনটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
মনে রাখুন: অভিজ্ঞ শব্দটা মনে রাখুন: সম্যক জানা মানেই অভি।
৭২৯. খোশমেজাজ যে ধরনের সমাসের উদাহরণ - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৮)
- কসাধারণ কর্মধারয়
- খসমানাধিকরণ বহুব্রীহি
- গব্যধিকরণ বহুব্রীহি
- ঘউপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর: খ. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
খোশমেজাজ মানে খুশি মেজাজের মানুষ। এর ব্যাসবাক্য হলো খোশ মেজাজ যার। যার শব্দটি দেখাচ্ছে, অর্থ প্রধান হচ্ছে তৃতীয় এক ব্যক্তির, তাই এটি বহুব্রীহি।
বহুব্রীহির পূর্বপদ বিশেষণ আর পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে বলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি। এখানে খোশ, মানে খুশি, বিশেষণ, আর মেজাজ বিশেষ্য।
দুটি পদই বিশেষ্য হলে হতো ব্যধিকরণ বহুব্রীহি, যেমন আশীবিষ: আশীতে বিষ যার। একই নিয়মের আরও উদাহরণ: নীলকণ্ঠ, পীতাম্বর, হতশ্রী।
খোশমেজাজকে শুধু খুশি মেজাজ ভাবলে কর্মধারয় মনে হয়। কিন্তু শব্দটি মেজাজকে নয়, মেজাজওয়ালা মানুষকে বোঝায়; তাই বহুব্রীহি।
মনে রাখুন: যার আছে আর পূর্বপদ বিশেষণ হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি: নীলকণ্ঠ, পীতাম্বর, খোশমেজাজ।
৭৩০. নিবিদ শব্দের অর্থ হলো - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৮)
- কসমাধান
- খবৈদিক মন্ত্র
- গপুরাণের গল্প
- ঘসহায়হীন
সঠিক উত্তর: খ. বৈদিক মন্ত্র
নিবিদ একটি তৎসম শব্দ, এসেছে বৈদিক সংস্কৃত থেকে। এর অর্থ বৈদিক মন্ত্রবিশেষ, বিশেষ করে যজ্ঞে দেবতাদের আহ্বান জানানোর মন্ত্র।
বৈদিক যজ্ঞে স্তোত্র পাঠের মাঝখানে কিছু নির্দিষ্ট আহ্বানবাক্য ঢোকানো হতো, যেগুলোতে দেবতাদের নাম ধরে যজ্ঞে আসার অনুরোধ থাকত। এগুলোকেই বলা হয় নিবিদ।
শব্দটি পুরাণের সঙ্গে নয়, বেদের সঙ্গে যুক্ত। পুরাণ রচিত হয়েছে অনেক পরে, আর পুরাণের গল্পকে বলা হয় উপাখ্যান।
নিবিদ শব্দটি শুনতে নিবিড় বা নিঃসহায়ের মতো লাগায় কেউ কেউ সহায়হীন বেছে নেন; এটা শুধু শব্দের মিল থেকে আসা ভুল।
মনে রাখুন: নিবিদ মানে বেদের আহ্বান-মন্ত্র; নিবিড়ের সঙ্গে গুলাবেন না।
৭৩১. সৌধ শব্দের প্রমিত উচ্চারণ হলো - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৮)
- কসৌউধ
- খশৌউধ
- গসৌউধো
- ঘশৌউধো
সঠিক উত্তর: ঘ. শৌউধো
সৌধ শব্দের প্রমিত উচ্চারণ শোউধো। এখানে তিনটি নিয়ম কাজ করছে, আর অপশনগুলো ঠিক এই তিন জায়গাতেই আলাদা।
প্রথম নিয়ম: বাংলায় স সাধারণত শ উচ্চারিত হয়। শুধু ত, থ, ন, র, ল-এর সঙ্গে যুক্ত হলে, যেমন স্তম্ভ, স্নান, স্রোত, তখন দন্ত্য স উচ্চারিত হয়। সৌধে স একা, তাই উচ্চারণ শ।
দ্বিতীয় নিয়ম: ঔ একটি যৌগিক স্বর, উচ্চারণ ও আর উ মিলিয়ে ওউ। তৃতীয় নিয়ম: ঐ বা ঔ-কারযুক্ত বর্ণের পরে শব্দের শেষের অ সাধারণত ও উচ্চারিত হয়, যেমন দৈব দোইবো, মৌন মোউনো, সৌধ শোউধো।
অপশনে শৌউধো লেখা হলেও তা শোউধো অর্থেই দেওয়া; শুরুতে শ আর শেষে ও, দুটো শর্ত মেলে কেবল এটিতে। স দিয়ে শুরু বা শেষে ও না থাকা অপশনগুলো বাদ।
মনে রাখুন: উচ্চারণের প্রশ্নে দেখুন তিনটি জিনিস: স না শ, যৌগিক স্বর ভাঙা হয়েছে কি না, আর শেষে অ না ও।
৭৩২. বিদেশি উপসর্গজাত শব্দের দৃষ্টান্ত - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৮)
- কপাতিলেবু
- খদরদালান
- গহাভাতে
- ঘছিঁচকাঁদুনে
সঠিক উত্তর: খ. দরদালান
দরদালান শব্দে দর একটি ফারসি উপসর্গ, যার অর্থ মধ্যস্থ বা ভেতরের। দালানের ভেতরের দালান, মানে বারান্দা বা অলিন্দ, তাই দরদালান। এটাই বিদেশি উপসর্গজাত শব্দ।
বাংলায় তিন ধরনের উপসর্গ আছে: খাঁটি বাংলা, তৎসম বা সংস্কৃত, আর বিদেশি। বিদেশি উপসর্গের মধ্যে ফারসি কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে; আরবি আম, খাস, লা; ইংরেজি হেড, সাব; আর হিন্দি হর অন্যতম।
পাতিলেবুর পাতি আর হাভাতের হা খাঁটি বাংলা উপসর্গ। পাতি মানে ছোট, যেমন পাতিহাঁস; হা মানে অভাব, যেমন হাঘরে। ছিঁচকাঁদুনে একটি খাঁটি বাংলা শব্দ, এতে কোনো বিদেশি উপসর্গ নেই।
দর আর দালান দুটোই ফারসি থেকে আসা বলে মনে রাখা সহজ। দরপত্তনি শব্দেও একই দর উপসর্গ।
মনে রাখুন: ফারসি উপসর্গের তালিকা মনে রাখুন: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে। যেমন কারখানা, নারাজ, বেহায়া।
৭৩৩. Cognizable শব্দটির বাংলা পরিভাষা - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৮)
- কসুষম
- খঅবহিতি
- গআমলযোগ্য
- ঘবোধজাত
সঠিক উত্তর: গ. আমলযোগ্য
Cognizable শব্দের প্রশাসনিক বাংলা পরিভাষা আমলযোগ্য। আইন ও প্রশাসনে এই শব্দটি বহুল ব্যবহৃত।
আমলযোগ্য অপরাধ মানে এমন অপরাধ, যার জন্য পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের পরোয়ানা ছাড়াই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে ও তদন্ত শুরু করতে পারে, যেমন খুন বা ডাকাতি। উল্টোটা হলো আমল-অযোগ্য, মানে non-cognizable অপরাধ।
Cognizance শব্দের অর্থ আমলে নেওয়া, যেমন আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছে। তাই Cognizable মানে যা আমলে নেওয়ার যোগ্য।
cognize শব্দের সাধারণ অর্থ বোঝা বা জানা, তাই অনেকে বোধজাত বেছে নেন। কিন্তু পরিভাষার প্রশ্নে প্রশাসনিক অর্থটাই চাওয়া হয়।
মনে রাখুন: পরিভাষার প্রশ্নে সাধারণ অভিধানের অর্থ নয়, অফিস-আদালতের অর্থ খুঁজুন।
৭৩৪. He is gone to dogs বাক্যটির যথার্থ অনুবাদ হলো - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৮)
- কতাকে পাগলা কুকুরে ধরেছে
- খতার মাথা খারাপ হয়েছে
- গসে গোল্লায় গেছে
- ঘসে এখন লাপাত্তা
সঠিক উত্তর: গ. সে গোল্লায় গেছে
Go to the dogs একটি ইংরেজি ইডিয়ম, যার অর্থ উচ্ছন্নে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়া। বাংলায় এর সবচেয়ে কাছের বাগ্ধারা হলো গোল্লায় যাওয়া।
তাই He has gone to the dogs বাক্যের যথার্থ অনুবাদ: সে গোল্লায় গেছে। প্রশ্নে লেখা is gone পুরোনো রীতির রূপ, অর্থ একই।
ইডিয়ম অনুবাদ করতে হয় ভাব ধরে, শব্দ ধরে নয়। শব্দে শব্দে অনুবাদ করলে কুকুরের কথা আসে, যা এখানে সম্পূর্ণ ভুল।
তাকে পাগলা কুকুরে ধরেছে অপশনটি ঠিক এই আক্ষরিক অনুবাদের ফাঁদ।
মনে রাখুন: ইংরেজি ইডিয়মের অনুবাদে সমার্থক বাংলা বাগ্ধারা খুঁজুন, কুকুর বা বিড়াল খুঁজবেন না।
৭৩৫. নথ নাড়া বাগধারাটির অর্থ - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৮)
- কক্ষোভ প্রকাশ
- খনিন্দা করা
- গতুষ্ট করা
- ঘঅহংকার প্রকাশ
সঠিক উত্তর: ঘ. অহংকার প্রকাশ
নথ নাড়া বাগ্ধারার অর্থ অহংকার প্রকাশ করা। নথ হলো নাকের গয়না।
কেউ যখন গর্ব দেখাতে মাথা দুলিয়ে কথা বলে, তখন নাকের নথও দোলে। এই ছবি থেকেই বাগ্ধারাটি এসেছে: নথ নেড়ে কথা বলা মানে দেমাক দেখানো।
উদাহরণ: সামান্য কিছু টাকা হাতে আসতেই সে নথ নাড়তে শুরু করেছে।
রাগ দেখানোকে অনেকে নথ নাড়া ভাবেন; কিন্তু ক্ষোভ প্রকাশের বাগ্ধারা অন্য, যেমন গায়ের ঝাল ঝাড়া।
মনে রাখুন: দেমাক বোঝাতে বাগ্ধারা: নথ নাড়া, ধরাকে সরা জ্ঞান, মাটিতে পা না পড়া।
৭৩৬. 'লুব্ধ' শব্দের অর্থ - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কলোলুপ
- খলোভ
- গলাভ করা
- ঘলাভজনক
সঠিক উত্তর: ক. লোলুপ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে লুব্ধ শব্দের অর্থ। লুব্ধ একটি তৎসম বিশেষণ, অর্থ লোভী বা লোলুপ, অর্থাৎ কোনো কিছু পাওয়ার জন্য যে খুব লালায়িত। তাই উত্তর লোলুপ।
শব্দটি এসেছে লুভ্ ধাতু থেকে, যার অর্থ লোভ করা; এর সঙ্গে ক্ত প্রত্যয় যোগে লুব্ধ। একই ধাতু থেকে এসেছে লোভ আর লোভী। সাহিত্যে প্রায়ই পড়বেন মধুলুব্ধ ভ্রমর, মানে মধুর লোভে মত্ত ভ্রমর।
অর্থের প্রশ্নে পদ মেলানো জরুরি। লুব্ধ বিশেষণ, তাই তার অর্থও হবে বিশেষণ: লোলুপ। লোভ বিশেষ্য, মানে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা; লাভ করা ক্রিয়া, মানে পাওয়া; আর লাভজনক মানে যাতে মুনাফা হয়।
ফাঁদ হলো লোভ: অর্থের দিক থেকে কাছাকাছি হলেও এটি বিশেষ্য, আর লুব্ধ বিশেষণ। লাভ আর লোভ শব্দের ধ্বনির মিলও এখানে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা।
মনে রাখুন: অর্থের প্রশ্নে আগে পদ মেলান: লুব্ধ বিশেষণ, তাই অর্থও বিশেষণ, লোলুপ বা লোভী।
৭৩৭. নিচের সমাসবদ্ধ শব্দ হলো - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কউচ্চশাখা
- খসবেগ
- গপ্রবৃত্তি
- ঘঅনতিদূরে
সঠিক উত্তর: ঘ. অনতিদূরে
অনতিদূরে শব্দটি নঞ তৎপুরুষ সমাসে গঠিত: ন অতিদূর, অর্থাৎ যা খুব দূরে নয়, তার সঙ্গে এ বিভক্তি যুক্ত হয়ে অনতিদূরে। ন বা নঞ এর পর অ বা অন আসে; স্বরবর্ণ দিয়ে শুরু শব্দের আগে বসে অন, যেমন অন্ অতি মিলে অনতি।
একই নিয়মে গঠিত আরও শব্দ: অনতিদীর্ঘ, অনতিবৃহৎ, অনাদি, অনাচার, অজানা, অচেনা, অকেজো।
প্রবৃত্তি সমাস নয়, এটি প্র উপসর্গ আর বৃৎ ধাতু ও ক্তি প্রত্যয়ে গঠিত শব্দ। উচ্চশাখা আর সবেগ নিয়ে সতর্কতা দরকার: উচ্চ যে শাখা ধরে কর্মধারয়, আর বেগের সহিত বর্তমান ধরে সবেগ সহার্থক বহুব্রীহি হিসেবেও ব্যাখ্যা করা যায়।
তাই প্রশ্নটি নিখুঁত নয়; সম্ভবত প্রশ্নকর্তা নঞ তৎপুরুষ সমাসের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ চেয়েছেন, আর দুই উৎসের চাবিতেই উত্তর অনতিদূরে।
মনে রাখুন: শব্দের শুরুতে অ, অন, না, নি থাকলে আর অর্থে নয় বা নেই বোঝালে আগে নঞ তৎপুরুষ ভাবুন।
৭৩৮. হু হু করে বায়ু ফেলিছে সতত দীর্ঘশ্বাস, বলতে বোঝানো হয়েছে - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কঅনিশ্চয়তা
- খআকস্মিকতা
- গযোগাযোগহীনতা
- ঘআশঙ্কা
সঠিক উত্তর: ক. অনিশ্চয়তা
পঙ্ক্তিটিতে বাতাসকে মানুষের মতো দীর্ঘশ্বাস ফেলতে দেখানো হয়েছে। মানুষ দীর্ঘশ্বাস ফেলে তখনই, যখন মন অস্থির, ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত হতে পারে না।
হু হু শব্দটি বাতাসের একটানা শূন্য, হাহাকার ভরা আওয়াজ বোঝায়, আর সতত মানে সব সময়। তাই বাতাস অবিরাম দীর্ঘশ্বাস ফেলছে মানে চারপাশে একটা স্থায়ী অস্থিরতা, কী হবে তা জানা নেই; দুই উৎসের চাবি অনুযায়ী এখানে প্রকাশ পেয়েছে অনিশ্চয়তা।
আকস্মিকতা মানে হঠাৎ কিছু ঘটা, কিন্তু সতত বা অবিরাম শব্দটি হঠাৎ ঘটনার উল্টো। যোগাযোগহীনতার কোনো ইঙ্গিত পঙ্ক্তিতে নেই।
ফাঁদ হলো আশঙ্কা: দীর্ঘশ্বাসে ভয়ের ছায়াও থাকে, তাই এটি কাছাকাছি মনে হয়। তবে আশঙ্কা মানে নির্দিষ্ট বিপদের ভয়, আর এখানে ভাবটি অস্থির, অনির্দিষ্ট, অর্থাৎ অনিশ্চয়তা।
মনে রাখুন: কবিতার ভাব খুঁজতে মূল শব্দের অর্থ ধরুন: সতত বাদ দেয় আকস্মিকতা, দীর্ঘশ্বাস ইঙ্গিত দেয় অনিশ্চয়তার।
৭৩৯. নিচের যে শব্দটিকে শাব্দিক অপপ্রয়োগ বলে বিবেচনা করা যায় - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কহেথায়
- খঅশ্রুজল
- গঅম্বরতল
- ঘঅন্ধআবেগ
সঠিক উত্তর: খ. অশ্রুজল
শাব্দিক অপপ্রয়োগের একটি ধরন হলো বাহুল্য দোষ: একই অর্থের দুটি শব্দ পাশাপাশি বসিয়ে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি করা। অশ্রুজল তার উদাহরণ।
অশ্রু শব্দের অর্থই চোখের জল। তাই অশ্রুর সঙ্গে আবার জল যোগ করলে একই কথা দুবার বলা হয়। শুধু অশ্রু বা চোখের জল লেখাই শুদ্ধ।
একই ধরনের বাহুল্যের আরও উদাহরণ: সকল ছাত্রগণ, শুধুমাত্র, সুধীবৃন্দগণ। প্রতিটিতে একটি অংশের অর্থ অন্য অংশেই আছে।
অম্বরতল আর হেথায় কবিতায় ব্যবহৃত বৈধ শব্দ। অন্ধআবেগ দেখতে অদ্ভুত লাগলেও অন্ধ মানে বিচারহীন, তাই এখানে অর্থের পুনরাবৃত্তি নেই; এটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: দুটি শব্দের একটির অর্থ অন্যটির ভেতরে থাকলে বাহুল্য দোষ: সকল ছাত্রগণ, অশ্রুজল, শুধুমাত্র।
৭৪০. নিচের যেটি ফুলের নাম নয় - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কজরদ
- খকরবী
- গকুরুবক
- ঘসেঁউতি
সঠিক উত্তর: ক. জরদ
জরদ একটি ফারসি শব্দ, অর্থ হলুদ বা পীত বর্ণ। এটি রঙের নাম, ফুলের নাম নয়; তাই উত্তর জরদ। জর্দা শব্দটিও একই উৎস থেকে, হলদে রঙের কারণে।
কুরুবক বা কুরবক একটি ফুল, সংস্কৃত কাব্যে বসন্তের ফুল হিসেবে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। সেঁউতি এক ধরনের সাদা গোলাপজাতীয় ফুল; সেঁউতি শব্দের আরেক অর্থ জল সেঁচার পাত্র।
করবী একটি পরিচিত ফুল, যার গাছ বাগানে ও রাস্তার ধারে দেখা যায়। বানানে সাবধান: কবরী লিখলে অর্থ হয় খোঁপা, ফুল নয়।
তাই চারটির মধ্যে করবী, কুরুবক ও সেঁউতি ফুলের নাম, আর জরদ রঙের নাম। ফাঁদ হলো অপরিচিত শব্দ দেখে কুরুবক বা সেঁউতিকে ফুল নয় ভেবে ফেলা।
মনে রাখুন: অচেনা শব্দে উৎস ভাবুন: জর্দা আর জরদ একই মূলের, দুটোই হলদে।