বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৮
১৪১. বাংলা একাডেমির 'আধুনিক বাংলা অভিধানে'র সম্পাদক কে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কআনিসুজ্জামান
- খআবু ইসহাক
- গমনসুর মুসা
- ঘজামিল চৌধুরি
সঠিক উত্তর: ঘ. জামিল চৌধুরি
প্রশ্নটি বাংলা একাডেমির একটি নির্দিষ্ট অভিধানের সম্পাদক জানতে চেয়েছে। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের সম্পাদক জামিল চৌধুরী; বিকল্পে নামটি চৌধুরি ছাপা হয়েছে। বাংলা একাডেমির বাংলা বানান-অভিধানও তাঁর সম্পাদনায়।
বাংলা একাডেমির অভিধানগুলো প্রায়ই প্রশ্নে আসে, তাই পাশাপাশি মনে রাখুন। ব্যবহারিক বাংলা অভিধানের সঙ্গে ড. মুহম্মদ এনামুল হকের নাম যুক্ত, আর বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধানের সঙ্গে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নাম।
আবু ইসহাক সূর্য দীঘল বাড়ীর লেখক হিসেবে পরিচিত, তবে তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধানও সংকলন করেছেন। অভিধানের সঙ্গে নাম জড়িত বলেই তিনি এখানে সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
আনিসুজ্জামান ও মনসুর মুসা দুজনই বাংলা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, প্রথমজন সভাপতি আর দ্বিতীয়জন মহাপরিচালক হিসেবে। কিন্তু আধুনিক বাংলা অভিধানের সম্পাদক জামিল চৌধুরী।
মনে রাখুন: আধুনিক অভিধান আর বানান-অভিধান, দুটিতেই জামিল চৌধুরী; সমকালীন অভিধান আবু ইসহাকের।
১৪২. কোন মঙ্গলকাব্যে ঐতিহাসিক চরিত্র আছে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কমনসামঙ্গল
- খচণ্ডীমঙ্গল
- গঅন্নদামঙ্গল
- ঘধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর: গ. অন্নদামঙ্গল
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন মঙ্গলকাব্যে ইতিহাসের বাস্তব মানুষ চরিত্র হিসেবে এসেছেন। মঙ্গলকাব্যের কাহিনি সাধারণত দেবদেবী আর লোককথার চরিত্র নিয়ে, তাই ঐতিহাসিক চরিত্র থাকাটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গলে মোগল সেনাপতি মানসিংহ, যশোরের প্রতাপাদিত্য, সম্রাট জাহাঙ্গীর আর নদীয়ার রাজবংশের পূর্বপুরুষ ভবানন্দ মজুমদারের কথা আছে। কাব্যের শেষ খণ্ডটি মানসিংহ নামেও পরিচিত।
মনসামঙ্গলের চাঁদ সদাগর ও বেহুলা লখিন্দর, চণ্ডীমঙ্গলের কালকেতু ও ধনপতি, ধর্মমঙ্গলের লাউসেন, এরা লোককাহিনির চরিত্র। ধর্মমঙ্গলে রাঢ় অঞ্চলের ইতিহাসের কিছু ছায়া আছে বলে মনে করা হয়, কিন্তু অন্নদামঙ্গলের মতো সুপরিচিত ঐতিহাসিক ব্যক্তি সেখানে কেন্দ্রে নেই।
ফাঁদ হলো চণ্ডীমঙ্গলে সমাজজীবনের বাস্তব ছবি দেখে সেটিকে ঐতিহাসিক ভাবা। বাস্তব সমাজচিত্র আর ঐতিহাসিক চরিত্র এক কথা নয়।
মনে রাখুন: মঙ্গলকাব্যে ইতিহাস মানেই ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল; মানসিংহ নামটি মনে রাখলেই হবে।
১৪৩. কোন কাব্যে আলাওল ব্যক্তিগত জীবনের কথা লিখেছেন? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কপদ্মাবতী
- খহপ্তপয়কর
- গসিকান্দরনামা
- ঘতোহ্ফা
সঠিক উত্তর: ক. পদ্মাবতী
প্রশ্নটি আলাওলের কোন কাব্যে তাঁর আত্মপরিচয় বা ব্যক্তিগত জীবনের কথা আছে, তা জানতে চেয়েছে। আলাওল সপ্তদশ শতকে আরাকান রাজসভার কবি ছিলেন।
পদ্মাবতী কাব্যের সূচনা অংশে আলাওল নিজের জীবনের কথা লিখেছেন: পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণে পিতাকে হারানো, ভাসতে ভাসতে আরাকানে আসা, প্রথমে রাজার অশ্বারোহী সৈনিক বা রাজ-আসোয়ার হিসেবে কাজ, পরে মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় কাব্যচর্চা।
পদ্মাবতী মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি পদুমাবত কাব্যের অনুবাদ, আর এটিই আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্য। হপ্তপয়কর ও সিকান্দরনামা নিজামি গঞ্জভির ফারসি কাব্যের অনুবাদ, আর তোহফা ইউসুফ গদার ফারসি নীতিগ্রন্থের অনুবাদ।
অন্য কাব্যের ভূমিকাতেও আলাওল পৃষ্ঠপোষকের প্রশংসা ও টুকরো আত্মকথা লিখেছেন, তাই সিকান্দরনামা ফাঁদ হতে পারে। কিন্তু তাঁর জীবনকাহিনির সবচেয়ে পূর্ণ বিবরণ পদ্মাবতীতেই।
মনে রাখুন: আলাওল মানে আরাকান আর পদ্মাবতী; আত্মজীবনীর অংশও পদ্মাবতীর ভূমিকায়।
১৪৪. 'তুরস্ক-ভ্রমণ' কার লেখা? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কইসমাইল হোসেন সিরাজী
- খসৈয়দ মুজতবা আলী
- গআবু জাফর শামসুদ্দীন
- ঘশামসুদ্দীন আবুল কালাম
সঠিক উত্তর: ক. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
প্রশ্নটি তুরস্ক ভ্রমণ নামের ভ্রমণকাহিনির লেখক জানতে চেয়েছে। বইটি ইসমাইল হোসেন সিরাজীর লেখা।
বলকান যুদ্ধের সময়, ১৯১২ সালে, আহত তুর্কি সৈনিকদের সেবার জন্য ভারতবর্ষ থেকে একটি চিকিৎসক দল তুরস্কে যায়। সিরাজী সেই দলে ছিলেন। এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আর তখনকার মুসলিম বিশ্বের অবস্থাই ১৯১৩ সালে প্রকাশিত তুরস্ক ভ্রমণের বিষয়।
সিরাজীর সবচেয়ে পরিচিত রচনা কাব্যগ্রন্থ অনল প্রবাহ, যা ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে। তাঁর নামের সিরাজী অংশটি এসেছে জন্মস্থান সিরাজগঞ্জ থেকে।
ফাঁদ হলো সৈয়দ মুজতবা আলী, কারণ বাংলা ভ্রমণসাহিত্যে তাঁর নামই সবার আগে মনে আসে। কিন্তু তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি দেশে বিদেশে, যার পটভূমি আফগানিস্তান।
মনে রাখুন: তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত বাঙালি লেখক মানেই ইসমাইল হোসেন সিরাজী; মুজতবা আলীর পথ আফগানিস্তানে।
১৪৫. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসে কোন জীবনদর্শনের রূপায়ণ ঘটেছে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কমার্কসবাদ
- খবাস্তববাদ
- গঅস্তিত্ববাদ
- ঘপরাবাস্তববাদ
সঠিক উত্তর: গ. অস্তিত্ববাদ
প্রশ্নটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসের দার্শনিক ভিত্তি জানতে চেয়েছে। উত্তর অস্তিত্ববাদ।
অস্তিত্ববাদে মানুষকে দেখা হয় একা, নিজের বিবেক আর সিদ্ধান্তের দায় নিয়ে। ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসে যুবক শিক্ষক আরেফ আলীর ভয়, অপরাধবোধ আর নৈতিক সিদ্ধান্তের অন্তর্গত সংকট এই দর্শনের আলোয় আঁকা হয়েছে।
ওয়ালীউল্লাহর পরের উপন্যাস কাঁদো নদী কাঁদোতেও চরিত্রের মনের গভীরে প্রবেশ আর অস্তিত্ব সংকট দেখা যায়। তাঁর প্রথম উপন্যাস লালসালু অবশ্য গ্রামীণ সমাজের ধর্মব্যবসার বাস্তব ছবির জন্য পরিচিত।
ফাঁদ হলো বাস্তববাদ, কারণ লালসালুর সঙ্গে বাস্তবতার কথা বেশি শোনা যায়। চাঁদের অমাবস্যার মূল ঝোঁক বাইরের সমাজচিত্র নয়, ব্যক্তির ভেতরের সংকট।
মনে রাখুন: ওয়ালীউল্লাহর তিন উপন্যাস: লালসালুতে সমাজ, শেষ দুটিতে অস্তিত্ব।
১৪৬. 'প্রভাতফেরির মিছিল যাবে/ ছড়াও ফুলের বন্যা,/ বিষাদগীতি গাইছে পথে/ তিতুমীরের কন্যা।' - কার লেখা? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কশামসুর রাহমান
- খআল মাহমুদ
- গআহসান হাবীব
- ঘআবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর: খ. আল মাহমুদ
প্রশ্নটি একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে লেখা একটি কবিতার চরণ দিয়ে কবিকে চিনতে বলেছে। চরণগুলো আল মাহমুদের একুশের কবিতা থেকে নেওয়া।
কবিতাটি শুরু হয়, ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ, দুপুর বেলার অক্ত, বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায়, বরকতের রক্ত। এরপর আসে প্রভাতফেরির মিছিল, ফুলের বন্যা আর তিতুমীরের কন্যার বিষাদগীতি। ছড়ার মতো ছন্দে লেখা বলে কবিতাটি কিশোর পাঠকদের কাছেও খুব পরিচিত।
একুশ নিয়ে অন্যদের বিখ্যাত রচনাও আলাদা করে মনে রাখুন। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর গান আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আর শামসুর রাহমানের কবিতা বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা।
ফাঁদ হলো আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, কারণ একুশের সঙ্গে তাঁর নাম সবচেয়ে বেশি জড়িত। কিন্তু তাঁর রচনাটি গান, আর এই চরণগুলো তাতে নেই।
মনে রাখুন: তিতুমীরের কন্যা আর বরকতের রক্ত, এই দুটি শব্দ শুনলেই আল মাহমুদের একুশের কবিতা।
১৪৭. 'হরফের ছড়া' কার লেখা বর্ণশিক্ষার বই? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গফররুখ আহমদ
- ঘবন্দে আলী মিয়া
সঠিক উত্তর: গ. ফররুখ আহমদ
প্রশ্নটি হরফের ছড়া নামের বর্ণশিক্ষার বইয়ের লেখক জানতে চেয়েছে। বইটি ফররুখ আহমদের লেখা, প্রকাশ ১৯৭০ সালে।
বইটিতে প্রতিটি হরফ বা বর্ণ নিয়ে একটি করে ছড়া আছে, যাতে শিশুরা ছন্দে ছন্দে বর্ণ চিনতে পারে। ফররুখ আহমদ সাত সাগরের মাঝির কবি হলেও শিশুদের জন্য অনেক ছড়া লিখেছেন, যেমন পাখির বাসা, নতুন লেখা, ছড়ার আসর।
অন্য দুটি বিখ্যাত বর্ণশিক্ষার বই মনে রাখুন: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয়, আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহজ পাঠ।
ফাঁদ হলো বিদ্যাসাগর, কারণ বর্ণশিক্ষা শুনলেই বর্ণপরিচয় মনে আসে। কিন্তু বর্ণপরিচয় আর হরফের ছড়া আলাদা বই; হরফের ছড়া ফররুখ আহমদের।
মনে রাখুন: তিন বর্ণশিক্ষার বই তিন জনের: বর্ণপরিচয় বিদ্যাসাগরের, সহজ পাঠ রবীন্দ্রনাথের, হরফের ছড়া ফররুখ আহমদের।
১৪৮. 'রক্তকরবী' নাটকের অন্তর্গত বিষয় কী? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কনতুনের জয়গান গাওয়া
- খসামন্তবাদের বিলুপ্তি দেখানো
- গশ্রমিকদের অপ্রাপ্তি তুলে ধরা
- ঘপুঁজিবাদের নেতিবাচক প্রভাব দেখানো
সঠিক উত্তর: ঘ. পুঁজিবাদের নেতিবাচক প্রভাব দেখানো
প্রশ্নটি রবীন্দ্রনাথের রক্তকরবী নাটকের মূল বিষয় জানতে চেয়েছে। নাটকটি প্রতীকী, আর এর কেন্দ্রে আছে যন্ত্রসভ্যতা ও সম্পদের লোভের বিরুদ্ধে প্রাণের প্রতিবাদ।
নাটকের যক্ষপুরীতে মাটির নিচ থেকে সোনা তোলা হয়। জালের আড়ালে থাকা রাজা আর তাঁর সর্দাররা খনির শ্রমিকদের মানুষ হিসেবে নয়, নম্বর দিয়ে চেনে। লাভের জন্য মানুষকে যন্ত্র বানানো, এটাই পুঁজিবাদের নেতিবাচক প্রভাব।
নন্দিনী এখানে প্রাণ, প্রেম ও মুক্তির প্রতীক, আর রঞ্জন তার প্রেমিক। নন্দিনীর ছোঁয়ায় শেষে রাজা নিজের গড়া ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়ান।
ফাঁদ হলো শ্রমিকদের অপ্রাপ্তি। শ্রমিকদের দুর্দশা নাটকে আছে, কিন্তু সেটা মূল কারণ নয়, ফল। মূল বিষয় সেই লোভী ব্যবস্থা, যা শ্রমিককে শোষণ করে।
মনে রাখুন: রক্তকরবী মানেই যক্ষপুরী, সোনার খনি আর নন্দিনী; বিষয় লোভী যন্ত্রসভ্যতা।
১৪৯. মীর মশাররফ হোসেন সম্পর্কে কোন তথ্যটি যথার্থ নয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কতিন খণ্ডে 'বিষাদ-সিন্ধু' রচনা করেন
- খনিজের জীবনী রচনা করেন
- গজমিদারি দেখাশোনার কাজ করেছেন
- ঘবিবি কুলসুম তাঁর প্রথম স্ত্রী
সঠিক উত্তর: ঘ. বিবি কুলসুম তাঁর প্রথম স্ত্রী
প্রশ্নটি মীর মশাররফ হোসেন সম্পর্কে ভুল তথ্যটি খুঁজতে বলেছে। চারটি তথ্য একে একে যাচাই করলেই উত্তর মেলে।
বিষাদ সিন্ধু তিন পর্বে লেখা: মহরম পর্ব, উদ্ধার পর্ব আর এজিদ বধ পর্ব; তাই প্রথম তথ্য ঠিক। নিজের জীবনী তিনি লিখেছেন আমার জীবনী নামে; এটিও ঠিক। তিনি ফরিদপুরের নবাব এস্টেটে এবং পরে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার এস্টেটে ম্যানেজারের কাজ করেছেন; তাই জমিদারি দেখাশোনার তথ্যও ঠিক।
ভুল তথ্যটি হলো বিবি কুলসুম তাঁর প্রথম স্ত্রী। আঠারো বছর বয়সে তাঁর প্রথম বিয়ে হয় আজিজুন্নেসার সঙ্গে। সেই দাম্পত্য সুখের হয়নি, পরে তিনি বিবি কুলসুমকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তাঁকে নিয়ে কুলসুম জীবনী লেখেন।
ফাঁদ হলো কুলসুমের নামে আলাদা জীবনী থাকায় তাঁকেই প্রথম স্ত্রী ভেবে নেওয়া। জীবনী লিখেছেন দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে।
মনে রাখুন: মশাররফের দুই স্ত্রী: প্রথমে আজিজুন্নেসা, পরে কুলসুম; জীবনী লিখেছেন কুলসুমকে নিয়ে।
১৫০. জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর কোন কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কঝরাপালক
- খরূপসী বাংলা
- গবনলতা সেন
- ঘসাতটি তারার তিমির
সঠিক উত্তর: খ. রূপসী বাংলা
প্রশ্নটি জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ খুঁজতে বলেছে। জীবনানন্দ মারা যান ১৯৫৪ সালে, ট্রাম দুর্ঘটনায়।
রূপসী বাংলা প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে, অর্থাৎ মৃত্যুর তিন বছর পরে। বাংলার প্রকৃতি নিয়ে লেখা এই সনেটগুলো তাঁর জীবদ্দশায় বই আকারে বের হয়নি। বেলা অবেলা কালবেলাও মৃত্যুর পরে, ১৯৬১ সালে প্রকাশিত।
বাকি তিনটি তাঁর জীবদ্দশায় প্রকাশিত: ঝরা পালক ১৯২৭ সালে, যা তাঁর প্রথম কাব্য; বনলতা সেন ১৯৪২ সালে; আর সাতটি তারার তিমির ১৯৪৮ সালে।
ফাঁদ হলো বনলতা সেন, কারণ এটাই তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বই। বিখ্যাত হলেও এটি তাঁর জীবদ্দশাতেই প্রকাশিত।
মনে রাখুন: জীবনানন্দের মৃত্যু ১৯৫৪; এর পরের দুটি বই রূপসী বাংলা আর বেলা অবেলা কালবেলা।
১৫১. 'তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?' কোন উপন্যাসে আছে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কবঙ্কিমচন্দ্রের 'কপালকুণ্ডলা'
- খরবীন্দ্রনাথের 'গোরা'
- গশরৎচন্দ্রের 'চরিত্রহীন'
- ঘবিভূতিভূষণের 'আরণ্যক'
সঠিক উত্তর: ক. বঙ্কিমচন্দ্রের 'কপালকুণ্ডলা'
প্রশ্নটি একটি বিখ্যাত উক্তি কোন উপন্যাসে আছে, তা জানতে চেয়েছে। তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন, এই উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের।
উক্তিটির ভাষা সাধু রীতির, যা বঙ্কিমের যুগের গদ্যের বৈশিষ্ট্য। এর মর্মকথা হলো, অন্য কেউ খারাপ আচরণ করলেও নিজের ভালো আচরণ ছাড়া উচিত নয়।
কপালকুণ্ডলার আরেকটি বিখ্যাত উক্তি হলো, পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ। দুটি উক্তিই পরীক্ষায় বারবার আসে, তাই একসঙ্গে মনে রাখুন।
বাকি উপন্যাসগুলো এই উক্তির উৎস নয়: গোরা রবীন্দ্রনাথের, চরিত্রহীন শরৎচন্দ্রের, আর আরণ্যক বিভূতিভূষণের। উক্তির সাধু ভাষা আর নীতিকথার সুর দেখেই বঙ্কিমকে চেনা যায়।
মনে রাখুন: কপালকুণ্ডলার জোড়া উক্তি মনে রাখুন: পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ এবং তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন।
১৫২. কোন বাক্যটি শুদ্ধ (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কউল্লিখিত বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
- খলোকটি নিরাপরাধী কিন্তু নিরহংকারী নয়।
- গতোমার দুরাবস্থা দেখে ব্যথিত হলাম।
- ঘতিনি আরোগ্য হলেন।
সঠিক উত্তর: ক. উল্লিখিত বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
প্রশ্নটা শুদ্ধ বাক্য চিনতে বলছে। এমন প্রশ্নে প্রতিটি বাক্যের ভুল শব্দ বা ভুল প্রয়োগ খুঁজে বের করতে হয়। চারটির মধ্যে প্রথম বাক্যটি, উল্লিখিত বিষয়ে আমি কিছুই জানি না, শুদ্ধ।
উল্লিখিত শব্দটি গড়া উৎ উপসর্গ, লিখ্ ধাতু আর ক্ত প্রত্যয়ে, তাই লিখিত শব্দের মতোই এতে ই-কার থাকে। উল্লেখ শব্দের সঙ্গে ইত জুড়ে উল্লেখিত লেখা অশুদ্ধ।
দ্বিতীয় বাক্যে নির আর অপরাধ মিলে হয় নিরপরাধ, যা নিজেই বিশেষণ; নিরাপরাধী লিখলে আ-কার আর ই প্রত্যয় দুটোই বাড়তি। তৃতীয় বাক্যে দুর আর অবস্থা মিলে হয় দুরবস্থা, দুরাবস্থা নয়। চতুর্থ বাক্যে আরোগ্য মানে রোগমুক্তি, এটি বিশেষ্য; তাই বলতে হয় তিনি আরোগ্য লাভ করলেন।
সতর্কতা: প্রশ্নপত্রের কোনো কোনো কপিতে প্রথম বাক্যে উল্লেখিত ছাপা দেখা যায়। সেভাবে ছাপা হলে চারটি বাক্যই অশুদ্ধ হয়ে যায়; উল্লিখিত লেখা থাকলে প্রথমটিই উত্তর।
মনে রাখুন: উল্লিখিত, নিরপরাধ, দুরবস্থা, আরোগ্য লাভ: এই চারটি শুদ্ধ রূপ একসাথে মুখস্থ রাখুন, প্রায়ই আসে।
১৫৩. অশুদ্ধ কিন্তু প্রচলিত বাংলা শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কইতিমধ্যে
- খসঠিক
- গউপরোক্ত
- ঘআগের সবগুলো
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটা এমন শব্দ খুঁজছে যা ব্যাকরণের দিক থেকে অশুদ্ধ, কিন্তু লেখায় ও কথায় বহুল প্রচলিত। বাংলা একাডেমির অভিধানে এমন শব্দের পাশে লেখা থাকে অশুদ্ধ প্রচলিত।
ইতিমধ্যে শব্দের শুদ্ধ রূপ ইতোমধ্যে। ইতঃ আর মধ্যে মিলে বিসর্গসন্ধিতে হয় ইতোমধ্যে, যেমন মনঃ আর যোগ মিলে মনোযোগ। ম ঘোষ ধ্বনি বলে ইতঃ-এর বিসর্গ ও হয়ে যায়। বাংলা একাডেমির অভিধান ইতিমধ্যে-কে অশুদ্ধ প্রচলিত রূপ বলেছে।
উপরোক্ত শব্দে বাংলা উপর আর সংস্কৃত উক্ত জোড়া হয়েছে। সংস্কৃত নিয়মে উপরি আর উক্ত মিলে হয় উপর্যুক্ত, অথবা সন্ধি ছাড়া উপরিউক্ত। তাই উপরোক্তও অশুদ্ধ কিন্তু বহুল প্রচলিত।
সঠিক শব্দটিকে অনেকে বাহুল্যদোষে অশুদ্ধ মনে করেন, কারণ ঠিক শব্দেই অর্থ পূর্ণ। কিন্তু বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধানে সঠিক প্রমিত শব্দ হিসেবে আছে। তাই আগের সবগুলো অপশনটি টেকে না, আবার ইতিমধ্যে ও উপরোক্ত দুটিই ঠিক; ফলে প্রশ্নটির একক উত্তর নেই।
মনে রাখুন: সন্ধির ভুলে প্রচলিত দুটি পরিচিত শব্দ: ইতিমধ্যে, শুদ্ধ ইতোমধ্যে; উপরোক্ত, শুদ্ধ উপর্যুক্ত বা উপরিউক্ত।
১৫৪. 'মুক্তি' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় বিশ্লেষণ করলে হবে - (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কমুক্ + তি
- খমু + ক্তি
- গমুচ্ + ক্তি
- ঘমোচন + তি
সঠিক উত্তর: গ. মুচ্ + ক্তি
প্রকৃতি-প্রত্যয় মানে শব্দের মূল অংশ, অর্থাৎ ধাতু বা প্রকৃতি, আর তার শেষে যুক্ত প্রত্যয় আলাদা করে দেখানো। মুক্তি শব্দের মূলে আছে মুচ্ ধাতু, যার অর্থ ছেড়ে দেওয়া বা মুক্ত করা।
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় ক্তি যুক্ত হলে ধাতুর শেষের চ বা জ বদলে ক হয়ে যায়। তাই মুচ্ যোগ ক্তি থেকে মুক্তি। একই নিয়মে ভজ্ যোগ ক্তি থেকে ভক্তি, আর যুজ্ যোগ ক্তি থেকে যুক্তি।
ক্তি প্রত্যয়ের ক আসলে চিহ্ন মাত্র, শব্দে বসে শুধু তি। তবু প্রকৃতি-প্রত্যয় লেখার সময় পুরো প্রত্যয়টি লিখতে হয়: মুচ্ যোগ ক্তি।
মুক্ যোগ তি দেখতে মিলে যায় বলে অনেকে বেছে নেন, কিন্তু মুক্ কোনো ধাতু নয়; ক এসেছে চ বদলে। আর মোচন নিজেই মুচ্ ধাতু থেকে গড়া আরেকটি শব্দ, মুক্তির প্রকৃতি নয়।
মনে রাখুন: শব্দে ক্ত বা ক্তি দেখলে ধাতুর শেষে চ বা জ ছিল কি না ভাবুন: মুক্তি, ভক্তি, যুক্তি; ক্ত-তেও একই: সিচ্ + ক্ত = সিক্ত।
১৫৫. বাংলা লিপির উৎস - (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কগুপ্ত লিপি
- খদেবনাগরী লিপি
- গনাগরী লিপি
- ঘব্রাহ্মী লিপি
সঠিক উত্তর: ঘ. ব্রাহ্মী লিপি
বাংলা লিপির মূল উৎস ব্রাহ্মী লিপি। উপমহাদেশের প্রায় সব লিপি, যেমন দেবনাগরী, বাংলা, তামিল, ব্রাহ্মী থেকে নানা ধাপে জন্ম নিয়েছে। সম্রাট অশোকের শিলালিপিও এই লিপিতে লেখা।
ব্রাহ্মী থেকে প্রথমে আসে গুপ্ত লিপি, তারপর পূর্ব ভারতে কুটিল লিপি। কুটিল লিপি থেকেই ধীরে ধীরে বাংলা লিপির রূপ তৈরি হয়।
দেবনাগরী বাংলা লিপির সহোদর, পূর্বপুরুষ নয়: দুটোই একই উৎস থেকে আলাদা পথে এসেছে। নাগরী লিপি দেবনাগরীরই পুরোনো রূপ।
গুপ্ত লিপি মাঝের ধাপ বলে এটিই সবচেয়ে বড় ফাঁদ। প্রশ্নে মূল উৎস চাইলে উত্তর ব্রাহ্মী; সরাসরি পূর্বরূপ চাইলে কুটিল লিপি।
মনে রাখুন: মূল উৎস = ব্রাহ্মী; সরাসরি পূর্বরূপ = কুটিল। প্রশ্নের শব্দটা দেখে বেছে নিন।
১৫৬. 'খ্রিষ্টাব্দ' কোন কোন শব্দ যোগে গঠিত? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কইংরেজি+তৎসম
- খতৎসম+ফারসি
- গতৎসম+ইংরেজি
- ঘফারসি+তৎসম
সঠিক উত্তর: ক. ইংরেজি+তৎসম
খ্রিষ্টাব্দ শব্দটি দুটি অংশে গড়া: খ্রিষ্ট আর অব্দ। খ্রিষ্ট এসেছে ইংরেজি Christ থেকে, তাই এটি বিদেশি, এখানে ইংরেজি শব্দ। অব্দ সংস্কৃত শব্দ, মানে বছর বা সাল; তাই এটি তৎসম।
প্রথম অংশ ইংরেজি আর দ্বিতীয় অংশ তৎসম, তাই উত্তর ইংরেজি যোগ তৎসম। এখানে ক্রম গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উল্টো ক্রমের অপশনও রাখা হয়েছে।
এমন মিশ্র শব্দের আরও উদাহরণ: হেড-পণ্ডিত, ইংরেজি যোগ তৎসম; রাজা-বাদশা, তৎসম যোগ ফারসি; হাট-বাজার, বাংলা যোগ ফারসি।
তৎসম যোগ ইংরেজি অপশনে উৎস দুটো ঠিক থাকলেও ক্রম উল্টো, এটিই মূল ফাঁদ। শব্দের অংশগুলো বাঁ থেকে ডানে যে ক্রমে আছে, উৎসও সেই ক্রমে লিখুন।
মনে রাখুন: মিশ্র শব্দে প্রতিটি অংশের উৎস আলাদা করে ঠিক করুন, তারপর বাঁ থেকে ডানে সেই ক্রমেই উত্তর মেলান।
১৫৭. 'ময়মনসিংহ গীতিকা' কে সম্পাদনা করেন? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কহরপ্রসাদ শাস্ত্রী
- খদীনেশচন্দ্র সেন
- গরামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী
- ঘরামমোহন রায়
সঠিক উত্তর: খ. দীনেশচন্দ্র সেন
ময়মনসিংহ গীতিকা হলো পূর্ববঙ্গের, বিশেষ করে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের লোকমুখে প্রচলিত পালাগানের সংকলন। এটি সম্পাদনা করেন দীনেশচন্দ্র সেন, আর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২৩ সালে এটি প্রকাশ করে।
পালাগুলো গ্রামে ঘুরে সংগ্রহ করেছিলেন চন্দ্রকুমার দে; দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলো সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন। এতে আছে মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কাজলরেখা, দেওয়ানা মদিনার মতো বিখ্যাত পালা।
পরে একই ধারায় পূর্ববঙ্গ গীতিকা নামে আরও কয়েক খণ্ড প্রকাশিত হয়। দীনেশচন্দ্র সেনের আরেকটি বিখ্যাত বই বঙ্গভাষা ও সাহিত্য।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সবচেয়ে বড় ফাঁদ, কারণ তিনিও প্রাচীন সাহিত্য উদ্ধারের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তিনি ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন, গীতিকা নয়।
মনে রাখুন: সংগ্রহ চন্দ্রকুমার দে, সম্পাদনা দীনেশচন্দ্র সেন; চর্যাপদ হলে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
১৫৮. শুদ্ধ বানানগুচ্ছ- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কপূণ্য, শূন্য
- খদূর্যোগ, দুর্বার
- গবাধা, বাঁধা
- ঘযন্ত্রণা, মন্ত্রনা
সঠিক উত্তর: গ. বাধা, বাঁধা
বানানগুচ্ছের প্রশ্নে জোড়ার দুটি শব্দই শুদ্ধ হতে হয়; একটিও ভুল থাকলে পুরো জোড়া বাদ। বাধা আর বাঁধা দুটিই শুদ্ধ শব্দ, শুধু অর্থ আলাদা।
চন্দ্রবিন্দু ছাড়া বাধা মানে প্রতিবন্ধকতা বা আটকানো। চন্দ্রবিন্দু দিয়ে বাঁধা মানে বন্ধন বা বেঁধে রাখা, যেমন দড়ি দিয়ে বাঁধা। চন্দ্রবিন্দু বদলালে অর্থ বদলায়, কিন্তু কোনোটিই ভুল বানান নয়।
বাকি জোড়াগুলোতে একটি করে ভুল আছে। পুণ্য শব্দে প-এ হ্রস্ব উ-কার, তাই পূণ্য ভুল, শূন্য ঠিক। দুর্যোগ শব্দে দুর্ উপসর্গ, তাই দূর্যোগ ভুল, দুর্বার ঠিক। মন্ত্রণা শব্দে র-এর প্রভাবে মূর্ধন্য ণ, তাই মন্ত্রনা ভুল, যন্ত্রণা ঠিক।
প্রতিটি ভুল জোড়ায় একটি শব্দ শুদ্ধ রেখে ফাঁদ পাতা হয়েছে, যেমন শূন্য, দুর্বার, যন্ত্রণা। তাই জোড়ার দুটো শব্দই আলাদা করে যাচাই করুন।
মনে রাখুন: দুর্ উপসর্গ সবসময় হ্রস্ব উ-কার: দুর্যোগ, দুর্নীতি, দুর্বার; দূর মানে কেবল দূরত্ব।
১৫৯. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আদিযুগ- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- ক৫০০-৬৫০ খ্রিস্টাব্দ
- খ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
- গ১৩০০-১৫০০ খ্রিস্টাব্দ
- ঘ১২০০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: খ. ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস তিন যুগে ভাগ করা হয়: আদিযুগ, মধ্যযুগ আর আধুনিক যুগ। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে আদিযুগ ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
আদিযুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন চর্যাপদ। শহীদুল্লাহ চর্যার রচনা শুরু ধরেছেন সপ্তম শতকে, তাই শুরু ৬৫০; সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় আদিযুগ ধরেছেন ৯৫০ থেকে ১২০০।
১২০১ থেকে ১৩৫০ সময়টিকে বলা হয় অন্ধকার যুগ, কারণ এ সময়ের উল্লেখযোগ্য সাহিত্য নিদর্শন মেলেনি। মধ্যযুগ ১২০১ থেকে ১৮০০, আর এর পর থেকে আধুনিক যুগ।
১২০০ থেকে ১৩৫০ অপশনটি আসলে অন্ধকার যুগ, আদিযুগ নয়; এটিই বড় ফাঁদ। পরীক্ষায় শহীদুল্লাহর হিসাবটিই প্রত্যাশিত।
মনে রাখুন: শহীদুল্লাহ: ৬৫০; সুনীতিকুমার: ৯৫০। শেষ দুজনেরই ১২০০।
১৬০. 'পয়ঃ' শব্দের অর্থ- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৫)
- কপানি
- খবাতাস
- গবর্জ্য
- ঘকাগজ
সঠিক উত্তর: ক. পানি
পয়ঃ সংস্কৃত শব্দ, এর অর্থ পানি বা জল; দুধ অর্থেও এর ব্যবহার আছে। অপশনে পানি আছে, তাই সেটিই উত্তর।
এই শব্দ থেকে গড়া কয়েকটি পরিচিত শব্দ: পয়ঃপ্রণালি, মানে পানি নিষ্কাশনের নালা; পয়োধি, মানে সমুদ্র; পয়োধর, মানে মেঘ।
পানির আরও সমার্থক শব্দ পরীক্ষায় আসে: জল, সলিল, নীর, বারি, অম্বু, উদক, তোয়।
পয়ঃপ্রণালি দিয়ে নোংরা পানি যায় বলে অনেকে বর্জ্য বেছে নেন। কিন্তু পয়ঃ মানে পানি; বর্জ্যের ধারণা এসেছে নালার কাজ থেকে, শব্দের অর্থ থেকে নয়।
মনে রাখুন: পয়ো বা পয়ঃ দিয়ে শুরু শব্দ মানেই পানির সঙ্গে সম্পর্ক: পয়োধি, পয়ঃপ্রণালি।