বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ১৪
২৬১. শরতের শিশির বাগধারার অর্থ কী? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কসুসময়ের বন্ধু
- খসুসময়ের সঞ্চয়
- গশরতের শোভা
- ঘশরতের শিউলি ফুল
সঠিক উত্তর: ক. সুসময়ের বন্ধু
শরতের শিশির বাগ্ধারার অর্থ সুসময়ের বন্ধু। শরতের ভোরে শিশির জমে, কিন্তু রোদ উঠলেই মিলিয়ে যায়; তেমনি কিছু বন্ধু শুধু ভালো সময়ে পাশে থাকে, দুঃসময় এলেই সরে পড়ে।
একই অর্থের আরও দুটি বাগ্ধারা: বসন্তের কোকিল, যে শুধু বসন্তে ডাকে; আর দুধের মাছি, যে দুধ থাকলেই ভিড় করে। পরীক্ষায় তিনটিই ঘুরেফিরে আসে।
উদাহরণ: চাকরি যাওয়ার পর বুঝলাম, আমার অনেক বন্ধুই ছিল শরতের শিশির।
ফাঁদ হলো শরতের শোভা আর শরতের শিউলি ফুল, যা আক্ষরিক অর্থ। বাগ্ধারার অর্থ কখনো শব্দের সরল মানে নয়, তাই আক্ষরিক বিকল্প দেখলেই সন্দেহ করুন। সুসময়ের সঞ্চয়ও ভুল, কারণ শিশির জমে থাকে না।
মনে রাখুন: সুসময়ের বন্ধু: শরতের শিশির, বসন্তের কোকিল, দুধের মাছি।
২৬২. শিব রাত্রির সলতে – বাগধারাটির অর্থ কী? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কশিবরাত্রির আলো
- খএকমাত্র সঞ্চয়
- গএকমাত্র সন্তান
- ঘশিবরাত্রির গুরুত্ব
সঠিক উত্তর: গ. একমাত্র সন্তান
শিবরাত্রির সলতে বাগ্ধারার অর্থ একমাত্র সন্তান। শিবরাত্রির ব্রতে সারারাত জেগে প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখার রীতি আছে; সেই রাতে একটি সলতেই ভরসা, নিভে গেলে সব অন্ধকার।
বাবা-মায়ের কাছে একমাত্র সন্তানও তেমনি একমাত্র আলো ও ভরসা। উদাহরণ: খোকা ওদের শিবরাত্রির সলতে, তাই তাকে কোথাও একা ছাড়তে চান না।
কাছাকাছি আরেকটি বাগ্ধারা অন্ধের যষ্টি, মানে একমাত্র অবলম্বন বা ভরসা। দুটোর ভাব কাছাকাছি হলেও শিবরাত্রির সলতে বিশেষ করে সন্তান বোঝায়।
ফাঁদ হলো একমাত্র সঞ্চয়। সলতে যে একটিই, সেটা ধরতে পারলেও সঞ্চয় অর্থ ভুল; আর শিবরাত্রির আলো বা গুরুত্ব আক্ষরিক মানে, বাগ্ধারার রূপক অর্থ নয়।
মনে রাখুন: শিবরাত্রির সলতে একমাত্র সন্তান; অন্ধের যষ্টি একমাত্র অবলম্বন।
২৬৩. ‘প্রোষিতভর্তৃকা’- শব্দটির অর্থ কী? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কভর্ৎসনাপ্রাপ্ত তরুণী
- খযে নারীর স্বামী বিদেশে অবস্থান করে
- গভূমিতে প্রোথিত তরুমূল
- ঘযে বিবাহিতা নারী পিত্রালয়ে অবস্থান করে
সঠিক উত্তর: খ. যে নারীর স্বামী বিদেশে অবস্থান করে
প্রোষিতভর্তৃকা মানে যে নারীর স্বামী বিদেশে বা প্রবাসে থাকেন। শব্দটি দুই ভাগে ভাঙে: প্রোষিত মানে প্রবাসে গেছেন এমন, আর ভর্তা মানে স্বামী।
এটি এক কথায় প্রকাশের বহুল জিজ্ঞাসিত শব্দ। এর জোড়া শব্দ প্রোষিতপত্নীক, মানে যে পুরুষের স্ত্রী প্রবাসে থাকেন। ভর্তৃকা দিয়ে শেষ হলে নারী, পত্নীক দিয়ে শেষ হলে পুরুষ।
ভর্তৃকা শব্দটি শুনতে ভর্ৎসনার মতো লাগে, তাই ভর্ৎসনাপ্রাপ্ত তরুণী বিকল্পটি ফাঁদ। ভূমিতে প্রোথিত তরুমূল বিকল্পটিও প্রোষিত আর প্রোথিত শব্দের মিল দিয়ে বিভ্রান্ত করছে; প্রোথিত মানে পুঁতে রাখা।
আর যে বিবাহিত নারী বাবার বাড়িতে থাকেন, তাঁর কথা এ শব্দে নেই; এখানে স্বামীর প্রবাসে থাকাটাই মূল কথা।
মনে রাখুন: প্রোষিতভর্তৃকা: স্বামী প্রবাসে। প্রোষিতপত্নীক: স্ত্রী প্রবাসে।
২৬৪. উল্লিখিতদের মধ্যে কে প্রাচীন যুগের কবি নন? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ককাহুপাদ
- খলুইপাদ
- গশান্তিপাদ
- ঘরমনীপাদ
সঠিক উত্তর: ঘ. রমনীপাদ
প্রশ্নটি খুঁজছে কে প্রাচীন যুগের কবি নন। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ, তাই প্রশ্নটা আসলে কে চর্যাকার নন। লুইপা, কাহ্নপা আর শান্তিপা চর্যাপদের কবি; রমনীপাদ নামে কোনো চর্যাকার নেই।
চর্যার কবিদের নামের শেষে পা বা পাদ থাকে, যা সম্মানসূচক; এ কারণেই বানানো নামটিও পাদ দিয়ে শেষ করা হয়েছে, যাতে আসল মনে হয়।
কয়েকটি তথ্য মনে রাখুন: চর্যাপদের প্রথম পদটি লুইপার, তাই অনেকে তাঁকে আদি চর্যাকার বলেন। সবচেয়ে বেশি পদ লিখেছেন কাহ্নপা, ১৩টি।
বিকল্পে কাহ্নপার নাম কাহুপাদ লেখা থাকলেও তিনি একই কবি, তাই সেটি বাদ দেওয়া যাবে না। পা বা পাদ দেখেই চর্যাকার ধরে নেওয়াটাই এ প্রশ্নের ফাঁদ।
মনে রাখুন: সবচেয়ে বেশি পদ কাহ্নপার, প্রথম পদ লুইপার।
২৬৫. উল্লিখিত কোন রচনাটি পুঁথি সাহিত্যের অন্তর্গত নয় ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কময়মনসিংহ গীতিকা
- খইউসুফ জুলেখা
- গপদ্মাবতী
- ঘলাইলী মজনু
সঠিক উত্তর: ক. ময়মনসিংহ গীতিকা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন রচনা পুথি সাহিত্যের অংশ নয়। প্রত্যাশিত উত্তর ময়মনসিংহ গীতিকা, কারণ এটি কোনো কবির লেখা কাব্যই নয়; গ্রামের গায়েনদের মুখে মুখে চলা লোকগীতিকা বা পালাগানের সংকলন।
এই পালাগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে, আর দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়। মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কাজলরেখা এর বিখ্যাত পালা।
পুথি সাহিত্য বলতে সাধারণত আঠারো ও উনিশ শতকে আরবি, ফারসি, উর্দু, হিন্দি শব্দ মেশানো দোভাষী বাংলায় লেখা কাহিনিকাব্য বোঝায়। এ ধারার প্রধান কবি ফকির গরীবুল্লাহ, যিনি ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি নিয়েও পুথি লেখেন; তাই ইউসুফ-জুলেখা আর লাইলী-মজনুর মতো প্রণয়কাহিনিকে গাইডগুলো পুথির ধারার সঙ্গে যুক্ত করে।
সতর্কতা: আলাওলের পদ্মাবতী আরাকান রাজসভার সাহিত্যিক বাংলায় লেখা কাব্য, দোভাষী পুথি নয়; তাই এই বিকল্প নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবু সবচেয়ে নিশ্চিত উত্তর ময়মনসিংহ গীতিকা, কারণ এটি লিখিত কাব্যই নয়, মৌখিক পালা।
মনে রাখুন: ময়মনসিংহ গীতিকা: চন্দ্রকুমার দে সংগ্রহ, দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদনা, ১৯২৩।
২৬৬. জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত : (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কফকির গরীবুল্লাহ
- খনরহরি চক্রবর্তী
- গবিপ্রদাস পিপিলাই
- ঘবৃন্দাবন দাস
সঠিক উত্তর: ঘ. বৃন্দাবন দাস
মধ্যযুগে শ্রীচৈতন্যের জীবন নিয়ে যে কাব্যধারা গড়ে ওঠে তাকে জীবনীকাব্য বা চরিতসাহিত্য বলে। এ ধারার সবচেয়ে বিখ্যাত নাম বৃন্দাবন দাস; তাঁর চৈতন্যভাগবত বাংলা ভাষায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য।
এ ধারার আরেকটি বিখ্যাত গ্রন্থ কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃত; আর লোচনদাস ও জয়ানন্দ দুজনেই চৈতন্যমঙ্গল নামে কাব্য লেখেন।
বিকল্পের অন্যরা অন্য ধারার। বিপ্রদাস পিপিলাই মনসামঙ্গল ধারার মনসাবিজয় কাব্যের কবি; ফকির গরীবুল্লাহ দোভাষী পুথির কবি, তাঁর বিখ্যাত পুথি আমির হামজা ও জঙ্গনামা।
নরহরি চক্রবর্তী ফাঁদ হতে পারেন, কারণ তিনিও বৈষ্ণব লেখক এবং নরোত্তমবিলাস নামে একটি জীবনীও লিখেছেন। কিন্তু তিনি মূলত বৈষ্ণব ইতিহাসগ্রন্থ ভক্তিরত্নাকরের জন্য পরিচিত; জীবনীকাব্যের জন্য বিখ্যাত বললে প্রথমেই আসেন বৃন্দাবন দাস।
মনে রাখুন: চৈতন্যজীবনী: বৃন্দাবন দাস চৈতন্যভাগবত, কৃষ্ণদাস কবিরাজ চৈতন্যচরিতামৃত।
২৬৭. বৈষ্ণব পদাবলীর সঙ্গে কোন ভাষা সম্পর্কিত? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কসন্ধ্যাভাষা
- খঅধিভাষা
- গব্রজবুলি
- ঘসংস্কৃত ভাষা
সঠিক উত্তর: গ. ব্রজবুলি
বৈষ্ণব পদাবলির সঙ্গে যুক্ত ভাষা ব্রজবুলি। এটি মৈথিলি আর বাংলার মিশ্রণে গড়া একটি কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা, কারও মুখের ভাষা নয়।
মিথিলার কবি বিদ্যাপতির মৈথিলি পদ বাংলায় খুব জনপ্রিয় হয়; তাঁর অনুকরণে বাঙালি কবিরা যে মিশ্র ভাষায় পদ লিখতে থাকেন, সেটিই ব্রজবুলি। কৃষ্ণের লীলাভূমি ব্রজের নাম থেকে এই নাম; গোবিন্দদাস ব্রজবুলির শ্রেষ্ঠ পদকর্তাদের একজন।
সন্ধ্যাভাষা চর্যাপদের ভাষা, বৈষ্ণব পদাবলির নয়। সংস্কৃতে লেখা হয়েছিল জয়দেবের গীতগোবিন্দ, যা পদাবলির প্রেরণা হলেও বাংলা পদাবলির ভাষা নয়।
অধিভাষা কোনো সাহিত্যধারার প্রচলিত পরিচয় নয়, ফাঁদ হিসেবে বসানো শব্দ। সবচেয়ে বড় ফাঁদ সন্ধ্যাভাষা, কারণ দুটো নামই বিশেষ সাহিত্যিক ভাষা বোঝায়।
মনে রাখুন: চর্যাপদ সন্ধ্যাভাষা, পদাবলি ব্রজবুলি, গীতগোবিন্দ সংস্কৃত।
২৬৮. জসীম উদ্দীনের রচনা কোনটি? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কযাদের দেখেছি
- খপথে-প্রবাসে
- গকাল নিরবধি
- ঘভবিষ্যতের বাঙালি
সঠিক উত্তর: ক. যাদের দেখেছি
যাদের দেখেছি জসীম উদ্দীনের স্মৃতিকথা, যাতে তিনি জীবনে কাছ থেকে দেখা খ্যাতিমান মানুষদের কথা লিখেছেন।
জসীম উদ্দীনের আরও স্মৃতিকথা আছে, যেমন ঠাকুর বাড়ির আঙিনায় ও জীবনকথা। তবে পল্লিকবি হিসেবে তাঁর মূল পরিচয় নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট আর কবর কবিতার জন্য।
বাকি বইগুলোর লেখক আলাদা: পথে প্রবাসে অন্নদাশঙ্কর রায়ের ইউরোপ ভ্রমণকাহিনি, কাল নিরবধি আনিসুজ্জামানের আত্মজীবনী, আর ভবিষ্যতের বাঙালি এস ওয়াজেদ আলির প্রবন্ধগ্রন্থ।
ফাঁদ হলো কাল নিরবধি, কারণ এটিও স্মৃতিকথা; শুধু ধরন দেখে নয়, লেখকের নাম মিলিয়ে উত্তর দিন।
মনে রাখুন: জসীম উদ্দীনের স্মৃতিকথা: যাদের দেখেছি, ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়, জীবনকথা।
২৬৯. ‘কিন্তু মানুষ্য কখনো পাষাণ হয় না’- উক্তিটি কোন উপন্যাসের? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- করবীন্দ্রনাথের ‘চোখের বালি’
- খশরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবী’
- গশওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি’
- ঘবঙ্কিমচন্দ্রের ‘রাজসিংহ’
সঠিক উত্তর: ঘ. বঙ্কিমচন্দ্রের ‘রাজসিংহ’
কিন্তু মনুষ্য কখনো পাষাণ হয় না, উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক উপন্যাস রাজসিংহের। উপন্যাসটির কাহিনি রাজপুত রাজা রাজসিংহ আর মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সংঘাত নিয়ে।
প্রশ্নপত্রে ছাপা মানুষ্য শব্দটি আসলে মনুষ্য; এটি ছাপার ভুল। উক্তির ভাষাটা লক্ষ করুন: তৎসম মনুষ্য শব্দ আর গম্ভীর সাধু রীতি বঙ্কিমের গদ্যের পরিচিত বৈশিষ্ট্য। বঙ্কিমের অন্য ঐতিহাসিক উপন্যাসের মধ্যে আছে দুর্গেশনন্দিনী ও সীতারাম।
বাকি উপন্যাসগুলোর পরিচয় মনে রাখুন: চোখের বালি রবীন্দ্রনাথের, বিধবা বিনোদিনীর কাহিনি; পথের দাবী শরৎচন্দ্রের, বিপ্লবী সব্যসাচীর কাহিনি, যা ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে; ক্রীতদাসের হাসি শওকত ওসমানের প্রতীকী উপন্যাস, খলিফা হারুনুর রশিদ আর ক্রীতদাস তাতারীকে নিয়ে।
এ ধরনের প্রশ্নে যুক্তি দিয়ে উত্তর আসে না, উদ্ধৃতিটি চিনে রাখতে হয়। তাই পরীক্ষায় বারবার আসা উদ্ধৃতিগুলো উপন্যাসের নামসহ একসঙ্গে মুখস্থ রাখুন।
মনে রাখুন: বঙ্কিমের ঐতিহাসিক উপন্যাস: দুর্গেশনন্দিনী, রাজসিংহ, সীতারাম।
২৭০. ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠীভুক্ত ছিলেন কে? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কঅক্ষয় কুমার দত্ত
- খএন্টনি ফিরিঙ্গি
- গমাইকেল মধুসূদন দত্ত
- ঘকালীপ্রসন্ন সিংহ ঠাকুর
সঠিক উত্তর: গ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ইয়ং বেঙ্গল হলো হিন্দু কলেজের শিক্ষক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর অনুসারী তরুণদের দল, যাঁরা যুক্তিবাদ আর পাশ্চাত্য চিন্তায় প্রভাবিত হয়ে সমাজের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়ান। প্রচলিত উত্তর অনুযায়ী মাইকেল মধুসূদন দত্ত এই গোষ্ঠীর ভাবধারার মানুষ।
মধুসূদন হিন্দু কলেজের ছাত্র ছিলেন; ডিরোজিওর সরাসরি ছাত্র না হলেও ইয়ং বেঙ্গলের মুক্তচিন্তার পরিবেশেই বেড়ে ওঠেন। এই গোষ্ঠীর আরও পরিচিত নাম প্যারীচাঁদ মিত্র, রামতনু লাহিড়ী, কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যরা ভিন্ন পরিচয়ে খ্যাত। অক্ষয়কুমার দত্ত তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক, এন্টনি ফিরিঙ্গি পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত কবিয়াল, আর কালীপ্রসন্ন সিংহ হুতোম প্যাঁচার নকশা ও মহাভারতের বাংলা অনুবাদের জন্য পরিচিত।
ফাঁদ হলো অক্ষয়কুমার দত্ত, কারণ তিনিও যুক্তিবাদী ছিলেন; কিন্তু তাঁর পরিচয় তত্ত্ববোধিনী সভা ও পত্রিকার সঙ্গে, ডিরোজিওর দলের সঙ্গে নয়।
মনে রাখুন: ইয়ং বেঙ্গল: ডিরোজিও, প্যারীচাঁদ মিত্র, রামতনু লাহিড়ী, কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, মধুসূদন।
২৭১. ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কোন সনে প্রথম প্রকাশিত হয়েছে? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক১৯২৩ সন
- খ১৯২১ সন
- গ১৯১৯ সন
- ঘ১৯১৮ সন
সঠিক উত্তর: খ. ১৯২১ সন
নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা লেখা হয় ১৯২১ সালের ডিসেম্বরে, কলকাতার তালতলা লেনের এক বাড়িতে। প্রশ্নের প্রত্যাশিত উত্তর ১৯২১, যা রচনাকালের সঙ্গে মেলে।
তবে নির্ভুল তথ্য হলো, কবিতাটি প্রথম ছাপা হয় ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি, সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায়; বাংলা সন হিসাবে তখন ১৩২৮ সাল। মোসলেম ভারত পত্রিকার কার্তিক ১৩২৮ সংখ্যাতেও কবিতাটি ছাপা হয়; সংখ্যাটির তারিখ ১৯২১ সালের, যদিও তা বেরিয়েছিল দেরিতে। ১৯২২ বিকল্পে না থাকায় ১৯২১ প্রত্যাশিত উত্তর।
একই বছরের অক্টোবরে প্রকাশিত নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণায় বিদ্রোহী সংকলিত হয়। এই কবিতার জন্যই নজরুল বিদ্রোহী কবি নামে পরিচিত হন।
ফাঁদ হলো ১৯২৩, কারণ সে সময় ধূমকেতুতে লেখার দায়ে নজরুল কারাবন্দি ছিলেন, তাই বছরটা চেনা লাগে। ১৯১৯ আর ১৯১৮ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে, সাহিত্যজীবনের একেবারে শুরুতে।
মনে রাখুন: বিদ্রোহী: লেখা ১৯২১, বিজলীতে ছাপা ৬ জানুয়ারি ১৯২২, অগ্নিবীণায় অক্টোবর ১৯২২।
২৭২. ‘আগুনপাখি ‘ উপন্যাসের রচয়িতা কে? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- করাহাত খান
- খহাসান আজিজুল হক
- গসেলিনা হোসেন
- ঘইমদাদুল হক মিলন
সঠিক উত্তর: খ. হাসান আজিজুল হক
আগুনপাখি হাসান আজিজুল হকের উপন্যাস, প্রথম প্রকাশ ২০০৬ সালে। এক গ্রামীণ গৃহবধূর মুখে বলা কাহিনিতে বিশ শতকের প্রথমার্ধের রাঢ়বঙ্গের এক পরিবারের উত্থান-পতন আর শেষে দেশভাগের বেদনা উঠে এসেছে।
উপন্যাসটি প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের স্বীকৃতি পায়, আর ২০০৮ সালে পায় কলকাতার আনন্দ পুরস্কার। হাসান আজিজুল হক মূলত ছোটগল্পকার; আত্মজা ও একটি করবী গাছ তাঁর বিখ্যাত গল্প।
অন্যদের পরিচিত উপন্যাস: সেলিনা হোসেনের হাঙর নদী গ্রেনেড, ইমদাদুল হক মিলনের নূরজাহান, রাহাত খানের অমল ধবল চাকরি।
ফাঁদ হলো সেলিনা হোসেন, কারণ তাঁরও ইতিহাসভিত্তিক বহু উপন্যাস আছে। আগুনপাখি আর দেশভাগ দেখলে হাসান আজিজুল হক মনে রাখুন।
মনে রাখুন: আগুনপাখি: হাসান আজিজুল হক, ২০০৬, দেশভাগ, আনন্দ পুরস্কার ২০০৮।
২৭৩. ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ বিখ্যাত গানটির সুরকার কে? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কসুবীর সাহা
- খসুধীর দাস
- গআলতাফ মাহমুদ
- ঘআলতাফ মামুন
সঠিক উত্তর: গ. আলতাফ মাহমুদ
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি গানটি লেখেন সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, ১৯৫২ সালে, ভাষা আন্দোলনের পরপরই। এখন যে সুরে গানটি গাওয়া হয়, তার সুরকার আলতাফ মাহমুদ।
গানটিতে প্রথম সুর দিয়েছিলেন আবদুল লতিফ। পরে ১৯৫৪ সালে আলতাফ মাহমুদ নতুন সুর দেন, আর সেটিই প্রভাতফেরির গান হিসেবে স্থায়ী হয়ে যায়।
আলতাফ মাহমুদ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন; পাকিস্তানি বাহিনী তাঁকে ধরে নিয়ে যায়, তিনি আর ফেরেননি।
ফাঁদ হলো আলতাফ মামুন বিকল্পটি, যেখানে নাম প্রায় এক, শুধু শেষাংশ বদলানো। সুবীর সাহা আর সুধীর দাস নামও শুনতে বিশ্বাসযোগ্য, কিন্তু গানটির সঙ্গে তাঁদের যোগ নেই।
মনে রাখুন: একুশের গান: কথা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, প্রথম সুর আবদুল লতিফ, প্রচলিত সুর আলতাফ মাহমুদ।
২৭৪. বাক্যের ক্রিয়ার সাথে অন্যান্য পদের যে সম্পর্ক তাকে কী বলে? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কবিভক্তি
- খকারক
- গপ্রত্যয়
- ঘঅনুসর্গ
সঠিক উত্তর: খ. কারক
বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে। কারক শব্দের মূল অর্থই যা ক্রিয়া সম্পাদন করে বা ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকে।
কারক ছয় প্রকার: কর্তা, কর্ম, করণ, সম্প্রদান, অপাদান আর অধিকরণ। ক্রিয়াকে প্রশ্ন করে কারক চেনা যায়: কে করে উত্তরে কর্তা, কী করে উত্তরে কর্ম, কী দিয়ে উত্তরে করণ, কোথা থেকে উত্তরে অপাদান, কোথায় বা কখন উত্তরে অধিকরণ।
বিভক্তি, প্রত্যয় আর অনুসর্গ আলাদা জিনিস। বিভক্তি পদের সঙ্গে লেগে থাকা চিহ্ন, যেমন কে বা এ; অনুসর্গ আলাদা শব্দ হয়ে বসে, যেমন দিয়ে বা থেকে; আর প্রত্যয় নতুন শব্দ তৈরি করে, বাক্যের সম্পর্ক বোঝায় না।
ফাঁদ হলো বিভক্তি, কারণ বিভক্তি দেখেই আমরা কারক চিনি। কিন্তু বিভক্তি হলো চিহ্ন, আর সেই চিহ্ন যে সম্পর্ক প্রকাশ করে তার নাম কারক।
মনে রাখুন: ক্রিয়াকে প্রশ্ন করুন: কে, কী, কী দিয়ে, কাকে দান, কোথা থেকে, কোথায়। ছয় উত্তর ছয় কারক।
২৭৫. কোন শব্দযুগল বিপরীতার্থক নয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কঐচ্ছিক – অনাবশ্যিক
- খকুটিল – সরল
- গকম – বেশি
- ঘকদাচার – সদাচার
সঠিক উত্তর: ক. ঐচ্ছিক – অনাবশ্যিক
প্রশ্নটি খুঁজছে কোন জোড়া বিপরীতার্থক নয়। ঐচ্ছিক মানে ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে, করা বাধ্যতামূলক নয়; অনাবশ্যিক মানেও যা আবশ্যক নয়। দুটোর অর্থ প্রায় একই, তাই এ জোড়া বিপরীত নয়।
ঐচ্ছিকের সঠিক বিপরীত আবশ্যিক বা বাধ্যতামূলক। পরীক্ষার বিষয় তালিকায় যেমন আবশ্যিক বিষয় আর ঐচ্ছিক বিষয় থাকে।
বাকি তিন জোড়া সত্যিই বিপরীত: কুটিল মানে বাঁকা বা প্যাঁচালো মনের, সরল তার উল্টো; কম আর বেশি পরিমাণের বিপরীত; কদাচার মানে খারাপ আচরণ, সদাচার মানে ভালো আচরণ।
ফাঁদ হলো অনাবশ্যিক শব্দের অ উপসর্গ। অ দেখলেই বিপরীত ভাবার অভ্যাস থেকে ভুল হয়; আগে দুই শব্দের অর্থ আলাদা করে মিলিয়ে নিন।
মনে রাখুন: ঐচ্ছিকের বিপরীত আবশ্যিক; অনাবশ্যিক তার প্রায় সমার্থক।
২৭৬. শুদ্ধ বানান কোনটি? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কঅধোগতি
- খঅধঃগতি
- গঅধগতি
- ঘঅধোঃগতি
সঠিক উত্তর: ক. অধোগতি
অধোগতি শব্দের মূলে আছে অধঃ আর গতি, অর্থাৎ নিচের দিকে যাওয়া। এদের মিলন হয় বিসর্গ সন্ধির নিয়মে।
নিয়মটি হলো: অ-কারের পরে বিসর্গ, আর পরের শব্দ শুরু হয় ঘোষ ধ্বনি দিয়ে, যেমন বর্গের তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম বর্ণ বা য র ল ব হ। তখন অ আর বিসর্গ মিলে ও-কার হয়। গতির গ বর্গের তৃতীয় বর্ণ, তাই অধঃ হয়ে যায় অধো, আর পুরো শব্দ অধোগতি।
একই নিয়মে অধঃ আর মুখ মিলে অধোমুখ, মনঃ আর যোগ মিলে মনোযোগ, তিরঃ আর ধান মিলে তিরোধান।
ভুলগুলো তিন রকম: অধঃগতি শব্দে সন্ধি হয়নি, অধগতি শব্দে বিসর্গ হারিয়েছে কিন্তু ও-কার আসেনি, আর অধোঃগতি শব্দে ও-কার আর বিসর্গ দুটোই রাখা হয়েছে। সন্ধির পরে বিসর্গ ও-কারে রূপ নেয়, পাশাপাশি থাকে না।
মনে রাখুন: অ-কার, বিসর্গ, পরে ঘোষ ধ্বনি হলে ও: অধোগতি, অধোমুখ, মনোযোগ, তিরোধান।
২৭৭. কোন শব্দগুচ্ছ শুদ্ধ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কআয়ত্তাধীন, অহেরাত্রি, অদ্যপি
- খগড্ডালিকা, চিণ্ময়, কল্যাণ
- গগৃহন্ত, গণনা, ইদানিং
- ঘআবশ্যক, মিথস্ক্রিয়া, গীতালি
সঠিক উত্তর: ঘ. আবশ্যক, মিথস্ক্রিয়া, গীতালি
প্রশ্নটি এমন গুচ্ছ খুঁজছে যার তিনটি বানানই শুদ্ধ। শেষ গুচ্ছ, আবশ্যক, মিথস্ক্রিয়া, গীতালি, সবই শুদ্ধ। মিথস্ক্রিয়া এসেছে মিথঃ আর ক্রিয়া থেকে; ক-এর আগে বিসর্গ স হয়ে গেছে, তাই স্ক।
যে গুচ্ছে আয়ত্তাধীন আছে, সেখানে আয়ত্তাধীন শুদ্ধ হলেও বাকি দুটি ভুল: শুদ্ধ রূপ অহোরাত্র আর অদ্যাপি। অদ্যাপি এসেছে অদ্য আর অপি থেকে, অ আর অ মিলে আ হয়।
যে গুচ্ছে কল্যাণ আছে, সেখানে কল্যাণ শুদ্ধ, কিন্তু গড্ডলিকা আর চিন্ময় ভুল লেখা হয়েছে। গড্ডল মানে ভেড়া, তা থেকে গড্ডলিকা; চিৎ আর ময় মিলে চিন্ময়, দন্ত্য ন দিয়ে, কারণ ত্ আর ম মিলে ন্ম হয়।
যে গুচ্ছে গণনা আছে, সেখানে গণনা শুদ্ধ, কিন্তু ইদানীং হবে দীর্ঘ ঈ-কারে, আর গৃহন্ত বানানটিও প্রচলিত শুদ্ধ রূপ নয়। কৌশল: একটি ভুল পেলেই পুরো গুচ্ছ বাদ।
মনে রাখুন: গুচ্ছের প্রশ্নে প্রতিটি গুচ্ছে একটি করে ভুল খুঁজুন; যেখানে ভুল নেই সেটিই উত্তর।
২৭৮. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘মতিচূর’ কোন ধরনের রচনা? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কপ্রবন্ধ
- খউপন্যাস
- গনাটক
- ঘআত্মজীবনী
সঠিক উত্তর: ক. প্রবন্ধ
প্রশ্নটি বেগম রোকেয়ার একটি গ্রন্থের ধরন জানতে চেয়েছে। মতিচূর রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের প্রবন্ধগ্রন্থ, যা দুই খণ্ডে প্রকাশিত।
এর প্রবন্ধগুলোতে তিনি নারীশিক্ষা, নারীর আত্মনির্ভরতা আর সমাজের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়েছেন। অর্ধাঙ্গী, স্ত্রীজাতির অবনতি এর মতো বিখ্যাত প্রবন্ধ এতে আছে।
রোকেয়ার অন্য রচনাগুলো ধরন মিলিয়ে মনে রাখুন: পদ্মরাগ উপন্যাস, সুলতানার স্বপ্ন নামে পরিচিত ইংরেজি কল্পকাহিনি, আর অবরোধবাসিনী পর্দাপ্রথার নির্যাতনের বাস্তব ঘটনার সংকলন।
ফাঁদ হলো উপন্যাস। রোকেয়ার উপন্যাস পদ্মরাগ, মতিচূর নয়; আর মতিচূরে কাহিনি, সংলাপ বা নিজের জীবনকথা নেই, আছে যুক্তিনির্ভর প্রবন্ধ।
মনে রাখুন: রোকেয়ার চার রচনা চার ধরন: মতিচূর প্রবন্ধ, পদ্মরাগ উপন্যাস, Sultana's Dream ইংরেজি গল্প, অবরোধবাসিনী নকশা।
২৭৯. মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কনেকড়ে অরণ্য
- খবন্দী শিবির থেকে
- গনিষিদ্ধ লোবান
- ঘপ্রিয়যোদ্ধা প্রিয়তম
সঠিক উত্তর: খ. বন্দী শিবির থেকে
প্রশ্নটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা একটি কাব্যগ্রন্থ চিনতে চেয়েছে। খেয়াল করুন, প্রশ্ন কাব্যগ্রন্থ চেয়েছে, উপন্যাস নয়।
বন্দী শিবির থেকে শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ, প্রকাশিত হয় ১৯৭২ সালে। একাত্তরের অবরুদ্ধ দিনগুলোতে লেখা কবিতাগুলো এতে আছে, যেমন স্বাধীনতা তুমি এবং তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা।
অন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে নেকড়ে অরণ্য শওকত ওসমানের এবং নিষিদ্ধ লোবান সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। এগুলোর পটভূমি ঠিক থাকলেও ধরন মেলে না।
ফাঁদ এখানেই: সবগুলোই মুক্তিযুদ্ধের বই বলে মনে হয়, কিন্তু কাব্যগ্রন্থ শুধু বন্দী শিবির থেকে।
মনে রাখুন: প্রশ্নে ধরন লেখা থাকলে আগে ধরন মিলিয়ে বাদ দিন; পটভূমি সবার এক হলেও ধরন আলাদা।
২৮০. ’আমার ঘরের চাবি পরের হাতে’- গানটির রচয়িতা কে? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কলালন শাহ্
- খহাসন রাজা
- গপাগলা কানাই
- ঘরাধারমণ দত্ত
সঠিক উত্তর: ক. লালন শাহ্
প্রশ্নটি একটি বিখ্যাত মরমি গানের রচয়িতা জানতে চেয়েছে। আমার ঘরের চাবি পরের হাতে গানটি বাউল সাধক লালন শাহের।
এখানে ঘর মানে দেহ, আর চাবি মানে মন বা নিয়ন্ত্রণ। নিজের দেহের ওপর নিজের কর্তৃত্ব নেই, এই আক্ষেপ লালনের দেহতত্ত্বের গানের চেনা সুর।
লালনের গানে দেহতত্ত্ব, মানবতা আর জাতপাতবিরোধিতা প্রধান। তাঁর আরও পরিচিত গান খাঁচার ভিতর অচিন পাখি এবং সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে।
বাকি তিনজনও মরমি সাধক কবি, তাই বিভ্রান্তি হয়। হাসন রাজা ও রাধারমণ দত্ত সিলেট অঞ্চলের, আর পাগলা কানাই ঝিনাইদহ অঞ্চলের কবি।
মনে রাখুন: ঘর, খাঁচা, পাখি, চাবি জাতীয় দেহতত্ত্বের রূপক দেখলে লালন আগে ভাবুন।