বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ১৫
২৮১. ‘নদী ও নারী’ উপন্যাসের রচয়িতা কে? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- ককাজী আবদুল ওদুদ
- খআবুল ফজল
- গরশীদ করিম
- ঘহুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর: ঘ. হুমায়ুন কবির
প্রশ্নটি একটি উপন্যাসের লেখক জানতে চেয়েছে। নদী ও নারী হুমায়ুন কবিরের উপন্যাস, পদ্মাপারের চরাঞ্চলের মুসলমান কৃষক সমাজকে নিয়ে লেখা।
হুমায়ুন কবির ছিলেন শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ ও লেখক। তিনি চতুরঙ্গ পত্রিকা সম্পাদনা করতেন এবং পরে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন।
বাকি তিনজনও মুসলমান সমাজ নিয়ে লিখেছেন, তাই বিভ্রান্তি হয়। কাজী আবদুল ওদুদের উপন্যাস নদীবক্ষে, আবুল ফজলের চৌচির ও রাঙা প্রভাত, আর রশীদ করিমের উত্তম পুরুষ।
ফাঁদ হলো কাজী আবদুল ওদুদ। তাঁর উপন্যাসের নামেও নদী আছে, নদীবক্ষে; নাম মিলিয়ে ভুল করা সহজ।
মনে রাখুন: নদী নামের দুই উপন্যাস আলাদা রাখুন: নদী ও নারী হুমায়ুন কবিরের, নদীবক্ষে কাজী আবদুল ওদুদের।
২৮২. কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কশেষলেখা
- খশেষপ্রশ্ন
- গশেষকথা
- ঘশেষদিন
সঠিক উত্তর: ক. শেষলেখা
প্রশ্নটি শেষ দিয়ে শুরু হওয়া চারটি নামের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ চিনতে চেয়েছে। শেষলেখা রবীন্দ্রনাথের শেষ কাব্যগ্রন্থ, ১৯৪১ সালে তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত।
জীবনের শেষ দিকে অসুস্থ অবস্থায় তিনি মুখে মুখে কবিতা বলতেন, অন্যরা লিখে নিতেন। তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি কবিতাটি এ কাব্যে আছে।
অন্য নামগুলো ফাঁদ। শেষপ্রশ্ন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস। শেষকথা রবীন্দ্রনাথেরই একটি গল্প, কাব্যগ্রন্থ নয়। রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত উপন্যাস শেষের কবিতা, সেটিও শেষলেখা থেকে আলাদা।
শেষ শব্দের এমন নামের প্রশ্নে লেখক আর ধরন দুটোই মিলিয়ে নিতে হয়।
মনে রাখুন: শেষ নামের তিন বই: শেষলেখা কাব্য, শেষের কবিতা উপন্যাস, দুটোই রবীন্দ্রনাথের; শেষপ্রশ্ন শরৎচন্দ্রের।
২৮৩. দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীল-দর্পণ’ নাটক প্রথম কোথায় থেকে প্রকাশিত হয়? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- ককলকাতা
- খঢাকা
- গলন্ডন
- ঘমুর্শিদাবাদ
সঠিক উত্তর: খ. ঢাকা
প্রশ্নটি নীলদর্পণ নাটকের প্রথম প্রকাশস্থান জানতে চেয়েছে। দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
নাটকটি নীলকরদের অত্যাচারে কৃষকদের দুর্দশা নিয়ে লেখা। প্রথম সংস্করণে লেখকের নাম ছিল না, ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়েছিল, কারণ বিষয়টি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ।
এর ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেন পাদরি জেমস লং, আর অনুবাদক হিসেবে মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাম প্রচলিত। এর জন্য লংকে কারাদণ্ড ও জরিমানা দিতে হয়।
ফাঁদ হলো কলকাতা। উনিশ শতকের বেশির ভাগ বাংলা বই কলকাতা থেকে বের হতো, তাই অনেকে সেটি বেছে নেন; কিন্তু নীলদর্পণের প্রথম প্রকাশ ঢাকায়।
মনে রাখুন: নীলদর্পণ মানে তিনটি তথ্য একসঙ্গে: ১৮৬০, ঢাকা, জেমস লং।
২৮৪. কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নি-বীণা’ কাব্যের প্রথম কবিতা কোনটি? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কআগমনী
- খকোরবানী
- গপ্রলয়োল্লাস
- ঘবিদ্রোহী
সঠিক উত্তর: গ. প্রলয়োল্লাস
প্রশ্নটি নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা জানতে চেয়েছে। অগ্নিবীণা প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালে, আর এর প্রথম কবিতা প্রলয়োল্লাস।
প্রলয়োল্লাস কবিতার শুরুর লাইন তোরা সব জয়ধ্বনি কর। এখানে ধ্বংসের ভেতর দিয়ে নতুন সৃষ্টির আগমনের কথা বলা হয়েছে, যা পুরো কাব্যের সুর ঠিক করে দেয়।
দ্বিতীয় কবিতা বিদ্রোহী, যা নজরুলের সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা। আগমনী আর কোরবানী কবিতাও এই কাব্যে আছে।
ফাঁদ হলো বিদ্রোহী। কবিতাটি এত বিখ্যাত যে অনেকে ভাবেন এটিই প্রথম কবিতা, কিন্তু এটি দ্বিতীয়।
মনে রাখুন: অগ্নিবীণা খুললেই প্রলয়, তারপর বিদ্রোহ।
২৮৫. কোনটি জসীমউদ্দীনের রচনা? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কগাজী মিয়াঁর বস্তানী
- খহাঁসুলী বাঁকের উপকথা
- গভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
- ঘঠাকুরবাড়ির আঙিনা
সঠিক উত্তর: ঘ. ঠাকুরবাড়ির আঙিনা
প্রশ্নটি জসীমউদ্দীনের রচনা চিনতে চেয়েছে। ঠাকুরবাড়ির আঙিনা জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা, যেখানে তিনি রবীন্দ্রনাথ ও ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে নিজের স্মৃতি লিখেছেন।
পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত কাব্য নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট। গদ্যে তাঁর আরও স্মৃতিকথা আছে, যেমন জীবনকথা ও যাঁদের দেখেছি।
বাকি তিনটি অন্য লেখকের: গাজী মিয়াঁর বস্তানী মীর মশাররফ হোসেনের ব্যঙ্গাত্মক রচনা, হাঁসুলী বাঁকের উপকথা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস, আর ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান আবু জাফর শামসুদ্দীনের উপন্যাস।
ফাঁদ হলো গ্রামীণ নামের বইগুলো। জসীমউদ্দীন পল্লিকবি বলে গ্রামের উপকথা বা উপাখ্যান তাঁর মনে হতে পারে, কিন্তু সেগুলো অন্যদের লেখা।
মনে রাখুন: জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথাগুলো মনে রাখুন: ঠাকুরবাড়ির আঙিনা, জীবনকথা, যাঁদের দেখেছি।
২৮৬. কত সালে ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ প্রথম প্রকাশিত হয়? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- ক১৮৬০
- খ১৮৬৫
- গ১৮৫৯
- ঘ১৮৬১
সঠিক উত্তর: ঘ. ১৮৬১
প্রশ্নটি মেঘনাদবধ কাব্যের প্রকাশসাল জানতে চেয়েছে। মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্য ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
রামায়ণের কাহিনি নিয়ে লেখা হলেও এখানে রাবণপুত্র মেঘনাদকে বীর হিসেবে দেখানো হয়েছে। অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা এ কাব্য বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য।
মধুসূদনের কাছাকাছি সালের রচনা মিলিয়ে রাখুন: ১৮৫৯ সালে নাটক শর্মিষ্ঠা, ১৮৬০ সালে কাব্য তিলোত্তমাসম্ভব, যেখানে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহৃত হয়, আর ১৮৬১ সালে মেঘনাদবধ।
ফাঁদ হলো ১৮৬০। অমিত্রাক্ষর ছন্দ এ বছর শুরু হয়েছিল বলে অনেকে এটি বেছে নেন, কিন্তু সে বছরের কাব্য তিলোত্তমাসম্ভব।
মনে রাখুন: মধুসূদনের তিন বছর পরপর তিন কাজ: ঊনষাটে শর্মিষ্ঠা, ষাটে তিলোত্তমা, একষট্টিতে মেঘনাদ।
২৮৭. ‘পূর্বাশা’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- ককাজী নজরুল ইসলাম
- খশাহাদাৎ হোসেন
- গসঞ্জয় ভট্টাচার্য
- ঘসুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর: গ. সঞ্জয় ভট্টাচার্য
প্রশ্নটি একটি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক জানতে চেয়েছে। পূর্বাশা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য; পত্রিকাটি কুমিল্লা থেকে প্রকাশ শুরু হয়, পরে কলকাতা থেকে চলে।
সঞ্জয় ভট্টাচার্য কবি ও সমালোচক। পূর্বাশা জীবনানন্দ দাশের মতো আধুনিক কবিদের লেখা প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
পত্রিকা আর সম্পাদক জোড়া মনে রাখুন: সুধীন্দ্রনাথ দত্তের পরিচয়, কাজী নজরুল ইসলামের ধূমকেতু ও লাঙল, বুদ্ধদেব বসুর কবিতা।
ফাঁদ হলো সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। তিনিও তিরিশের আধুনিক কবিদের পত্রিকা চালাতেন, তবে তাঁর পত্রিকার নাম পরিচয়।
মনে রাখুন: পূর্বাশা মানে পূর্ববঙ্গের কুমিল্লা আর সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
২৮৮. কে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক ছিলেন? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কহরপ্রসাদ শাস্ত্রী
- খরামরাম বসু
- গদেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঘঅক্ষয়কুমার দত্ত
সঠিক উত্তর: খ. রামরাম বসু
প্রশ্নটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সঙ্গে যুক্ত লেখক চিনতে চেয়েছে। ১৮০০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত এ কলেজে ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষা শেখানো হতো, আর বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন উইলিয়াম কেরি।
রামরাম বসু ছিলেন এ কলেজের বাংলা বিভাগের মুনশি বা শিক্ষক। তাঁর রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়, যা বাঙালির লেখা প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থ হিসেবে পরিচিত। তাঁর আরেকটি বই লিপিমালা।
এ কলেজের আরেক বিখ্যাত পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার। বাকি তিনজন অন্য সময়ের ও অন্য প্রতিষ্ঠানের মানুষ: দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও অক্ষয়কুমার দত্ত তত্ত্ববোধিনী গোষ্ঠীর, আর হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের আবিষ্কারক।
ফাঁদ হলো হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। পণ্ডিত ও গবেষক বলে তাঁকে বেছে নেওয়ার ঝোঁক থাকে, কিন্তু তাঁর জন্ম এ কলেজের সূচনার অনেক পরে।
মনে রাখুন: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখক মানেই উইলিয়াম কেরি, রামরাম বসু, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
২৮৯. ‘চন্দরা’ চরিত্রের স্রষ্টা কে? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কবুদ্ধদেব বসু
- খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গমীর মশাররফ হোসেন
- ঘসৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর: খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রশ্নটি একটি সাহিত্য চরিত্রের স্রষ্টা জানতে চেয়েছে। চন্দরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প শাস্তির কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র।
গল্পে চন্দরার ভাশুর রাগের মাথায় নিজের স্ত্রীকে খুন করে, আর চন্দরার স্বামী ছিদাম দোষ চাপায় চন্দরার ঘাড়ে। অভিমানে চন্দরা নিজেই অপরাধ স্বীকার করে ফাঁসির দণ্ড মেনে নেয়।
গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে আছে। এ গল্পের শেষ শব্দ মরণ, যা চন্দরা স্বামীকে দেখতে না চেয়ে বলে; এ লাইনটিও প্রায়ই জিজ্ঞাসিত হয়।
অন্য তিন লেখকের পরিচিত চরিত্র আলাদা; চন্দরা নামটি গ্রামীণ শোনায় বলে অন্য কারও ভাবার ঝোঁক থাকে।
মনে রাখুন: গল্পগুচ্ছের নারী চরিত্র জোড়া মনে রাখুন: চন্দরা শাস্তি, রতন পোস্টমাস্টার, মিনি কাবুলিওয়ালা।
২৯০. মুনীর চৌধুরী ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ একটি- (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কউপন্যাস
- খছোটগল্প
- গপ্রবন্ধ
- ঘঅনুবাদ নাটক
সঠিক উত্তর: ঘ. অনুবাদ নাটক
প্রশ্নটি মুনীর চৌধুরীর একটি রচনার ধরন জানতে চেয়েছে। মুখরা রমণী বশীকরণ শেকসপিয়রের The Taming of the Shrew নাটকের বাংলা অনুবাদ, তাই এটি অনুবাদ নাটক।
ইংরেজি নামের অর্থ মিলিয়ে দেখুন: Shrew মানে মুখরা রমণী, আর Taming মানে বশ করা। নাম থেকেই অনুবাদ বোঝা যায়।
মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক কবর, যা ভাষা আন্দোলন নিয়ে কারাগারে বসে লেখা, এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ নিয়ে রক্তাক্ত প্রান্তর। শেকসপিয়রের ওথেলোও তিনি অনুবাদ করেন।
ফাঁদ হলো উপন্যাস বা গল্প। নামটি গল্পের মতো শোনায়, কিন্তু মুনীর চৌধুরী মূলত নাট্যকার।
মনে রাখুন: মুনীর চৌধুরীর রচনায় ইংরেজি উৎস খুঁজুন: Shrew মানে মুখরা, তাই অনুবাদ।
২৯১. ‘বীরবল’ কোন লেখকের ছদ্মনাম? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কআবু ইসহাক
- খসুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
- গপ্রমথনাথ বিশী
- ঘপ্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রমথ চৌধুরী
প্রশ্নটি একটি ছদ্মনাম চিনতে চেয়েছে। বীরবল প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম।
প্রমথ চৌধুরী ১৯১৪ সালে সবুজপত্র পত্রিকা প্রকাশ করেন এবং এর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতি প্রতিষ্ঠা করেন। বীরবলের হালখাতা তাঁর পরিচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
অন্য বিকল্পগুলোর ছদ্মনাম মিলিয়ে রাখুন: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখতেন নীললোহিত, সনাতন পাঠক ও নীল উপাধ্যায় নামে। আবু ইসহাক সূর্য দীঘল বাড়ীর লেখক, আর প্রমথনাথ বিশী কেরী সাহেবের মুন্সীর লেখক।
ফাঁদ হলো প্রমথনাথ বিশী। প্রথম অংশ প্রমথ মিলে যাওয়ায় অনেকে তাঁকে বেছে নেন, কিন্তু বীরবল প্রমথ চৌধুরী।
মনে রাখুন: বীরবল, সবুজপত্র, চলিত ভাষা: তিনটি একসঙ্গে মনে রাখুন, সবই প্রমথ চৌধুরী।
২৯২. কোন শব্দটি শুদ্ধ বানানে লেখা হয়েছে ? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কশূণ্য
- খত্রিভুজ
- গপূন্য
- ঘভূবন
সঠিক উত্তর: খ. ত্রিভুজ
প্রশ্নটি শুদ্ধ বানান চিনতে চেয়েছে। চারটির মধ্যে শুদ্ধ শুধু ত্রিভুজ। বাকি তিনটিতে উ-কার ঊ-কার বা ন-ণ এর ভুল আছে।
শূন্য শব্দে র, ঋ বা ষ না থাকায় ণত্ব বিধান খাটে না, তাই দন্ত্য ন হবে। পুণ্য শব্দটি স্বভাবতই মূর্ধন্য ণ বিশিষ্ট, আর এতে হ্রস্ব উ-কার; পূন্য লিখলে দুটোই ভুল।
ভুবন শব্দে হ্রস্ব উ-কার, ভূ দীর্ঘ নয়। মনে রাখুন ভূমি, ভূগোলে দীর্ঘ ঊ-কার, কিন্তু ভুবন, ভুল, ভুজে হ্রস্ব উ-কার। ত্রিভুজ মানে তিনটি ভুজ বা বাহু, তাই এখানেও হ্রস্ব উ-কার।
ফাঁদ হলো শূণ্য। শূ দীর্ঘ ঊ-কার ঠিক আছে বলে শব্দটি শুদ্ধ মনে হয়, কিন্তু শেষের ণ ভুল।
মনে রাখুন: ভু আর ভূ আলাদা রাখুন: ভূমি, ভূগোল দীর্ঘ; ভুবন, ভুজ, ভুল হ্রস্ব।
২৯৩. কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কজবাবদিহি
- খমিথস্ক্রিয়া
- গএকত্রিত
- ঘগৌরবিত
সঠিক উত্তর: গ. একত্রিত
প্রশ্নটি শব্দের অপপ্রয়োগ চিনতে চেয়েছে। একত্র শব্দটি নিজেই সম্পূর্ণ, মানে এক জায়গায় বা একসঙ্গে; এর সঙ্গে আবার ইত প্রত্যয় যোগ করে একত্রিত বানানো অপপ্রয়োগ।
তাই সবাই একত্রিত হলো না লিখে লেখা উচিত সবাই একত্র হলো। একই ধরনের বাড়তি প্রত্যয়ের ভুল: উৎকর্ষতা অশুদ্ধ, শুদ্ধ উৎকর্ষ; ধৈর্যতা অশুদ্ধ, শুদ্ধ ধৈর্য; ঐক্যতা অশুদ্ধ, শুদ্ধ ঐক্য।
বাকি তিনটি শুদ্ধ। জবাবদিহি আরবি ফারসি মিশ্র শব্দ, মিথস্ক্রিয়া মানে পারস্পরিক ক্রিয়া, আর গৌরবিত সংস্কৃতসম্মত শব্দ, মানে গৌরবযুক্ত।
ফাঁদ হলো গৌরবিত। গৌরবান্বিত বেশি শোনা যায় বলে গৌরবিত ভুল মনে হয়, কিন্তু এটি সংস্কৃতে বৈধ রূপ। বরং একত্রিত মুখের ভাষায় বেশি চলে বলে শুদ্ধ মনে হয়, অথচ এটিই অপপ্রয়োগ।
মনে রাখুন: শব্দ নিজেই পূর্ণ অর্থ দিলে তার সঙ্গে আবার প্রত্যয় বসালে অপপ্রয়োগ: একত্রিত, উৎকর্ষতা, ধৈর্যতা।
২৯৪. বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- ক৭টি
- খ৮টি
- গ৬টি
- ঘ১১টি
সঠিক উত্তর: ক. ৭টি
প্রশ্নটি বাংলা মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা জানতে চেয়েছে। যে স্বরধ্বনিকে আর ভাঙা যায় না, তাকে মৌলিক স্বরধ্বনি বলে। বাংলায় এমন স্বরধ্বনি সাতটি: অ, আ, ই, উ, এ, অ্যা, ও।
বর্ণমালায় স্বরবর্ণ এগারোটি, কিন্তু সব বর্ণ মৌলিক ধ্বনি নয়। ঈ আর ঊ উচ্চারণে ই আর উ এর মতোই, ঋ আসলে র আর ই এর মিলন, আর ঐ ও ঔ যৌগিক স্বর।
অন্যদিকে অ্যা ধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নেই, তবু এটি মৌলিক ধ্বনি, যেমন এক, দেখা শব্দের উচ্চারণে।
ফাঁদ হলো এগারো। স্বরবর্ণের সংখ্যা আর মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা গুলিয়ে ফেললেই এই ভুল হয়।
মনে রাখুন: এগারো স্বরবর্ণ থেকে পাঁচ বাদ, এক যোগ: এগারো বিয়োগ পাঁচ যোগ এক সমান সাত।
২৯৫. “বাবা” কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কসংস্কৃত
- খহিন্দি
- গঅহমিয়া
- ঘতুর্কি
সঠিক উত্তর: ঘ. তুর্কি
প্রশ্নটি একটি বিদেশি শব্দের উৎস জানতে চেয়েছে। বাবা শব্দটি তুর্কি ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে।
তুর্কি ও মুঘল শাসনামলে শাসক ও সেনাদের মাধ্যমে কিছু তুর্কি শব্দ বাংলায় ঢোকে। এমন আরও শব্দ: চাকু, কাঁচি, বাবুর্চি, বেগম, খাতুন, তোপ, দারোগা, লাশ।
উৎস নির্ণয়ের প্রশ্নে শব্দটি কোন যুগে কাদের হাত ধরে এসেছে ভাবুন। সেনা আর রান্নাঘরের কিছু শব্দ তুর্কি, যেমন তোপ, বাবুর্চি; আর প্রশাসন ও আদালতের বহু শব্দ ফারসি।
ফাঁদ হলো হিন্দি। বাবা শব্দ হিন্দিতেও খুব চলে বলে অনেকে হিন্দি ভাবেন, কিন্তু এর মূল উৎস তুর্কি।
মনে রাখুন: তুর্কি শব্দের দল মনে রাখুন: বাবা, বাবুর্চি, বেগম, চাকু, কাঁচি, তোপ।
২৯৬. “Null and Void” এর বাংলা পরিভাষা কোনটি? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কবাতিল
- খপালাবদল
- গমামুলি
- ঘনিরপেক্ষ
সঠিক উত্তর: ক. বাতিল
প্রশ্নটি একটি আইনি ইংরেজি শব্দবন্ধের পরিভাষা চেয়েছে। Null and void মানে আইনগতভাবে কোনো কার্যকারিতা নেই, অর্থাৎ বাতিল।
Null মানে শূন্য বা অকার্যকর, Void মানে ফাঁকা বা অবৈধ। আইনি ভাষায় দুটি শব্দ একসঙ্গে বসিয়ে জোর দিয়ে বলা হয়, চুক্তি বা আদেশটির আর কোনো আইনি মূল্য নেই।
পরিভাষার প্রশ্নে শব্দের আক্ষরিক অর্থ থেকে শুরু করুন। শূন্য আর অকার্যকর মিলিয়ে বাংলায় সবচেয়ে কাছের শব্দ বাতিল।
মামুলি শব্দটি বিভ্রান্ত করতে পারে, কারণ এর অর্থ তুচ্ছ বা সাধারণ, আর Null শুনে কেউ তুচ্ছ ভাবতে পারেন। কিন্তু Null and void এর অর্থ তুচ্ছ নয়, আইনত অকার্যকর।
মনে রাখুন: আইনি জোড়া শব্দে দুটি অর্থই একই দিকে যায়; সেই অভিন্ন অর্থটিই পরিভাষা।
২৯৭. কোনটি শুদ্ধ বানান? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কস্বায়ত্ত্বশাসন
- খসায়ত্তশাসন
- গসায়ত্ত্বশাসন
- ঘস্বায়ত্তশাসন
সঠিক উত্তর: ঘ. স্বায়ত্তশাসন
প্রশ্নটি শুদ্ধ বানান চিনতে চেয়েছে। শুদ্ধ বানান স্বায়ত্তশাসন, যার মানে নিজের অধীনে শাসন।
শব্দটি ভাঙলে পাই স্ব, আয়ত্ত আর শাসন। স্ব মানে নিজ, তাই শুরুতে ব-ফলা থাকবে, সা নয়। আয়ত্ত মানে অধীন, আর এর বানানে ত এর সঙ্গে ত, অর্থাৎ ত্ত; এখানে কোনো ব-ফলা নেই।
আয়ত্ত শব্দে ত্ত্ব লেখার ভুল হয় কারণ মহত্ত্ব, তত্ত্ব শব্দে ত্ত্ব আছে। সেখানে ত্ব প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে, কিন্তু আয়ত্ত শব্দে কোনো ত্ব প্রত্যয় নেই।
সংক্ষেপে নিয়ম: স্ব এর ব-ফলা রাখুন, আয়ত্তের ব-ফলা বাদ দিন।
মনে রাখুন: স্ব আর আয়ত্ত আলাদা করুন: শুরুতে ব-ফলা আছে, মাঝখানে নেই।
২৯৮. “গিন্নি” কোন শ্রেণির শব্দ? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কদেশি
- খবিদেশী
- গতদ্ভব
- ঘঅর্ধ-তৎসম
সঠিক উত্তর: ঘ. অর্ধ-তৎসম
প্রশ্নটি শব্দের উৎসভিত্তিক শ্রেণি জানতে চেয়েছে। যে সংস্কৃত শব্দ বাংলায় এসে কিছুটা বিকৃত হয়েছে, কিন্তু প্রাকৃতের ধাপ পেরোয়নি, তাকে অর্ধ-তৎসম বলে।
গিন্নি এসেছে সংস্কৃত গৃহিণী থেকে, সরাসরি মুখে মুখে বদলে। তাই প্রচলিত ব্যাকরণ বইয়ের অর্ধ-তৎসমের তালিকায় গিন্নি থাকে। একই দলে জ্যোছনা, যার মূল জ্যোৎস্না; ছেরাদ্দ, যার মূল শ্রাদ্ধ; বোষ্টম, যার মূল বৈষ্ণব।
তদ্ভব শব্দ কিন্তু প্রাকৃতের মধ্য দিয়ে এসে অনেক বদলে যায়, যেমন হস্ত থেকে হাত, চন্দ্র থেকে চাঁদ। সেখানে মূল শব্দ চেনা কঠিন হয়ে যায়।
ফাঁদ হলো তদ্ভব। বিকৃত হয়েছে দেখে অনেকে তদ্ভব ধরে নেন; পার্থক্য হলো অর্ধ-তৎসমে মূল সংস্কৃত শব্দটি এখনো সহজে চেনা যায়।
মনে রাখুন: বিকৃত শব্দে মূল সংস্কৃত শব্দটি সহজে চেনা গেলে অর্ধ-তৎসম, প্রাকৃতের ধাপে অনেক বদলালে তদ্ভব।
২৯৯. “শ্রদ্ধা” শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কশ্রৎ+ধা+অ+আ
- খশ্রৎ+ধা+আ
- গশ্র+ধা+আ
- ঘশ্রু+ধা+আ
সঠিক উত্তর: ক. শ্রৎ+ধা+অ+আ
প্রশ্নটি শ্রদ্ধা শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় জানতে চেয়েছে। শ্রদ্ধা গঠিত হয় শ্রৎ, ধা ধাতু, কৃৎ প্রত্যয় অ, আর স্ত্রীবাচক আ প্রত্যয় মিলে।
শ্রৎ মানে সত্য, আর ধা ধাতুর অর্থ ধারণ করা। সত্যকে ধারণ করা বা সত্যে আস্থা রাখা থেকেই শ্রদ্ধা। শ্রৎ এর ৎ আর ধা এর ধ মিলে সন্ধিতে দ্ধ হয়।
প্রথমে ধা ধাতুর সঙ্গে অ প্রত্যয় যোগে কৃদন্ত শব্দ তৈরি হয়, তারপর স্ত্রীলিঙ্গের আ যোগ হয়ে শ্রদ্ধা। তাই দুটি প্রত্যয়ই লাগে, অ আর আ।
ফাঁদ হলো শ্রৎ যোগ ধা যোগ আ। এতে অ প্রত্যয় বাদ পড়েছে বলে এটি অসম্পূর্ণ; প্রচলিত ব্যাকরণে পূর্ণ রূপটিই সঠিক।
মনে রাখুন: শ্রদ্ধার প্রকৃতি-প্রত্যয়ে চারটি অংশ গুনে নিন: শ্রৎ, ধা, অ, আ; তিনটি অংশের বিকল্প অসম্পূর্ণ।
৩০০. “পুষ্পসৌরভ” কোন সমাসের উদাহরণ? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কতৎপুরুষ
- খকর্মধারয়
- গঅব্যয়ীভাব
- ঘবহুব্রীহি
সঠিক উত্তর: ক. তৎপুরুষ
প্রশ্নটি একটি সমাসের নাম জানতে চেয়েছে। পুষ্পসৌরভ শব্দের ব্যাসবাক্য পুষ্পের সৌরভ। এখানে পূর্বপদের এর বিভক্তি লোপ পেয়েছে, আর পরপদ সৌরভের অর্থই প্রধান।
পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পেয়ে পরপদের অর্থ প্রধান হলে তৎপুরুষ সমাস। এর বিভক্তি লোপ পেলে বিশেষভাবে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ। একই রকম: রাজপুত্র মানে রাজার পুত্র, দেশসেবা মানে দেশের সেবা।
কর্মধারয়ে দুটি পদ একই জিনিসকে বোঝায়, যেমন নীলপদ্ম মানে নীল যে পদ্ম। এখানে পুষ্প আর সৌরভ এক জিনিস নয়, পুষ্প সৌরভের মালিক।
ফাঁদ হলো বহুব্রীহি। কিন্তু পুষ্পসৌরভ বলতে অন্য কোনো তৃতীয় ব্যক্তি বা বস্তু বোঝায় না, সৌরভকেই বোঝায়।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে এর বসিয়ে অর্থ ঠিক থাকলে ষষ্ঠী তৎপুরুষ: পুষ্পের সৌরভ, রাজার পুত্র।