বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৩৮
৭৪১. কারবালা ও শহরনামা কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে? (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কশাহ মুহাম্মদ সগীর
- খআলাওল
- গআবদুল হাকিম
- ঘদৌলত কাজী
সঠিক উত্তর: গ. আবদুল হাকিম
কারবালা ও শহরনামা মধ্যযুগের কবি আবদুল হাকিমের রচনা। সতেরো শতকের এই কবি সন্দ্বীপ বা নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষ ছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
আবদুল হাকিম সবচেয়ে বিখ্যাত তাঁর নূরনামা কাব্যের জন্য, যেখানে আছে মাতৃভাষাপ্রেমের সেই অমর পঙ্ক্তি: যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি। তাঁর অন্য রচনা ইউসুফ-জোলেখা, লালমোতি সয়ফুলমুলুক, শিহাবুদ্দীননামা।
অন্য তিনজনও মধ্যযুগের মুসলমান কবি, তাই ফাঁদ। শাহ মুহম্মদ সগীর লিখেছেন ইউসুফ-জোলেখা, তিনি প্রথম বাঙালি মুসলমান কবি হিসেবে পরিচিত। আলাওলের বিখ্যাত কাব্য পদ্মাবতী, আর দৌলত কাজীর সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ ইউসুফ-জোলেখা: সগীর আর আবদুল হাকিম দুজনেই এই নামে কাব্য লিখেছেন, তাই শুধু নাম দেখে কবি ঠিক করলে ভুল হয়।
মনে রাখুন: নামা দিয়ে শেষ হওয়া একগুচ্ছ কাব্য (নূরনামা, শহরনামা, শিহাবুদ্দীননামা) দেখলেই আবদুল হাকিম।
৭৪২. আরবি উৎস থেকে আত্তীকৃত এবং প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দ হলো - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- করায়
- খজবানবন্দি
- গনমুনা
- ঘদস্তখত
সঠিক উত্তর: ক. রায়
বাংলা ভাষায় মুসলিম শাসনামলে আরবি ও ফারসি থেকে বহু শব্দ এসেছে। প্রশাসন, আইন-আদালত আর সংস্কৃতির শব্দের মধ্যে কোনটি আরবি, কোনটি ফারসি, সেটাই এখানে পরীক্ষা। রায় শব্দটি আরবি, তাই উত্তর রায়।
আরবি থেকে আসা প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দের উদাহরণ: আদালত, উকিল, এজলাস, কানুন, খারিজ, মহকুমা, মোক্তার, মুনসেফ, রায়, কলম, কিতাব।
অন্য তিনটি ফারসি শব্দ। জবানবন্দি এসেছে জবান মানে মুখের কথা আর বন্দি মিলে; দস্তখত মানে দস্ত বা হাতের লেখা, অর্থাৎ স্বাক্ষর; নমুনা মানে আদর্শ বা উদাহরণ। ফারসি প্রশাসনিক শব্দের আরও উদাহরণ: দফতর, দরবার, নালিশ, কারখানা।
ফাঁদ হলো জবানবন্দি আর দস্তখত: এগুলো আদালতের শব্দ বলে অনেকে আরবি ভাবেন, কিন্তু দুটিই ফারসি।
মনে রাখুন: আদালত-উকিল-এজলাস-রায়: বিচারের মূল শব্দগুলো আরবি; দফতর-দরবার-দস্তখত: দপ্তরের অনেক শব্দ ফারসি।
৭৪৩. সুষমা শব্দে যে নিয়মে 'ষ' বসে - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কস - এর পূর্বে বসেছে বলে
- খস্বভাবত 'ষ' বসে বলে
- গষম মূল রূপ থেকে উৎসারিত হওয়ার
- ঘউ কারান্ত উপসর্গ পূর্বে আছে বলে
সঠিক উত্তর: ঘ. উ কারান্ত উপসর্গ পূর্বে আছে বলে
এটি ষত্ব বিধানের প্রশ্ন। ষত্ব বিধানের একটি নিয়ম হলো, ই-কারান্ত বা উ-কারান্ত উপসর্গের পরে কিছু ধাতুর স দন্ত্য স না থেকে মূর্ধন্য ষ হয়ে যায়।
সুষমা শব্দে সু উপসর্গটি উ-কারান্ত, অর্থাৎ শেষে উ-কার। তার পরে আসা সম শব্দের স তাই ষ হয়ে সুষমা হয়েছে।
একই নিয়মের আরও উদাহরণ: অভিষেক, অনুষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান, সুষুপ্ত, বিষম, অনুষঙ্গ। প্রতিটিতে অভি, অনু, প্রতি, সু বা বি উপসর্গ ই বা উ দিয়ে শেষ।
ফাঁদ হলো স্বভাবত ষ বলে উত্তর বেছে নেওয়া। স্বভাবত ষ হয় এমন শব্দে, যেখানে কোনো নিয়ম লাগে না, যেমন ষড়যন্ত্র, আষাঢ়, পাষাণ। সুষমায় ষ এসেছে নির্দিষ্ট নিয়মে।
মনে রাখুন: উপসর্গ অভি, অনু, প্রতি, সু, বি দেখলেই পরের স ষ হয় কি না ভাবুন।
৭৪৪. 'সুড়ঙ্গ' নাটকটির রচয়িতা - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কসৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
- খআসকার ইবেন শাইখ
- গশওকত ওসমান
- ঘসৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর: ক. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সুড়ঙ্গ নাটকের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিখ্যাত, তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নাটকও লিখেছেন।
তাঁর নাটক: বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ, সুড়ঙ্গ ও উজানে মৃত্যু। উপন্যাস: লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো। গল্পগ্রন্থ: নয়নচারা, দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।
অন্য তিনজনও নাট্যকার, তাই ফাঁদ। আসকার ইবনে শাইখের নাটক বিদ্রোহী পদ্মা, অগ্নিগিরি। শওকত ওসমানের নাটক কাঁকর মণি, আমলার মামলা। সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাটক পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, নূরলদীনের সারাজীবন।
ফাঁদ হলো সৈয়দ শামসুল হক: তিনিও বিখ্যাত নাট্যকার, আর নামের প্রথমে সৈয়দ থাকায় গুলিয়ে যায়। মনে রাখুন, সুড়ঙ্গ ওয়ালীউল্লাহর চার নাটকের একটি।
মনে রাখুন: ওয়ালীউল্লাহর চার নাটক: বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ, সুড়ঙ্গ, উজানে মৃত্যু।
৭৪৫. পল্লিসাহিত্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কঅসাম্প্রদায়িকতা
- খঅনুবাদপ্রবণতা
- গতত্ত্বের সচেতন প্রয়োগ
- ঘলিখিত রূপের প্রাধান্য
সঠিক উত্তর: ক. অসাম্প্রদায়িকতা
পল্লিসাহিত্য মানে গ্রামের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে তৈরি সাহিত্য: লোকগীতি, ছড়া, প্রবাদ, ধাঁধা, লোককাহিনি, গীতিকা। এর মূল বৈশিষ্ট্য মৌখিকতা, রচয়িতা অজ্ঞাত, সমষ্টিগত সৃষ্টি, সরলতা আর অসাম্প্রদায়িকতা।
পল্লির হিন্দু-মুসলমান কৃষক, মাঝি, তাঁতি একসঙ্গে এই গান-গল্প গড়েছেন ও উপভোগ করেছেন। মৈমনসিংহ গীতিকা বা বাউল গানে ধর্মের ভেদ নয়, মানুষের প্রেম-বেদনাই প্রধান। তাই পল্লিসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য অসাম্প্রদায়িকতা।
তত্ত্বের সচেতন প্রয়োগ বরং শিক্ষিত বা নাগরিক সাহিত্যের লক্ষণ; লোকসাহিত্য স্বতঃস্ফূর্ত, কোনো তত্ত্ব মেনে লেখা নয়। লিখিত রূপের প্রাধান্যও ভুল, কারণ পল্লিসাহিত্য মূলত মৌখিক। অনুবাদপ্রবণতাও এর বৈশিষ্ট্য নয়।
ফাঁদ হলো তত্ত্বের সচেতন প্রয়োগ: শুনতে পণ্ডিতি বৈশিষ্ট্য মনে হয়, কিন্তু এটি পল্লিসাহিত্যের স্বতঃস্ফূর্ত স্বভাবের ঠিক উল্টো।
মনে রাখুন: লোকসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য মনে রাখুন: মৌখিক, অজ্ঞাত রচয়িতা, সমষ্টিগত, অসাম্প্রদায়িক।
৭৪৬. Insomnia - শব্দটির বাংলা পারিভাষিক রূপ হলো - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কদুশ্চিন্তা
- খবায়ুরোগ
- গঅনিদ্রা
- ঘকর্কটরোগ
সঠিক উত্তর: গ. অনিদ্রা
Insomnia শব্দের বাংলা পারিভাষিক রূপ অনিদ্রা, মানে ঘুম না আসা বা ঘুমের ঘাটতির রোগ। শব্দটি লাতিন in মানে না আর somnus মানে ঘুম থেকে এসেছে।
বাংলাতেও গঠনটা একই রকম: নঞর্থক অ আর নিদ্রা মিলে অনিদ্রা, অর্থাৎ ঘুমের অভাব। এভাবে ইংরেজি শব্দের অংশ ভেঙে বাংলা পরিভাষা বের করা যায়।
অন্য অপশনগুলোর ইংরেজি আলাদা: দুশ্চিন্তা হলো anxiety, কর্কটরোগ হলো cancer, আর বায়ুরোগ পুরনো চিকিৎসার শব্দ, যা পেটের বায়ু বা স্নায়বিক অস্থিরতা বোঝাতে ব্যবহৃত হতো।
ফাঁদ হলো দুশ্চিন্তা: দুশ্চিন্তা থেকে অনিদ্রা হতে পারে, কিন্তু দুটো এক জিনিস নয়।
মনে রাখুন: ইংরেজি শব্দের in, un, a অংশ প্রায়ই বাংলার অ বা অন হয়।
৭৪৭. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ এর মতে বাংলাভাষা যে প্রাকৃত রূপ থেকে এসেছে - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কমাগধী
- খপ্রাচ্য
- গগৌড়
- ঘশৌরসেনী
সঠিক উত্তর: গ. গৌড়
বাংলা ভাষার উৎপত্তি নিয়ে দুজন ভাষাবিজ্ঞানীর মত পরীক্ষায় বারবার আসে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষা এসেছে গৌড়ী প্রাকৃত থেকে, তার পরবর্তী স্তর গৌড়ী অপভ্রংশের মধ্য দিয়ে।
অন্যদিকে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে, মাগধী অপভ্রংশ বা পূর্বী অপভ্রংশের মধ্য দিয়ে।
দুজনের মতের সময়েও পার্থক্য আছে। শহীদুল্লাহ বাংলার উদ্ভব ধরেছেন সপ্তম শতকে, আর সুনীতিকুমার দশম শতকে।
ফাঁদ হলো মাগধী: এটি সুনীতিকুমারের মত। প্রশ্নে কার মত চাওয়া হয়েছে তা খেয়াল করলেই ভুল এড়ানো যায়। শৌরসেনী প্রাকৃত থেকে এসেছে হিন্দি প্রভৃতি পশ্চিমা ভাষা।
মনে রাখুন: শ-তে শহীদুল্লাহ, গ-তে গৌড়; সু-তে সুনীতি, ম-তে মাগধী।
৭৪৮. সেই মধুর স্তব্ধ দুপুর, "পাঠশালা পলায়ন" কোন কারকের উদাহরণ? (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- ককর্মকারক
- খঅধিকরণ কারক
- গঅপাদান কারক
- ঘএকটিও নয়
সঠিক উত্তর: গ. অপাদান কারক
যা থেকে কিছু সরে যায়, চলে যায়, ভীত হয় বা বের হয়, তাকে বলে অপাদান কারক। পাঠশালা পলায়ন মানে পাঠশালা থেকে পালানো; পাঠশালা হলো সেই জায়গা যেখান থেকে পালানো হচ্ছে, তাই এটি অপাদান কারক।
এখানে থেকে বা হতে বিভক্তি লেখা নেই, তবু অর্থে আছে। এমন ক্ষেত্রে বলা হয় অপাদানে শূন্য বিভক্তি: বিভক্তি চোখে দেখা না গেলেও অর্থে থেকে বা হতে বোঝায়।
যাচাইয়ের সহজ কৌশল: ক্রিয়াকে কোথা থেকে বা কী থেকে দিয়ে প্রশ্ন করুন। কোথা থেকে পলায়ন? পাঠশালা থেকে। উত্তর মিললেই অপাদান।
ফাঁদ অধিকরণ: পাঠশালা একটি স্থান, তাই অনেকে অধিকরণ ধরেন। কিন্তু অধিকরণ মানে কোথায় ঘটছে, যেমন পাঠশালায় পড়া; আর এখানে কোথা থেকে সরে যাওয়া।
মনে রাখুন: কোথা থেকে বা কী থেকে দিয়ে প্রশ্নে উত্তর মিললে অপাদান, কোথায় দিয়ে মিললে অধিকরণ।
৭৪৯. নিচের যেটি অনূদিত কবিতার দৃষ্টান্ত - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কস্বাধীনতা
- খজীবন সঙ্গীত
- গছায়াময়ী
- ঘশূরসুন্দরী
সঠিক উত্তর: খ. জীবন সঙ্গীত
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন-সঙ্গীত কবিতাটি মার্কিন কবি হেনরি ওয়াডসওয়ার্থ লংফেলোর A Psalm of Life কবিতার ভাবানুবাদ। তাই অনূদিত কবিতার দৃষ্টান্ত হিসেবে উত্তর জীবন সঙ্গীত।
কবিতাটির বিখ্যাত শুরু: বলো না কাতর স্বরে, বৃথা জন্ম এ সংসারে। মূল ইংরেজি কবিতার মতোই এখানে বলা হয়েছে, জীবন অর্থহীন স্বপ্ন নয়; কাজ আর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই জীবনের সার্থকতা।
শূরসুন্দরী রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৌলিক আখ্যানকাব্য, রাজপুত বীরত্বের কাহিনি। স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, রঙ্গলালের এই বিখ্যাত গানটি তাঁর মৌলিক কাব্য পদ্মিনী উপাখ্যানের অংশ।
ছায়াময়ী নিয়ে সাবধান: এটিও হেমচন্দ্রের কাব্য, ইতালীয় কবি দান্তের ডিভাইন কমেডির অনুসরণে লেখা বলে পরিচিত। তবে এটি অনুসৃত দীর্ঘ কাব্য, অনূদিত কবিতা হিসেবে প্রচলিত উদাহরণ জীবন-সঙ্গীত।
মনে রাখুন: বলো না কাতর স্বরে = A Psalm of Life: Tell me not, in mournful numbers।
৭৫০. A golden key can open any door ; অর্থ - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কটাকায় বাঘের দুধ মেলে
- খপরিশ্রম সাফল্যের চাবিকাঠি
- গটাকা দেবে গৌরী সেন
- ঘবন্ধ দুয়ার খোলে স্বর্গলোকের চাবি
সঠিক উত্তর: ক. টাকায় বাঘের দুধ মেলে
A golden key can open any door প্রবাদের আক্ষরিক অর্থ, সোনার চাবি যেকোনো দরজা খুলতে পারে। আসল অর্থ, টাকা থাকলে সব কাজই করা যায়। বাংলায় এর সমার্থক প্রবাদ টাকায় বাঘের দুধ মেলে।
বাঘের দুধ পাওয়া প্রায় অসম্ভব; তবু টাকা থাকলে তাও মেলে, অর্থাৎ অর্থের ক্ষমতায় দুর্লভ জিনিসও পাওয়া যায়। ইংরেজির সোনার চাবিও একই কথা বলে: অর্থ দিয়ে সব বন্ধ দরজা খোলে।
পরিশ্রম সাফল্যের চাবিকাঠি হলো Industry is the key to success এর অনুবাদ। টাকা দেবে গৌরী সেন মানে খরচ করবে অন্য কেউ, নিজের পকেট থেকে নয়।
ফাঁদ হলো শেষ অপশন: চাবি আর দরজা শব্দ দেখে আক্ষরিক অনুবাদ বেছে নেওয়া। প্রবাদের অনুবাদ সবসময় ভাব মিলিয়ে, শব্দ মিলিয়ে নয়।
মনে রাখুন: প্রবাদ অনুবাদে আক্ষরিক মিল দেখলেই সন্দেহ করুন; ভাব মেলান।
৭৫১. প্রমিত বানানে লেখা শব্দটি হলো_ (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কবৈপরিত্ব
- খআয়ত্তীকরণ
- গএকত্রিত
- ঘধুলিকণা
সঠিক উত্তর: খ. আয়ত্তীকরণ
চারটির মধ্যে প্রমিত বানানে লেখা শুধু আয়ত্তীকরণ। আয়ত্ত শব্দের সঙ্গে চ্বি প্রত্যয় যোগ হলে শেষের অ ঈ-কার হয়ে যায়, তারপর করণ: আয়ত্ত থেকে আয়ত্তীকরণ, যেমন একীকরণ, সমীকরণ, বশীকরণ।
বৈপরিত্ব ভুল। মূল শব্দ বিপরীত, যেখানে ঈ-কার; তার সঙ্গে য প্রত্যয় যোগে হয় বৈপরীত্য। তাই ঈ-কার থাকবে আর শেষে ত্য, ত্ব নয়।
একত্রিত ভুল ধরা হয়, কারণ একত্র শব্দটি নিজেই একসঙ্গে অর্থ দেয়; তার সঙ্গে ইত প্রত্যয় অপ্রয়োজনীয়। শুদ্ধ রূপ একত্র বা একত্রীকৃত।
ধুলিকণা ভুল; ধূলি শব্দে ঊ-কার, তাই শুদ্ধ ধূলিকণা। ফাঁদ হলো একত্রিত, কারণ লেখায় ও কথায় এটি খুব বেশি চলে বলে শুদ্ধ মনে হয়।
মনে রাখুন: চ্বি প্রত্যয়ে শেষের অ বা ই ঈ-কার হয়: আয়ত্তীকরণ, একীভূত, সমীকরণ, বশীভূত।
৭৫২. নিচের কোনটি প্রবন্ধের বই? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৮)
- কপল্লীসমাজ
- খদিবারাত্রির কাব্য
- গকালান্তর
- ঘমৃত্যুক্ষুধা
সঠিক উত্তর: গ. কালান্তর
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোনটি প্রবন্ধের বই। ‘কালান্তর’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ, প্রকাশিত হয় ১৯৩৭ সালে। এতে সমাজ, রাজনীতি ও সমকালীন সমস্যা নিয়ে তাঁর প্রবন্ধ আছে।
বাকি তিনটি উপন্যাস। ‘পল্লীসমাজ’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের, যেখানে গ্রামসমাজের সংকীর্ণতা দেখানো হয়েছে।
‘দিবারাত্রির কাব্য’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম লেখা উপন্যাস, আর ‘মৃত্যুক্ষুধা’ কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস।
ফাঁদ হলো ‘দিবারাত্রির কাব্য’: নামে ‘কাব্য’ থাকায় অনেকে কবিতার বই ভাবেন, কিন্তু এটি উপন্যাস। রবীন্দ্রনাথের অন্য প্রবন্ধগ্রন্থ: ‘সভ্যতার সংকট’, ‘পঞ্চভূত’, ‘বিচিত্র প্রবন্ধ’।
মনে রাখুন: নামে ‘কাব্য’ বা ‘সমাজ’ থাকলেই বইয়ের ধরন বোঝা যায় না; লেখক ধরে মনে রাখুন।
৭৫৩. ' সৌম্য ' - এর বিপরীত শব্দ কী? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৮)
- কঅসুন্দর
- খকুৎসিত
- গকাপুরুষ
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঘ. কোনটিই নয়
‘সৌম্য’ মানে শান্ত, স্নিগ্ধ, প্রসন্ন ও কোমল চেহারার। শব্দটা এসেছে সোম বা চাঁদ থেকে, তাই এর ভাব চাঁদের মতো শান্ত ও মনোরম।
এর বিপরীত শব্দ হলো উগ্র, মানে কড়া, রাগী ও ভয়ংকর ভাব। উগ্র অপশনে নেই, তাই সঠিক উত্তর কোনোটিই নয়।
অসুন্দর ও কুৎসিত সৌন্দর্যের বিপরীত, শান্ত ভাবের নয়; এগুলো সুন্দর বা রূপবান শব্দের বিপরীত। কাপুরুষের বিপরীত হলো সাহসী বা বীর।
ফাঁদ হলো সৌম্যকে শুধু সুন্দর ধরে নিয়ে কুৎসিত বেছে নেওয়া। সৌম্য শব্দের মূল ভাব শান্ততা, তাই বিপরীত উগ্র।
মনে রাখুন: চাঁদের মতো শান্ত সৌম্য, আগুনের মতো উগ্র: সৌম্য বনাম উগ্র জোড়া হিসেবে মনে রাখুন।
৭৫৪. কোনটি সঠিক? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৮)
- কভদ্রতাচিত
- খভদ্রোচিত
- গভদ্রচিত
- ঘভদ্রাচিত
সঠিক উত্তর: খ. ভদ্রোচিত
শব্দটা গঠিত হয়েছে ভদ্র আর উচিত মিলে, অর্থাৎ ভদ্রলোকের যা উচিত। এটা স্বরসন্ধি।
নিয়ম: অ বা আ-এর পরে উ বা ঊ থাকলে দুটি মিলে হয় ও, আর ও-কার আগের বর্ণে যুক্ত হয়। ভদ্র শব্দের শেষে অ আছে, উচিত শুরু উ দিয়ে। তাই ভদ্র যোগ উচিত হয় ভদ্রোচিত।
একই নিয়মে সূর্য যোগ উদয় হয় সূর্যোদয়, নীল যোগ উৎপল হয় নীলোৎপল, যথা যোগ উচিত হয় যথোচিত।
ভদ্রাচিত বা ভদ্রচিত লিখলে উ স্বরটাই হারিয়ে যায়, আর ভদ্রতাচিত শব্দ গঠনে ভুল; এগুলো সন্ধির নিয়মে আসে না।
মনে রাখুন: অ বা আ-এর পরে উ এলে ও-কার হয়: যথোচিত, সূর্যোদয়, ভদ্রোচিত।
৭৫৫. ' বকলম ' শব্দ বাংলা ভাষায় এসেছে ---- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৮)
- কফারসি ভাষা থেকে
- খআরবি ভাষা থেকে
- গহিন্দি ভাষা থেকে
- ঘবর্মি ভাষা থেকে
সঠিক উত্তর: ক. ফারসি ভাষা থেকে
‘বকলম’ মানে নিরক্ষর ব্যক্তির হয়ে অন্য কারও কলমে, মানে অন্যের হাতে দেওয়া সই। যেমন দলিলে লেখা থাকে ‘বকলম অমুক’। এখান থেকে নিরক্ষর বা অল্পশিক্ষিত লোককেও বকলম বলা হয়।
শব্দটা দুই অংশে গড়া: ‘ব’ ফারসি অব্যয়, মানে দ্বারা বা মাধ্যমে, আর ‘কলম’ মূলত আরবি শব্দ, যা ফারসি হয়ে বাংলায় এসেছে। পুরো শব্দটা ফারসি ভাষায় গঠিত হয়ে বাংলায় ঢুকেছে, তাই পরীক্ষায় একে ফারসি শব্দ ধরা হয়।
ফারসি থেকে আসা আরও শব্দ: দরবার, বাদশাহ, খানা, দস্তখত, কারখানা। আরবি থেকে আসা শব্দ: আদালত, উকিল, কলম, কেতাব।
ফাঁদ হলো আরবি: ‘কলম’ অংশটা আরবি বলে অনেকে পুরো শব্দকেই আরবি ধরেন, কিন্তু শব্দটা গঠিত হয়েছে ফারসি উপসর্গ দিয়ে।
মনে রাখুন: সরকারি কাগজপত্র ও দলিলের শব্দ (দস্তখত, বকলম, দপ্তর, কারখানা) বেশির ভাগই ফারসি; আদালতের শব্দ (উকিল, মোকদ্দমা) বেশির ভাগই আরবি।
৭৫৬. ‘এপিটাফ’ শব্দের অর্থ - (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৮)
- কশোক কবিতা
- খগীতিকা
- গসমাধি-লিপি
- ঘমানপত্র
সঠিক উত্তর: গ. সমাধি-লিপি
‘এপিটাফ’ ইংরেজি শব্দ, বাংলায় এর অর্থ সমাধি-লিপি। কবরের ফলকে মৃত ব্যক্তির স্মরণে যে ছোট লেখা খোদাই করা থাকে, সেটাই এপিটাফ।
শব্দটা এসেছে গ্রিক ‘এপিতাফিওস’ থেকে, যার মানে সমাধির উপরে। তাই এর সঙ্গে কবর বা সমাধির সম্পর্ক সরাসরি।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত নিজের সমাধির জন্য এপিটাফ লিখে গিয়েছিলেন: ‘দাঁড়াও পথিকবর, জন্ম যদি তব বঙ্গে’। এটি বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে বিখ্যাত এপিটাফ।
ফাঁদ হলো শোক কবিতা: এপিটাফ শোকের সঙ্গে জড়িত হলেও শোক কবিতার ইংরেজি এলিজি। গীতিকা মানে ব্যালাড, আর মানপত্র মানে সম্মাননা লিপি বা অ্যাড্রেস।
মনে রাখুন: এপিটাফ মানে কবরের ‘ফলক’; এলিজি মানে শোকের ‘কবিতা’।
৭৫৭. অকালে যাকে জাগরণ করা হয় তাকে এক কথায় কী বলে? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৮)
- কসব্যসাচী
- খপ্রত্যুদ্গমন
- গকিংকর্তব্যবিমূঢ়
- ঘঅকালবোধন
সঠিক উত্তর: ঘ. অকালবোধন
‘অকালবোধন’ মানে অসময়ে জাগরণ বা আহ্বান। বোধন মানে জাগানো, আর অকাল মানে অসময়। দুটো মিলে অকালে যার বোধন বা জাগরণ, তাকে বলে অকালবোধন।
শব্দটার পেছনে রামায়ণের কাহিনি: দেবী দুর্গার পূজা হওয়ার কথা বসন্তকালে, কিন্তু রাবণ বধের আগে রাম শরৎকালে দেবীকে জাগিয়ে পূজা করেন। এই অসময়ের পূজাকেই অকালবোধন বলা হয়।
অন্য অপশনগুলোও এক কথায় প্রকাশ। সব্যসাচী মানে যে দুই হাতে সমান দক্ষ; প্রত্যুদ্গমন মানে সম্মানিত অতিথিকে এগিয়ে গিয়ে অভ্যর্থনা; কিংকর্তব্যবিমূঢ় মানে কী করতে হবে বুঝতে না পারা।
অকালবোধন শব্দটা ভেঙে দেখলেই অর্থ স্পষ্ট হয়, তাই এমন প্রশ্নে শব্দের দুই অংশের অর্থ খুঁজুন।
মনে রাখুন: এক কথায় প্রকাশের অপশনগুলো ভেঙে দেখুন: অকাল + বোধন শব্দই অর্থ বলে দেয়।
৭৫৮. জাতি + অভিমান = (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৮)
- কজাত্যাভিমান
- খজাত্যভিমান
- গজাতিভিমান
- ঘজাতভিমান
সঠিক উত্তর: খ. জাত্যভিমান
এটি স্বরসন্ধি। জাতি শব্দের শেষে ই, আর অভিমান শুরু অ দিয়ে।
নিয়ম: ই বা ঈ-এর পরে ই আর ঈ ছাড়া অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ বদলে য-ফলা হয়, আর পরের স্বরটা য-ফলার সঙ্গে যুক্ত হয়। এখানে পরের স্বর অ, অ-এর কোনো কার নেই, তাই জাত্ এর সঙ্গে শুধু য-ফলা বসে: জাত্য, তারপর ভিমান। ফল জাত্যভিমান।
একই নিয়মে অতি যোগ অন্ত হয় অত্যন্ত, ইতি যোগ আদি হয় ইত্যাদি। দ্বিতীয় উদাহরণে পরের স্বর আ, তাই য-ফলার পরে আ-কার বসে।
ফাঁদ হলো জাত্যাভিমান: এখানে বাড়তি আ-কার বসানো হয়েছে, অথচ অভিমান শুরু অ দিয়ে, আ দিয়ে নয়। আ-কার আসত কেবল পরের শব্দ আ দিয়ে শুরু হলে।
মনে রাখুন: পরের শব্দের প্রথম স্বর দেখুন: অ হলে শুধু য-ফলা (অত্যন্ত), আ হলে য-ফলা ও আ-কার (ইত্যাদি)।
৭৫৯. সংশয় এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৮)
- কদ্বিধা
- খনির্ভয়
- গপ্রত্যয়
- ঘবিষ্ময়
সঠিক উত্তর: গ. প্রত্যয়
সংশয় মানে সন্দেহ, দ্বিধা বা অনিশ্চয়তা। এর বিপরীত হলো দৃঢ় বিশ্বাস বা নিশ্চয়তা, আর বাংলায় এর জন্য শব্দ প্রত্যয়।
প্রত্যয় শব্দের একটা অর্থ ব্যাকরণের প্রত্যয়, কিন্তু সাধারণ অর্থে প্রত্যয় মানে বিশ্বাস, আস্থা, নিশ্চিত ধারণা। যেমন: দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করো।
দ্বিধা হলো সংশয়ের সমার্থক, বিপরীত নয়। নির্ভয় হলো ভয়ের বিপরীত, আর বিস্ময় মানে অবাক হওয়া।
ফাঁদ হলো নির্ভয়: সংশয় আর ভয়কে এক করে ফেললে নির্ভয় বেছে নেওয়ার ভুল হয়।
মনে রাখুন: সংশয় বনাম প্রত্যয়, সন্দেহ বনাম বিশ্বাস: জোড়া করে মনে রাখুন।
৭৬০. ' একাদশে বৃহস্পতি ' অর্থ (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৮)
- কসুসময়
- খদুঃসময়
- গঅলীক বস্তু
- ঘশেষ রক্ষা
সঠিক উত্তর: ক. সুসময়
‘একাদশে বৃহস্পতি’ বাগ্ধারার অর্থ সৌভাগ্যের সময় বা সুসময়।
জ্যোতিষশাস্ত্রে জন্মছকের ১২টি ঘর ধরা হয়, আর একাদশ বা এগারো নম্বর ঘর লাভের ঘর। বৃহস্পতিকে ধরা হয় সবচেয়ে শুভ গ্রহ। তাই বিশ্বাস ছিল, শুভ গ্রহ বৃহস্পতি লাভের ঘরে থাকলে ভাগ্য খুলে যায়।
বাক্যে প্রয়োগ: চাকরি, প্রমোশন আর বিয়ে একই বছরে, ওর এখন একাদশে বৃহস্পতি।
দুঃসময় এর ঠিক উল্টো অর্থ। অলীক বস্তু বোঝাতে বাগ্ধারা ‘আকাশকুসুম’ বা ‘ঘোড়ার ডিম’, আর শেষ রক্ষা এই বাগ্ধারার অর্থের সঙ্গে মেলে না।
মনে রাখুন: শুভ গ্রহ বৃহস্পতি থাকলেই ভালো অর্থ: একাদশে বৃহস্পতি মানে সুসময়।