বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৩১
৬০১. 'বসুন্ধরা' শব্দের সমার্থক শব্দ যুগল- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কবসুমতি, অনন্ত
- খপৃথিবী, যামিনী
- গপৃথ্বী, তটিনী
- ঘদুনিয়া, সিতারা
সঠিক উত্তর: ক. বসুমতি, অনন্ত
বসুন্ধরা মানে পৃথিবী। শব্দটির ভেতরেই অর্থ লুকানো: বসু মানে ধন, আর ধরা মানে যে ধারণ করে; যে সব ধনসম্পদ ধারণ করে, সে বসুন্ধরা।
এই জোড়ায় দুটি শব্দই পৃথিবী বোঝাতে হবে। বসুমতী একই গঠনের শব্দ, ধন যার আছে। আর অনন্ত বা অনন্তা শব্দটিও অভিধানে পৃথিবী অর্থে আছে। তাই প্রথম জোড়াই ঠিক।
বাকি জোড়াগুলোর প্রথম শব্দ ঠিক হলেও দ্বিতীয়টি অন্য অর্থের। যামিনী মানে রাত, তটিনী মানে নদী, সিতারা মানে তারা।
ফাঁদ হলো প্রথম শব্দ দেখে উত্তর দেওয়া: পৃথিবী, পৃথ্বী, দুনিয়া সব ঠিক, কিন্তু জোড়ার দুটি শব্দই মিলতে হবে।
মনে রাখুন: জোড়া প্রশ্নে দ্বিতীয় শব্দটা আগে যাচাই করুন; ভুল সাধারণত সেখানেই লুকানো।
৬০২. বিদেশি উৎস থেকে আগত অব্যয় শব্দ হলো- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কখুব
- খআবার
- গআর
- ঘযদি
সঠিক উত্তর: ক. খুব
অব্যয় এমন শব্দ যার রূপ বদলায় না, যেমন আর, যদি, খুব। প্রশ্ন জানতে চায় কোন অব্যয়টি বিদেশি ভাষা থেকে এসেছে।
খুব শব্দটি ফারসি খুব থেকে এসেছে, যার মূল অর্থ ভালো বা সুন্দর। বাংলায় এটি অতিশয় বা বেশি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন খুব ভালো। তাই এটি বিদেশি অব্যয়।
যদি ও আবার তৎসম বা সংস্কৃত উৎসের, আর “আর” এসেছে সংস্কৃত অপর থেকে, অর্থাৎ তদ্ভব। এগুলো বাংলার নিজস্ব শব্দভান্ডারের।
আরও কিছু বিদেশি অব্যয় মনে রাখুন: শাবাশ, মাইরি, বহুত, খাসা। ফাঁদ হলো “আর”: ছোট আর সহজ বলে অনেকে বিদেশি ভাবেন, অথচ এটি খাঁটি তদ্ভব।
মনে রাখুন: বিদেশি অব্যয়: খুব, শাবাশ, বহুত, মাইরি, খাসা।
৬০৩. 'নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল' শব্দে মোট অক্ষরের সংখ্যা- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- ক৬ টি
- খ৭ টি
- গ৮ টি
- ঘ৯ টি
সঠিক উত্তর: খ. ৭ টি
ব্যাকরণে অক্ষর মানে বর্ণ নয়, অক্ষর মানে সিলেবল: এক ঝোঁকে যতটুকু উচ্চারিত হয়। তাই অক্ষর গুনতে হয় উচ্চারণ ভেঙে।
নাতিশীতোষ্ণ উচ্চারণ ভাঙলে হয় না, তি, শী, তোশ্, নো: পাঁচটি অক্ষর। এখানে ষ্ণ যুক্তবর্ণ ভেঙে আগের অক্ষরে শ্ যায়, পরের অক্ষর হয় নো।
মণ্ডল ভাঙলে হয় মন্ আর ডল্: দুটি অক্ষর। মোট পাঁচ যোগ দুই, সাত।
ফাঁদ হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন গোনা; তখন সংখ্যা অনেক বেশি আসে। আরেক ভুল, যুক্তবর্ণকে এক অক্ষর ধরে ছয় গোনা।
মনে রাখুন: অক্ষর গুনতে শব্দটা ধীরে হাততালি দিয়ে উচ্চারণ করুন; যতবার তালি, ততটি অক্ষর।
৬০৪. 'Ameliorate' এর বাংলা পরিভাষা হল_ (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কঅনন্য
- খউৎকর্ষ সাধন
- গঅভূতপূর্ব
- ঘঅকুতোভয়
সঠিক উত্তর: খ. উৎকর্ষ সাধন
Ameliorate মানে কোনো খারাপ অবস্থাকে ভালো করা, উন্নত করা। বাংলা পরিভাষায় একে বলা হয় উৎকর্ষ সাধন বা উন্নয়ন।
শব্দটি এসেছে লাতিন melior থেকে, যার অর্থ আরও ভালো। যেমন, The new policy ameliorated the living conditions of workers, মানে নতুন নীতি শ্রমিকদের জীবনমানের উৎকর্ষ সাধন করেছে।
অন্য অপশনগুলো অন্য ইংরেজি শব্দের পরিভাষা: অনন্য মানে unique, অভূতপূর্ব মানে unprecedented, অকুতোভয় মানে fearless।
ফাঁদ হলো শব্দের শুরুর a দেখে না-বোধক কিছু ভাবা; অনন্য বা অকুতোভয় সেই ভুল থেকেই আকর্ষণ করে।
মনে রাখুন: melior মানে better; ameliorate মানে make better।
৬০৫. কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের 'শাহ' উপাধি থেকে অনুমান করা যায় যে,........ (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কতিনি সুলতানি আমলের কবি
- খতিনি দরবেশ বংশজাত
- গতিনি রাজকর্মচারী ছিলেন
- ঘতিনি পারস্যের অধিবাসী ছিলেন
সঠিক উত্তর: খ. তিনি দরবেশ বংশজাত
শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম মুসলমান কবি হিসেবে পরিচিত, তাঁর কাব্য “ইউসুফ-জোলেখা”। প্রশ্নটা একটি নির্দিষ্ট অনুমান জানতে চায়: শুধু তাঁর নামের “শাহ” উপাধি দেখে কী বলা যায়।
বাংলায় শাহ উপাধি সাধারণত সুফি, পীর বা দরবেশদের নামে থাকে, যেমন শাহজালাল, শাহ মখদুম। তাই সাহিত্য-ইতিহাসবিদেরা অনুমান করেন, কবি কোনো দরবেশ বা ফকির পরিবারের সন্তান ছিলেন।
তিনি সুলতানি আমলের কবি, আর গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজকর্মচারী ছিলেন বলেও অনেক গবেষক মনে করেন। কিন্তু এসব জানা যায় কাব্যে সুলতানের প্রশংসা থেকে, “শাহ” উপাধি থেকে নয়।
ফাঁদ হলো সত্য তথ্য দেখে সেটিকেই উত্তর ভাবা। প্রশ্নের শর্ত “শাহ উপাধি থেকে”; সেই শর্ত মেলে শুধু দরবেশ বংশের অনুমানে।
মনে রাখুন: “থেকে অনুমান” ধরনের প্রশ্নে শুধু প্রশ্নের দেওয়া সূত্রটা ধরুন, অন্য সত্য তথ্য নয়।
৬০৬. তুলনা বোঝাতে নিচের যে বাক্যে 'না' ব্যবহৃত হয়েছে- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কহয় তুমি যাবে, না হয় আমি
- খতার না আছে লোভ, না আছে হিংসা
- গআমি না গেলে তুমি যেও
- ঘছেলেতো না, একটা বিচ্ছু
সঠিক উত্তর: ঘ. ছেলেতো না, একটা বিচ্ছু
না অব্যয়টি বাংলায় নানা অর্থে বসে: নিষেধ, বিকল্প, শর্ত, আবার তুলনা বা উপমাতেও। প্রশ্ন খুঁজছে যেখানে না দিয়ে তুলনা বোঝানো হয়েছে।
“ছেলে তো না, একটা বিচ্ছু” বাক্যে ছেলেটিকে বিচ্ছুর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে: সে এতই দুষ্টু যে তাকে ছেলে না বলে বিচ্ছু বলাই ভালো। এখানে না দিয়ে একটি জিনিস অস্বীকার করে অন্যটির সঙ্গে মিলিয়ে দেখানো হয়েছে।
“হয় তুমি যাবে, না হয় আমি” বাক্যে না বিকল্প বোঝায়। “না আছে লোভ, না আছে হিংসা” বাক্যে না-না জোড়ায় দুটোকেই অস্বীকার করা হয়েছে। “আমি না গেলে তুমি যেও” বাক্যে না শর্তের ভেতরে অস্বীকার।
ফাঁদ হলো দ্বিতীয় বাক্য: সেখানে দুটি জিনিস পাশাপাশি বসেছে বলে তুলনা মনে হয়, কিন্তু আসলে দুটোকেই নাকচ করা হয়েছে।
মনে রাখুন: “X তো না, যেন Y” ছাঁচ দেখলেই তুলনা।
৬০৭. নিচের যে বাক্যটিতে ভাষার অপপ্রয়োগ ঘটেনি- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কছেলেটি মারাত্মক মেধাবী
- খদরিদ্র শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার সম্ভাবনা প্রচুর
- গআজ তার পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিকী
- ঘসে পান্তা ভাত খেয়ে মাঠে গেল
সঠিক উত্তর: ঘ. সে পান্তা ভাত খেয়ে মাঠে গেল
ভাষার অপপ্রয়োগ মানে শব্দকে ভুল অর্থে বা ভুল প্রসঙ্গে ব্যবহার করা। প্রশ্ন খুঁজছে কোন বাক্যে এমন ভুল নেই।
“মারাত্মক মেধাবী” ভুল, কারণ মারাত্মক মানে প্রাণঘাতী; প্রশংসায় বলা উচিত অসাধারণ মেধাবী। “ঝরে পড়ার সম্ভাবনা” ভুল, কারণ সম্ভাবনা বসে ভালো কিছুর জন্য; খারাপ কিছুর জন্য বলতে হয় আশঙ্কা।
“আজ তার পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিকী” বাক্যে আজ তার বলে জীবিত মানুষের কথা বোঝানো হয়েছে। জীবিত মানুষের জন্য প্রমিত শব্দ জন্মদিন; জন্মবার্ষিকী সাধারণত প্রয়াত ব্যক্তির জন্মদিন স্মরণে বলা হয়। তা ছাড়া পঞ্চাশতম বানানটিও ভুল, শুদ্ধ রূপ পঞ্চাশত্তম।
“সে পান্তা ভাত খেয়ে মাঠে গেল” বাক্যটি স্বাভাবিক ও শুদ্ধ। ফাঁদ হলো জন্মবার্ষিকীর বাক্য: শুনতে আনুষ্ঠানিক আর সুন্দর, তাই অনেকে একে শুদ্ধ ভাবেন।
মনে রাখুন: ভালো কিছুর জন্য সম্ভাবনা, খারাপ কিছুর জন্য আশঙ্কা; জীবিতের জন্মদিন, প্রয়াতের জন্মবার্ষিকী।
৬০৮. বাংলা সাহিত্যে “ভোরের পাখি” নামে পরিচিত (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কবিহারীলাল চক্রবর্তী
- খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গসত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঘসৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর: ক. বিহারীলাল চক্রবর্তী
প্রশ্নটা বাংলা সাহিত্যের একটি উপাধি নিয়ে। “ভোরের পাখি” বলা হয় কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীকে। উপাধিটা দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
কেন এই নাম? মাইকেল মধুসূদনের মহাকাব্যধারার পর বিহারীলালই প্রথম কবি, যিনি নিজের মনের আবেগ নিয়ে ব্যক্তিগত গীতিকবিতা লিখলেন। আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার সূর্য ওঠার আগে তিনিই প্রথম গান গেয়েছিলেন, তাই তিনি ভোরের পাখি।
রবীন্দ্রনাথ তরুণ বয়সে বিহারীলালকে কাব্যগুরু মানতেন। বিহারীলালের বিখ্যাত কাব্য “সারদামঙ্গল”, “বঙ্গসুন্দরী” ও “নিসর্গসন্দর্শন”।
ফাঁদ হলো রবীন্দ্রনাথ: উপাধিটা তাঁর দেওয়া, তাঁর নিজের নয়। আবার সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের উপাধি “ছন্দের যাদুকর”; নামের মিল দেখে বিভ্রান্ত হবেন না।
মনে রাখুন: ভোরের পাখি মানে আধুনিক গীতিকবিতার প্রথম কণ্ঠ: বিহারীলাল চক্রবর্তী।
৬০৯. "After meat comes mustard" (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কসুখের পর দুঃখ আসে
- খকষ্টে কেষ্ট মেলে
- গনুন আনতে পান্তা ফুরায়
- ঘযত গর্জে তত বর্ষে না
সঠিক উত্তর: গ. নুন আনতে পান্তা ফুরায়
প্রশ্নটা ইংরেজি প্রবাদের সমার্থক বাংলা প্রবাদ খুঁজতে বলছে। After meat comes mustard মানে মাংস খাওয়া শেষ হওয়ার পর সরিষার চাটনি এলো, অর্থাৎ দরকারের জিনিস এলো তখন, যখন আর কাজে লাগে না।
বাংলায় ঠিক এই ভাবটাই আছে “নুন আনতে পান্তা ফুরায়” প্রবাদে। নুন আনতে আনতেই পান্তাভাত শেষ, এক জিনিস জোগাড় হলে অন্যটা থাকে না। দুটো প্রবাদেই সময়মতো না পাওয়ার অভাব আর টানাটানির ছবি।
প্রবাদ অনুবাদে শব্দ ধরে নয়, ভাব ধরে মেলাতে হয়। এখানে মাংস আর পান্তা, সরিষা আর নুন একে অপরের জায়গায় বসে গেছে।
বাকি তিনটির নিজস্ব ইংরেজি জোড়া আছে: কষ্টে কেষ্ট মেলে মানে No pains, no gains; যত গর্জে তত বর্ষে না মানে Barking dogs seldom bite।
মনে রাখুন: প্রবাদের মূল ভাব এক লাইনে বলুন, তারপর বাংলা প্রবাদ মেলান: শেষ হওয়ার পর আসা = নুন আনতে পান্তা ফুরায়।
৬১০. “অনতিবৃহৎ বনে মৃগ অনুসন্ধান ও সংহার করা সাতিশয় দুঃসাধ্য কার্য” বাক্যটিতে মোট উপসর্গ রয়েছে (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কচারটি
- খপাঁচটি
- গসাতটি
- ঘআটটি
সঠিক উত্তর: ঘ. আটটি
প্রশ্নটা উপসর্গ গোনার। উপসর্গ হলো শব্দের শুরুতে বসা অব্যয়, যার নিজের আলাদা অর্থ নেই কিন্তু শব্দের অর্থ বদলে দেয়। বাক্যের প্রতিটি শব্দ ভেঙে শুরুর অংশ দেখতে হবে।
অনতিবৃহৎ শব্দে আছে নঞর্থক অন্ আর অতি, দুটি। অনুসন্ধান শব্দে আছে অনু আর সম্, দুটি। সংহার শব্দে সম্, একটি। সাতিশয় শব্দে সহার্থক স আর অতি, দুটি। দুঃসাধ্য শব্দে দুঃ বা দুর্, একটি।
সব যোগ করলে দুই যোগ দুই যোগ এক যোগ দুই যোগ এক, মোট আটটি। বন, মৃগ, করা, কার্য শব্দে কোনো উপসর্গ নেই।
সতর্ক থাকুন: শুধু বিশটি তৎসম উপসর্গ গুনলে ছয়টি হয়, যা অপশনে নেই। তাই প্রশ্নকর্তা অন্ আর স দুটোকেই উপসর্গ ধরেছেন। একটিকে বাদ দিলে সাত আসে, এটাই এখানকার সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
মনে রাখুন: যুক্ত শব্দে একাধিক উপসর্গ লুকিয়ে থাকে: অনুসন্ধান (অনু, সম্), সমুৎপন্ন (সম্, উৎ), অনতিদূর (অন্, অতি)।
৬১১. নিচের কোনটি বিষমীভবনের উদাহরণ? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কলাফ>ফাল
- খপ্রীতি>পিরীতি
- গদেশি>দিশি
- ঘলাল>নাল
সঠিক উত্তর: ঘ. লাল>নাল
প্রশ্নটা ধ্বনি পরিবর্তনের একটি নিয়ম নিয়ে: বিষমীভবন। একই শব্দে পাশাপাশি বা কাছাকাছি দুটি একই ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে উচ্চারণ সহজ করতে একটিকে বদলে অন্য ধ্বনি করা হয়। এটাই বিষমীভবন, মানে দুটি সম ধ্বনি বিষম হয়ে যায়।
লাল শব্দে দুটি ল আছে। প্রথম ল বদলে ন হয়ে গেল, শব্দটা হলো নাল। দুটি এক রকম ধ্বনি এখন আলাদা, তাই এটি বিষমীভবন। আরেকটি পরিচিত উদাহরণ শরীর থেকে শরীল, যেখানে দুটি র-এর একটি ল হয়েছে।
বিষমীভবন আসলে সমীভবনের উল্টো। সমীভবনে দুটি ভিন্ন ধ্বনি এক হয়ে যায়, যেমন জন্ম থেকে জম্ম; বিষমীভবনে দুটি এক ধ্বনি ভিন্ন হয়ে যায়।
বাকি অপশনগুলো অন্য নিয়মের। লাফ থেকে ফাল হলো ধ্বনি বিপর্যাস, কারণ ল আর ফ জায়গা বদল করেছে।
মনে রাখুন: দুটি একই ব্যঞ্জন দেখলেই বিষমীভবন খুঁজুন: লাল > নাল, শরীর > শরীল।
৬১২. নবনবতিতম কোন সংখ্যার পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- ক৪৯
- খ৯০
- গ৯৯
- ঘ১০৯
সঠিক উত্তর: গ. ৯৯
প্রশ্নটা পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ নিয়ে। পূরণবাচক মানে ক্রম বোঝানো শব্দ, যেমন প্রথম, দ্বিতীয়, দশম। কুড়ির পরের সংখ্যায় সংস্কৃত রীতিতে শব্দের শেষে তম যোগ হয়, যেমন বিংশতিতম, ত্রিংশতম।
নবনবতিতম শব্দটা ভাঙলে পাই নব, নবতি আর তম। নব মানে নয়, নবতি মানে নব্বই। নয় আর নব্বই মিলে নিরানব্বই, সঙ্গে তম, তাই নবনবতিতম মানে নিরানব্বইতম।
একই রীতিতে নবতিতম মানে নব্বইতম, ঊনপঞ্চাশত্তম মানে উনপঞ্চাশতম, আর শততম মানে একশততম।
ফাঁদ হলো নবতি দেখে নব্বই বেছে নেওয়া। সামনের নব শব্দটা নয় যোগ করছে, সেটা ভুলে গেলে চলবে না।
মনে রাখুন: দশকের নামগুলো মুখস্থ রাখুন (বিংশতি থেকে নবতি); তারপর সামনের এককের সংখ্যা যোগ করুন।
৬১৩. কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস নয় কোনটি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কশিউলিমালা
- খবাঁধনহারা
- গমৃত্যুক্ষুধা
- ঘকুহেলিকা
সঠিক উত্তর: ক. শিউলিমালা
প্রশ্নটা কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস চেনার। নজরুল মোট তিনটি উপন্যাস লিখেছেন: বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা আর কুহেলিকা।
শিউলিমালা উপন্যাস নয়, এটি নজরুলের একটি গল্পগ্রন্থ। তাঁর অন্য দুটি গল্পগ্রন্থ হলো ব্যথার দান আর রিক্তের বেদন।
বাঁধনহারা বাংলা সাহিত্যে প্রথম পত্রোপন্যাস হিসেবে পরিচিত, পুরো উপন্যাসটা চিঠির আকারে লেখা। মৃত্যুক্ষুধা কৃষ্ণনগরের দরিদ্র মানুষের জীবন নিয়ে, আর কুহেলিকা রাজনৈতিক বিপ্লবের পটভূমিতে লেখা।
মনে রাখার সহজ উপায়: তিন উপন্যাস, তিন গল্পগ্রন্থ। নামের ধরন দেখে ঠিক করা যায় না, তাই তালিকা দুটি আলাদা করে মনে রাখুন।
মনে রাখুন: নজরুলের উপন্যাস মাত্র তিনটি: বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা, কুহেলিকা; শিউলিমালা, ব্যথার দান, রিক্তের বেদন হলো গল্পগ্রন্থ।
৬১৪. “রোহিণী” কোন উপন্যাসের চরিত্র? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কচোখের বালি
- খকৃষ্ণকান্তের উইল
- গগৃহদাহ
- ঘচতুরঙ্গ
সঠিক উত্তর: খ. কৃষ্ণকান্তের উইল
প্রশ্নটা উপন্যাসের চরিত্র চেনার। রোহিণী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “কৃষ্ণকান্তের উইল” উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র।
উপন্যাসে রোহিণী এক তরুণী বিধবা। গোবিন্দলাল তার প্রেমে পড়ে স্ত্রী ভ্রমরকে ছেড়ে যায়, আর শেষে গোবিন্দলালের হাতেই রোহিণীর মৃত্যু হয়। ভ্রমর, রোহিণী আর গোবিন্দলাল এই উপন্যাসের তিন মূল চরিত্র।
বাকি অপশনগুলোর চরিত্রও পরীক্ষায় আসে। চোখের বালির বিনোদিনী আর চতুরঙ্গের দামিনী রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি, গৃহদাহের অচলা শরৎচন্দ্রের।
ফাঁদ হলো বিধবা নারী চরিত্র দেখে চোখের বালির বিনোদিনীর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা। রোহিণী মানেই বঙ্কিম।
মনে রাখুন: রোহিণী আর ভ্রমর একসাথে মনে রাখুন: দুজনেই কৃষ্ণকান্তের উইলে।
৬১৫. বাংলা ভাষা নিচের কোন ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কইন্দো-ইরানীয়
- খইন্দো-ইউরোপীয়
- গবাল্টো-স্লাভিক
- ঘআফ্রো-এশীয়
সঠিক উত্তর: খ. ইন্দো-ইউরোপীয়
প্রশ্নটা বাংলা ভাষার উৎস নিয়ে। পৃথিবীর ভাষাগুলোকে কয়েকটি বড় ভাষাবংশ বা ভাষাগোষ্ঠীতে ভাগ করা হয়। বাংলা যে মূল ভাষাবংশে পড়ে, তা হলো ইন্দো-ইউরোপীয়।
এই বংশ থেকে ধাপে ধাপে বাংলা এসেছে। ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে শতম শাখা, তা থেকে ইন্দো-ইরানীয় বা আর্য, তা থেকে ভারতীয় আর্য। এরপর প্রাচীন ভারতীয় আর্য, প্রাকৃত, মাগধী অপভ্রংশ পেরিয়ে প্রায় এক হাজার বছর আগে বাংলার জন্ম।
ইংরেজি, ফারসি, হিন্দি, রুশ, ফরাসি সবই এই একই ইন্দো-ইউরোপীয় বংশের ভাষা, তাই এদের অনেক শব্দে মিল দেখা যায়।
ফাঁদ হলো ইন্দো-ইরানীয়। এটি ইন্দো-ইউরোপীয় বংশের ভেতরের একটি শাখা মাত্র, মূল ভাষাগোষ্ঠী নয়। প্রশ্ন মূল গোষ্ঠী জানতে চাইলে উত্তর ইন্দো-ইউরোপীয়।
মনে রাখুন: মূল বংশ জানতে চাইলে সবচেয়ে বড় নামটা বেছে নিন: ইন্দো-ইউরোপীয়।
৬১৬. ’যেমন কর্ম তেমন ফল।’ (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কপারস্পরিক সর্বনাম
- খক্রিয়া বিশেষণ
- গসাপেক্ষ সর্বনাম
- ঘযোজক
সঠিক উত্তর: গ. সাপেক্ষ সর্বনাম
প্রশ্নটা জানতে চাইছে যেমন আর তেমন শব্দ দুটি কোন ধরনের পদ। দুটি সর্বনাম যখন জোড়ায় এসে একটি অন্যটির উপর নির্ভর করে বাক্যের দুই অংশ জুড়ে দেয়, তখন তাকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন কর্ম তেমন ফল বাক্যে যেমন বললেই তেমন শোনার অপেক্ষা থাকে; একটি ছাড়া অন্যটি অসম্পূর্ণ। তাই এরা সাপেক্ষ সর্বনাম।
একই রকম আরও জোড়া: যে সে, যিনি তিনি, যত তত, যারা তারা। যেমন: যত গর্জে তত বর্ষে না, যে পরিশ্রম করে সে সফল হয়।
ফাঁদ হলো পারস্পরিক সর্বনাম। পারস্পরিক মানে একে অপরকে বোঝানো, যেমন নিজেরা নিজেরা, পরস্পর; সেখানে নির্ভরশীল জোড়া নেই।
মনে রাখুন: জোড়ায় জোড়ায় যে-সে, যত-তত, যেমন-তেমন দেখলেই সাপেক্ষ সর্বনাম।
৬১৭. প্রতিশব্দ নয়- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কবলাহক
- খজীমূত
- গবারিদ
- ঘউদক
সঠিক উত্তর: ঘ. উদক
প্রশ্নটা চাইছে কোন শব্দটি বাকিগুলোর প্রতিশব্দ নয়। এখানে তিনটি শব্দের অর্থ মেঘ, একটির অর্থ পানি।
বলাহক, জীমূত আর বারিদ তিনটিই মেঘের প্রতিশব্দ। বারিদ মানে যে বারি বা পানি দেয়, অর্থাৎ মেঘ। একই রকম জলদ, নীরদ, অম্বুদ, তোয়দ, পয়োদ সবই মেঘ।
উদক মানে পানি বা জল। পানির আরও প্রতিশব্দ: বারি, সলিল, অম্বু, নীর, তোয়, পয়ঃ।
ফাঁদ হলো বারিদ আর বারি। বারি মানে পানি, কিন্তু বারি যোগ দ মানে পানি দেয় যে, অর্থাৎ মেঘ। শব্দের শেষে দ দেখলে বুঝবেন দাতা।
মনে রাখুন: শেষে দ থাকলে মেঘ (বারিদ, জলদ, নীরদ, অম্বুদ); দ ছাড়া পানি (বারি, জল, নীর, অম্বু)।
৬১৮. ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্যে মোট কয়টি পত্র সংকলিত আছে? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- ক৯টি
- খ১১টি
- গ১৩টি
- ঘ১০৪টি
সঠিক উত্তর: খ. ১১টি
প্রশ্নটা মাইকেল মধুসূদন দত্তের পত্রকাব্য “বীরাঙ্গনা” নিয়ে। এই কাব্যে মোট এগারোটি পত্র আছে।
বীরাঙ্গনা বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য। পৌরাণিক নারীরা তাঁদের স্বামী বা প্রেমিককে চিঠি লিখছেন, যেমন শকুন্তলা লিখছেন দুষ্মন্তকে। চিঠিগুলো অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা, আর আদর্শ ছিল রোমান কবি ওভিদের “হেরোইদিস”।
মধুসূদন একুশটি পত্র লেখার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু প্রকাশ করেছিলেন এগারোটি। তাই একুশ আর এগারো দুটো সংখ্যাই মনে রাখুন; প্রশ্নে সংকলিত পত্র চাইলে উত্তর এগারো।
মধুসূদনের অন্য পরিচিত কাব্য: মেঘনাদবধ কাব্য, তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য আর চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
মনে রাখুন: বীরাঙ্গনা: পরিকল্পনা ২১, প্রকাশ ১১। সংকলিত পত্র চাইলে ১১।
৬১৯. ‘ভার্যা’র বিপরীত শব্দ কোনটি? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কদার
- খদয়িত
- গবনিতা
- ঘজায়া
সঠিক উত্তর: খ. দয়িত
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দের। ভার্যা মানে স্ত্রী, তাই এর বিপরীত শব্দ হবে স্বামী বোঝায় এমন শব্দ।
অপশনগুলোর মধ্যে দয়িত মানে প্রিয়জন বা স্বামী। দয়িত শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ দয়িতা, মানে প্রিয়া বা স্ত্রী। তাই ভার্যার বিপরীত দয়িত।
বাকি তিনটি শব্দ, দার, বনিতা আর জায়া, সবই স্ত্রীর প্রতিশব্দ। অর্থাৎ এগুলো ভার্যার সমার্থক, বিপরীত নয়।
স্বামীর আরও প্রতিশব্দ: পতি, ভর্তা, কান্ত। স্ত্রীর আরও প্রতিশব্দ: পত্নী, কলত্র, সহধর্মিণী।
মনে রাখুন: চারটির মধ্যে তিনটি একই অর্থের হলে বাকি একটিই বিপরীত।
৬২০. নিচের কোনটি সমার্থক নয়? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কঢাকের কাঠি-খয়ের খাঁ
- খঅকাল কুষ্মান্ড-আমড়া কাঠের ঢেঁকি
- গআটকপালে-ইঁদুর কপালে
- ঘগোঁফ খেজুরে-কাছাঢিলা
সঠিক উত্তর: ঘ. গোঁফ খেজুরে-কাছাঢিলা
প্রশ্নটা বাগ্ধারার জোড়া নিয়ে। প্রতিটি অপশনে দুটি বাগ্ধারা আছে; যে জোড়ার দুটির অর্থ মেলে না, সেটিই উত্তর।
ঢাকের কাঠি আর খয়ের খাঁ দুটোই তোষামোদকারী বা মোসাহেব বোঝায়। অকাল কুষ্মাণ্ড আর আমড়া কাঠের ঢেঁকি দুটোই অপদার্থ বা অকেজো লোক। আটকপালে আর ইঁদুর কপালে দুটোই হতভাগ্য।
কিন্তু গোঁফ খেজুরে মানে নিতান্ত অলস, যে মুখে পড়া খেজুরও নিজে খায় না। আর কাছাঢিলা মানে অসাবধান বা ঢিলেঢালা স্বভাবের লোক। অর্থ কাছাকাছি মনে হলেও এক নয়, তাই এই জোড়াটি সমার্থক নয়।
এই ধরনের প্রশ্নে প্রতিটি বাগ্ধারার অর্থ এক শব্দে লিখে ফেলুন, তারপর জোড়া মেলান।
মনে রাখুন: প্রতিটি বাগ্ধারার অর্থ এক শব্দে বসান; যে জোড়ায় দুটি আলাদা শব্দ আসে, সেটিই উত্তর।