বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৩০
৫৮১. কোন শব্দজোড় বিপরীতার্থক নয়? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কঅনুলোম-প্রতিলোম
- খনশ্বর- শাশ্বত
- গগরিষ্ঠ- লঘিষ্ঠ
- ঘহৃষ্ট- পুষ্ট
সঠিক উত্তর: ঘ. হৃষ্ট- পুষ্ট
বিপরীতার্থক শব্দজোড় মানে দুটি শব্দের অর্থ পরস্পরের উল্টো। প্রতিটি জোড়ের দুই শব্দের অর্থ আলাদা করে দেখলে উত্তর বের হয়।
অনুলোম মানে ক্রম অনুসারে, প্রতিলোম মানে উল্টো ক্রমে; নশ্বর মানে যা নষ্ট হয়, শাশ্বত মানে চিরস্থায়ী; গরিষ্ঠ মানে সবচেয়ে বড়, লঘিষ্ঠ মানে সবচেয়ে ছোট। তিনটিই বিপরীত জোড়।
হৃষ্ট মানে আনন্দিত বা সতেজ, পুষ্ট মানে পরিপুষ্ট। দুটো মিলে হৃষ্টপুষ্ট মানে স্বাস্থ্যবান, মোটাসোটা। এরা কাছাকাছি অর্থের শব্দ, বিপরীত নয়।
জোড় শব্দ দেখলেই বিপরীত ভাবা ভুল; বাংলায় হৃষ্টপুষ্ট, ধনদৌলত, কাজকর্মের মতো অনেক জোড় সমার্থক।
মনে রাখুন: নশ্বরের বিপরীত শাশ্বত বা অবিনশ্বর; গরিষ্ঠের বিপরীত লঘিষ্ঠ।
৫৮২. নিচের কোন শব্দটি প্রত্যয় সাধিত? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কপ্রলয়
- খখণ্ডিত
- গনিশ্বাস
- ঘঅনুপম
সঠিক উত্তর: খ. খণ্ডিত
প্রশ্নটা শব্দ গঠন নিয়ে: কোন শব্দটা প্রত্যয় যোগে তৈরি। প্রত্যয় বসে শব্দ বা ধাতুর পরে, আর উপসর্গ বসে শব্দের আগে। তাই দেখতে হবে কোন শব্দের শেষে কিছু যুক্ত হয়েছে।
খণ্ডিত শব্দটা ভাঙলে পাই খণ্ড আর ইত প্রত্যয়। খণ্ড মানে টুকরো, ইত যোগে হলো যা খণ্ড করা হয়েছে। একইভাবে পুষ্প থেকে পুষ্পিত, কুসুম থেকে কুসুমিত, তরঙ্গ থেকে তরঙ্গিত।
বাকি তিনটায় যোগ হয়েছে শব্দের আগে। প্রলয়-এ প্র উপসর্গ, নিশ্বাস-এ নিঃ উপসর্গ যুক্ত শ্বাস, আর অনুপম মানে যার উপমা নেই; এটি নঞর্থক অন্ যোগে উপমা থেকে গঠিত, প্রত্যয়ে নয়।
ফাঁদ হলো প্রলয়: এর ভেতরে লী ধাতু আছে বলে কেউ কেউ প্রত্যয় খোঁজেন, কিন্তু পরীক্ষায় প্রলয়কে উপসর্গযুক্ত শব্দ হিসেবেই ধরা হয়, কারণ প্র যোগে অর্থ বদলেছে।
মনে রাখুন: শব্দের শেষে ইত, ইক, আমি, তা ইত্যাদি থাকলে প্রত্যয় খুঁজুন; শুরুতে প্র, নিঃ, অনু, পরা থাকলে সেটা উপসর্গ; তবে অনুপম-এর “অনু” উপসর্গ নয়, এটি ন (অন্) + উপমা।
৫৮৩. কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কস্মৃতি কথামালা
- খআত্মচরিত
- গআত্মকথা
- ঘআমার কথা
সঠিক উত্তর: খ. আত্মচরিত
প্রশ্নটা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী নিয়ে। তিনি নিজের জীবনের কথা লিখেছিলেন “বিদ্যাসাগর চরিত” নামে, যাকে স্বরচিত বিদ্যাসাগর চরিত বলা হয়। লেখাটা অসম্পূর্ণ, প্রকাশিত হয় তাঁর মৃত্যুর পরে।
অপশনে হুবহু এই নাম নেই। আত্মচরিত শব্দের অর্থ নিজের লেখা জীবনচরিত, মানে আত্মজীবনী। তাই চারটি অপশনের মধ্যে আত্মচরিত-ই বিদ্যাসাগরের স্বরচিত জীবনকথাকে বোঝায়।
বিদ্যাসাগরকে বলা হয় বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী, কারণ তিনি গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক ব্যবহার করেন। তাঁর প্রথম সাহিত্যকর্ম বেতালপঞ্চবিংশতি, আর শিশুদের জন্য বর্ণপরিচয়, কথামালা, বোধোদয় বিখ্যাত।
ফাঁদ হলো কথামালা নামটা: এটা বিদ্যাসাগরের সত্যিকারের বই, কিন্তু ঈশপের গল্পের অনুবাদ, আত্মজীবনী নয়। “স্মৃতি কথামালা” নামের ভেতরে সেই পরিচিত শব্দটা ঢুকিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
মনে রাখুন: “আত্মচরিত” মানেই নিজের লেখা জীবনী; বিদ্যাসাগরের ক্ষেত্রে বইয়ের নাম বিদ্যাসাগর চরিত।
৫৮৪. কোন গ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্য কর্তৃক রচিত? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কহরতাল
- খপালাবদল
- গউত্তীর্ণ পঞ্চাশে
- ঘঅনীষ্ট স্বদেশ
সঠিক উত্তর: ক. হরতাল
প্রশ্নটা কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচনা নিয়ে। সুকান্ত মাত্র ২১ বছর বয়সে মারা যান, তাই তাঁর প্রায় সব বই প্রকাশিত হয় মৃত্যুর পরে।
হরতাল সুকান্তের লেখা, এটি গল্প ও রচনার একটি সংকলন, প্রকাশিত ১৯৬২ সালে। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, মিঠেকড়া, অভিযান; আর গানের সংকলন গীতিগুচ্ছ।
সুকান্তকে বলা হয় কিশোর কবি, তাঁর কবিতায় শোষিত মানুষের কথা আর বিপ্লবের সুর। তিনি “আকাল” নামে একটি কবিতা সংকলন সম্পাদনাও করেছিলেন।
বাকি তিনটি নাম সুকান্তের রচনার তালিকায় নেই। হরতাল নামটা রাজনৈতিক শোনায় বলে অনেকে এটাকে কোনো রাজনৈতিক লেখকের বই ভাবেন, কিন্তু এটাই সুকান্তের।
মনে রাখুন: সুকান্তের বই মনে রাখার ছড়া: ছাড়পত্র নিয়ে ঘুম নেই, পূর্বাভাস পেয়ে হরতাল।
৫৮৫. “ঢাকের কাঠি” বাগধারার অর্থ কী? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- ককপট ব্যক্তি
- খঘনিষ্ঠ সম্পর্ক
- গহতভাগ্য
- ঘমোসাহেব
সঠিক উত্তর: ঘ. মোসাহেব
প্রশ্নটা বাগ্ধারার অর্থ নিয়ে। ঢাকের কাঠি দিয়ে ঢাক বাজে; কাঠির নিজের কোনো সুর নেই, ঢাকের তালে তালে সে শুধু বাজিয়ে যায়।
তাই যে লোক নিজের মত না রেখে ক্ষমতাবান কারও পেছনে থেকে সব কথায় সায় দেয় আর তার গুণগান গেয়ে বেড়ায়, তাকে বলে ঢাকের কাঠি, মানে মোসাহেব বা তোষামোদকারী। যেমন: মন্ত্রীর চারপাশে কয়েকজন ঢাকের কাঠি সব সময় ঘুরঘুর করে।
অন্য অপশনের অর্থের নিজস্ব বাগ্ধারা আছে: কপট ব্যক্তি বোঝাতে বলা হয় বিড়াল তপস্বী বা বকধার্মিক, আর হতভাগ্য বোঝাতে কপাল পোড়া।
ফাঁদ হলো হতভাগ্য: ঢাকের কাঠি পিটুনি খায় বলে কেউ কেউ তাকে দুর্ভাগা ভাবেন। কিন্তু বাগ্ধারাটি বোঝায় তোষামোদকারীকে।
মনে রাখুন: ঢাকের সঙ্গে কাঠি যায়, মনিবের সঙ্গে মোসাহেব যায়।
৫৮৬. ‘আনোয়ারা’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- ককাজী এমদাদুল হক
- খমীর মশাররফ হোসেন
- গমোহাম্মদ মজিবর রহমান
- ঘইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর: গ. মোহাম্মদ মজিবর রহমান
প্রশ্নটা মুসলিম সমাজজীবন নিয়ে লেখা বিখ্যাত উপন্যাস আনোয়ারার লেখক নিয়ে। আনোয়ারার লেখক মোহাম্মদ নজিবর রহমান, যাঁকে সাহিত্যরত্ন উপাধি দেওয়া হয়েছিল।
আনোয়ারা প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে; এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস এবং সে সময়ে বিপুল জনপ্রিয় হয়। তাঁর অন্য উপন্যাস প্রেমের সমাধি, চাঁদতারা, পরিণাম, গরীবের মেয়ে।
অপশনে নামটি ছাপা হয়েছে মজিবর, কিন্তু সঠিক নাম নজিবর। ‘মোহাম্মদ’ আর ‘রহমান’ মিলিয়ে অপশন গ-ই বোঝানো হয়েছে।
ফাঁদ হলো কাজী এমদাদুল হক ও মীর মশাররফ হোসেন। কাজী এমদাদুল হকের বিখ্যাত উপন্যাস আবদুল্লাহ, আর মীর মশাররফ হোসেনের বিষাদ-সিন্ধু; দুটিও মুসলিম সমাজের উপন্যাস বলে গুলিয়ে যায়।
মনে রাখুন: আনোয়ারা-নজিবর, আবদুল্লাহ-এমদাদুল, বিষাদ-সিন্ধু-মশাররফ: তিনটি একসঙ্গে মুখস্থ করুন।
৫৮৭. “মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।” এটি একটি— (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কজটিল বাক্য
- খযৌগিক বাক্য
- গসরল বাক্য
- ঘমিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর: গ. সরল বাক্য
প্রশ্নটা বাক্যের গঠন নিয়ে: সরল, জটিল না যৌগিক। সরল বাক্যের মূল লক্ষণ হলো একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া, মানে যে ক্রিয়ায় কথা শেষ হয়।
বাক্যটায় সমাপিকা ক্রিয়া একটাই: দেয়নি। “মা ছিল না বলে” অংশটা কারণ বোঝানো একটি বাক্যাংশ; এখানে বলে শব্দটি অনুসর্গের মতো কাজ করছে, আলাদা কোনো খণ্ডবাক্য তৈরি করছে না। তাই বাক্যটি সরল।
জটিল বাক্য হতো যদি লেখা থাকত “যেহেতু মা ছিল না, সেহেতু কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি”; এখানে যেহেতু-সেহেতু দিয়ে দুটি খণ্ডবাক্য যুক্ত। আর যৌগিক হতো “মা ছিল না, তাই কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি”, যেখানে দুটি স্বাধীন বাক্য তাই দিয়ে জোড়া।
ফাঁদ হলো “ছিল” ক্রিয়াটা দেখে দুটি ক্রিয়া গুনে ফেলা। লক্ষ করুন, জটিল আর মিশ্র একই জিনিস, তাই দুটি অপশন একসঙ্গে সঠিক হতে পারে না; এটাও ইঙ্গিত দেয় উত্তর সরল।
মনে রাখুন: বাক্যে “বলে”, “করে”, “হলে” দিয়ে কারণ বা শর্ত বোঝালে সাধারণত বাক্যটি সরল; যে-সে, যদি-তবে থাকলে জটিল; এবং, তাই, কিন্তু থাকলে যৌগিক।
৫৮৮. বাংলা ভাষায় প্রথম ব্যাকরণ রচনা করেন কে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কঅক্ষয় দত্ত
- খমার্সম্যান
- গব্র্যাশি হ্যালহেড
- ঘরাজা রামমোহন
সঠিক উত্তর: ঘ. রাজা রামমোহন
প্রশ্নটা বাংলা ব্যাকরণের ইতিহাস নিয়ে, আর এখানে সূক্ষ্ম পার্থক্যটা হলো “বাংলা ভাষায়” লেখা প্রথম ব্যাকরণ। বাংলা ভাষার উপর প্রথম ব্যাকরণ আর বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম ব্যাকরণ দুটো আলাদা প্রশ্ন।
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ লেখেন পর্তুগিজ পাদরি মনোএল দা আসসুম্পসাঁও, ১৭৪৩ সালে লিসবন থেকে, পর্তুগিজ ভাষায়। এরপর ১৭৭৮ সালে নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন; বাংলা হরফ প্রথম ছাপা হয় এই বইয়েই।
বাংলা ভাষায়, বাঙালির লেখা প্রথম পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ হলো রাজা রামমোহন রায়ের গৌড়ীয় ব্যাকরণ, প্রকাশিত ১৮৩৩ সালে। তাই এই প্রশ্নের উত্তর রামমোহন।
ফাঁদ হলো হ্যালহেড: তাঁর বই বিখ্যাত, কিন্তু তা ইংরেজিতে লেখা। আর মার্শম্যান বাংলা গদ্য ও পত্রিকা প্রকাশে ভূমিকা রাখলেও প্রথম বাংলা ব্যাকরণের লেখক নন।
মনে রাখুন: প্রশ্নে “বাংলা ভাষায়” থাকলে রামমোহন, “বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ” থাকলে মনোএল, “ইংরেজিতে” থাকলে হ্যালহেড।
৫৮৯. “যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর”— এখানে ‘হারায়’ কোন ধাতু? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কপ্রযোজক ধাতু
- খভাববাচ্যের ধাতু
- গসংযোগমূলক ধাতু
- ঘনামধাতু
সঠিক উত্তর: ক. প্রযোজক ধাতু
প্রশ্নটা ধাতুর প্রকারভেদ নিয়ে। বাংলায় ধাতু মূলত তিন রকম: মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু, সাধিত ধাতু আর সংযোগমূলক ধাতু। সাধিত ধাতুর ভেতরে আছে প্রযোজক ধাতু আর নামধাতু।
প্রযোজক ধাতু তৈরি হয় মৌলিক ধাতুর সঙ্গে আ যোগ করে: পড়্ থেকে পড়া, কর্ থেকে করা, দেখ্ থেকে দেখা। ব্যাকরণ বইয়ের ব্যাখ্যায় হার্ ধাতুর সঙ্গে আ যোগে হারা ধাতু গঠিত, তাই হারায় ক্রিয়াপদটি প্রযোজক ধাতু থেকে এসেছে বলে ধরা হয়।
নামধাতু আসে বিশেষ্য বা বিশেষণ থেকে, যেমন ঘুম থেকে ঘুমা, বেত থেকে বেতা। আর সংযোগমূলক ধাতু হয় বিশেষ্যের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা যোগে, যেমন ভয় পা, মনে কর্।
সতর্কতা: বাক্যে হারায় মানে হারিয়ে যায়, কাজটা কেউ ঘটাচ্ছে না; তাই অর্থের দিক থেকে কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন। পরীক্ষায় অবশ্য গঠন ধরে প্রযোজক ধাতুই উত্তর হিসেবে নেওয়া হয়। ভাববাচ্যের ধাতু বলে আলাদা কোনো শ্রেণি নেই।
মনে রাখুন: মৌলিক ধাতুর শেষে আ যোগ দেখলে প্রযোজক; বিশেষ্য থেকে ধাতু হলে নামধাতু; বিশেষ্য + কর্/হ্/দে হলে সংযোগমূলক।
৫৯০. “সর্বাঙ্গে ব্যথা, ঔষধ দিব কোথা”— এই বাক্যে ‘ঔষধ’ কোন কারকে কোন বিভক্তির উদাহরণ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- ককর্ম কারকে শূন্য
- খসম্প্রদানে শূন্য
- গঅধিকরণে শূন্য
- ঘকর্তৃকারকে শূন্য
সঠিক উত্তর: ক. কর্ম কারকে শূন্য
প্রশ্নটা কারক ও বিভক্তি নিয়ে। কারক বের করার সহজ কৌশল হলো ক্রিয়াকে প্রশ্ন করা। কর্তাকে কর্ম করতে দেখলে “কী” বা “কাকে” দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর আসে, সেটি কর্মকারক।
বাক্যের ক্রিয়া “দিব”। প্রশ্ন করি: কী দিব? উত্তর: ঔষধ। তাই ঔষধ কর্মকারক। শব্দটির সঙ্গে কোনো বিভক্তি চিহ্ন যুক্ত নেই, তাই এটি শূন্য বিভক্তি।
সাধারণত বস্তুবাচক বা অপ্রাণিবাচক কর্মে বিভক্তি লাগে না, যেমন ভাত খাই, বই পড়ি। ব্যক্তিবাচক কর্মে কে লাগে, যেমন শিক্ষককে ডাকো।
ফাঁদ হলো অধিকরণ, কারণ বাক্যে “কোথা” আর “সর্বাঙ্গে” আছে, যা স্থান বোঝায়। কিন্তু অধিকরণ হলো “সর্বাঙ্গে”, ঔষধ নয়। আর ঔষধ কাউকে দান করা হচ্ছে না, তাই সম্প্রদানও নয়।
মনে রাখুন: কী বা কাকে দিয়ে প্রশ্নের উত্তর কর্ম; চিহ্ন না থাকলে শূন্য বিভক্তি।
৫৯১. ‘সুন্দর মাত্রেরই একটা আকর্ষণ আছে।’— এই বাক্যে ‘সুন্দর’ কোন পদ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কবিশেষ্য
- খবিশেষণ
- গসর্বনাম
- ঘবিশেষণের বিশেষণ
সঠিক উত্তর: ক. বিশেষ্য
প্রশ্নটা পদ নির্ণয় নিয়ে। একই শব্দ বাক্যে কী কাজ করছে তার উপর পদ বদলায়। সুন্দর শব্দটা সাধারণত বিশেষণ, যেমন সুন্দর ফুল।
কিন্তু “সুন্দর মাত্রেরই একটা আকর্ষণ আছে” বাক্যে সুন্দর কোনো বিশেষ্যকে বিশেষিত করছে না; বরং নিজেই একটা ধারণা বা বস্তুর নাম হিসেবে বসেছে, মানে যা কিছু সুন্দর। তার সঙ্গে মাত্র আর এর বিভক্তিও যুক্ত হয়েছে, যা বিশেষ্যের বৈশিষ্ট্য।
একে বলে বিশেষণের বিশেষ্যরূপে প্রয়োগ। আরও উদাহরণ: “সবুজই চোখের আরাম”, “ভালোর সঙ্গে থাকো”, “গরিবের দুঃখ কে বোঝে” — এখানে সবুজ, ভালো, গরিব সবাই বিশেষ্য।
ফাঁদ হলো বিশেষণ, কারণ সুন্দর শব্দটা মুখস্থে বিশেষণ হিসেবেই আছে। পদ ঠিক হয় বাক্যে কাজ দেখে, অভিধানের তালিকা দেখে নয়।
মনে রাখুন: বিশেষণের সঙ্গে বিভক্তি (এর, কে, রা) বা মাত্র যুক্ত হলে সেটা সাধারণত বিশেষ্য হিসেবে বসেছে।
৫৯২. “অল্পপ্রাণ” যে সমাসের উদাহরণ? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কদ্বন্দ্ব
- খতৎপুরুষ
- গউপপদ তৎপুরুষ
- ঘবহুব্রীহি
সঠিক উত্তর: ঘ. বহুব্রীহি
প্রশ্নটা সমাস নির্ণয়ের। অল্পপ্রাণ শব্দের ব্যাসবাক্য হলো অল্প প্রাণ যার। এখানে অল্প বা প্রাণ কোনো পদের অর্থই প্রধান নয়, বরং তৃতীয় একটি জিনিস, মানে এক ধরনের ধ্বনি, বোঝানো হচ্ছে।
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ প্রধান না হয়ে অন্য কোনো অর্থ প্রধান হয়, তা বহুব্রীহি সমাস। ব্যাসবাক্যে সাধারণত যার, যাতে, যে থাকে।
ধ্বনিতত্ত্বে অল্পপ্রাণ বলে সেই ব্যঞ্জনকে, যা উচ্চারণে কম বায়ু বা প্রাণ লাগে, যেমন ক, গ। বিপরীত মহাপ্রাণ, যেমন খ, ঘ; সেটাও বহুব্রীহি: মহা প্রাণ যার।
ফাঁদ হলো তৎপুরুষ বা কর্মধারয়, কারণ অল্প বিশেষণ আর প্রাণ বিশেষ্য মনে হয়। কিন্তু অল্প প্রাণ বোঝানো হচ্ছে না, বোঝানো হচ্ছে যার প্রাণ অল্প, তাই বহুব্রীহি।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে যার, যাতে, যে বসলে আর তৃতীয় কিছু বোঝালে বহুব্রীহি: মহাপ্রাণ, নীলকণ্ঠ, বীণাপাণি।
৫৯৩. বাংলা লোকসাহিত্য সংশ্লিষ্ট 'আলকাপ' হল একপ্রকার- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- ককর্মসঙ্গীত
- খপালাগান
- গসারি গান
- ঘবিবেকের গান
সঠিক উত্তর: খ. পালাগান
আলকাপ উত্তরবঙ্গের এক ধরনের লোকনাট্যধর্মী পালাগান। এতে গান, নাচ, অভিনয় আর ছড়া একসঙ্গে মিশে থাকে, অনেকটা যাত্রার মতো।
রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আর পশ্চিমবঙ্গের মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম অঞ্চলে আলকাপ প্রচলিত। দলের নেতাকে বলে সরকার বা গুরু, আর মেয়ে সেজে নাচে যে কিশোরেরা, তাদের বলে ছোকরা।
আসরে গান আর রসাত্মক সংলাপ দুটো অংশই থাকে, যার বিষয় পুরাণের রাধাকৃষ্ণ থেকে সমকালীন সমাজ পর্যন্ত। যাত্রার মতো বাঁধা সংলাপ নয়, শিল্পীরা অনেকটা তাৎক্ষণিকভাবে বানিয়ে বলেন।
ফাঁদ হলো সারি গান বা কর্মসংগীত; সারি গান নৌকা বাইচ বা ছাদ পেটানোর মতো সমবেত কাজের গান, কাহিনিনির্ভর পালা নয়।
মনে রাখুন: উত্তরবঙ্গের দুই জোড়া মনে রাখুন: আলকাপ ও গম্ভীরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-মালদহের, ভাওয়াইয়া রংপুরের।
৫৯৪. নিচে যে বাগধারাটি অপর তিনটি থেকে বিসদৃশ- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- ককেতাদুরস্ত
- খকেউকেটা
- গকাপুড়ে বাবু
- ঘকলম পেশা
সঠিক উত্তর: ঘ. কলম পেশা
প্রশ্নটা বাগ্ধারার অর্থ মিলিয়ে দলছুট খোঁজার। প্রথমে প্রতিটির অর্থ জানতে হবে, তারপর দেখতে হবে কোন তিনটি একই ধরনের।
কেতাদুরস্ত মানে পরিপাটি, ফিটফাট, আদবকায়দায় দুরস্ত। কাপুড়ে বাবু মানে শুধু পোশাকে বাবু, ভেতরে সারবস্তু নেই। কেউকেটা মানে গণ্যমান্য বা হোমরাচোমরা, প্রায়ই ব্যঙ্গ করে বলা হয়।
এই তিনটিই একজন মানুষের ভাবভঙ্গি, সাজসজ্জা বা কেতা দেখিয়ে বড় সাজার দিক বোঝায়। কিন্তু কলম পেশা মানে কেরানিগিরি বা লেখালেখি করে জীবিকা, অর্থাৎ একটা পেশা। তাই এটাই বিসদৃশ।
ফাঁদ হলো কেউকেটা, কারণ এটা সাজপোশাক নয়, মর্যাদা বোঝায়। তবু এটাও মানুষের জাহির করা অবস্থান বোঝায়, পেশা নয়।
মনে রাখুন: বিসদৃশ খুঁজতে প্রতিটির অর্থ লিখে ফেলুন; যে অর্থটা আলাদা শ্রেণির (এখানে পেশা), সেটাই উত্তর।
৫৯৫. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ'র ইংরেজি ভাষায় লিখিত একটি রচনা হল- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কNight of no moon
- খHow to cook beans
- গTree without roots
- ঘCry River cry
সঠিক উত্তর: খ. How to cook beans
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ নিজে সরাসরি ইংরেজিতে কোনটি লিখেছিলেন। উত্তর “How to Cook Beans”, একটি নাটক, যা তিনি ইংরেজিতেই লিখেছিলেন। লেখাটি অসমাপ্ত ছিল এবং তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
বাকি তিনটি নাম তাঁর বাংলা উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ। “Tree Without Roots” হলো “লালসালু”-র অনুবাদ, যা লেখক নিজেই ১৯৬৭ সালে করেছিলেন। “Night of No Moon” হলো “চাঁদের অমাবস্যা”, আর “Cry, River Cry” হলো “কাঁদো নদী কাঁদো”-র অনুবাদ।
অর্থাৎ মূল লেখা বাংলায়, পরে ইংরেজিতে রূপান্তর, এমন বইগুলো ইংরেজি রচনা নয়। ইংরেজিতে মৌলিকভাবে লেখা তাঁর আরেকটি বই হলো উপন্যাস “The Ugly Asian”।
ফাঁদ হলো “Tree Without Roots”: লেখক নিজে অনুবাদ করেছেন বলে অনেকে একে ইংরেজি রচনা ভাবেন। কিন্তু এর মূল লেখা বাংলা “লালসালু”।
মনে রাখুন: ওয়ালীউল্লাহর তিন উপন্যাসের ইংরেজি নাম মুখস্থ রাখুন; এর বাইরে যেটি, সেটিই মৌলিক ইংরেজি রচনা।
৫৯৬. তখন রতন ধুলায় পড়িয়া তাহার পা জড়াইয়া ধরিয়া কহিল, "দাদাবাবু তোমার দুটি পায়ে পড়ি তোমার দুটি পায়ে পড়ি আমাকে কিছু দিতে হবে না তোমার দুটি পায়ে পড়ি আমার জন্যে কাউকে কিছু ভাবতে হবে না"। - বলিয়া একদৌড়ে সেখান হইতে পলাইয়া গেল। - উদ্ধৃতিতে অনুপস্থিত সেমিকোলন ও ড্যাশের সংখ্যা যথাক্রমে- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- ক১টি: ১টি
- খ২টি:১টি
- গ০টি: ১ টি
- ঘ১টি: ০টি
সঠিক উত্তর: ঘ. ১টি: ০টি
উদ্ধৃতিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প “পোস্টমাস্টার”-এর শেষ অংশ। প্রশ্নে কিছু যতিচিহ্ন সরিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে, কয়টি সেমিকোলন আর কয়টি ড্যাশ বাদ পড়েছে। প্রশ্নের “দেশের” শব্দটি আসলে “ড্যাশের”।
মূল পাঠে রতনের কথা এমন: দাদাবাবু, তোমার দুটি পায়ে পড়ি, তোমার দুটি পায়ে পড়ি, আমাকে কিছু দিতে হবে না; তারপর আবার, তোমার দুটি পায়ে পড়ি, আমার জন্যে কাউকে কিছু ভাবতে হবে না। “দিতে হবে না”-র পরে একটিই সেমিকোলন।
সেমিকোলন বসে দুটি স্বাধীন বাক্যাংশের মাঝে, যখন দাঁড়ির মতো পুরো থামা নয় অথচ কমার চেয়ে বেশি বিরতি দরকার। এখানে প্রথম অংশে টাকা নিতে আপত্তি, দ্বিতীয় অংশে ভাবনা করতে নিষেধ; তাই মাঝে সেমিকোলন।
বিশ্বভারতীর গল্পগুচ্ছে উদ্ধৃতি শেষ হওয়ার পর সরাসরি “বলিয়া একদৌড়ে” লেখা, কোনো ড্যাশ নেই; প্রশ্নেও ড্যাশটি আগে থেকেই বসানো। তাই বাদ পড়া সেমিকোলন ১টি, ড্যাশ ০টি। অনেকে উদ্ধৃতির পরের ড্যাশ ধরে নিয়ে ১টি ড্যাশ গোনেন; এটাই এখানকার ফাঁদ।
মনে রাখুন: যতিচিহ্ন গোনার প্রশ্নে আগে প্রশ্নের লেখায় কোন চিহ্ন আগেই বসানো আছে দেখে নিন; সেটা “অনুপস্থিত” নয়।
৫৯৭. যে রচনাটির সঙ্গে রোকেয়ার সাহিত্যকর্মের সম্পর্ক নেই- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কপিপাসা
- খসওগাত
- গসৌরজগৎ
- ঘলুৎফোউন্নেসা
সঠিক উত্তর: ঘ. লুৎফোউন্নেসা
প্রশ্নের “পরকীয়ার” শব্দটি ছাপার ভুল, আসলে “রোকেয়ার”, কারণ চারটির তিনটিই বেগম রোকেয়ার লেখা। প্রশ্নটা জানতে চায় কোনটি রোকেয়ার রচনা নয়।
“পিপাসা” রোকেয়ার প্রথম প্রকাশিত লেখা, ১৯০২ সালে নবপ্রভা পত্রিকায় ছাপা হয়; এর বিষয় মহররম। “সৌরজগৎ” তাঁর একটি প্রবন্ধ, যা পরে মতিচূরের দ্বিতীয় খণ্ডে স্থান পায়।
“সওগাত” রোকেয়ার একটি কবিতা। মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সওগাত পত্রিকার প্রথম সংখ্যায়, ১৩২৫ বঙ্গাব্দে, এই কবিতাটি ছাপা হয়েছিল।
“লুৎফুন্নেসা” নামে রোকেয়ার কোনো রচনা নেই, তাই এটিই উত্তর। ফাঁদ হলো “সওগাত”: পত্রিকার নাম ভেবে অনেকে একে বাদ দিতে চান, অথচ একই নামে রোকেয়ার কবিতা আছে।
মনে রাখুন: রোকেয়ার প্রধান বই: মতিচূর, সুলতানার স্বপ্ন, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী; প্রবন্ধে পিপাসা, সৌরজগৎ, অর্ধাঙ্গী, স্ত্রীজাতির অবনতি।
৫৯৮. 'সন্তরণ' শব্দের প্রমিত উচ্চারণ হল- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কসন্ তোরন
- খশন্ তরোন
- গশন্ তরন্
- ঘসন্তরোন্
সঠিক উত্তর: খ. শন্ তরোন
অপশনগুলো দেখলে বোঝা যায় শব্দটি “সন্তরণ”, মানে সাঁতার; প্রশ্নে ছাপা “সম্বরণ” ভুল প্রতিলিপি। প্রশ্নটা প্রমিত উচ্চারণের দুটি নিয়ম পরীক্ষা করছে।
প্রথম নিয়ম: শব্দের শুরুতে দন্ত্য স সাধারণত শ উচ্চারিত হয়, যেমন সন্তান উচ্চারণ শন্তান্, সংসার উচ্চারণ শংশার্। তাই সন্তরণের শুরু হবে শন্।
দ্বিতীয় নিয়ম: তৎসম শব্দে “অণ” বা “অন” দিয়ে শেষ হওয়া অংশের আগের অ প্রায়ই ও হয়ে যায়, যেমন মরণ উচ্চারণ মরোন্, করণ উচ্চারণ করোন্। তেমনি তরণ হয় তরোন্। সব মিলিয়ে উচ্চারণ শন্তরোন্।
ফাঁদ দুটি: শুরুতে স রেখে দেওয়া, অথবা মাঝের র-এর অ-কে ও না করে “শন্তরন্” লেখা।
মনে রাখুন: একই ছাঁচ: সন্তান = শন্তান্, মরণ = মরোন্, হরণ = হরোন্; তাই সন্তরণ = শন্তরোন্।
৫৯৯. নিচে যে বানানটি অশুদ্ধ- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কভগ্নস্তূপ
- খভূমিধ্বস
- গভৌগলিক
- ঘভস্মীভূত
সঠিক উত্তর: গ. ভৌগলিক
প্রশ্নটা অশুদ্ধ বানান খুঁজতে বলেছে। “ভৌগলিক” নিশ্চিতভাবে ভুল; শুদ্ধ রূপ “ভৌগোলিক”। ভূগোল শব্দের সঙ্গে ইক প্রত্যয় যোগ হলে প্রথম স্বর ঊ বৃদ্ধি পেয়ে ঔ হয়, আর গোল অংশের ও-কার ঠিক থাকে: ভূগোল থেকে ভৌগোলিক।
একই নিয়মে ইতিহাস থেকে ঐতিহাসিক, সমাজ থেকে সামাজিক। মূল শব্দে যে ও-কার আছে, প্রত্যয় লাগলেও তা হারায় না; তাই ভৌগলিক লেখা চলে না।
“ভগ্নস্তূপ” আর “ভস্মীভূত” দুটোই শুদ্ধ; স্তূপ শব্দে দীর্ঘ ঊ-কার, আর ভস্ম থেকে ভস্মীভূত। তবে “ভূমিধ্বস” বানানটিও বাংলা একাডেমির প্রমিত রূপ নয়; প্রমিত বানান “ভূমিধস”, ধস শব্দে ব-ফলা নেই।
অর্থাৎ এই প্রশ্নে দুটি অশুদ্ধ বানান আছে। কোনো কোনো গাইড ভূমিধ্বস-কে উত্তর ধরে; কিন্তু ভৌগলিক ভুল হওয়াটা কোনো অভিধানেই বিতর্কিত নয়।
মনে রাখুন: ইক প্রত্যয়ের শব্দে মূল শব্দের বানান খুঁজুন: ভূগোল → ভৌগোলিক, ইতিহাস → ঐতিহাসিক, পরলোক → পারলৌকিক।
৬০০. মানবদেহের যে প্রত্যঙ্গ ঘোষতা নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কজিভ
- খস্বরতন্ত্রী
- গকন্ঠনালী
- ঘমুখবিবর
সঠিক উত্তর: খ. স্বরতন্ত্রী
ঘোষতা মানে কোনো ধ্বনি ঘোষ না অঘোষ, তা। এটা ঠিক করে স্বরতন্ত্রী, মানে গলার ভেতরে স্বরযন্ত্রের দুটি পাতলা পর্দা।
কথা বলার সময় ফুসফুস থেকে বাতাস স্বরতন্ত্রীর ফাঁক দিয়ে বের হয়। স্বরতন্ত্রী কাছাকাছি এসে কাঁপলে ধ্বনিতে গুঞ্জন আসে, তাকে বলে ঘোষ ধ্বনি, যেমন গ, জ, দ, ব। না কাঁপলে অঘোষ ধ্বনি, যেমন ক, চ, ত, প।
গলায় আঙুল রেখে গ আর ক বলে দেখুন: গ বলার সময় কাঁপুনি টের পাবেন, ক বলার সময় পাবেন না।
জিভ আর মুখবিবর ঠিক করে ধ্বনিটি কোথায় তৈরি হবে, মানে উচ্চারণস্থান। কণ্ঠনালী বাতাসের পথ মাত্র। তাই ঘোষতার মূল নিয়ামক স্বরতন্ত্রী।
মনে রাখুন: ঘোষ-অঘোষ = স্বরতন্ত্রী; অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ = বাতাসের জোর; স্থান = জিভ ও মুখ।