বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ১৮
৩৪১. Rabindranath Tagore received Nobel Prize in - (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- ক1910
- খ1913
- গ1920
- ঘ1921
সঠিক উত্তর: খ. 1913
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান ১৯১৩ সালে। তিনি প্রথম এশীয় এবং প্রথম অ-ইউরোপীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পান।
পুরস্কার এসেছিল মূলত গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ সং অফারিংস বইয়ের জন্য, যা ১৯১২ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়। বইটির ভূমিকা লিখেছিলেন আইরিশ কবি ডব্লিউ বি ইয়েটস।
বাংলা গীতাঞ্জলি প্রকাশিত হয় ১৯১০ সালে; তাই ১৯১০ অপশনটি বড় ফাঁদ। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার রবীন্দ্রনাথকে নাইট উপাধি দেয়, যা তিনি ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ফিরিয়ে দেন।
মনে রাখুন: গীতাঞ্জলি: বাংলা ১৯১০, ইংরেজি ১৯১২, নোবেল ১৯১৩: তিন বছরে তিন ধাপ।
৩৪২. সেলিম আল দীনের যে সৃষ্টিকর্মটি ব্যতিক্রমধর্মী - (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কনিমজ্জন
- খহরগজ
- গপ্রাচ্য
- ঘঊষা উৎসব ও স্বপ্নরমনীগণ
সঠিক উত্তর: ঘ. ঊষা উৎসব ও স্বপ্নরমনীগণ
সেলিম আল দীন বাংলাদেশের নাট্যাচার্য হিসেবে পরিচিত; তাঁর প্রায় সব বিখ্যাত রচনাই মঞ্চনাটক। প্রশ্নটি তাই জানতে চেয়েছে কোন রচনাটি সাধারণ নাটকের ধারা থেকে আলাদা।
হরগজ, প্রাচ্য ও নিমজ্জন তিনটিই তাঁর মঞ্চনাটক। হরগজ ১৯৯২ সালের, প্রাচ্য ১৯৯৮ সালের এবং নিমজ্জন ২০০২ সালের রচনা।
ঊষা উৎসব ও স্বপ্নরমণীগণ একটি নৃত্যনাট্য, প্রকাশ ২০০৭ সালে। নাচ ও গানের মাধ্যমে কাহিনি বলার এই রূপ সাধারণ সংলাপনির্ভর নাটক থেকে আলাদা, তাই নাটকের ভিড়ে এটিই ব্যতিক্রম।
সেলিম আল দীনের অন্য বিখ্যাত নাটক কিত্তনখোলা, কেরামতমঙ্গল, হাতহদাই, চাকা ও যৈবতী কন্যার মন; তাঁর উপন্যাস অমৃত উপাখ্যান। নাম শুনে অচেনা লাগলেই বাদ দেওয়া নয়, রচনার ধরন দেখে বিচার করতে হয়।
মনে রাখুন: নাট্যকারের ব্যতিক্রমী রচনা খুঁজতে বললে ভিন্ন ধরনের রচনাটি খুঁজুন: নৃত্যনাট্য, উপন্যাস বা কবিতা।
৩৪৩. বাংলা ভাষায় ব্যাকরণ রচনা করেননি- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কজন বিমস
- খডানকান ফোর্বস
- গজর্জ গ্রিয়ারসন
- ঘজেমস কিথ
সঠিক উত্তর: গ. জর্জ গ্রিয়ারসন
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন বিদেশি পণ্ডিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেননি। উত্তর জর্জ গ্রিয়ারসন; অপশনে নামটি গ্রিয়ারমন ছাপা হয়েছে।
গ্রিয়ারসনের বিখ্যাত কাজ লিঙ্গুইস্টিক সার্ভে অব ইন্ডিয়া, যেখানে উপমহাদেশের শত শত ভাষা ও উপভাষার জরিপ আছে। এটি ভাষা জরিপ, বাংলা ব্যাকরণ নয়।
অন্যদিকে জেমস কিথ ১৮২০ সালে বাংলায় ব্যাকরণ লেখেন, ডানকান ফোর্বস ১৮৬১ সালে A Grammar of the Bengali Language লেখেন, আর জন বিমস ১৮৯১ সালে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন।
মনে রাখুন, প্রথম বাংলা ব্যাকরণ লেখেন পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও, ১৭৪৩ সালে, আর ইংরেজিতে প্রথম মুদ্রিত বাংলা ব্যাকরণ হ্যালহেডের, ১৭৭৮ সালে। গ্রিয়ারসনের নাম ভাষাতত্ত্বে খুব পরিচিত বলেই তাঁকে ব্যাকরণবিদ ভাবার ফাঁদ।
মনে রাখুন: গ্রিয়ারসন মানেই লিঙ্গুইস্টিক সার্ভে; ব্যাকরণ প্রশ্নে তিনি সাধারণত উত্তরের বাইরে।
৩৪৪. সরল বাক্যে রূপান্তর করুন- ‘ভয়াল শব্দে বাজ পড়ছে, এর বিরাম নেই।’ (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কঅবিরাম ভয়াল শব্দে বাজ পড়ছে।
- খবিরামহীন ভয়াল শব্দ হচ্ছে আর বাজ পড়ছে।
- গভয়াল শব্দ তবু বাজ পড়ার বিরাম নেই।
- ঘবাজ পড়ছে ভয়াল শব্দে, অবিরাম।
সঠিক উত্তর: ক. অবিরাম ভয়াল শব্দে বাজ পড়ছে।
প্রদত্ত বাক্যে দুটি স্বাধীন অংশ আছে: ভয়াল শব্দে বাজ পড়ছে, আর এর বিরাম নেই। তাই এটি যৌগিক ধরনের বাক্য। সরল বাক্যে থাকে মাত্র একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
সরল করার কৌশল হলো দ্বিতীয় অংশটিকে একটি শব্দে পরিণত করা। বিরাম নেই মানে অবিরাম, এটি একটি বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণ। তখন বাক্য দাঁড়ায়: অবিরাম ভয়াল শব্দে বাজ পড়ছে। এখানে সমাপিকা ক্রিয়া একটিই, পড়ছে।
খ ও গ অপশনে দুটি অংশ আর বা তবু দিয়ে যুক্ত, তাই সেগুলো যৌগিক বাক্য। ঘ অপশনেও একটিই ক্রিয়া, কিন্তু পদক্রম উল্টো ও কাব্যিক; প্রমিত গদ্যে বিশেষণ বসে বিশেষ্যের আগে, ক্রিয়া থাকে শেষে।
ফাঁদ হলো খ, কারণ সেখানে বিরামহীন শব্দটি আছে; কিন্তু আর দিয়ে দুটি বাক্য জোড়া থাকায় এটি সরল নয়।
মনে রাখুন: যৌগিক থেকে সরল করতে দ্বিতীয় বাক্যাংশকে বিশেষণ বা অসমাপিকা ক্রিয়ায় নিন: সে গরিব, কিন্তু সৎ → সে গরিব হলেও সৎ।
৩৪৫. ‘স্রবণ’ শব্দের অর্থ হলো - (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কঅনুধ্যান
- খক্ষরণ
- গক্ষুরধার
- ঘঅভিনিবেশ
সঠিক উত্তর: খ. ক্ষরণ
স্রবণ শব্দের অর্থ ক্ষরণ, অর্থাৎ ধীরে ধীরে চুইয়ে বা ঝরে পড়া। শব্দটি এসেছে সংস্কৃত স্রু ধাতু থেকে, যার অর্থ প্রবাহিত হওয়া।
একই ধাতু থেকে এসেছে স্রোত, স্রাব ও প্রস্রবণ। প্রস্রবণ মানে ঝরনা, যেখান থেকে পানি অনবরত ঝরে। এই পরিবার মনে রাখলে স্রবণের অর্থ সহজে মনে থাকে।
অন্য অপশনগুলো আলাদা অর্থের শব্দ: অনুধ্যান মানে গভীর চিন্তা, ক্ষুরধার মানে খুব তীক্ষ্ণ, আর অভিনিবেশ মানে মনোযোগ।
ক্ষরণ আর ক্ষুরধার দুটোই ক্ষ দিয়ে শুরু, তাই তাড়াহুড়োয় গুলিয়ে যেতে পারে; কিন্তু ঝরে পড়ার ভাব আছে শুধু ক্ষরণে।
মনে রাখুন: স্রু ধাতু মানেই প্রবাহ: স্রোত, স্রাব, প্রস্রবণ, স্রবণ।
৩৪৬. নিচের যে প্রতিশব্দটি বেমানান- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কবিবস্বান
- খবিটপী
- গদ্রুম
- ঘপাদপ
সঠিক উত্তর: ক. বিবস্বান
প্রশ্নটি চায় চারটি শব্দের মধ্যে কোনটি অন্যদের থেকে আলাদা অর্থের। বিটপী, দ্রুম ও পাদপ তিনটিই গাছের প্রতিশব্দ; বিবস্বান মানে সূর্য।
পাদপ মানে যে পা দিয়ে, অর্থাৎ শিকড় দিয়ে পানি পান করে, তাই গাছ। বিটপ মানে শাখা-পল্লব, আর যার বিটপ আছে সে বিটপী, অর্থাৎ গাছ। দ্রুম সংস্কৃত শব্দ, এর অর্থও গাছ।
বিবস্বান সূর্যের প্রতিশব্দ, যেমন রবি, ভানু, তপন, দিবাকর, ভাস্কর। সূর্যের বৈদিক নাম বিবস্বান।
বিবস্বান আর বিটপী দুটোই বি দিয়ে শুরু, তাই চেহারা দেখে গুলিয়ে যায়; অর্থ মনে রাখলেই উত্তর পরিষ্কার। অপশনে ছাপা পাদম আসলে পাদপ।
মনে রাখুন: গাছের প্রতিশব্দ: তরু, বৃক্ষ, পাদপ, দ্রুম, বিটপী, মহীরুহ, শাখী। সূর্যের: রবি, ভানু, তপন, বিবস্বান, দিবাকর।
৩৪৭. নিচের পত্রিকাগুলোর মধ্যে যেটি ব্যতিক্রমধর্মী- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কপ্রগতি
- খকালিকলম
- গসীমান্ত
- ঘপূর্বাশা
সঠিক উত্তর: গ. সীমান্ত
প্রশ্নটি চার পত্রিকার মধ্যে কোনটি আলাদা জানতে চায়। প্রগতি, কালিকলম ও পূর্বাশা তিনটিই দেশভাগের আগের, কল্লোল যুগ ও তিরিশের আধুনিক সাহিত্য আন্দোলনের পত্রিকা।
কালিকলম ১৯২৬ সালে কলকাতা থেকে বের হয়, সম্পাদক ছিলেন মুরলীধর বসু, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্র। প্রগতি ১৯২৭ সালে ঢাকা থেকে বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্তের সম্পাদনায়। পূর্বাশা ১৯৩২ সালে কুমিল্লা থেকে সঞ্জয় ভট্টাচার্যের সম্পাদনায়।
সীমান্ত বের হয় ১৯৪৭ সালে, দেশভাগের পর চট্টগ্রাম থেকে, মাহবুব উল আলম চৌধুরীর সম্পাদনায়। এটি পূর্ব বাংলার প্রগতিশীল সাহিত্যের পত্রিকা, পুরনো আধুনিকতাবাদী ধারার নয়। তাই সীমান্তই ব্যতিক্রম।
প্রগতি ঢাকা থেকে বের হওয়ায় অনেকে একে পূর্ব বাংলার পত্রিকা হিসেবে আলাদা ভাবেন; কিন্তু এটি কল্লোলেরই সহযাত্রী, দেশভাগের অনেক আগের।
মনে রাখুন: কল্লোল (১৯২৩), কালিকলম (১৯২৬), প্রগতি (১৯২৭), পূর্বাশা (১৯৩২): এক দল। সীমান্ত (১৯৪৭) দেশভাগের পরের।
৩৪৮. বিকারজাত শব্দযোগে দ্বিরুক্তির উদাহরণ হলো- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কহাঁড়িপাতিল
- খনিভুনিভু
- গবকাঝকা
- ঘমাঠেঘাটে
সঠিক উত্তর: গ. বকাঝকা
দ্বিরুক্তি মানে একই বা প্রায় একই শব্দ দুবার ব্যবহার। বিকারজাত শব্দযোগে দ্বিরুক্তিতে প্রথম শব্দটি ঠিক থাকে, আর দ্বিতীয়টি প্রথমটির ধ্বনি একটু বদলে বা বিকৃত করে তৈরি হয়।
বকাঝকা শব্দে প্রথম অংশ বকা, আর দ্বিতীয় অংশ ঝকা তারই ধ্বনি-বদলানো রূপ। এভাবেই তৈরি হয় মিটমাট, ফিটফাট, তেলটেল, জলটল ইত্যাদি।
হাঁড়িপাতিল দুটি আলাদা কিন্তু সম্পর্কিত বস্তুর নাম, তাই এটি সহচর বা সমার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্তি। মাঠেঘাটেও একইভাবে দুটি সহচর শব্দ, বিভক্তিসহ। নিভুনিভু একই শব্দ দুবার, অর্থাৎ পূর্ণ দ্বিরুক্তি।
মাঠেঘাটে দেখে মনে হতে পারে দ্বিতীয় শব্দটি বদলানো, কিন্তু ঘাট নিজেই একটি স্বাধীন অর্থপূর্ণ শব্দ; বিকারজাত দ্বিতীয় শব্দের প্রায়ই আলাদা অর্থ থাকে না।
মনে রাখুন: দ্বিতীয় অংশের নিজের অর্থ না থাকলে বা প্রথমটির ছায়া হলে বিকারজাত: মিটমাট, ফিটফাট, তেলটেল, বকাঝকা।
৩৪৯. চর্মকার >-------> চামার এ শূণ্যস্থানে বসবে - (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কচম্মআর
- খচম্মকার
- গচর্মআর
- ঘচর্মসার
সঠিক উত্তর: ক. চম্মআর
প্রশ্নটি তৎসম শব্দ চর্মকার থেকে তদ্ভব শব্দ চামার হওয়ার মাঝের ধাপ জানতে চায়। এই পরিবর্তন ঘটেছে প্রাকৃত ভাষার মধ্য দিয়ে।
প্রথম ধাপে চর্ম শব্দের র্ম যুক্তবর্ণে র লোপ পেয়ে ম দ্বিত্ব হয়: চর্ম থেকে চম্ম। একে বলে সমীভবন। একই সঙ্গে কার অংশের ক লোপ পেয়ে থাকে শুধু আর। ফলে পাওয়া যায় চম্মআর।
দ্বিতীয় ধাপে দ্বিত্ব ম্ম সরল হয়ে একটি ম থাকে, আর তার ক্ষতিপূরণে আগের অ দীর্ঘ হয়ে আ হয়। তখন চম্মআর থেকে চামার।
চম্মকার অপশনটিতে ক এখনো রয়ে গেছে, তাই এটি অর্ধেক কাজ; আর চর্মআর-এ র্ম রয়েছে, সমীভবন হয়নি। এ দুটিই ফাঁদ।
মনে রাখুন: একই নিয়ম: কর্মকার > কম্মআর > কামার, হস্ত > হত্থ > হাত, চন্দ্র > চন্দ > চাঁদ।
৩৫০. ক্রিয়ার দ্বিরুক্তি যোগে গঠিত বিশেষণের দৃষ্টান্ত হলো - (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কডেকে ডেকে
- খবারে বারে
- গযায় যায়
- ঘদেখতে দেখতে
সঠিক উত্তর: গ. যায় যায়
প্রশ্নটি চায় এমন উদাহরণ যেখানে ক্রিয়াপদ দুবার বসে বিশেষণের কাজ করছে। উত্তর যায় যায়, যেমন যায় যায় অবস্থা; এখানে যায় যায় বিশেষ্য অবস্থাকে বিশেষিত করছে।
এ ধরনের আরও উদাহরণ: পড়ি পড়ি বাড়ি, মরমর রোগী, ডুবুডুবু নৌকা। প্রতিটিতে ক্রিয়ার দ্বিরুক্তি একটি বিশেষ্যের আগে বসে তার অবস্থা বোঝায়।
ডেকে ডেকে ও দেখতে দেখতে অসমাপিকা ক্রিয়ার দ্বিরুক্তি, এগুলো ক্রিয়া-বিশেষণ হিসেবে কাজ করে, যেমন দেখতে দেখতে দিন চলে গেল। বারে বারে বিশেষ্যের দ্বিরুক্তি, এটিও ক্রিয়া-বিশেষণ।
ফাঁদ হলো ডেকে ডেকে বা দেখতে দেখতে, কারণ এগুলোও ক্রিয়ার দ্বিরুক্তি; কিন্তু এরা বিশেষ্যকে নয়, ক্রিয়াকে বিশেষিত করে।
মনে রাখুন: দ্বিরুক্তির পরে বিশেষ্য বসলে বিশেষণ (যায় যায় অবস্থা, পড়ি পড়ি বাড়ি), ক্রিয়া বসলে ক্রিয়া-বিশেষণ।
৩৫১. শামসুর রাহমান রচিত ‘ইলেক্ট্রার গান’ কবিতায় মিথের আড়ালে দ্যোতিত হয়েছে- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কপিতৃহারা বঙ্গবন্ধু কন্যার আবেগ
- খসন্তানহারা জননীর বেদনা
- গঅপরিসীম অপত্যস্নেহ
- ঘশিশুপুত্র রাসেল হত্যার করুণ কাহিনি
সঠিক উত্তর: ক. পিতৃহারা বঙ্গবন্ধু কন্যার আবেগ
শামসুর রাহমানের ইলেক্ট্রার গান কবিতায় গ্রিক পুরাণের চরিত্র ইলেক্ট্রাকে ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পিতৃশোক প্রকাশ করা হয়েছে।
গ্রিক পুরাণে ইলেক্ট্রা রাজা আগামেমননের কন্যা। তার বাবাকে নিজের ঘরেই হত্যা করা হয়, আর ইলেক্ট্রা পিতৃহত্যার শোক ও বিচারের আকাঙ্ক্ষা বুকে নিয়ে বাঁচে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর শেখ হাসিনার অবস্থার সঙ্গে এর মিল আছে।
মিথ বা পুরাণকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে সমকালীন ঘটনা বলা আধুনিক কবিতার একটি কৌশল। এখানে ইলেক্ট্রা মানে কন্যা, আর আগামেমনন মানে নিহত পিতা।
শিশুপুত্র রাসেলের হত্যাও একই ঘটনার অংশ, তাই অপশনটি টানে; কিন্তু ইলেক্ট্রা মিথটি কন্যার পিতৃশোকের, সন্তান হারানোর নয়।
মনে রাখুন: মিথের চরিত্র কে, তার সম্পর্ক কী, সেটা জানলেই কবিতার ইঙ্গিত বোঝা যায়: ইলেক্ট্রা মানে কন্যা ও পিতৃশোক।
৩৫২. বিশ শতকের ষাটের দশকের কবিদের জন্য প্রাসঙ্গিক - (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কঅনির্দেশ্য সৌন্দর্যচেতনা
- খরূপক-প্রতীকের আড়াল
- গনির্ভীক সত্যপ্রকাশ
- ঘবিবিক্ত সমাজচেতনা
সঠিক উত্তর: গ. নির্ভীক সত্যপ্রকাশ
বিশ শতকের ষাটের দশক পূর্ব বাংলার জন্য আন্দোলনের দশক: আইয়ুব খানের সামরিক শাসন, ছয় দফা, আর ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। এই সময়ের কবিরা দমনপীড়নের মধ্যেও সত্য কথা সাহসের সঙ্গে বলেছেন।
এ দশকের কবি হিসেবে পরিচিত রফিক আজাদ, নির্মলেন্দু গুণ, আবুল হাসান, মহাদেব সাহা, হুমায়ুন আজাদ, আসাদ চৌধুরী প্রমুখ। আসাদ চৌধুরী ও নির্মলেন্দু গুণের কবিতায় স্বাধিকার আন্দোলন আর রাজনৈতিক প্রতিবাদ সরাসরি এসেছে।
তাই ষাটের কবিদের জন্য প্রাসঙ্গিক বৈশিষ্ট্য নির্ভীক সত্যপ্রকাশ। অনির্দেশ্য সৌন্দর্যচেতনা মূলত তিরিশের কিছু কবির বা রোমান্টিক ধারার বৈশিষ্ট্য, আর বিবিক্ত মানে বিচ্ছিন্ন সমাজচেতনা, যা আন্দোলনমুখী কবিদের সঙ্গে মেলে না।
ফাঁদ হলো রূপক-প্রতীকের আড়াল, কারণ সামরিক শাসনে কেউ কেউ প্রতীক ব্যবহার করেছেন; কিন্তু দশকটির প্রধান সুর ছিল সাহসী উচ্চারণ।
মনে রাখুন: দশক ধরে কবিতার বৈশিষ্ট্য প্রশ্নে সেই দশকের রাজনৈতিক ঘটনা মনে করুন: ষাট মানে আন্দোলন ও সাহস।
৩৫৩. সৈয়দ শামসুল হকের ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ কাব্যনাট্যে ‘নিলক্ষার নীল’ পদবন্ধটি প্রকাশ করেছে- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কঅনন্ত নক্ষত্রবীথি
- খদৃষ্টিসীমা অতিক্রমী আকাশ
- গবিষাক্ত পৃথিবী
- ঘনীল জোৎস্না
সঠিক উত্তর: খ. দৃষ্টিসীমা অতিক্রমী আকাশ
নূরলদীনের সারাজীবন সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাট্য, প্রকাশ ১৯৮২ সালে। এর বিষয় ১৭৮২-৮৩ সালে রংপুরে ইংরেজ ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে কৃষক নেতা নূরলদীনের বিদ্রোহ।
নাটকের শুরুতেই আকাশের বর্ণনায় আসে নিলক্ষা আকাশ নীল কথাটি। রংপুর অঞ্চলের ভাষায় নিলক্ষা মানে এমন বিস্তার যার শেষ চোখে ধরা যায় না। তাই নিলক্ষার নীল বলতে বোঝায় দৃষ্টিসীমা ছাড়িয়ে যাওয়া বিশাল নীল আকাশ।
সৈয়দ শামসুল হক এই নাটকে আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করে কৃষকের জীবন জীবন্ত করেছেন। তাঁর আরেক বিখ্যাত কাব্যনাট্য পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
পরের লাইনে তারার কথা আসে বলে অনন্ত নক্ষত্রবীথি অপশনটি টানে, আর নীল শব্দের কারণে নীল জোৎস্না; কিন্তু নিলক্ষা শব্দের মূল ভাব হলো সীমাহীন বিস্তার।
মনে রাখুন: নূরলদীন = সৈয়দ শামসুল হক, কাব্যনাট্য, রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ (১৭৮২-৮৩), প্রকাশ ১৯৮২।
৩৫৪. নিচের যেটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রাপ্ত পুরস্কার বা উপাধি নয়- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কপদ্মভূষণ
- খজগত্তারিণী পদক
- গএকুশে পদক
- ঘমুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা পদক
সঠিক উত্তর: ঘ. মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা পদক
কাজী নজরুল ইসলাম জীবদ্দশায় ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশ থেকেই বড় সম্মান পেয়েছেন। প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি তিনি পাননি।
১৯৪৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক দেয়। ১৯৬০ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ দেয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি লিট দেয়, আর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার দেয় একুশে পদক।
মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা পদক নামে কোনো পুরস্কার নজরুল পাননি। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বিদেশি বন্ধুদের বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা দেয়, তবে নজরুল সে তালিকায় নেই।
নজরুল মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা ছিলেন, তাঁর গান স্বাধীন বাংলা বেতারে বাজত; এই কারণেই অনেকে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা বেছে ফেলেন।
মনে রাখুন: নজরুলের সম্মান ক্রমে: ১৯৪৫ জগত্তারিণী, ১৯৬০ পদ্মভূষণ, ১৯৭৪ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি লিট, ১৯৭৬ একুশে পদক।
৩৫৫. চর্যাপদের অধ্যাত্মভাবনা ও সাহিত্যিক উৎকর্ষের সর্বোত্তম সমন্বয় ঘটেছে যার মাধ্যমে- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কসমাজচিত্র
- খজীবনভাবনা
- গভাষা
- ঘকাব্যিকতা
সঠিক উত্তর: ক. সমাজচিত্র
চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের সাধনসংগীত। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
চর্যার মূল উদ্দেশ্য গূঢ় ধর্মতত্ত্ব বা অধ্যাত্মভাবনা প্রকাশ। কিন্তু কবিরা সেই তত্ত্ব বলেছেন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ছবি দিয়ে: নৌকা বাওয়া, হরিণ শিকার, তাঁত বোনা, ডোমনির জীবন, ভাতের অভাব।
এই সমাজচিত্রের মাধ্যমেই তত্ত্ব আর সাহিত্যগুণ একসঙ্গে মিলেছে, তাই চর্যাপদকে সে যুগের সমাজের দলিলও বলা হয়। যেমন ভুসুকুপার পদে হরিণের মাংসই তার শত্রু, এই ছবির আড়ালে সাধনার কথা।
ভাষা অপশনটি টানে, কারণ চর্যার সন্ধ্যাভাষা বিখ্যাত; কিন্তু সন্ধ্যাভাষা তত্ত্ব গোপন রাখার উপায়, আর সাহিত্যিক উৎকর্ষ ফুটেছে জীবনের ছবিতে।
মনে রাখুন: চর্যাপদ: আবিষ্কার ১৯০৭, প্রকাশ ১৯১৬, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী; তত্ত্ব বলা হয়েছে সমাজের ছবিতে।
৩৫৬. নিচের যেটি মধ্যযুগের সাহিত্যধারার অন্তর্ভূক্ত- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কপত্রসাহিত্য
- খপ্রহসন
- গপাঁচালি
- ঘগীতিকাব্য
সঠিক উত্তর: গ. পাঁচালি
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ মোটামুটি ১২০১ থেকে ১৮০০ সাল। এ সময়ের প্রধান ধারা মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি, অনুবাদ সাহিত্য, রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান, নাথ সাহিত্য, পুঁথি ও পাঁচালি।
পাঁচালি হলো গান ও ছড়ার সুরে কাহিনি বর্ণনার রীতি। মঙ্গলকাব্যগুলো পাঁচালির ঢঙে গাওয়া হতো, আর ঘরে ঘরে লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়ার রীতি আজও আছে। তাই পাঁচালি মধ্যযুগের ধারা।
প্রহসন আধুনিক যুগের সৃষ্টি; মাইকেল মধুসূদন দত্তের একেই কি বলে সভ্যতা ১৮৬০ সালে প্রকাশিত। পত্রসাহিত্যও আধুনিক, যেমন রবীন্দ্রনাথের ছিন্নপত্র। আধুনিক গীতিকাব্যের সূচনা বিহারীলাল চক্রবর্তীর হাতে, তাঁকে বাংলা গীতিকবিতার ভোরের পাখি বলা হয়।
ফাঁদ হলো গীতিকাব্য, কারণ মধ্যযুগে মৈমনসিংহ গীতিকা ও বৈষ্ণব পদাবলির মতো গানধর্মী রচনা ছিল। কিন্তু গীতিকা আর আধুনিক গীতিকাব্য এক জিনিস নয়।
মনে রাখুন: মধ্যযুগ মানে মঙ্গল, পদাবলি, পুঁথি, পাঁচালি; প্রহসন, সনেট, মহাকাব্য, গীতিকাব্য ও পত্রসাহিত্য আধুনিক।
৩৫৭. বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ‘আল’ প্রত্যয় যে রূপ থেকে বিবর্তিত হয়েছে- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কআল
- খআলুষ
- গআল্যু
- ঘআলুচ
সঠিক উত্তর: ঘ. আলুচ
প্রশ্নটি তদ্ধিত প্রত্যয় আল-এর উৎস জানতে চায়। বাংলা আল প্রত্যয় এসেছে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় আলুচ্ থেকে।
সংস্কৃতে আলুচ্ প্রত্যয় যোগে হয় দয়া থেকে দয়ালু, শ্রদ্ধা থেকে শ্রদ্ধালু, নিদ্রা থেকে নিদ্রালু। সংস্কৃত প্রত্যয়ের শেষে যে চ্ থাকে তা ইৎ বা চিহ্নমাত্র, শব্দে বসে না; বসে শুধু আলু।
বাংলায় এসে আলু আরও ক্ষয়ে গিয়ে আল হয়েছে। তাই দয়ালু থেকে লোকমুখে দয়াল, যেমন দয়াল বাবা। একইভাবে আল যুক্ত হয়ে বোঝায় ভাবযুক্ত বা স্বভাববিশিষ্ট কেউ।
আল অপশনটি প্রশ্নেরই পুনরাবৃত্তি, তাই সেটি উত্তর হতে পারে না; আলুষ বা আল্যু নামে কোনো প্রত্যয় নেই।
মনে রাখুন: আলুচ্ প্রত্যয়ের উদাহরণ: দয়ালু, শ্রদ্ধালু, নিদ্রালু, কৃপালু, তন্দ্রালু।
৩৫৮. নিচের যেটি বহুব্রীহি সমাসের দৃষ্টান্ত নয়- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কঅন্তরীপ
- খদ্বীপ
- গঅপয়া
- ঘঅনুতাপ
সঠিক উত্তর: ঘ. অনুতাপ
বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ প্রধান থাকে না, তৃতীয় কোনো অর্থ বোঝায়। ব্যাসবাক্যে সাধারণত থাকে যার বা যে।
অন্তরীপ: অন্তর্গত অপ বা জল যার, অর্থাৎ তিন দিকে জলঘেরা স্থলভাগ। দ্বীপ: দুই দিকে বা চারদিকে অপ যার। দুটোই বহুব্রীহি, কারণ বোঝাচ্ছে জল নয়, স্থলভাগ।
অপয়া: নেই পয় যার, মানে যার ভাগ্য ভালো নয়; এটি নঞ্ বহুব্রীহি।
অনুতাপ: পশ্চাৎ তাপ, অর্থাৎ কাজের পরে আসা অনুশোচনা। এখানে অনু অব্যয় অর্থ দিচ্ছে পশ্চাৎ, তাই এটি অব্যয়ীভাব সমাস, বহুব্রীহি নয়। অপয়ার শুরুতে অ দেখে নঞ্ তৎপুরুষ ভাবা একটি সাধারণ ভুল, কিন্তু যার থাকলে তা বহুব্রীহি।
মনে রাখুন: অনু, উপ, প্রতি, যথা, আ ইত্যাদি অব্যয় পূর্বপদে থেকে অর্থ দিলে অব্যয়ীভাব: অনুতাপ, উপকূল, প্রতিদিন, যথাশক্তি।
৩৫৯. 'তোমাকে দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে, তা আশা করা যায়নি।' বাক্যটি যে বাচ্যের উদাহরণ - (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- ককর্তৃবাচ্য
- খভাববাচ্য
- গকর্মকর্তৃবাচ্য
- ঘকর্মবাচ্য
সঠিক উত্তর: খ. ভাববাচ্য
বাচ্য নির্ণয়ে দেখতে হয় বাক্যে কর্তা, কর্ম না ক্রিয়ার ভাব প্রধান। ভাববাচ্যে কর্তা প্রায়ই উহ্য বা গৌণ থাকে, কর্ম থাকে না বা প্রধান নয়, আর ক্রিয়ার ভাবটাই মুখ্য; ক্রিয়া সাধারণত করা যায়, হয়, যাওয়া হয় ধরনের।
এখানে মূল বাক্য হলো তা আশা করা যায়নি। কে আশা করেনি, সেই কর্তা নেই; গুরুত্ব পেয়েছে আশা করা যায়নি এই ভাবটি। প্রথম অংশ তোমাকে দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে, এখানেও কর্তা তোমাকে দিয়ে গৌণ হয়ে আছে, আর হবে ক্রিয়াটি প্রধান।
এই দুটি বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে বাক্যটি ভাববাচ্যের উদাহরণ। ভাববাচ্যের পরিচিত উদাহরণ: আমার খাওয়া হলো না, আমাকে এখন যেতে হবে, এ পথে চলা যায় না।
কর্মবাচ্যে কর্ম প্রধান হয়ে কর্তার জায়গায় বসে, যেমন চোরটি ধরা পড়েছে বা আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে। এখানে তা শব্দটি কর্মের মতো দেখায় বলে কর্মবাচ্য ভাবার ঝুঁকি আছে, কিন্তু বাক্যের জোর আশা করার ভাবের উপর।
মনে রাখুন: দিয়ে, দ্বারা দিয়ে কর্তা গৌণ আর ক্রিয়া হয় বা যায় দিয়ে শেষ হলে সাধারণত ভাববাচ্য: আমাকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
৩৬০. পাঠের বর্জনকৃত অংশ নির্দেশে ব্যবহৃত হয় - (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- ক’ - চিহ্ন
- খ() - চিহ্ন
- গ... - চিহ্ন
- ঘ“ ” - চিহ্ন
সঠিক উত্তর: গ. ... - চিহ্ন
কোনো লেখা উদ্ধৃত করার সময় মাঝখানের বা শেষের কিছু অংশ বাদ দিলে সেই বাদ পড়া জায়গায় পরপর তিনটি বিন্দু বসানো হয়। একে বলে বর্জন চিহ্ন বা ত্রিবিন্দু।
যেমন: তিনি বললেন, আমি আসব ... তবে দেরি হবে। এখানে তিনটি বিন্দু দেখাচ্ছে যে মাঝের কিছু কথা বাদ দেওয়া হয়েছে।
অন্য চিহ্নগুলোর কাজ আলাদা। ঊর্ধ্বকমা বর্ণ বা অক্ষর লোপ বোঝায়, যেমন মা’র। বন্ধনী ব্যাখ্যামূলক কথা আলাদা করে। উদ্ধৃতি চিহ্ন কারও হুবহু কথা উদ্ধৃত করে।
ঊর্ধ্বকমাও লোপ বোঝায় বলে বিভ্রান্তি হয়; কিন্তু ঊর্ধ্বকমা শব্দের ভেতরের বর্ণলোপ, আর ত্রিবিন্দু বাক্যের অংশ বা পাঠের অংশ বর্জন।
মনে রাখুন: শব্দের ভেতর লোপ = ঊর্ধ্বকমা, বাক্যের অংশ লোপ = তিন বিন্দু।