বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৩৫
৬৮১. অর্থবোধক ধ্বনিকে বলা হয়? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- কবাক্য
- খউপসর্গ
- গশব্দ
- ঘপ্রত্যয়
সঠিক উত্তর: গ. শব্দ
এক বা একাধিক ধ্বনি মিলে যদি কোনো অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বলে শব্দ। তাই অর্থবোধক ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিই শব্দ।
ভাষার একক গুলো ছোট থেকে বড় ক্রমে সাজালে বোঝা সহজ: ধ্বনি হলো উচ্চারণের ক্ষুদ্রতম একক, যার নিজের অর্থ নেই। ধ্বনি মিলে অর্থ তৈরি হলে শব্দ, আর শব্দ মিলে সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করলে বাক্য।
যেমন ক, ল, ম আলাদাভাবে শুধু ধ্বনি; মিলে কলম হলে একটা অর্থ পাওয়া যায়, তাই কলম একটি শব্দ। শব্দে বিভক্তি যোগ হয়ে বাক্যে বসলে তাকে বলে পদ।
ফাঁদ হলো বাক্য। বাক্যও অর্থবোধক, কিন্তু সেটি শব্দের সমষ্টি, সরাসরি ধ্বনির নয়, আর তা পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে। উপসর্গ ও প্রত্যয় শব্দ গঠনের উপাদান, নিজেরা স্বাধীন অর্থবোধক শব্দ নয়।
মনে রাখুন: ধ্বনি থেকে শব্দ, শব্দ থেকে বাক্য: অর্থ এলেই শব্দ।
৬৮২. 'চকমক' কোন ভাষার শব্দ? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- কফার্সি
- খআরবি
- গউর্দু
- ঘতুর্কি
সঠিক উত্তর: ঘ. তুর্কি
চকমক শব্দটি তুর্কি ভাষা থেকে এসেছে। তুর্কি ভাষায় চাকমাক মানে আগুন জ্বালানোর পাথর বা চকমকি; বাংলায় চকমকি পাথর থেকে শব্দটি পরিচিত।
মোগল ও তুর্কি শাসনামলে তুর্কি সেনা ও প্রশাসকদের মাধ্যমে কিছু শব্দ বাংলায় ঢুকেছে। পরিচিত তুর্কি শব্দ: কাঁচি, চাকু, তোপ, দারোগা, বাবুর্চি, বেগম, লাশ।
ফারসি ও আরবি শব্দ বাংলায় অনেক বেশি, তাই না জানলে অনেকে এদিকেই ঝোঁকেন। ফারসি শব্দের উদাহরণ: খোদা, নামাজ, রোজা, চশমা; আরবি: আদালত, কলম, কিতাব, হাকিম।
তাই উৎস মুখস্থ না থাকলে অনুমান না করে ছোট তুর্কি তালিকাটি মনে রাখুন; পরীক্ষায় বারবার এখান থেকেই আসে।
মনে রাখুন: তুর্কি শব্দের ছোট তালিকা: চকমক, কাঁচি, চাকু, তোপ, দারোগা, বাবুর্চি, বেগম, লাশ।
৬৮৩. নিচের কোনটি যুগ্মরীতির দ্বিরুক্ত শব্দ? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- কবই-টই
- খআয়-ব্যয়
- গঝম-ঝম
- ঘঠা-ঠা
- ঙ
সঠিক উত্তর: ক. বই-টই
দ্বিরুক্ত শব্দ মানে একই শব্দ বা কাছাকাছি শব্দ দুবার বসে বিশেষ অর্থ দেওয়া। এর একটি গঠন রীতি যুগ্মরীতি: মূল শব্দের সঙ্গে আরেকটি জোড়া শব্দ বসে, যা অবিকল একই নয়। প্রচলিত কি অনুযায়ী এখানে উত্তর বই-টই।
বই-টই শব্দে মূল শব্দ বই, আর তার জোড়া টই হলো ধ্বনি বদলে তৈরি অর্থহীন অনুকার শব্দ। দুটি মিলে অর্থ দাঁড়ায় বই ও তার মতো জিনিসপত্র। একই ধাঁচে জল-টল, কাপড়-চোপড়, গল্প-টল্প।
ঝম-ঝম আর ঠা-ঠা যুগ্মরীতি নয়। এগুলো ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি, যেখানে একটি ধ্বনি বা অনুভূতির অনুকারী শব্দ হুবহু দুবার বসে, যেমন বৃষ্টি পড়ছে ঝমঝম করে, রোদ ঠা-ঠা করছে।
সতর্ক থাকুন: অনেক ব্যাকরণ বইয়ে আয়-ব্যয়, দেনা-পাওনার মতো বিপরীতার্থক জোড়াকেও যুগ্মরীতির উদাহরণ ধরা হয়। তাই প্রশ্নটি নিয়ে মতভেদ আছে; পরীক্ষায় প্রচলিত উত্তর বই-টই।
মনে রাখুন: মূল শব্দের পরে ট বা চ দিয়ে শুরু হওয়া অর্থহীন জোড়া দেখলেই অনুকার জোড়া: বই-টই, জল-টল, কাপড়-চোপড়।
৬৮৪. 'মানব ' শব্দের সঠিক প্রকৃতি -প্রত্যয় কোনটি? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- কমনু + অব
- খমনু + ষ্ণ
- গমা + নব
- ঘমান + অব
সঠিক উত্তর: খ. মনু + ষ্ণ
মানব শব্দটি তদ্ধিত প্রত্যয়ে তৈরি: মনু এবং ষ্ণ। অর্থ মনুর সন্তান বা বংশধর। তাই সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় মনু যোগ ষ্ণ।
ষ্ণ প্রত্যয়ের নিয়ম হলো, প্রত্যয়ের ষ আর ণ লোপ পায়, থাকে শুধু অ। আর শব্দের প্রথম স্বরের বৃদ্ধি হয়: অ বদলে আ। তাই ম বদলে মা হয়।
শব্দের শেষের উ-কার এর সঙ্গে অ মিলে অব হয়। ফলে মনু থেকে মান, তারপর অব যোগে মানব। একই নিয়মে রঘু যোগ ষ্ণ হয় রাঘব, যদু যোগ ষ্ণ হয় যাদব।
ফাঁদ হলো মনু যোগ অব। দেখতে মিলে যায় বলে অনেকে এটি বেছে নেন, কিন্তু অব কোনো প্রত্যয় নয়; এটি উ-কার আর অ মিলে তৈরি পরিবর্তন। আর আদিস্বরের বৃদ্ধির কারণও ব্যাখ্যা হয় শুধু ষ্ণ প্রত্যয় দিয়ে।
মনে রাখুন: উ-কারান্ত নামের বংশধর বোঝাতে ষ্ণ: রঘু থেকে রাঘব, যদু থেকে যাদব, মনু থেকে মানব।
৬৮৫. 'সতীশ ' শব্দের সঠিক প্রকৃতি - প্রত্যয় কোনটি? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- কসতি + ইশ
- খসতি + ঈশ
- গসতী + ইশ
- ঘসতী + ঈশ
সঠিক উত্তর: ঘ. সতী + ঈশ
প্রশ্নে প্রকৃতি-প্রত্যয় বলা হলেও সতীশ শব্দটি আসলে স্বরসন্ধিতে তৈরি, আর বিকল্পগুলোও সন্ধিবিচ্ছেদের। সঠিক বিচ্ছেদ সতী যোগ ঈশ।
সতী মানে সাধ্বী নারী, আর ঈশ মানে প্রভু বা স্বামী। সতীশ মানে সতীর পতি, অর্থাৎ শিব।
নিয়মটি হলো, ঈ-কারের পরে ঈ থাকলে দুটি মিলে একটি ঈ হয়, আর সেটি আগের বর্ণে যুক্ত হয়। তাই সতী আর ঈশ মিলে সতীশ। একই নিয়মে ক্ষিতি যোগ ঈশ হয় ক্ষিতীশ, শ্রী যোগ ঈশ হয় শ্রীশ।
ফাঁদ ই-কার আর ঈ-কারের গোলমাল। সতী বানানে দীর্ঘ ঈ, আর প্রভু অর্থের ঈশ শব্দেও দীর্ঘ ঈ। ইশ বলে কোনো মূল শব্দ নেই, তাই ইশ থাকা বিকল্পগুলো বাদ।
মনে রাখুন: নামের শেষে ঈশ থাকলে প্রায়ই সন্ধি: গিরীশ (গিরি + ঈশ), ক্ষিতীশ, সতীশ।
৬৮৬. নিয়মানুসারে কোনটির সন্ধি (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- ককুলটা
- খকটাক্ষ
- গপশ্চার্ধ
- ঘদেশান্তর
সঠিক উত্তর: ঘ. দেশান্তর
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন শব্দের সন্ধি সাধারণ নিয়ম মেনে হয়েছে। বাকিগুলো নিপাতনে সিদ্ধ, মানে নিয়ম না মেনে প্রচলনের জোরে শুদ্ধ। উত্তর দেশান্তর।
দেশান্তর হলো দেশ যোগ অন্তর। নিয়ম: অ-কারের পরে অ থাকলে দুটি মিলে আ হয়, আর আ-কার আগের বর্ণে যুক্ত হয়। তাই দেশ এর শ বদলে শা, আর হয় দেশান্তর।
এবার নিপাতনে সিদ্ধ শব্দ দেখি। কুল যোগ অটা নিয়মে হওয়ার কথা কুলাটা, কিন্তু হয় কুলটা। পশ্চা যোগ অর্ধ হয় পশ্চার্ধ, এটিও নিপাতনে সিদ্ধ। পরীক্ষার কি অনুযায়ী কটাক্ষকেও নিয়মের উদাহরণ ধরা হয়নি, যদিও কট যোগ অক্ষ ভাঙলে নিয়মটি খাটে বলে মনে হয়; তাই প্রশ্নটি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির পরিচিত তালিকা: কুলটা, মার্তণ্ড, শুদ্ধোদন, গবাক্ষ, অন্যান্য, পশ্চার্ধ। এই তালিকা মুখস্থ থাকলে বাকি সাধারণ নিয়মের শব্দটি সহজেই আলাদা হয়ে যায়।
মনে রাখুন: নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির তালিকা: কুলটা, মার্তণ্ড, শুদ্ধোদন, গবাক্ষ, অন্যান্য, পশ্চার্ধ। তালিকার বাইরে যেটি, সেটিই নিয়মে।
৬৮৭. সমাস সাধিত পদ কোনটি? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- কচাষী
- খমানব
- গদম্পতি
- ঘবোনাই
সঠিক উত্তর: গ. দম্পতি
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন শব্দ সমাসে তৈরি, মানে দুই বা ততোধিক পূর্ণ শব্দ মিলে গঠিত। উত্তর দম্পতি।
দম্পতি হলো জায়া ও পতি, অর্থাৎ স্ত্রী ও স্বামী। দুটি পদের অর্থই সমান প্রাধান্য পায়, তাই এটি দ্বন্দ্ব সমাস। সমাসের সময় জায়া শব্দটি বদলে দম্ হয়ে যায়, তাই দম্পতি।
বাকি তিনটি প্রত্যয়ে তৈরি। চাষ এর সঙ্গে ঈ প্রত্যয় যোগে চাষী, যা এখন প্রমিত বানানে চাষি। মনু যোগ ষ্ণ প্রত্যয়ে মানব। আর বোন এর সঙ্গে আই প্রত্যয় যোগে বোনাই, মানে বোনের স্বামী।
পার্থক্যটা মনে রাখুন: সমাসে দুটি স্বাধীন শব্দ মেলে, আর প্রত্যয়ে একটি শব্দ বা ধাতুর সঙ্গে এমন অংশ যুক্ত হয়, যার নিজের স্বাধীন ব্যবহার নেই। ফাঁদ হলো বোনাই, কারণ এটি সম্পর্কের শব্দ বলে দম্পতির মতো শোনায়।
মনে রাখুন: জায়া বদলে দম্ বা জম্ হয়: দম্পতি, জম্পতি; দুটিই জায়া ও পতি।
৬৮৮. 'লাঠালাঠি' শব্দটি কোন সমাসের অন্তর্গত? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- কবহুব্রীহি
- খকর্মধারয়
- গদ্বন্দ্ব
- ঘতৎপুরুষ
সঠিক উত্তর: ক. বহুব্রীহি
লাঠালাঠি শব্দটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস। ব্যাসবাক্য: লাঠিতে লাঠিতে যে লড়াই।
ব্যতিহার মানে পারস্পরিক বিনিময়। যখন একই ধরনের দুটি বিশেষ্য পদ মিলে বোঝায় যে দুই পক্ষ পরস্পরের প্রতি একই কাজ করছে, যেমন মারামারি বা লড়াই, তখন হয় ব্যতিহার বহুব্রীহি।
সাধারণত প্রথম শব্দের শেষে আ এবং দ্বিতীয় শব্দের শেষে ই যুক্ত হয়। যেমন হাতাহাতি, কানাকানি, চুলোচুলি, কোলাকুলি, গলাগলি।
ফাঁদ হলো দ্বন্দ্ব, কারণ দুটি শব্দ পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু দ্বন্দ্বে দুই পদের অর্থই আলাদাভাবে প্রধান থাকে, যেমন মা-বাবা। এখানে লাঠি বা লাঠি কোনোটি প্রধান নয়, বোঝাচ্ছে তৃতীয় অর্থ, লড়াই; তাই বহুব্রীহি।
মনে রাখুন: প্রথমটায় আ, দ্বিতীয়টায় ই, অর্থ পারস্পরিক কাজ: ব্যতিহার বহুব্রীহি।
৬৮৯. 'অশ্ব রথ হস্তী ও পদাতিক সৈন্যের সমাহার' এক কথায় কি হবে? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- কশালপ্রাংশু
- খচতুরঙ্গ
- গসংসপ্তক
- ঘকুশীলব
সঠিক উত্তর: খ. চতুরঙ্গ
প্রাচীন ভারতে সেনাবাহিনীর চারটি অঙ্গ ছিল: হাতি, ঘোড়া, রথ আর পদাতিক সৈন্য। এই চার অঙ্গের সমাহারকে এক কথায় বলে চতুরঙ্গ।
শব্দটি চতুর্ মানে চার, আর অঙ্গ মিলে তৈরি। চার অঙ্গবিশিষ্ট সেনাবাহিনী, তাই চতুরঙ্গ বা চতুরঙ্গ বাহিনী। দাবা খেলাও এই সেনাবাহিনীর অনুকরণে তৈরি বলে এর প্রাচীন নাম চতুরঙ্গ।
সংসপ্তক মানে এমন সৈন্যদল, যারা জয় অথবা মৃত্যুর শপথ নিয়ে যুদ্ধ করে, পিছু হটে না। শহীদুল্লা কায়সারের বিখ্যাত উপন্যাসের নামও সংসপ্তক।
শালপ্রাংশু মানে শালগাছের মতো দীর্ঘ ও উন্নত দেহ। কুশীলব মানে নাটকের অভিনেতা বা পাত্র-পাত্রী। সংসপ্তকও যুদ্ধের শব্দ বলে এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: চার অঙ্গ মানে চতুরঙ্গ; সংখ্যাটাই উত্তর বলে দেয়।
৬৯০. অন্নদামঙ্গল কাব্য কোন যুগের কাব্য? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- কপ্রাচীন যুগ
- খঅন্ধকার যুগ
- গআধুনিক যুগ
- ঘমধ্যযুগ
সঠিক উত্তর: ঘ. মধ্যযুগ
অন্নদামঙ্গল কাব্য মধ্যযুগের রচনা। এর কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, যিনি নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন। কাব্যটি রচিত হয় ১৭৫২ থেকে ১৭৫৩ সালের দিকে।
অন্নদামঙ্গল মঙ্গলকাব্য ধারার অংশ, আর মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগের প্রধান সাহিত্যধারা। ভারতচন্দ্রকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ধরা হয়; অনেকে ১৭৬০ সালে তাঁর মৃত্যুকেই মধ্যযুগের শেষ সীমা ধরেন।
বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ প্রচলিত মতে: প্রাচীন যুগ, যার একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ; তারপর প্রায় ১২০১ থেকে ১৩৫০ পর্যন্ত অন্ধকার যুগ; তারপর ১৮০০ সাল পর্যন্ত মধ্যযুগ; আর তারপর আধুনিক যুগ।
ফাঁদ হলো আধুনিক যুগ, কারণ ভারতচন্দ্র অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝির কবি, আধুনিক যুগের কাছাকাছি। কিন্তু তিনি আধুনিক যুগ শুরুর আগেই মারা যান।
মনে রাখুন: নামের শেষে মঙ্গল থাকলেই মঙ্গলকাব্য, আর মঙ্গলকাব্য মানেই মধ্যযুগ।
৬৯১. 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কি ধরনের রচনা? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- কছোটগল্প
- খউপন্যাস
- গকাব্যনাটক
- ঘপত্রোপন্যাস
সঠিক উত্তর: গ. কাব্যনাটক
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হকের লেখা একটি কাব্যনাটক, প্রকাশিত ১৯৭৬ সালে। কাব্যনাটক মানে কবিতার ছন্দে লেখা নাটক।
নাটকটির পটভূমি মুক্তিযুদ্ধ। গ্রামের মাতবর পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী, আর নামটি এগিয়ে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের পায়ের আওয়াজের ইঙ্গিত বহন করে।
সৈয়দ শামসুল হকের আরেকটি বিখ্যাত কাব্যনাটক নূরলদীনের সারাজীবন, প্রকাশ ১৯৮২ সালে, রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নায়ক নূরলদীনকে নিয়ে। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস খেলারাম খেলে যা।
ফাঁদ হলো উপন্যাস, কারণ সৈয়দ শামসুল হক অনেক উপন্যাস লিখেছেন এবং নামটিও গদ্যের মতো শোনায়। পত্রোপন্যাস মানে চিঠির আকারে লেখা উপন্যাস, যেমন কাজী নজরুল ইসলামের বাঁধনহারা।
মনে রাখুন: সৈয়দ শামসুল হকের দুই কাব্যনাটক জোড়ায় মনে রাখুন: পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় আর নূরলদীনের সারাজীবন।
৬৯২. 'উনকোটি চৌষট্টি' এ বাগধারার অর্থ হলো _ (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- কঅপদার্থ
- খপাগলামি
- গঅপব্যয়ী
- ঘপ্রায় সম্পূর্ণ
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রায় সম্পূর্ণ
উনকোটি চৌষট্টি একটি বাগধারা, যার অর্থ প্রায় সম্পূর্ণ। অর্থাৎ পুরোটা না হলেও প্রায় সবটুকু।
উন মানে কম বা ঊন, অর্থাৎ পুরোটা থেকে সামান্য কম। তাই বাগধারাটি বোঝায় পূর্ণতার একদম কাছে, কিন্তু পুরো নয়।
বাক্যে প্রয়োগ: বাড়ির কাজ উনকোটি চৌষট্টি শেষ, শুধু রং করা বাকি। মানে কাজ প্রায় পুরোটাই শেষ।
বাগধারায় শব্দের আক্ষরিক অর্থ নয়, প্রচলিত বিশেষ অর্থ ধরতে হয়। অপদার্থ, পাগলামি, অপব্যয়ী, এগুলো অন্য বাগধারার অর্থ; যেমন অপদার্থ বোঝাতে অকালকুষ্মাণ্ড।
মনে রাখুন: উন মানে কম; কম থাকলে পুরো হয়নি, প্রায় হয়েছে: প্রায় সম্পূর্ণ।
৬৯৩. সমার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্তি কোনটি? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৮)
- কধনী-গরিব
- খটাকা-পয়সা
- গলেন-দেন
- ঘদেনা-পাওনা
সঠিক উত্তর: খ. টাকা-পয়সা
একই শব্দ বা কাছাকাছি দুটি শব্দ পাশাপাশি বসে বিশেষ অর্থ তৈরি করলে তাকে দ্বিরুক্তি বলে। শব্দযোগে দ্বিরুক্তির কয়েকটি ধরন আছে: সমার্থক শব্দের জোড়া, বিপরীতার্থক শব্দের জোড়া, আর একই শব্দের পুনরাবৃত্তি।
টাকা আর পয়সা দুটিই অর্থ বা মুদ্রা বোঝায়, তাই এটা সমার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্তি। একই রকম উদাহরণ ধন-দৌলত, কাজ-কর্ম, হাট-বাজার।
বাকি তিনটি বিপরীতার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্তি। ধনী আর গরিব উল্টো, লেন মানে নেওয়া আর দেন মানে দেওয়া, দেনা আর পাওনাও উল্টো। দেনা-পাওনা আর লেন-দেন দুটোই টাকার সঙ্গে যুক্ত বলে টাকা-পয়সার মতো মনে হতে পারে, এটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: জোড়ার দুই শব্দের মাঝে “আর” বসিয়ে দেখুন: উল্টো হলে বিপরীতার্থক, একই হলে সমার্থক। আরও সমার্থক: ধন-দৌলত, কাজ-কর্ম, হাট-বাজার।
৬৯৪. কোনটি সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৮)
- কউৎ + শাস = উচ্ছ্বাস
- খউৎ + ডীণ = উড্ডীণ
- গবৃহৎ + ঢক্কা = বৃহড্ঢক্কা
- ঘলভ্ + ধ = লদ্ধ
সঠিক উত্তর: গ. বৃহৎ + ঢক্কা = বৃহড্ঢক্কা
এটা ব্যঞ্জনসন্ধির প্রশ্ন। নিয়ম হলো: ত্ বা দ্-এর পরে ড বা ঢ এলে ত্ বা দ্ বদলে ড্ হয়ে যায়। তাই বৃহৎ আর ঢক্কা মিলে হয় বৃহড্ঢক্কা, এটি সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ।
একই নিয়মে উৎ আর ডীন মিলে উড্ডীন। কিন্তু বিকল্পে ডীণ আর উড্ডীণ লেখা হয়েছে মূর্ধন্য ণ দিয়ে; সঠিক বানান দন্ত্য ন, তাই এটা ভুল।
উচ্ছ্বাস এসেছে উৎ আর শ্বাস থেকে, শাস থেকে নয়। নিয়ম: ত্-এর পরে শ এলে ত্ হয় চ্ আর শ হয় ছ, আর শ্বাস-এর ব-ফলা থেকে যায়। আর লভ্ থেকে আসা সঠিক শব্দ লব্ধ, যার সন্ধিবিচ্ছেদ লভ্ আর ত; বিকল্পে ফল লেখা হয়েছে লদ্ধ, যা কোনো শব্দই নয়।
মনে রাখুন: ত্ বা দ্ + ড, ঢ → ড্; ত্ + শ → চ্ছ (উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস); ভ্ + ত → ব্ধ (লভ্ + ত = লব্ধ)।
৬৯৫. স্বর সংগতির উদাহরণ কোনটি? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৮)
- কদেশী > দিশী
- খরাত্রি > রাইত
- গহইবে > হবে
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. দেশী > দিশী
স্বরসংগতি হলো শব্দের একটি স্বরের প্রভাবে আরেকটি স্বর বদলে গিয়ে কাছাকাছি স্বর হয়ে যাওয়া, যাতে দুটো স্বরের মধ্যে মিল আসে।
দেশি থেকে দিশি: শেষের ই-এর প্রভাবে প্রথম অক্ষরের এ বদলে ই হয়েছে। দুটো স্বর মিলে গেছে, তাই এটি স্বরসংগতি। একই রকম উদাহরণ বিলাতি থেকে বিলিতি, মুলা থেকে মুলো, ইচ্ছা থেকে ইচ্ছে।
রাত্রি থেকে রাইত আলাদা প্রক্রিয়া: শব্দের পরের ই আগেই উচ্চারিত হয়ে গেছে, একে বলে অপিনিহিতি। হইবে থেকে হবে-তে মাঝের ই লোপ পেয়েছে, তাই এটি স্বরলোপ। অপিনিহিতি আর স্বরসংগতি দুটোতেই ই জড়িত বলে গুলিয়ে যায়; এটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: স্বর বদলে মিলে গেলে স্বরসংগতি, ই আগে চলে এলে অপিনিহিতি (আজি > আইজ), স্বর হারালে স্বরলোপ।
৬৯৬. 'খনার বচন' কী সংক্রান্ত? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৮)
- ককৃষি
- খরাজনীতি
- গব্যবসা
- ঘশিল্প
সঠিক উত্তর: ক. কৃষি
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে খনার বচনের মূল বিষয় কী। খনার বচন হলো ছড়ার আকারে মুখে মুখে চলে আসা লোকজ জ্ঞান, যার বেশিরভাগই চাষাবাদ, ঋতু, আবহাওয়া আর ফসল বোনার সময় নিয়ে।
যেমন “যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্যি রাজার পুণ্যি দেশ” বচনে মাঘ মাসের শেষে বৃষ্টি হলে ভালো ফসলের কথা বলা হয়েছে। এভাবে গ্রামের কৃষক মুখে মুখে এসব বচন মনে রেখে চাষের সিদ্ধান্ত নিতেন।
খনার বচন আর ডাকের বচন দুটোই প্রাচীন বাংলার লোকসাহিত্য। খনার বচন মূলত কৃষি ও আবহাওয়া নিয়ে, আর ডাকের বচন বেশি করে জীবনযাপন, নীতি ও ঘরোয়া জ্ঞান নিয়ে।
রাজনীতি, ব্যবসা বা শিল্প এখানে ফাঁদ। বচনে মাঝে মাঝে সংসার বা নীতির কথা থাকলেও মূল পরিচিতি কৃষিভিত্তিক বচন হিসেবে।
মনে রাখুন: খনা মানে খেত-খামার: খনার বচন প্রশ্নে কৃষি বা আবহাওয়া অপশনটাই খুঁজুন।
৬৯৭. নিচের কোন বাগধারাটি ভিন্নার্থক? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৮)
- কআদায়-কাঁচকলায়
- খদা-কুমড়া
- গরুই-কাতলা
- ঘঅহি-নকুল
সঠিক উত্তর: গ. রুই-কাতলা
প্রশ্নটা চারটি বাগ্ধারার মধ্যে কোনটির অর্থ বাকিদের থেকে আলাদা, তা জানতে চেয়েছে। তাই প্রতিটির অর্থ মিলিয়ে দেখতে হবে।
আদায়-কাঁচকলায়, দা-কুমড়া আর অহি-নকুল তিনটিরই অর্থ চরম শত্রুতা বা তীব্র বিরোধ। অহি মানে সাপ, নকুল মানে বেজি; সাপ-বেজির শত্রুতা থেকেই এই বাগ্ধারা।
রুই-কাতলা মানে সমাজের প্রভাবশালী বা বড় বড় লোক, যেমন “দুর্নীতির মামলায় রুই-কাতলারা ধরা পড়েনি”। এর সঙ্গে শত্রুতার কোনো সম্পর্ক নেই, তাই এটিই ভিন্নার্থক।
জোড়া শব্দ দেখলেই সব একই অর্থের মনে হতে পারে; কিন্তু রুই আর কাতলা দুটোই বড় মাছ, শত্রু নয়।
মনে রাখুন: শত্রুতার আরও বাগ্ধারা: সাপে-নেউলে, অহি-নকুল, দা-কুমড়া, আদায়-কাঁচকলায়; এগুলো একসাথে মনে রাখুন।
৬৯৮. 'এপিটাফ' শব্দের অর্থ - (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৮)
- কশোক কবিতা
- খগীতিকা
- গসমাধি-লিপি
- ঘমানপত্র
সঠিক উত্তর: গ. সমাধি-লিপি
এপিটাফ ইংরেজি epitaph শব্দ, যার অর্থ সমাধি-লিপি; মানে কবরের ফলকে মৃত ব্যক্তির স্মরণে লেখা ছোট লেখা বা কবিতা।
শব্দটা এসেছে গ্রিক epi মানে উপরে আর taphos মানে সমাধি থেকে; তাই আক্ষরিক অর্থই সমাধির উপরের লেখা।
শোক কবিতার ইংরেজি হলো elegy, আর মানপত্র হলো address of honour বা citation; গীতিকা মানে ballad। এই তিনটির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলাই এখানে ফাঁদ।
বিশেষ করে শোক কবিতা ফাঁদ, কারণ এপিটাফেও শোকের ভাব থাকে; কিন্তু এপিটাফের পরিচয় তার জায়গা, অর্থাৎ সমাধির ফলক।
মনে রাখুন: Epi (উপরে) + taph (সমাধি): শব্দ ভাঙলেই অর্থ।
৬৯৯. কোনটি নিত্য সমাসের সমস্ত পদ? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৮)
- কনরপশু
- খমনমাঝি
- গগ্রামান্তর
- ঘউপনদী
সঠিক উত্তর: গ. গ্রামান্তর
নিত্য সমাস হলো সেই সমাস, যেখানে সমস্যমান পদগুলো দিয়ে ব্যাসবাক্য হয় না; অন্য পদ বা শব্দ দিয়ে অর্থ বোঝাতে হয়। মানে সমাসটা নিত্য বা সবসময় সমাসবদ্ধ থাকে।
গ্রামান্তর মানে অন্য গ্রাম। এখানে “গ্রাম আর অন্তর” বলে ভাঙা যায় না; অর্থ বোঝাতে “অন্য গ্রাম” লিখতে হয়। তাই এটি নিত্য সমাস। একইভাবে দেশান্তর মানে অন্য দেশ, কালান্তর মানে অন্য কাল।
নরপশু মানে পশুর মতো নর, এটি উপমিত কর্মধারয়। মনমাঝি মানে মন রূপ মাঝি, এটি রূপক কর্মধারয়। উপনদী মানে ছোট বা শাখা নদী, এটি প্রাদি সমাস।
গ্রামান্তর আর উপনদী দুটোতেই একটা অংশ দেখে মনে হয় সহজে ভাঙা যাবে, তাই অনেকে গুলিয়ে ফেলেন। চিনুন এভাবে: উপনদীকে ছোট নদী বলে ব্যাখ্যা করা যায়, কিন্তু গ্রামান্তরের অর্থ বোঝাতে “অন্য” শব্দটা বাইরে থেকে আনতেই হয়; তাই এটি নিত্য সমাস।
মনে রাখুন: অন্তর বা মাত্র শেষে থেকে অন্য বা কেবল অর্থ দিলে সাধারণত নিত্য সমাস: দেশান্তর, যুগান্তর, দর্শনমাত্র।
৭০০. পরস্পর কাছাকাছি ধ্বনি বা বর্ণের মিলনকে বলে - (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৮)
- ককারক
- খপ্রত্যয়
- গসন্ধি
- ঘসমাস
সঠিক উত্তর: গ. সন্ধি
প্রশ্নটা ব্যাকরণের একটি মৌলিক সংজ্ঞা জানতে চেয়েছে। পাশাপাশি থাকা দুটি ধ্বনির মিলনকে বলে সন্ধি। সন্ধি মানেই মিলন।
যেমন বিদ্যা আর আলয় পাশাপাশি এলে আ আর আ মিলে হয় বিদ্যালয়। এখানে মিলন হচ্ছে ধ্বনির, পুরো শব্দের অর্থের নয়।
সমাস হলো অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক পদের মিলন; যেমন সিংহ চিহ্নিত আসন মিলে সিংহাসন। মূল পার্থক্য: সন্ধিতে ধ্বনির মিলন, সমাসে পদের মিলন।
ফাঁদ হলো সমাস। দুটোতেই মিলন হয়, কিন্তু প্রশ্নে “ধ্বনি বা বর্ণ” শব্দটাই সন্ধিকে আলাদা করে দেয়। কারক আর প্রত্যয় এখানে একেবারেই আলাদা বিষয়।
মনে রাখুন: ধ্বনি বা বর্ণ দেখলে সন্ধি; পদ বা শব্দ দেখলে সমাস।