বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৪
৬১. 'প্রভাতফেরির মিছিল যাবে/ ছড়াও ফুলের বন্যা,/ বিষাদগীতি গাইছে পথে/ তিতুমীরের কন্যা।' - কার লেখা? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কশামসুর রাহমান
- খআল মাহমুদ
- গআহসান হাবীব
- ঘআবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর: খ. আল মাহমুদ
প্রশ্নটি একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে লেখা একটি কবিতার চরণ দিয়ে কবিকে চিনতে বলেছে। চরণগুলো আল মাহমুদের একুশের কবিতা থেকে নেওয়া।
কবিতাটি শুরু হয়, ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ, দুপুর বেলার অক্ত, বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায়, বরকতের রক্ত। এরপর আসে প্রভাতফেরির মিছিল, ফুলের বন্যা আর তিতুমীরের কন্যার বিষাদগীতি। ছড়ার মতো ছন্দে লেখা বলে কবিতাটি কিশোর পাঠকদের কাছেও খুব পরিচিত।
একুশ নিয়ে অন্যদের বিখ্যাত রচনাও আলাদা করে মনে রাখুন। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর গান আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আর শামসুর রাহমানের কবিতা বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা।
ফাঁদ হলো আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, কারণ একুশের সঙ্গে তাঁর নাম সবচেয়ে বেশি জড়িত। কিন্তু তাঁর রচনাটি গান, আর এই চরণগুলো তাতে নেই।
মনে রাখুন: তিতুমীরের কন্যা আর বরকতের রক্ত, এই দুটি শব্দ শুনলেই আল মাহমুদের একুশের কবিতা।
৬২. 'হরফের ছড়া' কার লেখা বর্ণশিক্ষার বই? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গফররুখ আহমদ
- ঘবন্দে আলী মিয়া
সঠিক উত্তর: গ. ফররুখ আহমদ
প্রশ্নটি হরফের ছড়া নামের বর্ণশিক্ষার বইয়ের লেখক জানতে চেয়েছে। বইটি ফররুখ আহমদের লেখা, প্রকাশ ১৯৭০ সালে।
বইটিতে প্রতিটি হরফ বা বর্ণ নিয়ে একটি করে ছড়া আছে, যাতে শিশুরা ছন্দে ছন্দে বর্ণ চিনতে পারে। ফররুখ আহমদ সাত সাগরের মাঝির কবি হলেও শিশুদের জন্য অনেক ছড়া লিখেছেন, যেমন পাখির বাসা, নতুন লেখা, ছড়ার আসর।
অন্য দুটি বিখ্যাত বর্ণশিক্ষার বই মনে রাখুন: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয়, আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহজ পাঠ।
ফাঁদ হলো বিদ্যাসাগর, কারণ বর্ণশিক্ষা শুনলেই বর্ণপরিচয় মনে আসে। কিন্তু বর্ণপরিচয় আর হরফের ছড়া আলাদা বই; হরফের ছড়া ফররুখ আহমদের।
মনে রাখুন: তিন বর্ণশিক্ষার বই তিন জনের: বর্ণপরিচয় বিদ্যাসাগরের, সহজ পাঠ রবীন্দ্রনাথের, হরফের ছড়া ফররুখ আহমদের।
৬৩. 'রক্তকরবী' নাটকের অন্তর্গত বিষয় কী? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কনতুনের জয়গান গাওয়া
- খসামন্তবাদের বিলুপ্তি দেখানো
- গশ্রমিকদের অপ্রাপ্তি তুলে ধরা
- ঘপুঁজিবাদের নেতিবাচক প্রভাব দেখানো
সঠিক উত্তর: ঘ. পুঁজিবাদের নেতিবাচক প্রভাব দেখানো
প্রশ্নটি রবীন্দ্রনাথের রক্তকরবী নাটকের মূল বিষয় জানতে চেয়েছে। নাটকটি প্রতীকী, আর এর কেন্দ্রে আছে যন্ত্রসভ্যতা ও সম্পদের লোভের বিরুদ্ধে প্রাণের প্রতিবাদ।
নাটকের যক্ষপুরীতে মাটির নিচ থেকে সোনা তোলা হয়। জালের আড়ালে থাকা রাজা আর তাঁর সর্দাররা খনির শ্রমিকদের মানুষ হিসেবে নয়, নম্বর দিয়ে চেনে। লাভের জন্য মানুষকে যন্ত্র বানানো, এটাই পুঁজিবাদের নেতিবাচক প্রভাব।
নন্দিনী এখানে প্রাণ, প্রেম ও মুক্তির প্রতীক, আর রঞ্জন তার প্রেমিক। নন্দিনীর ছোঁয়ায় শেষে রাজা নিজের গড়া ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়ান।
ফাঁদ হলো শ্রমিকদের অপ্রাপ্তি। শ্রমিকদের দুর্দশা নাটকে আছে, কিন্তু সেটা মূল কারণ নয়, ফল। মূল বিষয় সেই লোভী ব্যবস্থা, যা শ্রমিককে শোষণ করে।
মনে রাখুন: রক্তকরবী মানেই যক্ষপুরী, সোনার খনি আর নন্দিনী; বিষয় লোভী যন্ত্রসভ্যতা।
৬৪. মীর মশাররফ হোসেন সম্পর্কে কোন তথ্যটি যথার্থ নয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কতিন খণ্ডে 'বিষাদ-সিন্ধু' রচনা করেন
- খনিজের জীবনী রচনা করেন
- গজমিদারি দেখাশোনার কাজ করেছেন
- ঘবিবি কুলসুম তাঁর প্রথম স্ত্রী
সঠিক উত্তর: ঘ. বিবি কুলসুম তাঁর প্রথম স্ত্রী
প্রশ্নটি মীর মশাররফ হোসেন সম্পর্কে ভুল তথ্যটি খুঁজতে বলেছে। চারটি তথ্য একে একে যাচাই করলেই উত্তর মেলে।
বিষাদ সিন্ধু তিন পর্বে লেখা: মহরম পর্ব, উদ্ধার পর্ব আর এজিদ বধ পর্ব; তাই প্রথম তথ্য ঠিক। নিজের জীবনী তিনি লিখেছেন আমার জীবনী নামে; এটিও ঠিক। তিনি ফরিদপুরের নবাব এস্টেটে এবং পরে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার এস্টেটে ম্যানেজারের কাজ করেছেন; তাই জমিদারি দেখাশোনার তথ্যও ঠিক।
ভুল তথ্যটি হলো বিবি কুলসুম তাঁর প্রথম স্ত্রী। আঠারো বছর বয়সে তাঁর প্রথম বিয়ে হয় আজিজুন্নেসার সঙ্গে। সেই দাম্পত্য সুখের হয়নি, পরে তিনি বিবি কুলসুমকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তাঁকে নিয়ে কুলসুম জীবনী লেখেন।
ফাঁদ হলো কুলসুমের নামে আলাদা জীবনী থাকায় তাঁকেই প্রথম স্ত্রী ভেবে নেওয়া। জীবনী লিখেছেন দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে।
মনে রাখুন: মশাররফের দুই স্ত্রী: প্রথমে আজিজুন্নেসা, পরে কুলসুম; জীবনী লিখেছেন কুলসুমকে নিয়ে।
৬৫. জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর কোন কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কঝরাপালক
- খরূপসী বাংলা
- গবনলতা সেন
- ঘসাতটি তারার তিমির
সঠিক উত্তর: খ. রূপসী বাংলা
প্রশ্নটি জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ খুঁজতে বলেছে। জীবনানন্দ মারা যান ১৯৫৪ সালে, ট্রাম দুর্ঘটনায়।
রূপসী বাংলা প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে, অর্থাৎ মৃত্যুর তিন বছর পরে। বাংলার প্রকৃতি নিয়ে লেখা এই সনেটগুলো তাঁর জীবদ্দশায় বই আকারে বের হয়নি। বেলা অবেলা কালবেলাও মৃত্যুর পরে, ১৯৬১ সালে প্রকাশিত।
বাকি তিনটি তাঁর জীবদ্দশায় প্রকাশিত: ঝরা পালক ১৯২৭ সালে, যা তাঁর প্রথম কাব্য; বনলতা সেন ১৯৪২ সালে; আর সাতটি তারার তিমির ১৯৪৮ সালে।
ফাঁদ হলো বনলতা সেন, কারণ এটাই তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বই। বিখ্যাত হলেও এটি তাঁর জীবদ্দশাতেই প্রকাশিত।
মনে রাখুন: জীবনানন্দের মৃত্যু ১৯৫৪; এর পরের দুটি বই রূপসী বাংলা আর বেলা অবেলা কালবেলা।
৬৬. 'তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?' কোন উপন্যাসে আছে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কবঙ্কিমচন্দ্রের 'কপালকুণ্ডলা'
- খরবীন্দ্রনাথের 'গোরা'
- গশরৎচন্দ্রের 'চরিত্রহীন'
- ঘবিভূতিভূষণের 'আরণ্যক'
সঠিক উত্তর: ক. বঙ্কিমচন্দ্রের 'কপালকুণ্ডলা'
প্রশ্নটি একটি বিখ্যাত উক্তি কোন উপন্যাসে আছে, তা জানতে চেয়েছে। তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন, এই উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের।
উক্তিটির ভাষা সাধু রীতির, যা বঙ্কিমের যুগের গদ্যের বৈশিষ্ট্য। এর মর্মকথা হলো, অন্য কেউ খারাপ আচরণ করলেও নিজের ভালো আচরণ ছাড়া উচিত নয়।
কপালকুণ্ডলার আরেকটি বিখ্যাত উক্তি হলো, পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ। দুটি উক্তিই পরীক্ষায় বারবার আসে, তাই একসঙ্গে মনে রাখুন।
বাকি উপন্যাসগুলো এই উক্তির উৎস নয়: গোরা রবীন্দ্রনাথের, চরিত্রহীন শরৎচন্দ্রের, আর আরণ্যক বিভূতিভূষণের। উক্তির সাধু ভাষা আর নীতিকথার সুর দেখেই বঙ্কিমকে চেনা যায়।
মনে রাখুন: কপালকুণ্ডলার জোড়া উক্তি মনে রাখুন: পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ এবং তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন।
৬৭. বাংলা ভাষায় কোন স্বরধ্বনি উচ্চারণকালে জিহ্বা উচ্চ অবস্থানে থাকে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কআ
- খএ
- গউ
- ঘও
সঠিক উত্তর: গ. উ
প্রশ্নটা স্বরধ্বনির শ্রেণিবিভাগ নিয়ে। উচ্চারণের সময় জিভ মুখের ভেতরে কতটা উঁচুতে ওঠে, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনিকে উচ্চ, উচ্চ-মধ্য, নিম্ন-মধ্য আর নিম্ন, এই চার ভাগে ভাগ করা হয়।
ই আর উ উচ্চারণে জিভ সবচেয়ে উঁচুতে ওঠে, আর মুখ সবচেয়ে কম খোলে; তাই এরা উচ্চ স্বরধ্বনি। এ আর ও উচ্চ-মধ্য, অ্যা আর অ নিম্ন-মধ্য।
আ উচ্চারণে জিভ সবচেয়ে নিচে থাকে আর মুখ সবচেয়ে বেশি খোলে; তাই আ নিম্ন স্বরধ্বনি।
নিজে বলে যাচাই করা যায়: ই আর আ পরপর উচ্চারণ করলে টের পাবেন জিভ উঁচু থেকে নিচে নামছে। ফাঁদ হলো ও বেছে নেওয়া, কারণ উ আর ও দুটোই পশ্চাৎ স্বর; কিন্তু ও উচ্চারণে জিভ উ এর চেয়ে একটু নিচে থাকে।
মনে রাখুন: উচ্চ স্বরধ্বনি মাত্র দুটি: ই আর উ। অপশনে এদের একটি থাকলেই সেটা উত্তর।
৬৮. বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দ – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কতৎসম
- খতদ্ভব
- গদেশি
- ঘবিদেশি
সঠিক উত্তর: গ. দেশি
প্রশ্নটি উৎস অনুযায়ী বাংলা শব্দের শ্রেণি নিয়ে। এ দেশের আদি অধিবাসী অনার্য জনগোষ্ঠী, যেমন কোল, মুন্ডা, সাঁওতাল, তাদের ভাষা থেকে যে শব্দ বাংলায় এসেছে, তাকে দেশি শব্দ বলে।
উদাহরণ: কুড়ি অর্থাৎ বিশ, কোল ভাষা থেকে; চুলা, মুন্ডারি থেকে; এ ছাড়া ঢেঁকি, কুলা, ডাব, ডিঙি। এগুলো সংস্কৃত থেকে আসেনি, এ মাটির নিজস্ব শব্দ।
বাকি শ্রেণিগুলোর মাপকাঠি আলাদা। তৎসম মানে সংস্কৃত থেকে অবিকৃত, যেমন চন্দ্র, সূর্য; তদ্ভব মানে সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের পথ ধরে বদলে আসা, যেমন হস্ত থেকে হাত; বিদেশি মানে আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি ভাষা থেকে আসা।
ফাঁদ বিদেশি বিকল্পটি, কারণ অনার্যরা আর্যদের চোখে বাইরের মানুষ মনে হতে পারে। কিন্তু তারাই এ দেশের আদি বাসিন্দা, তাই তাদের শব্দ দেশি।
মনে রাখুন: শব্দের উৎস আদিবাসী অনার্য ভাষা হলে দেশি; আরও উদাহরণ: খোকা, ঝিঙা, টোপর।
৬৯. 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কমুহম্মদ আবদুল হাই
- খমুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
- গমুনীর চৌধুরী
- ঘমুহম্মদ এনামুল হক
সঠিক উত্তর: ক. মুহম্মদ আবদুল হাই
ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের লেখা। বাংলা ধ্বনির বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে এটি একটি মৌলিক কাজ।
আবদুল হাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন এবং সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। ধ্বনিতত্ত্বই ছিল তাঁর মূল গবেষণার ক্ষেত্র।
চার ভাষাবিদকে তাঁদের প্রধান কাজ দিয়ে মনে রাখুন: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত, মুনীর চৌধুরী কবর নাটক ও বাংলা টাইপরাইটারের মুনীর অপটিমা কিবোর্ড, মুহম্মদ এনামুল হক মুসলিম বাংলা সাহিত্য।
ফাঁদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, কারণ ভাষাতত্ত্বে তাঁর নামই সবচেয়ে পরিচিত। কিন্তু ধ্বনিতত্ত্বের এই বইটি আবদুল হাইয়ের।
মনে রাখুন: ধ্বনি শব্দ দেখলেই আবদুল হাই; সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদকও তিনি।
৭০. বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বর কয়টি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ক১টি
- খ২টি
- গ৩টি
- ঘ৪টি
সঠিক উত্তর: খ. ২টি
যৌগিক স্বর মানে দুটি স্বরধ্বনি একসঙ্গে, এক টানে উচ্চারিত হওয়া। বাংলা বর্ণমালায় এমন স্বরের জন্য আলাদা বর্ণ আছে মাত্র দুটি: ঐ এবং ঔ।
ঐ উচ্চারণে ও আর ই মিলে হয় ওই; ঔ উচ্চারণে ও আর উ মিলে হয় ওউ। বর্ণমালার মোট এগারোটি স্বরবর্ণের মধ্যে বাকি নয়টি স্বরবর্ণ যৌগিক নয়।
সাবধান: প্রশ্নটি বর্ণমালার কথা বলছে। উচ্চারণে বাংলায় যৌগিক স্বরধ্বনি অনেক, যেমন খাই শব্দের আই বা যাও শব্দের আও; কিন্তু তাদের জন্য আলাদা বর্ণ নেই।
তাই উচ্চারণের যৌগিক স্বর গুনে বেশি সংখ্যা ধরলে ভুল হবে; বর্ণ হিসেবে উত্তর দুই।
মনে রাখুন: বর্ণমালায় স্বরবর্ণ ১১টি, তার মধ্যে যৌগিক ২টি: ঐ, ঔ।
৭১. যোগরূঢ় শব্দ কোনটি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ককলম
- খমলম
- গবাঁশি
- ঘশাখামৃগ
সঠিক উত্তর: ঘ. শাখামৃগ
প্রশ্নটা অর্থ অনুযায়ী শব্দের শ্রেণি পরীক্ষা করছে: যৌগিক, রূঢ়ি আর যোগরূঢ়। যোগরূঢ় শব্দ সমাসে তৈরি, কিন্তু অংশগুলোর মিলিত অর্থ থেকে সরে একটা নির্দিষ্ট জিনিসকেই বোঝায়।
শাখামৃগ মানে আক্ষরিকভাবে শাখায় বিচরণকারী পশু। এমন পশু অনেক হতে পারে, যেমন কাঠবিড়ালি, কিন্তু শব্দটা শুধু বানরকেই বোঝায়। তাই এটা যোগরূঢ়, ঠিক যেমন পঙ্কজ মানে পদ্ম আর জলধি মানে সমুদ্র।
বাঁশি হলো রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ: বাঁশ থেকে তৈরি অনেক কিছু হতে পারে, কিন্তু বাঁশি বলতে শুধু বাদ্যযন্ত্রটাই বোঝায়, আর এটা সমাস নয়, প্রত্যয়ে গঠিত। কলম ও মলম আরবি থেকে আসা মৌলিক শব্দ, ভাঙা যায় না।
পার্থক্য মনে রাখুন: সমাসে গঠিত হয়ে বিশেষ অর্থ নিলে যোগরূঢ়, প্রত্যয়ে গঠিত হয়ে ভিন্ন অর্থ নিলে রূঢ়ি। বাঁশিকে যোগরূঢ় ভাবাই এখানে মূল ফাঁদ।
মনে রাখুন: অপশনে সমাসে গঠিত শব্দ খুঁজুন, যার অর্থ একটি জিনিসে সীমিত; বাকিরা সাধারণত মৌলিক বা রূঢ়ি।
৭২. উপসর্গযুক্ত শব্দ – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কবিদ্যা
- খবিদ্রোহী
- গবিষয়
- ঘবিপুল
সঠিক উত্তর: খ. বিদ্রোহী
উপসর্গ হলো এমন অব্যয় শব্দাংশ, যা শব্দ বা ধাতুর আগে বসে নতুন অর্থ তৈরি করে। চেনার উপায়: উপসর্গটি সরালে বাকি অংশটি নিজে একটি অর্থবহ শব্দ বা ধাতু থাকে।
বিদ্রোহী শব্দে বি সরালে থাকে দ্রোহী, যার অর্থ শত্রুতা করে যে। বি উপসর্গ যোগ হয়ে অর্থ দাঁড়ায় প্রবল বিরোধিতাকারী। তাই বিদ্রোহী স্পষ্টভাবে উপসর্গযুক্ত শব্দ।
বিদ্যা শব্দে বি আলাদা কিছু নয়; এটি জানা অর্থের বিদ্ ধাতুর অংশ। বিপুল ও বিষয় শব্দেও বি সরালে বাকি পুল বা ষয় বাংলায় কোনো অর্থবহ শব্দ থাকে না, শব্দ দুটি একক শব্দ হিসেবেই চলে।
একই বি উপসর্গের আরও দৃষ্টান্ত: বিদেশ, বিফল, বিজ্ঞান, বিনিময়। ফাঁদ হলো শুরুতে বি দেখলেই উপসর্গ ধরে নেওয়া।
মনে রাখুন: উপসর্গ চেনার পরীক্ষা: সরিয়ে দেখুন বাকিটা অর্থবহ কি না। বিদেশ, বিনিময়, বিজ্ঞান পাস করে; বিদ্যা, বিপুল পাস করে না।
৭৩. বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কসরোবরে
- খচশমা
- গসরোজ
- ঘচম্পক
সঠিক উত্তর: ক. সরোবরে
বিভক্তি হলো সেই বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি, যা শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে তাকে বাক্যে ব্যবহারযোগ্য পদ বানায় এবং কারক সম্পর্ক বোঝায়। যেমন এ, তে, কে, র।
সরোবরে শব্দটি সরোবর আর এ বিভক্তি মিলে গঠিত। এখানে এ বিভক্তি স্থান বোঝাচ্ছে, অর্থাৎ অধিকরণ কারক: সরোবরে পদ্ম ফোটে।
বাকি তিনটিতে শেষের অংশ মূল শব্দেরই অংশ। চশমা ফারসি শব্দ; সরোজ মানে সরোবরে জন্মে যা, অর্থাৎ পদ্ম, এটি সমাসে গঠিত শব্দ; চম্পক মানে চাঁপা ফুল।
সূক্ষ্ম কথা: বাক্যে বসলে প্রতিটি শব্দেই বিভক্তি থাকে, কোথাও তা শূন্য বা অদৃশ্য। প্রশ্নটি দৃশ্যমান বিভক্তির কথা বলছে, তাই উত্তর সরোবরে। সরোজ বানানের মিল দেখে বিভ্রান্ত হবেন না।
মনে রাখুন: শব্দের শেষ অংশ সরালে বাকিটা পূর্ণ শব্দ হলে এবং সরানো অংশ কারক বোঝালে সেটি বিভক্তি: ঘরে, ছাদে, বাড়িতে।
৭৪. কোনটি প্রত্যয়-সাধিত শব্দ? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কভাইবোন
- খরাজপথ
- গবকলম
- ঘঐকিক
সঠিক উত্তর: ঘ. ঐকিক
প্রত্যয় হলো শব্দ বা ধাতুর শেষে যুক্ত শব্দাংশ, যা নতুন শব্দ গঠন করে। শব্দের শেষে যুক্ত প্রত্যয়কে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
ঐকিক শব্দটি এক শব্দের সঙ্গে ইক প্রত্যয় যোগে গঠিত। ইক প্রত্যয় যুক্ত হলে শব্দের প্রথম স্বর বৃদ্ধি পায়, তাই এ বদলে হয় ঐ: এক থেকে ঐকিক।
একই নিয়মে দেহ থেকে দৈহিক, বেদ থেকে বৈদিক, ইতিহাস থেকে ঐতিহাসিক, আর অ থাকলে আ হয়, যেমন সমাজ থেকে সামাজিক।
বাকিগুলোর গঠন আলাদা। ভাইবোন আর রাজপথ দুটি পদ জুড়ে তৈরি সমাস; বকলম ফারসি উপসর্গ ব যুক্ত হয়ে গঠিত। শব্দের আকার বদল দেখলে প্রত্যয় খুঁজুন।
মনে রাখুন: শব্দের শেষে ইক আর শুরুর স্বর বদল দেখলেই তদ্ধিত প্রত্যয়: দৈহিক, বৈদিক, মানসিক।
৭৫. 'শিরশ্ছেদ' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কশির + ছেদ
- খশিরঃ + ছেদ
- গশিরশ্ + ছেদ
- ঘশির + উচ্ছেদ
সঠিক উত্তর: খ. শিরঃ + ছেদ
শিরশ্ছেদ বিসর্গ সন্ধির দৃষ্টান্ত, মূল দুটি শব্দ শিরঃ আর ছেদ। শিরঃ শব্দের শেষে বিসর্গ আছে, পরের শব্দ শুরু ছ দিয়ে।
নিয়ম: বিসর্গের পরে চ বা ছ থাকলে বিসর্গ বদলে তালব্য শ হয়ে যায়। তাই শিরঃ আর ছেদ মিলে শিরশ্ছেদ।
একই নিয়মে নিঃ আর চয় মিলে নিশ্চয়, নিঃ আর চল মিলে নিশ্চল, দুঃ আর চরিত্র মিলে দুশ্চরিত্র। তুলনা করুন: পরে ট বা ঠ থাকলে বিসর্গ হয় ষ, যেমন ধনুষ্টঙ্কার; ত বা থ থাকলে হয় স, যেমন দুস্তর।
ফাঁদ শির আর ছেদ বিকল্পটি। স্বরান্ত শির আর ছেদ যুক্ত হলে নিয়মে হতো শিরচ্ছেদ, শ আসার কোনো কারণ থাকত না। আর শিরশ্ বিকল্পে শ সন্ধির ফল, মূল শব্দের অংশ নয়।
মনে রাখুন: যুক্তবর্ণে শ্চ বা শ্ছ দেখলে মূল শব্দে বিসর্গ খুঁজুন: নিশ্চয়, নিশ্চল, শিরশ্ছেদ।
৭৬. 'নীলকর' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কদ্বন্দ্ব
- খবহুব্রীহি
- গনিত্য
- ঘউপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর: ঘ. উপপদ তৎপুরুষ
নীলকর মানে নীল চাষ করে যে। এখানে পরপদ কর, যা করা অর্থের ধাতু থেকে প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত পদ, আর তার আগে বসেছে নীল।
নিয়ম: কৃদন্ত পদের আগে যে পদ বসে তাকে উপপদ বলে, আর উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের সমাসকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। ব্যাসবাক্য সাধারণত হয়, অমুক করে যে বা অমুকে চরে যে।
একই ধরনের উদাহরণ: কুম্ভকার মানে কুম্ভ করে যে, জলচর মানে জলে চরে যে, ছেলেধরা মানে ছেলে ধরে যে।
ফাঁদ বহুব্রীহি, কারণ নীলকর একজন মানুষকে বোঝায়। কিন্তু বহুব্রীহিতে পদগুলোর বাইরে তৃতীয় অর্থ আসে, যেমন দশানন মানে দশ আনন যার; নীলকরে পরপদ কৃদন্ত হওয়ায় সেটি উপপদ তৎপুরুষ।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে করে যে, চরে যে, ধরে যে এলে এবং পরপদ ধাতু থেকে গঠিত হলে উপপদ তৎপুরুষ।
৭৭. 'pedagogy' শব্দের পরিভাষা – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কসহশিক্ষা
- খনারীশিক্ষা
- গশিক্ষাতত্ত্ব
- ঘশিক্ষানীতি
সঠিক উত্তর: গ. শিক্ষাতত্ত্ব
পেডাগজি শব্দের অর্থ শিক্ষাদানের তত্ত্ব ও পদ্ধতি, অর্থাৎ কীভাবে পড়ানো হবে তার বিজ্ঞান। তাই এর বাংলা পরিভাষা শিক্ষাতত্ত্ব, কোথাও শিক্ষণবিজ্ঞানও বলা হয়।
পরিভাষার প্রশ্নে ইংরেজি শব্দের মূল অর্থ ধরে মিলিয়ে নিন। অন্য তিনটি বিকল্পও শিক্ষাবিষয়ক, কিন্তু প্রত্যেকটির ইংরেজি প্রতিশব্দ আলাদা।
সহশিক্ষা মানে ছেলেমেয়ের একসঙ্গে পড়া, ইংরেজিতে কো এডুকেশন। নারীশিক্ষা মানে মেয়েদের শিক্ষা। শিক্ষানীতি মানে সরকারের শিক্ষা বিষয়ক নীতি, এডুকেশন পলিসি।
ফাঁদ শিক্ষানীতি, কারণ নীতি আর তত্ত্ব কাছাকাছি শোনায়। নীতি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আর তত্ত্ব হলো পড়ানোর জ্ঞানগত ভিত্তি।
মনে রাখুন: Pedagogy পড়ানোর বিজ্ঞান, Policy সরকারের নীতি; দুটো আলাদা রাখুন।
৭৮. 'বঙ্কিম' এর বিপরীত শব্দ কোনটি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কবন্ধুর
- খঅসম
- গসুষম
- ঘঋজু
সঠিক উত্তর: ঘ. ঋজু
বঙ্কিম শব্দের অর্থ বাঁকা বা বক্র, যেমন বঙ্কিম চাহনি, বঙ্কিম রেখা। এর বিপরীত শব্দ ঋজু, যার অর্থ সোজা বা সরল।
ঋজু শব্দটি মানুষের দেহভঙ্গি ও স্বভাব দুইয়ের জন্যই ব্যবহৃত হয়, যেমন ঋজু দেহ, ঋজু চরিত্র। বাঁকা আর সোজা, এ জোড়াটাই বিপরীত।
অন্য বিকল্পগুলোর নিজস্ব বিপরীত আছে। বন্ধুর মানে উঁচুনিচু বা এবড়োখেবড়ো, এর বিপরীত মসৃণ বা সমতল। অসম আর সুষম মূলত সমান না থাকা আর সমভাবে বিন্যস্ত থাকার জোড়া।
ফাঁদ বন্ধুর, কারণ এবড়োখেবড়ো পথ আর বাঁকা পথ কাছাকাছি মনে হয়। কিন্তু বন্ধুরতা উচ্চতার অসমতা, বক্রতা দিকের।
মনে রাখুন: বঙ্কিম ও বক্র এক দলে, ঋজু ও সরল আরেক দলে।
৭৯. বাংলা একাডেমির 'প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' কত সালে প্রণীত হয়? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ক১৯৯০
- খ১৯৯২
- গ১৯৯৪
- ঘ১৯৯৬
সঠিক উত্তর: খ. ১৯৯২
বাংলা একাডেমি প্রথম প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম প্রণয়ন করে ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে। উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে বানানের বিশৃঙ্খলা কমিয়ে একটি মান ঠিক করা।
এরপর ১৯৯৪ সালের জানুয়ারিতে এর পরিমার্জিত সংস্করণ বের হয়, পরে ১৯৯৮ সালে আবার সংশোধন হয়ে ২০০০ সালে প্রকাশিত হয়। তাই প্রণয়নের সাল ১৯৯২, পরিমার্জনের সাল ১৯৯৪।
পটভূমি হিসেবে মনে রাখুন: বাংলা বানানের প্রথম সুসংবদ্ধ নিয়ম করেছিল কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৩৬ সালে, রবীন্দ্রনাথের অনুরোধে।
ফাঁদ ১৯৯৪, কারণ পরিমার্জিত সংস্করণটিও বহুল আলোচিত। প্রশ্নে প্রণীত শব্দটি প্রথমবার তৈরির কথা বলছে।
মনে রাখুন: প্রণয়ন ১৯৯২, পরিমার্জন ১৯৯৪; প্রশ্নে প্রণীত থাকলে ১৯৯২।
৮০. কোন বানানটি শুদ্ধ? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কমুলো
- খমুলা
- গধুলি
- ঘধূলো
সঠিক উত্তর: খ. মুলা
প্রশ্নটা হ্রস্ব উ আর দীর্ঘ ঊ এর নিয়ম যাচাই করছে। বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানরীতিতে তৎসম, মানে সংস্কৃত থেকে অবিকৃত আসা শব্দে মূল বানান থাকে; কিন্তু তদ্ভব ও খাঁটি বাংলা শব্দে সাধারণত হ্রস্ব ই আর হ্রস্ব উ লেখা হয়।
ধূলি তৎসম শব্দ, তাই এতে দীর্ঘ ঊ। সুতরাং হ্রস্ব উ দিয়ে লেখা ধুলি ভুল।
ধুলা বা ধুলো তদ্ভব শব্দ, তাই হ্রস্ব উ। সুতরাং দীর্ঘ ঊ দিয়ে লেখা ধূলো ভুল। ধূলি এর দীর্ঘ ঊ টেনে এনে ধূলো লেখাই সাধারণ ভুল।
বাকি থাকে মুলা আর মুলো। দুটোই হ্রস্ব উ দিয়ে; তবে প্রমিত লিখিত রূপ হিসেবে মুলা ধরা হয়, আর মুলো কথ্য বা চলিত রূপ। তাই উত্তর মুলা।
মনে রাখুন: সংস্কৃত (তৎসম) না হলে সাধারণত হ্রস্ব উ; ধুলো আর মুলা দুটোই তদ্ভব, তাই হ্রস্ব উ।