বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৪০
৭৮১. কোন বানানটি শুদ্ধ? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- কআবিস্কার
- খপিচাস
- গপরিস্কার
- ঘপরিষ্কার
সঠিক উত্তর: ঘ. পরিষ্কার
প্রশ্নটা শুদ্ধ বানান নিয়ে। শুদ্ধ বানান পরিষ্কার, যেখানে মূর্ধন্য ষ আর ক মিলে যুক্তবর্ণ ষ্ক।
নিয়মটা হলো: ই বা উ-এর পরে বিসর্গ থাকলে আর তার পরে ক বা প এলে বিসর্গ মূর্ধন্য ষ হয়ে যায়। যেমন আবিঃ যোগ কার হয় আবিষ্কার, নিঃ যোগ কাম হয় নিষ্কাম, দুঃ যোগ কর হয় দুষ্কর। পরিষ্কার শব্দেও একই রকম ষ্ক।
তাই আবিস্কার আর পরিস্কার দুটোই ভুল; শুদ্ধ রূপ আবিষ্কার ও পরিষ্কার। পিচাস বানানও ভুল, শুদ্ধ রূপ পিশাচ, যেখানে তালব্য শ আর শেষে চ।
ফাঁদ হলো দন্ত্য স: উচ্চারণে স আর ষ এক রকম শোনায় বলে অনেকে স্ক লেখেন।
মনে রাখুন: তৎসম শব্দে ই-কার বা উ-কারের পরে যুক্ত ক এলে ষ্ক: আবিষ্কার, পরিষ্কার, নিষ্কর, দুষ্কর।
৭৮২. 'বৈদগ্ধ্য' শব্দটির অর্থ হলো --- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- কজ্ঞান
- খবৈয়াকরণিক
- গপাণ্ডিত্য
- ঘদার্শনিক
সঠিক উত্তর: গ. পাণ্ডিত্য
প্রশ্নটা শব্দের অর্থ নিয়ে। বৈদগ্ধ্য শব্দের অর্থ পাণ্ডিত্য, মানে গভীর জ্ঞান ও রুচিশীলতা।
শব্দটা এসেছে বিদগ্ধ থেকে। বিদগ্ধ মানে পণ্ডিত, রসজ্ঞ বা জ্ঞানী মানুষ; তার ভাব বোঝাতে য প্রত্যয় যোগ হয়ে আদ্যস্বর বৃদ্ধি পায়, ই হয় ঐ, তাই বৈদগ্ধ্য। একইভাবে পণ্ডিত থেকে পাণ্ডিত্য, সুন্দর থেকে সৌন্দর্য।
জ্ঞান বৈদগ্ধ্যের কাছাকাছি, কিন্তু বৈদগ্ধ্য মানে শুধু জানা নয়, পরিণত পাণ্ডিত্য ও রসবোধ। বৈয়াকরণিক মানে ব্যাকরণ-সংক্রান্ত, আর দার্শনিক মানে দর্শনশাস্ত্রবিদ।
ফাঁদ হলো জ্ঞান: অর্থে কাছাকাছি হলেও সবচেয়ে মানানসই প্রতিশব্দ পাণ্ডিত্য।
মনে রাখুন: শব্দের প্রথম স্বর বৃদ্ধি পেয়ে ভাববাচক বিশেষ্য: বিদগ্ধ থেকে বৈদগ্ধ্য, পণ্ডিত থেকে পাণ্ডিত্য।
৭৮৩. 'ন্যায়পাল' এর ইংরেজি শব্দ কি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- কOmbudsman
- খOmnibus
- গJustice
- ঘOmbusman
সঠিক উত্তর: ক. Ombudsman
প্রশ্নটা পারিভাষিক শব্দ নিয়ে। ন্যায়পাল শব্দের ইংরেজি Ombudsman।
ন্যায়পাল হলেন এমন একজন স্বাধীন কর্মকর্তা, যিনি সরকারি দপ্তর ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অভিযোগ তদন্ত করেন। শব্দটা সুইডিশ, আর ১৮০৯ সালে সুইডেনেই প্রথম এই পদ চালু হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল নিয়োগের বিধান আছে, আর ১৯৮০ সালে ন্যায়পাল আইনও পাস হয়। তবে সাধারণ ন্যায়পাল দীর্ঘদিন নিয়োগ হয়নি; ২০০৫ সালের আইনে কর ন্যায়পাল কিছুদিন কাজ করেছিল।
ফাঁদ হলো Ombusman: d বাদ দিয়ে ভুল বানান। Omnibus মানে বহু বিষয় একসঙ্গে, যেমন একটি বড় বাস বা বহু বিষয়ের বিল।
মনে রাখুন: বানান মনে রাখুন: Om-buds-man, মাঝখানে buds।
৭৮৪. 'অধ্যাদেশ' এর ইংরেজি প্রতিশব্দ কি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- কOrdain
- খOrder
- গOrdinance
- ঘLaw
সঠিক উত্তর: গ. Ordinance
প্রশ্নটা পারিভাষিক শব্দ নিয়ে। অধ্যাদেশের ইংরেজি Ordinance।
সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশন না চললে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি আইনের মতো ক্ষমতাসম্পন্ন যে আদেশ জারি করেন, তা-ই অধ্যাদেশ। বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদে এই ক্ষমতা দেওয়া আছে, আর পরের সংসদে তা উপস্থাপন করতে হয়।
Order মানে সাধারণ আদেশ বা হুকুম, Law মানে আইন, আর Ordain একটি ক্রিয়া, যার মানে বিধান দেওয়া বা যাজক পদে অভিষিক্ত করা।
ফাঁদ হলো Ordain: বানান Ordinance-এর কাছাকাছি, কিন্তু এটা ক্রিয়াপদ, বিশেষ্য নয়।
মনে রাখুন: Ordinance = অধ্যাদেশ, Act = আইন, Bill = বিল বা খসড়া আইন।
৭৮৫. Excise duty এর বাংলা কি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- কঅতিরিক্ত কর
- খঅতিরিক্ত দায়িত্ব
- গঅর্পিত দায়িত্ব
- ঘআবগারি শুল্ক
সঠিক উত্তর: ঘ. আবগারি শুল্ক
প্রশ্নটা পারিভাষিক শব্দ নিয়ে। Excise duty মানে আবগারি শুল্ক।
আবগারি শুল্ক হলো দেশের ভেতরে উৎপাদিত বা বিক্রি হওয়া নির্দিষ্ট কিছু পণ্য ও সেবার উপর বসানো পরোক্ষ কর। অতীতে মদ, তামাক ও মাদকজাত দ্রব্যের উপর এটি বসত। বাংলাদেশে ব্যাংক হিসাবে বছরের কোনো সময়ের সর্বোচ্চ জমার উপরও আবগারি শুল্ক কাটা হয়।
এর বিপরীতে Customs duty হলো আমদানি বা রপ্তানির সময় সীমান্তে বসানো শুল্ক। তাই দেশের ভেতরের শুল্ক আবগারি, সীমান্তের শুল্ক কাস্টমস।
ফাঁদ হলো অতিরিক্ত কর: duty শব্দ দেখে দায়িত্ব বা excise দেখে extra ভাবা ভুল।
মনে রাখুন: ঘরের ভেতরে এক্সাইজ, সীমানায় কাস্টমস।
৭৮৬. 'বিশ্বজনের হিতকর' এক কথায় কী হবে? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- কবিশ্বহিতৈষী
- খবিশ্বজনীন
- গবিশ্বস্তস্কর
- ঘবিশ্বমিত্র
সঠিক উত্তর: খ. বিশ্বজনীন
প্রশ্নটা এক কথায় প্রকাশ নিয়ে। বিশ্বজনের হিতকর, মানে সারা বিশ্বের মানুষের জন্য কল্যাণকর, এক কথায় বিশ্বজনীন।
বিশ্বজনীন শব্দে ঈন প্রত্যয় যোগ হয়ে অর্থ দাঁড়ায় বিশ্বজনের জন্য উপযোগী বা হিতকর। একই ধাঁচে সকলের হিতকর মানে সর্বজনীন, আর সকলের মধ্যে প্রচলিত বা সকলের জন্য উপযোগী অর্থে সার্বজনীন শব্দও ব্যবহৃত হয়।
বিশ্বহিতৈষী মানে যে মানুষ বিশ্বের মঙ্গল কামনা করে; এটা ব্যক্তিকে বোঝায়, বিষয়কে নয়। বিশ্বমিত্র মানে যে সারা বিশ্বের বন্ধু।
ফাঁদ হলো বিশ্বহিতৈষী: হিত শব্দটা দেখে এটা বেছে নেওয়া। প্রশ্নে চাওয়া হয়েছে যা বিশ্বের হিতকর, যে হিত চায় সে নয়।
মনে রাখুন: হিতকর বিষয় হলে জনীন (বিশ্বজনীন, সর্বজনীন); হিত চাওয়া মানুষ হলে হিতৈষী।
৭৮৭. 'সাগর‘ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৭)
- কনীলাম্বর
- খস্রোতস্বিনী
- গপয়োধি
- ঘজলদ
সঠিক উত্তর: গ. পয়োধি
সমার্থক শব্দ মানে একই অর্থের ভিন্ন শব্দ। সাগরের সমার্থক শব্দ পয়োধি। শব্দটি এসেছে পয়স্ আর ধি মিলে: পয়স্ মানে জল, ধি মানে যা ধারণ করে। জল ধারণ করে যে, সে-ই সাগর।
একই নিয়মে সাগরের আরও প্রতিশব্দ হলো জলধি, পারাবার, অর্ণব, সিন্ধু, রত্নাকর ও পাথার। এগুলো একসঙ্গে মনে রাখলে সাগরের যেকোনো প্রশ্ন সহজ হয়।
অপশনের বাকি শব্দগুলো পানি বা আকাশের সঙ্গে জড়িত বলেই ফাঁদ। জলদ মানে মেঘ, কারণ মেঘ জল দেয়। স্রোতস্বিনী মানে নদী, যার স্রোত আছে। নীলাম্বর মানে নীল আকাশ বা নীল বস্ত্র।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ জলদ, কারণ জলধি আর জলদ দেখতে কাছাকাছি। মনে রাখুন: জলধি জল ধারণ করে, তাই সাগর; জলদ জল দেয়, তাই মেঘ।
মনে রাখুন: শব্দের শেষে ধি বা নিধি থাকলে প্রায়ই সাগর: জলধি, পয়োধি, বারিধি; শেষে দ থাকলে দাতা: জলদ, বারিদ মানে মেঘ।
৭৮৮. 'আমার ভাইয়ের রক্তে.............. ভুলিতে পারি" - এ গানের গীতিকার কে? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৭)
- কমুনীর চৌধুরী
- খআলতাফ মাহমুদ
- গআব্দুল গাফফার চৌধুরী
- ঘআনোয়ার পাশা
সঠিক উত্তর: গ. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
প্রশ্নের গানটি হলো আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি। এর গীতিকার, অর্থাৎ কথা লিখেছেন, সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী, ১৯৫২ সালেই ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে।
গানে প্রথম সুর দিয়েছিলেন আবদুল লতিফ। পরে আলতাফ মাহমুদ নতুন সুর দেন, আর এখন সেই সুরেই গানটি গাওয়া হয়। তাই আলতাফ মাহমুদ সুরকার, গীতিকার নন; এটাই এই প্রশ্নের মূল ফাঁদ।
বাকি দুজনও ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত, তাই বিভ্রান্তি হয়। মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে কারাগারে বসে ভাষা আন্দোলনের নাটক কবর লেখেন। আনোয়ার পাশা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উপন্যাস রাইফেল রোটি আওরাত লেখেন। এই দুজন ও আলতাফ মাহমুদ, তিনজনই ১৯৭১ সালে শহিদ হন।
মনে রাখুন: গীতিকার মানে কথা লেখেন, সুরকার মানে সুর দেন। একুশের গানে কথা গাফফারের, সুর আলতাফের।
৭৮৯. ‘গ্রামের নদী তীরে বেড়াতাম‘ - কোন কালের ক্রিয়ারূপ? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৭)
- কসাধারণ অতীত
- খঘটমান অতীত
- গনিত্যবৃত্ত অতীত
- ঘপুরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর: গ. নিত্যবৃত্ত অতীত
প্রশ্নটা ক্রিয়ার কাল নিয়ে। বেড়াতাম ক্রিয়াটি বোঝাচ্ছে অতীতে কাজটা নিয়মিত বা অভ্যাসবশত হতো। অতীতের এমন অভ্যাস বোঝালে তাকে বলে নিত্যবৃত্ত অতীত।
চেনার উপায় ক্রিয়ার শেষাংশ। ধাতুর সঙ্গে তাম, তে, তো যোগ হলে নিত্যবৃত্ত অতীত হয়, যেমন করতাম, যেতাম, পড়তাম। বাক্যে প্রায়ই রোজ, প্রতিদিন বা ছোটবেলায় জাতীয় শব্দ থাকে বা বোঝা যায়।
বাকি অতীত কালগুলোর শেষাংশ আলাদা। সাধারণ অতীতে লাম, যেমন বেড়ালাম। ঘটমান অতীতে ছিলাম, যেমন বেড়াচ্ছিলাম। পুরাঘটিত অতীতে এছিলাম, যেমন বেড়িয়েছিলাম।
অনেকে অতীত দেখে সাধারণ অতীত বেছে নেন। কিন্তু বেড়ালাম আর বেড়াতাম এক নয়; প্রথমটি একবারের ঘটনা, দ্বিতীয়টি নিয়মিত অভ্যাস।
মনে রাখুন: ক্রিয়ার শেষে তাম, তে, তো থাকলে চোখ বন্ধ করে নিত্যবৃত্ত অতীত: করতাম, খেতাম, যেতাম।
৭৯০. ‘অন্ত‘ শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৭)
- কশেষ
- খঅনন্ত
- গঅবশিষ্ট
- ঘঅদ্য
সঠিক উত্তর: খ. অনন্ত
অন্ত শব্দের অর্থ শেষ বা সীমা। এর বিপরীত শব্দ অনন্ত, মানে যার শেষ নেই।
অনন্ত শব্দটা তৈরি হয়েছে না-বাচক অ যোগ করে। কিন্তু অ-এর পরে স্বরবর্ণ থাকলে অ বদলে অন হয়ে যায়, তাই অ যোগ অন্ত না হয়ে হয় অনন্ত। একই নিয়মে অ যোগ আদি হয় অনাদি, অ যোগ ঈশ্বর হয় অনীশ্বর।
অন্ত শব্দের আরেকটি বিপরীত শব্দ আদি, মানে শুরু; তবে এই অপশনে আদি নেই, তাই অনন্তই উত্তর।
শেষ অপশনটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ, কারণ শেষ আসলে অন্তের সমার্থক, বিপরীত নয়। অবশিষ্ট মানে যা বাকি থাকে, আর অদ্য মানে আজ।
মনে রাখুন: সমার্থক অপশন বাদ দিন: শেষ মানে অন্ত, তাই বিপরীত হতে পারে না।
৭৯১. কোন সন্ধিটি নিপাতনে সিদ্ধ? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৭)
- কবাক+দান=বাগদান
- খউৎ+ছেদ=উচ্ছেদ
- গপর+পর=পরস্পর
- ঘসম+সার=সংসার
সঠিক উত্তর: গ. পর+পর=পরস্পর
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি মানে যে সন্ধি কোনো নিয়ম মেনে হয় না, প্রচলিত প্রয়োগ থেকে শুদ্ধ বলে মেনে নেওয়া হয়। পর যোগ পর মিলে পরস্পর এমন একটি সন্ধি।
নিয়ম মানলে পর যোগ পর হতো পরপর; মাঝে স এর আগমনের কোনো নিয়ম নেই। তবুও বহুদিনের ব্যবহারে পরস্পর শুদ্ধ। একই রকম নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি হলো আশ্চর্য, বৃহস্পতি, বনস্পতি, তস্কর ও গোষ্পদ।
বাকি তিনটি সাধারণ নিয়ম মেনে হয়েছে। বাক্ যোগ দান: ক্ এর পরে ঘোষ ধ্বনি দ থাকায় ক্ বদলে গ্ হয়েছে, তাই বাগদান। উৎ যোগ ছেদ: ৎ এর পরে ছ থাকলে হয় চ্ছ, তাই উচ্ছেদ। সম্ যোগ সার: ম্ এর পরে স থাকলে ম্ হয় অনুস্বার, তাই সংসার।
মনে রাখুন: স-আগম দেখলেই সন্দেহ করুন নিপাতন: পরস্পর, বৃহস্পতি, বনস্পতি, আশ্চর্য।
৭৯২. ’এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেনো তা মধুতে মাখা’ - এখানে মধুতে কোন কারকে কোন বিভক্তি? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৭)
- ককরণে ৭মী
- খঅপাদানে ৭মী
- গঅধিকরণে ৫মী
- ঘকর্মে ৫মী
সঠিক উত্তর: ক. করণে ৭মী
কারক চেনার সহজ উপায় হলো ক্রিয়াকে প্রশ্ন করা। এখানে ক্রিয়া মাখা। প্রশ্ন করি: কী দিয়ে মাখা? উত্তর মধু দিয়ে। যা দিয়ে বা যার সাহায্যে কাজটি হয়, তা করণ কারক। তাই মধুতে করণ কারক।
বিভক্তি চিনতে দেখি শব্দের সঙ্গে কী যুক্ত হয়েছে। মধু শব্দের সঙ্গে তে যুক্ত হয়েছে, আর এ, য়, তে হলো সপ্তমী বিভক্তি। তাই উত্তর করণে সপ্তমী।
একই ধরনের উদাহরণ: চোখে দেখা, কলমে লেখা, ঢিলে আম পাড়া। সব জায়গায় কী দিয়ে প্রশ্নের উত্তরটাই করণ, আর এ বা তে সপ্তমী।
ফাঁদ হলো তে দেখে অধিকরণ ভাবা, কারণ অধিকরণেও সপ্তমী বেশি হয়। কিন্তু অধিকরণ বোঝায় কোথায় বা কখন; এখানে প্রশ্ন কোথায় নয়, কী দিয়ে।
মনে রাখুন: কারক বের করতে ক্রিয়াকে প্রশ্ন করুন: কে কর্তা, কী কর্ম, কী দিয়ে করণ, কোথা থেকে অপাদান, কোথায় অধিকরণ।
৭৯৩. নিচের কোন শব্দটিতে 'অনু' উপসর্গটি সাদৃশ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৭)
- কঅনুতাপ
- খঅনুবাদ
- গঅনুজ
- ঘঅনুশোচনা
সঠিক উত্তর: খ. অনুবাদ
প্রশ্নে লেখা অন আসলে অনু উপসর্গ। অনু উপসর্গ কয়েকটি অর্থে বসে: পশ্চাৎ বা পরে, সাদৃশ্য বা মতো, বারবার, আর সঙ্গে। প্রশ্ন জানতে চেয়েছে সাদৃশ্য অর্থের উদাহরণ।
অনুবাদ মানে মূল লেখার মতো করে অন্য ভাষায় বলা, অর্থাৎ মূলের সাদৃশ্য রেখে বলা। তাই অনুবাদে অনু সাদৃশ্য অর্থে। একই অর্থে আছে অনুরূপ আর অনুকরণ।
অনুজ মানে পরে জন্মেছে যে, অর্থাৎ ছোট ভাই; এখানে অনু পশ্চাৎ অর্থে। অনুতাপ আর অনুশোচনা মানে কাজের পরে মনে কষ্ট পাওয়া; এগুলোতেও অনু পশ্চাৎ অর্থে।
বারবার অর্থে উদাহরণ অনুক্ষণ, অনুদিন; আর সঙ্গে অর্থে অনুকূল, অনুপান। প্রতিটি অর্থের দুটি করে উদাহরণ মনে রাখলে এ ধরনের প্রশ্ন সহজ।
মনে রাখুন: সাদৃশ্য অর্থে অনু: অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকরণ; তিনটিই নকল বা মিল বোঝায়।
৭৯৪. ’কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৭)
- কসৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ
- খশওকত ওসমান
- গআবুল মনসুর আহমেদ
- ঘআখতরুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর: ক. সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ
কাঁদো নদী কাঁদো উপন্যাসের লেখক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, প্রকাশিত ১৯৬৮ সালে। এটি তাঁর তৃতীয় ও শেষ উপন্যাস।
উপন্যাসটি চেতনাপ্রবাহ রীতিতে লেখা, যেখানে চরিত্রের মনের ভেতরের চিন্তা ধারাবাহিকভাবে উঠে আসে। কুমুরডাঙা নামের এক মফস্বল শহরের পাশের নদী শুকিয়ে যাওয়া আর মানুষের কুসংস্কার এর বিষয়।
তাঁর অন্য দুটি উপন্যাস লালসালু, ১৯৪৮ সালে, আর চাঁদের অমাবস্যা, ১৯৬৪ সালে। তিনটির ক্রম মনে রাখলে প্রশ্ন সহজ হয়।
বাকি তিনজনও বড় ঔপন্যাসিক, তাই ফাঁদ। শওকত ওসমানের জননী ও ক্রীতদাসের হাসি, আবুল মনসুর আহমদের আয়না ও ফুড কনফারেন্স, আর আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলেকোঠার সেপাই ও খোয়াবনামা।
মনে রাখুন: ওয়ালীউল্লাহর তিন উপন্যাস: লাল, চাঁদ, নদী।
৭৯৫. কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৭)
- কঅগ্নিবীণা
- খবিষের বাঁশী
- গমৃত্যুক্ষুধা
- ঘরিক্তের বেদন
সঠিক উত্তর: ক. অগ্নিবীণা
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা, প্রকাশিত ১৯২২ সালে। এর প্রথম কবিতা প্রলয়োল্লাস, আর বিখ্যাত কবিতা বিদ্রোহীও এই গ্রন্থে আছে।
সূক্ষ্ম একটা তথ্য মনে রাখুন: নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কিন্তু ব্যথার দান, একটি গল্পগ্রন্থ, একই বছর ১৯২২ সালে। প্রশ্নে কাব্যগ্রন্থ চাওয়া হয়েছে, তাই উত্তর অগ্নিবীণা।
অপশনের বাকিগুলো ফাঁদ। বিষের বাঁশী কাব্যগ্রন্থ হলেও পরে, ১৯২৪ সালে, আর ব্রিটিশ সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করেছিল। রিক্তের বেদন গল্পগ্রন্থ, আর মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাস, ১৯৩০ সালে।
মনে রাখুন: প্রশ্নে গ্রন্থের ধরন দেখুন: প্রথম কাব্য অগ্নিবীণা, প্রথম গ্রন্থ ব্যথার দান।
৭৯৬. কোন প্রাচীন লিপি থেকে বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৭)
- কতৎসম লিপি
- খসংস্কৃত লিপি
- গব্রাহ্মী লিপি
- ঘআগ্নেয় লিপি
সঠিক উত্তর: গ. ব্রাহ্মী লিপি
বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে প্রাচীন ভারতের ব্রাহ্মী লিপি থেকে। সম্রাট অশোকের শিলালিপিগুলো এই লিপিতে লেখা, আর উপমহাদেশের প্রায় সব লিপির মূল এই ব্রাহ্মী।
ব্রাহ্মী লিপি সময়ের সঙ্গে নানা আঞ্চলিক রূপ নেয়। এর পূর্বাঞ্চলীয় রূপ কুটিল লিপি, আর সেই কুটিল লিপি থেকে ধীরে ধীরে বাংলা লিপি গড়ে ওঠে।
অপশনের তৎসম কোনো লিপি নয়; তৎসম বলতে বোঝায় সংস্কৃত থেকে অবিকৃতভাবে আসা শব্দ। সংস্কৃত একটি ভাষা, লিপি নয়; সংস্কৃত সাধারণত দেবনাগরী লিপিতে লেখা হয়। আগ্নেয় লিপি নামে কোনো লিপি নেই।
এই বানানটি অনেক জায়গায় ব্রাক্ষী লেখা দেখা যায়, কিন্তু শুদ্ধ বানান ব্রাহ্মী: হ আর ম মিলে হ্ম।
মনে রাখুন: লিপির উৎস প্রশ্নে উত্তর প্রায় সবসময় ব্রাহ্মী; ভাষার উৎস প্রশ্নে ইন্দো-ইউরোপীয়।
৭৯৭. ’হরবোলা’ কোন সমাস? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৭)
- কউপপদ তৎপুরুষ
- খঅব্যয়ীভাব
- গবহুব্রীহি
- ঘকর্মধারয়
সঠিক উত্তর: ক. উপপদ তৎপুরুষ
হরবোলা মানে যে সব রকম পশুপাখি ও মানুষের বোল বা আওয়াজ নকল করতে পারে। ব্যাসবাক্য: হর বোল বলে যে। এখানে হর মানে সব বা নানা রকম।
উপপদ তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদ, অর্থাৎ উপপদ, আর তার পরের কৃদন্ত পদ মিলে সমাস হয়। ব্যাসবাক্যে থাকে যে বা যা দিয়ে কর্তা বোঝানো। হর বোল বলে যে, তাই হরবোলা উপপদ তৎপুরুষ।
একই রকম উদাহরণ: জলে চরে যা, তাই জলচর; পঙ্কে জন্মে যা, তাই পঙ্কজ; ছেলে ধরে যে, তাই ছেলেধরা।
ফাঁদ বহুব্রীহি, কারণ বহুব্রীহির ব্যাসবাক্যেও যে বা যার থাকে। পার্থক্য হলো, উপপদ তৎপুরুষে শেষ পদটি ক্রিয়া থেকে আসে, যেমন বলা থেকে বোলা; বহুব্রীহিতে দুটি পদই নাম বা বিশেষণ, যেমন নীলকণ্ঠ।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে করে যে, ধরে যে, বলে যে থাকলে আর শেষ পদ ক্রিয়ামূলক হলে উপপদ তৎপুরুষ।
৭৯৮. ’প্রৌঢ়’ এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৭)
- কপ্রো + উঢ়
- খপ্রো + ঊঢ়
- গপ্র + উঢ়
- ঘপ্র + ঊঢ়
সঠিক উত্তর: ঘ. প্র + ঊঢ়
প্রৌঢ় শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ প্র যোগ ঊঢ়। ঊঢ় মানে বহন করা হয়েছে এমন; প্রৌঢ় মানে যার বয়স যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্যের দিকে।
সাধারণ নিয়মে অ বা আ এর পরে উ বা ঊ থাকলে দুটো মিলে হয় ও। সেই নিয়মে প্র যোগ ঊঢ় হওয়ার কথা প্রোঢ়। কিন্তু এখানে হয়েছে ঔ, তাই এটি নিয়মের ব্যতিক্রম, নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি।
একই রকম ব্যতিক্রম: অক্ষ যোগ ঊহিণী হয় অক্ষৌহিণী, আর স্ব যোগ ঈর হয় স্বৈর।
প্রশ্নের ফাঁদ উ আর ঊ। ঊঢ় শব্দে দীর্ঘ ঊ, তাই প্র যোগ উঢ় ভুল। আর প্রো যোগ ঊঢ় ভুল, কারণ উপসর্গটি প্র, প্রো নয়।
মনে রাখুন: উপসর্গ প্র কখনো প্রো লেখা হয় না; প্রো দেখলেই সেই অপশন বাদ।
৭৯৯. নিচের কোনটি তাড়নজাত ধ্বনি? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৭)
- কড়
- খর
- গষ
- ঘধ
সঠিক উত্তর: ক. ড়
তাড়নজাত ধ্বনি মানে যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের ডগা উল্টে ওপরের দন্তমূলে দ্রুত একটা টোকা বা তাড়না দেয়। বাংলায় তাড়নজাত ধ্বনি দুটি: ড় আর ঢ়।
ড় আর ঢ় উচ্চারণে জিভ একবার ঝাপটা দিয়েই সরে আসে, তাই এগুলোকে তাড়নজাত বা তাড়িত ধ্বনি বলে।
র ফাঁদ, কারণ উচ্চারণে র কাছাকাছি শোনায়। কিন্তু র উচ্চারণে জিভ কয়েকবার কাঁপে, তাই র কম্পনজাত ধ্বনি। ষ হলো শিস বা উষ্ম ধ্বনি, আর ধ হলো ঘোষ মহাপ্রাণ স্পর্শ ধ্বনি।
মনে রাখুন: ড় ঢ় তাড়ায়, র কাঁপে, ল পাশ দিয়ে যায়।
৮০০. ’নেই আঁকড়া’ বাগধারাটির অর্থ কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৭)
- কদ্বন্দ্ব
- খএকগুঁয়ে
- গসখ্যতা
- ঘরগচটা
সঠিক উত্তর: খ. একগুঁয়ে
নেই আঁকড়া বাগ্ধারার অর্থ একগুঁয়ে বা নাছোড়বান্দা। যে কোনো কিছু একবার ধরলে আর ছাড়ে না, নিজের কথায় অনড় থাকে, তাকে নেই আঁকড়া বলে।
আঁকড়া শব্দেই আঁকড়ে ধরার ইঙ্গিত আছে: যে নিজের জেদ আঁকড়ে ধরে থাকে, কারও কথায় ছাড়ে না, সে-ই একগুঁয়ে। যেমন: ছেলেটা এমন নেই আঁকড়া যে কারও কথাই শোনে না।
রগচটা ফাঁদ, কারণ এটিও মানুষের স্বভাব বোঝায়; কিন্তু রগচটা মানে যে অল্পতেই রেগে যায়। দ্বন্দ্ব মানে বিরোধ, আর সখ্যতা বন্ধুত্ব বোঝাতে লেখা হয়, যদিও শুদ্ধ রূপ সখ্য।
মনে রাখুন: বাগ্ধারার শব্দ ভেঙে আক্ষরিক অর্থ দেখুন; আঁকড়া শব্দেই ধরে থাকার ইঙ্গিত।