বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৩৪
৬৬১. কার্তুজ কোন ভাষার শব্দ (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কইংরেজি
- খফারসি
- গফরাসি
- ঘজার্মান
সঠিক উত্তর: গ. ফরাসি
কার্তুজ ফরাসি শব্দ। ফরাসি ভাষার কার্তুশ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ বন্দুকের গুলির খোল বা টোটা।
ফরাসিরা চন্দননগরে বাণিজ্য কুঠি গড়েছিল, সেই সূত্রে কিছু ফরাসি শব্দ বাংলায় ঢুকেছে। কার্তুজ ছাড়াও কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ফরাসি থেকে এসেছে।
ফাঁদ হলো ফারসি। ফরাসি আর ফারসি নাম দুটো প্রায় এক রকম শোনায়, কিন্তু ফরাসি হলো ফ্রান্সের ভাষা আর ফারসি হলো ইরানের ভাষা। ফারসি শব্দের উদাহরণ খোদা, নামাজ, কারখানা।
মনে রাখুন: ফরাসি শব্দের তালিকা ছোট: কার্তুজ, কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে; এটা মুখস্থ রাখলেই চলে।
৬৬২. ধ্বনিবাচক দ্বিরুক্ত শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কদরদর
- খমরমর
- গনরনর
- ঘকড়কড়
সঠিক উত্তর: ঘ. কড়কড়
দ্বিরুক্ত শব্দ মানে একই শব্দ দুবার বসে নতুন অর্থ তৈরি করা। এর একটি ভাগ ধ্বন্যাত্মক বা ধ্বনিবাচক দ্বিরুক্তি, যেখানে কোনো শব্দ বা আওয়াজের অনুকরণে শব্দটি জোড়া হয়।
কড়কড় হলো বাজ পড়া বা শক্ত কিছু ভাঙার আওয়াজের অনুকরণ, যেমন কড়কড় করে বাজ পড়ল। তাই এটি নিশ্চিতভাবে ধ্বনিবাচক দ্বিরুক্ত শব্দ। ঝমঝম, শনশন, ঘেউ ঘেউ, মড়মড় এর আরও উদাহরণ।
দরদর মূলত অবিরাম ঝরে পড়ার ভাব বোঝায়, যেমন দরদর করে ঘাম ঝরছে; কানে শোনা কোনো আওয়াজের অনুকরণ নয়। মরমর মানে মরো মরো অবস্থা, এটিও ভাব বোঝায়, আওয়াজ নয়। আর নরনর প্রমিত বাংলায় প্রচলিত শব্দ নয়।
চেনার কৌশল: শব্দটা কানে শোনা যায় এমন আওয়াজ কি না ভাবুন। আওয়াজ হলে ধ্বনিবাচক, আর অবস্থা বা ভাব হলে অন্য শ্রেণি।
মনে রাখুন: কানে শোনা যায় এমন আওয়াজ হলে ধ্বনিবাচক: কড়কড়, ঝমঝম, শনশন, ঘেউ ঘেউ।
৬৬৩. কাঁদ + অন-কোন প্রত্যয়ের অন্তর্ভুক্ত? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- ককৃৎ প্রত্যয়
- খতদ্ধিত প্রত্যয়
- গবাংলা কৃৎ প্রত্যয়
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
প্রত্যয় দুই রকম। ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হলে কৃৎ প্রত্যয়, আর শব্দের সঙ্গে যুক্ত হলে তদ্ধিত প্রত্যয়। কৃৎ প্রত্যয় আবার দুই ভাগ: বাংলা কৃৎ আর সংস্কৃত কৃৎ।
কাঁদ একটি খাঁটি বাংলা ধাতু, মানে কান্না করা। এর সঙ্গে অন প্রত্যয় যোগে হয় কাঁদন। বাংলা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত প্রত্যয়কে বলে বাংলা কৃৎ প্রত্যয়। একই রকম উদাহরণ নাচ যোগ অন নাচন, ঝাড় যোগ অন ঝাড়ন।
কৃৎ প্রত্যয় অপশনটি ভুল নয়, তবে অস্পষ্ট। প্রশ্নে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় নামে আরও নির্দিষ্ট অপশন আছে, আর পরীক্ষায় সবচেয়ে নির্দিষ্ট সঠিক উত্তরটিই নিতে হয়।
তদ্ধিত প্রত্যয় হতো যদি কাঁদ একটি নামশব্দ হতো। কিন্তু কাঁদ ক্রিয়ার মূল, তাই তদ্ধিত হবে না।
মনে রাখুন: ধাতু বাংলা হলে বাংলা কৃৎ, ধাতু সংস্কৃত হলে সংস্কৃত কৃৎ, আর শব্দের সঙ্গে হলে তদ্ধিত।
৬৬৪. 'শ্রবণ' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কশ্রবণ+অ
- খ√শ্রী+অন
- গ√শ্রু +অন
- ঘ√শ্রব+অন
সঠিক উত্তর: গ. √শ্রু +অন
শ্রবণ শব্দের প্রকৃতি হলো শ্রু ধাতু, মানে শোনা। এর সঙ্গে অনট্ প্রত্যয় যুক্ত হয়, বাংলায় যেটা অন হিসেবে লেখা হয়। তাই শ্রবণ সমান শ্রু ধাতু যোগ অন।
কিন্তু শ্রু যোগ অন সরাসরি জুড়লে শ্রবণ হয় কীভাবে? নিয়ম হলো, অন প্রত্যয় যোগ হলে ধাতুর উ-কার গুণ হয়ে ও হয়, আর ও এর পরে স্বর এলে অব হয়ে যায়। তাই শ্রু থেকে শ্রো, তারপর শ্রব, আর অন যোগে শ্রবণ। র এর প্রভাবে ন বদলে ণ হয়, এটা ণত্ব বিধান।
একই নিয়মে ভূ যোগ অন হয় ভবন, হু যোগ অন হয় হবন। শ্রব নামে কোনো ধাতু নেই, আর শ্রী একটি শব্দ, ধাতু নয়; তাই অন্য অপশনগুলো ভুল।
মনে রাখুন: শব্দের মানে থেকে ধাতু খুঁজুন: শ্রবণ মানে শোনা, শোনার ধাতু শ্রু।
৬৬৫. 'নিষ্ঠা' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কনিস্ + ঠা
- খনিঃ + ঠা
- গনিঃ + ষ্ঠা
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঘ. কোনোটিই নয়
নিষ্ঠা শব্দটি সংস্কৃত। এর মূল হলো নি উপসর্গ আর স্থা ধাতু, মানে দাঁড়ানো বা স্থির থাকা। কোনো কিছুতে স্থির হয়ে লেগে থাকাই নিষ্ঠা। তাই সঠিক বিচ্ছেদ নি যোগ স্থা, যা অপশনে নেই।
নি যোগ স্থা থেকে নিষ্ঠা কীভাবে হলো? ই এর পরে স থাকলে স বদলে ষ হয়, এটা ষত্ব বিধান। আর ষ এর পরে থ বসলে থ বদলে ঠ হয়। ফলে নি স্থা হয়ে যায় নিষ্ঠা। একই নিয়মে প্রতি যোগ স্থা হয় প্রতিষ্ঠা, অনু যোগ স্থান হয় অনুষ্ঠান।
অনেক গাইডে নিঃ যোগ ঠা লেখা থাকে, কিন্তু বাংলা বা সংস্কৃতে ঠা বলে কোনো শব্দ বা ধাতু নেই। এটা আসলে নিষ্ঠুর শব্দের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা; নিষ্ঠুর সত্যিই বিসর্গ সন্ধি, নিঃ যোগ ঠুর।
তাই নিস্ যোগ ঠা, নিঃ যোগ ঠা আর নিঃ যোগ ষ্ঠা, তিনটির কোনোটিই নিষ্ঠা শব্দের প্রকৃত গঠন নয়। সঠিক উত্তর কোনোটিই নয়।
মনে রাখুন: নিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠা, অনুষ্ঠান: তিনটির ভেতরেই লুকিয়ে আছে স্থা বা স্থান।
৬৬৬. কোনটি সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কপত + অঞ্জলি =পতঞ্জলি
- খঅন্তঃ + লিন = অন্তর্লীন
- গতথা + এবচ = তৌথবচ
- ঘষট্ + আনন = ষড়ানন
সঠিক উত্তর: ঘ. ষট্ + আনন = ষড়ানন
প্রশ্নটা চারটি সন্ধির মধ্যে কোনটি নির্ভুল তা জানতে চেয়েছে। সঠিক হলো ষট্ যোগ আনন সমান ষড়ানন। ষড়ানন মানে ছয় মুখ যার, কার্তিকেয়।
নিয়মটি ব্যঞ্জন সন্ধির: ক্ চ্ ট্ ত্ প্ এর পরে স্বরধ্বনি এলে সেগুলো যথাক্রমে গ্ জ্ ড্ দ্ ব্ হয়ে যায়। তাই ট্ বদলে ড্ হয়, বাংলায় যা ড় হিসেবে লেখা হয়। একই নিয়মে বাক্ যোগ ঈশ হয় বাগীশ, ষট্ যোগ ঐশ্বর্য হয় ষড়ৈশ্বর্য।
বাকিগুলোর ভুল দেখি। পতঞ্জলি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি, এর বিচ্ছেদ পতৎ যোগ অঞ্জলি, পত নয়। অন্তর্লীন হবে অন্তঃ যোগ লীন, দীর্ঘ ঈ-কার দিয়ে। আর তথা যোগ এব হয় তথৈব; তৌথবচ বলে কোনো শব্দই নেই।
মনে রাখুন: প্রতিটি অপশনের বানান আগে মিলিয়ে নিন; লিন, পত, তৌথবচ দেখেই তিনটি বাদ।
৬৬৭. 'কুশীলব' শব্দটি কোন সমাসের অন্তর্গত? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কবহুব্রীহি
- খকর্মধারয়
- গদ্বন্দ্ব
- ঘতৎপুরুষ
সঠিক উত্তর: গ. দ্বন্দ্ব
কুশীলব শব্দটি এসেছে কুশ ও লব থেকে। রামায়ণে কুশ আর লব রামের দুই যমজ পুত্র, যারা বাল্মীকির আশ্রমে রামায়ণ গান গেয়ে শোনাত।
যে সমাসে দুটি পদেরই অর্থ সমানভাবে প্রধান, আর ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর বসে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। কুশ ও লব, দুজনেই সমান গুরুত্বপূর্ণ, তাই কুশীলব দ্বন্দ্ব সমাস।
কুশ ও লব যেহেতু অভিনয় করে গান শোনাত, তাই বাংলায় কুশীলব শব্দটির মানে দাঁড়িয়েছে নাটকের অভিনেতা-অভিনেত্রী। এই অর্থ দেখে অনেকে বহুব্রীহি ভাবেন, কিন্তু সমাসের গঠন হয় ব্যাসবাক্য দেখে, আর তা কুশ ও লব।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে ও বসলে দ্বন্দ্ব: কুশ ও লব, মাতা ও পিতা, অহি ও নকুল।
৬৬৮. 'যে ব্যক্তি এক ঘর থেকে অন্য ঘরে ভিক্ষা করে বেড়ায়' এক কথায় কি হবে? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কমাধুকরী
- খমধুকর
- গঅর্বাচীন
- ঘঅবিমৃষ্যকারী
সঠিক উত্তর: ক. মাধুকরী
মাধুকরী এসেছে মধুকর থেকে, আর মধুকর মানে মৌমাছি। মৌমাছি যেমন ফুল থেকে ফুলে ঘুরে অল্প অল্প মধু জোগাড় করে, তেমনি ঘর থেকে ঘরে ঘুরে অল্প অল্প ভিক্ষা সংগ্রহ করাকে বলে মাধুকরী।
তাই এক ঘর থেকে অন্য ঘরে ভিক্ষা করে বেড়ানোর এক কথা মাধুকরী। ভিক্ষুকের এমন বৃত্তি বোঝাতেও শব্দটি ব্যবহার হয়, যেমন সন্ন্যাসী মাধুকরী করে দিন চালান।
ফাঁদ হলো মধুকর। শব্দটি দেখতে কাছাকাছি, কিন্তু এর মানে মৌমাছি বা ভ্রমর। অর্বাচীন মানে অপরিণত বুদ্ধির বা নবীন, আর অবিমৃষ্যকারী মানে যে না ভেবে কাজ করে।
মনে রাখুন: মৌমাছি (মধুকর) ফুলে ফুলে, ভিক্ষুক ঘরে ঘরে: মাধুকরী।
৬৬৯. Detain’ কোন ছন্দে লেখা? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কঅক্ষরবৃত্ত
- খমাত্রাবৃত্ত
- গস্বরবৃত্ত
- ঘঅমিত্রাক্ষর ছন্দ
সঠিক উত্তর: খ. মাত্রাবৃত্ত
প্রশ্নটা একটি কবিতা কোন ছন্দে লেখা তা জানতে চেয়েছে, আর উৎস অনুযায়ী উত্তর মাত্রাবৃত্ত। বাংলা কবিতার প্রধান তিন ছন্দ হলো অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত আর স্বরবৃত্ত; পার্থক্য হলো অক্ষর বা মাত্রা গোনার নিয়মে।
মাত্রাবৃত্তে মুক্ত অক্ষর এক মাত্রা আর বদ্ধ অক্ষর সবসময় দুই মাত্রা ধরা হয়। পর্ব সাধারণত চার, পাঁচ, ছয় বা সাত মাত্রার হয়, আর লয় মাঝারি। নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা ছয় মাত্রার মাত্রাবৃত্তের পরিচিত উদাহরণ।
অক্ষরবৃত্তে বদ্ধ অক্ষর শব্দের শেষে দুই মাত্রা, অন্য জায়গায় এক মাত্রা; লয় ধীর, পর্ব আট বা দশ মাত্রার। স্বরবৃত্তে সব অক্ষর এক মাত্রা, লয় দ্রুত, পর্ব চার মাত্রার; ছড়া সাধারণত এই ছন্দে লেখা।
অমিত্রাক্ষর আলাদা কোনো মূল ছন্দ নয়। এটি মধুসূদন দত্তের প্রবর্তিত অক্ষরবৃত্তেরই একটি রূপ, যেখানে চরণের শেষে মিল থাকে না।
মনে রাখুন: বদ্ধ অক্ষর সব জায়গায় দুই মাত্রা হলে মাত্রাবৃত্ত, সব জায়গায় এক হলে স্বরবৃত্ত।
৬৭০. 'লিপিমালা' রচনা কে করেছেন? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- ককাশীরাম দাস
- খদ্বিজরাম দেব
- গরাম রাম বসু
- ঘমুক্তরাম সেন
সঠিক উত্তর: গ. রাম রাম বসু
লিপিমালা রচনা করেন রামরাম বসু। বইটি ১৮০২ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়। এটি চিঠিপত্রের আকারে লেখা গদ্য বই, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাত্রদের বাংলা শেখানোর জন্য।
রামরাম বসু ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে উইলিয়াম কেরির সহকারী মুন্সি ছিলেন। তাঁর আরেকটি বিখ্যাত বই রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র, ১৮০১ সালে প্রকাশিত। এটিকে বাঙালির লেখা প্রথম মুদ্রিত বাংলা গদ্যগ্রন্থ বলা হয়।
ফাঁদ হলো চারটি নামেই রাম থাকা। কাশীরাম দাস মধ্যযুগের কবি, বাংলায় মহাভারত অনুবাদ করেছিলেন; গদ্য লেখক নন। দ্বিজরাম দেব আর মুক্তরাম সেনও মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য ধারার কবি।
মনে রাখুন: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লিপিমালা আর প্রতাপাদিত্য চরিত্র, দুটোই রামরাম বসুর।
৬৭১. 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' কোন ধরনের রচনা? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কনাটক
- খউপন্যাস
- গগল্প
- ঘরম্যরচনা
সঠিক উত্তর: ক. নাটক
জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন একটি নাটক, লিখেছেন নাট্যকার সেলিম আল দীন। এটি ১৯৭৫ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয়।
সেলিম আল দীনকে বাংলাদেশের নাটকের অন্যতম প্রধান নাট্যকার বলা হয়, তাঁকে নাট্যাচার্য নামে ডাকা হয়। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।
তাঁর আরও পরিচিত নাটক কিত্তনখোলা, কেরামতমঙ্গল, চাকা, হাতহদাই, যৈবতী কন্যার মন আর বনপাংশুল। নামের মধ্যে বেলুন আর জন্ডিস দেখে একে রম্যরচনা ভাবা ফাঁদ।
মনে রাখুন: কিত্তনখোলা, চাকা, হাতহদাই, জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন: সব সেলিম আল দীনের নাটক।
৬৭২. 'শাহনামা' কোথাকার মহাকাব্য? (সমন্বিত ৩ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৮)
- কগ্রিস
- খরোম
- গপারস্য
- ঘরাজস্থান
সঠিক উত্তর: গ. পারস্য
শাহনামা পারস্যের, মানে আজকের ইরানের জাতীয় মহাকাব্য। কবি ফেরদৌসি প্রায় তিরিশ বছর ধরে এটি লেখেন এবং ১০১০ সালের দিকে শেষ করেন। শাহনামা মানে রাজাদের কাহিনি।
এতে পারস্যের পৌরাণিক যুগ থেকে ইসলামের আগমন পর্যন্ত রাজাদের কাহিনি আছে। রুস্তম ও সোহরাবের বিখ্যাত কাহিনিও এই শাহনামা থেকে।
অন্য অপশনের দেশগুলোর নিজেদের মহাকাব্য আছে। গ্রিসের ইলিয়াড ও ওডিসি, লিখেছেন হোমার। রোমের ইনিড, লিখেছেন ভার্জিল। তাই জোড়াগুলো একসঙ্গে মনে রাখুন।
মনে রাখুন: শাহ শব্দটাই ফারসি, মানে রাজা; তাই শাহনামা পারস্যের।
৬৭৩. 'পরিভাষা' শব্দের অর্থ কী? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- কব্যঞ্জনাত্মক
- খসংক্ষেপণার্থ
- গরক্ষণাত্মক
- ঘসম্মানার্থক
সঠিক উত্তর: খ. সংক্ষেপণার্থ
প্রশ্নটা পরিভাষা শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছে। পরিভাষা হলো এমন শব্দ, যা অল্প কথায় একটি নির্দিষ্ট ও সীমিত অর্থ প্রকাশ করে। তাই এর অর্থ সংক্ষেপণার্থ, মানে সংক্ষেপে অর্থ প্রকাশ।
সাধারণত বিদেশি, বিশেষ করে ইংরেজি, পারিভাষিক শব্দের বাংলা রূপকে পরিভাষা বলা হয়। যেমন সেক্রেটারির পরিভাষা সচিব, অ্যাকাউন্টের পরিভাষা হিসাব, ব্যাংক রেটের পরিভাষা ব্যাংক হার।
পরিভাষার বৈশিষ্ট্য হলো, একটি শব্দ একটি নির্দিষ্ট ধারণা বোঝায়, অর্থ ছড়িয়ে পড়ে না। এ কারণে প্রশাসন, আইন, বিজ্ঞান ও ব্যাংকিংয়ে পরিভাষা জরুরি।
অন্য বিকল্পগুলো আলাদা ধারণা। ব্যঞ্জনাত্মক মানে ইঙ্গিতময়, যা সরাসরি না বলে আভাসে বোঝায়; রক্ষণাত্মক মানে আত্মরক্ষামূলক; আর সম্মানার্থক মানে সম্মান প্রকাশক। এগুলোর কোনোটিই পরিভাষার সংজ্ঞা নয়।
মনে রাখুন: পরিভাষা মানে অল্প কথায় নির্দিষ্ট অর্থ, তাই সংক্ষেপণার্থ।
৬৭৪. কোনটি নদীর সমার্থক শব্দ নয়? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- কসরিৎ
- খতটিনী
- গগাং
- ঘপতিতপাবন
সঠিক উত্তর: ঘ. পতিতপাবন
প্রশ্নটা নদীর সমার্থক শব্দ নিয়ে, আর জানতে চেয়েছে কোনটি সমার্থক নয়। উত্তর পতিতপাবন।
পতিতপাবন মানে যিনি পতিত বা পাপীকে পবিত্র করেন, উদ্ধার করেন। শব্দটি মূলত ঈশ্বরের একটি বিশেষণ। এর সঙ্গে নদীর অর্থের সম্পর্ক নেই।
নদীর সমার্থক শব্দ অনেক: সরিৎ, তটিনী, তরঙ্গিণী, স্রোতস্বিনী, প্রবাহিনী, নির্ঝরিণী, আর লোকমুখে গাং। তটিনী মানে যার দুই পাশে তট বা তীর আছে; স্রোতস্বিনী মানে যার স্রোত আছে।
ফাঁদ হলো গাং, কারণ শুনতে আঞ্চলিক লাগে। কিন্তু গাং নদীরই প্রচলিত দেশি রূপ, তাই এটি সমার্থক।
মনে রাখুন: নদীর সমার্থক শব্দের অনেকগুলোর শেষে ইনী বা ঈ থাকে: তটিনী, তরঙ্গিণী, স্রোতস্বিনী, প্রবাহিনী।
৬৭৫. অভিনিবেশ শব্দটির অর্থ কী? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- কমনোযোগ
- খনিস্পৃহ
- গবিশেষভাবে
- ঘঅভিরুচি
সঠিক উত্তর: ক. মনোযোগ
অভিনিবেশ শব্দের অর্থ মনোযোগ, অর্থাৎ কোনো বিষয়ে গভীরভাবে মন দেওয়া। যেমন, অভিনিবেশ সহকারে বইটি পড়ো।
শব্দটি তৎসম। অভি উপসর্গের অর্থ বিশেষভাবে বা অভিমুখে, আর নিবেশ মানে স্থাপন। মন একদিকে স্থির করে রাখা, সেখান থেকেই অর্থ দাঁড়ায় একাগ্র মনোযোগ।
এর সমার্থক শব্দ মনোনিবেশ, মনোযোগ, একাগ্রতা। বিশেষণ রূপ অভিনিবিষ্ট, মানে গভীর মনোযোগী।
ফাঁদ হলো বিশেষভাবে, কারণ অভি উপসর্গের অর্থ এটি। কিন্তু উপসর্গের অর্থ আর পুরো শব্দের অর্থ এক নয়। নিস্পৃহ মানে আকাঙ্ক্ষাহীন, আর অভিরুচি মানে ইচ্ছা বা পছন্দ।
মনে রাখুন: নিবেশ বা নিবিষ্ট দেখলে মনে রাখুন মন বসানো: মনোনিবেশ, অভিনিবেশ, নিবিষ্ট চিত্তে।
৬৭৬. 'অভিনিবেশ' শব্দটির অর্থ কী? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- কগৃহীত
- খবিদীর্ণ
- গবিসর্জন
- ঘমনোনিবেশ
সঠিক উত্তর: ঘ. মনোনিবেশ
অভিনিবেশ শব্দের অর্থ মনোনিবেশ বা গভীর মনোযোগ। একই পরীক্ষায় শব্দটি দুই রকম বিকল্পে এসেছে, তাই অর্থটি পাকা করে মনে রাখা দরকার।
শব্দটি অভি এবং নিবেশ মিলে তৈরি। নিবেশ মানে কোনো কিছুতে স্থাপন করা; মনকে বিশেষভাবে একটি বিষয়ে স্থাপন করাই অভিনিবেশ। মনোনিবেশ শব্দেও সেই একই নিবেশ রয়েছে।
বাক্যে প্রয়োগ: ছাত্রটি অভিনিবেশ সহকারে শিক্ষকের কথা শুনছিল, অর্থাৎ মনোযোগ দিয়ে শুনছিল।
বাকি বিকল্পগুলো চেনা শব্দ দিয়ে বিভ্রান্ত করে। গৃহীত মানে যা গ্রহণ করা হয়েছে, বিদীর্ণ মানে ফেটে যাওয়া, বিসর্জন মানে ত্যাগ বা জলে বিসর্জন দেওয়া।
মনে রাখুন: প্রশ্ন আর বিকল্পে একই অংশ থাকলে, যেমন নিবেশ, সেটিই প্রায়ই সংকেত।
৬৭৭. নিচের কোন শব্দটি অশুদ্ধ? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- কসজ্জন
- খউজ্জল
- গবিভাজ্য
- ঘজ্বলন্ত
সঠিক উত্তর: খ. উজ্জল
প্রশ্নটা অশুদ্ধ বানান খুঁজতে বলেছে। অশুদ্ধ হলো উজ্জল; শুদ্ধ বানান উজ্জ্বল, যেখানে জ্জ এর সঙ্গে ব-ফলাও থাকে।
কারণ শব্দটি সন্ধিতে তৈরি: উৎ এবং জ্বল। ত এর পরে জ এলে ত বদলে জ হয়, তাই জ্জ। আর মূল শব্দ জ্বল এ যে ব-ফলা আছে, সেটি থেকেই যায়। ফলে লেখা হয় উজ্জ্বল।
বাকি তিনটি শুদ্ধ। সজ্জন এসেছে সৎ এবং জন থেকে, একই নিয়মে ত বদলে জ। বিভাজ্য মানে যা ভাগ করা যায়। জ্বলন্ত শব্দে জ্বল ধাতুর ব-ফলা আছে।
ফাঁদ হলো উচ্চারণ। উজ্জ্বল উচ্চারণে ব-ফলা প্রায় শোনা যায় না, তাই অনেকে ব-ফলা বাদ দিয়ে লেখেন। জ্বলা থেকে এসেছে বলে ব-ফলা রাখতেই হবে।
মনে রাখুন: জ্বলা থেকে আসা সব শব্দে ব-ফলা থাকে: জ্বলন্ত, প্রজ্বলিত, উজ্জ্বল।
৬৭৮. নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- কইতিপূর্বে
- খইতপূর্বে
- গইতোপূর্বে
- ঘইতঃপূর্বে
সঠিক উত্তর: ঘ. ইতঃপূর্বে
প্রশ্নটা ইতঃপূর্বে শব্দের শুদ্ধ রূপ জানতে চেয়েছে। শব্দটি বিসর্গ সন্ধিতে তৈরি: ইতঃ এবং পূর্বে। শুদ্ধ রূপ ইতঃপূর্বে।
নিয়মটা হলো, বিসর্গের পরে ক, খ, প বা ফ থাকলে বিসর্গ সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে। এখানে পরে প আছে, তাই বিসর্গ থেকে যায়। একই নিয়মে অতঃপর, প্রাতঃকাল, শিরঃপীড়া।
কিন্তু অ-কারের পরের বিসর্গের পরে বর্গের তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম বর্ণ বা য, র, ল, ব, হ থাকলে অ আর বিসর্গ মিলে ও হয়। তাই ইতঃ এবং মধ্যে মিলে হয় ইতোমধ্যে, পূর্বে হলে নয়।
ফাঁদ হলো ইতোপূর্বে, কারণ ইতোমধ্যে খুব পরিচিত। মধ্যে এর ম ঘোষ বর্ণ, তাই ও হয়; পূর্বে এর প অঘোষ, তাই বিসর্গ থাকে। ইতিপূর্বে লোকমুখে চলে, কিন্তু সন্ধির নিয়মে শুদ্ধ রূপ ইতঃপূর্বে।
মনে রাখুন: পূর্বে হলে ইতঃপূর্বে, মধ্যে হলে ইতোমধ্যে।
৬৭৯. কোনটি তৎসম শব্দ? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- কঝিনুক
- খমলিতা
- গচাঁদ
- ঘপত্র
সঠিক উত্তর: ঘ. পত্র
তৎসম শব্দ মানে তার সমান, অর্থাৎ সংস্কৃতের সমান। যে শব্দ সংস্কৃত থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বাংলায় এসেছে, সেটি তৎসম। বিকল্পগুলোর মধ্যে পত্র এমন শব্দ।
চাঁদ শব্দটি তদ্ভব। সংস্কৃত চন্দ্র প্রাকৃতের মধ্য দিয়ে বদলে বাংলায় চাঁদ হয়েছে। এ রকম আরও: হস্ত থেকে হাত, কর্ণ থেকে কান। লক্ষ করুন, চন্দ্র, হস্ত, কর্ণ নিজেরাই তৎসম।
ঝিনুক দেশি শব্দ, অর্থাৎ এ দেশের আদি অধিবাসীদের ভাষা থেকে আসা; যেমন কুলা, ঢেঁকি, ডাব। মলিতা সংস্কৃত থেকে হুবহু আসা কোনো পরিচিত শব্দ নয়, তাই তৎসম হিসেবে গণ্য নয়।
চেনার কৌশল: যুক্তবর্ণ, ঋ-কার, ণ, ষ, বিসর্গ বা র-ফলা থাকলে শব্দটি তৎসম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পত্র শব্দে র-ফলা আছে, এর তদ্ভব রূপ পাতা।
মনে রাখুন: তৎসম আর তদ্ভব জোড়া মনে রাখুন: চন্দ্র-চাঁদ, পত্র-পাতা, হস্ত-হাত, কর্ণ-কান।
৬৮০. নিচের কোন স্ত্রীবাচক শব্দের দুটি পুরুষবাচক শব্দ রয়েছে? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বিএইচবিএফসি): অফিসার (সাধারণ) (২০১৮)
- ককবিরাজ
- খননদ
- গকুলটা
- ঘইবীন
সঠিক উত্তর: খ. ননদ
প্রশ্নটা লিঙ্গ নিয়ে: এমন একটি স্ত্রীবাচক শব্দ খুঁজতে হবে, যার পুরুষবাচক রূপ একটি নয়, দুটি। উত্তর ননদ।
ননদ মানে স্বামীর বোন। পুরুষের দিকে স্বামীর ভাইয়ের জন্য বাংলায় দুটি আলাদা শব্দ আছে: স্বামীর বড় ভাই ভাশুর, আর ছোট ভাই দেবর। তাই ননদের পুরুষবাচক হিসেবে দুটি শব্দই ধরা হয়।
কুলটা শব্দটি নিত্য স্ত্রীবাচক, অর্থাৎ এর কোনো পুরুষবাচক রূপ নেই। এ রকম আরও শব্দ: সতিন, সধবা, এয়ো। আবার কিছু শব্দ নিত্য পুরুষবাচক, যার স্ত্রীবাচক নেই, যেমন কবিরাজ, ঢাকি।
কবিরাজ স্ত্রীবাচক শব্দই নয়, আর ইবীন বাংলায় প্রচলিত কোনো শব্দ নয়। তাই শর্ত পূরণ করে শুধু ননদ।
মনে রাখুন: স্বামীর ভাই-বোন মনে রাখুন: বোন ননদ; ভাই বড় হলে ভাশুর, ছোট হলে দেবর।