বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ২৯
৫৬১. নিচের যে শব্দটি আঞ্চলিক প্রভাবিত নয়- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- ককাটারি
- খখপর
- গমেয়া
- ঘএর্কি
সঠিক উত্তর: ক. কাটারি
প্রশ্নটি জানতে চায় কোন শব্দটি প্রমিত বাংলা, অর্থাৎ আঞ্চলিক উচ্চারণের প্রভাবে বদলে যায়নি।
কাটারি প্রমিত বাংলা শব্দ, মানে ছোট দা বা কাটার অস্ত্র। অভিধানে এই রূপেই আছে, তাই এটি আঞ্চলিক প্রভাবিত নয়।
বাকি তিনটি প্রমিত শব্দের আঞ্চলিক রূপ। খপর এসেছে খবর থেকে, ব বদলে প হয়েছে। মেয়া এসেছে মিয়া থেকে, আর এর্কি হলো ইয়ার্কির আঞ্চলিক উচ্চারণ।
প্রতিটি শব্দের পাশে তার প্রমিত রূপ বসিয়ে দেখলেই উত্তর পাওয়া যায়; যে শব্দের আলাদা প্রমিত রূপ নেই, সেটিই উত্তর।
মনে রাখুন: প্রমিত রূপ বসিয়ে দেখুন: যার আলাদা প্রমিত রূপ নেই, সেটিই আঞ্চলিক প্রভাবমুক্ত।
৫৬২. শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধের শরণার্থী অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটেছে যে রচনায়- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কপতঙ্গ পিঞ্জর
- খনেকড়ে অরণ্যে
- গজাহান্নম হইতে বিদায়
- ঘচৌরসন্ধি
সঠিক উত্তর: গ. জাহান্নম হইতে বিদায়
প্রশ্নটা শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসগুলোর মধ্যে পার্থক্য জানতে চেয়েছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কয়েকটি উপন্যাস লিখেছেন, কিন্তু প্রতিটির বিষয় আলাদা।
জাহান্নম হইতে বিদায় যুদ্ধের বছরেই, ১৯৭১ সালে প্রকাশিত হয়। নামটাই বলে দেয় কাহিনি: পাকিস্তানি বাহিনীর দখলে থাকা অবরুদ্ধ দেশ, মানে জাহান্নাম, ছেড়ে চলে যাওয়া। ঘরবাড়ি ছেড়ে সীমান্তের দিকে পাড়ি দেওয়া মানুষের শরণার্থী অভিজ্ঞতাই এর মূল বিষয়।
নেকড়ে অরণ্যে উপন্যাস ১৯৭৩ সালের; এতে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে বন্দি নারীদের উপর নির্যাতনের চিত্র আছে, শরণার্থী জীবনের নয়। তাঁর আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস দুই সৈনিক, সেটিও ১৯৭৩ সালের।
ফাঁদ হলো নেকড়ে অরণ্যে, কারণ এটিও মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস। মনে রাখুন, শরণার্থী বা দেশত্যাগের কাহিনি মানে জাহান্নম হইতে বিদায়।
মনে রাখুন: শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধের ৩টি উপন্যাস: জাহান্নম হইতে বিদায়, নেকড়ে অরণ্যে, দুই সৈনিক। শরণার্থী মানে জাহান্নম হইতে বিদায়।
৫৬৩. আচমন’ এর সমার্থক হলো- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কস্নিগ্ধ
- খআবীর
- গপ্রক্ষালন
- ঘঅবহেলা
সঠিক উত্তর: গ. প্রক্ষালন
প্রশ্নটা সমার্থক শব্দ জানতে চেয়েছে। আচমন শব্দের মানে হলো শুদ্ধ হওয়ার জন্য পানি মুখে নেওয়া, মুখ ধোয়া বা পানি দিয়ে পরিষ্কার করা। পূজা বা প্রার্থনার আগে হাত-মুখ ধোয়াকে আচমন বলে।
প্রক্ষালন মানে পানি দিয়ে ধোয়া বা পরিষ্কার করা, যেমন হস্ত প্রক্ষালন মানে হাত ধোয়া। দুটো শব্দেই পানি দিয়ে শুদ্ধ বা পরিষ্কার করার ভাব আছে, তাই প্রক্ষালনই সমার্থক।
বাকি শব্দগুলোর অর্থ একেবারে আলাদা। স্নিগ্ধ মানে কোমল বা শীতল, আবীর হলো রঙিন গুঁড়া, আর অবহেলা মানে অযত্ন। আচমন ও আবীর দুটোই পূজার সঙ্গে জড়িত বলে অনেকে আবীর বেছে নেন; এটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: প্রক্ষালন, ধৌতকরণ, আচমন একই পরিবারের শব্দ: সবকটিতে পানি দিয়ে ধোয়ার ভাব।
৫৬৪. ’বিহ্বলতা’- র প্রমিত উচ্চারণ হলো- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কবিহভলতা
- খবিউভলতা
- গবিওভলোতা
- ঘবিওভোলোতা
সঠিক উত্তর: খ. বিউভলতা
প্রশ্নটা যুক্তবর্ণ হ্ব-এর উচ্চারণ যাচাই করছে। হ্ব লিখলে হ আর ব আলাদা শোনা যায় না; হ প্রায় হারিয়ে যায়, আর ব উচ্চারিত হয় ভ-এর মতো, সঙ্গে একটি উ বা ও ধ্বনি যোগ হয়।
কোন স্বর যোগ হবে তা নির্ভর করে আগের বর্ণের উপর। আগে ই-কার থাকলে হয় উভ, যেমন জিহ্বা হয় জিউভা, বিহ্বল হয় বিউভল্। আগে অ বা আ থাকলে হয় ওভ, যেমন আহ্বান হয় আওভান্, গহ্বর হয় গওভর্।
বিহ্বলতা শব্দে হ্ব-এর আগে বি, মানে ই-কার, তাই শুরুটা বিউভ। তাই উ-যুক্ত রূপ বিউভলতাই সঠিক অপশন; অভিধানের পূর্ণ রূপে শেষের তা-এর আগে একটি ও ধ্বনি যোগ হয়ে বিউভলোতা হয়।
ফাঁদ হলো ও-যুক্ত রূপগুলো। আহ্বান শব্দের আওভান উচ্চারণ মনে রেখে অনেকে সব জায়গায় ওভ বসিয়ে দেন, কিন্তু ই-কারের পরে ওভ নয়, উভ হয়।
মনে রাখুন: হ্ব-এর আগে ই-কার দেখলেই উভ: জিহ্বা, বিহ্বল, বিহ্বলতা। অ/আ দেখলে ওভ: আহ্বান, গহ্বর, আহ্বায়ক।
৫৬৫. ’রূপার চেয়ে সোনার দাম বেশি’। স্ফীত হরফের শব্দটিতে কারকের দৃষ্টান্ত- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- ককর্ম
- খকর্তৃ
- গকরণ
- ঘঅধিকরণ
সঠিক উত্তর: খ. কর্তৃ
কারক খুঁজতে হলে আগে বাক্যের ক্রিয়া খুঁজতে হয়, তারপর ক্রিয়াকে প্রশ্ন করতে হয়। এই বাক্যে ক্রিয়া উহ্য আছে: পূর্ণ রূপ হলো সোনার দাম রূপার চেয়ে বেশি হয়।
কী বেশি হয়? উত্তর দাম। ক্রিয়াটা যে সম্পন্ন করে বা যার সম্পর্কে বলা হয়, সে কর্তা; তাই দাম শব্দটি কর্তৃকারক, শূন্য বিভক্তি।
বাক্যের অন্য পদগুলো আলাদা ভূমিকায় আছে। সোনার শব্দটি দামের সঙ্গে সম্পর্ক বোঝায়, তাই এটি সম্বন্ধ পদ; সম্বন্ধ পদ কারক নয়। রূপার চেয়ে অংশটি তুলনা বোঝায়।
ফাঁদ হলো কর্ম। এখানে কোনো সকর্মক ক্রিয়া নেই, কাউকে কিছু করা হচ্ছে না, তাই কর্মকারক আসার সুযোগ নেই।
মনে রাখুন: উহ্য ক্রিয়া বসিয়ে কে বা কী দিয়ে প্রশ্ন করুন; যে উত্তর আসে সেটাই কর্তা।
৫৬৬. ’বিরল’ এর বিপরীতার্থক রূপ হলো- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কব্যতিক্রম
- খসুলভ
- গসরল
- ঘবিশেষ
সঠিক উত্তর: খ. সুলভ
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দ জানতে চেয়েছে। বিরল মানে যা সহজে পাওয়া যায় না, অল্প পরিমাণে আছে।
এর উল্টো হলো যা সহজে পাওয়া যায়, মানে সুলভ। সুলভ শব্দটা সু উপসর্গ আর লভ ধাতু থেকে, অর্থ সহজলভ্য। দুর্লভ আর সুলভ যেমন বিপরীত, বিরল আর সুলভও তেমনি।
বিরলের আরেকটি অর্থ ফাঁকা বা অঘন; সেই অর্থে বিপরীত হলো ঘন বা অবিরল। কিন্তু অপশনে সেগুলো নেই, তাই সুলভই উত্তর।
ব্যতিক্রম আর বিশেষ শব্দ দুটো বিরলের কাছাকাছি অর্থের, বিপরীত নয়; এগুলোই ফাঁদ। সরল শব্দটা বিরলের সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে বিভ্রান্ত করতে দেওয়া হয়েছে।
মনে রাখুন: বিরল, দুর্লভ, দুষ্প্রাপ্য: সবকটির বিপরীত সুলভ বা সহজলভ্য।
৫৬৭. নিচের যেটি বাংলা ভাষার অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কসবগুলো
- খএকত্র
- গকর্তৃপক্ষ
- ঘঅনুষ্ঠাতব্য
সঠিক উত্তর: ক. সবগুলো
প্রশ্নটা অপপ্রয়োগ, মানে ভুলভাবে ব্যবহৃত শব্দ খুঁজতে বলেছে। বাংলায় একই শব্দে দুবার বহুবচন বসানো অপপ্রয়োগ, একে বলে দ্বিরুক্ত বহুবচন।
সব শব্দটা নিজেই বহুবচন বোঝায়, আবার গুলো-ও বহুবচনের চিহ্ন। তাই সবগুলো লিখলে বহুবচন দুবার হয়ে যায়। শুদ্ধ হবে শুধু সব, অথবা বইগুলো, কলমগুলো এভাবে।
বাকি তিনটি শব্দ শুদ্ধ। একত্র নিজেই শুদ্ধ; অপপ্রয়োগ হলো একত্রিত। কর্তৃপক্ষ শুদ্ধ। অনুষ্ঠাতব্য শুদ্ধ সংস্কৃত গঠন; বহুল প্রচলিত অনুষ্ঠিতব্য রূপটিই আসলে ভুল।
ফাঁদ হলো একত্র আর অনুষ্ঠাতব্য। এগুলো চেনা ভুলের শুদ্ধ রূপ, কিন্তু দেখতে অপরিচিত লাগে বলে অনেকে এগুলোকেই ভুল ভাবেন।
মনে রাখুন: সকল, সব, সমস্ত, বহু শব্দের পরে গুলো, গণ, বৃন্দ বসালেই দ্বিরুক্ত বহুবচন, মানে ভুল।
৫৬৮. আলংকারিক প্রয়োগ বর্জনীয় যে ক্ষেত্রে- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কপত্র লিখন
- খভাবসম্প্রসারণ
- গপ্রবন্ধ রচনা
- ঘসারাংশ লিখন
সঠিক উত্তর: ঘ. সারাংশ লিখন
প্রশ্নটা রচনার বিভিন্ন ধরনে ভাষার রীতি নিয়ে। আলংকারিক প্রয়োগ মানে উপমা, রূপক, অলংকারপূর্ণ সাজানো ভাষা।
সারাংশ লিখনের উদ্দেশ্য মূল লেখার মূল ভাবটুকু অল্প কথায়, সহজ ও সরল ভাষায় তুলে ধরা। সেখানে অলংকার, উদ্ধৃতি, উদাহরণ বা নিজের মত যোগ করা যায় না, কারণ তাতে লেখা বড় হয় আর মূল ভাব ঘোলাটে হয়।
উল্টো দিকে ভাবসম্প্রসারণ আর প্রবন্ধে ভাবকে বিস্তৃত করতে হয়, সেখানে উপমা বা উদ্ধৃতি লেখাকে সমৃদ্ধ করে। ব্যক্তিগত পত্রেও আবেগ প্রকাশে কিছুটা আলংকারিক ভাষা চলে।
ফাঁদ হলো পত্র লিখন। দাপ্তরিক চিঠি সাদামাটা হয় ঠিকই, কিন্তু পত্রের সব ধরনে অলংকার বর্জনীয় নয়; সারাংশে সব সময়ই বর্জনীয়।
মনে রাখুন: যেখানে লেখা ছোট করতে হয় (সারাংশ, সারমর্ম), সেখানে অলংকার নয়; যেখানে বড় করতে হয় (ভাবসম্প্রসারণ, প্রবন্ধ), সেখানে চলে।
৫৬৯. বাংলা লিপি সংস্কারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গরামমোহন রায়
- ঘবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
প্রশ্নটা বাংলা বর্ণমালা ও লিপি সংস্কারের কারিগর কে, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
১৮৫৫ সালে প্রকাশিত বর্ণপরিচয় বইয়ে বিদ্যাসাগর বাংলা বর্ণমালাকে নতুন করে সাজান। তিনি দীর্ঘ ঋ ও দীর্ঘ ঌ বর্ণ দুটি বাদ দেন, অনুস্বার ও বিসর্গকে স্বরবর্ণ থেকে ব্যঞ্জনবর্ণে নেন, আর ড়, ঢ়, য় বর্ণগুলো যুক্ত করেন। এভাবে স্বরবর্ণ দাঁড়ায় ১২টি, ব্যঞ্জনবর্ণ ৪০টি।
তাঁকে বাংলা গদ্যের জনকও বলা হয়, কারণ তিনি বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক ব্যবহার শুরু করেন।
ফাঁদ হলো রামমোহন রায়। তিনি বাংলা গদ্য ও ব্যাকরণ চর্চায় অগ্রণী ছিলেন, গৌড়ীয় ব্যাকরণ লিখেছেন, কিন্তু লিপি সংস্কারের কৃতিত্ব বিদ্যাসাগরের।
মনে রাখুন: বর্ণপরিচয় মানেই বিদ্যাসাগর; বাংলা লিপি ও বর্ণমালা সংস্কারের প্রশ্নে উত্তর তিনিই।
৫৭০. উক্তি পরিবর্তন “ মা রেগে আমাকে বললেন, তোমার গিয়ে কাজ নেই- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- করাগান্বিতভাবে মা আমাকে যেতে নিষেধ করেছিলেন
- খমা রেগে আমাকে বললেন যে, আমার যেয়ে কী হবে?
- গমা রাগ করে বললেন যে, যেও না।
- ঘরাগ করে মা আমাকে বললেন যে, আমার যাওয়া অকার্যকর হবে
সঠিক উত্তর: ক. রাগান্বিতভাবে মা আমাকে যেতে নিষেধ করেছিলেন
প্রশ্নটা প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে বদলাতে বলেছে। মূল বাক্য: মা রেগে আমাকে বললেন, তোমার গিয়ে কাজ নেই। এর ভাব হলো যেতে নিষেধ করা।
আদেশ, অনুরোধ বা নিষেধসূচক উক্তি পরোক্ষে নিলে বললেন ক্রিয়ার জায়গায় ভাব অনুযায়ী ক্রিয়া বসে: আদেশ করলেন, অনুরোধ করলেন, নিষেধ করলেন। আর উদ্ধৃতির ভেতরের কথা সরাসরি না বসিয়ে তার মূল ভাব বসে।
তাই পরোক্ষ রূপ হয়: মা রেগে আমাকে যেতে নিষেধ করলেন। প্রথম অপশনে ঠিক এই ভাবটাই আছে; রেগে কথাটা রাগান্বিতভাবে হয়েছে।
ফাঁদ হলো যে দিয়ে জোড়া অপশনগুলো। পরোক্ষ উক্তিতে যে বসিয়ে প্রশ্নবোধক বা হুবহু আদেশ রাখা যায় না, আর যেও না অংশে সর্বনামও বদলায়নি।
মনে রাখুন: নিষেধসূচক উক্তি পরোক্ষে: বললেন বাদ, বসে নিষেধ করলেন; উদ্ধৃতির জায়গায় ক্রিয়ার মূল রূপ, যেমন যেতে, করতে।
৫৭১. 'হাড়হদ্দ' বাগ্ধারা দিয়ে বোঝায় - (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কস্পর্ধা
- খঅকৃত্রিম
- গনাড়ীনক্ষত্র
- ঘদৃঢ়তা
সঠিক উত্তর: গ. নাড়ীনক্ষত্র
প্রশ্নটা বাগ্ধারার অর্থ জানতে চেয়েছে। হাড়হদ্দ মানে কোনো কিছুর বা কারও সব খুঁটিনাটি খবর, ভেতর-বাইরের সব তথ্য।
হাড় মানে শরীরের ভেতরের কাঠামো, হদ্দ মানে সীমা বা শেষ। দুটো মিলে বোঝায় একেবারে শেষ সীমা পর্যন্ত জানা। যেমন: লোকটার হাড়হদ্দ আমার জানা।
নাড়ীনক্ষত্রও একই অর্থ বহন করে: সমস্ত খবর বা গোপন তথ্য। তাই হাড়হদ্দ আর নাড়ীনক্ষত্র সমার্থক বাগ্ধারা।
ফাঁদ হলো দৃঢ়তা। হাড় শব্দ শুনে শক্ত বা মজবুত কিছু মনে হয়, কিন্তু বাগ্ধারার অর্থ আক্ষরিক নয়।
মনে রাখুন: সব খবর জানা বোঝাতে তিনটি বাগ্ধারা: হাড়হদ্দ, নাড়ীনক্ষত্র, নাড়ির খবর।
৫৭২. ডাক ও খনার বচনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট ভূমিকা রেখেছেন- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গরামমোহন রায়
- ঘবঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
এই প্রশ্নের ছাপা বাক্যটি ভাঙা, তাই অর্থ পুরো পরিষ্কার নয়। প্রচলিত উত্তর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, যিনি বাংলা গদ্যকে সুশৃঙ্খল ও শিল্পসম্মত রূপ দেওয়ায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন।
বিদ্যাসাগরকে বলা হয় বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক শিল্পী। তিনি বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক ব্যবহার শুরু করেন এবং বাক্যে ছন্দ ও ভারসাম্য আনেন। তাঁর বিখ্যাত রচনা বেতাল পঞ্চবিংশতি, শকুন্তলা ও সীতার বনবাস।
ডাক ও খনার বচন বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন লোকজ উপাদান। ডাকের বচনে আছে মানুষের আচরণ ও জীবনযাত্রার উপদেশ, আর খনার বচনে আছে কৃষি, আবহাওয়া ও জ্যোতিষবিষয়ক জ্ঞান। এগুলো মুখে মুখে প্রচলিত ছিল।
রবীন্দ্রনাথ, রামমোহন ও বঙ্কিমচন্দ্রও গদ্যে বড় অবদান রেখেছেন, তাই অপশনগুলো বিভ্রান্তিকর। রামমোহন ছিলেন বিতর্কমূলক গদ্যের পথিকৃৎ, বঙ্কিমচন্দ্র প্রথম সার্থক উপন্যাসিক, আর যতিচিহ্নসহ শিল্পিত গদ্যের কৃতিত্ব বিদ্যাসাগরের।
মনে রাখুন: বাংলা গদ্যের জনক বা যতিচিহ্ন দেখলেই বিদ্যাসাগর।
৫৭৩. 'খনার বচন'-এর মূলভাব কী? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কলৌকিক প্রণয়সংগীত
- খশুদ্ধ জীবনযাপন রীতি
- গসামাজিক মঙ্গলবোধ
- ঘরাষ্ট্র পরিচালনার নীতি
সঠিক উত্তর: খ. শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি
খনার বচন হলো ছোট ছোট ছড়া বা প্রবাদধর্মী উক্তি, যেগুলো খনা নামের এক কিংবদন্তি নারীর নামে প্রচলিত। এগুলো মুখে মুখে ছড়িয়েছে, তাই লোকসাহিত্যের অংশ।
এদের বিষয় মূলত কৃষিকাজ, আবহাওয়া, ঋতু, স্বাস্থ্য আর দৈনন্দিন আচরণ। যেমন কখন কোন ফসল বুনতে হবে, কেমন আকাশ দেখলে বৃষ্টি হবে, কতটা খেতে হবে। অর্থাৎ বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে সঠিকভাবে জীবন চালানোর উপদেশ।
তাই খনার বচনের মূলভাব হিসেবে শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি সবচেয়ে উপযুক্ত। বিখ্যাত উদাহরণ: যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্যি রাজার পুণ্যি দেশ।
এগুলো প্রেমের গান নয়, রাষ্ট্র চালানোর নীতিও নয়। সামাজিক মঙ্গলবোধ শুনতে কাছাকাছি লাগলেও বচনগুলো মূলত ব্যক্তি ও কৃষকের ব্যবহারিক জীবনের পরামর্শ।
মনে রাখুন: লোকসাহিত্যের ধারা মনে রাখুন: খনার বচন = কৃষি ও জীবনযাপনের উপদেশ; মৈমনসিংহ গীতিকা = লৌকিক প্রণয়।
৫৭৪. সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য কোন পদে বেশী বেশী দেখা যায়? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কবিশেষ্য ও ক্রিয়া
- খবিশেষণ ও ক্রিয়া
- গবিশেষ্য ও বিশেষণ পদে
- ঘক্রিয়া ও সর্বনামে
সঠিক উত্তর: ঘ. ক্রিয়া ও সর্বনামে
সাধু আর চলিত ভাষার পার্থক্য সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদে। সাধু ভাষায় এ দুটি পদের রূপ পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘ, চলিতে সংক্ষিপ্ত।
ক্রিয়াপদের উদাহরণ: সাধুতে করিয়াছিলাম, চলিতে করেছিলাম; সাধুতে যাইতেছে, চলিতে যাচ্ছে। সর্বনামের উদাহরণ: তাহারা থেকে তারা, যাহা থেকে যা, ইহা থেকে এটা।
বিশেষ্য আর বিশেষণ পদে সাধারণত বড় পরিবর্তন হয় না; শুধু কিছু তৎসম শব্দ চলিতে তদ্ভব রূপ নেয়। তাই মূল পার্থক্যের জায়গা সর্বনাম ও ক্রিয়া।
অনেকে বিশেষ্য ও ক্রিয়া বেছে নেন, কারণ ক্রিয়ার পার্থক্য চোখে পড়ে; কিন্তু সঙ্গী পদটি বিশেষ্য নয়, সর্বনাম।
মনে রাখুন: সাধু থেকে চলিত করতে হলে আগে ক্রিয়া আর সর্বনাম বদলান।
৫৭৫. কোনটি মৌলিক শব্দ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কমানব
- খগোলাপ
- গএকাঙ্ক
- ঘধাতব
সঠিক উত্তর: খ. গোলাপ
মৌলিক শব্দ হলো যে শব্দকে আর ভাঙা বা বিশ্লেষণ করা যায় না, যেমন গোলাপ, নাক, লাল, হাত। এদের ভেতরে আলাদা প্রকৃতি ও প্রত্যয় বা সন্ধি নেই।
বাকি তিনটি সাধিত শব্দ। মানব এসেছে মনু থেকে, অপত্য অর্থে প্রত্যয় যোগে; ধাতব এসেছে ধাতু থেকে, প্রত্যয় যোগে; একাঙ্ক হলো এক আর অঙ্ক মিলে সন্ধি।
তাই চারটির মধ্যে শুধু গোলাপ মৌলিক শব্দ।
মানব শব্দটা খুব পরিচিত বলে মৌলিক মনে হয়, এটাই ফাঁদ; মনু-র সন্তান অর্থে মানব, তাই এটি প্রত্যয়সাধিত।
মনে রাখুন: শব্দকে ভেঙে অর্থপূর্ণ মূল পাওয়া গেলে সাধিত, না গেলে মৌলিক। আরও মৌলিক: ফুল, মা, বই।
৫৭৬. নীচের কোন বানানগুচ্ছের সবগুলো বানানই অশুদ্ধ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কনির্গুণ, সূচগ্র, অনূর্ধ্ব
- খঅনুর্বর, ঊর্ধ্বর্যামী, শুদ্ধাশুদ্ধি
- গশুদ্ধাশুদ্ধি, দুরতিক্রম্য,নির্গুণ
- ঘরানি, বিকিরণ, দুরতিক্রম্য
সঠিক উত্তর: ক. নির্গুণ, সূচগ্র, অনূর্ধ্ব
প্রশ্নটা চাইছে এমন একটি গুচ্ছ, যার তিনটি বানানই ভুল। প্রতিটি শব্দ গঠন অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।
সূচ্যগ্র হলো সূচি আর অগ্র মিলে সন্ধি, ই-এর পরে অ এলে য-ফলা হয়; তাই সূচগ্র ভুল। নির্গুণ মানে গুণহীন, নির্ আর গুণ; অনূর্ধ্ব মানে ঊর্ধ্ব নয়, নঞ্ সমাসে অন্ যোগে ঊ থেকে অনূ। এই দুটি শুদ্ধ রূপ।
অন্য গুচ্ছগুলোর প্রায় সব বানান শুদ্ধ: অনুর্বর, শুদ্ধাশুদ্ধি, দুরতিক্রম্য, রানি, বিকিরণ। খ গুচ্ছে শুধু ঊর্ধ্বর্যামী ভুল, যার শুদ্ধ রূপ ঊর্ধ্বগামী।
দুই উৎসেই উত্তর ক। তবে এখানে যেমন লেখা আছে, তাতে ক গুচ্ছে একটি আর খ গুচ্ছেও একটি বানান ভুল; সম্ভবত মূল প্রশ্নপত্রে ক গুচ্ছের তিনটি শব্দই ভুল বানানে ছাপা ছিল। তাই উত্তর ক ধরা হলেও প্রশ্নের প্রতিলিপি যাচাইসাপেক্ষ।
মনে রাখুন: ই/ঈ-এর পরে অ এলে য-ফলা: সূচি + অগ্র = সূচ্যগ্র, অতি + অন্ত = অত্যন্ত।
৫৭৭. 'অলৌকিক ইস্টিমার' গ্রন্থের রচয়িতা কে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কহুমায়ুন আজাদ
- খহেলাল হাফিজ
- গআসাদ চৌধুরী
- ঘরফিক আজাদ
সঠিক উত্তর: ক. হুমায়ুন আজাদ
অলৌকিক ইস্টিমার হুমায়ুন আজাদের কাব্যগ্রন্থ, প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। এটিই তাঁর প্রকাশিত প্রথম বই।
হুমায়ুন আজাদ ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী ও প্রথাবিরোধী প্রাবন্ধিক। তাঁর আরও পরিচিত কাব্য জ্বলো চিতাবাঘ, উপন্যাস ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল, আর প্রবন্ধগ্রন্থ নারী।
অন্য কবিরাও একই সময়ের, তাই বিভ্রান্তি হয়: হেলাল হাফিজের বিখ্যাত কাব্য যে জলে আগুন জ্বলে, আসাদ চৌধুরীর তবক দেওয়া পান, আর রফিক আজাদের অসম্ভবের পায়ে।
মনে রাখুন: হুমায়ুন আজাদের প্রথম বই কাব্য: অলৌকিক ইস্টিমার (১৯৭৩)।
৫৭৮. 'মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে'- কার উক্তি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কমীর মশাররফ হোসেনের
- খইসমাইল হোসেন সিরাজীর
- গরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
- ঘকাজী নজরুল ইসলামের
সঠিক উত্তর: ক. মীর মশাররফ হোসেনের
উক্তিটি মীর মশাররফ হোসেনের। তিনি হিতকরী পত্রিকায় প্রকাশিত আমাদের শিক্ষা প্রবন্ধে মাতৃভাষার প্রতি অনুরাগের কথা জোর দিয়ে বলেছিলেন; উক্তিটি বিভিন্ন বইয়ে সামান্য ভিন্ন শব্দে উদ্ধৃত হয়।
উনিশ শতকে মুসলিম সমাজের একাংশ বাংলাকে নিজের ভাষা মানতে দ্বিধা করত। মশাররফ হোসেন বাংলায় লিখে আর এমন বক্তব্য দিয়ে প্রমাণ করেন যে বাংলাই বাঙালি মুসলমানেরও মাতৃভাষা।
তিনি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাস, জমীদার দর্পণ নাটক আর আত্মজীবনী আমার জীবনীর জন্য বিখ্যাত। তাঁর জন্ম কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়ায়।
মাতৃভাষা নিয়ে আরেকটি বিখ্যাত উক্তি, যে সব বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, আবদুল হাকিমের। দুটো গুলিয়ে ফেলা সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: মাতৃভাষা নিয়ে দুই বিখ্যাত উক্তি: “ভক্তি নাই সে মানুষ নহে” মশাররফ; “বঙ্গেতে জন্মি” আবদুল হাকিম।
৫৭৯. “" কোন ধরনের স্বরধ্বনি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কযৌগিক স্বরধ্বনি
- খতালব্য স্বরধ্বনি
- গমিলিত স্বরধ্বনি
- ঘকোনটি নয়
সঠিক উত্তর: ক. যৌগিক স্বরধ্বনি
প্রশ্নটা যৌগিক স্বরধ্বনি যাচাই করছে। পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি দ্রুত একটানা উচ্চারিত হয়ে একটি স্বরের মতো শোনালে তাকে যৌগিক স্বর বা দ্বিস্বর বলে।
বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরের চিহ্ন দুটি: ঐ আর ঔ। ঐ হলো অ যোগ ই, আর ঔ হলো অ যোগ উ। যেমন কৈ, বৌ।
দুটি স্বর মিলেই যৌগিক স্বর তৈরি হয় বলে ব্যাকরণ বইয়ে বর্ণনায় মিলিত স্বর কথাটি আসে; কিন্তু এর পারিভাষিক নাম যৌগিক স্বরধ্বনি।
তালব্য স্বর বলা হয় যে স্বরের উচ্চারণে জিভ তালুর দিকে ওঠে, যেমন ই, ঈ, এ; এটি উচ্চারণস্থানের শ্রেণি, যৌগিক কি না তা নয়।
মনে রাখুন: বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরবর্ণ মাত্র ২টি: ঐ ও ঔ।
৫৮০. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গীতাঞ্জলি' কাব্য প্রকাশিত হয় কত সালে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- ক১৯১০
- খ১৯১১
- গ১৯১২
- ঘ১৯১৩
সঠিক উত্তর: ক. ১৯১০
বাংলা গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯১০ সালে, বাংলা ১৩১৭ সনে। এতে মূলত ভক্তিমূলক গান ও কবিতা আছে।
এরপর ১৯১২ সালে লন্ডন থেকে বের হয় ইংরেজি Gitanjali, যার উপশিরোনাম Song Offerings। এতে বাংলা গীতাঞ্জলির পাশাপাশি নৈবেদ্য, খেয়া, গীতিমাল্য ইত্যাদি বই থেকেও কবিতা নেওয়া হয়।
এই ইংরেজি অনুবাদের জন্য রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান; তিনি প্রথম এশীয় নোবেলজয়ী।
তিনটি সাল গুলিয়ে যায় বলে প্রশ্ন কঠিন লাগে: ১৯১০ বাংলা প্রকাশ, ১৯১২ ইংরেজি প্রকাশ, ১৯১৩ নোবেল। প্রশ্নে বাংলা কাব্যের কথা, তাই ১৯১০।
মনে রাখুন: ১০-১২-১৩: বাংলা, ইংরেজি, নোবেল।