বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৬
১০১. "একুশ মানে মাথা নত না করা" – এই অমর পঙ্ক্তির রচয়িতা – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কআবদুল গাফফার চৌধুরী
- খআবুল ফজল
- গমুনীর চৌধুরী
- ঘসিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর: খ. আবুল ফজল
একুশ মানে মাথা নত না করা, এই অমর উক্তির রচয়িতা আবুল ফজল। ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে তিনি এক বাক্যে বেঁধেছেন: অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করাই একুশের শিক্ষা।
আবুল ফজল চট্টগ্রামের প্রাবন্ধিক ও কথাসাহিত্যিক, পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। মুক্তবুদ্ধি ও মানবতাবাদী চিন্তার জন্য তিনি পরিচিত।
একুশ নিয়ে অন্য অমর সৃষ্টির সঙ্গে মিলিয়ে রাখুন: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি গানটি আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর, আর কবর নাটক মুনীর চৌধুরীর, কারাগারে বসে লেখা।
ফাঁদ আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, কারণ একুশের সবচেয়ে পরিচিত পঙ্ক্তিটি তাঁর। কিন্তু এই উক্তিটি আবুল ফজলের।
মনে রাখুন: একুশের গান গাফ্ফার চৌধুরী, নাটক মুনীর চৌধুরী, মাথা নত না করা আবুল ফজল।
১০২. 'ধ্বনি' সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কধ্বনি দৃশ্যমান
- খমানুষের ভাষার মূলে আছে কতগুলো ধ্বনি
- গধ্বনি উচ্চারণীয় ও শ্রবণীয়
- ঘঅর্থবোধক ধ্বনিগুলোই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাগ্ধ্বনি
সঠিক উত্তর: ক. ধ্বনি দৃশ্যমান
প্রশ্নটি ধ্বনির মৌলিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে, আর খুঁজছে যে কথাটি সঠিক নয়। ধ্বনি হলো মানুষের বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত আওয়াজ, যা কান দিয়ে শোনা যায়।
ধ্বনি শোনার জিনিস, দেখার নয়। ধ্বনিকে চোখে দেখার উপযোগী করে লিখে রাখার জন্য যে চিহ্ন ব্যবহার হয়, তার নাম বর্ণ। তাই ধ্বনি দৃশ্যমান কথাটি ভুল; দৃশ্যমান হলো বর্ণ।
বাকি কথাগুলো ঠিক। কতগুলো ধ্বনিই মানুষের ভাষার মূল উপাদান। ধ্বনি উচ্চারণ করা যায় এবং শোনা যায়। আর যে ধ্বনিগুলো অর্থ বহন করে, সেগুলোই কোনো ভাষার বাগ্ধ্বনি।
মনে রাখুন: ধ্বনি কানের, বর্ণ চোখের। এই একটি পার্থক্য দিয়েই এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর মেলে।
মনে রাখুন: ধ্বনি কানের, বর্ণ চোখের।
১০৩. স্বরান্ত অক্ষরকে কী বলে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কএকাক্ষর
- খমুক্তাক্ষর
- গবদ্ধাক্ষর
- ঘযুক্তাক্ষর
সঠিক উত্তর: খ. মুক্তাক্ষর
প্রশ্নটি অক্ষরের প্রকারভেদ নিয়ে। এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত ধ্বনিগুচ্ছকে অক্ষর বা দল বলে। অক্ষরের শেষে কোন ধ্বনি আছে, তার উপর নির্ভর করে অক্ষর দুই প্রকার।
যে অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকে, তাকে মুক্তাক্ষর বা স্বরান্ত অক্ষর বলে। যেমন বা, কি, মা: শেষে আ বা ই স্বর আছে, উচ্চারণ খোলা থাকে।
যে অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকে, তাকে বদ্ধাক্ষর বা ব্যঞ্জনান্ত অক্ষর বলে। যেমন কাল্, মন্, হাত্: শেষে ব্যঞ্জনে উচ্চারণ বন্ধ হয়ে যায়।
ফাঁদ হলো একাক্ষর আর যুক্তাক্ষর। একাক্ষর মানে এক অক্ষরের শব্দ, আর যুক্তাক্ষর মানে যুক্তবর্ণ; দুটির কোনোটিই স্বরান্ত হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
মনে রাখুন: স্বরান্ত মানে মুক্ত, ব্যঞ্জনান্ত মানে বদ্ধ।
১০৪. শুদ্ধ বানানের গুচ্ছ কোনটি? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কশিরশ্ছেদ, দরিদ্রতা, সমীচীন
- খশিরোশ্ছেদ, দারিদ্র্য, সমীচিন
- গশিরঃশ্ছেদ, দরিদ্রতা, সমিচীন
- ঘশিরচ্ছেদ, দরিদ্রতা, সমীচীন
সঠিক উত্তর: ক. শিরশ্ছেদ, দরিদ্রতা, সমীচীন
প্রশ্নটি তিনটি শব্দের গুচ্ছ থেকে পুরো শুদ্ধ গুচ্ছ খুঁজছে। এমন প্রশ্নে প্রতিটি গুচ্ছের একটি ভুলই যথেষ্ট সেটিকে বাদ দিতে।
শিরশ্ছেদ এসেছে শিরঃ আর ছেদ থেকে। বিসর্গের পরে ছ থাকলে বিসর্গ বদলে শ হয়, তাই শুদ্ধ রূপ শিরশ্ছেদ। শিরোশ্ছেদ, শিরঃশ্ছেদ বা শিরচ্ছেদ সবই ভুল।
সমীচীন শব্দে দুটি ঈ-কারই দীর্ঘ। আর দরিদ্র শব্দের সঙ্গে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে দরিদ্রতা, এটি শুদ্ধ; দারিদ্র্য শব্দটিও শুদ্ধ। ভুল হয় দুটি প্রত্যয় একসঙ্গে বসালে, যেমন দারিদ্র্যতা।
তাই শিরশ্ছেদ, দরিদ্রতা, সমীচীন গুচ্ছটিই পুরোপুরি শুদ্ধ। ফাঁদ হলো দ্বিতীয় গুচ্ছের দারিদ্র্য শব্দটি শুদ্ধ দেখে পুরো গুচ্ছকে শুদ্ধ ভেবে নেওয়া।
মনে রাখুন: বিসর্গের পরে চ বা ছ এলে বিসর্গ হয় শ: শিরশ্ছেদ, নিশ্চয়, দুশ্চিন্তা, নিশ্চুপ।
১০৫. আরবি 'কলম' শব্দটি 'কলমোস' শব্দ থেকে এসেছে। 'কলমোস' কোন ভাষার শব্দ? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কপাঞ্জাবি
- খফরাসি
- গগ্রিক
- ঘস্পেনিশ
সঠিক উত্তর: গ. গ্রিক
প্রশ্নটি একটি শব্দের দীর্ঘ যাত্রাপথ নিয়ে। বাংলায় কলম শব্দটি এসেছে আরবি কলম থেকে, আর আরবি শব্দটির মূল গ্রিক কালামোস, যার অর্থ নলখাগড়া বা নলের কলম।
প্রাচীনকালে নলখাগড়া কেটে লেখার কলম বানানো হতো, তাই গাছের নামই লেখার উপকরণের নাম হয়ে যায়। গ্রিক থেকে শব্দটি আরবিতে যায়, তারপর ফারসি হয়ে বাংলায় আসে।
বাংলায় এমন আরও কিছু শব্দ আছে যাদের মূল গ্রিক বলে পরীক্ষায় আসে, যেমন দাম, কেন্দ্র ও সুড়ঙ্গ।
ফাঁদ হলো ফরাসি। ফারসি আর ফরাসি নাম কাছাকাছি, আর কলম শব্দটি ফারসির পথ ধরেও এসেছে; কিন্তু ফরাসি একটি ইউরোপীয় ভাষা, এর সঙ্গে কালামোসের সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: নলখাগড়ার কলম: গ্রিক কালামোস থেকে আরবি হয়ে বাংলায়।
১০৬. 'ভাষা চিন্তার শুধু বাহনই নয়, চিন্তার প্রসূতিও।' মন্তব্যটি কোন ভাষা-চিন্তকের? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কসুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
- খমুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
- গমুহম্মদ এনামুল হক
- ঘসুকুমার সেন
সঠিক উত্তর: ঘ. সুকুমার সেন
প্রশ্নটি ভাষা আর চিন্তার সম্পর্ক নিয়ে একটি বিখ্যাত মন্তব্যের বক্তা জানতে চেয়েছে। প্রচলিত উত্তর অনুযায়ী মন্তব্যটি ভাষাবিদ সুকুমার সেনের।
মন্তব্যটির অর্থ হলো, ভাষা কেবল মনের চিন্তা বয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যম নয়; ভাষার মধ্য দিয়েই নতুন চিন্তা জন্ম নেয় ও আকার পায়। বাহন মানে যা বহন করে, আর প্রসূতি মানে যে জন্ম দেয়।
চারজনই বড় ভাষাবিদ, তাই তাঁদের প্রধান কাজ আলাদা করে মনে রাখা জরুরি। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশ নিয়ে ইংরেজিতে লেখা গবেষণা। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ লিখেছেন ‘বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত’। মুহম্মদ এনামুল হক লিখেছেন ‘মুসলিম বাংলা সাহিত্য’। সুকুমার সেনের গ্রন্থ ‘ভাষার ইতিবৃত্ত’ আর ‘বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস’।
ফাঁদ হলো মুহম্মদ এনামুল হক বা শহীদুল্লাহ্, কারণ দুজনেই ভাষা নিয়ে বহু দার্শনিক মন্তব্য করেছেন।
মনে রাখুন: ভাষা চিন্তার বাহন ও প্রসূতি: প্রচলিত উত্তর সুকুমার সেন।
১০৭. সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন কে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কমানোএল দ্য আস্সুম্পসাঁও
- খরাজা রামমোহন রায়
- গরামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী
- ঘনাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
সঠিক উত্তর: ক. মানোএল দ্য আস্সুম্পসাঁও
প্রশ্নটি প্রথম বাংলা ব্যাকরণের রচয়িতা জানতে চেয়েছে। উত্তর পর্তুগিজ ধর্মযাজক মানোএল দা আসসুম্পসাঁও। তাঁর বাংলা ও পর্তুগিজ শব্দকোষ ১৭৪৩ সালে লিসবন থেকে প্রকাশিত হয়, আর এর প্রথম অংশে বাংলা ব্যাকরণের সংক্ষিপ্ত রূপ ছিল।
বইটি পর্তুগিজ ভাষায়, রোমান হরফে ছাপা। তাই একে প্রথম বাংলা ব্যাকরণ বলা হলেও এতে বাংলা হরফ নেই।
পরের ধাপগুলোও পরীক্ষায় আসে। ১৭৭৮ সালে নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন, যেখানে প্রথম বাংলা হরফ ছাপা হয়। ১৮৩৩ সালে রাজা রামমোহন রায় বাংলা ভাষায় লেখেন ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’।
ফাঁদ হলো হ্যালহেড, কারণ বাংলা হরফে ছাপা প্রথম ব্যাকরণ তাঁর। কিন্তু সর্বপ্রথম ব্যাকরণ মানোএলের।
মনে রাখুন: প্রথম ব্যাকরণ মানোএল ১৭৪৩; বাংলা হরফে প্রথম হ্যালহেড ১৭৭৮; বাংলায় লেখা প্রথম রামমোহন ১৮৩৩।
১০৮. উচ্চারণের রীতি অনুযায়ী নিচের কোনটি উচ্চমধ্য-সম্মুখ স্বরধ্বনি? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কঅ
- খআ
- গও
- ঘএ
সঠিক উত্তর: ঘ. এ
স্বরধ্বনির শ্রেণিবিভাগ হয় দুটো মাপে: জিভ মুখের ভেতরে কতটা উঁচুতে ওঠে, আর জিভের কোন অংশ, সামনের না পেছনের, উচ্চারণে কাজ করে। উচ্চতার দিক থেকে চার ধাপ: উচ্চ, উচ্চমধ্য, নিম্নমধ্য, নিম্ন।
সম্মুখ স্বর তিনটি: ই, এ আর অ্যা। ই উচ্চারণে জিভ সবচেয়ে উঁচুতে, তাই উচ্চ-সম্মুখ। এ উচ্চারণে জিভ একটু নামে, তাই উচ্চমধ্য-সম্মুখ। অ্যা-তে আরো নামে, তাই নিম্নমধ্য-সম্মুখ।
পশ্চাৎ স্বর তিনটি: উ উচ্চ-পশ্চাৎ, ও উচ্চমধ্য-পশ্চাৎ, অ নিম্নমধ্য-পশ্চাৎ। আর আ উচ্চারণে জিভ সবচেয়ে নিচে, মাঝ বরাবর থাকে, তাই আ নিম্ন এবং কেন্দ্রীয় স্বর।
ফাঁদ হলো ও। ও-ও উচ্চমধ্য, কিন্তু এটা জিভের পেছনের অংশে উচ্চারিত, তাই পশ্চাৎ স্বর। এ আর ও একই উচ্চতার জোড়া: এ সামনে, ও পেছনে।
মনে রাখুন: জোড়া মনে রাখুন: ই-উ (উচ্চ), এ-ও (উচ্চমধ্য), অ্যা-অ (নিম্নমধ্য); প্রথমটি সম্মুখ, দ্বিতীয়টি পশ্চাৎ; আ একা নিম্ন।
১০৯. 'তাম্বুলিক' শব্দের সমার্থক নয় কোনটি? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কপান-ব্যবসায়ী
- খপর্ণকার
- গতামসিক
- ঘবারুই
সঠিক উত্তর: গ. তামসিক
প্রশ্নটি তাম্বুলিক শব্দের সমার্থক নয় এমন শব্দ খুঁজছে। তাম্বুল মানে পান, আর তাম্বুলিক মানে পান-ব্যবসায়ী বা পান উৎপাদক।
পর্ণকার আর বারুই দুটিই পানের সঙ্গে যুক্ত পেশার নাম। পর্ণ মানে পাতা, এখানে পানপাতা; বারুই হলো পানচাষি সম্প্রদায়। তাই এগুলো তাম্বুলিকের সমার্থক।
তামসিক শব্দ এসেছে তমঃ থেকে, যার অর্থ অন্ধকার বা তমোগুণ। তামসিক মানে তমোগুণযুক্ত, অলস বা অজ্ঞানতাপূর্ণ। পানের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
ফাঁদ হলো তাম্বুলিক আর তামসিক শব্দের শুরুর মিল। শুধু শব্দের চেহারা দেখে নয়, মূল শব্দ ধরে অর্থ যাচাই করুন।
মনে রাখুন: তাম্বুল পান, তমঃ অন্ধকার: শুরুর মিলে বিভ্রান্ত হবেন না।
১১০. 'তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!' – বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কপদান্বয়ী অব্যয়
- খঅনুসর্গ অব্যয়
- গঅনন্বয়ী অব্যয়
- ঘঅনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর: গ. অনন্বয়ী অব্যয়
প্রশ্নটি অব্যয়ের প্রকারভেদ নিয়ে। যে অব্যয় বাক্যের অন্য কোনো পদের সঙ্গে ব্যাকরণগত সম্পর্ক না রেখে স্বাধীনভাবে আবেগ, জোর বা বিশেষ ভাব প্রকাশ করে, তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
‘তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক’ বাক্যে ‘তো’ শব্দটি কোনো পদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করছে না, শুধু কথায় জোর আর বিস্ময়ের ভাব আনছে। ‘তো’ বাদ দিলেও বাক্যের মূল অর্থ বদলায় না। এই কারণে এখানে অনন্বয়ী অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে।
অন্য শ্রেণিগুলোর কাজ আলাদা। পদান্বয়ী অব্যয়, যাকে অনুসর্গও বলে, বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে বসে অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে, যেমন দিয়ে, থেকে, জন্য। অনুকার অব্যয় ধ্বনির অনুকরণ করে, যেমন ঝনঝন, টুপটাপ।
বাক্যে দিয়ে, থেকে, জন্য, সঙ্গে ধরনের কোনো শব্দ নেই, আর কোনো ধ্বনির অনুকরণও নেই; তাই বাকি বিকল্পগুলো খাটে না।
মনে রাখুন: অব্যয়টি বাদ দিলেও বাক্যের মূল কাঠামো ঠিক থাকে আর শুধু ভাব কমে? তাহলে অনন্বয়ী।
১১১. নিচের কোনটি যৌগিক শব্দ? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কপ্রবীণ
- খজেঠামি
- গসরোজ
- ঘমিতালি
সঠিক উত্তর: ঘ. মিতালি
প্রশ্নটি অর্থ অনুযায়ী শব্দের শ্রেণি নিয়ে: যৌগিক, রূঢ়ি আর যোগরূঢ়। প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ মিলিয়ে যে অর্থ দাঁড়ায়, শব্দটি ঠিক সেই অর্থ বোঝালে তাকে যৌগিক শব্দ বলে।
মিতা মানে বন্ধু, আর আলি প্রত্যয় যোগে হয় মিতালি, অর্থাৎ বন্ধুত্ব। গঠনের অর্থ আর ব্যবহারের অর্থ একই, তাই এটি যৌগিক শব্দ। একই ধরনের উদাহরণ: গায়ক, কর্তব্য, মধুর।
প্রবীণ শব্দের গঠনগত অর্থ বীণা বাজাতে দক্ষ, কিন্তু ব্যবহারে বোঝায় বয়স্ক বা অভিজ্ঞ; তাই এটি রূঢ়ি শব্দ। সরোজ মানে সরোবরে জন্মে যা, এমন অনেক কিছুই হতে পারে, কিন্তু শব্দটি শুধু পদ্ম বোঝায়; তাই এটি যোগরূঢ়।
জেঠামি শব্দটি জেঠা আর আমি প্রত্যয়ে গড়া; ব্যবহারে বোঝায় ছোটদের বড়দের মতো পাকামি। কেউ কেউ একেও যৌগিক বলেন, তবে প্রচলিত উত্তর মিতালি, কারণ মিতালির গঠন আর অর্থ পুরোপুরি এক।
মনে রাখুন: গঠনের অর্থ আর প্রচলিত অর্থ মিলে গেলে যৌগিক, মিললে না রূঢ়ি, একটিমাত্র অর্থে আটকে গেলে যোগরূঢ়।
১১২. 'সুনামীর তান্ডবে অনেকেই সর্বশান্ত হয়েছে।'- বাক্যটিতে কয়টি ভুল আছে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কএকটি
- খদুটি
- গতিনটি
- ঘভুল নেই
সঠিক উত্তর: গ. তিনটি
প্রশ্নটি একটি বাক্যে বানানের ভুল গুনতে বলেছে। শুদ্ধ বাক্য হবে: সুনামির তাণ্ডবে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছে। মোট তিনটি ভুল।
প্রথম ভুল সুনামী। এটি জাপানি শব্দ, আর বিদেশি শব্দে ই-কার হ্রস্ব হয়, তাই শুদ্ধ রূপ সুনামি। দ্বিতীয় ভুল তান্ডব। ণত্ব বিধান অনুযায়ী ট-বর্গের আগে যুক্ত নাসিক্য ধ্বনি ণ হয়, তাই শুদ্ধ রূপ তাণ্ডব।
তৃতীয় ভুল সর্বশান্ত। শব্দটি এসেছে সর্বস্ব আর অন্ত থেকে, মানে সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়া। তাই শুদ্ধ রূপ সর্বস্বান্ত; শান্ত শব্দের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
ফাঁদ হলো সর্বশান্ত শব্দটি উচ্চারণে প্রায় একই শোনায় বলে চোখ এড়িয়ে যায়, আর তখন উত্তর আসে দুটি।
মনে রাখুন: ট ঠ ড ঢ-এর আগে যুক্ত নাসিক্য হলে ণ: কণ্ঠ, ঘণ্টা, তাণ্ডব, লুণ্ঠন।
১১৩. কৃদন্ত পদের পূর্ববর্তী পদকে কী বলে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কউপপদ
- খপ্রাতিপদিক
- গপ্রপদ
- ঘপূর্বপদ
সঠিক উত্তর: ক. উপপদ
ক্রিয়ামূলের সাথে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে পদ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে। এই কৃদন্ত পদের আগে যে নামপদ বসে, তাকে বলে উপপদ।
উদাহরণ জলদ। দা ধাতুর সাথে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে দ, যা কৃদন্ত পদ; আর তার আগে বসা জল হলো উপপদ। জল দেয় যে, অর্থাৎ মেঘ।
উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয় তার নাম উপপদ তৎপুরুষ সমাস। যেমন পঙ্কে জন্মে যে, পঙ্কজ; এখানে পঙ্ক উপপদ।
ফাঁদ হলো পূর্বপদ। যেকোনো সমাসের প্রথম পদকেই পূর্বপদ বলে, কিন্তু কৃদন্ত পদের আগের পদের জন্য ব্যাকরণে বিশেষ নামটি হলো উপপদ।
মনে রাখুন: ‘যে’ দিয়ে ব্যাসবাক্য হয় আর শেষ পদ ধাতুজাত হলে (জল দেয় যে, পঙ্কে জন্মে যে) আগের পদটিই উপপদ।
১১৪. 'তোমার নাম কী?'-এখানে 'কী' কোন প্রকারের পদ? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কপ্রশ্নবাচক
- খঅব্যয়
- গসর্বনাম
- ঘবিশেষণ
সঠিক উত্তর: গ. সর্বনাম
প্রশ্নটি ‘কী’ শব্দটি কোন পদ, তা জানতে চেয়েছে। ‘তোমার নাম কী’ বাক্যে কী শব্দটি একটি অজানা বস্তুর, মানে নামের, পরিবর্তে বসে প্রশ্ন করছে। নামের পরিবর্তে বসে বলে এটি সর্বনাম, আরও নির্দিষ্ট করে প্রশ্নবাচক সর্বনাম।
কী আর কি বানানের পার্থক্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ। যে প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ বা না দিয়ে দেওয়া যায়, সেখানে কি অব্যয়, যেমন তুমি কি যাবে। আর যে প্রশ্নের উত্তরে কোনো বস্তু বা বিষয় বলতে হয়, সেখানে কী সর্বনাম, যেমন তুমি কী খাবে।
প্রশ্নবাচক কোনো আলাদা পদ নয়, এটি সর্বনামের একটি উপশ্রেণি। প্রচলিত ব্যাকরণে পদ পাঁচ প্রকার: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় আর ক্রিয়া।
ফাঁদ হলো প্রশ্নবাচক বিকল্পটি। শুনতে ঠিক লাগলেও পদের শ্রেণি জিজ্ঞাসা করলে উত্তর হবে সর্বনাম।
মনে রাখুন: উত্তর হ্যাঁ বা না হলে কি, অব্যয়; উত্তরে কিছু বলতে হলে কী, সর্বনাম।
১১৫. 'সরল' শব্দের বিপরীতার্থক নয় নিচের কোনটি? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ককুটিল
- খজটিল
- গবক্র
- ঘগরল
সঠিক উত্তর: ঘ. গরল
প্রশ্নটি সরল শব্দের বিপরীত শব্দ চিনতে চেয়েছে, এবং যেটি বিপরীত নয় সেটিই উত্তর। সরল শব্দের অর্থ প্রসঙ্গভেদে বদলায়, তাই এর বিপরীত শব্দও একাধিক।
সোজা অর্থে সরলের বিপরীত বক্র। মানুষের স্বভাবের অর্থে, মানে সহজ মনের, সরলের বিপরীত কুটিল। আর সহজ বা জট-ছাড়া অর্থে সরলের বিপরীত জটিল। তিনটিই সঠিক বিপরীত শব্দ।
গরল মানে বিষ। এর বিপরীত শব্দ অমৃত বা সুধা। সরলের সঙ্গে এর কোনো অর্থগত সম্পর্ক নেই।
ফাঁদ হলো সরল আর গরল শব্দের ছন্দের মিল। শুনতে জোড়া মনে হলেও অর্থে দুটি সম্পূর্ণ আলাদা।
মনে রাখুন: গরলের বিপরীত অমৃত; সরলের বিপরীত বক্র, কুটিল, জটিল।
১১৬. 'Rank' শব্দের বাংলা পরিভাষা কী? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কপদ
- খপদমর্যাদা
- গমাত্রা
- ঘউচ্চতা
সঠিক উত্তর: খ. পদমর্যাদা
প্রশ্নটি প্রশাসনিক পরিভাষা নিয়ে। ইংরেজি Rank শব্দের বাংলা পরিভাষা পদমর্যাদা, অর্থাৎ কোনো পদের অবস্থান বা মর্যাদার স্তর।
এর কাছাকাছি পরিভাষাগুলো আলাদা করে মনে রাখা দরকার। Post মানে পদ, অর্থাৎ নির্দিষ্ট দায়িত্বের আসন। Rank মানে সেই পদের মর্যাদা বা স্তর। একই পদমর্যাদায় অনেকগুলো আলাদা পদ থাকতে পারে।
মাত্রা শব্দটি সাধারণত Dimension বা Degree অর্থে চলে, আর উচ্চতা হলো Height। এ দুটি প্রশাসনিক মর্যাদা বোঝায় না।
ফাঁদ হলো পদ বিকল্পটি। Rank আর Post দৈনন্দিন কথায় একসঙ্গে আসে বলে অনেকে পদ বেছে নেন, কিন্তু পদ হলো Post এর পরিভাষা।
মনে রাখুন: Post পদ, Rank পদমর্যাদা।
১১৭. চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশ করেন কে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কপ্রবোধচন্দ্র বাগচী
- খযতীন্দ্র মোহন বাগচী
- গপ্রফুল্ল মোহন বাগচী
- ঘপ্রণয়ভূষণ বাগচী
সঠিক উত্তর: ক. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
প্রশ্নটা চর্যাপদ আবিষ্কার ও গবেষণার ইতিহাস যাচাই করছে। চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, আর এর আবিষ্কার ও প্রমাণের কাজ কয়েক ধাপে হয়েছে।
১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন, আর ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে তা প্রকাশ করেন।
পরে ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার ও প্রকাশ করেন। এই অনুবাদের সাহায্যে মূল পুঁথির হারিয়ে যাওয়া ও অস্পষ্ট অংশ বোঝা সহজ হয়।
এখানে সব বিকল্পের পদবি বাগচী, তাই পুরো নামটাই আসল পরীক্ষা। যতীন্দ্রমোহন বাগচী একজন কবি, চর্যাপদ গবেষণার সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত নয়।
মনে রাখুন: চর্যাপদের তিন নাম তিন কাজে: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কার, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ভাষাতাত্ত্বিক প্রমাণ, প্রবোধচন্দ্র বাগচী তিব্বতি অনুবাদ।
১১৮. 'গীতগোবিন্দ' কাব্যের রচয়িতা জয়দেব কার সভাকবি ছিলেন? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কশশাঙ্কদেবের
- খলক্ষ্মণ সেনের
- গযশোবর্মনের
- ঘহর্ষবর্ধনের
সঠিক উত্তর: খ. লক্ষ্মণ সেনের
প্রশ্নটি ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যের কবি জয়দেবের পৃষ্ঠপোষক রাজা জানতে চেয়েছে। জয়দেব ছিলেন সেন বংশের শেষ বড় রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি।
গীতগোবিন্দ সংস্কৃতে লেখা রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমবিষয়ক কাব্য, যা পরবর্তী বাংলা বৈষ্ণব পদাবলিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। লক্ষ্মণ সেনের সভায় পাঁচজন বিখ্যাত কবি ছিলেন, যাঁদের পঞ্চরত্ন বলা হয়: জয়দেব, ধোয়ী, শরণ, গোবর্ধন আচার্য ও উমাপতিধর।
বাকি তিন রাজা ভিন্ন যুগের। শশাঙ্ক সপ্তম শতকের গৌড়ের রাজা। হর্ষবর্ধন সপ্তম শতকের উত্তর ভারতের সম্রাট, যাঁর সভাকবি বাণভট্ট। যশোবর্মন অষ্টম শতকের কনৌজের রাজা, যাঁর সভায় ছিলেন ভবভূতি।
মনে রাখুন, জয়দেব দ্বাদশ শতকের কবি, তাই সপ্তম বা অষ্টম শতকের কোনো রাজার সভায় তাঁর থাকার সুযোগ নেই।
মনে রাখুন: লক্ষ্মণ সেনের পঞ্চরত্ন: জয়দেব, ধোয়ী, শরণ, গোবর্ধন, উমাপতিধর।
১১৯. কবি যশোরাজ খান বৈষ্ণবপদ রচনা করেন কোন ভাষায়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কব্রজবুলি
- খবাংলা
- গসংস্কৃত
- ঘহিন্দি
সঠিক উত্তর: ক. ব্রজবুলি
প্রশ্নটি কবি যশোরাজ খানের পদের ভাষা জানতে চেয়েছে। তিনি বৈষ্ণব পদ রচনা করেন ব্রজবুলি ভাষায়, এবং তাঁকে ব্রজবুলিতে পদ রচনাকারী প্রথম মুসলমান কবি ধরা হয়।
ব্রজবুলি কোনো অঞ্চলের মুখের ভাষা নয়। মৈথিলি আর বাংলার মিশ্রণে তৈরি এই কৃত্রিম সাহিত্যভাষায় মধ্যযুগের বৈষ্ণব কবিরা রাধা ও কৃষ্ণের লীলা নিয়ে পদ লিখতেন। বিদ্যাপতির পদের প্রভাবে এই ভাষার প্রসার ঘটে।
যশোরাজ খান সুলতান হোসেন শাহের আমলের কবি। ব্রজবুলিতে আরও লিখেছেন গোবিন্দদাস, আর আধুনিক যুগে রবীন্দ্রনাথ ভানুসিংহ নামে।
ফাঁদ হলো বাংলা। বৈষ্ণব পদের বড় অংশ বাংলায় লেখা হলেও যশোরাজ খানের পরিচিতি ব্রজবুলির কবি হিসেবেই।
মনে রাখুন: ব্রজবুলির প্রথম মুসলমান কবি যশোরাজ খান; ব্রজবুলির প্রধান কবি বিদ্যাপতি ও গোবিন্দদাস।
১২০. নিচের কোন জন যুদ্ধকাব্যের রচয়িতা নন? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কদৌলত উজির বাহরাম খাঁ
- খসাবিরিদ খাঁ
- গসৈয়দ সুলতান
- ঘসৈয়দ নূরুদ্দীন
সঠিক উত্তর: ঘ. সৈয়দ নূরুদ্দীন
মধ্যযুগে মুসলিম কবিরা কারবালার যুদ্ধ আর ইসলামের প্রথম যুগের বীরদের কাহিনি নিয়ে অনেক কাব্য লেখেন, এগুলোকে যুদ্ধকাব্য বা জঙ্গনামা বলে। প্রশ্নটা চায় কোন কবি এই ধারায় লেখেননি।
দৌলত উজির বাহরাম খান কারবালার কাহিনি নিয়ে লেখেন ইমাম বিজয়, যা জঙ্গনামা নামেও পরিচিত। সাবিরিদ খানের হানিফা ও কয়রাপরী এবং সৈয়দ সুলতানের জয়কুম রাজার লড়াই, দুটোই যুদ্ধকাব্য।
সৈয়দ নূরুদ্দীন ধর্মতত্ত্ব ও নীতিশিক্ষামূলক কাব্য লিখেছেন, যেমন রাহাতুল কুলুব। যুদ্ধকাব্যের সাথে তাঁর নাম নেই, তাই তিনিই উত্তর।
ফাঁদ হলো দৌলত উজির বাহরাম খান। তিনি লাইলী মজনুর জন্য বেশি পরিচিত, তাই অনেকে ভাবেন তিনি শুধু প্রণয়কাব্যের কবি; কিন্তু তাঁর ইমাম বিজয় যুদ্ধকাব্য।
মনে রাখুন: ‘লড়াই’, ‘জঙ্গ’, ‘বিজয়’, ‘হানিফা’ নামের কাব্য প্রায় সবসময় যুদ্ধকাব্য।