বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ১১
২০১. ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকাটি কোন স্থান থেকে প্রকাশিত? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কঢাকার পল্টন
- খনওগাঁর পরিসর
- গকুষ্টিয়ার কুমারখালী
- ঘময়মনসিংহের ত্রিশাল
সঠিক উত্তর: গ. কুষ্টিয়ার কুমারখালী
প্রশ্নটি জানতে চায় গ্রামবার্তা প্রকাশিকা কোথা থেকে প্রকাশিত হতো। উত্তর কুষ্টিয়ার কুমারখালী।
কাঙাল হরিনাথ মজুমদার ১৮৬৩ সালে কুমারখালী থেকে পত্রিকাটি বের করেন। শহর নয়, একটি গ্রাম থেকে বের হয়ে এটি জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের খবর প্রকাশ করত, তাই একে গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ বলা হয়। মীর মশাররফ হোসেনও এই পত্রিকায় লিখতেন।
নাম থেকেই একটা সূত্র পাওয়া যায়: গ্রামবার্তা মানে গ্রামের খবর, তাই ঢাকার মতো শহরের বিকল্প বাদ দেওয়া সহজ।
বাকি দুটি স্থান অন্য সাহিত্যিকের স্মৃতিচিহ্ন। নওগাঁর পতিসরে রবীন্দ্রনাথের জমিদারির কাছারিবাড়ি, আর ময়মনসিংহের ত্রিশালে নজরুলের কৈশোরের স্মৃতি। খ্যাতনামা স্থান দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। বিকল্পে ছাপা নওগাঁর পরিসর আসলে নওগাঁর পতিসর; এটি প্রশ্নপত্রেরই ছাপার ভুল।
মনে রাখুন: গ্রামবার্তা, কাঙাল হরিনাথ, কুমারখালী: তিনটি একসঙ্গে মনে রাখুন।
২০২. জীবনী সাহিত্যের ধারা গড়ে ওঠে কাকে কেন্দ্র করে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কশ্রীচৈতন্যদেব
- খকাহ্নপা
- গবিদ্যাপতি
- ঘরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব
সঠিক উত্তর: ক. শ্রীচৈতন্যদেব
প্রশ্নটি মধ্যযুগের জীবনী সাহিত্যের উৎস জানতে চায়। বাংলায় জীবনী সাহিত্যের ধারা গড়ে ওঠে শ্রীচৈতন্যদেবকে কেন্দ্র করে।
চৈতন্যদেব ছিলেন বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক ও প্রচারক। তাঁর প্রভাব এত বিশাল ছিল যে তাঁর জীবন ও কাজ নিয়ে একের পর এক কাব্য লেখা হয়, যাদের বলে চৈতন্যজীবনী। মধ্যযুগে মানুষকে কেন্দ্র করে সাহিত্য লেখার এটাই প্রথম বড় ধারা, কারণ এর আগে সাহিত্যের কেন্দ্রে থাকতেন দেবদেবী।
বাংলায় প্রথম চৈতন্যজীবনী বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবত। সবচেয়ে বিখ্যাতটি কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃত। লোচনদাসের চৈতন্যমঙ্গলও এই ধারার।
বাকি তিনজনকে কেন্দ্র করে এমন ধারা গড়ে ওঠেনি। কাহ্নপা চর্যাপদের কবি, বিদ্যাপতি মিথিলার বৈষ্ণব পদকর্তা, আর রামকৃষ্ণ পরমহংস উনিশ শতকের সাধক, মধ্যযুগের অনেক পরের মানুষ।
মনে রাখুন: মধ্যযুগে জীবনী মানেই চৈতন্যজীবনী: প্রথমটি বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবত।
২০৩. চর্যাপদের টীকাকারের নাম কি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কমীননাথ
- খপ্রবোধচন্দ্র বাগচী
- গহরপ্রসাদ শাস্ত্রী
- ঘমুনিদত্ত
সঠিক উত্তর: ঘ. মুনিদত্ত
প্রশ্নটি জানতে চায় চর্যাপদের টীকা কে লিখেছেন। উত্তর মুনিদত্ত, যিনি চর্যার পদগুলোর সংস্কৃত টীকা রচনা করেন।
চর্যাপদের ভাষা সন্ধ্যাভাষা, অর্থাৎ আলো-আঁধারি, যার একটা বাইরের অর্থ আর একটা ভেতরের সাধনতত্ত্বের অর্থ। এই গূঢ় অর্থ বোঝাতেই মুনিদত্ত সংস্কৃতে টীকা লেখেন।
অন্য দুই গবেষকের ভূমিকা আলাদা। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে প্রকাশ করেন। প্রবোধচন্দ্র বাগচী ১৯৩৮ সালে চর্যার তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
ফাঁদ হলো হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, কারণ চর্যাপদের সঙ্গে তাঁর নামই সবচেয়ে বেশি জড়িত। কিন্তু তিনি আবিষ্কারক ও সম্পাদক, টীকাকার নন।
মনে রাখুন: চর্যাপদের চার ভূমিকা: আবিষ্কার হরপ্রসাদ, টীকা মুনিদত্ত, তিব্বতি অনুবাদ প্রবোধচন্দ্র, বাংলা ভাষার নিদর্শন প্রমাণ সুনীতিকুমার।
২০৪. কোন বানানটি শুদ্ধ? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কপুরষ্কার
- খআবিস্কার
- গসময়পোযোগী
- ঘস্বত্ব
সঠিক উত্তর: ঘ. স্বত্ব
প্রশ্নটি বিসর্গ সন্ধি, ষত্ব বিধান আর স্বরসন্ধির নিয়ম দিয়ে শুদ্ধ বানান চিনতে বলছে। চারটির মধ্যে শুদ্ধ কেবল স্বত্ব, যার অর্থ মালিকানা বা অধিকার। স্ব শব্দের সঙ্গে ত্ব প্রত্যয় যোগে এটি গঠিত।
পুরস্কার আর আবিষ্কার দুটিতেই বিসর্গ সন্ধি আছে, কিন্তু ফল আলাদা। পুরঃ আর কার মিলে পুরস্কার, কারণ এই শব্দে অ-কারের পরের বিসর্গ ক-এর আগে দন্ত্য স হয়ে যায়; যেমন নমস্কার, তিরস্কার। সব শব্দে অবশ্য বিসর্গ বদলায় না, মনঃকষ্ট শব্দে বিসর্গ অটুট থাকে। আবিঃ আর কার মিলে আবিষ্কার, কারণ ই-কারের পরের বিসর্গ ক-এর আগে মূর্ধন্য ষ হয়; যেমন বহিষ্কার, নিষ্কৃতি।
সময়োপযোগী শব্দটি সময় আর উপযোগী মিলে গঠিত। অ আর উ মিলে হয় ও, তাই ও-কার বসে য়-এর গায়ে: সময়োপযোগী।
ফাঁদ হলো পুরষ্কার আর আবিস্কার, যেখানে স আর ষ অদলবদল হয়েছে। মনে রাখুন: বিসর্গ বদলে শিস্ধ্বনি হলে আগে অ-কার থাকলে স, আগে ই বা উ-কার থাকলে ষ।
মনে রাখুন: বিসর্গ বদলে শিস্ধ্বনি হলে আগে অ-কার থাকলে স: পুরস্কার, নমস্কার, তিরস্কার। আগে ই বা উ-কার থাকলে ষ: আবিষ্কার, বহিষ্কার, দুষ্কর।
২০৫. ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমিকায় লেখা উপন্যাস কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কভূমিপুত্র
- খমাটির জাহাজ
- গকাঁটাতারে প্রজাপতি
- ঘচিলেকোঠার সেপাই
সঠিক উত্তর: ঘ. চিলেকোঠার সেপাই
প্রশ্নটি ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস চিনতে বলছে। উত্তর আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলেকোঠার সেপাই, প্রকাশিত ১৯৮৬ সালে।
উপন্যাসটি পুরান ঢাকার চিলেকোঠায় থাকা ওসমান আর মিছিলের সাহসী মানুষ হাড্ডি খিজিরকে ঘিরে। শহরের মিছিল থেকে গ্রামের কৃষক আন্দোলন পর্যন্ত ঊনসত্তরের উত্তাল সময়টা এতে ধরা আছে। এটি ইলিয়াসের প্রথম উপন্যাস; দ্বিতীয়টি খোয়াবনামা।
অন্য বিকল্পগুলো ভিন্ন লেখকের ভিন্ন বিষয়ের উপন্যাস। মাটির জাহাজ মাহমুদুল হকের উপন্যাস। কাঁটাতারে প্রজাপতি সেলিনা হোসেনের উপন্যাস। কোনোটিই ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের উপন্যাস হিসেবে পরিচিত নয়।
এক কথায় মনে রাখুন: ঊনসত্তর মানে চিলেকোঠার সেপাই, আর লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
মনে রাখুন: ইলিয়াসের মাত্র দুটি উপন্যাস: চিলেকোঠার সেপাই মানে ঊনসত্তর, খোয়াবনামা মানে গ্রামবাংলার স্বপ্ন আর বাস্তবতা।
২০৬. কোনটি নামধাতুর উদাহরণ? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কচল্
- খকর্
- গবেতা
- ঘপড়ু
সঠিক উত্তর: গ. বেতা
প্রশ্নটি নামধাতু চিনতে বলছে। বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের সঙ্গে আ প্রত্যয় যোগে যে ধাতু তৈরি হয়, তাকে নামধাতু বলে।
বেত একটি বিশেষ্য, অর্থাৎ বেতের লাঠি। এর সঙ্গে আ যোগ হয়ে হয়েছে বেতা ধাতু, যার থেকে ক্রিয়া বেতানো, মানে বেত দিয়ে মারা। শব্দ থেকে ধাতু হয়েছে বলেই এটি নামধাতু।
একই নিয়মে ঘুম থেকে ঘুমা, তাই ঘুমানো; হাত থেকে হাতা, তাই হাতানো; ধমক থেকে ধমকা, তাই ধমকানো।
অন্যদিকে চল্, কর্, পড়্ মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু; এদের আর ভাঙা যায় না, কোনো শব্দ থেকেও আসেনি। চেনা ক্রিয়ার মূল বলে এগুলোকেই অনেকে বেছে নেন, কিন্তু নামধাতু হতে হলে আগে একটি নাম বা শব্দ থাকতে হবে। বিকল্পে ছাপা পড়ু আসলে পড়্ ধাতু; হসন্তের জায়গায় উ-কার ছাপা হয়েছে, প্রশ্নপত্রেই এমন।
মনে রাখুন: ধাতুটির পেছনে কোনো চেনা বিশেষ্য বা বিশেষণ লুকিয়ে আছে কি না দেখুন; থাকলে নামধাতু, না থাকলে মৌলিক।
২০৭. গড্ডলিকা প্রবাহ’ বাগধারায় ‘গড্ডল’ শব্দের অর্থ কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কস্রোত
- খভেড়া
- গএকত্র
- ঘভাসা
সঠিক উত্তর: খ. ভেড়া
প্রশ্নটি একটি বাগধারার ভেতরের শব্দের আক্ষরিক অর্থ জানতে চায়। গড্ডল শব্দের অর্থ ভেড়া, আর গড্ডলিকা মানে ভেড়ার পাল বা সারি।
ভেড়ার পালে সামনের ভেড়া যেদিকে যায়, পেছনের সবাই চোখ বুজে সেদিকেই চলে। তাই গড্ডলিকা প্রবাহ বাগধারার অর্থ বিচার না করে অন্ধভাবে অন্যকে অনুসরণ করা। যেমন: ফ্যাশনের গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ো না।
বাগধারার অর্থ বুঝতে তার আক্ষরিক ছবিটা মাথায় আনুন; ভেড়ার সারির ছবি থেকেই অন্ধ অনুকরণের অর্থ এসেছে।
ফাঁদ হলো স্রোত বিকল্পটি। স্রোত আসলে প্রবাহ শব্দের অর্থ, গড্ডল শব্দের নয়। আর একত্র বিকল্পটি ভেড়ার দল বেঁধে চলার ভাব থেকে আসা বিভ্রান্তি।
মনে রাখুন: বাগধারার শব্দার্থ জিজ্ঞেস করলে প্রতিটি শব্দ আলাদা করুন: গড্ডল ভেড়া, প্রবাহ স্রোত।
২০৮. ‘তাতে সমাজজীবন চলে না।’ – এ বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কোনটি? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কতাতে সমাজজীবন চলে।
- খতাতে না সমাজজীবন চলে।
- গতাতে সমাজজীবন অচল হয়ে পড়ে।
- ঘতাতে সমাজজীবন সচল হয়ে পড়ে।
সঠিক উত্তর: গ. তাতে সমাজজীবন অচল হয়ে পড়ে।
প্রশ্নটি নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে বলছে। শর্ত হলো অর্থ একটুও বদলাবে না, শুধু না-বোধক গঠন বদলে হ্যাঁ-বোধক গঠন হবে।
তাতে সমাজজীবন চলে না, মানে সমাজজীবন থেমে যায়। এই অর্থ হ্যাঁ-বোধক ভাবে বলতে চলে না-এর বদলে বিপরীত অর্থের শব্দ অচল ব্যবহার করি: তাতে সমাজজীবন অচল হয়ে পড়ে।
এই রূপান্তরের কৌশল হলো না-যুক্ত অংশের একটি বিপরীতার্থক শব্দ খোঁজা। যেমন সে ধনী নয় হয় সে গরিব, কাজটা সহজ নয় হয় কাজটা কঠিন।
ফাঁদ হলো তাতে সমাজজীবন চলে বিকল্পটি। এটি অস্তিবাচক ঠিকই, কিন্তু শুধু না তুলে দেওয়ায় অর্থ উল্টে গেছে।
মনে রাখুন: না-যুক্ত ক্রিয়া বা বিশেষণের বিপরীত শব্দ বসান: চলে না হয় অচল হয়, ধনী নয় হয় গরিব।
২০৯. “তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শত বার/জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।” – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার অংশ? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক‘অনন্ত প্রেম’
- খ‘উপহার’
- গ‘ব্যক্ত প্রেম’
- ঘ‘শেষ উপহার’
সঠিক উত্তর: ক. ‘অনন্ত প্রেম’
প্রশ্নটি একটি বিখ্যাত চরণ দেখে রবীন্দ্রনাথের কবিতা চিনতে বলছে। তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শত বার, জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার, এই চরণ অনন্ত প্রেম কবিতার।
কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের মানসী কাব্যগ্রন্থের, যা ১৮৯০ সালে প্রকাশিত। এখানে কবি বলছেন, এই প্রেম এক জন্মের নয়; যুগ যুগ ধরে, জন্মে জন্মে একই প্রিয়জনকে তিনি ভালোবেসে আসছেন। চরণের জনমে জনমে আর যুগে যুগে শব্দগুলোই শিরোনামের অনন্ত শব্দের সূত্র।
বাকি শিরোনামগুলোও রবীন্দ্রনাথের কবিতা, তাই প্রশ্নটি কঠিন লাগে। ব্যক্ত প্রেমও মানসীরই কবিতা, আর শেষ উপহার চিত্রা কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
কৌশল হলো চরণের মূল ভাব আর শিরোনাম মেলানো: শত বার, জনমে জনমে, অনিবার, সবই সীমাহীনতার কথা, তাই অনন্ত প্রেম।
মনে রাখুন: উদ্ধৃতির মূল ভাবের শব্দ খুঁজুন, তারপর শিরোনামে মেলান: যুগে যুগে, জনমে জনমে মানে অনন্ত।
২১০. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কপণ্ডিত
- খবিদ্যাসাগর
- গশাস্ত্রজ্ঞ
- ঘমহামহোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: ঘ. মহামহোপাধ্যায়
প্রশ্নটি চর্যাপদের আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি জানতে চায়। উত্তর মহামহোপাধ্যায়, যা তিনি ১৮৯৮ সালে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে পান। পরে ১৯১১ সালে তিনি সিআইই উপাধিও পান।
মহামহোপাধ্যায় ছিল সংস্কৃত শাস্ত্রে পাণ্ডিত্যের জন্য সরকারের দেওয়া সম্মানসূচক উপাধি। হরপ্রসাদ ছিলেন সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত, পুথি সংগ্রাহক ও ইতিহাসবিদ। তিনি ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
ফাঁদ লুকিয়ে আছে তাঁর নামেই। শাস্ত্রী অংশটি দেখে অনেকে শাস্ত্রজ্ঞ বিকল্পটি বেছে নেন। আসলে শাস্ত্রী তাঁর সংস্কৃত শিক্ষার স্বীকৃতি থেকে পাওয়া পদবি, আর মহামহোপাধ্যায় আলাদা সরকারি উপাধি।
বিদ্যাসাগর বিকল্পটিও ফাঁদ। বিদ্যাসাগর উপাধি পেয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র, সংস্কৃত কলেজ থেকে।
মনে রাখুন: হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর তিনটি তথ্য একসঙ্গে: মহামহোপাধ্যায় ১৮৯৮, চর্যাপদ আবিষ্কার ১৯০৭, প্রকাশ ১৯১৬।
২১১. ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী নিয়ে লেখা উপন্যাস কোনটি? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক‘তেইশ নম্বর তৈলচিত্র’
- খ‘ক্ষুধা ও আশা’
- গ‘কর্ণফুলি’
- ঘ‘ধানকন্যা’
সঠিক উত্তর: গ. ‘কর্ণফুলি’
প্রশ্নটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন নিয়ে লেখা উপন্যাস চিনতে বলছে। উত্তর আলাউদ্দিন আল আজাদের কর্ণফুলী, প্রকাশিত ১৯৬২ সালে।
উপন্যাসটির পটভূমি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীর। নদীর পাড়ে আর পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবন, শ্রম আর সংগ্রাম এতে তুলে ধরা হয়েছে।
মজার ব্যাপার হলো চারটি বিকল্পই আলাউদ্দিন আল আজাদের রচনা, তাই লেখক দেখে উত্তর পাওয়া যাবে না, বিষয় দেখতে হবে। তেইশ নম্বর তৈলচিত্র তাঁর প্রথম উপন্যাস, ১৯৬০ সালের, একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রেমের কাহিনি। ক্ষুধা ও আশা ১৯৬৪ সালের উপন্যাস। ধানকন্যা তাঁর ১৯৫১ সালের গল্পগ্রন্থ, উপন্যাসই নয়।
ফাঁদ হলো ধানকন্যা, কারণ নামটা গ্রামীণ বা আদিবাসী জীবনের কথা মনে করায়। কিন্তু এটি গল্পগ্রন্থ।
মনে রাখুন: সব বিকল্প একই লেখকের হলে বিষয় আর ধরন মেলান: নদী আর পাহাড়ের মানুষ মানে কর্ণফুলী।
২১২. ‘নীল লোহিত’ কোন লেখকের ছদ্মনাম? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কঅরুণ মিত্র
- খসমরেশ বসু
- গসুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
- ঘসমরেশ মজুমদার
সঠিক উত্তর: গ. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
প্রশ্নটি একটি ছদ্মনামের আসল মানুষকে চিনতে বলছে। নীললোহিত সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
নীললোহিত নামে সুনীল ভ্রমণ আর অভিযানের স্বাদের অনেক উপন্যাস লিখেছেন, যার কথক এক চিরকালীন সাতাশ বছরের বেকার যুবক। এ ছাড়া তিনি সনাতন পাঠক আর নীল উপাধ্যায় নামেও লিখতেন। সুনীলের বিখ্যাত উপন্যাস সেই সময়, প্রথম আলো, পূর্ব-পশ্চিম।
সমরেশ নামের দুজন লেখক বিকল্পে আছেন, আর এটাই ফাঁদ। সমরেশ বসুর ছদ্মনাম কালকূট ও ভ্রমর, নীললোহিত নয়। সমরেশ মজুমদারের বিখ্যাত উপন্যাস উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ। অরুণ মিত্র ছিলেন কবি ও ফরাসি সাহিত্যের অনুবাদক।
ছদ্মনামের প্রশ্নে পাশের তথ্যগুলোও আসে: প্রমথ চৌধুরী বীরবল, রাজশেখর বসু পরশুরাম, আর সমরেশ বসু কালকূট।
মনে রাখুন: সুনীলের তিন ছদ্মনামেই নীল বা পাঠক আছে; নামের নীল থেকেই নীললোহিত মনে রাখুন।
২১৩. বাগযন্ত্রের অংশ কোনটি? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কস্বরযন্ত্র
- খফুসফুস
- গদাঁত
- ঘউপরের সবকটি
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের সবকটি
প্রশ্নটি জানতে চায় বাগযন্ত্রের অংশ কোনগুলো। ধ্বনি উচ্চারণে শরীরের যেসব প্রত্যঙ্গ কাজ করে, তাদের একসঙ্গে বাগযন্ত্র বলে।
ধ্বনি তৈরির পথটা দেখুন। ফুসফুস থেকে বাতাস বের হয়, তাই ফুসফুস হলো বাতাসের উৎস। গলায় স্বরযন্ত্রে থাকে স্বরতন্ত্রী, যা কেঁপে আওয়াজ তৈরি করে। তারপর মুখে জিহ্বা, তালু, দাঁত, ঠোঁট আর নাক সেই বাতাসকে নানাভাবে বাধা দিয়ে আলাদা আলাদা ধ্বনি গড়ে।
তাই ফুসফুস, স্বরযন্ত্র, দাঁত, তিনটিই বাগযন্ত্রের অংশ, আর উত্তর উপরের সবকটি। দাঁতের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনিকে বলে দন্ত্য ধ্বনি, যেমন ত, থ, দ, ধ।
ভুল হয় তখন, যখন কেউ শুধু মুখের ভেতরের অঙ্গকে বাগযন্ত্র ভাবেন আর ফুসফুস বাদ দেন। কিন্তু বাতাস ছাড়া কোনো ধ্বনিই হয় না।
মনে রাখুন: সবকটি বিকল্প থাকলে আগে দেখুন প্রতিটি আলাদাভাবে ঠিক কি না; তিনটিই ঠিক হলে উত্তর সবকটি।
২১৪. রবীন্দ্রনাথ কোন কারক বাদ দিতে চেয়েছিলেন? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ককরণ কারক
- খসম্প্রদান কারক
- গঅপাদান কারক
- ঘঅধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর: খ. সম্প্রদান কারক
প্রশ্নটি কারক নিয়ে রবীন্দ্রনাথের একটি মত জানতে চায়। রবীন্দ্রনাথ সম্প্রদান কারককে আলাদা কারক হিসেবে রাখার পক্ষে ছিলেন না।
প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণে কারক ছয়টি: কর্তা, কর্ম, করণ, সম্প্রদান, অপাদান, অধিকরণ। স্বত্ব ত্যাগ করে কিছু দান করা হলে যাকে দেওয়া হয়, সে সম্প্রদান; যেমন ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও।
যুক্তিটা হলো, সংস্কৃতে সম্প্রদানের নিজস্ব বিভক্তি আছে, কিন্তু বাংলায় সম্প্রদানে কে বিভক্তি বসে, ঠিক কর্ম কারকের মতো। রূপে কোনো পার্থক্য না থাকায় বাংলায় একে আলাদা কারক রাখার প্রয়োজন রবীন্দ্রনাথ দেখেননি।
অন্য কারকগুলোর বাংলায় নিজস্ব চেহারা আছে: করণে দিয়ে বা দ্বারা, অপাদানে থেকে বা হতে, অধিকরণে এ বা তে। তাই এগুলো বাদ দেওয়ার প্রশ্ন ওঠেনি।
মনে রাখুন: যে কারকের বাংলায় আলাদা বিভক্তি নেই, সেটিকেই বাদ দেওয়ার কথা উঠেছিল: সম্প্রদান, যার বিভক্তি কর্মের মতোই কে।
২১৫. কেন্তুমের কোন দুটি শাখা এশিয়ার অন্তর্গত? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কহিত্তিক ও তুখারিক
- খতামিল ও দ্রাবিড়
- গআর্য ও অনার্য
- ঘমাগধী ও গৌড়ী
সঠিক উত্তর: ক. হিত্তিক ও তুখারিক
প্রশ্নটি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের শাখা নিয়ে। এই ভাষাবংশকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: কেন্তুম আর শতম। নাম দুটি এসেছে একশো সংখ্যার শব্দ থেকে; লাতিনে একশো কেন্তুম, আর আবেস্তা ভাষায় সতম।
কেন্তুম শাখার ভাষাগুলো প্রধানত ইউরোপের: গ্রিক, ইতালীয় বা লাতিন, কেলটিক, জার্মানিক। কিন্তু এই শাখার দুটি ভাষা প্রচলিত ছিল এশিয়ায়: হিত্তীয় বা হিত্তিক, যা চলত আনাতোলিয়া অর্থাৎ বর্তমান তুরস্কে, আর তুখারীয় বা তুখারিক, যা চলত মধ্য এশিয়ার তারিম অববাহিকায়।
অন্যদিকে শতম শাখায় আছে ইন্দো-ইরানীয়, বাল্টো-স্লাভিক, আর্মেনীয়, আলবেনীয়। বাংলা এই শতম শাখারই ইন্দো-ইরানীয় ধারা থেকে এসেছে।
ফাঁদ হলো মাগধী ও গৌড়ী। এগুলো আমাদের পরিচিত প্রাকৃত, বাংলার উৎস হিসেবে আলোচিত, তাই চোখে পড়ে। কিন্তু এরা শতম শাখার ভারতীয় ধারার, কেন্তুমের নয়।
মনে রাখুন: কেন্তুমের এশিয়ার জোড়া মনে রাখুন হি আর তু দিয়ে: হিত্তিক ও তুখারিক।
২১৬. ‘রুখের তেন্তুলি কুমীরে খাই’–এর অর্থ কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কতেজি কুমিরকে রুখে দিই
- খবৃক্ষের শাখায় পাকা তেঁতুল
- গগাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
- ঘভুল থেকে শিক্ষা নিতে হয়
সঠিক উত্তর: গ. গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
প্রশ্নটি চর্যাপদের একটি চরণের অর্থ জানতে চায়। রুখের তেন্তুলি কুমীরে খাই, এই চরণে রুখ মানে বৃক্ষ বা গাছ, তেন্তুলি মানে তেঁতুল, আর কুমীরে খাই মানে কুমিরে খায়।
তাই সোজা অর্থ: গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়। চরণটি কুক্কুরীপার পদের। কুমির গাছে উঠে তেঁতুল খায়, এমন অসম্ভব ছবি দিয়ে চর্যাকারেরা সাধনার গূঢ় তত্ত্ব বলতেন। এই আলো-আঁধারি ভাষাকে বলে সন্ধ্যাভাষা।
পুরোনো বাংলার শব্দ এখনকার শব্দের সঙ্গে মিলিয়ে পড়লেই অর্থ বোঝা যায়: তেন্তুলি থেকে তেঁতুল, কুমীর থেকে কুমির।
ফাঁদ হলো বৃক্ষের শাখায় পাকা তেঁতুল বিকল্পটি। রুখ আর তেঁতুল ঠিক ধরা হলেও এতে কুমির নেই, তাই অর্থ অসম্পূর্ণ।
মনে রাখুন: চর্যার চরণের অর্থ প্রশ্নে প্রতিটি শব্দকে আধুনিক রূপে মেলান; যে বিকল্পে সব শব্দের অর্থ আছে সেটিই উত্তর।
২১৭. কত সালে ‘দুর্গেশনন্দিনী’ উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক১৮৬০
- খ১৮৬১
- গ১৮৬৫
- ঘ১৮৬৭
সঠিক উত্তর: গ. ১৮৬৫
প্রশ্নটি দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের প্রকাশকাল জানতে চায়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুর্গেশনন্দিনী প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ সালে। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস এবং বঙ্কিমের প্রথম বাংলা উপন্যাস।
একটা পার্থক্য মনে রাখুন। প্রথম বাংলা উপন্যাস হিসেবে ধরা হয় প্যারীচাঁদ মিত্রের আলালের ঘরের দুলাল; কিন্তু শিল্পগুণে পরিপূর্ণ প্রথম সার্থক উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী।
বিকল্পের অন্য সালগুলো কাছাকাছি সময়ের বড় ঘটনার সঙ্গে গুলিয়ে যায়। ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয় দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ, ১৮৬১ সালে মধুসূদনের মেঘনাদবধ কাব্য। দুর্গেশনন্দিনীর পরের বছর, ১৮৬৬ সালে, বের হয় বঙ্কিমের কপালকুণ্ডলা।
তাই সময়রেখায় সাজিয়ে মনে রাখুন: নীলদর্পণ, তারপর মেঘনাদবধ, তারপর দুর্গেশনন্দিনী, তারপর কপালকুণ্ডলা।
মনে রাখুন: বঙ্কিমের প্রথম দুটি উপন্যাস পরপর দুই বছরে: দুর্গেশনন্দিনী ১৮৬৫, কপালকুণ্ডলা ১৮৬৬।
২১৮. বাংলা সাহিত্যে প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিকের নাম কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কবেগম রোকেয়া
- খকাদম্বরী দেবী
- গস্বর্ণকুমারী দেবী
- ঘনূরুন্নাহার ফয়জুন্নেসা
সঠিক উত্তর: গ. স্বর্ণকুমারী দেবী
প্রশ্নটি জানতে চায় বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক কে। প্রচলিত উত্তর স্বর্ণকুমারী দেবী, যাঁর দীপনির্বাণ বাঙালি নারীর লেখা প্রথম উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃত।
স্বর্ণকুমারী দেবী রবীন্দ্রনাথের বড় বোন। তিনি দীর্ঘদিন ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। দীপনির্বাণ প্রথমে লেখকের নাম ছাড়া প্রকাশিত হয়েছিল।
একটি সূক্ষ্ম তথ্য: কেউ কেউ মিশনারি হানা ক্যাথরিন মুলেন্সের ফুলমণি ও করুণার বিবরণকে, যা ১৮৫২ সালের, নারীর লেখা প্রথম বাংলা উপন্যাস বলেন। তবে তিনি বিকল্পে নেই, আর বাঙালি নারী হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি স্বর্ণকুমারীর।
অন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে বেগম রোকেয়ার জন্ম ১৮৮০ সালে, তাই তিনি প্রথম হতে পারেন না; তাঁর উপন্যাস পদ্মরাগ। কাদম্বরী দেবী জ্যোতিরিন্দ্রনাথের স্ত্রী, কোনো উপন্যাস লেখেননি। আর ফয়জুন্নেসা নামটি নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীকে মনে করায়, যাঁর রূপজালাল ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত; তিনি প্রথম মুসলিম নারী সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
মনে রাখুন: প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক স্বর্ণকুমারী, প্রথম মুসলিম মহিলা সাহিত্যিক ফয়জুন্নেছা: দুটো আলাদা প্রশ্ন, আলাদা উত্তর।
২১৯. ‘আমার দেখা নয়াচীন’ কে লিখেছেন? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কমওলানা ভাসানী
- খআবুল ফজল
- গশহীদুল্লা কায়সার
- ঘশেখ মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর: ঘ. শেখ মুজিবুর রহমান
প্রশ্নটি একটি ভ্রমণগ্রন্থের লেখক জানতে চায়। আমার দেখা নয়াচীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা।
১৯৫২ সালে তিনি চীনে অনুষ্ঠিত একটি শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে সে দেশ সফর করেন। সদ্য বিপ্লবের পর নতুন চীনের সমাজ, অর্থনীতি আর মানুষের জীবন তিনি যেভাবে দেখেছেন, তা-ই এই বইয়ে লেখা। বইটি প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে।
বঙ্গবন্ধুর লেখা তিনটি বই একসঙ্গে মনে রাখুন: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, প্রকাশিত ২০১২ সালে; কারাগারের রোজনামচা, ২০১৭ সালে; আর আমার দেখা নয়াচীন, ২০২০ সালে।
বাকি বিকল্পগুলো ভিন্ন পরিচয়ের মানুষ। আবুল ফজলের উপন্যাস রাঙা প্রভাত, আর শহীদুল্লা কায়সারের সংশপ্তক ও সারেং বৌ। মওলানা ভাসানীর চীনঘনিষ্ঠ রাজনীতির কথা মনে করে অনেকে তাঁকে বেছে নেন, কিন্তু বইটি তাঁর নয়।
মনে রাখুন: বঙ্গবন্ধুর তিন বই প্রকাশের ক্রমে: আত্মজীবনী, রোজনামচা, নয়াচীন।
২২০. মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক‘মনসামঙ্গল’
- খ‘মনসাবিজয়’
- গ‘পদ্মপুরাণ’
- ঘ‘পদ্মাবতী’
সঠিক উত্তর: গ. ‘পদ্মপুরাণ’
প্রশ্নটি জানতে চায় মনসা দেবীকে নিয়ে বিজয়গুপ্তের কাব্যের নাম। বরিশালের কবি বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গল কাব্যের নাম পদ্মাপুরাণ; বিকল্পে নামটি পদ্মপুরাণ বানানে ছাপা।
মনসা দেবীর আরেক নাম পদ্মা, তাই তাঁর কাহিনির কাব্যের নাম পদ্মাপুরাণ। কাহিনির কেন্দ্রে চাঁদ সওদাগর, বেহুলা আর লখিন্দর; মনসার পূজা না করায় চাঁদ সওদাগরের সঙ্গে দেবীর দ্বন্দ্বই এর মূল কথা।
মনসামঙ্গল হলো পুরো ধারার নাম, যে ধারায় অনেক কবি লিখেছেন। আলাদা কবির কাব্যের আলাদা নাম আছে: বিপ্রদাস পিপিলাইয়ের কাব্যের নাম মনসাবিজয়।
দুটি ফাঁদ আছে। মনসামঙ্গল ধারার নাম, নির্দিষ্ট কাব্যের নাম নয়। আর পদ্মাবতী আলাওলের অনুবাদ কাব্য, যার সঙ্গে মনসা বা পদ্মা দেবীর কোনো সম্পর্ক নেই; শুধু নামের মিল।
মনে রাখুন: মনসামঙ্গলের কবি আর কাব্যের নাম জোড়ায়: বিজয়গুপ্ত পদ্মাপুরাণ, বিপ্রদাস মনসাবিজয়।