বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৮
১৪১. ‘যথারীতি’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কঅব্যয়ীভাব
- খদ্বিগু
- গবহুব্রীহি
- ঘদ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর: ক. অব্যয়ীভাব
প্রশ্নটা অব্যয়ীভাব সমাস চেনা পরীক্ষা করছে। যে সমাসে পূর্বপদ একটি অব্যয়, আর পূর্বপদের অর্থই প্রধান, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যথারীতি ভাঙলে হয় রীতিকে অতিক্রম না করে। এখানে যথা একটি অব্যয়, যার অর্থ অনুযায়ী বা অতিক্রম না করে, আর পুরো শব্দে সেই অর্থটাই প্রধান। তাই যথারীতি অব্যয়ীভাব সমাস।
একই ধাঁচের আরও শব্দ যথাশক্তি, যথাসাধ্য, যথাসময়, যথাবিধি। যথা, উপ, প্রতি, আ, অনু এমন অব্যয় সামনে থাকলে অব্যয়ীভাবের কথা আগে ভাবুন।
ফাঁদ হলো বহুব্রীহি। বহুব্রীহিতে কোনো পদই প্রধান নয়, অন্য কাউকে বোঝায়; কিন্তু যথারীতি অন্য কাউকে বোঝায় না, রীতি অনুযায়ী কাজের ভাব প্রকাশ করে।
মনে রাখুন: শব্দের শুরুতে যথা, উপ, প্রতি, অনু, আ থাকলে প্রথমে অব্যয়ীভাব ধরে মিলিয়ে দেখুন।
১৪২. ‘মৃত্তিকা দিয়ে তৈরি’ – কথাটি সংকোচন করলে হবে – (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কতন্ময়
- খমন্ময়
- গমৃন্ময়
- ঘচিন্ময়
সঠিক উত্তর: গ. মৃন্ময়
প্রশ্নটি বাক্য সংকোচন বা এক কথায় প্রকাশ, যার পেছনে আছে ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম। মৃত্তিকা বা মাটির তৈরি বোঝাতে বলা হয় মৃন্ময়।
মৃৎ মানে মাটি। মৃৎ আর ময় যুক্ত হলে ৎ ধ্বনি পরের ম-এর প্রভাবে ন হয়ে যায়, তাই হয় মৃন্ময়। একই নিয়মে চিৎ আর ময় মিলে চিন্ময়, তৎ আর ময় মিলে তন্ময়।
অর্থের পার্থক্য মনে রাখুন। চিন্ময় মানে জ্ঞানময় বা চৈতন্যময়। তন্ময় মানে কোনো কিছুতে সম্পূর্ণ ডুবে থাকা। মন্ময় মানে মনের ভাবে পূর্ণ বা আত্মগত।
ফাঁদ হলো চারটি শব্দই ময় দিয়ে শেষ এবং দেখতে একই রকম। প্রথম অংশের অর্থ, অর্থাৎ মৃৎ মানে মাটি, ধরতে পারলেই উত্তর সহজ।
মনে রাখুন: মৃৎ মানে মাটি, চিৎ মানে জ্ঞান, তৎ মানে সেই: সঙ্গে ময় লাগালে মৃন্ময়, চিন্ময়, তন্ময়। মন্ময় মানে আত্মগত।
১৪৩. ‘অর্ধচন্দ্র’ কথাটির অর্থ – (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কঅমাবস্যা
- খগলাধাক্কা দেওয়া
- গকাছে টানা
- ঘকাস্তে
সঠিক উত্তর: খ. গলাধাক্কা দেওয়া
এটি একটি বাগধারার প্রশ্ন। বাগধারায় শব্দের আক্ষরিক অর্থ নয়, প্রচলিত বিশেষ অর্থটা জানতে হয়। অর্ধচন্দ্র দেওয়া মানে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া।
কারণটা ছবির মতো: কারো ঘাড়ে বা গলায় হাত রেখে ধাক্কা দিলে বুড়ো আঙুল আর বাকি আঙুলের মাঝে হাতটা আধখানা চাঁদের আকার নেয়। সেখান থেকেই এই বাগধারা।
প্রশ্নে আক্ষরিক অর্থের কাছাকাছি বিকল্প রেখে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। কাস্তে দেখতে বাঁকা চাঁদের মতো, আর অমাবস্যা চাঁদের সাথে সম্পর্কিত; দুটোই আক্ষরিক অর্থের ফাঁদ।
মনে রাখুন: চাঁদ বা আকাশ সংক্রান্ত বাগধারায় আক্ষরিক অর্থের বিকল্প (চাঁদ, আকাশ, কাস্তে) সাধারণত ফাঁদ।
১৪৪. ‘হরতাল’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কপর্তুগিজ
- খহিন্দি
- গগুজরাটি
- ঘফরাসি
সঠিক উত্তর: গ. গুজরাটি
প্রশ্নটা বাংলা শব্দভান্ডারের বিদেশি উৎস যাচাই করছে। ‘হরতাল’ শব্দটি এসেছে গুজরাটি ভাষা থেকে।
গুজরাটি ভাষায় হরতাল মানে দোকানপাট ও কাজকর্ম বন্ধ রেখে প্রতিবাদ। গান্ধীজির আন্দোলনের সময় এই শব্দ সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে, গান্ধীজি নিজেও গুজরাটি ছিলেন।
একই উৎসের আরেকটি পরিচিত শব্দ ‘খদ্দর’, মানে হাতে বোনা মোটা কাপড়। এই দুই শব্দ একসাথে মনে রাখলেই গুজরাটি শব্দের প্রশ্ন সহজ হয়।
ফাঁদ হলো হিন্দি, কারণ শব্দটা হিন্দিতেও খুব প্রচলিত। কিন্তু প্রচলন আর উৎস আলাদা বিষয়; প্রশ্ন জানতে চেয়েছে উৎস।
মনে রাখুন: পরীক্ষায় আসা গুজরাটি শব্দ মূলত দুটি: হরতাল আর খদ্দর।
১৪৫. কোনটি ‘জিগীষা’র সম্প্রসারিত প্রকাশ? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কজানিবার ইচ্ছা
- খজয় করিবার ইচ্ছা
- গহনন করিবার ইচ্ছা
- ঘযুদ্ধ করিবার ইচ্ছা
সঠিক উত্তর: খ. জয় করিবার ইচ্ছা
প্রশ্নটা এক কথায় প্রকাশ বা বাক্য সংকোচন পরীক্ষা করছে, বিশেষ করে ইচ্ছা বোঝানো শব্দগুলো। সংস্কৃতে ধাতুর সঙ্গে সন্ প্রত্যয় যোগে ইচ্ছা বোঝানো শব্দ তৈরি হয়, আর ধাতুর প্রথম অংশ দ্বিত্ব হয়।
জি ধাতুর অর্থ জয় করা। এর সঙ্গে সন্ প্রত্যয়ে হয় জিগীষা, মানে জয় করার ইচ্ছা। জয় করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে বলে জিগীষু।
একই ছাঁচের আরও শব্দ: জ্ঞা ধাতু থেকে জিজ্ঞাসা, মানে জানার ইচ্ছা; হন্ ধাতু থেকে জিঘাংসা, মানে হত্যার ইচ্ছা; যুধ্ ধাতু থেকে যুযুৎসা, মানে যুদ্ধের ইচ্ছা। চারটি একসাথে মুখস্থ রাখলে এই ধরনের সব প্রশ্ন পারবেন।
ফাঁদ হলো জানিবার ইচ্ছা, কারণ জিগীষা আর জিজ্ঞাসা দুটোই জি দিয়ে শুরু, শুনতেও কাছাকাছি। কিন্তু জানার ইচ্ছা হলো জিজ্ঞাসা।
মনে রাখুন: শব্দের মূল ধাতু ধরুন: জি জয়, জ্ঞা জানা, হন্ হত্যা, যুধ্ যুদ্ধ।
১৪৬. নিচের কোনটি তৎসম শব্দ? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কপছন্দ
- খহিসাব
- গধূলি
- ঘশৌখিন
সঠিক উত্তর: গ. ধূলি
প্রশ্নটা শব্দের উৎস অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ পরীক্ষা করছে। যে শব্দ সংস্কৃত থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বাংলায় এসেছে, তাকে বলে তৎসম, মানে তার সমান।
ধূলি সংস্কৃত শব্দ, বাংলায় হুবহু একই রূপে ব্যবহৃত হয়, তাই তৎসম। এর থেকে ক্ষয়ে যাওয়া রূপ ধুলো হলো তদ্ভব। জোড়া মনে রাখলে চেনা সহজ হয়।
বাকি তিনটি বিদেশি শব্দ, মুসলিম শাসনামলে প্রশাসন আর দৈনন্দিন জীবনের মাধ্যমে এসেছে। পছন্দ ফারসি, হিসাব আরবি, আর শৌখিন আরবি-ফারসি উৎসের শব্দ।
ফাঁদ হলো হিসাব বা পছন্দ, কারণ এগুলো এত বেশি ব্যবহার হয় যে দেশি মনে হয়। বহুল ব্যবহার উৎস বদলায় না; তৎসম চেনার সূত্র হলো সংস্কৃত রূপ; এমন শব্দের বানানে প্রায়ই ঈ, ঊ, ণ, ষ-এর মতো বর্ণ থাকে, যদিও এটা নিশ্চিত নিয়ম নয়।
মনে রাখুন: তৎসম-তদ্ভব জোড়া মনে রাখুন: ধূলি-ধুলো, হস্ত-হাত, চন্দ্র-চাঁদ।
১৪৭. নিচের কোনটি বাংলা ধাতুর দৃষ্টান্ত? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ককহ্
- খকথ্
- গবুধ্
- ঘগঠ্
সঠিক উত্তর: ক. কহ্
প্রশ্নটি উৎস অনুযায়ী ধাতুর শ্রেণি চিনতে চেয়েছে। বাংলায় ধাতু তিন উৎসের: সংস্কৃত ধাতু, বাংলা ধাতু এবং বিদেশি ধাতু। যে ধাতু থেকে সাধারণ কথ্য বাংলা ক্রিয়া তৈরি হয়, তা বাংলা ধাতু।
কহ্ ধাতু থেকে কহা, কহে, কহিল ক্রিয়া হয়, যা বাংলা ক্রিয়াপদের মতো রূপ বদলায়। তাই এটি বাংলা ধাতু। সংস্কৃত কথ্ ধাতু প্রাকৃতের পথ পেরিয়ে বাংলায় কহ্ রূপ নিয়েছে।
অন্যদিকে কথ্ থেকে কথন ও কথিত, বুধ্ থেকে বোধ ও বুদ্ধি, গঠ্ থেকে গঠন ও গঠিত হয়। এগুলো তৎসম চেহারার শব্দ, তাই এই ধাতুগুলো সংস্কৃতঘেঁষা।
ফাঁদ হলো কথ্ আর কহ্ দেখতে প্রায় একই। মনে রাখুন, কথ্ সংস্কৃত মূল, আর তার বাংলা রূপান্তর কহ্।
মনে রাখুন: ধাতু থেকে কথ্য ক্রিয়া হয় কি না দেখুন: কহ্ থেকে কহে, তাই বাংলা; কথ্ থেকে কথিত, তাই সংস্কৃত।
১৪৮. কোনটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গ্রন্থ নয়? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কব্যথার দান
- খদোলনচাঁপা
- গসোনার তরী
- ঘশিউলিমালা
সঠিক উত্তর: গ. সোনার তরী
প্রশ্নটা কাজী নজরুল ইসলাম আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা আলাদা করে চেনা যাচাই করছে। ‘সোনার তরী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, তাই এটি নজরুলের নয়।
বাকি তিনটি নজরুলের। ‘ব্যথার দান’ তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ, ‘দোলনচাঁপা’ কাব্যগ্রন্থ, আর ‘শিউলিমালা’ গল্পগ্রন্থ।
একই নামের বিখ্যাত কবিতা ‘সোনার তরী’ও রবীন্দ্রনাথের, যা মহাকাল আর সৃষ্টির স্থায়িত্ব নিয়ে লেখা।
এখানে ফাঁদ হলো ফুলের নামের বই। দোলনচাঁপা আর শিউলিমালা দুটোই ফুলের নাম, আর নজরুলের এমন নামের বই অনেক; ফুলের নাম দেখে রবীন্দ্রনাথ ভেবে বাদ দেওয়া যাবে না।
মনে রাখুন: ‘নয়’ প্রশ্নে অন্য লেখকের সবচেয়ে বিখ্যাত বইটা খুঁজুন; সোনার তরী দেখলেই রবীন্দ্রনাথ।
১৪৯. শুদ্ধ বানান কোনটি? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কমুমুর্ষু
- খমূমুর্ষূ
- গমুমূর্ষু
- ঘমূমূর্ষ
সঠিক উত্তর: গ. মুমূর্ষু
প্রশ্নটা একটি কঠিন তৎসম শব্দের বানান যাচাই করছে। মুমূর্ষু মানে মৃতপ্রায়, যে মরতে বসেছে।
শব্দটা সংস্কৃত মৃ ধাতু থেকে, সন্ আর উ প্রত্যয় যোগে গঠিত; অর্থ মরতে ইচ্ছুক। তৎসম শব্দ বলে এর মূল বানান হুবহু রাখতে হয়।
বানানের প্যাটার্ন: প্রথম অক্ষর মু তে হ্রস্ব উ, দ্বিতীয় অক্ষর মূ তে দীর্ঘ ঊ, আর শেষে র্ষু তে আবার হ্রস্ব উ। মানে ছোট, বড়, ছোট।
সাধারণ ভুল হলো মাঝের মূ কেও হ্রস্ব লিখে ফেলা, অথবা প্রথম অক্ষরে দীর্ঘ ঊ বসানো। প্যাটার্নটা মনে থাকলে চারটি অপশনের তিনটি সঙ্গে সঙ্গে বাদ পড়ে।
মনে রাখুন: হ্রস্ব-দীর্ঘ-হ্রস্ব প্যাটার্ন মনে রাখুন; শুধু একটি অপশনই এতে মেলে।
১৫০. ‘ইতরবিশেষ’ বলতে বোঝায় - (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কদুর্বৃত্ত
- খচালাকি
- গপার্থক্য
- ঘঅপদার্থ
সঠিক উত্তর: গ. পার্থক্য
প্রশ্নটি একটি শব্দের প্রকৃত অর্থ জানতে চেয়েছে। ইতরবিশেষ মানে পার্থক্য বা তারতম্য। যেমন: দুজনের যোগ্যতায় কোনো ইতরবিশেষ নেই, মানে কোনো পার্থক্য নেই।
শব্দটির গঠন থেকেই অর্থ বোঝা যায়। এখানে ইতর মানে অন্য, আর বিশেষ মানে বৈশিষ্ট্য বা পার্থক্য। এক থেকে অন্যটির যে পার্থক্য, তাই ইতরবিশেষ।
সমস্যা হলো আধুনিক বাংলায় ইতর শব্দের প্রচলিত অর্থ নীচ বা অভদ্র। সেই অর্থ মাথায় রেখে অনেকে দুর্বৃত্ত বা অপদার্থ বেছে নেন।
তাই মনে রাখুন, ইতরবিশেষ শব্দে ইতর মানে অন্য, খারাপ নয়। ‘ইতরজন’ শব্দেও মূল অর্থ সাধারণ বা অন্য মানুষ।
মনে রাখুন: ইতরবিশেষ মানে পার্থক্য; ইতর এখানে অন্য, খারাপ নয়।
১৫১. নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির দৃষ্টান্ত কোনটি? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কগো + অক্ষ = গবাক্ষ
- খপৌ + অক = পাবক
- গবি + অঙ্গ = বঙ্গ
- ঘযতি + ইন্দ্র = যতীন্দ্র
সঠিক উত্তর: ক. গো + অক্ষ = গবাক্ষ
প্রশ্নটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি খুঁজছে। যে সন্ধি ব্যাকরণের নিয়ম মানে না, তবু প্রচলিত রূপটিই শুদ্ধ বলে গৃহীত, তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
নিয়ম অনুযায়ী ও-কারের পরে অ এলে ও বদলে অব হয়। তাহলে গো আর অক্ষ মিলে হওয়ার কথা গবক্ষ। কিন্তু প্রচলিত শুদ্ধ রূপ গবাক্ষ, মাঝখানে আ-কার এসেছে। নিয়মের বাইরে বলে এটি নিপাতনে সিদ্ধ।
অন্য উদাহরণগুলো নিয়ম মেনে চলে। পৌ আর অক মিলে পাবক, কারণ ঔ-কারের পরে স্বর এলে ঔ হয় আব। যতি আর ইন্দ্র মিলে যতীন্দ্র, কারণ ই আর ই মিলে ঈ। আর বি আর অঙ্গ মিলে নিয়মে হয় ব্যঙ্গ, বঙ্গ নয়; তাই ওই বিকল্পটি ভুল সন্ধি।
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির আরও উদাহরণ: কুল আর অটা মিলে কুলটা, গো আর ইন্দ্র মিলে গবেন্দ্র, অন্য আর অন্য মিলে অন্যান্য, মার্ত আর অণ্ড মিলে মার্তণ্ড।
মনে রাখুন: নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি মুখস্থ রাখুন: গবাক্ষ, গবেন্দ্র, কুলটা, অন্যান্য, মার্তণ্ড, শুদ্ধোদন।
১৫২. নিচের কোন বাক্যটি প্রয়োগগত দিক থেকে শুদ্ধ? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কআমি কারও সাতেও নেই, সতেরোতেও নেই।
- খআপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।
- গতার দু’চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।
- ঘসারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম ।
সঠিক উত্তর: গ. তার দু’চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।
প্রশ্নটি বাক্যে শব্দ ও বাগ্ধারার প্রয়োগ শুদ্ধ কি না যাচাই করছে। চারটির মধ্যে শুধু ‘তার দু’চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল’ বাক্যে কোনো ভুল নেই।
বাকিগুলোর ভুল আলাদা আলাদা। প্রচলিত বাগ্ধারা হলো সাতে-পাঁচে না থাকা, মানে কোনো ঝামেলায় জড়িত না থাকা; সাতে আর সতেরো জোড়াটি ভুল।
স্বপরিবারে বানানটি ভুল। এখানে উপসর্গ হলো স, মানে সহ; তাই শুদ্ধ রূপ সপরিবারে। ‘স্ব’ মানে নিজ, সেটি এখানে খাটে না। আর বাগ্ধারাটি হলো ভূতের বেগার খাটা, অর্থাৎ বিনা পারিশ্রমিকে খাটা; মজুরি শব্দটি বসালে বাগ্ধারার অর্থই উল্টে যায়।
ফাঁদ হলো সপরিবারে আর স্বপরিবারে। উচ্চারণে কাছাকাছি হওয়ায় ভুল রূপটি খুব প্রচলিত হয়ে গেছে।
মনে রাখুন: স মানে সহ: সপরিবারে, সবান্ধবে, সস্ত্রীক, সানন্দে। স্ব বসালে ভুল।
১৫৩. নিচের কোনটি যৌগিক বাক্য? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কদোষ স্বীকার করলে তোমাকে শাস্তি দেওয়া হবে না।
- খতিনি বেড়াতে এসে কেনাকাটা করলেন।
- গমহৎ মানুষ বলে সবাই তাঁকে সম্মান করেন।
- ঘছেলেটি চঞ্চল তবে মেধাবী।
সঠিক উত্তর: ঘ. ছেলেটি চঞ্চল তবে মেধাবী।
প্রশ্নটি যৌগিক বাক্য চিনতে চেয়েছে। দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য এবং, কিন্তু, অথবা, তবে ধরনের সংযোজক অব্যয় দিয়ে যুক্ত হলে যৌগিক বাক্য হয়, আর প্রতিটি অংশ আলাদা করেও পূর্ণ বাক্য থাকে।
‘ছেলেটি চঞ্চল তবে মেধাবী’ বাক্যে দুটি স্বাধীন বক্তব্য আছে: ছেলেটি চঞ্চল, এবং ছেলেটি মেধাবী। এদের জুড়েছে বিরোধবাচক অব্যয় ‘তবে’। তাই এটি যৌগিক বাক্য।
বাকি তিনটিতে একটিই সমাপিকা ক্রিয়া, সঙ্গে অসমাপিকা ক্রিয়া বা অনুসর্গ। স্বীকার করলে, বেড়াতে এসে, মানুষ বলে: এগুলো আলাদা স্বাধীন বাক্য গড়ে না। তাই তিনটিই সরল বাক্য।
ফাঁদ হলো প্রথম বাক্যটি, কারণ এতে শর্তের ভাব আছে বলে একে জটিল বা যৌগিক মনে হয়। কিন্তু শর্তটি এসেছে অসমাপিকা ক্রিয়া ‘করলে’ দিয়ে, কোনো আলাদা খণ্ডবাক্য দিয়ে নয়।
মনে রাখুন: এবং, ও, কিন্তু, তবে, অথবা, কিংবা, তাই দিয়ে দুটি পূর্ণ বক্তব্য জুড়লে যৌগিক।
১৫৪. ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের উপাস্য ‘চণ্ডী’ কার স্ত্রী? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কজগন্নাথ
- খবিষ্ণু
- গপ্রজাপতি
- ঘশিব
সঠিক উত্তর: ঘ. শিব
প্রশ্নটি মঙ্গলকাব্যের দেবতা নিয়ে। চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের দেবী চণ্ডী হলেন শিবের স্ত্রী, যাঁকে পার্বতী বা দুর্গার এক রূপ ধরা হয়।
মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যে লৌকিক দেবদেবীর মাহাত্ম্য প্রচার করা হতো। চণ্ডীমঙ্গলের দুটি কাহিনি: কালকেতু ও ফুল্লরার আখ্যান এবং ধনপতি সওদাগরের আখ্যান। এ ধারার শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
অন্য মঙ্গলকাব্যের দেবতাও মনে রাখুন। মনসামঙ্গলে সাপের দেবী মনসা, অন্নদামঙ্গলে দেবী অন্নদা, ধর্মমঙ্গলে ধর্মঠাকুর।
ফাঁদ হলো বিষ্ণু। পুরাণের প্রধান দেবতা বলে বিষ্ণুর নাম মনে আসে, কিন্তু বিষ্ণুর স্ত্রী লক্ষ্মী, চণ্ডী নন।
মনে রাখুন: চণ্ডী, দুর্গা, অন্নদা, পার্বতী: সবাই শিবের স্ত্রীর রূপ।
১৫৫. ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য’ কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কনেপালের রাজদরবার থেকে
- খগোয়ালঘর থেকে
- গপাঠশালা থেকে
- ঘকান্তজীর মন্দির থেকে
সঠিক উত্তর: খ. গোয়ালঘর থেকে
প্রশ্নটি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুঁথি আবিষ্কারের ঘটনা নিয়ে। ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থের গোয়ালঘরের মাচা থেকে পুঁথিটি উদ্ধার করেন।
পুঁথিটি ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ নামে প্রকাশিত হয়। এর কবি বড়ু চণ্ডীদাস, আর এটিকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন ধরা হয়।
দুটি আবিষ্কার জোড়ায় মনে রাখুন। ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। প্রাচীন যুগের চর্যাপদ নেপালে, মধ্যযুগের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গোয়ালঘরে।
ফাঁদ হলো নেপালের রাজদরবার, কারণ সেটি চর্যাপদের আবিষ্কারস্থল।
মনে রাখুন: চর্যাপদ নেপালে, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গোয়ালঘরে; আবিষ্কারক হরপ্রসাদ আর বসন্তরঞ্জন।
১৫৬. বিদ্যাপতি মূলত কোন ভাষার কবি ছিলেন? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কমারাঠি
- খহিন্দি
- গমৈথিলি
- ঘগুজরাটি
সঠিক উত্তর: গ. মৈথিলি
প্রশ্নটা মধ্যযুগের পদাবলি সাহিত্যের একজন প্রধান কবিকে চেনা পরীক্ষা করছে। বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার কবি, আর তিনি মূলত মৈথিলি ভাষায় পদ লিখেছেন; সংস্কৃতেও তাঁর রচনা আছে।
তিনি বাঙালি নন, বাংলা ভাষায়ও লেখেননি, তবু বাংলা সাহিত্যে তাঁর নাম আসে। কারণ রাধা-কৃষ্ণের প্রেম নিয়ে লেখা তাঁর পদ বাংলায় এত জনপ্রিয় হয় যে বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা তাঁর অনুকরণে ব্রজবুলি নামের মিশ্র সাহিত্যভাষায় পদ লিখতে শুরু করেন।
মধুর মৈথিলি পদের জন্য তাঁকে মৈথিল কোকিল বলা হয়। মিথিলা অঞ্চল এখনকার উত্তর বিহার ও নেপালের তরাই এলাকা, আর মৈথিলি সেখানকার ভাষা।
ফাঁদ হলো হিন্দি, কারণ মিথিলা এখন বিহারে, যেখানে হিন্দি প্রচলিত। কিন্তু মৈথিলি আলাদা একটি ভাষা, ভারতের সংবিধানের অষ্টম তফসিলেও স্বীকৃত।
মনে রাখুন: মিথিলার কবি, তাই মৈথিলি; নামের সঙ্গে জায়গা মিলিয়ে নিন।
১৫৭. ‘মনোরমা’ বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসের চরিত্র? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ককৃষ্ণকান্তের উইল
- খদুর্গেশনন্দিনী
- গমৃণালিনী
- ঘবিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর: গ. মৃণালিনী
প্রশ্নটি বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসের চরিত্র চিনতে চেয়েছে। মনোরমা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মৃণালিনী’ উপন্যাসের চরিত্র, যা ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত।
মৃণালিনী বখতিয়ার খলজির বঙ্গ বিজয়ের সময়কে পটভূমি করে লেখা ঐতিহাসিক উপন্যাস। এর প্রধান চরিত্র মৃণালিনী, হেমচন্দ্র, মনোরমা ও পশুপতি।
বঙ্কিমের অন্য উপন্যাসের চরিত্রও পরীক্ষায় আসে। দুর্গেশনন্দিনীতে তিলোত্তমা, আয়েশা, জগৎসিংহ; বিষবৃক্ষে কুন্দনন্দিনী, সূর্যমুখী, নগেন্দ্রনাথ; কৃষ্ণকান্তের উইলে রোহিণী, ভ্রমর, গোবিন্দলাল।
উপন্যাসের নাম নায়িকার নামে হলে সেই নামের সঙ্গে অন্য প্রধান চরিত্রগুলোও একসঙ্গে মুখস্থ রাখুন; তাহলে এ ধরনের প্রশ্নে বিভ্রান্তি কমে।
মনে রাখুন: মৃণালিনীর মনোরমা, বিষবৃক্ষের কুন্দ, উইলের রোহিণী, দুর্গেশনন্দিনীর আয়েশা।
১৫৮. ‘ব্যক্ত প্রেম’ ও ‘গুপ্ত প্রেম’ কবিতা দুটি রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কখেয়া
- খমানসী
- গকল্পনা
- ঘসোনার তরী
সঠিক উত্তর: খ. মানসী
প্রশ্নটি রবীন্দ্রনাথের দুটি কবিতার উৎস কাব্যগ্রন্থ জানতে চেয়েছে। ‘ব্যক্ত প্রেম’ ও ‘গুপ্ত প্রেম’ দুটিই ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থের কবিতা, যা ১৮৯০ সালে প্রকাশিত।
মানসীকে রবীন্দ্রনাথের কবি প্রতিভার পরিণত পর্বের সূচনা ধরা হয়। প্রেমের প্রকাশ্য আর গোপন দুই রূপ নিয়ে লেখা এই জোড়া কবিতা এই পর্বেরই। নিষ্ফল কামনা, মেঘদূত, সুরদাসের প্রার্থনা এই গ্রন্থের আরও কিছু পরিচিত কবিতা।
কাব্যগ্রন্থগুলোর ক্রম মনে রাখলে সুবিধা হয়: মানসী ১৮৯০, সোনার তরী ১৮৯৪, কল্পনা ১৯০০, খেয়া ১৯০৬।
ফাঁদ হলো সোনার তরী, কারণ এটি রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে বেশি আলোচিত কাব্যগ্রন্থের একটি এবং মানসীর ঠিক পরেই এসেছে।
মনে রাখুন: প্রেমের দুই রূপ, ব্যক্ত আর গুপ্ত, দুটিই মনের কথা: তাই মানসী।
১৫৯. ‘অভীক’ রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পের নায়ক? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কনষ্টনীড়
- খনামঞ্জুর গল্প
- গরবিবার
- ঘল্যাবরেটরি
সঠিক উত্তর: গ. রবিবার
প্রশ্নটি রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের চরিত্র চিনতে চেয়েছে। অভীক ‘রবিবার’ গল্পের নায়ক।
রবিবার গল্পটি রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের গল্পগ্রন্থ ‘তিনসঙ্গী’র অন্তর্গত। এই গ্রন্থের তিনটি গল্প: রবিবার, শেষ কথা ও ল্যাবরেটরি।
অন্য গল্পগুলোর চরিত্র আলাদা। নষ্টনীড়ের চরিত্র চারু, ভূপতি ও অমল; ল্যাবরেটরির চরিত্র সোহিনী ও তার মেয়ে নীলা।
ফাঁদ হলো ল্যাবরেটরি। এটি রবিবারের সঙ্গে একই গ্রন্থে আছে বলে বিভ্রান্তি হয়, কিন্তু অভীক ল্যাবরেটরির চরিত্র নয়।
মনে রাখুন: তিনসঙ্গীর তিন গল্প: রবিবার, শেষ কথা, ল্যাবরেটরি। অভীক রবিবারের।
১৬০. ‘সকলের তরে সকলে আমরা/প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’ – কার রচিত পংক্তি? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- করজনীকান্ত সেন
- খইসমাইল হোসেন সিরাজী
- গকামিনী রায়
- ঘদ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর: গ. কামিনী রায়
প্রশ্নের পঙ্ক্তিটি কামিনী রায়ের ‘সুখ’ কবিতার। কবিতাটির মূল বার্তা হলো পরের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার মধ্যেই প্রকৃত সুখ।
কামিনী রায় ব্রিটিশ ভারতের প্রথম নারী স্নাতকদের একজন, যিনি সংস্কৃতে সম্মানসহ স্নাতক হন। তাঁর ছদ্মনাম ছিল ‘জনৈক বঙ্গমহিলা’, আর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আলো ও ছায়া’।
বাকি কবিদের বিখ্যাত পঙ্ক্তি আলাদা। রজনীকান্ত সেন লিখেছেন ‘মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নে রে ভাই’, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় লিখেছেন ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’। ইসমাইল হোসেন সিরাজীর বিখ্যাত কাব্য ‘অনল প্রবাহ’।
পঙ্ক্তিটির নীতিকথার সুর রজনীকান্ত সেনের সঙ্গে মিলে যায় বলে অনেকে ভুল করেন।
মনে রাখুন: সকলের তরে সকলে আমরা: কামিনী রায়ের ‘সুখ’।