বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৩৯
৭৬১. যার কোনো মূল্য নেই - এর সমার্থক বাগধারা কোনটি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৮)
- কডাকাবুকো
- খতুলসী বনের বাঘ
- গকাঠের পুতুল
- ঘঢাকের বাঁয়া
সঠিক উত্তর: ঘ. ঢাকের বাঁয়া
‘ঢাকের বাঁয়া’ বাগ্ধারার অর্থ অপ্রয়োজনীয় বা মূল্যহীন জিনিস বা ব্যক্তি, যার নিজের কোনো গুরুত্ব নেই।
বাঁয়া হলো তবলার সঙ্গে বাঁ হাতে বাজানো ছোট ঢোল। তবলার সঙ্গে বাঁয়া লাগে, কিন্তু ঢাক একাই বাজে, তার সঙ্গে বাঁয়ার কোনো দরকার নেই। তাই যার উপস্থিতি থাকলেও কাজে লাগে না, তাকে ঢাকের বাঁয়া বলা হয়।
অন্যগুলো: ‘ডাকাবুকো’ মানে নির্ভীক বা দুঃসাহসী; ‘তুলসী বনের বাঘ’ মানে ভণ্ড, ভালো মানুষের বেশে ক্ষতিকর লোক; ‘কাঠের পুতুল’ মানে নিজের ক্ষমতা নেই এমন, অন্যের কথায় চলে যে।
কাঠের পুতুল ফাঁদ হতে পারে: সেটা ক্ষমতাহীন বোঝায়, মূল্যহীন নয়।
মনে রাখুন: বাগ্ধারার অর্থ বের করতে ছবিটা কল্পনা করুন: ঢাকের পাশে বাঁয়া কোনো কাজে আসে না, তাই মূল্যহীন।
৭৬২. নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৮)
- কনিঃশোষিত
- খনীরস
- গমাধুরিয়া
- ঘঅধীনী
সঠিক উত্তর: খ. নীরস
শুদ্ধ বানান নীরস। শব্দটা এসেছে নিঃ আর রস মিলে, মানে রস নেই এমন। এটি বিসর্গসন্ধির একটি বিশেষ নিয়ম।
নিয়ম: ই-কারযুক্ত বিসর্গের পরে র থাকলে বিসর্গ লোপ পায়, আর তার আগের হ্রস্ব ই-কার দীর্ঘ ঈ-কার হয়। তাই নিঃ যোগ রস হয় নীরস, নিঃ যোগ রব হয় নীরব, নিঃ যোগ রোগ হয় নীরোগ।
অন্য অপশনগুলোর শুদ্ধ রূপ: নিঃশেষিত, শেষ শব্দ থেকে, শোষ নয়; মাধুরী বা মাধুর্য; আর অধীন, স্ত্রীলিঙ্গে অধীনা।
নিঃশোষিত দেখতে কাছাকাছি হওয়ায় ফাঁদ; মূল শব্দ নিঃশেষ, মানে সম্পূর্ণ শেষ, তাই নিঃশেষিত।
মনে রাখুন: নিঃ-এর পরে র এলে নী হয়: নীরব, নীরস, নীরোগ, নীরন্ধ্র।
৭৬৩. ' বিড়ালের আড়াই পা ' বাগধারাটির অর্থ কি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৮)
- কলাফালাফি
- খলম্ফঝম্প
- গবেহায়াপনা
- ঘলজ্জা
সঠিক উত্তর: গ. বেহায়াপনা
‘বিড়ালের আড়াই পা’ বাগ্ধারার অর্থ বেহায়াপনা বা নির্লজ্জতা।
প্রচলিত ধারণা হলো, বিড়ালকে তাড়িয়ে দিলে সে আড়াই পা সরে গিয়ে আবার ফিরে আসে। বারবার তাড়ানো সত্ত্বেও লজ্জা না পেয়ে ফিরে আসাকেই নির্লজ্জতা বা বেহায়াপনা বলা হয়।
বাক্যে প্রয়োগ: এতবার অপমানিত হয়েও আবার এসেছে, একেই বলে বিড়ালের আড়াই পা।
লাফালাফি ও লম্ফঝম্প অপশন দুটো ‘পা’ শব্দ দেখে বিভ্রান্ত করার জন্য; আর লজ্জা অর্থটি উল্টো, কারণ বাগ্ধারাটি লজ্জাহীনতা বোঝায়।
মনে রাখুন: বিড়ালের তিন বাগ্ধারা একসঙ্গে মনে রাখুন: আড়াই পা মানে বেহায়াপনা, বিড়াল তপস্বী মানে ভণ্ড, গলায় ঘণ্টা মানে ঝুঁকির কাজ।
৭৬৪. সমাস নিষ্পন্ন পদটিকে কি বলে? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৮)
- কসমস্যমান পদ
- খব্যাসবাক্য
- গউত্তর পদ
- ঘসমস্ত পদ
সঠিক উত্তর: ঘ. সমস্ত পদ
সমাসে যে নতুন পদটি তৈরি হয়, তাকে বলে সমস্ত পদ বা সমাসবদ্ধ পদ। যেমন সিংহ চিহ্নিত আসন থেকে সিংহাসন; এখানে সিংহাসন সমস্ত পদ।
সমাসের অন্য পরিভাষাগুলো: যে পদগুলো মিলে সমাস হয়, প্রত্যেকটিকে বলে সমস্যমান পদ। প্রথম অংশ পূর্বপদ, শেষ অংশ উত্তর পদ বা পরপদ। আর সমস্ত পদকে ভেঙে যে বাক্যাংশ পাওয়া যায়, তাকে বলে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য।
সিংহাসনের উদাহরণে সিংহ পূর্বপদ, আসন উত্তর পদ, দুটিই সমস্যমান পদ; সিংহ চিহ্নিত আসন ব্যাসবাক্য।
ফাঁদ হলো উত্তর পদ: এটা সমস্ত পদের একটা অংশ মাত্র, পুরো সমাসনিষ্পন্ন পদ নয়।
মনে রাখুন: ‘সমস্ত’ মানে সব মিলিয়ে, তাই সব জোড়া লাগা পদটি সমস্ত পদ; ‘সমস্যমান’ মানে যারা জোড়া লাগছে।
৭৬৫. নিচের কোন স্ত্রীবাচক শব্দের দুটি পুরুষবাচক শব্দ রয়েছে? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৮)
- ককবিরাজ
- খননদ
- গকুলটা
- ঘইবীন
সঠিক উত্তর: খ. ননদ
ননদ স্ত্রীবাচক শব্দ, মানে স্বামীর বোন। এর পুরুষবাচক রূপ দুটি: স্বামীর বড় ভাই হলে ভাশুর, আর ছোট ভাই হলে দেবর।
অর্থাৎ ননদ শব্দের কোনো একক পুরুষবাচক রূপ নেই; সম্পর্কের পুরুষ প্রতিরূপ বয়স অনুযায়ী দুটি আলাদা শব্দ, তাই ননদের দুটি পুরুষবাচক শব্দ।
অন্য অপশনগুলো: কবিরাজ নিজেই পুরুষবাচক শব্দ। কুলটা মানে অসতী নারী; এটি নিত্য স্ত্রীবাচক, এর কোনো পুরুষবাচক নেই, যেমন সতীন, এয়ো।
ইবীন শব্দটি প্রচলিত বাংলা শব্দ নয়, তাই বিবেচনায় আসে না।
মনে রাখুন: সম্পর্কবাচক নারী শব্দের পুরুষ রূপ খুঁজতে একই সম্পর্কের পুরুষটি কে, তা ভাবুন: স্বামীর বোন ননদ, স্বামীর ভাই ভাশুর ও দেবর।
৭৬৬. কোনটি সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৮)
- কসম্ + চয় = সঞ্চয়
- খরাজ + জ্ঞী = রাজ্ঞী
- গশ + অন = শয়ন
- ঘমনো + কষ্ট = মনঃকষ্ট
সঠিক উত্তর: ক. সম্ + চয় = সঞ্চয়
সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ সম্ যোগ চয় সমান সঞ্চয়। এটি ব্যঞ্জনসন্ধি।
নিয়ম: ম্-এর পরে বর্গীয় ব্যঞ্জন, মানে ক থেকে ম পর্যন্ত বর্ণ, থাকলে ম্ বদলে সেই বর্গের পঞ্চম বর্ণ, মানে নাসিক্য বর্ণ, হয়। চ চ-বর্গের বর্ণ, চ-বর্গের পঞ্চম বর্ণ ঞ। তাই ম্ হয়ে যায় ঞ, আর ঞ্চ যুক্ত হয়ে হয় সঞ্চয়। এভাবে সম্ যোগ চার হয় সঞ্চার।
অন্যগুলো ভুল কেন: রাজ্ঞী আসে রাজন্ শব্দে স্ত্রী প্রত্যয় ঈ যোগে, এটি সন্ধি নয়। শয়ন হয় শে যোগ অন থেকে, এ যোগ অ মিলে অয়। মনঃকষ্ট হয় মনঃ যোগ কষ্ট থেকে, মনো যোগ কষ্ট নয়।
শ যোগ অন অপশনটা ফাঁদ: শ একা কোনো অর্থপূর্ণ মূল নয়, আর অ যোগ অ হলে হতো আ, অয় আসত না।
মনে রাখুন: ম্-এর পরের বর্ণ যে বর্গের, ম্ সেই বর্গের নাসিক্য হয়: সম্ + তাপ = সন্তাপ, সম্ + চয় = সঞ্চয়।
৭৬৭. ‘গোঁফখেজুরে’ কোন সমাস? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৮)
- কব্যতিহার বহুব্রীহি
- খব্যধিকরণ বহুব্রীহি
- গদ্বিগু
- ঘমধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর: খ. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
‘গোঁফখেজুরে’ ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস। ব্যাসবাক্য: গোঁফে খেজুর যার। অর্থ অতি অলস ব্যক্তি, যে গোঁফে খেজুর পড়ে থাকলেও মুখে তুলে খায় না।
বহুব্রীহিতে সমস্ত পদ পূর্বপদ বা পরপদ কাউকে না বুঝিয়ে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়। এখানে গোঁফ বা খেজুর নয়, বোঝানো হয়েছে একজন অলস লোককে।
ব্যধিকরণ মানে পূর্বপদ ও পরপদ ভিন্ন বিভক্তিতে থাকে। এখানে গোঁফে, অর্থাৎ সপ্তমী বিভক্তি, আর খেজুর প্রথমা বিভক্তি। দুটো আলাদা বিভক্তি, তাই ব্যধিকরণ বহুব্রীহি। একই রকম উদাহরণ: কথায় সর্বস্ব যার, কথাসর্বস্ব।
ফাঁদ হলো মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি: অর্থ বোঝাতে লম্বা কাহিনি বলতে হয় বলে মধ্যপদ লোপ পেয়েছে মনে হয়, কিন্তু ব্যাসবাক্য গোঁফে খেজুর যার, আর নির্ধারক বৈশিষ্ট্য হলো দুই পদের ভিন্ন বিভক্তি; তাই এটি ব্যধিকরণ বহুব্রীহি।
মনে রাখুন: বহুব্রীহিতে দুই পদের বিভক্তি এক হলে সমানাধিকরণ, ভিন্ন হলে ব্যধিকরণ।
৭৬৮. নিচের কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- কযাত্রাবদল
- খমৌরীফুল
- গকায়কোবাদ
- ঘরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস চেনা নিয়ে। এখানে স্ক্যান করা প্রশ্নপত্র থেকে লেখা তোলার সময় দুটি প্রশ্ন মিশে গেছে, আর আসল অপশনগুলো হারিয়ে গেছে; যে অপশনগুলো দেখা যাচ্ছে, তার কোনোটিই বিভূতিভূষণের উপন্যাস নয়।
বিভূতিভূষণের প্রধান উপন্যাস হলো পথের পাঁচালী, অপরাজিত, আরণ্যক, ইছামতী, আদর্শ হিন্দু হোটেল, দেবযান ও চাঁদের পাহাড়। প্রথম উপন্যাস পথের পাঁচালী, ১৯২৯ সালে প্রকাশিত, যা থেকে সত্যজিৎ রায় বিখ্যাত চলচ্চিত্র বানান।
অপশনে থাকা মৌরীফুল আর যাত্রাবদল দুটোই বিভূতিভূষণের লেখা, কিন্তু উপন্যাস নয়, গল্পগ্রন্থ। মৌরীফুল তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ। এটাই বড় ফাঁদ: লেখক ঠিক, কিন্তু ধরন ভুল।
মিশে যাওয়া দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল এক পয়সার বাঁশি কাব্য কার লেখা; এর উত্তর পল্লিকবি জসীমউদ্দীন। কায়কোবাদ আর রবীন্দ্রনাথ সেই প্রশ্নের অপশন।
মনে রাখুন: বিভূতিভূষণের উপন্যাসে প্রকৃতি: পথ, অরণ্য, নদী (পথের পাঁচালী, আরণ্যক, ইছামতী)।
৭৬৯. 'মুসাফির' কোন ভাষার শব্দ? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- কআরবি
- খফারসি
- গহিন্দি
- ঘতুর্কি
সঠিক উত্তর: ক. আরবি
প্রশ্নটা শব্দের উৎস নিয়ে। মুসাফির শব্দটি আরবি, মূল অর্থ ভ্রমণকারী বা পথিক।
আরবি সফর মানে ভ্রমণ, তা থেকে মুসাফির মানে যে সফর করে। বাংলায় শব্দটি এসেছে মুসলমান শাসনামলে, ফারসি-ভাষী প্রশাসনের মাধ্যমে; তাই অনেকে ফারসি ভেবে ভুল করেন।
বাংলায় আরবি থেকে আসা আরও কিছু শব্দ: আদালত, উকিল, কিতাব, কলম, হাকিম, এজলাস। ফারসি শব্দের উদাহরণ: দরবার, খানা, বাজার, কারখানা, চশমা। তুর্কি শব্দ: কাঁচি, চাকু, তোপ, বাবুর্চি, দারোগা।
ফাঁদ হলো ফারসি: আরবি শব্দ বাংলায় ফারসির মাধ্যমে এলেও উৎস আরবি।
মনে রাখুন: সফর থেকে মুসাফির, যেমন হুকুম থেকে হাকিম: আরবি মূল।
৭৭০. লালসালু কোন ধরনের উপন্যাস? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- কআঞ্চলিক
- খসামাজিক
- গঐতিহাসিক
- ঘআধ্যাত্মিক
সঠিক উত্তর: খ. সামাজিক
প্রশ্নটা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লালসালু উপন্যাসের ধরন নিয়ে। লালসালু একটি সামাজিক উপন্যাস, ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত।
উপন্যাসে মজিদ নামের এক ভণ্ড ব্যক্তি এক অজানা কবরে লাল কাপড় বা সালু চড়িয়ে মাজার বানায়, আর গ্রামের মানুষের ধর্মবিশ্বাস ও কুসংস্কারকে কাজে লাগিয়ে প্রভাব ও সম্পদ গড়ে তোলে। গ্রামীণ সমাজের অন্ধবিশ্বাস ও শোষণই এর মূল বিষয়, তাই এটি সামাজিক উপন্যাস।
ধর্ম ও মাজারের কথা আছে বলে কেউ আধ্যাত্মিক ভাবেন, কিন্তু উপন্যাসটা আধ্যাত্মিকতার নয়, ধর্মের নামে ব্যবসার সমালোচনা। আঞ্চলিক উপন্যাসের উদাহরণ পদ্মানদীর মাঝি; ঐতিহাসিক উপন্যাসের উদাহরণ বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর অন্য দুটি উপন্যাস চাঁদের অমাবস্যা ও কাঁদো নদী কাঁদো। লালসালু ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে Tree Without Roots নামে।
মনে রাখুন: লাল সালুর নিচে ভণ্ডামি: সমাজের কুসংস্কারের ছবি, তাই সামাজিক।
৭৭১. কবি শামসুর রাহমানের জন্ম কত সালে? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- ক১৯২৭
- খ১৯২৯
- গ১৯২৮
- ঘ১৯৩০
সঠিক উত্তর: খ. ১৯২৯
প্রশ্নটা কবি শামসুর রাহমানের জন্মসাল নিয়ে। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর, পুরান ঢাকার মাহুতটুলীতে। মারা যান ২০০৬ সালে।
তিনি বাংলাদেশের প্রধান আধুনিক কবিদের একজন, স্বাধীনতা ও নাগরিক জীবনের কবি হিসেবে পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের সময় মজলুম আদিব ছদ্মনামে লিখেছেন।
তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে। বিখ্যাত কবিতা তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা আর স্বাধীনতা তুমি। আরেকটি পরিচিত কাব্য বন্দী শিবির থেকে।
কাছাকাছি সাল দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে; ১৯২৭, ১৯২৮, ১৯৩০ কোনোটিই নয়, সঠিক ১৯২৯।
মনে রাখুন: সংখ্যা মনে রাখুন: ২৯ সালে জন্ম, ২৩ তারিখে।
৭৭২. বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক কে? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- কঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গপ্রমথ চৌধুরী
- ঘপ্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর: গ. প্রমথ চৌধুরী
প্রশ্নটা বাংলা গদ্যে চলিত রীতি কে প্রতিষ্ঠা করেন, তা নিয়ে। উত্তর প্রমথ চৌধুরী।
১৯১৪ সালে তিনি সবুজপত্র পত্রিকা বের করেন এবং এর মাধ্যমে সাহিত্যে মানুষের মুখের ভাষার কাছাকাছি চলিত রীতি চালু করেন। তাঁর ছদ্মনাম বীরবল, তাই এই ভঙ্গিকে বীরবলী রীতিও বলা হয়।
এর আগে সাহিত্যের ভাষা ছিল মূলত সাধু রীতি। বিদ্যাসাগর সাধু রীতিকে সুসংহত করেন বলে তাঁকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। প্যারীচাঁদ মিত্রের আলালের ঘরের দুলাল কথ্য ভাষার আদলে লেখা হলেও সেটা আলালী ভাষা, পুরোপুরি চলিত রীতি নয়।
ফাঁদ হলো রবীন্দ্রনাথ: সবুজপত্রের যুগে তিনিও চলিত রীতিতে লিখেছেন, কিন্তু প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী।
মনে রাখুন: সবুজপত্র = চলিত রীতি = প্রমথ চৌধুরী (বীরবল)।
৭৭৩. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন কোনটি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- কমহাভারত
- খরামায়ণ
- গজঙ্গনামা
- ঘচর্যাপদ
সঠিক উত্তর: ঘ. চর্যাপদ
প্রশ্নটা বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন নিয়ে। উত্তর চর্যাপদ, আনুমানিক দশম থেকে দ্বাদশ শতকে বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের লেখা গান।
১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন। এতে সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে, আর পদকর্তা চব্বিশ জন; লুইপা, কাহ্নপা, ভুসুকুপা উল্লেখযোগ্য।
বাকি অপশনগুলো মধ্যযুগের। মহাভারত ও রামায়ণ মূলত সংস্কৃত মহাকাব্য, বাংলায় অনুবাদ হয় মধ্যযুগে: রামায়ণ অনুবাদ করেন কৃত্তিবাস, মহাভারত কাশীরাম দাস। জঙ্গনামা মধ্যযুগের মুসলিম কবিদের লেখা কারবালা যুদ্ধের কাহিনি।
ফাঁদ হলো মহাভারত ও রামায়ণ: মূল মহাকাব্য খুব প্রাচীন, কিন্তু সেগুলো বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন নয়, সংস্কৃতের।
মনে রাখুন: প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ; এই কথাটা মনে থাকলেই চলে।
৭৭৪. কোন জাতীয় শব্দে 'ষ' ব্যবহার হয় না? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- কতৎসম
- খসংস্কৃত
- গবিদেশি
- ঘতদ্ভব
সঠিক উত্তর: গ. বিদেশি
প্রশ্নটা ষত্ব বিধান নিয়ে। ষত্ব বিধানের নিয়ম শুধু তৎসম, মানে সংস্কৃত থেকে অবিকৃতভাবে আসা শব্দে খাটে; বিদেশি শব্দে কখনো ষ হয় না।
তাই ইংরেজি ও অন্য বিদেশি শব্দে স লেখা হয়, যদিও উচ্চারণ ষ-এর মতো হতে পারে: পোস্ট, স্টেশন, মাস্টার, স্টোর, পোস্টার। তৎসম শব্দে ঋ-কারের পরে, র-এর পরে, আর অ-আ ছাড়া অন্য স্বরের পরে প্রায়ই ষ হয়: কৃষক, বর্ষা, বিষয়।
তৎসম আর সংস্কৃত এখানে একই কথা, তাই ওই দুটোতে ষ থাকে। তদ্ভব শব্দে বাংলা একাডেমি সাধারণত ষ বাদ দিতে বলে, তবে কিছু প্রচলিত তদ্ভব শব্দে ষ রয়ে গেছে।
ফাঁদ হলো তদ্ভব: নিয়মটা জানলে মনে হয় তদ্ভবেও ষ নেই, কিন্তু প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর বিদেশি শব্দ, যেখানে ষ কখনোই বসে না।
মনে রাখুন: ইংরেজি শব্দ বাংলায় লিখলে st, sh-এর জন্য সবসময় স: স্টেশন, পোস্ট, মাস্টার।
৭৭৫. শব্দের আগে কোনটি বসে? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- কউপসর্গ
- খঅনুসর্গ
- গপ্রত্যয়
- ঘবিভক্তি
সঠিক উত্তর: ক. উপসর্গ
প্রশ্নটা শব্দের আগে কোন অংশ বসে, তা নিয়ে। উত্তর উপসর্গ: শব্দ বা ধাতুর আগে বসে নতুন অর্থের শব্দ তৈরি করে।
যেমন হার শব্দের আগে প্র বসলে প্রহার, আ বসলে আহার, বি বসলে বিহার, উপ বসলে উপহার। উপসর্গের নিজের স্বাধীন অর্থ নেই, কিন্তু শব্দের অর্থ বদলে দেয়। বাংলায় তৎসম উপসর্গ বিশটি।
প্রত্যয় আর বিভক্তি বসে শব্দের শেষে: পড় যোগ উয়া হয় পড়ুয়া, এখানে উয়া প্রত্যয়; আর মানুষ যোগ কে হয় মানুষকে, এখানে কে বিভক্তি। অনুসর্গ বসে শব্দের পরে আলাদাভাবে: দ্বারা, দিয়ে, থেকে, জন্য।
ফাঁদ হলো অনুসর্গ: নামে সর্গ আছে বলে উপসর্গের মতো লাগে, কিন্তু অনু মানে পরে; তাই অনুসর্গ পরে বসে।
মনে রাখুন: উপ মানে কাছে বা আগে, অনু মানে পরে: উপসর্গ আগে, অনুসর্গ পরে।
৭৭৬. কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম কবিতার নাম কি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- কবিদ্রোহী
- খছাড়পত্র
- গরাখালী
- ঘমুক্তি
সঠিক উত্তর: ঘ. মুক্তি
প্রশ্নটা কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতা নিয়ে। উত্তর মুক্তি, ১৯১৯ সালে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত।
নজরুল তখন সেনাবাহিনীতে, করাচির সেনানিবাসে ছিলেন; সেখান থেকেই লেখা পাঠাতেন। একই বছর তাঁর প্রথম প্রকাশিত গদ্য বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী।
বিদ্রোহী তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা, ১৯২২ সালে বিজলী পত্রিকায় ছাপা হয়, প্রথম নয়। প্রথম কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা, ১৯২২। ছাড়পত্র সুকান্ত ভট্টাচার্যের কাব্যগ্রন্থ, আর রাখালী জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
ফাঁদ হলো বিদ্রোহী: সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতাকে প্রথম কবিতা ভেবে নেওয়া।
মনে রাখুন: নজরুলের প্রথম: কবিতা মুক্তি, গদ্য বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী, কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা।
৭৭৭. শিক্ষক + কন মিলে কি হবে? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- কশিক্ষণ
- খশিক্ষক
- গশিক্ষকন
- ঘশিক্ষন
সঠিক উত্তর: ক. শিক্ষণ
প্রশ্নটা প্রকৃতি ও প্রত্যয় জুড়ে শব্দ তৈরি নিয়ে। যেভাবে ছাপা হয়েছে, শিক্ষক যোগ কন, তা থেকে কোনো শব্দ হয় না; আসলে প্রশ্নটা হওয়ার কথা শিক্ষ্ যোগ অন, যার ফল শিক্ষণ।
শিক্ষ্ ধাতুর সঙ্গে অন প্রত্যয় যোগ হলে শিক্ষন হওয়ার কথা, কিন্তু ণত্ব বিধান অনুযায়ী ন বদলে ণ হয়। ক্ষ আসলে ক আর ষ মিলে গঠিত, আর ষ-এর পরে ন থাকলে তা ণ হয়ে যায়। তাই শুদ্ধ রূপ শিক্ষণ।
একই নিয়মে ভক্ষ্ যোগ অন হয় ভক্ষণ, রক্ষ্ যোগ অন হয় রক্ষণ, ঈক্ষ্ যোগ অন হয় ঈক্ষণ। আর শিক্ষ্ যোগ অক হয় শিক্ষক।
ফাঁদ হলো শিক্ষন: ণত্ব বিধান না মানলে এই ভুল বানান আসে।
মনে রাখুন: ক্ষ-এর পরে সবসময় ণ: শিক্ষণ, ভক্ষণ, রক্ষণ, লক্ষণ।
৭৭৮. 'তুলসী বনের বাঘ' মানে কী? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- ককুঁড়ে
- খভীতু
- গরোগা
- ঘভণ্ড
সঠিক উত্তর: ঘ. ভণ্ড
প্রশ্নটা বাগ্ধারার অর্থ নিয়ে। তুলসী বনের বাঘ মানে ভণ্ড, অর্থাৎ বাইরে সাধু সেজে থাকা কিন্তু ভেতরে মন্দ মানুষ।
তুলসী গাছ হিন্দু ধর্মে পবিত্র, তুলসী বন মানে পবিত্র জায়গা। সেখানে বাঘ লুকিয়ে থাকা মানে সাধুতার আড়ালে হিংস্রতা বা খারাপ উদ্দেশ্য। যেমন, লোকটা সারাদিন ধর্মের কথা বলে কিন্তু সুযোগ পেলেই ঠকায়; সে আসলে তুলসী বনের বাঘ।
একই রকম অর্থের আরেকটি বাগ্ধারা বিড়াল তপস্বী, মানে ভণ্ড সাধু। আর ভিজে বিড়াল মানে কপট বা নিরীহ সেজে থাকা মানুষ।
অন্য অপশনগুলো এই বাগ্ধারার অর্থের সঙ্গে মেলে না: কুঁড়ে মানে অলস, ভীতু মানে ভয় পাওয়া মানুষ, রোগা মানে দুর্বল শরীর। বাঘ শব্দটা দেখে সাহস বা ভয়ের কথা ভাবলেই ভুল হবে; মূল কথা হলো সাধুর ছদ্মবেশ।
মনে রাখুন: পবিত্র জায়গায় হিংস্র প্রাণী মানেই ভণ্ড: তুলসী বনের বাঘ, বিড়াল তপস্বী।
৭৭৯. সমজাতীয় একাধিক পদ পরপর থাকলে কি চিহ্ন বসে --- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- ককোলন
- খসেমিকোলন
- গহাইফেন
- ঘকমা
সঠিক উত্তর: ঘ. কমা
প্রশ্নটা যতিচিহ্ন নিয়ে। একই ধরনের একাধিক পদ পরপর বসলে তাদের আলাদা করতে কমা বা পাদচ্ছেদ বসে।
যেমন: রহিম, করিম, জামাল ও কামাল স্কুলে গেল। এখানে চারটি বিশেষ্য পদ একসঙ্গে আছে, তাই মাঝে কমা; শেষ দুটির মাঝে ও থাকলে আর কমা লাগে না। বিশেষণের বেলাতেও একই: সুন্দর, শান্ত, ভদ্র ছেলে।
সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ বসে কমার চেয়ে বেশি কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে কম বিরতিতে, সাধারণত দুটি স্বাধীন বাক্যাংশের মাঝে। কোলন বসে উদাহরণ বা তালিকার আগে। হাইফেন বসে সমাসবদ্ধ বা জোড়া শব্দের মাঝে, যেমন মা-বাবা, সুখ-দুঃখ।
ফাঁদ হলো হাইফেন: জোড়া শব্দ দেখে অনেকে হাইফেন ভাবেন, কিন্তু হাইফেন দুটি শব্দকে জোড়ে, আর কমা একাধিক পদকে আলাদা করে।
মনে রাখুন: তালিকায় নাম গুনতে কমা, শব্দ জোড়া লাগাতে হাইফেন।
৭৮০. যে ধরনের বাক্যে অনুরোধ, আদেশ, আশীর্বাদ ইত্যাদি প্রকাশ পায় তাকে কী বলে? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৭)
- কবিস্ময়বোধক বাক্য
- খবিবৃতিমূলক বাক্য
- গজিজ্ঞাসাবোধক বাক্য
- ঘঅনুজ্ঞাবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর: ঘ. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
প্রশ্নটা অর্থ অনুযায়ী বাক্যের প্রকারভেদ নিয়ে। যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ বা আশীর্বাদ প্রকাশ পায়, তাকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বলে।
উদাহরণ: দরজাটা বন্ধ করো, এটা আদেশ। দয়া করে একটু বসুন, এটা অনুরোধ। সদা সত্য কথা বলবে, এটা উপদেশ। দীর্ঘজীবী হও, এটা আশীর্বাদ।
বাকি প্রকারগুলো: বিবৃতিমূলক বাক্যে সাধারণ তথ্য জানানো হয়, যেমন সে বাড়ি যায়। প্রশ্নবোধক বা জিজ্ঞাসাবোধক বাক্যে প্রশ্ন থাকে, যেমন তুমি কোথায় যাও। বিস্ময়বোধক বাক্যে আবেগ বা বিস্ময় থাকে, যেমন কী সুন্দর দৃশ্য!
ক্রিয়ার অনুজ্ঞা ভাব থেকেই নামটা এসেছে; তাই আদেশ-অনুরোধ মানেই অনুজ্ঞা।
মনে রাখুন: আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, আশীর্বাদ: চারটিই অনুজ্ঞা।