বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৩২
৬২১. ”রেসেনার শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?” (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কতুর্কি
- খফরাসি
- গপর্তুগিজ
- ঘওলন্দাজ
সঠিক উত্তর: খ. ফরাসি
প্রশ্নটা বিদেশি শব্দের উৎস নিয়ে। ছাপা শব্দটি রেসেনার বিকৃত হয়ে গেছে; এটি রেস্তোরাঁ বা রেনেসাঁ, যেটাই হোক, দুটোই ফরাসি ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে।
রেস্তোরাঁ ফরাসি restaurant থেকে, আর রেনেসাঁ ফরাসি renaissance থেকে, যার মানে নবজাগরণ। শব্দের শেষে নাসিক্য আঁ বা সাঁ ধ্বনি অনেক সময় ফরাসি উৎসের চিহ্ন।
বাংলায় আরও কয়েকটি ফরাসি শব্দ: কার্তুজ, কুপন, ডিপো, বুর্জোয়া। ওলন্দাজ থেকে এসেছে তাসের নাম হরতন, ইস্কাপন, রুইতন, তুরুপ; পর্তুগিজ থেকে আলমারি, চাবি, বালতি, পাউরুটি।
ফাঁদ হলো পর্তুগিজ। বাংলায় পর্তুগিজ শব্দ বেশি পরিচিত বলে সব ইউরোপীয় শব্দকে পর্তুগিজ ভেবে বসা সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: তাসের শব্দ ওলন্দাজ, ঘরের জিনিস পর্তুগিজ, আঁ-সাঁ ধ্বনির শব্দ ফরাসি।
৬২২. নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কআরেক ফাল্গুন
- খআগুনের পরশমণি
- গহাঙর নদী গ্রেনেড
- ঘরাইফেল রোটি আওরাত
সঠিক উত্তর: ক. আরেক ফাল্গুন
প্রশ্নটা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস চেনার। চারটির মধ্যে আরেক ফাল্গুন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নয়, এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখা।
আরেক ফাল্গুন জহির রায়হানের উপন্যাস। এর পটভূমি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পরের একুশে ফেব্রুয়ারি পালন। ফাল্গুন মাসেই একুশে ফেব্রুয়ারি পড়ে, সেখান থেকেই নাম।
বাকি তিনটি মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস। আগুনের পরশমণি হুমায়ূন আহমেদের, ঢাকায় গেরিলা যোদ্ধাদের কাহিনি। হাঙর নদী গ্রেনেড সেলিনা হোসেনের, এক মায়ের আত্মত্যাগ নিয়ে। রাইফেল রোটি আওরাত আনোয়ার পাশার, যিনি নিজে একাত্তরে শহিদ হন।
জহির রায়হানের নাম দেখে ফাঁদে পড়বেন না। তিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে “স্টপ জেনোসাইড” প্রামাণ্যচিত্র বানিয়েছেন, কিন্তু আরেক ফাল্গুন ভাষা আন্দোলনের উপন্যাস।
মনে রাখুন: নামে ফাল্গুন বা একুশ থাকলে আগে ভাষা আন্দোলনের কথা ভাবুন।
৬২৩. ‘Agora’ শব্দের বাংলা পরিভাষা- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কপণ্য
- খপণ্যাগার
- গমুদি
- ঘমুদিখানা
সঠিক উত্তর: খ. পণ্যাগার
প্রশ্নটা ইংরেজি শব্দের বাংলা পরিভাষা নিয়ে। Agora শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রিস থেকে; সেখানে শহরের যে খোলা জায়গায় হাট বসত আর লোকজন জড়ো হতো, তাকে বলা হতো agora।
অর্থাৎ agora একটি জায়গার নাম, যেখানে পণ্য কেনাবেচা হয়। বাংলায় পণ্য আর আগার, মানে ঘর বা স্থান, মিলে পণ্যাগার; এটি স্থানবাচক শব্দ বলে agora-র সবচেয়ে কাছাকাছি পরিভাষা।
পরিভাষার প্রশ্নে খেয়াল করুন শব্দটি বস্তু বোঝায় না স্থান। পণ্য মানে commodity বা goods, যা বিক্রি হয়; বিক্রির জায়গা নয়।
এই প্রশ্নে কোচিং কি-গুলোতে পণ্য আর পণ্যাগার নিয়ে মতভেদ আছে, আর পরিভাষা তালিকায় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অর্থের যুক্তিতে, যেহেতু agora একটি স্থান, পণ্যাগারই বেশি গ্রহণযোগ্য।
মনে রাখুন: আগার যুক্ত শব্দ মানেই স্থান: গ্রন্থাগার, কারাগার, পণ্যাগার।
৬২৪. বিধবার প্রেম নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শেষ প্রশ্ন’
- খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি’
- গকাজী নজরুল ইসলামের ‘কুহেলিকা’
- ঘবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুণ্ডলা’
সঠিক উত্তর: খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি’
রবীন্দ্রনাথের চোখের বালি, ১৯০৩ সালে প্রকাশিত, বিধবার প্রেম নিয়ে লেখা সবচেয়ে পরিচিত উপন্যাস। এর কেন্দ্রে তরুণ বিধবা বিনোদিনী, আর মহেন্দ্র, আশালতা ও বিহারীর সঙ্গে তার জটিল সম্পর্ক।
উপন্যাসটি চরিত্রের মনের ভেতরের দ্বন্দ্ব খুঁটিয়ে দেখায়, তাই একে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস বলা হয়। সেকালের সমাজে বিধবার প্রেম ছিল নিষিদ্ধ বিষয়, আর সেই নিষেধের টানাপোড়েনই এর শক্তি।
অন্য উপন্যাসগুলোর বিষয় আলাদা। শরৎচন্দ্রের শেষ প্রশ্নের কেন্দ্রে প্রথাবিরোধী আধুনিক নারী কমল ও তার যুক্তিতর্ক; নজরুলের কুহেলিকা বিপ্লবী রাজনীতির পটভূমিতে লেখা; বঙ্কিমের কপালকুণ্ডলা কাপালিকের কাছে বড় হওয়া এক মেয়ে আর নবকুমারের কাহিনি।
ফাঁদ হলো শেষ প্রশ্ন, কারণ শরৎচন্দ্র সমাজে অবহেলিত নারীদের নিয়ে বহু লিখেছেন। কিন্তু বিধবার প্রেমের কেন্দ্রীয় কাহিনি বললে প্রথমেই আসে চোখের বালির বিনোদিনী।
মনে রাখুন: বিধবা চরিত্র মনে রাখুন: চোখের বালির বিনোদিনী, বিষবৃক্ষের কুন্দনন্দিনী, কৃষ্ণকান্তের উইলের রোহিণী।
৬২৫. জেলে জীবন কেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কগঙ্গা
- খপুতুলনাচের ইতিকথা
- গহাঁসুলী বাঁকের উপকথা
- ঘগৃহদাহ
সঠিক উত্তর: ক. গঙ্গা
সমরেশ বসুর গঙ্গা উপন্যাস গঙ্গার জেলেদের জীবন নিয়ে লেখা। মাছ ধরতে নদী আর মোহনায় পাড়ি, প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই আর জেলেপাড়ার সুখ-দুঃখ এর মূল বিষয়।
জেলেজীবন নিয়ে আরও দুটি বিখ্যাত উপন্যাস মনে রাখুন: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝি আর অদ্বৈত মল্লবর্মণের তিতাস একটি নদীর নাম। পরীক্ষায় এগুলোও প্রায়ই আসে।
বাকি উপন্যাসগুলো অন্য জীবনের কথা বলে। মানিকের পুতুলনাচের ইতিকথা গ্রামের ডাক্তার শশীর কাহিনি; তারাশঙ্করের হাঁসুলী বাঁকের উপকথা কাহার সম্প্রদায়ের জীবন নিয়ে; শরৎচন্দ্রের গৃহদাহ অচলা, মহিম আর সুরেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন।
ফাঁদ হলো পুতুলনাচের ইতিকথা, কারণ এর লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ই পদ্মানদীর মাঝির লেখক। লেখক মিললেও উপন্যাস আলাদা।
মনে রাখুন: জেলেজীবনের উপন্যাস: গঙ্গা, পদ্মানদীর মাঝি, তিতাস একটি নদীর নাম।
৬২৬. “ডিঙি টেনে বের করতে হবে”। – কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ককর্মবাচ্য
- খভাববাচ্য
- গযৌগিক
- ঘকর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর: খ. ভাববাচ্য
বাচ্য ঠিক করতে দেখতে হয়, বাক্যে কর্তা, কর্ম আর ক্রিয়ার মধ্যে কোনটি প্রধান। ডিঙি টেনে বের করতে হবে বাক্যে কাজটি কে করবে, সেই কর্তা নেই; জোর পড়েছে করতে হবে, অর্থাৎ কাজটির প্রয়োজনীয়তার ওপর। ক্রিয়ার ভাবই প্রধান বলে প্রচলিত উত্তর ভাববাচ্য।
ভাববাচ্যে কর্তা সাধারণত উহ্য থাকে বা ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি নিয়ে বসে, আর ক্রিয়া হয় হবে, যাবে, যাক ধরনের। যেমন আমাকে এখন যেতে হবে, এবার খাওয়া যাক।
কর্মবাচ্যে কর্ম প্রধান হয়ে কর্তার জায়গায় বসে, আর কর্তা থাকলে দ্বারা বা কর্তৃক নিয়ে আসে, যেমন চোর পুলিশ কর্তৃক ধৃত হলো। কর্মকর্তৃবাচ্যে কর্মই কর্তার মতো কাজ করে, যেমন বাঁশি বাজে। আর যৌগিক বাক্যের গঠনের নাম, বাচ্যের নয়।
সতর্কতা: বাক্যে কর্ম ডিঙি আছে বলে অনেকে কর্মবাচ্য বেছে নেন, এটিই ফাঁদ। কর্মবাচ্য হলে বাক্যটি হতো ডিঙিটি টেনে বের করা হবে, যেখানে কর্মই প্রধান; আর করতে হবে ধরনের কর্তাহীন গঠন ভাববাচ্যের চিহ্ন।
মনে রাখুন: হবে, যাবে, যাক ধরনের কর্তাহীন ক্রিয়া দেখলে ভাববাচ্য ভাবুন।
৬২৭. বাংলা সাহিত্যে “কালকূট” নামে পরিচিত কোন লেখক? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কসমরেশ মজুমদার
- খশওকত ওসমান
- গসমরেশ বসু
- ঘআলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর: গ. সমরেশ বসু
কালকূট সমরেশ বসুর ছদ্মনাম। এই নামে তিনি লেখেন অমৃত কুম্ভের সন্ধানে, কুম্ভমেলা ঘিরে ভ্রমণধর্মী রচনা। তাঁর আরেক ছদ্মনাম ভ্রমর।
কালকূট শব্দের অর্থ তীব্র বিষ; পুরাণে সমুদ্রমন্থনে উঠে আসা বিষ, যা শিব পান করেন। অমৃতের সন্ধানে লেখা বইয়ের লেখকের নাম কালকূট, এই বৈপরীত্যটা মনে রাখলে ভুল হবে না।
ফাঁদ হলো সমরেশ মজুমদার, কারণ দুজনের প্রথম নাম একই। সমরেশ মজুমদার উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ উপন্যাসের লেখক; কালবেলা আর কালকূটের কাল শব্দও বিভ্রান্তি বাড়ায়।
শওকত ওসমান নিজেই একটি লেখক নাম, তাঁর আসল নাম শেখ আজিজুর রহমান। আলাউদ্দিন আল আজাদ তেইশ নম্বর তৈলচিত্রের লেখক; কালকূট নামের সঙ্গে তাঁর যোগ নেই।
মনে রাখুন: কালকূট ও ভ্রমর: সমরেশ বসু। বীরবল: প্রমথ চৌধুরী। ভানুসিংহ: রবীন্দ্রনাথ।
৬২৮. “পরানের গহীন ভিতর” কাব্যের কবি কে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কঅসীম সাহা
- খঅরুণ বসু
- গআবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
- ঘসৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর: ঘ. সৈয়দ শামসুল হক
পরানের গহীন ভিতর সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যগ্রন্থ, প্রকাশ ১৯৮০ সালে। এর কবিতাগুলো আঞ্চলিক মুখের ভাষায় লেখা, আর গঠনে সনেটধর্মী, চৌদ্দ চরণের।
সৈয়দ শামসুল হক কবিতা, উপন্যাস, নাটক, গল্প, প্রায় সব শাখায় সফল, তাই তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। তাঁর বিখ্যাত কাব্যনাটক নূরলদীনের সারাজীবন ও পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি; আঞ্চলিক ভাষার এই সনেটগুচ্ছের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত নয়।
কৌশল: শিরোনামে পরান আর গহীন এমন আঞ্চলিক শব্দ দেখলেই সৈয়দ শামসুল হকের এই পরীক্ষামূলক কাব্যের কথা ভাবুন।
মনে রাখুন: সৈয়দ শামসুল হক: পরানের গহীন ভিতর, নূরলদীনের সারাজীবন, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়; সব্যসাচী লেখক।
৬২৯. “এবার আমার একটি বিচিত্র অভিজ্ঞতা হলো” – এ বাক্য কোন ধরনের? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কঅনুজ্ঞাবাচক
- খনির্দেশাত্মক
- গবিস্ময়বোধক
- ঘপ্রশ্নবোধক
সঠিক উত্তর: খ. নির্দেশাত্মক
প্রশ্নটি অর্থ অনুসারে বাক্যের শ্রেণি চিনতে বলছে। অর্থভেদে বাক্য পাঁচ রকম: নির্দেশাত্মক বা বিবৃতিমূলক, প্রশ্নবোধক, অনুজ্ঞাবাচক, ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক এবং বিস্ময়বোধক।
এবার আমার একটি বিচিত্র অভিজ্ঞতা হলো, এই বাক্যে বক্তা কেবল একটি ঘটনার খবর দিচ্ছেন। এখানে কিছু জানতে চাওয়া হয়নি, কাউকে আদেশ বা অনুরোধ করা হয়নি, কোনো ইচ্ছাও প্রকাশ পায়নি।
কোনো তথ্য বা ঘটনা সাধারণভাবে জানালে সেটি নির্দেশাত্মক বাক্য। বাক্যটি হ্যাঁ-বোধক বিবৃতি, তাই এটি নির্দেশাত্মক বাক্যের অস্তিবাচক রূপ।
ফাঁদ হলো বিচিত্র শব্দটি। শব্দটি অবাক হওয়ার মতো কিছু বোঝালেও বাক্যে কী আশ্চর্য বা আহা জাতীয় আবেগের উচ্ছ্বাস নেই, তাই বিস্ময়বোধক বিকল্পটি ঠিক নয়।
মনে রাখুন: প্রশ্ন, আদেশ, ইচ্ছা বা আবেগ কোনোটিই না থাকলে বাক্যটি নির্দেশাত্মক; বাকিগুলো একে একে বাদ দিন।
৬৩০. ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখা কবিতা কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কহুলিয়া
- খতোমাকে অভিবাদন প্রিয়া
- গসোনালি কাবিন
- ঘস্মৃতিস্তম্ভ
সঠিক উত্তর: ঘ. স্মৃতিস্তম্ভ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন কবিতা বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখা। উত্তর আলাউদ্দিন আল আজাদের স্মৃতিস্তম্ভ।
বায়ান্নর ফেব্রুয়ারিতে শহিদদের স্মরণে গড়া প্রথম শহিদ মিনার পুলিশ ভেঙে দিলে এই কবিতা লেখা হয়। এর বিখ্যাত চরণ: স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কী বন্ধু, আমরা এখনো চার কোটি পরিবার খাড়া রয়েছি তো। মিনার ভাঙলেও মানুষের মনের স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙা যায় না, এই ভাবটাই কবিতার প্রাণ।
পাশের তথ্যটিও মনে রাখুন: ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা মাহবুব উল আলম চৌধুরীর কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি।
বাকি তিনটিও বিখ্যাত রচনা বলে বিভ্রান্তি হয়। হুলিয়া নির্মলেন্দু গুণের কবিতা, যার নায়ক পুলিশের হুলিয়া মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো এক রাজনৈতিক কর্মী। সোনালি কাবিন আল মাহমুদের সনেটগুচ্ছ, আর তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা শহীদ কাদরীর কাব্যগ্রন্থ। বিকল্পে ছাপা তোমাকে অভিবাদন প্রিয়া নামটি প্রশ্নপত্রেই এভাবে আছে; শহীদ কাদরীর কাব্যগ্রন্থের আসল নাম তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা।
মনে রাখুন: ভাষা আন্দোলনের কবিতায় দুটি নাম জোড়ায় মনে রাখুন: প্রথম কবিতা মাহবুব উল আলম চৌধুরীর, আর শহিদ মিনার ভাঙার জবাব আলাউদ্দিন আল আজাদের স্মৃতিস্তম্ভ।
৬৩১. ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্বকে বাক্যে যথাযথভাবে ব্যবহার করার বিধানের নামই- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- করসতত্ত্ব
- খরূপতত্ত্ব
- গবাক্যতত্ত্ব
- ঘক্রিয়ার কাল
সঠিক উত্তর: গ. বাক্যতত্ত্ব
প্রশ্নটি বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য ভাগ চিনতে বলছে। ব্যাকরণের প্রধান চারটি ভাগ: ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব এবং অর্থতত্ত্ব।
ধ্বনিতত্ত্বে ধ্বনি, বর্ণ ও সন্ধি আলোচিত হয়। শব্দতত্ত্বে শব্দ কীভাবে গড়ে ওঠে, যেমন প্রত্যয়, সমাস, বিভক্তি। আর এই ধ্বনি ও শব্দকে বাক্যে ঠিক ক্রমে, ঠিকভাবে বসানোর নিয়ম শেখায় বাক্যতত্ত্ব, যাকে বাক্যপ্রকরণও বলে।
প্রশ্নে ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্বের নাম আগেই বলে দেওয়া আছে; এরপর যে ধাপ বাকি থাকে, অর্থাৎ বাক্যে প্রয়োগ, সেটিই বাক্যতত্ত্ব।
ফাঁদ হলো রূপতত্ত্ব বিকল্পটি। রূপতত্ত্ব আসলে শব্দতত্ত্বেরই আরেক নাম, যা প্রশ্নে উপাদান হিসেবে আছে, বাক্যে প্রয়োগের বিধান নয়।
মনে রাখুন: ক্রমটা মনে রাখুন: ধ্বনি থেকে শব্দ, শব্দ থেকে বাক্য, বাক্য থেকে অর্থ। প্রশ্নে যে ধাপ বাদ পড়েছে সেটিই উত্তর।
৬৩২. কোন বানানটি শুদ্ধ? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কমনোকষ্ট
- খমনঃকষ্ট
- গমণকষ্ট
- ঘমনকস্ট
সঠিক উত্তর: খ. মনঃকষ্ট
প্রশ্নটি বিসর্গ সন্ধির নিয়ম দিয়ে শুদ্ধ বানান চিনতে বলছে। শব্দটির মূল হলো মনঃ যোগ কষ্ট, মানে মনের কষ্ট।
নিয়মটা হলো: অ-কারের পরের বিসর্গের পর অঘোষ ধ্বনি ক, খ, প, ফ এলে অনেক শব্দে বিসর্গ অটুট থাকে। তাই মনঃ যোগ কষ্ট হয় মনঃকষ্ট। একইভাবে শিরঃপীড়া, অধঃপতন, মনঃপূত।
অন্যদিকে বিসর্গের পর ঘোষ ধ্বনি এলে অঃ বদলে ও হয়: মনঃ আর যোগ মিলে হয় মনোযোগ, মনঃ আর রম মিলে হয় মনোরম। ক অঘোষ ধ্বনি, তাই এখানে ও হবে না।
ফাঁদ হলো মনোকষ্ট বিকল্পটি। মনোযোগ, মনোরম দেখে অভ্যস্ত চোখ এটাকেই ঠিক ভাবে, কিন্তু ক-এর আগে সেই নিয়ম খাটে না। আর তৎসম শব্দে ট-এর আগে মূর্ধন্য ষ বসে, তাই কষ্ট।
মনে রাখুন: বিসর্গের পর ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গ রেখে দিন: মনঃকষ্ট, শিরঃপীড়া, অধঃপতন। বর্গের তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম বর্ণ বা য র ল হ থাকলে ও করুন: মনোযোগ, মনোরম।
৬৩৩. প্রচুর + য = প্রাচুর্য; কোন প্রত্যয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ককৃৎ প্রত্যয়
- খতদ্ধিত প্রত্যয়
- গবাংলা কৃৎ প্রত্যয়
- ঘসংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
সঠিক উত্তর: খ. তদ্ধিত প্রত্যয়
প্রশ্নটি প্রত্যয়ের শ্রেণি জানতে চায়। প্রত্যয় দুই প্রকার: ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হলে কৃৎ প্রত্যয়, আর কোনো শব্দ বা নামপদের সঙ্গে যুক্ত হলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
প্রাচুর্য শব্দের প্রকৃতি প্রচুর, যা একটি বিশেষণ শব্দ, কোনো ক্রিয়ামূল বা ধাতু নয়। তাই এর সঙ্গে যুক্ত য প্রত্যয়টি তদ্ধিত। প্রত্যয় যোগে বিশেষণ প্রচুর থেকে বিশেষ্য প্রাচুর্য তৈরি হয়েছে।
য প্রত্যয় যুক্ত হলে শব্দের প্রথম স্বর বৃদ্ধি পায়, তাই প্র হয়ে যায় প্রা। একই নিয়মে মধুর থেকে মাধুর্য, চতুর থেকে চাতুর্য, সুন্দর থেকে সৌন্দর্য।
বাকি তিনটি বিকল্পই আসলে কৃৎ প্রত্যয়ের নানা নাম। বাংলা কৃৎ আর সংস্কৃত কৃৎ দুটোই ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়, তাই প্রচুর শব্দের ক্ষেত্রে কোনোটিই খাটে না।
মনে রাখুন: প্রকৃতি দেখুন: ধাতু হলে কৃৎ, শব্দ হলে তদ্ধিত। মধুর থেকে মাধুর্য, চতুর থেকে চাতুর্য, ধীর থেকে ধৈর্যও একই তদ্ধিত।
৬৩৪. ব্যঞ্জন ধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপকে বলে- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- করেফ
- খহসন্ত
- গকার
- ঘফলা
সঠিক উত্তর: ঘ. ফলা
প্রশ্নটি বর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপের নাম জানতে চায়। নিয়মটা সহজ: স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে বলে কার, আর ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে বলে ফলা।
কোনো ব্যঞ্জনবর্ণ অন্য ব্যঞ্জনের পরে যুক্ত হলে সে পুরো আকারে না বসে ছোট একটি চিহ্ন হয়ে যায়। যেমন য-ফলা বাক্য শব্দে, র-ফলা প্রাণ শব্দে, ব-ফলা স্বাধীন শব্দে, ম-ফলা পদ্ম শব্দে। বাংলায় এমন ফলা ছয়টি: য, র, ল, ব, ম, ন।
রেফও র-এর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ, যখন র অন্য ব্যঞ্জনের আগে বসে মাথায় ওঠে, যেমন কর্ম। কিন্তু এটি কেবল একটি বর্ণের একটি বিশেষ অবস্থান, সব ব্যঞ্জনের সংক্ষিপ্ত রূপের সাধারণ নাম নয়।
ফাঁদ হলো কার বিকল্পটি, কারণ কার আর ফলা দুটোই সংক্ষিপ্ত রূপ। পার্থক্য মনে রাখুন: কার আসে স্বর থেকে, ফলা আসে ব্যঞ্জন থেকে।
মনে রাখুন: স্বর থেকে কার, ব্যঞ্জন থেকে ফলা। ফলা ছয়টি: য, র, ল, ব, ম, ন।
৬৩৫. পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি কার ছিল? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কদাশরথি রায়
- খরামনিধি গুপ্ত
- গফকির গরীবুল্লাহ
- ঘরামরাম বসু
সঠিক উত্তর: ক. দাশরথি রায়
প্রশ্নটি উনিশ শতকের লোকপ্রিয় গানের ধারা পাঁচালির সেরা রচয়িতাকে চিনতে বলছে। উত্তর দাশরথি রায়, যিনি দাশু রায় নামে পরিচিত।
পাঁচালি হলো ছড়া, গান আর কথকতা মিশিয়ে কাহিনি পরিবেশনের ধারা। দাশরথি রায় পৌরাণিক কাহিনির সঙ্গে সমকালীন সমাজের ব্যঙ্গ, অনুপ্রাস আর চটুল ছন্দ মিশিয়ে পাঁচালিকে সবচেয়ে জনপ্রিয় করে তোলেন।
অন্য তিনজনের খ্যাতি আলাদা ক্ষেত্রে। রামনিধি গুপ্ত বা নিধুবাবু টপ্পা গানের জন্য বিখ্যাত। ফকির গরীবুল্লাহ দোভাষী পুথির কবি, আমির হামজা পুথির জন্য পরিচিত। রামরাম বসু ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখক, তাঁর প্রতাপাদিত্য চরিত্র বাঙালির লেখা প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থ।
ফাঁদ হলো রামনিধি গুপ্ত। তিনিও উনিশ শতকের গীতিকার বলে পাঁচালির সঙ্গে গুলিয়ে যান, কিন্তু তাঁর ধারা টপ্পা।
মনে রাখুন: উনিশ শতকের গানের ধারা জোড়ায় মনে রাখুন: পাঁচালি মানে দাশু রায়, টপ্পা মানে নিধুবাবু।
৬৩৬. চারণকবি হিসেবে বিখ্যাত কে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কআলাওল
- খচন্দ্রাবতী
- গমুকুন্দদাস
- ঘমুক্তারাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর: গ. মুকুন্দদাস
প্রশ্নটি চারণকবি উপাধিধারী কবিকে চিনতে বলছে। উত্তর মুকুন্দদাস, যাঁর আসল নাম যজ্ঞেশ্বর দে।
চারণ মানে যারা ঘুরে ঘুরে গান গেয়ে বীরত্বের কাহিনি শোনায়। স্বদেশি আন্দোলনের সময় মুকুন্দদাস গ্রামে গ্রামে স্বদেশি যাত্রা আর গান করে মানুষকে ব্রিটিশবিরোধী চেতনায় জাগিয়েছিলেন। তাঁর মাতৃপূজা যাত্রাপালা খুব জনপ্রিয় হয়, আর এই কাজের জন্যই তিনি চারণকবি নামে খ্যাত।
অন্যরা মধ্যযুগের কবি। আলাওল আরাকান রাজসভার কবি, পদ্মাবতীর রচয়িতা। চন্দ্রাবতী ময়মনসিংহের নারী কবি, তিনি রামায়ণ লিখেছেন।
ফাঁদ হলো মুক্তারাম চক্রবর্তী নামটি, যা চণ্ডীমঙ্গলের কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর নাম মনে করিয়ে দেয়। মুকুন্দ নামের মিল থাকলেও মুকুন্দরামের উপাধি কবিকঙ্কণ, চারণকবি নয়।
মনে রাখুন: চারণকবি মানেই স্বদেশি যুগের মুকুন্দদাস; মধ্যযুগের মুকুন্দরাম হলেন কবিকঙ্কণ।
৬৩৭. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নষ্টনীড়’ গল্পের একটি বিখ্যাত চরিত্র- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কবিনোদিনী
- খহৈমন্তী
- গআশালতা
- ঘচারুলতা
সঠিক উত্তর: ঘ. চারুলতা
প্রশ্নটি রবীন্দ্রনাথের নষ্টনীড় গল্পের চরিত্র চিনতে বলছে। গল্পের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র চারুলতা।
নষ্টনীড়ে সংবাদপত্র নিয়ে ব্যস্ত স্বামী ভূপতির নিঃসঙ্গ স্ত্রী চারুলতা, আর তার সঙ্গী দেবর অমল। সত্যজিৎ রায় এই গল্প অবলম্বনেই চারুলতা চলচ্চিত্র বানান, তাই নামটি সহজে মনে থাকে।
বাকি নামগুলো রবীন্দ্রনাথেরই অন্য রচনার চরিত্র, আর এটাই বিভ্রান্তির কারণ। বিনোদিনী ও আশালতা দুজনেই চোখের বালি উপন্যাসের চরিত্র; আশালতা মহেন্দ্রের স্ত্রী। হৈমন্তী একই নামের ছোটগল্পের নায়িকা।
চারুলতা আর আশালতা নামের শেষাংশ একই বলে অনেকে গুলিয়ে ফেলেন। মনে রাখুন: নষ্টনীড়ে চারু, চোখের বালিতে আশা।
মনে রাখুন: নষ্টনীড়ের তিন চরিত্র একসঙ্গে মনে রাখুন: ভূপতি, চারুলতা, অমল।
৬৩৮. উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কশশব্যস্ত
- খকালচক্র
- গপরাণপাখি
- ঘবহুব্রীহি
সঠিক উত্তর: ক. শশব্যস্ত
প্রশ্নটি উপমান কর্মধারয় সমাস চিনতে বলছে। উপমান মানে যার সঙ্গে তুলনা করা হয়। উপমান আর সাধারণ ধর্ম মিলে যে সমাস হয়, তা উপমান কর্মধারয়; এখানে যাকে তুলনা করা হচ্ছে, সেই উপমেয় বাক্যে থাকে না।
শশব্যস্ত শব্দের ব্যাসবাক্য শশকের ন্যায় ব্যস্ত। শশক মানে খরগোশ, এটিই উপমান; আর ব্যস্ত হলো সাধারণ ধর্ম, কারণ খরগোশ সবসময় চঞ্চল। কে ব্যস্ত, সেই উপমেয় নেই, তাই এটি উপমান কর্মধারয়।
একই ধাঁচের আরও উদাহরণ: তুষারের ন্যায় শুভ্র মিলে তুষারশুভ্র, কাজলের ন্যায় কালো মিলে কাজলকালো, বজ্রের ন্যায় কঠিন মিলে বজ্রকঠিন।
ফাঁদ হলো কালচক্র আর পরাণপাখি। এ দুটিতে উপমান আর উপমেয়কে এক করে দেখা হয়েছে: কাল রূপ চক্র, পরাণ রূপ পাখি। মাঝখানে রূপ বসলে সেটি রূপক কর্মধারয়, উপমান নয়।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে ন্যায় আর সাধারণ ধর্ম থাকলে উপমান কর্মধারয়, মাঝখানে রূপ থাকলে রূপক। উদাহরণ: তুষারশুভ্র, কাজলকালো, বজ্রকঠিন।
৬৩৯. অপিনিহিতির উদাহরণ কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কজন্ম > জম্ম
- খআজি > আইজ
- গডেস্ক > ডেস্ক
- ঘঅলাবু > লাবু > লাউ
সঠিক উত্তর: খ. আজি > আইজ
প্রশ্নটি ধ্বনি পরিবর্তনের একটি রীতি অপিনিহিতি চিনতে বলছে। শব্দের পরের দিকে থাকা ই বা উ ধ্বনি যদি আগেই উচ্চারিত হয়ে যায়, তাকে অপিনিহিতি বলে।
আজি শব্দে ই আছে জ-এর পরে। উচ্চারণের সময় সেই ই জ-এর আগেই চলে এসে হয়েছে আইজ। একই রকম কালি থেকে কাইল, সাধু থেকে সাউধ, চারি থেকে চাইর। পূর্ববঙ্গের কথ্য ভাষায় এমন উচ্চারণ খুব চোখে পড়ে।
অন্য উদাহরণগুলো ভিন্ন রীতির। জন্ম থেকে জম্ম হলো সমীভবন, কারণ পাশাপাশি দুটি ভিন্ন ব্যঞ্জন ন আর ম একরকম হয়ে গেছে। অলাবু থেকে লাবু হলো আদিস্বরলোপ, শুরুর অ লোপ পেয়েছে, তারপর ব লোপ পেয়ে হয়েছে লাউ।
অপিনিহিতি চেনার উপায় একটাই: পরিবর্তিত শব্দে কোনো ই বা উ কি আগে সরে এসেছে? ডেস্ক বা জন্মের উদাহরণে কোনো স্বর সরেনি, তাই সেগুলো বাদ।
মনে রাখুন: শব্দের মাঝখানে হঠাৎ একটা বাড়তি ই বা উ দেখা দিলে, আর সেটা মূল শব্দের শেষে ছিল, তবে অপিনিহিতি।
৬৪০. “কুসীদজীবী” বলতে কাদের বুঝায়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কচারণকবি
- খসাপুড়ে
- গসুদখোর
- ঘকৃষিজীবী
সঠিক উত্তর: গ. সুদখোর
প্রশ্নটি একটি তৎসম শব্দের অর্থ জানতে চায়। কুসীদ শব্দের অর্থ সুদ, আর জীবী মানে যে কোনো কিছুর ওপর নির্ভর করে জীবিকা চালায়।
তাই কুসীদজীবী মানে যে লোক টাকা ধার দিয়ে সুদ আদায় করে জীবিকা চালায়, অর্থাৎ সুদখোর বা মহাজন। এক কথায় প্রকাশের প্রশ্নেও শব্দটি আসে: সুদের কারবার করে যে জীবিকা নির্বাহ করে।
জীবী অংশটি অনেক শব্দে আছে, তাই আগের অংশের অর্থ জানলেই পুরো শব্দ বোঝা যায়: কৃষিজীবী মানে কৃষিকাজে জীবিকা, শ্রমজীবী মানে শ্রমে জীবিকা, বুদ্ধিজীবী মানে বুদ্ধির কাজে জীবিকা।
ফাঁদ হলো কৃষিজীবী বিকল্পটি, কারণ এতেও জীবী আছে। কিন্তু কুসীদ মানে কৃষি নয়, সুদ।
মনে রাখুন: জীবী শব্দের আগের অংশের অর্থ ধরলেই উত্তর বের হয়: কুসীদ মানে সুদ।