বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৫
৮১. 'নদী'-র সমার্থক শব্দ কোনটি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কসিন্ধু
- খহিল্লোল
- গতটিনী
- ঘনির্ঝর
সঠিক উত্তর: গ. তটিনী
তটিনী শব্দের অর্থ নদী; তট মানে তীর, আর তীর আছে যার সে তটিনী। নদীর আরও সমার্থক শব্দ তরঙ্গিণী, স্রোতস্বিনী, প্রবাহিণী, স্রোতস্বতী।
নদীর অনেক সমার্থক শব্দ একই ছাঁচে গড়া: কিছু আছে যার, তাকে স্ত্রীলিঙ্গে ইনী বা বতী দিয়ে বোঝানো। যেমন তরঙ্গ আছে যার সে তরঙ্গিণী, স্রোত আছে যার সে স্রোতস্বিনী বা স্রোতস্বতী।
বাকি তিনটি জলের সঙ্গে জড়িত বলে বিভ্রান্তি হয়। সিন্ধু মানে সমুদ্র, হিল্লোল মানে ঢেউ, আর নির্ঝর মানে ঝরনা।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ সিন্ধু, কারণ সিন্ধু একটি নদের নামও। কিন্তু শব্দ হিসেবে সিন্ধুর অর্থ সাগর, যেমন সিন্ধুতীর মানে সমুদ্রতীর।
মনে রাখুন: নদীর সমার্থক প্রায়ই ইনী দিয়ে শেষ: তটিনী, তরঙ্গিণী, স্রোতস্বিনী, প্রবাহিণী।
৮২. চর্যাপদের কবিরা ছিলেন – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কমহাঘানী বৌদ্ধ
- খবজ্রঘানী বৌদ্ধ
- গবাউল
- ঘসহজঘানী বৌদ্ধ
সঠিক উত্তর: ঘ. সহজঘানী বৌদ্ধ
চর্যাপদের কবিরা ছিলেন সহজযানী বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য। তাঁরা গুরুর নির্দেশে দেহসাধনার মধ্য দিয়ে সহজ অবস্থা লাভের কথা গানের ভাষায় বলেছেন।
শাখাগুলো পরপর সাজালে বোঝা সহজ: বৌদ্ধধর্মের মহাযান থেকে এসেছে বজ্রযান, আর বজ্রযান থেকে জন্ম সহজযান বা সহজিয়া মতের। চর্যার পদে এই সহজিয়া সাধনতত্ত্ব রূপক আর সংকেতে প্রকাশ পেয়েছে।
চর্যার কবিদের পা বা পাদ উপাধি থাকে, যেমন লুইপা, কাহ্নপা, ভুসুকুপা। পদগুলোর রহস্যময় ভাষাকে বলা হয় সন্ধ্যাভাষা।
ফাঁদ বজ্রযানী, কারণ সহজযান এরই উপশাখা। আর বাউলদের ভাবনায় সহজিয়া ছাপ থাকলেও তাঁরা অনেক পরের সাধক সম্প্রদায়। প্রশ্নপত্রে যানী শব্দটি ঘানী ছাপা হয়েছিল; এটি ছাপার ভুল, সঠিক শব্দ যান, মানে পথ বা মত।
মনে রাখুন: চর্যা = সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের গান; ভাষার নাম সন্ধ্যাভাষা।
৮৩. 'শূন্যপূরাণের' রচয়িতা – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- করামাই পণ্ডিত
- খহলায়ূধ মিশ্র
- গকাহ্নপা
- ঘকুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর: ক. রামাই পণ্ডিত
শূন্যপুরাণের রচয়িতা রামাই পণ্ডিত। এটি ধর্মঠাকুরের পূজাপদ্ধতি বিষয়ক গ্রন্থ, যা অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিয়ে আলোচনায় আসে।
গ্রন্থটির নিরঞ্জনের রুষ্মা অংশ বিখ্যাত; এতে উচ্চবর্ণের অত্যাচার আর মুসলমান শাসকদের আগমনের একটি চিত্র পাওয়া যায়।
অন্ধকার যুগের আরেকটি পরিচিত রচনা সেক শুভোদয়া, যা হলায়ুধ মিশ্রের নামে প্রচলিত। আর কাহ্নপা ও কুক্কুরীপা চর্যাপদের কবি; কাহ্নপার পদ চর্যায় সবচেয়ে বেশি।
ফাঁদ হলায়ুধ মিশ্র, কারণ তিনিও একই সময়ের সংস্কৃতঘেঁষা রচনার সঙ্গে যুক্ত। শূন্যপুরাণ মানেই রামাই পণ্ডিত। প্রশ্নপত্রে শূন্যপূরাণ ও হলায়ূধ ছাপা হয়েছিল; শুদ্ধ বানান শূন্যপুরাণ ও হলায়ুধ, দুটিতেই হ্রস্ব উ-কার।
মনে রাখুন: শূন্যপুরাণ রামাই পণ্ডিত, সেক শুভোদয়া হলায়ুধ মিশ্র; দুটিই অন্ধকার যুগের আলোচনায় আসে।
৮৪. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাঁকিল্যা গ্রাম কেন উল্লেখযোগ্য? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কশ্রীচৈতন্যদেবের জন্মস্থান
- খবড়ু চণ্ডীদাসের জন্মস্থান
- গচর্যাপদের প্রাপ্তিস্থান
- ঘশ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন কাব্যের প্রাপ্তিস্থান
সঠিক উত্তর: ঘ. শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন কাব্যের প্রাপ্তিস্থান
কাঁকিল্যা পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার একটি গ্রাম। ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ এখানে এক গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
পুঁথিটি ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষার প্রথম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত।
আবিষ্কারের দুটি জোড়া একসঙ্গে মনে রাখুন: চর্যাপদ ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগারে, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী; শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ১৯০৯ সালে বাঁকুড়ার কাঁকিল্যায়, বসন্তরঞ্জন রায়।
ফাঁদ বড়ু চণ্ডীদাসের জন্মস্থান বিকল্পটি, কারণ কবি আর কাব্য একই। কিন্তু কাঁকিল্যা কাব্যের পুঁথি পাওয়ার জায়গা, কবির জন্মস্থান নয়।
মনে রাখুন: চর্যাপদ নেপাল ১৯০৭, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাঁকিল্যা ১৯০৯।
৮৫. 'যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।' – কবিতাংশটি কোন কাব্যের অন্তর্গত? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কনূরনামা
- খনসিহতনামা
- গমধুমালতী
- ঘইউসুফ-জুলেখা
সঠিক উত্তর: ক. নূরনামা
পঙ্ক্তিটি মধ্যযুগের কবি আবদুল হাকিমের নূরনামা কাব্যের। এতে কবি বলছেন, বাংলায় জন্মেও যারা বাংলা ভাষাকে ঘৃণা করে, তাদের জন্মপরিচয় নিয়েই সন্দেহ জাগে।
পরের পঙ্ক্তিতে তিনি আরও কঠোর: দেশি ভাষা যার মনে ধরে না, সে দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যায় না কেন। মাতৃভাষার প্রতি এমন দৃঢ় অনুরাগের জন্যই অংশটি বিখ্যাত।
আবদুল হাকিম সপ্তদশ শতকের কবি; তাঁর অন্য রচনার মধ্যে ইউসুফ জোলেখা ও লালমতি সয়ফুলমুলুক আছে। মধুমালতী মুহম্মদ কবিরের প্রণয়কাব্য। নসিহতনামা নামের উপদেশমূলক কাব্য আফজল আলীর নামে বেশি পরিচিত, যদিও আবদুল হাকিমের নামেও এ নামের একটি রচনা পাওয়া যায়।
ফাঁদ ইউসুফ জোলেখা, কারণ আবদুল হাকিমেরও এ নামে কাব্য আছে। কিন্তু বঙ্গবাণী বিষয়ক এই বিখ্যাত চরণ নূরনামার।
মনে রাখুন: বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী: আবদুল হাকিম, নূরনামা।
৮৬. আলাওল কোন শতাব্দীর কবি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কপঞ্চদশ
- খষোড়শ
- গসপ্তদশ
- ঘঅষ্টাদশ
সঠিক উত্তর: গ. সপ্তদশ
আলাওল সপ্তদশ শতকের কবি। তিনি আরাকান রাজসভার কবি ছিলেন এবং অমাত্য মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় পদ্মাবতী কাব্য রচনা করেন।
পদ্মাবতী হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর পদুমাবৎ কাব্যের ভাবানুবাদ। আরাকান রাজসভার আরেক বিখ্যাত কবি দৌলত কাজী, যাঁর অসমাপ্ত সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য আলাওল শেষ করেন।
শতক মনে রাখতে প্রতিটি শতকের একজন পরিচিত কবিকে নোঙর হিসেবে ধরুন: পঞ্চদশে কৃত্তিবাস, ষোড়শে মুকুন্দরাম, সপ্তদশে আলাওল, অষ্টাদশে ভারতচন্দ্র।
ফাঁদ অষ্টাদশ শতক, কারণ মধ্যযুগের শেষ ভাগের কবিদের সঙ্গে আলাওলকে গুলিয়ে ফেলা হয়। ভারতচন্দ্র অষ্টাদশের, আলাওল তাঁর আগের শতকের।
মনে রাখুন: আরাকান রাজসভা মানেই সপ্তদশ শতক: দৌলত কাজী, আলাওল।
৮৭. কোন বাংলা গানকে ইউনেস্কো Heritage of Humanity অভিধায় ভূষিত করেছে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- করবীন্দ্র সংগীত
- খনজরুল সংগীত
- গভাটিয়ালি গান
- ঘবাউল গান
সঠিক উত্তর: ঘ. বাউল গান
ইউনেস্কো ২০০৫ সালে বাংলাদেশের বাউল গানকে মানবতার মৌখিক ও অধরা ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন ঘোষণা করে। পরে ২০০৮ সালে এটি অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় যুক্ত হয়।
বাউল গান মরমি সাধনার গান; দেহতত্ত্ব আর মনের মানুষের খোঁজ এর মূল বিষয়। লালন সাঁই এ ধারার সবচেয়ে পরিচিত নাম।
বাংলাদেশের অন্য অধরা ঐতিহ্যও একসঙ্গে মনে রাখুন: জামদানি বুননশিল্প, পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা, সিলেটের শীতলপাটি, আর ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র।
ভাটিয়ালিও লোকগান হওয়ায় ফাঁদ তৈরি করে, কিন্তু ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে বাউল গান। রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীত ব্যক্তিস্রষ্টার গান, এ তালিকায় নেই।
মনে রাখুন: ইউনেস্কোর তালিকায় বাংলাদেশের প্রথম নাম বাউল গান; পরে জামদানি, মঙ্গল শোভাযাত্রা, শীতলপাটি, রিকশাচিত্র।
৮৮. চন্ডীচরণ মুন্সী কে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কশ্রীরামপুর মিশনের লিপিকর
- খফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত
- গকেরী সাহেবের মুন্সী গ্রন্থের রচয়িতা
- ঘসমাচার চন্দ্রিকা পত্রিকার সম্পাদক
সঠিক উত্তর: খ. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত
চণ্ডীচরণ মুন্সী ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের মুন্সী বা পণ্ডিত। উইলিয়াম কেরির তত্ত্বাবধানে এই কলেজের পণ্ডিতেরা ইংরেজ কর্মচারীদের জন্য বাংলা গদ্যের পাঠ্যবই লিখতেন।
চণ্ডীচরণের বিখ্যাত গ্রন্থ তোতা ইতিহাস, ১৮০৫ সালে প্রকাশিত; এটি ফারসি তুতিনামার অনুবাদ। একই কলেজের অন্য পণ্ডিত রামরাম বসু ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
অন্য বিকল্পগুলোর পরিচয় আলাদা। শ্রীরামপুর মিশনের বাংলা হরফ তৈরি করেন পঞ্চানন কর্মকার। কেরী সাহেবের মুন্সী প্রমথনাথ বিশীর উপন্যাস, রামরাম বসুকে নিয়ে। সমাচার চন্দ্রিকার সম্পাদক ছিলেন ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
ফাঁদ কেরী সাহেবের মুন্সী, কারণ নামে মুন্সী আর কেরি দুটোই আছে। কিন্তু সেটি পরের যুগের একটি উপন্যাস, আর চণ্ডীচরণ তার লেখক নন।
মনে রাখুন: ফোর্ট উইলিয়ামের পণ্ডিত ও বই: রামরাম বসু রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র, চণ্ডীচরণ তোতা ইতিহাস, মৃত্যুঞ্জয় প্রবোধচন্দ্রিকা।
৮৯. 'রত্নপরীক্ষা' গ্রন্থের রচয়িতা – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- করামমোহন রায়
- খঅক্ষয়কুমার দত্ত
- গঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ঘরাধানাথ শিকদার
সঠিক উত্তর: গ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
রত্নপরীক্ষা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের লেখা একটি বেনামি ব্যঙ্গরচনা। বিধবাবিবাহ ও বহুবিবাহ বিরোধী আন্দোলনের সময় প্রতিপক্ষের যুক্তির জবাব দিতে তিনি এ ধরনের রচনা ছদ্মনামে প্রকাশ করেন।
তাঁর এই ধারার অন্য বেনামি রচনা অতি অল্প হইল, আবার অতি অল্প হইল ও ব্রজবিলাস। এগুলো প্রকাশিত হয় কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য ছদ্মনামে।
বিদ্যাসাগরকে মনে রাখুন দুই রূপে: একদিকে শকুন্তলা, সীতার বনবাস, বর্ণপরিচয়ের মতো গম্ভীর গদ্য, অন্যদিকে এই তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গরচনা।
বাকি তিনজনও উনিশ শতকের গদ্যের মানুষ, তাই ফাঁদ। রামমোহনের পরিচয় বেদান্ত গ্রন্থ ও গৌড়ীয় ব্যাকরণ, অক্ষয়কুমার দত্তের তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা, আর রাধানাথ শিকদারের মাসিক পত্রিকা।
মনে রাখুন: কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য ছদ্মনাম দেখলেই বিদ্যাসাগর।
৯০. স্বর্ণকুমারী দেবীর পিতার নাম – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কদ্বারকানাথ ঠাকুর
- খদেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গরথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঘপ্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর: খ. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
স্বর্ণকুমারী দেবীর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি রবীন্দ্রনাথের দিদি, অর্থাৎ বড় বোন।
স্বর্ণকুমারী বাংলা সাহিত্যের প্রথম দিকের উল্লেখযোগ্য নারী ঔপন্যাসিক; তাঁর উপন্যাস দীপনির্বাণ। তিনি দীর্ঘদিন ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।
ঠাকুর পরিবারের প্রজন্ম সাজালে উত্তর পরিষ্কার: দ্বারকানাথ দাদা, দেবেন্দ্রনাথ পিতা, রবীন্দ্রনাথ ভাই, আর রথীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথের ছেলে, মানে স্বর্ণকুমারীর ভাইপো।
ফাঁদ দ্বারকানাথ, কারণ তিনি পরিবারের সবচেয়ে পরিচিত পূর্বপুরুষ। প্রমথ চৌধুরী ঠাকুর পরিবারের জামাতা, সত্যেন্দ্রনাথের কন্যা ইন্দিরা দেবীর স্বামী।
মনে রাখুন: ঠাকুর পরিবার: দ্বারকানাথ থেকে দেবেন্দ্রনাথ, তাঁর সন্তান স্বর্ণকুমারী ও রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথের পুত্র রথীন্দ্রনাথ।
৯১. ভীষ্মদেব খোশনবীশ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন গ্রন্থের চরিত্র? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ককমলাকান্ত
- খলোকরহস্য
- গমুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত
- ঘযুগলাঙ্গুরীয়
সঠিক উত্তর: ক. কমলাকান্ত
ভীষ্মদেব খোশনবীস বঙ্কিমচন্দ্রের কমলাকান্ত গ্রন্থের চরিত্র। আফিমসেবী কমলাকান্ত তাঁর লেখার দপ্তর ভীষ্মদেবের হাতে রেখে যান, আর তিনিই সেগুলো প্রকাশ করেন বলে বইটির কাঠামো।
কমলাকান্ত গ্রন্থে তিনটি অংশ: কমলাকান্তের দপ্তর, কমলাকান্তের পত্র ও কমলাকান্তের জোবানবন্দী। প্রসন্ন গোয়ালিনী আর মঙ্গলা গাভীও এর পরিচিত চরিত্র।
বঙ্কিমের অন্য ব্যঙ্গরচনা লোকরহস্য আর মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত; যুগলাঙ্গুরীয় তাঁর ছোট উপন্যাস। ব্যঙ্গরচনা বলে তিনটিই কাছাকাছি মনে হয়, তাই চরিত্রের নাম দিয়ে আলাদা করুন।
ফাঁদ লোকরহস্য, কারণ এটিও রসরচনা। কিন্তু ভীষ্মদেব খোশনবীস কমলাকান্তের লেখার প্রকাশক চরিত্র।
মনে রাখুন: কমলাকান্তের সঙ্গে তিন নাম: ভীষ্মদেব খোশনবীস, প্রসন্ন গোয়ালিনী, মঙ্গলা গাভী।
৯২. দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটকের ইংরেজি অনুবাদক – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কজশুয়া মার্শম্যান
- খডেভিড হেয়ার
- গঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ঘমাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর: ঘ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটক ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। নীলকরদের অত্যাচারের চিত্র এতে এত তীব্র ছিল যে এটি নীল বিদ্রোহের প্রতীক হয়ে ওঠে।
১৮৬১ সালে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ নীল দর্পণ, অর ইন্ডিগো প্ল্যান্টিং মিরর প্রকাশিত হয়। অনুবাদকের নাম ছাপা ছিল শুধু এ নেটিভ, তবে প্রচলিত মতে অনুবাদক মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
অনুবাদটি প্রকাশ করেন রেভারেন্ড জেমস লং। এ জন্য তাঁর জরিমানা ও কারাদণ্ড হয়, আর জরিমানার টাকা কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিশোধ করেন বলে প্রচলিত আছে।
ফাঁদ বিদ্যাসাগর, কারণ তিনি অনুবাদে পারদর্শী ছিলেন; আর মার্শম্যান নাম মিশনারি প্রকাশনার জন্য পরিচিত। কিন্তু নীলদর্পণের অনুবাদের সঙ্গে প্রচলিতভাবে মধুসূদনের নামই যুক্ত।
মনে রাখুন: নীলদর্পণ: লেখক দীনবন্ধু, অনুবাদক মধুসূদন, প্রকাশক জেমস লং।
৯৩. রঞ্জন চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকের? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কবিসর্জন
- খরক্তকরবী
- গমুক্তধারা
- ঘডাকঘর
সঠিক উত্তর: খ. রক্তকরবী
রঞ্জন রবীন্দ্রনাথের রক্তকরবী নাটকের চরিত্র। যক্ষপুরীর যন্ত্রনির্ভর, লোভী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রাণের প্রতীক নন্দিনী, আর রঞ্জন তার প্রিয় মানুষ।
নাটকে রঞ্জন মঞ্চে প্রায় দেখাই যায় না, তবু পুরো নাটক তাকে ঘিরে আবর্তিত; শেষে রাজার হাতে তার মৃত্যু রাজাকে বিদ্রোহের পথে নিয়ে আসে। অন্য চরিত্র রাজা, বিশু পাগল, অধ্যাপক।
রবীন্দ্রনাথের নাটক চরিত্র দিয়ে মনে রাখুন: বিসর্জনে রঘুপতি, জয়সিংহ, গোবিন্দমাণিক্য; মুক্তধারায় অভিজিৎ ও ধনঞ্জয় বৈরাগী; ডাকঘরে অমল ও সুধা।
ফাঁদ মুক্তধারা, কারণ এটিও যন্ত্রসভ্যতার বিরুদ্ধে প্রতীকী নাটক। কিন্তু মুক্তধারার নায়ক অভিজিৎ, রঞ্জন নয়।
মনে রাখুন: নন্দিনী বা রঞ্জন বা যক্ষপুরী দেখলেই রক্তকরবী।
৯৪. 'তৈল' প্রবন্ধটি লিখেছেন – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কসুকুমার রায়
- খরমেশচন্দ্র মজুমদার
- গশিবনারায়ণ রায়
- ঘহরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর: ঘ. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
তৈল হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ব্যঙ্গাত্মক প্রবন্ধ। এতে তোষামোদকে তৈলমর্দন বলে কটাক্ষ করা হয়েছে; তেল দিলে সব কাজ সহজে চলে, এই বিদ্রূপই প্রবন্ধের প্রাণ।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আরও বড় কারণে স্মরণীয়: ১৯০৭ সালে তিনি নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে তা প্রকাশ করেন।
অন্য তিনজনের পরিচয়: সুকুমার রায় শিশুসাহিত্যিক, আবোল তাবোলের কবি; রমেশচন্দ্র মজুমদার ইতিহাসবিদ; শিবনারায়ণ রায় প্রাবন্ধিক ও জিজ্ঞাসা পত্রিকার সম্পাদক।
ফাঁদ সুকুমার রায়, কারণ রসরচনা শুনলেই তাঁর নাম মনে আসে। কিন্তু তৈল প্রবন্ধটি হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর।
মনে রাখুন: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী: তৈল প্রবন্ধ, চর্যাপদ আবিষ্কার ১৯০৭, প্রকাশ ১৯১৬।
৯৫. "নাম রেখেছি কোমল গান্ধার" কাব্যের রচয়িতা – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- করবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- খবিষ্ণু দে
- গঅমিয় চক্রবর্তী
- ঘপ্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর: খ. বিষ্ণু দে
নাম রেখেছি কোমল গান্ধার বিষ্ণু দে-র কাব্যগ্রন্থ, প্রকাশিত ১৯৫৩ সালে। কোমল গান্ধার সংগীতের সাত স্বরের একটি, তৃতীয় স্বর গান্ধারের কোমল রূপ, সেখান থেকেই শিরোনাম।
বিষ্ণু দে তিরিশের দশকের আধুনিক পাঁচ কবির একজন; বাকিরা জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও অমিয় চক্রবর্তী। তাঁর অন্য কাব্য উর্বশী ও আর্টেমিস, চোরাবালি; ১৯৭১ সালে তিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পান।
অন্য বিকল্পের কবিদের কাজ আলাদা। অমিয় চক্রবর্তীর কাব্য খসড়া, একমুঠো; প্রেমেন্দ্র মিত্রের কাব্য প্রথমা, সম্রাট, আর তিনি ঘনাদা চরিত্রের স্রষ্টা।
ফাঁদ রবীন্দ্রনাথ, কারণ সংগীতের পরিভাষা শুনলে তাঁর কথাই মনে আসে। কিন্তু এ শিরোনাম বিষ্ণু দে-র।
মনে রাখুন: তিরিশের পাঁচ কবি: জীবনানন্দ, সুধীন্দ্রনাথ, বুদ্ধদেব, বিষ্ণু দে, অমিয় চক্রবর্তী।
৯৬. 'ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ' -গানটির রচয়িতা – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ককাজী নজরুল ইসলাম
- খগোলাম মোস্তফা
- গজসীমউদ্দীন
- ঘআব্বাস উদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর: ক. কাজী নজরুল ইসলাম
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ গানটি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ও সুর করা। শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের অনুরোধে তিনি গানটি লেখেন।
গানটি প্রথম রেকর্ড হয় আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে, আর তারপর থেকে এটি বাংলাভাষী মুসলমানদের ঈদের প্রধান গান। নজরুল বাংলা ইসলামি গানের ধারাকে জনপ্রিয় করে তোলেন।
প্রশ্নে আব্বাসউদ্দীন নামটি থাকায় ফাঁদ তৈরি হয়। তিনি গানটির শিল্পী ও প্রেরণাদাতা, গীতিকার নন।
গোলাম মোস্তফা ও জসীমউদ্দীনও কবি হিসেবে বিখ্যাত, কিন্তু এই ঈদের গানটির রচয়িতা নন।
মনে রাখুন: এ গানের গীতিকার নজরুল, শিল্পী আব্বাসউদ্দীন; ভূমিকা গুলিয়ে ফেলবেন না।
৯৭. শামসুর রাহমানের রচিত উপন্যাস – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কপতঙ্গ পিঞ্জর
- খপ্রেম একটি লাল গোলাপ
- গরৌদ্র করোটিতে
- ঘঅদ্ভুত আঁধার এক
সঠিক উত্তর: ঘ. অদ্ভুত আঁধার এক
শামসুর রাহমান মূলত কবি, তবে কয়েকটি উপন্যাসও লিখেছেন: অক্টোপাস, অদ্ভুত আঁধার এক, নিয়ত মন্তাজ ও এলো সে অবেলায়। প্রশ্নের বিকল্পগুলোর মধ্যে উপন্যাস অদ্ভুত আঁধার এক।
শিরোনামটি জীবনানন্দ দাশের একটি বিখ্যাত পঙ্ক্তি থেকে নেওয়া, অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ। তাই নাম শুনে জীবনানন্দের কথা মনে আসতে পারে।
রৌদ্র করোটিতে শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস নয়। তাঁর অন্য বিখ্যাত কাব্য প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, বন্দী শিবির থেকে, বিধ্বস্ত নীলিমা।
ফাঁদ রৌদ্র করোটিতে, কারণ এটি সত্যিই শামসুর রাহমানের বই; কিন্তু প্রশ্ন চেয়েছে উপন্যাস। বাকি দুটি নাম তাঁর উপন্যাসের তালিকায় নেই।
মনে রাখুন: শামসুর রাহমানের উপন্যাস চারটি নাম: অক্টোপাস, অদ্ভুত আঁধার এক, নিয়ত মন্তাজ, এলো সে অবেলায়।
৯৮. সেলিম আল দীনের নাটকে অনুসৃত শিল্পতত্ত্ব – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কঅস্তিত্ববাদ
- খঅভিব্যক্তিবাদ
- গপরাবাস্তববাদ
- ঘদ্বৈতাদ্বৈতবাদ
সঠিক উত্তর: ঘ. দ্বৈতাদ্বৈতবাদ
সেলিম আল দীন বাংলা নাটকে নিজস্ব শিল্পতত্ত্ব হিসেবে দ্বৈতাদ্বৈতবাদ প্রবর্তন করেন। এতে নাটক, কবিতা, কথাসাহিত্য আর বর্ণনা আলাদা না থেকে একসঙ্গে মিশে যায়।
তিনি পশ্চিমা নাট্যরীতির বদলে বাংলার নিজস্ব কথকতা, পাঁচালি ও বর্ণনাত্মক রীতিকে আধুনিক নাটকে ফিরিয়ে আনেন। এর দৃষ্টান্ত কিত্তনখোলা, কেরামতমঙ্গল, হাতহদাই, যৈবতী কন্যার মন।
অন্য বিকল্পগুলো ইউরোপীয় শিল্পতত্ত্ব। অস্তিত্ববাদ সার্ত্র ও কামুর দর্শন, অভিব্যক্তিবাদ অন্তরের আবেগকে বিকৃত তীব্র রূপে প্রকাশের রীতি, আর পরাবাস্তববাদ অবচেতন মনের স্বপ্নময় চিত্র।
ফাঁদ পরাবাস্তববাদ বা অভিব্যক্তিবাদ, কারণ আধুনিক নাটকের আলোচনায় এগুলো প্রায়ই আসে। কিন্তু সেলিম আল দীনের নিজস্ব তত্ত্বের নাম দ্বৈতাদ্বৈতবাদ।
মনে রাখুন: সেলিম আল দীন মানেই দ্বৈতাদ্বৈতবাদ, গ্রাম থিয়েটার আর ঢাকা থিয়েটার।
৯৯. 'পৃথক পালঙ্ক' কাব্যগ্রন্থের কবি – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কআল মাহমুদ
- খরফিক আজাদ
- গআবুল হাসান
- ঘআবুল হোসেন
সঠিক উত্তর: গ. আবুল হাসান
পৃথক পালঙ্ক কবি আবুল হাসানের কাব্যগ্রন্থ। ষাটের দশকের এই কবি অল্প বয়সে মারা যান, কিন্তু নিঃসঙ্গতা আর বেদনার কাব্যভাষার জন্য স্মরণীয়।
আবুল হাসানের তিনটি কাব্যগ্রন্থ: রাজা যায় রাজা আসে, যে তুমি হরণ করো এবং পৃথক পালঙ্ক। তিনটিই প্রায়ই পরীক্ষায় আসে।
অন্য কবিদের পরিচিত কাব্য: আল মাহমুদের সোনালী কাবিন ও লোক লোকান্তর, রফিক আজাদের অসম্ভবের পায়ে, আর আবুল হোসেনের নববসন্ত।
ফাঁদ আবুল হোসেন, কারণ নাম প্রায় একই। আবুল হোসেন চল্লিশের দশকের কবি, আর পৃথক পালঙ্কের কবি আবুল হাসান।
মনে রাখুন: আবুল হাসান মানে রাজা যায় রাজা আসে, যে তুমি হরণ করো, পৃথক পালঙ্ক।
১০০. কোন গল্পকারের গল্পে ম্যাজিক রিয়েলিজমের প্রতিফলন ঘটেছে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কজ্যোতিপ্রকাশ দত্ত
- খরিজিয়া রহমান
- গশহীদুল জহির
- ঘদিলারা হাশেম
সঠিক উত্তর: গ. শহীদুল জহির
ম্যাজিক রিয়েলিজম বা জাদুবাস্তবতা হলো এমন রীতি, যেখানে বাস্তব ঘটনার ভেতরে অলৌকিক বা অবাস্তব ঘটনা স্বাভাবিকভাবে মিশে যায়। লাতিন আমেরিকার গার্সিয়া মার্কেস এ রীতির সবচেয়ে পরিচিত লেখক।
বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে এ রীতির প্রধান নাম শহীদুল জহির। তাঁর সে রাতে পূর্ণিমা ছিল উপন্যাস এবং ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প গ্রন্থে জাদুবাস্তবতার স্পষ্ট ছাপ আছে।
শহীদুল জহিরের আরেকটি পরিচিত বই জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা, যেখানে পুরান ঢাকার মানুষ আর একাত্তরের স্মৃতি ঘুরে ফিরে আসে।
রিজিয়া রহমান, দিলারা হাশেম ও জ্যোতিপ্রকাশ দত্তও গুরুত্বপূর্ণ কথাসাহিত্যিক, কিন্তু তাঁদের পরিচিতি বাস্তবধর্মী বা অন্য ধারার লেখায়, জাদুবাস্তবতায় নয়।
মনে রাখুন: বাংলা কথাসাহিত্যে জাদুবাস্তবতা বললে প্রথমে শহীদুল জহির।