বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৭
১২১. কোনটি কবি জৈনুদ্দিনের কাব্যগ্রন্থ? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- করসুল বিজয়
- খমক্কা বিজয়
- গরসুলচরিত
- ঘমক্কানামা
সঠিক উত্তর: ক. রসুল বিজয়
প্রশ্নটি মধ্যযুগের মুসলমান কবি জৈনুদ্দিনের কাব্য জানতে চেয়েছে। তাঁর কাব্যের নাম ‘রসুল বিজয়’। তিনি গৌড়ের সুলতান ইউসুফ শাহের সভাকবি ছিলেন।
রসুল বিজয় যুদ্ধবিষয়ক কাহিনিকাব্য, যেখানে রসুলের বীরত্ব ও বিজয়ের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
মধ্যযুগের মুসলমান কবিদের কাব্য জোড়ায় মনে রাখুন: শাহ মুহম্মদ সগীরের ইউসুফ-জোলেখা, দৌলত কাজীর সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী, আলাওলের পদ্মাবতী, আর জৈনুদ্দিনের রসুল বিজয়।
ফাঁদ হলো বাকি বিকল্পগুলো একই রকম শব্দ দিয়ে বানানো: রসুল, মক্কা, বিজয়। শুধু ‘রসুল’ আর ‘বিজয়’ একসঙ্গে যে নামে আছে, সেটিই জৈনুদ্দিনের।
মনে রাখুন: জৈনুদ্দিন মানেই রসুল বিজয়, আর পৃষ্ঠপোষক ইউসুফ শাহ।
১২২. 'বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ' গ্রন্থের রচয়িতা কে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কবিনয় ঘোষ
- খসুবিনয় ঘোষ
- গবিনয় ভট্টাচার্য
- ঘবিনয় বর্মণ
সঠিক উত্তর: ক. বিনয় ঘোষ
প্রশ্নটা গ্রন্থ ও লেখক মেলানোর। বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ গ্রন্থটি লিখেছেন বিনয় ঘোষ।
বিনয় ঘোষ ছিলেন বাংলার সমাজ-ইতিহাস ও সংস্কৃতির গবেষক। এই গ্রন্থে তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কাজকে উনিশ শতকের বাঙালি সমাজের পটভূমিতে বিশ্লেষণ করেছেন; বইটি কয়েক খণ্ডে প্রকাশিত।
তাঁর আরও কিছু পরিচিত বই হলো পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি, বাংলার নবজাগৃতি এবং বিদ্রোহী ডিরোজিও। তিনি কালপেঁচা ছদ্মনামেও লিখতেন।
বাকি অপশনগুলোতে নামের প্রথম অংশ বিনয় বা তার কাছাকাছি রেখে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। পুরো নাম বিনয় ঘোষ মনে রাখলেই এই ফাঁদ এড়ানো যায়।
মনে রাখুন: ‘বিনয়’ নামের অপশনের ভিড়ে পুরো নাম মেলান: বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ = বিনয় ঘোষ।
১২৩. প্রথম সাহিত্যিক গদ্যের স্রষ্টা কে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- করাজা রামমোহন রায়
- খঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- গমৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
- ঘবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: খ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
প্রশ্নটি বাংলা গদ্যের ইতিহাস নিয়ে: কে প্রথম গদ্যকে সাহিত্যের শিল্পিত রূপ দিয়েছেন। প্রচলিত উত্তর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁকে বাংলা গদ্যের জনক এবং প্রথম সার্থক গদ্যশিল্পী বলা হয়।
বিদ্যাসাগরের আগেও বাংলা গদ্য ছিল, কিন্তু তা ছিল মূলত পাঠ্যবই বা যুক্তিতর্কের গদ্য। বিদ্যাসাগর যতিচিহ্নের সার্থক ব্যবহার, বাক্যের সুষম গঠন আর ছন্দময় প্রবাহ দিয়ে গদ্যকে সাহিত্যের মর্যাদা দেন। তাঁর ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ ১৮৪৭ সালে প্রকাশিত।
অন্যদের অবদান আলাদা। মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত, ‘বত্রিশ সিংহাসন’ ১৮০২। রাজা রামমোহন রায় যুক্তিনির্ভর প্রবন্ধ ও অনুবাদে গদ্য ব্যবহার করেন, ‘বেদান্ত গ্রন্থ’ ১৮১৫। বঙ্কিমচন্দ্র এসেছেন পরে, প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’ ১৮৬৫।
ফাঁদ হলো মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে তাঁর গদ্য সবচেয়ে সাবলীল বলে তাঁর নাম মনে আসে, কিন্তু সেটি ছিল পাঠ্যবইয়ের গদ্য; গদ্যকে সাহিত্যের শিল্পরূপ দেন বিদ্যাসাগর।
মনে রাখুন: বাংলা গদ্যের জনক ও প্রথম শিল্পী বিদ্যাসাগর; যতিচিহ্নের সার্থক প্রয়োগ তাঁর হাতে।
১২৪. প্যারীচাঁদ মিত্রের 'আলালের ঘরের দুলাল' প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় কত সালে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক১৮৫৮ সালে
- খ১৯৭৮ সালে
- গ১৮৪৮ সালে
- ঘ১৮৬৮ সালে
সঠিক উত্তর: ক. ১৮৫৮ সালে
প্রশ্নটি ‘আলালের ঘরের দুলাল’ গ্রন্থাকারে প্রকাশের সাল জানতে চেয়েছে। উত্তর ১৮৫৮ সাল। লেখক প্যারীচাঁদ মিত্র, ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর।
রচনাটি আগে ‘মাসিক পত্রিকা’য় ধারাবাহিকভাবে বের হয়, তারপর ১৮৫৮ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয়। এটিকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস ধরা হয়, আর এর চলিতঘেঁষা ভাষাকে বলা হয় আলালি ভাষা।
কাছাকাছি সময়ের অন্য মাইলফলক: ১৮৬২ সালে কালীপ্রসন্ন সিংহের ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’, যার ভাষা হুতোমি ভাষা; আর ১৮৬৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘দুর্গেশনন্দিনী’, প্রথম সার্থক উপন্যাস।
ফাঁদ হলো ১৮৪৮ আর ১৮৬৮, যেগুলোতে শেষের অঙ্ক একই রেখে দশক বদলানো হয়েছে। আর ১৯৭৮ তো একশো বছরেরও বেশি পরের।
মনে রাখুন: প্রথম উপন্যাস আলাল ১৮৫৮, প্রথম সার্থক উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী ১৮৬৫।
১২৫. শচীন, দামিনী ও শ্রীবিলাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের চরিত্র? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কচতুরঙ্গ
- খচার অধ্যায়
- গনৌকাডুবি
- ঘঘরে বাইরে
সঠিক উত্তর: ক. চতুরঙ্গ
প্রশ্নটি রবীন্দ্রনাথের উপন্যাসের চরিত্র চিনতে চেয়েছে। শচীশ, দামিনী ও শ্রীবিলাস ‘চতুরঙ্গ’ উপন্যাসের চরিত্র, যা ১৯১৬ সালে প্রকাশিত। প্রশ্নে নামটি শচীন লেখা হয়েছে, উপন্যাসে চরিত্রটির নাম শচীশ।
চতুরঙ্গ চারটি অংশে বিভক্ত: জ্যাঠামশায়, শচীশ, দামিনী আর শ্রীবিলাস। কাহিনি বর্ণনা করে শ্রীবিলাস, তার বন্ধু শচীশের আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান আর বিধবা দামিনীর জীবন নিয়ে।
রবীন্দ্রনাথের অন্য উপন্যাসের চরিত্রও মনে রাখুন। চার অধ্যায়ে এলা ও অতীন, নৌকাডুবিতে রমেশ, কমলা ও হেমনলিনী, ঘরে বাইরেতে নিখিলেশ, বিমলা ও সন্দীপ।
চার অধ্যায় নামটি চতুরঙ্গের চার অংশের সঙ্গে মিলে যায় বলে এটিই প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: চতুরঙ্গের চার অংশের নামই চার চরিত্র: জ্যাঠামশায়, শচীশ, দামিনী, শ্রীবিলাস।
১২৬. 'তুমি মা কল্পতরু, আমরা সব পোষাগরু'- এই কবিতাংশটির রচয়িতা কে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- করঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
- খঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- গহেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
- ঘঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর: ঘ. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
প্রশ্নের পঙ্ক্তিটি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের লেখা। তিনি ব্যঙ্গ ও কৌতুকের কবিতার জন্য বিখ্যাত, আর মা কল্পতরু আর পোষা গরুর এই তুলনায় সেই চেনা ব্যঙ্গের সুরই শোনা যায়।
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার সম্পাদক। তাঁকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়, কারণ তাঁর কবিতায় মধ্যযুগের রীতি আর আধুনিক যুগের বিষয় দুটোই আছে। তাঁর আরেকটি বিখ্যাত পঙ্ক্তি: কতরূপ স্নেহ করি, দেশের কুকুর ধরি, বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া।
বাকি কবিদের পরিচয় আলাদা। রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’, যার বিখ্যাত চরণ ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে’। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহাকাব্য ‘বৃত্রসংহার’। আর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর গদ্যকার হিসেবে বিখ্যাত, কবি হিসেবে নন।
ফাঁদ হলো দুই ঈশ্বরচন্দ্র। একই নামের কারণে বিদ্যাসাগর আর গুপ্ত গুলিয়ে যায়; কবিতা মানে গুপ্ত, গদ্য মানে বিদ্যাসাগর।
মনে রাখুন: দুই ঈশ্বরচন্দ্র: কবিতায় গুপ্ত, গদ্যে বিদ্যাসাগর।
১২৭. মীর মশাররফ হোসেনের কোন গ্রন্থের উপজীব্য হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কগো-জীবন
- খইসলামের জয়
- গএর উপায় কী
- ঘবসন্তকুমারী নাটক
সঠিক উত্তর: ক. গো-জীবন
প্রশ্নটি মীর মশাররফ হোসেনের কোন রচনার বিষয় হিন্দু ও মুসলমানের বিরোধ, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর ‘গো-জীবন’, ১৮৮৯ সালে প্রকাশিত প্রবন্ধ।
গো-জীবনে তিনি গরু কোরবানি ও গোহত্যা নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের বিরোধের প্রসঙ্গে সম্প্রীতির পক্ষে মত দেন। এই অবস্থানের কারণে তিনি নিজ সমাজের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন।
মীর মশাররফ হোসেনের অন্য রচনাগুলোর বিষয় আলাদা। ‘বসন্তকুমারী নাটক’ তাঁর প্রথম নাটক, ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত। ‘এর উপায় কি’ একটি প্রহসন; বিকল্পে নামটি ‘এর উপায় কী’ ছাপা, মূল নামে ‘কি’। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা কারবালার কাহিনি নিয়ে উপন্যাস ‘বিষাদ-সিন্ধু’।
ফাঁদ হলো ‘ইসলামের জয়’। নাম দেখে ধর্মীয় বিরোধের বই মনে হতে পারে, কিন্তু হিন্দু ও মুসলমানের বিরোধ নিয়ে তাঁর আলোচিত রচনা গো-জীবন।
মনে রাখুন: গরু নিয়ে বিরোধ, তাই গো-জীবন।
১২৮. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত বয়সে ছোটগল্পকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক১০ বছর
- খ১২ বছর
- গ১৪ বছর
- ঘ১৬ বছর
সঠিক উত্তর: ঘ. ১৬ বছর
প্রশ্নটি রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পকার জীবনের সূচনা নিয়ে। তাঁর প্রথম ছোটগল্প ভিখারিণী, যা ১৮৭৭ সালে ভারতী পত্রিকায় ছাপা হয়।
রবীন্দ্রনাথের জন্ম ১৮৬১ সালে। তাই ১৮৭৭ সালে তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর; এই বয়সেই ছোটগল্পকার হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ।
এ ধরনের প্রশ্নে দুটি সাল মনে রাখলেই চলে: জন্মসাল আর প্রথম গল্প প্রকাশের সাল। বিয়োগ করলেই বয়স বেরিয়ে আসে।
বাকি বয়সগুলো কোনো গল্প প্রকাশের সালের সঙ্গে মেলে না; ১০, ১২ বা ১৪ বছর বয়সে তাঁর কোনো ছোটগল্প ছাপা হয়নি।
মনে রাখুন: ভিখারিণী ১৮৭৭, জন্ম ১৮৬১; বিয়োগ করলেই ১৬।
১২৯. নিচের কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পগ্রন্থ নয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কইছামতি
- খমেঘমল্লার
- গমৌরিফুল
- ঘযাত্রাবদল
সঠিক উত্তর: ক. ইছামতি
প্রশ্নটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস আর গল্পগ্রন্থ আলাদা করতে বলছে। ইছামতী তাঁর উপন্যাস, গল্পগ্রন্থ নয়; এর জন্য তিনি মৃত্যুর পর রবীন্দ্র পুরস্কার পান।
মেঘমল্লার, মৌরীফুল ও যাত্রাবদল তিনটিই তাঁর ছোটগল্পের সংকলন। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলো পথের পাঁচালী, অপরাজিত, আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল ও ইছামতী।
মনে রাখার উপায়: উপন্যাসের ছোট তালিকাটি মুখস্থ রাখলে বাকি নামগুলো সহজেই গল্পগ্রন্থ হিসেবে আলাদা হয়ে যায়। ইছামতী একটি নদীর নাম, আর উপন্যাসটিও ইছামতী নদীতীরের গ্রামজীবন নিয়ে লেখা।
সঠিক বানান ইছামতী, শেষে দীর্ঘ ঈ-কার। মেঘমল্লার একটি রাগের নাম বলে অনেকে একে উপন্যাস ভেবে ভুল করেন, কিন্তু এটি গল্পগ্রন্থ।
মনে রাখুন: বিভূতিভূষণের উপন্যাস: পথের পাঁচালী, অপরাজিত, আরণ্যক, ইছামতী, আদর্শ হিন্দু হোটেল; বাকিগুলো সাধারণত গল্পগ্রন্থ।
১৩০. 'আমার পথ' প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কযুগ-বাণী
- খরুদ্র-মঙ্গল
- গদুর্দিনের যাত্রী
- ঘরাজবন্দির জবানবন্দি
সঠিক উত্তর: খ. রুদ্র-মঙ্গল
প্রশ্নটি নজরুলের একটি প্রবন্ধের উৎসগ্রন্থ জানতে চেয়েছে। আমার পথ প্রবন্ধটি তাঁর রুদ্র-মঙ্গল প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
এ প্রবন্ধে নজরুল বলেন, তাঁর পথ দেখাবে তাঁর নিজের সত্য; অন্যের অনুকরণ নয়, আত্মবিশ্বাস আর সত্যনিষ্ঠাই মানুষকে এগিয়ে নেয়।
নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থ চারটি নাম একসঙ্গে মনে রাখুন: যুগবাণী, রাজবন্দীর জবানবন্দী, দুর্দিনের যাত্রী ও রুদ্র-মঙ্গল। এর মধ্যে যুগবাণী ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
ফাঁদ হলো চারটি বিকল্পই নজরুলের গদ্যরচনা। তাই শুধু লেখক চিনলে হবে না, কোন প্রবন্ধ কোন বইয়ে আছে সেটা জানতে হবে।
মনে রাখুন: আমার পথ মানেই রুদ্র-মঙ্গল; প্রবন্ধটি পাঠ্যবইয়েও আছে।
১৩১. 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে মোতাহের হোসেন চৌধুরী কাকে তপোবন-প্রেমিক বলেছেন? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কবিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে
- খজসীম উদ্দীনকে
- গরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
- ঘশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে
সঠিক উত্তর: গ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
প্রশ্নটা মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রবন্ধ জীবন ও বৃক্ষ থেকে। প্রবন্ধটি তাঁর সংস্কৃতি কথা গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত, আর এতে বৃক্ষকে মানুষের বিকশিত জীবনের প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এই প্রবন্ধে লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে তপোবন-প্রেমিক বলেছেন। তপোবন মানে প্রাচীন ভারতের ঋষিদের বনের আশ্রম, যেখানে প্রকৃতির মাঝে সাধনা ও শিক্ষা চলত।
রবীন্দ্রনাথ এই তপোবনের আদর্শে শান্তিনিকেতনে খোলা প্রকৃতির মাঝে শিক্ষার আয়োজন করেছিলেন, আর বৃক্ষ নিয়ে তাঁর বহু লেখা আছে। তাই এই বিশেষণ তাঁর জন্যই মানানসই।
ফাঁদ হলো বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অরণ্য আর প্রকৃতি নিয়ে লেখার জন্য তাঁকে মনে পড়তে পারে, কিন্তু এই প্রবন্ধে তপোবন-প্রেমিক বলা হয়েছে রবীন্দ্রনাথকে।
মনে রাখুন: তপোবন শব্দ দেখলেই শান্তিনিকেতন আর রবীন্দ্রনাথের কথা ভাবুন।
১৩২. 'আমি যখন জেলে যাই তখন ওর বয়স মাত্র কয়েক মাস।'- এখানে 'ওর' বলতে শেখ মুজিবুর রহমান কাকে বুঝিয়েছেন? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কশেখ নাসেরকে
- খশেখ কামালকে
- গশেখ হাসিনাকে
- ঘশেখ রেহেনাকে
সঠিক উত্তর: খ. শেখ কামালকে
উদ্ধৃতিটি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ছোট্ট কামাল তাঁকে চিনত না, হাসিনাকে বলেছিল তোমার আব্বাকে আমি একটু আব্বা বলি।
এর কারণ, শেখ কামালের জন্ম ১৯৪৯ সালে, আর তাঁর বয়স যখন মাত্র কয়েক মাস, তখনই বঙ্গবন্ধু কারাগারে যান এবং দীর্ঘদিন বন্দি থাকেন। তাই এখানে ওর বলতে শেখ কামালকে বোঝানো হয়েছে।
শেখ হাসিনার জন্ম ১৯৪৭ সালে, তিনি তখন বাবাকে চিনতেন ও আব্বা বলে ডাকতেন। শেখ রেহানার জন্ম ১৯৫৫ সালে, ঘটনাটির অনেক পরে।
শেখ নাসের বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই, সন্তান নন; তাই তাঁর বয়স কয়েক মাস হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
মনে রাখুন: জন্মসাল মিলিয়ে দেখুন: জেলে যাওয়ার সময় যিনি কয়েক মাসের শিশু, তিনিই উত্তর।
১৩৩. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস জন্মগ্রহণ করেন কোথায়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কগাইবান্ধায়
- খবগুড়ায়
- গঢাকায়
- ঘসিরাজগঞ্জে
সঠিক উত্তর: ক. গাইবান্ধায়
প্রশ্নটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের জন্মস্থান জানতে চেয়েছে। তিনি ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পৈতৃক বাড়ি বগুড়ায়। জন্মস্থান আর পৈতৃক নিবাস আলাদা হওয়ায় এই প্রশ্নে ভুলের সুযোগ বেশি।
ইলিয়াসের দুটি উপন্যাসই বিখ্যাত: চিলেকোঠার সেপাই, যার পটভূমি উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, আর খোয়াবনামা। তাঁর গল্পগ্রন্থের মধ্যে অন্য ঘরে অন্য স্বর ও দুধভাতে উৎপাত পরিচিত।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ বগুড়া, কারণ সেটি তাঁর পৈতৃক নিবাস। ঢাকায় তিনি শিক্ষকতা করেছেন ও জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন, কিন্তু জন্ম সেখানে নয়।
মনে রাখুন: জন্মস্থানের প্রশ্নে পৈতৃক বাড়ি আর মামাবাড়ি গুলিয়ে ফেলবেন না; ইলিয়াসের জন্ম মামাবাড়ি গাইবান্ধায়।
১৩৪. মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তিত 'অমিত্রাক্ষর ছন্দ' প্রকৃত পক্ষে বাংলা কোন ছন্দের নব-রূপায়ণ? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কস্বরবৃত্ত ছন্দ
- খঅক্ষরবৃত্ত ছন্দ
- গমাত্রাবৃত্ত ছন্দ
- ঘগৈরিশ ছন্দ
সঠিক উত্তর: খ. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
প্রশ্নটি মধুসূদনের অমিত্রাক্ষর ছন্দের ভিত্তি জানতে চেয়েছে। অমিত্রাক্ষর আসলে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের, বিশেষ করে চৌদ্দ মাত্রার পয়ারের, নতুন রূপ।
পয়ারে দুই চরণের শেষে মিল থাকে এবং চরণের শেষে ভাবও থামে। মধুসূদন মাত্রার কাঠামো একই রেখে অন্ত্যমিল তুলে দেন, আর ভাবকে এক চরণ থেকে পরের চরণে প্রবাহিত হতে দেন; একে বলে প্রবহমানতা।
পূর্ণাঙ্গ কাব্যে তিনি প্রথম এ ছন্দ ব্যবহার করেন তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যে, আর পূর্ণতা দেন মেঘনাদবধ কাব্যে। তাই অমিত্রাক্ষর মানে মিলহীন, প্রবহমান অক্ষরবৃত্ত।
গৈরিশ ছন্দ দেখে অনেকে বিভ্রান্ত হন। এটি গিরিশচন্দ্র ঘোষের নাটকের ভাঙা অমিত্রাক্ষর, যা নিজেই অমিত্রাক্ষর থেকে এসেছে; উৎস নয়, উত্তরসূরি।
মনে রাখুন: অমিত্রাক্ষর = অক্ষরবৃত্ত পয়ার − অন্ত্যমিল + প্রবহমানতা।
১৩৫. 'বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কসৈয়দ শামসুল হক
- খশামসুর রাহমান
- গহাসান হাফিজুর রহমান
- ঘআহসান হাবীব
সঠিক উত্তর: খ. শামসুর রাহমান
প্রশ্নটা বাংলাদেশের আধুনিক কবিতার প্রধান কবিদের কাব্যগ্রন্থ চেনা যাচাই করছে। ‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়’ শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ।
শামসুর রাহমান স্বাধীনতা ও দেশপ্রেমের কবি হিসেবে পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের সময় লেখা ‘বন্দী শিবির থেকে’ তাঁর আরেকটি বিখ্যাত কাব্য, আর ‘স্বাধীনতা তুমি’ তাঁর বিখ্যাত কবিতা।
নামের মধ্যে বাংলাদেশ ও হৃদয়ের কথা থাকায় মনে রাখতে পারেন, দেশকে নিয়ে শামসুর রাহমানের কবিতার ধারার সঙ্গে এটি মেলে।
ফাঁদ হলো সৈয়দ শামসুল হক, কারণ দুই নামেই ‘শামসু’ অংশ আছে। সৈয়দ শামসুল হকের বিখ্যাত কাব্য ‘পরাণের গহীন ভিতর’।
১৩৬. 'দুর্দিনের দিনলিপি' স্মৃতিগ্ৰন্থটি কার লেখা? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কআবুল ফজল
- খআবদুল কাদির
- গজাহানারা ইমাম
- ঘমুশতারি শফী
সঠিক উত্তর: ক. আবুল ফজল
দুর্দিনের দিনলিপি আবুল ফজলের লেখা, ১৯৭২ সালে প্রকাশিত। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তিনি যে দিনলিপি রেখেছিলেন, এটি তারই গ্রন্থরূপ।
আবুল ফজল প্রাবন্ধিক ও কথাসাহিত্যিক; পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হন। তাঁর অন্য বই চৌচির, রাঙা প্রভাত, রেখাচিত্র ও মাটির পৃথিবী।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিগ্রন্থের প্রশ্নে বই আর লেখক একসঙ্গে মনে রাখুন। জাহানারা ইমামের বই একাত্তরের দিনগুলি, মুশতারী শফীর বই স্বাধীনতা আমার রক্তঝরা দিন।
ফাঁদ জাহানারা ইমাম, কারণ তাঁর বইও দিনলিপি ধাঁচের। কিন্তু দুর্দিনের দিনলিপি নামটি আবুল ফজলের।
মনে রাখুন: দুর্দিনের দিনলিপি আবুল ফজল, একাত্তরের দিনগুলি জাহানারা ইমাম।
১৩৭. ‘আনোয়ারা’ উপন্যাসের রচয়িতার নাম- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কসৈয়দ মুজতবা আলী
- খকাজী আবদুল ওদুদ
- গনজিবর রহমান
- ঘরোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
সঠিক উত্তর: গ. নজিবর রহমান
প্রশ্নটি ‘আনোয়ারা’ উপন্যাসের লেখক জানতে চেয়েছে। উপন্যাসটি নজিবর রহমানের লেখা, প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে। তাঁকে ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধিতে ডাকা হয়।
আনোয়ারা বাঙালি মুসলমান সমাজের পারিবারিক জীবন নিয়ে লেখা সামাজিক উপন্যাস, এবং প্রকাশের পর এটি বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। নজিবর রহমানের আরেকটি পরিচিত উপন্যাস ‘গরীবের মেয়ে’।
বিকল্পের বাকি তিনজনও উপন্যাস লিখেছেন, তাই শুধু ‘ঔপন্যাসিক কে’ ভেবে উত্তর দেওয়া যাবে না। সৈয়দ মুজতবা আলীর উপন্যাস ‘শবনম’, কাজী আবদুল ওদুদের ‘নদীবক্ষে’, বেগম রোকেয়ার ‘পদ্মরাগ’।
ফাঁদ হলো রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন। আনোয়ারা নারীর নামে উপন্যাস হওয়ায় অনেকে নারী লেখক ধরে নেন।
মনে রাখুন: আনোয়ারা আর গরীবের মেয়ে: দুটিই সাহিত্যরত্ন নজিবর রহমানের।
১৩৮. ধ্বনি-পরিবর্তনের নিয়মে কোনটি বর্ণ-বিপর্যয়-এর দৃষ্টান্ত? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- করতন
- খকবাট
- গপিচাশ
- ঘমুলুক
সঠিক উত্তর: গ. পিচাশ
প্রশ্নটি ধ্বনি পরিবর্তনের একটি নিয়ম, বর্ণ বিপর্যয় চিনতে চেয়েছে। শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি পরস্পর জায়গা বদল করলে তাকে বর্ণ বিপর্যয় বা ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
মূল শব্দ পিশাচ। এতে প্রথমে শ, পরে চ। মুখের ভাষায় দুটির জায়গা বদলে হয়েছে পিচাশ। কোনো ধ্বনি যোগ হয়নি, বাদও পড়েনি, শুধু স্থান বদল হয়েছে।
একই নিয়মের আরও উদাহরণ: রিকশা থেকে রিসকা, বাক্স থেকে বাস্ক, লাফ থেকে ফাল।
অন্য বিকল্পগুলো ভিন্ন নিয়মের। রত্ন থেকে রতন আর মুল্ক থেকে মুলুক হয়েছে মাঝখানে স্বর ঢুকে, যাকে বলে মধ্যস্বরাগম বা স্বরভক্তি। কপাট আর কবাট রূপে একটি ব্যঞ্জনের জায়গায় অন্য ব্যঞ্জন এসেছে, যা ব্যঞ্জন বিকৃতি।
মনে রাখুন: পরিবর্তিত রূপে মূল শব্দের সব ধ্বনিই আছে, শুধু ক্রম উল্টে গেছে? তাহলে বর্ণ বিপর্যয়।
১৩৯. নিচের কোনটি ‘অগ্নি’র সমার্থক শব্দ নয়? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কবহ্নি
- খআবীর
- গবায়ুসখা
- ঘবৈশ্বানর
সঠিক উত্তর: খ. আবীর
প্রশ্নটি অগ্নির সমার্থক শব্দ চিনতে চেয়েছে, এবং যেটি সমার্থক নয় সেটিই উত্তর।
বহ্নি অর্থ আগুন। বায়ুসখা মানে বাতাসের বন্ধু; বাতাস আগুনকে বাড়িয়ে তোলে বলে আগুনের এই নাম। বৈশ্বানর হলো পুরাণে অগ্নিদেবের একটি নাম। তিনটিই অগ্নির প্রতিশব্দ।
আবির হলো রঙিন গুঁড়া, যা ফাগ নামেও পরিচিত এবং হোলি উৎসবে ছোড়া হয়। এর লাল রং আগুনের কথা মনে করালেও এটি অগ্নির সমার্থক নয়।
অগ্নির আরও কিছু প্রতিশব্দ পরীক্ষায় আসে: অনল, পাবক, হুতাশন, কৃশানু, দহন। অচেনা শব্দ দেখে ভয় না পেয়ে চেনা অর্থের শব্দটি যাচাই করাই কৌশল।
মনে রাখুন: অগ্নির প্রতিশব্দ: অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, কৃশানু, বৈশ্বানর, বায়ুসখা।
১৪০. ‘দেশের যত নদীর ধারা জল না, ওরা অশ্রুধারা’ – এই উক্তিটি নিচের কোন পারিভাষিক অলংকার দ্বারা শোভিত? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কঅপহৃতি
- খযমক
- গঅর্থোন্নতি
- ঘঅভিযোজন
সঠিক উত্তর: ক. অপহৃতি
প্রশ্নটি অর্থালংকার চিনতে চেয়েছে। উপমেয়কে অস্বীকার করে তার জায়গায় উপমানকে প্রতিষ্ঠা করলে সেই অলংকারকে বলে অপহ্নুতি। শব্দটির অর্থই হলো গোপন করা বা অস্বীকার করা। প্রশ্নপত্রের বিকল্পে বানানটি ছাপা হয়েছে অপহৃতি, তবে শুদ্ধ বানান অপহ্নুতি।
চরণে উপমেয় হলো নদীর ধারা। কবি বলছেন এটি জল না, অর্থাৎ নদীর আসল পরিচয়কে অস্বীকার করছেন, এবং বলছেন ওরা অশ্রুধারা, অর্থাৎ উপমানকে প্রতিষ্ঠা করছেন। এই অস্বীকার আর প্রতিষ্ঠা মিলেই অপহ্নুতি।
চেনার কৌশল: চরণে ‘নয়’, ‘না’, ‘নহে’ দিয়ে কোনো কিছু অস্বীকার করে তার বদলে অন্য কিছু বলা হলে অপহ্নুতি খুঁজুন। উপমায় তুলনা হয়, রূপকে অভেদ কল্পনা হয়, আর অপহ্নুতিতে আগে অস্বীকার থাকে।
যমক শব্দালংকার, যেখানে একই শব্দ বারবার এসে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ দেয়। অর্থোন্নতি আর অভিযোজন অলংকারই নয়।
মনে রাখুন: চরণে ‘না’ বা ‘নয়’ দিয়ে আসলটাকে বাতিল করে অন্য কিছু বসালে অপহ্নুতি।