বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ১২
২২১. ‘মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানব থেকে যায়’- কে রচনা করেন এই কাব্যাংশ? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কসুধীন্দ্রনাথ দত্ত
- খপ্রেমেন্দ্র মিত্র
- গসমর সেন
- ঘজীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর: ঘ. জীবনানন্দ দাশ
প্রশ্নটি একটি চরণ দেখে কবিকে চিনতে বলছে। মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানব থেকে যায়, এটি জীবনানন্দ দাশের মানুষের মৃত্যু হলে কবিতার চরণ।
এখানে মানুষ আর মানব শব্দের সূক্ষ্ম পার্থক্যটাই মূল ভাব। একজন ব্যক্তি মানুষ মারা যায়, কিন্তু মানবজাতি আর তার অভিজ্ঞতার ধারা টিকে থাকে। ইতিহাস আর সময়চেতনার এমন ভাবনা জীবনানন্দের পরিণত কবিতার বৈশিষ্ট্য।
চারজন কবিই ত্রিশের দশকের আধুনিক বাংলা কবিতার ধারার, তাই প্রশ্নটি কঠিন লাগে। সুধীন্দ্রনাথ দত্তের বিখ্যাত কাব্য অর্কেস্ট্রা ও সংবর্ত, প্রেমেন্দ্র মিত্রের প্রথমা, আর সমর সেনের কয়েকটি কবিতা।
জীবনানন্দের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন আর রূপসী বাংলা। তাঁকে রূপসী বাংলার কবি ও নির্জনতম কবি বলা হয়।
মনে রাখুন: চরণে ইতিহাস, সময়, মৃত্যু আর মানবধারার ভাবনা থাকলে আগে জীবনানন্দের কথা ভাবুন।
২২২. দৌলত উজির বাহরাম খান সাহিত্যসৃষ্টিতে কার পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কসুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
- খকোরেশী মাগন ঠাকুর
- গসুলতান বরবক শাহ
- ঘজমিদার নিজাম শাহ
সঠিক উত্তর: ঘ. জমিদার নিজাম শাহ
প্রশ্নটি মধ্যযুগের কবি ও তাঁর পৃষ্ঠপোষক মেলাতে বলছে। দৌলত উজির বাহরাম খান চট্টগ্রামের শাসক নিজাম শাহ সুরের পৃষ্ঠপোষকতা পান।
বাহরাম খানের বাবা ছিলেন নিজাম শাহ সুরের উজির। বাবার মৃত্যুর পর নিজাম শাহ অল্প বয়সী বাহরামকে উজির পদে বসান, আর এই পদ থেকেই তাঁর নামের দৌলত উজির অংশ। তাঁর বিখ্যাত কাব্য লায়লী-মজনু, ফারসি কবি জামির কাহিনি অবলম্বনে লেখা প্রণয়কাব্য।
বাকি পৃষ্ঠপোষকেরা অন্য কবির। সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সময়ে শাহ মুহম্মদ সগীর লেখেন ইউসুফ-জোলেখা। সুলতান রুকনুদ্দিন বরবক শাহ মালাধর বসুকে গুণরাজ খান উপাধি দেন, যিনি লেখেন শ্রীকৃষ্ণবিজয়। আর আরাকানের মন্ত্রী মাগন ঠাকুর ছিলেন আলাওলের পদ্মাবতীর পৃষ্ঠপোষক।
এই চার জোড়া একসঙ্গে মুখস্থ করলে পৃষ্ঠপোষকতার যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায়।
মনে রাখুন: উজির পদ পেয়েছিলেন নিজাম শাহের কাছে, তাই দৌলত উজির বাহরাম খানের পৃষ্ঠপোষক নিজাম শাহ।
২২৩. চর্যাপদের প্রাপ্তিস্থান কোথায়? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কবাংলাদেশ
- খনেপাল
- গউড়িষ্যা
- ঘভুটান
সঠিক উত্তর: খ. নেপাল
প্রশ্নটি জানতে চায় চর্যাপদ কোথায় পাওয়া যায়। উত্তর নেপাল। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে তিনি এটি প্রকাশ করেন হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে। পরে ১৯২৬ সালে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখান চর্যার ভাষা বাংলারই আদি রূপ।
বাংলা ভাষার প্রাচীন নিদর্শন বাংলাদেশে পাওয়া যায়নি কেন, এই প্রশ্ন থেকেই ফাঁদ তৈরি হয়। তুর্কি আক্রমণের সময় বৌদ্ধ সাধকেরা পুথি নিয়ে নেপাল ও তিব্বতে চলে যান বলে ধারণা করা হয়, তাই পুথিটি মিলেছে নেপালে।
চর্যার তিব্বতি অনুবাদ খুঁজে পান প্রবোধচন্দ্র বাগচী, তাই তিব্বত নামটিও আসে; কিন্তু মূল পুথির প্রাপ্তিস্থান নেপাল।
মনে রাখুন: চর্যাপদের দুটি সাল জোড়ায় মনে রাখুন: আবিষ্কার ১৯০৭, প্রকাশ ১৯১৬; স্থান নেপাল।
২২৪. কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ককাঁদো নদী কাঁদো
- খ‘নেকড়ে অরণ্যে’
- গরাঙা প্রভাত
- ঘ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’
সঠিক উত্তর: খ. ‘নেকড়ে অরণ্যে’
প্রশ্নটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস চিনতে বলছে। উত্তর শওকত ওসমানের নেকড়ে অরণ্যে, প্রকাশিত ১৯৭৩ সালে।
উপন্যাসটিতে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের বন্দিশিবিরে আটক নারীদের ওপর নির্যাতনের মর্মান্তিক চিত্র আছে। শওকত ওসমান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আরও লিখেছেন, যেমন জাহান্নাম হইতে বিদায় উপন্যাস।
অন্য তিনটি উপন্যাস সময় দেখেই বাদ দেওয়া যায়। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কাঁদো নদী কাঁদো ১৯৬৮ সালের, আবুল ফজলের রাঙা প্রভাত ১৯৫৭ সালের, দুটোই মুক্তিযুদ্ধের আগে লেখা। শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন ঐতিহাসিক উপন্যাস, যার পটভূমি সেন আমলের শেষভাগ।
ফাঁদ হলো রাঙা প্রভাত, কারণ নামটা নতুন ভোর বা স্বাধীনতার মতো শোনায়। কিন্তু এটি ১৯৫৭ সালের রচনা।
মনে রাখুন: মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস খুঁজতে প্রকাশকাল দেখুন: একাত্তরের আগের বই কখনো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক হতে পারে না।
২২৫. ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ কাব্যগ্রন্থের কবি কে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- করফিক আজাদ
- খশঙ্খ ঘোষ
- গশক্তি চট্টোপাধ্যায়
- ঘশামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর: খ. শঙ্খ ঘোষ
প্রশ্নটি একটি কাব্যগ্রন্থের কবি জানতে চায়। মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে পশ্চিমবঙ্গের কবি শঙ্খ ঘোষের কাব্যগ্রন্থ।
শিরোনামেই ভাবটা আছে: ভোগবাদী শহরে বিজ্ঞাপনের ভিড়ে মানুষের আসল মুখ হারিয়ে যায়। শঙ্খ ঘোষ এমন সমাজসচেতন, সংযত ভাষার কবিতার জন্য পরিচিত। তাঁর আরেকটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ বাবরের প্রার্থনা, আরও আছে দিনগুলি রাতগুলি।
বাকি তিনজনও আধুনিক কবি বলে বিভ্রান্তি হয়। রফিক আজাদের বিখ্যাত কাব্য চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো, আর শামসুর রাহমানের বন্দী শিবির থেকে।
নিজেকে প্রশ্ন করুন, কোন কবির নামের সঙ্গে বাবরের প্রার্থনা জড়িত; সেই কবিরই মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে।
মনে রাখুন: শঙ্খ ঘোষের দুটি নাম জোড়ায় মনে রাখুন: বাবরের প্রার্থনা আর মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে।
২২৬. আসমান কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কপর্তুগিজ
- খফরাসি
- গআরবি
- ঘফারসি
সঠিক উত্তর: ঘ. ফারসি
প্রশ্নটি বিদেশি শব্দের উৎস জানতে চায়। আসমান শব্দটি ফারসি, অর্থ আকাশ।
মুসলিম শাসনামলে প্রশাসন আর সংস্কৃতির ভাষা ছিল ফারসি, তাই অনেক ফারসি শব্দ বাংলায় ঢুকে গেছে। ধর্মীয় অনুষঙ্গের অনেক শব্দও আরবি নয়, ফারসি: খোদা, নামাজ, রোজা, বেহেশত, দোজখ, ফেরেশতা।
আরবি শব্দের উদাহরণ আল্লাহ, ইসলাম, কোরআন, হাকিম। আরবিতে আকাশকে বলে সামা, আসমান নয়। পর্তুগিজ থেকে এসেছে আলমারি, চাবি, বালতি, আনারস; ফরাসি থেকে কার্তুজ, রেস্তোরাঁ, বুর্জোয়া।
ফাঁদ হলো আরবি বিকল্পটি। আসমান শব্দটি ধর্মীয় আলোচনায় বেশি শোনা যায় বলে অনেকে আরবি ভাবেন, কিন্তু এটি ফারসি।
মনে রাখুন: ধর্মীয় অনুষঙ্গের শব্দ মানেই আরবি নয়: নামাজ, রোজা, খোদা, আসমান ফারসি।
২২৭. নিম্নবিবৃত স্বরধ্বনি কোনটি? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কআ
- খই
- গএ
- ঘঅ্যা
সঠিক উত্তর: ক. আ
প্রশ্নটি স্বরধ্বনির উচ্চারণ অনুযায়ী শ্রেণি জানতে চায়। জিভ কতটা উঁচু বা নিচু থাকে, তা দিয়ে ভাগ হয় উচ্চ, মধ্য, নিম্ন; আর মুখ কতটা খোলে, তা দিয়ে ভাগ হয় সংবৃত বা বিবৃত।
আ উচ্চারণের সময় জিভ সবচেয়ে নিচে থাকে আর মুখ সবচেয়ে বেশি খোলে। তাই আ হলো নিম্ন ও বিবৃত স্বরধ্বনি।
অন্যগুলোর অবস্থান মিলিয়ে দেখুন। ই উচ্চারণে জিভ সবচেয়ে ওপরে, মুখ প্রায় বন্ধ, তাই উচ্চ ও সংবৃত। এ উচ্চ-মধ্য ও অর্ধ-সংবৃত। অ্যা নিম্ন-মধ্য ও অর্ধ-বিবৃত।
ফাঁদ হলো অ্যা। এটি আ-এর খুব কাছাকাছি, মুখও বেশ খোলে, তাই কিছু গাইডে একে উত্তর দেওয়া হয়। কিন্তু অ্যা পুরোপুরি নিম্ন নয়, নিম্ন-মধ্য; সবচেয়ে নিচে কেবল আ।
মনে রাখুন: জিভ যত নিচে, মুখ তত খোলা: ই থেকে এ, অ্যা হয়ে আ পর্যন্ত মুখ ক্রমে খোলে।
২২৮. ‘জিজীবিষা’ শব্দটির অর্থ কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কজীবননাশের ইচ্ছা
- খবেঁচে থাকার ইচ্ছা
- গজীবনকে জানার ইচ্ছা
- ঘজীবন-জীবিকার পথ
সঠিক উত্তর: খ. বেঁচে থাকার ইচ্ছা
প্রশ্নটি একটি তৎসম শব্দের অর্থ জানতে চায়। জিজীবিষা মানে বেঁচে থাকার ইচ্ছা।
শব্দটি জীব ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ বাঁচা। সংস্কৃতে কোনো কাজ করার ইচ্ছা বোঝাতে ধাতুর রূপ বদলে এমন শব্দ গড়া হয়, যাকে ইচ্ছাবাচক বা সন্নন্ত শব্দ বলে। তাই জিজীবিষা মানে বাঁচার ইচ্ছা।
একই ধাঁচের আরও শব্দ শিখে রাখুন: জিজ্ঞাসা মানে জানার ইচ্ছা, জিগীষা মানে জয়ের ইচ্ছা, বুভুক্ষা মানে খাওয়ার ইচ্ছা, পিপাসা মানে পান করার ইচ্ছা, মুমূর্ষা মানে মরার ইচ্ছা, আর জিঘাংসা মানে হত্যার ইচ্ছা।
ফাঁদ হলো জীবনকে জানার ইচ্ছা বিকল্পটি। জানার ইচ্ছার শব্দ জিজ্ঞাসা, আর জিজীবিষা আর জিজ্ঞাসা দুটোই জি দিয়ে শুরু হওয়ায় গুলিয়ে যায়।
মনে রাখুন: ইচ্ছাবাচক শব্দের ধাতুটা খুঁজুন: জীব মানে বাঁচা, তাই জিজীবিষা; জ্ঞা মানে জানা, তাই জিজ্ঞাসা।
২২৯. বড় > বড্ড – এটি কোন ধরনের পরিবর্তন? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কবিষমীভবন
- খসমীভবন
- গব্যঞ্জনদ্বিত্ব
- ঘব্যঞ্জন-বিকৃতি
সঠিক উত্তর: গ. ব্যঞ্জনদ্বিত্ব
প্রশ্নটি ধ্বনি পরিবর্তনের রীতি চিনতে বলছে। কখনো জোর দেওয়ার জন্য শব্দের একটি ব্যঞ্জনধ্বনি দুবার উচ্চারিত হয়, একে বলে ব্যঞ্জনদ্বিত্ব।
বড় থেকে বড্ড হয়েছে, কারণ ড ধ্বনি দ্বিগুণ হয়েছে, আর অর্থে জোর এসেছে, মানে খুব। একই রকম পাকা থেকে পাক্কা, সকাল থেকে সক্কাল, ছোট থেকে ছোট্ট।
অন্য রীতিগুলোর পার্থক্য স্পষ্ট করে নিন। সমীভবনে পাশাপাশি দুটি ভিন্ন ব্যঞ্জন একরকম হয়ে যায়, যেমন জন্ম থেকে জম্ম। বিষমীভবনে দুটি একই ব্যঞ্জনের একটি বদলে যায়, যেমন লাল থেকে নাল। ব্যঞ্জনবিকৃতিতে একটি ব্যঞ্জন অন্য ব্যঞ্জনে বদলায়, যেমন কবাট থেকে কপাট।
ফাঁদ হলো সমীভবন, কারণ সেখানেও শেষে একই ব্যঞ্জন দুবার দেখা যায়। পার্থক্য হলো, সমীভবনে আগে দুটি আলাদা ব্যঞ্জন ছিল; বড় শব্দে ড ছিল একটিই, জোর দিতে দ্বিতীয়টি যোগ হয়েছে।
মনে রাখুন: মূল শব্দে একটিই ব্যঞ্জন ছিল আর জোর বোঝাতে দ্বিগুণ হলে ব্যঞ্জনদ্বিত্ব: বড্ড, পাক্কা, সক্কাল, ছোট্ট।
২৩০. ‘সপ্তকাণ্ড রামায়ণ’ বাগধারার অর্থ কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- করামায়ণের সাত পর্ব
- খরামায়ণে বর্ণিত বৃক্ষ
- গরামায়ণে বর্ণিত সাতটি সমুদ্র
- ঘবৃহৎ বিষয়
সঠিক উত্তর: ঘ. বৃহৎ বিষয়
প্রশ্নটি একটি বাগধারার অর্থ জানতে চায়। সপ্তকাণ্ড রামায়ণ মানে বিরাট ব্যাপার বা বিশাল বৃত্তান্ত, তাই উত্তর বৃহৎ বিষয়।
রামায়ণ সাতটি কাণ্ডে বিভক্ত: আদি, অযোধ্যা, অরণ্য, কিষ্কিন্ধ্যা, সুন্দর, লঙ্কা ও উত্তর। পুরো রামায়ণ বলা মানে বিশাল দীর্ঘ কাহিনি বলা, তাই কোনো কিছু বড় করে বা লম্বা করে বলাকে সপ্তকাণ্ড রামায়ণ বলে। যেমন: সামান্য দেরির কারণ জানতে চাইলাম, সে সপ্তকাণ্ড রামায়ণ শুরু করল।
বাগধারার অর্থ সবসময় আক্ষরিক নয়, লাক্ষণিক। রামায়ণ থেকে আসা আরও কিছু বাগধারা: কুম্ভকর্ণের ঘুম মানে গভীর ঘুম, লঙ্কাকাণ্ড মানে তুমুল গোলমাল, রাবণের চিতা মানে চির অশান্তি।
ফাঁদ হলো রামায়ণের সাত পর্ব বিকল্পটি। এটি শব্দের আক্ষরিক অর্থ, বাগধারার অর্থ নয়।
মনে রাখুন: বাগধারার প্রশ্নে আক্ষরিক অর্থের বিকল্পটি প্রায়ই ফাঁদ; লাক্ষণিক অর্থ খুঁজুন।
২৩১. ‘Attested’ শব্দের বাংলা পরিভাষা কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কপ্রত্যায়িত
- খসত্যায়িত
- গপ্রত্যয়িত
- ঘসত্যয়িত
সঠিক উত্তর: খ. সত্যায়িত
প্রশ্নটি ইংরেজি দাপ্তরিক শব্দ অ্যাটেস্টেডের বাংলা পরিভাষা জানতে চায়। উত্তর সত্যায়িত।
সরকারি কাজে কাগজপত্রের ফটোকপি মূল কপির সঙ্গে মিল আছে বলে কর্মকর্তা স্বাক্ষর দিলে তাকে সত্যায়িত করা বলে। শব্দটি সত্য থেকে এসেছে: সত্য বলে স্বীকার করা।
এর কাছাকাছি আরেকটি পরিভাষা প্রত্যয়িত, যা ইংরেজি সার্টিফায়েডের বাংলা। প্রত্যয় মানে বিশ্বাস বা নিশ্চয়তা, তার সঙ্গে ইত যোগে প্রত্যয়িত।
বাকি দুটি বিকল্প আসলে এই দুটি শব্দের ভুল বানান। প্রত্যায়িত আর সত্যয়িত দুটোতেই আ-কার ভুল জায়গায়; শুদ্ধ রূপ প্রত্যয়িত আর সত্যায়িত।
মনে রাখুন: অ্যাটেস্টেড আর সার্টিফায়েড জোড়ায় মনে রাখুন: সত্য থেকে সত্যায়িত, প্রত্যয় থেকে প্রত্যয়িত।
২৩২. ‘ডেকে ডেকে হয়রান হচ্ছি।’-এ বাক্যে ‘ডেকে ডেকে’ কোন অর্থ প্রকাশ করে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কঅসহায়ত্ব
- খবিরক্তি
- গকালের বিস্তার
- ঘপৌনঃপুনিকতা
সঠিক উত্তর: ঘ. পৌনঃপুনিকতা
প্রশ্নটি দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ নিয়ে। একই শব্দ পরপর দুবার বসলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে, আর কোন শব্দ দুবার বসছে তার উপর নির্ভর করে অর্থ বদলায়।
এখানে দুবার বসেছে অসমাপিকা ক্রিয়া ‘ডেকে’। অসমাপিকা ক্রিয়ার দ্বিরুক্তি সাধারণত বোঝায় কাজটি বারবার হচ্ছে। ‘ডেকে ডেকে হয়রান’ মানে একবার নয়, বহুবার ডেকে ক্লান্ত হয়ে পড়া। বারবার ঘটাকেই ব্যাকরণে বলে পৌনঃপুনিকতা।
একই ধরনের উদাহরণ: ভেবে ভেবে সারা হলাম, খুঁজে খুঁজে পেলাম না, হেঁটে হেঁটে পা ব্যথা। প্রতিটিতে কাজটির পুনরাবৃত্তি বোঝানো হয়েছে।
ফাঁদ হলো বাক্যের ‘হয়রান’ শব্দটি। হয়রান দেখে বিরক্তি বা অসহায়ত্ব মনে হতে পারে, কিন্তু প্রশ্ন শুধু ‘ডেকে ডেকে’ অংশের অর্থ জানতে চেয়েছে।
মনে রাখুন: অসমাপিকা ক্রিয়া দুবার বসলে প্রায় সবসময় বারবার করা বোঝায়: ভেবে ভেবে, খুঁজে খুঁজে।
২৩৩. ভুল বানান কোনটি? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কভূবন
- খঅন্তঃসার
- গমুহূর্ত
- ঘঅদ্ভুত
সঠিক উত্তর: ক. ভূবন
প্রশ্নটি তৎসম শব্দে হ্রস্ব উ-কার আর দীর্ঘ ঊ-কারের পার্থক্য পরীক্ষা করছে। তৎসম শব্দের বানান সংস্কৃত মূল অনুযায়ী হয়, তাই প্রতিটি শব্দের প্রচলিত শুদ্ধ রূপ মনে রাখতে হয়।
পৃথিবী অর্থে ‘ভূ’ শব্দে দীর্ঘ ঊ-কার, তাই অনেকে ‘ভুবন’ শব্দেও দীর্ঘ ঊ-কার বসান। কিন্তু শুদ্ধ বানান ভুবন, ভ-এ হ্রস্ব উ-কার। তাই ভূবন বানানটি ভুল।
বাকিগুলো শুদ্ধ। অন্তঃসার শব্দে বিসর্গের পরে স থাকায় বিসর্গ বজায় থাকে। মুহূর্ত শব্দে ম-এ হ্রস্ব উ-কার আর হ-এ দীর্ঘ ঊ-কার। অদ্ভুত শব্দে দ্ভ-এ হ্রস্ব উ-কার।
ফাঁদ হলো মুহূর্ত শব্দটি। এতে দুই ধরনের উ-কার একসঙ্গে থাকায় একে ভুল মনে হয়, অথচ এটিই শুদ্ধ রূপ।
মনে রাখুন: ‘ভূ’ মানে পৃথিবী দীর্ঘ ঊ, কিন্তু ভুবন হ্রস্ব উ। একই দলে: মুকুল, কুসুম, মুহুর্মুহু।
২৩৪. ‘যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।’-এটি কোন ধরনের বাক্য? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কসরল বাক্য
- খজটিল বাক্য
- গযৌগিক বাক্য
- ঘখণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর: খ. জটিল বাক্য
প্রশ্নটি গঠন অনুযায়ী বাক্যের শ্রেণি চিনতে চেয়েছে: সরল, জটিল আর যৌগিক। একটি স্বাধীন খণ্ডবাক্যের সঙ্গে এক বা একাধিক নির্ভরশীল খণ্ডবাক্য থাকলে বাক্যটি জটিল বা মিশ্র বাক্য।
এখানে ‘যিনি বিদ্বান’ অংশটি একা দাঁড়াতে পারে না, এটি পরের অংশের উপর নির্ভরশীল; তাই এটি আশ্রিত খণ্ডবাক্য। ‘তিনি সর্বত্র আদরণীয়’ হলো প্রধান খণ্ডবাক্য।
যিনি আর তিনি, যে আর সে, যখন আর তখন, যদি আর তবে: এমন জোড়া সাপেক্ষ শব্দ দেখলেই বাক্যটি জটিল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। একই বাক্যের সরল রূপ হবে বিদ্বান ব্যক্তি সর্বত্র আদরণীয়।
ফাঁদ হলো যৌগিক বাক্য। যৌগিক বাক্যে দুটি অংশই স্বাধীন থাকে এবং এবং, কিন্তু, অথবা ধরনের অব্যয়ে যুক্ত হয়; এখানে একটি অংশ অন্যটির উপর নির্ভরশীল।
মনে রাখুন: যে-সে, যিনি-তিনি, যখন-তখন, যদি-তবে জোড়া দেখলে আগে জটিল বাক্য ভাবুন।
২৩৫. ‘চিকিৎসাশাস্ত্র’ কোন সমাস? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ককর্মধারয়
- খবহুব্রীহি
- গঅব্যয়ীভাব
- ঘতৎপুরুষ
সঠিক উত্তর: ক. কর্মধারয়
প্রশ্নটি সমাস চেনার। সমস্ত পদ ভেঙে ব্যাসবাক্য তৈরি করলেই সমাসটি ধরা পড়ে।
চিকিৎসাশাস্ত্র মানে চিকিৎসা বিষয়ক শাস্ত্র। ব্যাসবাক্যের মাঝের ‘বিষয়ক’ পদটি সমাস হওয়ার সময় লোপ পেয়েছে। পূর্বপদের পরে থাকা মধ্যপদ লোপ পেলে এবং পরপদের অর্থ প্রধান হলে তাকে বলে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
একই নিয়মের উদাহরণ: সিংহাসন মানে সিংহ চিহ্নিত আসন, ঘিভাত মানে ঘি মাখা ভাত, স্মৃতিসৌধ মানে স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ। প্রতিটিতে মাঝের একটি পদ উধাও।
ফাঁদ হলো তৎপুরুষ। ‘চিকিৎসার শাস্ত্র’ ভেঙে ষষ্ঠী তৎপুরুষ মনে হতে পারে, কিন্তু প্রচলিত ব্যাকরণ ও পরীক্ষার উত্তরে এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে মাঝখানে বিষয়ক, চিহ্নিত, মাখা, রক্ষার্থে ধরনের শব্দ বসাতে হলে সেটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।
২৩৬. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কচৌবেরিয়া গ্রাম, নদীয়া
- খকাঁঠালপাড়া গ্রাম, চব্বিশ পরগনা
- গবীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর
- ঘদেবানন্দপুর গ্রাম, হুগলি
সঠিক উত্তর: গ. বীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর
প্রশ্নটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান জানতে চেয়েছে। তিনি ১৮২০ সালে মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক প্রয়োগ আর সুষম বাক্যগঠনের মধ্য দিয়ে বাংলা গদ্যকে শিল্পরূপ দেওয়ায় তাঁকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
বিকল্পগুলোর বাকি তিনটি জায়গাও বিখ্যাত সাহিত্যিকদের জন্মস্থান। চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়া বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের, হুগলির দেবানন্দপুর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের, আর নদীয়ার চৌবেড়িয়া নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্রের জন্মস্থান।
তাই এ ধরনের প্রশ্নে জন্মস্থানগুলো জোড়ায় জোড়ায় মনে রাখা লাভজনক, কারণ পরীক্ষায় একটির বদলে অন্যটি বিকল্প হিসেবে আসে।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ কাঁঠালপাড়া, কারণ বঙ্কিমচন্দ্র আর বিদ্যাসাগর একই যুগের এবং দুজনের নাম প্রায়ই একসঙ্গে আসে।
মনে রাখুন: বীরসিংহের সিংহ বিদ্যাসাগর; কাঁঠালপাড়া বঙ্কিম, দেবানন্দপুর শরৎ, চৌবেড়িয়া দীনবন্ধু।
২৩৭. ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠিত হয় (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬
- খ১৯ জানুয়ারি ১৯২৬
- গ১৯ মার্চ ১৯২৬
- ঘ২৬ মার্চ ১৯২৭
সঠিক উত্তর: খ. ১৯ জানুয়ারি ১৯২৬
প্রশ্নটি মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রতিষ্ঠার তারিখ জানতে চেয়েছে। সংগঠনটি ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক তরুণ শিক্ষক ও লেখকদের উদ্যোগে।
এই সংগঠনকে ঘিরে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে তার নাম বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন, আর মুখপত্র ছিল বার্ষিক পত্রিকা ‘শিখা’। শিখার মূলমন্ত্র ছিল: জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।
আবুল হুসেন, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল ফজল প্রমুখ এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরীক্ষায় তারিখ, মুখপত্র আর আন্দোলনের নাম তিনটিই আসে।
ফাঁদ হলো বিকল্পগুলোতে একই উনিশ তারিখ রেখে শুধু মাস বদলে দেওয়া। জানুয়ারি মনে রাখলেই বাকিগুলো বাদ পড়ে।
মনে রাখুন: উনিশে জানুয়ারি, উনিশশো ছাব্বিশ: বুদ্ধির মুক্তির জন্মদিন।
২৩৮. ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ কার লেখা? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কএস. ওয়াজেদ আলী
- খআবুল হাসেম
- গআবুল মনসুর আহমদ
- ঘআবুল হুসেন
সঠিক উত্তর: গ. আবুল মনসুর আহমদ
প্রশ্নটি একটি বিখ্যাত রাজনৈতিক স্মৃতিকথার লেখক জানতে চেয়েছে। ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ লিখেছেন আবুল মনসুর আহমদ, যিনি একাধারে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও ব্যঙ্গসাহিত্যিক।
বইটিতে তিনি ব্রিটিশ আমল থেকে পাকিস্তান আমল পর্যন্ত নিজের চোখে দেখা রাজনীতির বিবরণ দিয়েছেন। তাঁর আরেকটি আত্মজীবনী ‘আত্মকথা’।
সাহিত্যে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত ব্যঙ্গরচনার জন্য: ‘আয়না’ আর ‘ফুড কনফারেন্স’ তাঁর বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ।
ফাঁদ হলো বিকল্পের আবুল হাসেম, প্রচলিত বানানে আবুল হাশিম। তিনিও রাজনীতিবিদ ও মুসলিম লীগ নেতা ছিলেন বলে রাজনীতির স্মৃতিকথা তাঁর মনে হতে পারে, কিন্তু এই বইটি তাঁর নয়।
মনে রাখুন: রাজনীতির পঞ্চাশ বছর মানেই আবুল মনসুর আহমদ, যিনি আয়না আর ফুড কনফারেন্সের ব্যঙ্গকার।
২৩৯. “ঐ ক্ষেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে”-কে এই দামাল ছেলে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ককাজী নজরুল ইসলাম
- খকামাল পাশা
- গচিত্তরঞ্জন দাস
- ঘসুভাষ বসু
সঠিক উত্তর: খ. কামাল পাশা
প্রশ্নের চরণটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কামাল পাশা’ কবিতার, যা তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নি-বীণা’র অন্তর্গত। এখানে ‘দামাল ছেলে’ বলতে তুরস্কের মুস্তফা কামাল পাশাকে বোঝানো হয়েছে।
প্রথম মহাযুদ্ধের পরে বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে তুরস্কের স্বাধীনতাযুদ্ধে কামাল পাশার বীরত্ব নজরুলকে মুগ্ধ করেছিল। কবিতায় দেশমাতাকে ‘পাগলি মা’ আর তাঁর সাহসী সন্তানকে ‘দামাল ছেলে’ বলা হয়েছে।
অগ্নি-বীণায় তুর্কি বীরদের নিয়ে আরও একটি কবিতা আছে, ‘আনোয়ার’। আর চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যুতে নজরুল লেখেন ‘চিত্তনামা’।
ফাঁদ হলো কাজী নজরুল ইসলাম নিজে। নজরুল কবিতাটির কবি, কবিতার নায়ক নন।
মনে রাখুন: অগ্নি-বীণায় তুরস্কের দুই বীর: কামাল পাশা আর আনোয়ার।
২৪০. সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক‘শনিবারের চিঠি’
- খরবিবারের ডাক
- গবিজলি
- ঘবঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর: ক. ‘শনিবারের চিঠি’
প্রশ্নটি সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত পত্রিকার নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর ‘শনিবারের চিঠি’, বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে আলোচিত ব্যঙ্গাত্মক সাময়িকী।
শনিবারের চিঠি তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ ও সমালোচনার জন্য পরিচিত ছিল। কল্লোল গোষ্ঠীর আধুনিক লেখক আর কাজী নজরুল ইসলামও এর ব্যঙ্গের লক্ষ্য হয়েছিলেন।
অন্য পত্রিকাগুলোর পরিচয় আলাদা। ‘বঙ্গদর্শন’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৮৭২ সালে প্রকাশিত। সাপ্তাহিক ‘বিজলী’তে নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রথম ছাপা হয়।
ফাঁদ হলো ‘রবিবারের ডাক’। শনিবারের সঙ্গে মিল রেখে দিনের নাম দিয়ে বানানো এই নামটি সজনীকান্তের পত্রিকা নয়।
মনে রাখুন: সজনী আর শনি, দুটোই স দিয়ে শুরু: সজনীকান্তের শনিবারের চিঠি।