বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ২৭
৫২১. Referendum শব্দটির বাংলা পারিভাষিক কী? (রূপালী ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কসংশোধন
- খগণভোট
- গপরিমার্জন
- ঘমধ্যস্থতা
সঠিক উত্তর: খ. গণভোট
প্রশ্নটি পারিভাষিক শব্দের। Referendum হলো কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বা সিদ্ধান্তে সরাসরি জনগণের হ্যাঁ বা না মত নেওয়ার ভোট। এর বাংলা পরিভাষা গণভোট।
বাংলাদেশেও গণভোট হয়েছে, যেমন ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় ফেরার সংবিধান সংশোধনী নিয়ে। এখানে প্রার্থী নয়, একটি প্রশ্নে জনগণ সরাসরি মত দেয়।
বাকি অপশনগুলোরও ইংরেজি আছে: সংশোধন মানে Amendment, পরিমার্জন মানে Revision বা Refinement, মধ্যস্থতা মানে Mediation। Amendment আর Referendum প্রায়ই একসঙ্গে আসে বলে সংশোধন একটি ফাঁদ।
মনে রাখুন: Plebiscite ও Referendum দুটোরই বাংলা গণভোট।
৫২২. কোন সন্ধিটি নিপাতনে সিদ্ধ? (রূপালী ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কপর +পর = পরস্পর
- খবাক্ +দান = বাগদান
- গউৎ + ছেদ = উচ্ছেদ
- ঘসম +সার =সংসার
সঠিক উত্তর: ক. পর +পর = পরস্পর
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি হলো সেই সন্ধি, যা সন্ধির কোনো সাধারণ নিয়ম মেনে হয় না, প্রচলিত ব্যবহারের কারণে এমনই মেনে নেওয়া হয়েছে।
পর আর পর জুড়লে নিয়ম অনুযায়ী পরপর হওয়ার কথা, মাঝে স্ আসার কোনো নিয়ম নেই। তবু শব্দটি পরস্পর, তাই এটি নিপাতনে সিদ্ধ। একইভাবে বৃহস্পতি, তস্কর, বনস্পতি, আশ্চর্য, গোষ্পদ।
বাকিগুলো নিয়মমাফিক। বাক্ আর দান, ক্ পরে দ এলে ক্ বদলে গ্ হয়: বাগ্দান। উৎ আর ছেদ, ত্ পরে ছ এলে চ্ছ হয়: উচ্ছেদ। সম্ আর সার, ম্ পরে স এলে অনুস্বার হয়: সংসার।
ফাঁদ হলো সংসার: ম্ বদলে ং দেখে অনেকে অনিয়ম ভাবেন, কিন্তু এটি ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মিত নিয়ম।
মনে রাখুন: নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির পরিচিত তালিকা: পরস্পর, বৃহস্পতি, বনস্পতি, তস্কর, আশ্চর্য, গোষ্পদ।
৫২৩. কোনটি শুদ্ধ বানান? (রূপালী ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কমুর্ধণ
- খমুর্ধন্য
- গমুর্ধণ্য
- ঘমূর্ধন্য
সঠিক উত্তর: ঘ. মূর্ধন্য
সঠিক বানান মূর্ধন্য। শব্দটি তৎসম, এসেছে মূর্ধা থেকে, যার মানে মাথা বা মুখগহ্বরের ছাদ। মূর্ধা থেকে উচ্চারিত বর্ণ ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ষ কে বলে মূর্ধন্য বর্ণ।
মূল শব্দ মূর্ধা তে দীর্ঘ ঊ-কার, তাই মূর্ধন্যতেও ঊ-কার থাকবে। আর শেষে দন্ত্য ন্য। র এর পরে ন এলে সাধারণত ণ হয়, কিন্তু এখানে মাঝে ত-বর্গের ধ থাকায় ণত্ব বিধান খাটে না।
ফাঁদ হলো মুর্ধণ্য: শব্দটির মানেই ণ সম্পর্কিত বলে অনেকে ভাবেন বানানেও ণ থাকবে। কিন্তু মূর্ধন্য ণ লিখতে ণ, আর শব্দটির বানানে দন্ত্য ন।
মনে রাখুন: মূর্ধা থেকে মূর্ধন্য: ঊ-কার থাকবে। র আর ন এর মাঝে ত-বর্গ বা চ-বর্গের বর্ণ এলে ণ হয় না, যেমন বর্ধন, অর্জন।
৫২৪. 'দামিনী' শব্দের অর্থ কী? (রূপালী ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- করাত্রি
- খবিদ্যুৎ
- গজলধি
- ঘধরিত্রী
সঠিক উত্তর: খ. বিদ্যুৎ
প্রশ্নটি শব্দের অর্থ চায়। দামিনী মানে বিদ্যুৎ বা বিজলি। শব্দটির মূলে আছে দাম, যার অর্থ রজ্জু বা মালা; আকাশে আঁকাবাঁকা রেখার মতো ঝলসে ওঠা বিদ্যুৎকে তাই দামিনী বলা হয়।
বিদ্যুতের আরও কয়েকটি সমার্থক শব্দ: সৌদামিনী, তড়িৎ, ক্ষণপ্রভা, চপলা, চঞ্চলা, শম্পা। সৌদামিনী আর দামিনী একই পরিবারের শব্দ।
বাকি অপশনগুলোর সমার্থক আলাদা: রাত্রির সমার্থক যামিনী, রজনী, নিশা। জলধি মানে সমুদ্র, আর ধরিত্রী মানে পৃথিবী।
ফাঁদ হলো রাত্রি: দামিনী আর যামিনী শুনতে প্রায় এক, তাই অনেকে রাত্রি বেছে নেন।
মনে রাখুন: দামিনী বিদ্যুৎ, যামিনী রাত: দ আর য এর তফাত মনে রাখুন।
৫২৫. ভূষণ্ডির কাক অর্থ কী? (রূপালী ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কষড়যন্ত্রকারী
- খবাকসর্বস্ব
- গদীর্ঘায়ু ব্যক্তি
- ঘদীর্ঘ প্রত্যক্ষমাণ
সঠিক উত্তর: গ. দীর্ঘায়ু ব্যক্তি
প্রশ্নটি বাগ্ধারার অর্থ চায়। ভূষণ্ডির কাক মানে দীর্ঘায়ু ব্যক্তি, অর্থাৎ যিনি অনেক বছর বেঁচে আছেন এবং বহু যুগের ঘটনা দেখেছেন।
পুরাণে ভুশুণ্ডি নামে এক কাকের কথা আছে, যাকে অমর ও বহু যুগের সাক্ষী বলা হয়। সেখান থেকে খুব বয়স্ক মানুষকে ভূষণ্ডির কাক বলা হয়, যেমন: পাড়ার দাদু যেন ভূষণ্ডির কাক, গ্রামের একশো বছরের সব খবর জানেন।
কাক শুনে অনেকে চালাকি বা ষড়যন্ত্রের কথা ভাবেন, তাই ষড়যন্ত্রকারী বেছে নেন; সেটিই ফাঁদ। এই বাগ্ধারার মূল ভাব বয়স আর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, চালাকি নয়।
মনে রাখুন: কাক দিয়ে বাগ্ধারা: ভূষণ্ডির কাক দীর্ঘায়ু, কাকস্নান নামমাত্র স্নান, কাকনিদ্রা সজাগ ঘুম।
৫২৬. কোন কবি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন? (রূপালী ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কভুসুকু
- খগোবিন্দ দাস
- গকাহ্নপা
- ঘকায়কোবাদ
সঠিক উত্তর: ক. ভুসুকু
প্রশ্নটি চর্যাপদ নিয়ে। চর্যাপদের কবি ভুসুকুপা তাঁর একটি পদে লিখেছেন, আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী, মানে আজ ভুসুকু বাঙালি হলো। এজন্য তাঁকে নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দেওয়া কবি বলা হয়।
চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। এতে সবচেয়ে বেশি পদ লিখেছেন কাহ্নপা, তেরোটি; দ্বিতীয় স্থানে ভুসুকুপা, আটটি পদ। প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
গোবিন্দ দাস মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলির কবি, আর কায়কোবাদ আধুনিক যুগের মহাকাব্য মহাশ্মশান এর কবি। এরা নিজেদের বাঙালি বলে পরিচয় দেওয়ার জন্য বিখ্যাত নন।
ফাঁদ হলো কাহ্নপা: চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি পদ তাঁর বলে অনেকে তাঁকেই বেছে নেন।
মনে রাখুন: চর্যাপদ: সবচেয়ে বেশি পদ কাহ্নপা, নিজেকে বাঙালি বলেছেন ভুসুকুপা, প্রথম পদ লুইপা।
৫২৭. কোনটি ঈষৎ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস? (রূপালী ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কআজীবন
- খআগাছা
- গআরক্তিম
- ঘআলুনী
সঠিক উত্তর: গ. আরক্তিম
অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদ একটি অব্যয়, আর অর্থে সেই অব্যয়ের ভাবই প্রধান। আ উপসর্গ বা অব্যয় নানা অর্থে বসে: ঈষৎ মানে সামান্য, পর্যন্ত, অভাব ইত্যাদি।
আরক্তিম মানে ঈষৎ রক্তিম, অর্থাৎ সামান্য লাল। এখানে আ বসেছে ঈষৎ অর্থে, তাই এটি ঈষৎ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস। একই রকম আরেকটি উদাহরণ আনত, মানে ঈষৎ নত।
আজীবন মানে জীবন পর্যন্ত, এখানে আ পর্যন্ত অর্থে; তাই এটিও অব্যয়ীভাব, কিন্তু ঈষৎ অর্থে নয়। আলুনি মানে লবণ নেই এমন, আর আগাছা মানে অনাকাঙ্ক্ষিত বাজে গাছ; এদের আ অভাব বা নিন্দা বোঝায়, ঈষৎ নয়।
ফাঁদ হলো আজীবন: এটি অব্যয়ীভাব সমাসের খুব পরিচিত উদাহরণ, কিন্তু অর্থ পর্যন্ত, ঈষৎ নয়।
মনে রাখুন: আ এর অর্থ ঈষৎ হলে আরক্তিম, আনত; পর্যন্ত হলে আজীবন, আসমুদ্র, আমরণ।
৫২৮. রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি? (রূপালী ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কজলযান
- খমনমাঝি
- গসিংহদ্বার
- ঘএকাদশ
সঠিক উত্তর: খ. মনমাঝি
রূপক কর্মধারয় সমাসে উপমেয় আর উপমানকে অভিন্ন ধরা হয়, আর মাঝে রূপ শব্দটি বসে। উপমেয় হলো যাকে তুলনা করা হচ্ছে, উপমান হলো যার সঙ্গে তুলনা।
মনমাঝি মানে মন রূপ মাঝি। এখানে মনকে মাঝির সঙ্গে আলাদা করে তুলনা করা হয়নি, বরং মনকেই মাঝি বলে কল্পনা করা হয়েছে, যে জীবনের নৌকা বায়। তাই এটি রূপক কর্মধারয়। একই রকম: বিষাদসিন্ধু, জ্ঞানপ্রদীপ, ক্রোধানল।
বাকিগুলো অন্য সমাস। জলযান মানে জলে চলে যে যান, মধ্যপদলোপী কর্মধারয়। সিংহদ্বার মানে সিংহ চিহ্নিত দ্বার, এটিও মধ্যপদলোপী কর্মধারয়। একাদশ মানে এক অধিক দশ, এটিও মধ্যপদলোপী।
ফাঁদ হলো সিংহদ্বার: সিংহ উপমার মতো শোনায়, কিন্তু এখানে দ্বারকে সিংহ বলা হয়নি, সিংহের চিহ্ন বা মূর্তিওয়ালা দ্বার বোঝানো হয়েছে।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে মাঝে রূপ বসলে রূপক কর্মধারয়: মনমাঝি, বিষাদসিন্ধু, জ্ঞানপ্রদীপ, ক্রোধানল।
৫২৯. ব্যাকরণের প্রধান কাজ হচ্ছে - (রূপালী ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কভাষার নিয়ম প্রতিষ্ঠা
- খভাষার শৃঙ্খলা
- গভাষার উন্নতি
- ঘভাষার বিশ্লেষণ
সঠিক উত্তর: ঘ. ভাষার বিশ্লেষণ
প্রশ্নটি ব্যাকরণের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে। ভাষাবিদদের সংজ্ঞা অনুযায়ী ব্যাকরণ হলো সেই শাস্ত্র, যা কোনো ভাষাকে বিশ্লেষণ করে তার স্বরূপ, প্রকৃতি ও প্রয়োগরীতি বুঝিয়ে দেয়।
ব্যাকরণ শব্দটির গঠনও এই ভাব দেয়: বি, আ আর কৃ ধাতু মিলে ব্যাকরণ, মানে বিশেষভাবে বিশ্লেষণ করা। তাই ব্যাকরণের প্রধান কাজ ভাষার বিশ্লেষণ।
ব্যাকরণ নিজে ভাষার নিয়ম তৈরি করে না; ভাষা আগে জন্মায়, মানুষ যেভাবে বলে, ব্যাকরণ পরে তা বিশ্লেষণ করে নিয়মগুলো খুঁজে বের করে। ফাঁদ হলো ভাষার নিয়ম প্রতিষ্ঠা, যা শুনতে ঠিক মনে হলেও ব্যাকরণের কাজ নিয়ম আবিষ্কার ও বর্ণনা করা, চাপিয়ে দেওয়া নয়।
মনে রাখুন: ব্যাকরণ শব্দের অর্থই বিশেষভাবে বিশ্লেষণ, তাই প্রধান কাজ ভাষার বিশ্লেষণ।
৫৩০. কোনটি তৎসম শব্দ? (রূপালী ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- ককলম
- খচন্দন
- গফুল
- ঘবাড়ি
সঠিক উত্তর: খ. চন্দন
তৎসম শব্দ হলো সংস্কৃত থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বাংলায় আসা শব্দ; তৎসম মানে তার সমান, অর্থাৎ সংস্কৃতের সমান।
চন্দন সংস্কৃতেও চন্দন, বাংলাতেও হুবহু চন্দন, তাই এটি তৎসম। একই রকম তৎসম: চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র।
কলম আরবি শব্দ, অর্থাৎ বিদেশি। ফুল এসেছে সংস্কৃত ফুল্ল থেকে, আর বাড়ি এসেছে বাটী থেকে; রূপ বদলে আসায় এরা তদ্ভব।
ফাঁদ হলো ফুল: খুব পরিচিত বাংলা শব্দ বলে অনেকে তৎসম ভাবেন, কিন্তু সংস্কৃত রূপ ফুল্ল থেকে বদলে এসেছে।
মনে রাখুন: শব্দটি হুবহু সংস্কৃতে থাকলে তৎসম, রূপ বদলালে তদ্ভব।
৫৩১. 'পেয়ারা' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ? (রূপালী ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কহিন্দি
- খউর্দু
- গপর্তুগিজ
- ঘগ্রিস
সঠিক উত্তর: গ. পর্তুগিজ
প্রশ্নটি বিদেশি শব্দের উৎস নিয়ে। পেয়ারা এসেছে পর্তুগিজ ভাষা থেকে। ষোড়শ শতক থেকে পর্তুগিজ বণিক ও নাবিকরা বাংলায় আসেন, তাঁদের সঙ্গে নানা ফল, জিনিসপত্র ও শব্দও আসে।
আরও কিছু পর্তুগিজ শব্দ: আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, বালতি, বোতাম, তোয়ালে। বিশেষ করে ফলের নাম আনারস ও পেয়ারা একসঙ্গে মনে রাখুন।
ফাঁদ হলো হিন্দি বা উর্দু: পেয়ারা খুব ঘরোয়া শব্দ এবং উত্তর ভারতেও চলে, তাই অনেকে একে হিন্দি বা উর্দু ভাবেন। কিন্তু শব্দটির মূল পর্তুগিজ। আর গ্রিক থেকে এসেছে দাম, সুড়ঙ্গের মতো অল্প কয়েকটি শব্দ।
মনে রাখুন: ফল দিয়ে মনে রাখুন: আনারস আর পেয়ারা, দুটোই পর্তুগিজ।
৫৩২. 'ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে ' - কে বলেছেন? (রূপালী ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কপ্রমথ চৌধুরী
- খকাজী নজরুল ইসলাম
- গরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঘবলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: ক. প্রমথ চৌধুরী
উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর। তিনি বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রধান প্রবক্তা; তাঁর মতে লেখার ভাষা হওয়া উচিত মুখের ভাষার কাছাকাছি।
উক্তির অর্থ: ভাষা জন্মায় মানুষের মুখে, তারপর লেখায় আসে। কেউ যদি উল্টো করে বইয়ের কৃত্রিম ভাষা মুখে চাপাতে চায়, তার ফল হয় হাস্যকর; সেটিই মুখে কালি পড়া। এ কথা দিয়েই তিনি সাধু ভাষার কৃত্রিমতার বিরুদ্ধে চলিত রীতির পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন।
প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম বীরবল, তিনি সবুজপত্র পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন, আর তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ বীরবলের হালখাতা ও তেল-নুন-লকড়ি।
ফাঁদ হলো রবীন্দ্রনাথ: সবুজপত্রে তিনিও চলিত ভাষায় লিখেছেন, তাই অনেকে উক্তিটি তাঁর বলে ভাবেন।
মনে রাখুন: মুখের ভাষা, চলিত রীতি, সবুজপত্র, বীরবল: এই শব্দগুলো দেখলেই প্রমথ চৌধুরী।
৫৩৩. কোন প্রবচনটি হতভাগ্য অর্থে ব্যবহৃত? (রূপালী ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কউড়নচণ্ডী
- খছা -পোষা
- গআট কপালে
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ. আট কপালে
প্রশ্নটি বাগ্ধারার অর্থ নিয়ে। আট কপালে মানে হতভাগ্য বা দুর্ভাগা। প্রচলিত ধারণায় কপালে ভাগ্য লেখা থাকে; আট কপালে বলে এমন মানুষকে বোঝানো হয়, যার ভাগ্য বারবার মন্দ।
উদাহরণ: আট কপালে লোকটার যে কাজেই হাত দেয়, সেটাই নষ্ট হয়।
বাকিগুলোর অর্থ আলাদা। উড়নচণ্ডী মানে অমিতব্যয়ী বা বেহিসাবি, যে টাকা উড়িয়ে দেয়। ছা-পোষা মানে অনেক সন্তানের ভারে ভারাক্রান্ত, অতি সাধারণ সংসারী মানুষ।
ফাঁদ হলো ছা-পোষা: কষ্টে থাকা মানুষ বোঝায় বলে হতভাগ্য মনে হতে পারে, কিন্তু এর মূল অর্থ সংসারের ভারে নত সাধারণ মানুষ।
মনে রাখুন: কপাল দিয়ে বাগ্ধারা মানেই ভাগ্যের কথা: আট কপালে, পোড়া কপাল = দুর্ভাগ্য।
৫৩৪. 'সৃষ্টি-প্রলয়' বিপরীতার্থক শব্দজোড়টি তৈরি হয়েছে - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ২০১৯)
- কনতুন শব্দ যোগে
- খপৃথক শব্দ যোগে
- গবিদেশি শব্দ যোগে
- ঘঅর্থ আংশিক পাল্টে
সঠিক উত্তর: খ. পৃথক শব্দ যোগে
বিপরীতার্থক শব্দ কয়েক উপায়ে তৈরি হয়। ব্যাকরণ বইয়ে প্রধান উপায়গুলো হলো সম্পূর্ণ পৃথক বা ভিন্ন শব্দযোগে, না-বাচক শব্দ বা উপসর্গ যোগে, উপসর্গ পরিবর্তন করে, আর লিঙ্গ পরিবর্তন করে।
সৃষ্টি আর প্রলয় দুটো সম্পূর্ণ আলাদা শব্দ। একটির সাথে কিছু যোগ বা বদল করে অন্যটি বানানো হয়নি; অর্থে শুধু একটি অন্যটির উল্টো। তাই এটি পৃথক শব্দযোগে গঠিত।
একই ধরনের আরও উদাহরণ: আদি ও অন্ত, আয় ও ব্যয়, আসল ও নকল, ধনী ও দরিদ্র, স্বর্গ ও নরক।
তুলনায় উপসর্গ বদলে গঠিত জোড় হলো উন্নতি ও অবনতি, আর না-বাচক শব্দে গঠিত জোড় হলো ধর্ম ও অধর্ম। নতুন শব্দ যোগে বা অর্থ আংশিক পাল্টে, এমন কোনো উপায় ব্যাকরণে নেই; অপশনগুলো দেখতে কাছাকাছি করে সাজানো।
মনে রাখুন: শব্দজোড়ের মধ্যে মিল না থাকলে (কোনো অংশ সাধারণ নয়) উত্তর পৃথক শব্দযোগে।
৫৩৫. 'রোদসী' শব্দটি দিয়ে বোঝায়- (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ২০১৯)
- করোদন করেছে যে
- খরোদেলা দিন
- গপৃথিবী ও স্বর্গ
- ঘআলোকোজ্জ্বল আকাশ
সঠিক উত্তর: গ. পৃথিবী ও স্বর্গ
প্রশ্নটা একটি তৎসম শব্দের অর্থ নিয়ে। ‘রোদসী’ শব্দের অর্থ স্বর্গ ও মর্ত্য একসঙ্গে, মানে আকাশ ও পৃথিবী। সংস্কৃতে ‘রোদসী’ দ্বিবচনে ব্যবহৃত হয়, তাই এটি দুটি লোককে একসঙ্গে বোঝায়।
এ ধরনের শব্দ বাংলা কবিতায় বেশি আসে; যেমন ‘রোদসী কাঁপিয়া ওঠে’ বললে বোঝায় স্বর্গ-মর্ত্য সব কেঁপে উঠল। একই অর্থের আরেকটি শব্দ ‘দ্যাবাপৃথিবী’।
ফাঁদ হলো শব্দের শুরুর ধ্বনি। ‘রোদ’ শুনে অনেকে রোদেলা দিন বা আলোকোজ্জ্বল আকাশ ভাবেন, আবার ‘রোদন’ শুনে কান্না ভাবেন। কিন্তু রোদসী শব্দের সঙ্গে রোদ বা রোদনের কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: অপরিচিত তৎসম শব্দে শুনতে মিল থাকা বাংলা শব্দ দেখে অর্থ আন্দাজ করবেন না; রোদসী = স্বর্গ-মর্ত্য।
৫৩৬. 'ভেড়ার গোয়ালে আগুন লাগা' প্রবাদটির অর্থ - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ২০১৯)
- কআকস্মিক বিপদ
- খঅকার্যকর কোলাহল
- গঅসহায় অবস্থা
- ঘঅযথা আড়ম্বর
সঠিক উত্তর: খ. অকার্যকর কোলাহল
প্রশ্নটা একটি প্রবাদের অর্থ নিয়ে। ‘ভেড়ার গোয়ালে আগুন লাগা’ মানে অকার্যকর কোলাহল, অর্থাৎ অনর্থক হইচই যাতে কোনো কাজ হয় না।
ছবিটা ভাবুন: গোয়ালে আগুন লাগলে ভেড়াগুলো শুধু ভ্যা ভ্যা করে চেঁচায়, কিন্তু আগুন নেভাতে বা পালাতে কিছুই করতে পারে না। চারদিকে শুধু শব্দ, কাজ শূন্য।
তাই কোনো জায়গায় সবাই মিলে চেঁচামেচি করছে অথচ সমাধানের চেষ্টা নেই, এমন অবস্থা বোঝাতে এই প্রবাদ বলা হয়।
ফাঁদ হলো ‘আগুন লাগা’ শব্দটি। আগুন দেখে অনেকে আকস্মিক বিপদ বা অসহায় অবস্থা বেছে নেন, কিন্তু প্রবাদের মূল ভাব হলো ভেড়ার নিষ্ফল চেঁচামেচি।
মনে রাখুন: প্রবাদের মূল চরিত্র কী করে তা দেখুন: ভেড়া কেবল চেঁচায়, তাই অর্থ নিষ্ফল কোলাহল।
৫৩৭. নিচের যে মন্তব্যটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নয় - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ২০১৯)
- কঅভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাঋদ্ধ গদ্য -ব্যবহার
- খভাষায় নতুন যতি -চিহ্নের প্রয়োগ
- গবর্ণমালার সুপরিকল্পিত বিন্যাস
- ঘসমৃদ্ধ অনুবাদ - সাহিত্য সৃজন
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন মন্তব্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ক্ষেত্রে খাটে না। কিন্তু চারটি মন্তব্যই আসলে তাঁর অবদানের সঙ্গে মেলে, তাই প্রশ্নটি ত্রুটিপূর্ণ।
বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের প্রথম যথার্থ শিল্পী বলা হয়। রবীন্দ্রনাথের মূল্যায়নে, তিনি বাংলা গদ্যের এলোমেলো রূপকে সুবিন্যস্ত ও সুসংযত করেছিলেন; অর্থাৎ গদ্যে ভেতরের শৃঙ্খলা ও ছন্দ এনেছিলেন। তিনিই বাংলা গদ্যে কমা, সেমিকোলনের মতো যতিচিহ্নের সার্থক প্রয়োগ শুরু করেন।
১৮৫৫ সালে প্রকাশিত ‘বর্ণপরিচয়’ বইয়ে তিনি বাংলা বর্ণমালা নতুন করে সাজান: স্বরবর্ণ বারোটি করেন, দীর্ঘ ঋ ও দীর্ঘ ৯ বাদ দেন, আর ড়, ঢ়, য় যোগ করেন।
তাঁর অধিকাংশ সাহিত্যকর্মই অনুবাদ বা রূপান্তর: সংস্কৃত থেকে ‘শকুন্তলা’ ও ‘সীতার বনবাস’, হিন্দি থেকে ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’, শেক্সপিয়র থেকে ‘ভ্রান্তিবিলাস’। তাই অনুবাদ-সাহিত্যও তাঁর বড় অবদান। পরীক্ষায় এমন প্রশ্নে চারটি অবদানই মনে রাখুন।
মনে রাখুন: বিদ্যাসাগরের চার পরিচয় মনে রাখুন: গদ্যশিল্পী, যতিচিহ্ন, বর্ণপরিচয়, অনুবাদ।
৫৩৮. একই সনে জন্মগ্রহণ করেছেন যে দুই কবি - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ২০১৯)
- কমাইকেল মধুসূদন দত্ত ও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
- গকাজী নজরুল ইসলাম ও জীবনানন্দ দাশ
- ঘসত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ও জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর: গ. কাজী নজরুল ইসলাম ও জীবনানন্দ দাশ
প্রশ্নটা কবিদের জন্মসাল মিলিয়ে দেখতে বলছে। কাজী নজরুল ইসলাম ও জীবনানন্দ দাশ দুজনেই জন্মেছেন ১৮৯৯ সালে। নজরুলের জন্ম ২৪ মে, জীবনানন্দের ১৭ ফেব্রুয়ারি; তাই বয়সে জীবনানন্দ কয়েক মাসের বড়।
বাকি জোড়াগুলোতে সাল মেলে না। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের জন্ম ১৮১২, মধুসূদনের ১৮২৪। রবীন্দ্রনাথের জন্ম ১৮৬১, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ১৮৬৩।
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম ১৮৮২, আর জসীমউদ্দীনের ১৯০৩। এখানে ব্যবধান প্রায় দুই দশক।
ফাঁদ হলো রবীন্দ্রনাথ ও দ্বিজেন্দ্রলাল: দুজন সমসাময়িক, মাত্র দুই বছরের ব্যবধান, তাই অনেকে একই সাল ভেবে ভুল করেন।
মনে রাখুন: ১৮৯৯ মনে রাখুন: বিদ্রোহী কবি আর রূপসী বাংলার কবি একই বছরে জন্মেছেন।
৫৩৯. ‘রুদ্র-মঙ্গল’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি- (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ২০১৯)
- ককাব্যগ্রন্থ
- খগল্পগ্রন্থ
- গপ্রবন্ধগ্রন্থ
- ঘউপন্যাস
সঠিক উত্তর: গ. প্রবন্ধগ্রন্থ
প্রশ্নটা নজরুলের রচনার ধরন নিয়ে। ‘রুদ্র-মঙ্গল’ কাজী নজরুল ইসলামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ, প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থগুলো একসঙ্গে মনে রাখা সহজ: ‘যুগবাণী’, ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’, ‘দুর্দিনের যাত্রী’ এবং ‘রুদ্র-মঙ্গল’। এগুলোতে তিনি ব্রিটিশবিরোধী ও বিদ্রোহী চেতনা তুলে ধরেছেন।
নামে ‘মঙ্গল’ থাকায় অনেকে মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যের কথা ভেবে কাব্যগ্রন্থ বেছে নেন। এটাই প্রধান ফাঁদ। নজরুলের কাব্যগ্রন্থ হলো ‘অগ্নিবীণা’, ‘বিষের বাঁশী’ ইত্যাদি।
মনে রাখুন: নজরুলের প্রবন্ধ চেনার কৌশল: যুগ-দুর্দিন-রাজবন্দী-রুদ্র।
৫৪০. বিদেশি উপসর্গের ব্যবহার রয়েছে নিচের কোন শব্দে? (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ২০১৯)
- কপ্রগতি
- খবিহার
- গসুলভ
- ঘনাবালক
সঠিক উত্তর: ঘ. নাবালক
প্রশ্নটা উপসর্গের উৎস নিয়ে। বাংলায় উপসর্গ তিন রকম: তৎসম বা সংস্কৃত, খাঁটি বাংলা, আর বিদেশি। ‘নাবালক’ শব্দের ‘না’ ফারসি উপসর্গ, যার অর্থ নেই বা না।
না যোগ করে আরও শব্দ হয়: নাখোশ, নারাজ, নালায়েক, নাহক। প্রতিটিতে না মানে অভাব বা বিপরীত। নাবালক মানে যে এখনো বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি।
বাকি তিনটি শব্দে তৎসম উপসর্গ: প্রগতিতে প্র, বিহারে বি, সুলভে সু। বিশটি তৎসম উপসর্গের তালিকায় প্র, বি, সু তিনটিই আছে।
ফাঁদ হলো ‘সু’। বাংলায় খুব চেনা বলে অনেকে একে বিদেশি ভাবেন না, আবার কেউ খাঁটি বাংলা ভাবেন; আসলে এটি সংস্কৃত উপসর্গ।
মনে রাখুন: বিদেশি উপসর্গ চেনার তালিকা: না, বদ, বে, কম, ফি, হর, হেড, সাব। এগুলো দেখলেই বিদেশি।