বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ১০
১৮১. প্রচুর + য = প্রাচুর্য; কোন প্রত্যয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ককৃৎ প্রত্যয়
- খতদ্ধিত প্রত্যয়
- গবাংলা কৃৎ প্রত্যয়
- ঘসংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
সঠিক উত্তর: খ. তদ্ধিত প্রত্যয়
প্রশ্নটি প্রত্যয়ের শ্রেণি জানতে চায়। প্রত্যয় দুই প্রকার: ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হলে কৃৎ প্রত্যয়, আর কোনো শব্দ বা নামপদের সঙ্গে যুক্ত হলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
প্রাচুর্য শব্দের প্রকৃতি প্রচুর, যা একটি বিশেষণ শব্দ, কোনো ক্রিয়ামূল বা ধাতু নয়। তাই এর সঙ্গে যুক্ত য প্রত্যয়টি তদ্ধিত। প্রত্যয় যোগে বিশেষণ প্রচুর থেকে বিশেষ্য প্রাচুর্য তৈরি হয়েছে।
য প্রত্যয় যুক্ত হলে শব্দের প্রথম স্বর বৃদ্ধি পায়, তাই প্র হয়ে যায় প্রা। একই নিয়মে মধুর থেকে মাধুর্য, চতুর থেকে চাতুর্য, সুন্দর থেকে সৌন্দর্য।
বাকি তিনটি বিকল্পই আসলে কৃৎ প্রত্যয়ের নানা নাম। বাংলা কৃৎ আর সংস্কৃত কৃৎ দুটোই ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়, তাই প্রচুর শব্দের ক্ষেত্রে কোনোটিই খাটে না।
মনে রাখুন: প্রকৃতি দেখুন: ধাতু হলে কৃৎ, শব্দ হলে তদ্ধিত। মধুর থেকে মাধুর্য, চতুর থেকে চাতুর্য, ধীর থেকে ধৈর্যও একই তদ্ধিত।
১৮২. ব্যঞ্জন ধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপকে বলে- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- করেফ
- খহসন্ত
- গকার
- ঘফলা
সঠিক উত্তর: ঘ. ফলা
প্রশ্নটি বর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপের নাম জানতে চায়। নিয়মটা সহজ: স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে বলে কার, আর ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে বলে ফলা।
কোনো ব্যঞ্জনবর্ণ অন্য ব্যঞ্জনের পরে যুক্ত হলে সে পুরো আকারে না বসে ছোট একটি চিহ্ন হয়ে যায়। যেমন য-ফলা বাক্য শব্দে, র-ফলা প্রাণ শব্দে, ব-ফলা স্বাধীন শব্দে, ম-ফলা পদ্ম শব্দে। বাংলায় এমন ফলা ছয়টি: য, র, ল, ব, ম, ন।
রেফও র-এর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ, যখন র অন্য ব্যঞ্জনের আগে বসে মাথায় ওঠে, যেমন কর্ম। কিন্তু এটি কেবল একটি বর্ণের একটি বিশেষ অবস্থান, সব ব্যঞ্জনের সংক্ষিপ্ত রূপের সাধারণ নাম নয়।
ফাঁদ হলো কার বিকল্পটি, কারণ কার আর ফলা দুটোই সংক্ষিপ্ত রূপ। পার্থক্য মনে রাখুন: কার আসে স্বর থেকে, ফলা আসে ব্যঞ্জন থেকে।
মনে রাখুন: স্বর থেকে কার, ব্যঞ্জন থেকে ফলা। ফলা ছয়টি: য, র, ল, ব, ম, ন।
১৮৩. পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি কার ছিল? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কদাশরথি রায়
- খরামনিধি গুপ্ত
- গফকির গরীবুল্লাহ
- ঘরামরাম বসু
সঠিক উত্তর: ক. দাশরথি রায়
প্রশ্নটি উনিশ শতকের লোকপ্রিয় গানের ধারা পাঁচালির সেরা রচয়িতাকে চিনতে বলছে। উত্তর দাশরথি রায়, যিনি দাশু রায় নামে পরিচিত।
পাঁচালি হলো ছড়া, গান আর কথকতা মিশিয়ে কাহিনি পরিবেশনের ধারা। দাশরথি রায় পৌরাণিক কাহিনির সঙ্গে সমকালীন সমাজের ব্যঙ্গ, অনুপ্রাস আর চটুল ছন্দ মিশিয়ে পাঁচালিকে সবচেয়ে জনপ্রিয় করে তোলেন।
অন্য তিনজনের খ্যাতি আলাদা ক্ষেত্রে। রামনিধি গুপ্ত বা নিধুবাবু টপ্পা গানের জন্য বিখ্যাত। ফকির গরীবুল্লাহ দোভাষী পুথির কবি, আমির হামজা পুথির জন্য পরিচিত। রামরাম বসু ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখক, তাঁর প্রতাপাদিত্য চরিত্র বাঙালির লেখা প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থ।
ফাঁদ হলো রামনিধি গুপ্ত। তিনিও উনিশ শতকের গীতিকার বলে পাঁচালির সঙ্গে গুলিয়ে যান, কিন্তু তাঁর ধারা টপ্পা।
মনে রাখুন: উনিশ শতকের গানের ধারা জোড়ায় মনে রাখুন: পাঁচালি মানে দাশু রায়, টপ্পা মানে নিধুবাবু।
১৮৪. চারণকবি হিসেবে বিখ্যাত কে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কআলাওল
- খচন্দ্রাবতী
- গমুকুন্দদাস
- ঘমুক্তারাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর: গ. মুকুন্দদাস
প্রশ্নটি চারণকবি উপাধিধারী কবিকে চিনতে বলছে। উত্তর মুকুন্দদাস, যাঁর আসল নাম যজ্ঞেশ্বর দে।
চারণ মানে যারা ঘুরে ঘুরে গান গেয়ে বীরত্বের কাহিনি শোনায়। স্বদেশি আন্দোলনের সময় মুকুন্দদাস গ্রামে গ্রামে স্বদেশি যাত্রা আর গান করে মানুষকে ব্রিটিশবিরোধী চেতনায় জাগিয়েছিলেন। তাঁর মাতৃপূজা যাত্রাপালা খুব জনপ্রিয় হয়, আর এই কাজের জন্যই তিনি চারণকবি নামে খ্যাত।
অন্যরা মধ্যযুগের কবি। আলাওল আরাকান রাজসভার কবি, পদ্মাবতীর রচয়িতা। চন্দ্রাবতী ময়মনসিংহের নারী কবি, তিনি রামায়ণ লিখেছেন।
ফাঁদ হলো মুক্তারাম চক্রবর্তী নামটি, যা চণ্ডীমঙ্গলের কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর নাম মনে করিয়ে দেয়। মুকুন্দ নামের মিল থাকলেও মুকুন্দরামের উপাধি কবিকঙ্কণ, চারণকবি নয়।
মনে রাখুন: চারণকবি মানেই স্বদেশি যুগের মুকুন্দদাস; মধ্যযুগের মুকুন্দরাম হলেন কবিকঙ্কণ।
১৮৫. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নষ্টনীড়’ গল্পের একটি বিখ্যাত চরিত্র- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কবিনোদিনী
- খহৈমন্তী
- গআশালতা
- ঘচারুলতা
সঠিক উত্তর: ঘ. চারুলতা
প্রশ্নটি রবীন্দ্রনাথের নষ্টনীড় গল্পের চরিত্র চিনতে বলছে। গল্পের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র চারুলতা।
নষ্টনীড়ে সংবাদপত্র নিয়ে ব্যস্ত স্বামী ভূপতির নিঃসঙ্গ স্ত্রী চারুলতা, আর তার সঙ্গী দেবর অমল। সত্যজিৎ রায় এই গল্প অবলম্বনেই চারুলতা চলচ্চিত্র বানান, তাই নামটি সহজে মনে থাকে।
বাকি নামগুলো রবীন্দ্রনাথেরই অন্য রচনার চরিত্র, আর এটাই বিভ্রান্তির কারণ। বিনোদিনী ও আশালতা দুজনেই চোখের বালি উপন্যাসের চরিত্র; আশালতা মহেন্দ্রের স্ত্রী। হৈমন্তী একই নামের ছোটগল্পের নায়িকা।
চারুলতা আর আশালতা নামের শেষাংশ একই বলে অনেকে গুলিয়ে ফেলেন। মনে রাখুন: নষ্টনীড়ে চারু, চোখের বালিতে আশা।
মনে রাখুন: নষ্টনীড়ের তিন চরিত্র একসঙ্গে মনে রাখুন: ভূপতি, চারুলতা, অমল।
১৮৬. উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কশশব্যস্ত
- খকালচক্র
- গপরাণপাখি
- ঘবহুব্রীহি
সঠিক উত্তর: ক. শশব্যস্ত
প্রশ্নটি উপমান কর্মধারয় সমাস চিনতে বলছে। উপমান মানে যার সঙ্গে তুলনা করা হয়। উপমান আর সাধারণ ধর্ম মিলে যে সমাস হয়, তা উপমান কর্মধারয়; এখানে যাকে তুলনা করা হচ্ছে, সেই উপমেয় বাক্যে থাকে না।
শশব্যস্ত শব্দের ব্যাসবাক্য শশকের ন্যায় ব্যস্ত। শশক মানে খরগোশ, এটিই উপমান; আর ব্যস্ত হলো সাধারণ ধর্ম, কারণ খরগোশ সবসময় চঞ্চল। কে ব্যস্ত, সেই উপমেয় নেই, তাই এটি উপমান কর্মধারয়।
একই ধাঁচের আরও উদাহরণ: তুষারের ন্যায় শুভ্র মিলে তুষারশুভ্র, কাজলের ন্যায় কালো মিলে কাজলকালো, বজ্রের ন্যায় কঠিন মিলে বজ্রকঠিন।
ফাঁদ হলো কালচক্র আর পরাণপাখি। এ দুটিতে উপমান আর উপমেয়কে এক করে দেখা হয়েছে: কাল রূপ চক্র, পরাণ রূপ পাখি। মাঝখানে রূপ বসলে সেটি রূপক কর্মধারয়, উপমান নয়।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে ন্যায় আর সাধারণ ধর্ম থাকলে উপমান কর্মধারয়, মাঝখানে রূপ থাকলে রূপক। উদাহরণ: তুষারশুভ্র, কাজলকালো, বজ্রকঠিন।
১৮৭. অপিনিহিতির উদাহরণ কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কজন্ম > জম্ম
- খআজি > আইজ
- গডেস্ক > ডেস্ক
- ঘঅলাবু > লাবু > লাউ
সঠিক উত্তর: খ. আজি > আইজ
প্রশ্নটি ধ্বনি পরিবর্তনের একটি রীতি অপিনিহিতি চিনতে বলছে। শব্দের পরের দিকে থাকা ই বা উ ধ্বনি যদি আগেই উচ্চারিত হয়ে যায়, তাকে অপিনিহিতি বলে।
আজি শব্দে ই আছে জ-এর পরে। উচ্চারণের সময় সেই ই জ-এর আগেই চলে এসে হয়েছে আইজ। একই রকম কালি থেকে কাইল, সাধু থেকে সাউধ, চারি থেকে চাইর। পূর্ববঙ্গের কথ্য ভাষায় এমন উচ্চারণ খুব চোখে পড়ে।
অন্য উদাহরণগুলো ভিন্ন রীতির। জন্ম থেকে জম্ম হলো সমীভবন, কারণ পাশাপাশি দুটি ভিন্ন ব্যঞ্জন ন আর ম একরকম হয়ে গেছে। অলাবু থেকে লাবু হলো আদিস্বরলোপ, শুরুর অ লোপ পেয়েছে, তারপর ব লোপ পেয়ে হয়েছে লাউ।
অপিনিহিতি চেনার উপায় একটাই: পরিবর্তিত শব্দে কোনো ই বা উ কি আগে সরে এসেছে? ডেস্ক বা জন্মের উদাহরণে কোনো স্বর সরেনি, তাই সেগুলো বাদ।
মনে রাখুন: শব্দের মাঝখানে হঠাৎ একটা বাড়তি ই বা উ দেখা দিলে, আর সেটা মূল শব্দের শেষে ছিল, তবে অপিনিহিতি।
১৮৮. “কুসীদজীবী” বলতে কাদের বুঝায়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কচারণকবি
- খসাপুড়ে
- গসুদখোর
- ঘকৃষিজীবী
সঠিক উত্তর: গ. সুদখোর
প্রশ্নটি একটি তৎসম শব্দের অর্থ জানতে চায়। কুসীদ শব্দের অর্থ সুদ, আর জীবী মানে যে কোনো কিছুর ওপর নির্ভর করে জীবিকা চালায়।
তাই কুসীদজীবী মানে যে লোক টাকা ধার দিয়ে সুদ আদায় করে জীবিকা চালায়, অর্থাৎ সুদখোর বা মহাজন। এক কথায় প্রকাশের প্রশ্নেও শব্দটি আসে: সুদের কারবার করে যে জীবিকা নির্বাহ করে।
জীবী অংশটি অনেক শব্দে আছে, তাই আগের অংশের অর্থ জানলেই পুরো শব্দ বোঝা যায়: কৃষিজীবী মানে কৃষিকাজে জীবিকা, শ্রমজীবী মানে শ্রমে জীবিকা, বুদ্ধিজীবী মানে বুদ্ধির কাজে জীবিকা।
ফাঁদ হলো কৃষিজীবী বিকল্পটি, কারণ এতেও জীবী আছে। কিন্তু কুসীদ মানে কৃষি নয়, সুদ।
মনে রাখুন: জীবী শব্দের আগের অংশের অর্থ ধরলেই উত্তর বের হয়: কুসীদ মানে সুদ।
১৮৯. ‘অভাব’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে কোন উপসর্গটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কঅকাজ
- খআবছায়া
- গআলুনি
- ঘনিখুঁত
সঠিক উত্তর: গ. আলুনি
প্রশ্নটি বাংলা উপসর্গের অর্থ চিনতে বলছে। একই উপসর্গ ভিন্ন শব্দে ভিন্ন অর্থ দেয়, তাই প্রতিটি শব্দে উপসর্গটি কী ভাব আনছে তা দেখতে হবে।
আলুনি শব্দে আ উপসর্গ যুক্ত হয়েছে নুন বা লুন শব্দের সঙ্গে, আর অর্থ দাঁড়িয়েছে লবণহীন। এখানে আ মানে অভাব। বাংলা আ উপসর্গ অভাব অর্থে বসে এমন আরও শব্দ: আকাঁড়া, আধোয়া।
অন্য শব্দগুলোতে অর্থ আলাদা। অকাজ শব্দে অ মানে নিন্দিত বা মন্দ, অর্থাৎ বাজে কাজ। আবছায়া শব্দে আ বোঝায় অস্পষ্টতা বা ক্ষীণতা। নিখুঁত শব্দে নি উপসর্গ না-বাচক ভাব আনে, খুঁত নেই এমন।
সতর্ক থাকুন, নিখুঁত শব্দেও খুঁতের অনুপস্থিতি আছে, তাই এটি বিভ্রান্তিকর। ব্যাকরণ বইয়ে নি উপসর্গকে না-বাচক বা নেতি অর্থের উদাহরণ ধরা হয়, আর অভাব অর্থের প্রচলিত উদাহরণ আলুনি।
মনে রাখুন: অভাব অর্থে আ উপসর্গের তিনটি উদাহরণ একসঙ্গে মনে রাখুন: আলুনি, আকাঁড়া, আধোয়া।
১৯০. বাংলা ভাষায় প্রথম অভিধান সংকলন করেন কে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- করামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
- খরাজশেখর বসু
- গহরিচরণ দে
- ঘঅশোক মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: ক. রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বাংলা ভাষার প্রথম অভিধান কে সংকলন করেন। প্রচলিত উত্তর রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ, যিনি ১৮১৭ সালে বঙ্গভাষাভিধান প্রকাশ করেন। এটি কোনো বাঙালির সংকলিত প্রথম বাংলা থেকে বাংলা অভিধান।
একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য মনে রাখুন। বাংলা শব্দের প্রথম অভিধান বা শব্দকোষ পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁওর, ১৭৪৩ সালে লিসবন থেকে ছাপা, বাংলা ও পর্তুগিজ দ্বিভাষিক। কিন্তু তিনি বিকল্পে নেই, তাই এখানে উত্তর রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ।
অন্য বিকল্পগুলো বিশ শতকের অভিধানকারদের মনে করিয়ে দেয়। রাজশেখর বসু চলন্তিকা অভিধানের সংকলক, পরশুরাম ছদ্মনামের রম্যলেখক। হরিচরণ নামটি মনে করায় বঙ্গীয় শব্দকোষের সংকলক হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অশোক মুখোপাধ্যায় সংসদ সমার্থশব্দকোষের সংকলক।
সবাই অভিধানের সঙ্গে যুক্ত বলেই প্রশ্নটি কঠিন মনে হয়। সময় ধরে ভাবুন: উনিশ শতকের শুরুর নামটিই প্রথম।
মনে রাখুন: প্রথম অভিধান প্রশ্নে বিকল্প দেখুন: মানোএল থাকলে তিনি, না থাকলে রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ।
১৯১. সবচেয়ে কম বয়সে কোন লেখক বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কশওকত আলী
- খসেলিনা হোসেন
- গআখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- ঘসৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর: ঘ. সৈয়দ শামসুল হক
প্রশ্নটি জানতে চায় সবচেয়ে কম বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার কে পেয়েছেন। উত্তর সৈয়দ শামসুল হক, যিনি ১৯৬৬ সালে, মাত্র ত্রিশের কোঠায় পা রাখার সময় এই পুরস্কার পান।
সমাধানের কৌশল হলো জন্মসাল আর পুরস্কারের সাল পাশাপাশি রাখা। সৈয়দ শামসুল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বরে, পুরস্কার ১৯৬৬ সালে। শওকত আলীর জন্ম ১৯৩৬, পুরস্কার ১৯৬৮, তখন তাঁর বয়স প্রায় বত্রিশ। সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৯৪৭, পুরস্কার ১৯৮০, বয়স প্রায় তেত্রিশ। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের জন্ম ১৯৪৩, পুরস্কার ১৯৮৩, বয়স প্রায় চল্লিশ।
সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় লেখার জন্য সৈয়দ শামসুল হককে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। তাঁর বিখ্যাত দুটি কাব্যনাট্য পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় ও নূরলদীনের সারাজীবন।
ফাঁদ হলো শওকত আলী। তাঁর জন্ম মাত্র এক বছর পরে, তাই অনেকে তাঁকেই ভাবেন; কিন্তু তিনি পুরস্কার পান দুই বছর পরে, তাই বয়সে বড় ছিলেন।
মনে রাখুন: বয়সের প্রশ্নে পুরস্কারের সাল থেকে জন্মসাল বিয়োগ করুন; সবচেয়ে ছোট ফল যার, তিনিই উত্তর।
১৯২. ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কসৈয়দ আলী আহসান
- খসুকান্ত ভট্টাচার্য
- গহুমায়ুন আজাদ
- ঘনির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর: গ. হুমায়ুন আজাদ
প্রশ্নটি একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা জানতে চায়। সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে হুমায়ুন আজাদের কাব্যগ্রন্থ, প্রকাশিত ১৯৮৫ সালে।
শিরোনামের কবিতায় কবি আশঙ্কা করেছেন, সমাজের সুন্দর ও শুভ সবকিছু একদিন অসৎ ও নষ্ট মানুষের দখলে চলে যাবে। এই তীব্র সমাজসমালোচনাই হুমায়ুন আজাদের লেখার বৈশিষ্ট্য।
হুমায়ুন আজাদ একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী ও প্রথাবিরোধী প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ অলৌকিক ইস্টিমার, আলোচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নারী, আর উপন্যাস পাক সার জমিন সাদ বাদ।
বাকি তিনজনও কবি বলে বিভ্রান্তি হয়। সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত কাব্য ছাড়পত্র, নির্মলেন্দু গুণের প্রেমাংশুর রক্ত চাই, আর সৈয়দ আলী আহসানের একক সন্ধ্যায় বসন্ত।
মনে রাখুন: প্রথাবিরোধী হুমায়ুন আজাদের তিনটি নাম একসঙ্গে মনে রাখুন: সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে, নারী, পাক সার জমিন সাদ বাদ।
১৯৩. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কছেঁড়াতার
- খচাকা
- গবাকী ইতিহাস
- ঘকী চাহ হে শঙ্খচিল
সঠিক উত্তর: ঘ. কী চাহ হে শঙ্খচিল
প্রশ্নটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক চিনতে বলছে। উত্তর মমতাজউদদীন আহমদের কী চাহ শঙ্খচিল। বিকল্পে নামের মাঝে একটি বাড়তি হে ছাপা হয়েছে; প্রশ্নপত্রেই এভাবে আছে, নাটকের নাম কী চাহ শঙ্খচিল।
মমতাজউদদীন আহমদ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একাধিক নাটক লিখেছেন; তাঁর স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা নাটকটিও মুক্তিযুদ্ধের। কী চাহ শঙ্খচিল তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক হিসেবে পরীক্ষায় বারবার আসে।
অন্য তিনটি নাটক বিচার করার সহজ কৌশল হলো রচনাকাল দেখা। ছেঁড়াতারের নাট্যকার তুলসী লাহিড়ী মারা যান ১৯৫৯ সালে, তাই এটি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে হতেই পারে না। বাকী ইতিহাস পশ্চিমবঙ্গের নাট্যকার বাদল সরকারের, ষাটের দশকের নাটক।
ফাঁদ হলো চাকা, কারণ এটি স্বাধীনতার পরের বাংলাদেশি নাটক। কিন্তু সেলিম আল দীনের চাকার বিষয় গরুর গাড়িতে বয়ে নেওয়া এক অজ্ঞাত লাশ ঘিরে মানুষের মানবিকতা, মুক্তিযুদ্ধ নয়।
মনে রাখুন: মুক্তিযুদ্ধের নাটক প্রশ্নে মমতাজউদদীন আহমদের নাম খুঁজুন: কী চাহ শঙ্খচিল, স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা।
১৯৪. তেভাগা আন্দোলনকেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কঅক্টোপাস
- খকালো বরফ
- গক্রীতদাসের হাসি
- ঘনাঢ়াই
সঠিক উত্তর: ঘ. নাঢ়াই
প্রশ্নটি তেভাগা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস চিনতে বলছে। উত্তর শওকত আলীর নাঢ়াই।
তেভাগা আন্দোলন হয় ১৯৪৬ ও ১৯৪৭ সালে, বর্গাচাষিরা দাবি তোলেন ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ তাঁদের দিতে হবে। নাঢ়াই উপন্যাসে জোতদার ও মহাজনের শোষণের বিরুদ্ধে গ্রামের কৃষকদের লড়াই এই আন্দোলনের সঙ্গে মিশে গেছে।
শওকত আলীর সবচেয়ে পরিচিত উপন্যাস প্রদোষে প্রাকৃতজন, যার পটভূমি সেন আমলের শেষভাগ। তিনি ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।
বাকি বিকল্পগুলো ভিন্ন পটভূমির। শওকত ওসমানের ক্রীতদাসের হাসি আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের রূপক, আর মাহমুদুল হকের কালো বরফ দেশভাগের বেদনার উপন্যাস। দেশভাগ আর তেভাগা একই সময়ের বলে কালো বরফ বিকল্পটি বিভ্রান্তিকর।
মনে রাখুন: তেভাগা শুনলে মনে করুন শওকত আলীর নাঢ়াই; শওকত ওসমান হলেন ক্রীতদাসের হাসির লেখক। দুই শওকতকে গুলিয়ে ফেলবেন না।
১৯৫. কাজী নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ বিভিন্ন সময়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার বাজেয়াপ্ত করে। কোন বইটি প্রথম বাজেয়াপ্ত হয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কবিষের বাঁশি
- খযুগবাণী
- গভাঙার গান
- ঘপ্রলয় শিখা
সঠিক উত্তর: খ. যুগবাণী
প্রশ্নটি জানতে চায় ব্রিটিশ সরকার নজরুলের কোন বই সবার আগে বাজেয়াপ্ত করে। উত্তর প্রবন্ধগ্রন্থ যুগবাণী, যা ১৯২২ সালে বাজেয়াপ্ত হয়।
যুগবাণীতে নজরুলের নবযুগ পত্রিকায় লেখা জ্বালাময়ী সম্পাদকীয় প্রবন্ধগুলো সংকলিত। ব্রিটিশবিরোধী বক্তব্যের জন্য প্রকাশের বছরেই বইটি নিষিদ্ধ হয়। একই সময়ে ধূমকেতু পত্রিকায় আনন্দময়ীর আগমনে কবিতা ছাপার জেরে নজরুল গ্রেপ্তারও হন।
পরে আরও চারটি বই বাজেয়াপ্ত হয়: বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, প্রলয়শিখা এবং চন্দ্রবিন্দু। এর মধ্যে কেবল যুগবাণীই প্রবন্ধের বই, বাকিগুলো কবিতা ও গানের।
ফাঁদ হলো বিষের বাঁশি, কারণ বাজেয়াপ্ত বইয়ের কথা উঠলে এটির নামই সবচেয়ে বেশি শোনা যায়। কিন্তু এটি নিষিদ্ধ হয় যুগবাণীর পরে।
মনে রাখুন: নজরুলের বাজেয়াপ্ত পাঁচটি বইয়ের মধ্যে একটিই গদ্য, আর সেটিই প্রথম: যুগবাণী।
১৯৬. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই এই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি উপন্যাস রচনা করেছেন, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটির নাম কী? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কচৈতালী ঘূর্ণি
- খরক্তের অক্ষর
- গবায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি
- ঘ১৯৭১
সঠিক উত্তর: ঘ. ১৯৭১
প্রশ্নটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা রচনার নাম জানতে চায়। উত্তর উনিশশো একাত্তর।
সময়টা লক্ষ করুন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় ১৯৭১ সালের মার্চে, আর তারাশঙ্কর মারা যান সেই বছরের চোদ্দোই সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ যুদ্ধ চলাকালেই তিনি এটি লেখেন, আর নামেও সেই বছরটি রেখেছেন।
তারাশঙ্কর রাঢ় বাংলার জীবনের রূপকার। তাঁর প্রথম উপন্যাস চৈতালী ঘূর্ণি, আর বিখ্যাত উপন্যাস গণদেবতা, হাঁসুলী বাঁকের উপকথা ও আরোগ্য নিকেতন। গণদেবতার জন্য তিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পান।
ফাঁদ হলো চৈতালী ঘূর্ণি, কারণ এটিও তারাশঙ্করের উপন্যাস। কিন্তু এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস, ১৯৩১ সালে প্রকাশিত, মুক্তিযুদ্ধের চার দশক আগে।
মনে রাখুন: যুদ্ধ চলাকালে লেখা, নামেও সেই বছর: তারাশঙ্করের উনিশশো একাত্তর।
১৯৭. ‘সোমত্ত’ শব্দটির উৎপত্তি কোন শব্দ থেকে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কসোপান
- খসমর্থ
- গসোল্লাস
- ঘসওয়ার
সঠিক উত্তর: খ. সমর্থ
প্রশ্নটি একটি তদ্ভব শব্দের মূল তৎসম রূপ খুঁজতে বলছে। সোমত্ত শব্দের অর্থ যৌবনপ্রাপ্ত, পূর্ণবয়স্ক; যেমন সোমত্ত মেয়ে। এটি এসেছে তৎসম শব্দ সমর্থ থেকে।
সমর্থ মানে সক্ষম, যে কাজ করতে পারে এমন বয়সে পৌঁছেছে। মুখে মুখে উচ্চারণের সময় শুরুর অ হয়ে গেছে ও, আর র্থ যুক্তব্যঞ্জনটি সহজ হয়ে দ্বিত্ব ত্ত হয়েছে। এভাবে সমর্থ থেকে সোমত্ত।
তৎসম শব্দ ভেঙে এভাবে তৈরি হওয়া শব্দকে তদ্ভব বলে। একই ধাঁচের আরও উদাহরণ: হস্ত থেকে হাত, চন্দ্র থেকে চাঁদ, কর্ম থেকে কাম।
বাকি বিকল্পগুলোর শুরুতেও সো বা স আছে, তাই শব্দের চেহারা মিলিয়ে ভুল হয়। কিন্তু অর্থ মেলে কেবল সমর্থের সঙ্গে।
মনে রাখুন: তদ্ভব শব্দের উৎস খুঁজতে অর্থ মেলান, শুধু বানানের চেহারা নয়: সোমত্ত মানে সক্ষম বয়সী, তাই সমর্থ।
১৯৮. নিঃশ্বাসের স্বল্পতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছকে কী বলে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কযৌগিক ধ্বনি
- খঅক্ষর
- গবর্ণ
- ঘমৌলিক স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর: খ. অক্ষর
প্রশ্নটি ধ্বনিতত্ত্বের একটি সংজ্ঞা চিনতে বলছে। নিঃশ্বাসের স্বল্পতম প্রয়াসে, অর্থাৎ একবারের ঝোঁকে যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ উচ্চারিত হয়, তাকে অক্ষর বলে। ইংরেজিতে একে সিলেবল বলে।
উদাহরণ নিন কলম শব্দটি। উচ্চারণে দুই ঝোঁকে বলি ক আর লম, তাই কলম শব্দে দুটি অক্ষর। একটি অক্ষরে একটি মাত্র স্বর থাকতে পারে, সঙ্গে আগে বা পরে ব্যঞ্জন থাকতে পারে।
সাধারণ কথায় অক্ষর আর বর্ণকে আমরা একই ভাবি, কিন্তু ব্যাকরণে দুটো আলাদা। বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত চিহ্ন, আর অক্ষর হলো উচ্চারণের একক।
ফাঁদ হলো বর্ণ বিকল্পটি, ঠিক এই দৈনন্দিন অর্থের গোলমালের কারণে। যৌগিক স্বর আর মৌলিক স্বর শুধু স্বরধ্বনির শ্রেণি, ধ্বনিগুচ্ছ বোঝায় না।
মনে রাখুন: শব্দে কটি অক্ষর, তা গুনতে কটি স্বরধ্বনি আছে দেখুন; প্রতিটি স্বর ঘিরে একটি অক্ষর।
১৯৯. ইংরেজি ভাষায় জীবনানন্দ দাশের ওপর গ্রন্থ লিখেছেন কে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কডব্লিউ বি ইয়েটস
- খক্লিনটন বি সিলি
- গঅরুন্ধতী রায়
- ঘঅমিতাভ ঘোষ
সঠিক উত্তর: খ. ক্লিনটন বি সিলি
প্রশ্নটি জানতে চায় জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে ইংরেজিতে গ্রন্থ কে লিখেছেন। উত্তর মার্কিন গবেষক ক্লিনটন বি সিলি, আর তাঁর বইয়ের নাম আ পোয়েট অ্যাপার্ট, জীবনানন্দের সাহিত্যিক জীবনী।
সিলি ষাটের দশকে পিস কোরের স্বেচ্ছাসেবক হয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আসেন এবং বরিশালে কাজ করেন, যা জীবনানন্দেরও শহর। পরে তিনি জীবনানন্দকে নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি মাইকেল মধুসূদনের মেঘনাদবধ কাব্যও ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন।
বাকি তিনজনও বাংলা বা ভারতের সঙ্গে যুক্ত বলে বিভ্রান্তি হয়। ইয়েটস রবীন্দ্রনাথের ইংরেজি গীতাঞ্জলির ভূমিকা লিখেছিলেন। অরুন্ধতী রায় দ্য গড অব স্মল থিংস উপন্যাসের লেখক, আর অমিতাভ ঘোষের দ্য হাংরি টাইড সুন্দরবনের পটভূমিতে লেখা।
ফাঁদ হলো ইয়েটস, কারণ তিনি বাংলা কবিতার ইংরেজি পরিচিতির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তাঁর সম্পর্ক রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে, জীবনানন্দের সঙ্গে নয়।
মনে রাখুন: জীবনানন্দ আর ইংরেজি বই একসঙ্গে এলে উত্তর ক্লিনটন সিলি; রবীন্দ্রনাথ আর ইংরেজি এলে ইয়েটস।
২০০. ‘বাবা ছেলের দীর্ঘায়ু কামনা করলেন’ – এই পরোক্ষ উক্তির প্রত্যক্ষরূপ হবে- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কবাবা ছেলেকে বললেন, বাবা তুমি দীর্ঘজীবী হও
- খবাবা ছেলেকে বললেন যে, তোমার দীর্ঘয়ু হোক
- গবাবা ছেলেকে বললেন, ‘তুমি দীর্ঘজীবী হও’
- ঘবাবা ছেলেকে বললেন যে, আমি তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করি
সঠিক উত্তর: গ. বাবা ছেলেকে বললেন, ‘তুমি দীর্ঘজীবী হও’
প্রশ্নটি পরোক্ষ উক্তিকে প্রত্যক্ষ উক্তিতে বদলাতে বলছে। প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা হুবহু উদ্ধৃতিচিহ্নের ভেতরে বসে, আর তার আগে কমা দিয়ে বলা হয় কে কাকে বললেন।
দীর্ঘায়ু কামনা করা মানে আশীর্বাদ করা। বাবা ছেলেকে আশীর্বাদ করলে মুখে যা বলবেন তা হলো তুমি দীর্ঘজীবী হও। তাই সঠিক রূপ: বাবা ছেলেকে বললেন, তারপর উদ্ধৃতিচিহ্নের ভেতরে তুমি দীর্ঘজীবী হও।
প্রত্যক্ষ উক্তিতে যে সংযোজক বসে না; যে বসে পরোক্ষ উক্তিতে। আর বক্তার কথায় শ্রোতাকে সরাসরি তুমি বলে সম্বোধন করা হয়। একই নিয়মে আশীর্বাদের অন্য বাক্য হয় সুখী হও, ভালো থেকো।
ফাঁদ হলো যে দিয়ে শুরু হওয়া দুটি বিকল্প। দেখতে প্রত্যক্ষ উক্তির মতো লাগলেও এগুলোতে উদ্ধৃতিচিহ্ন নেই, যে আছে, তাই এগুলো আসলে পরোক্ষ উক্তির গঠন।
মনে রাখুন: পরোক্ষ উক্তির আশীর্বাদ, অনুরোধ বা আদেশকে প্রত্যক্ষে নিতে ভাবুন বক্তা মুখে ঠিক কী বলতেন; সেটিই উদ্ধৃতিচিহ্নে বসান, যে বাদ দিন।