বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৯
১৬১. ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে।’ - এই মনোবাঞ্ছাটি কার? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কভবানন্দের
- খভাঁড়ুদত্তের
- গঈশ্বরী পাটুনীর
- ঘফুল্লরার
সঠিক উত্তর: গ. ঈশ্বরী পাটুনীর
প্রশ্নের পঙ্ক্তিটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের। খেয়াঘাটের মাঝি ঈশ্বরী পাটনী দেবী অন্নদাকে নদী পার করে দেন, আর দেবী বর দিতে চাইলে তিনি চান: আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে।
এই সরল প্রার্থনা বাংলার সাধারণ মানুষের চিরকালের চাওয়া, তাই পঙ্ক্তিটি প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। প্রশ্নে বানান ছাপা হয়েছে পাটুনী; প্রচলিত নাম ঈশ্বরী পাটনী।
অন্য চরিত্রগুলোও মঙ্গলকাব্যের। ভবানন্দ মজুমদার অন্নদামঙ্গলেরই আরেক চরিত্র। ভাঁড়ু দত্ত আর ফুল্লরা মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলের চরিত্র: ভাঁড়ু দত্ত ধূর্ত প্রতারক, ফুল্লরা কালকেতুর স্ত্রী।
ফাঁদ হলো ফুল্লরা। তার বারোমাস্যায় দারিদ্র্যের কষ্টের বর্ণনা আছে বলে সন্তানের দুধভাতের কামনাও তার মনে হয়।
মনে রাখুন: দুধেভাতের বর: অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র, মাঝি ঈশ্বরী পাটনী।
১৬২. নিচের কোন ব্যক্তি ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ককাজী আবদুল ওদুদ
- খএস ওয়াজেদ আলি
- গআবুল ফজল
- ঘআবদুল কাদির
সঠিক উত্তর: খ. এস ওয়াজেদ আলি
প্রশ্নটি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে কে যুক্ত ছিলেন না, তা জানতে চেয়েছে। আন্দোলনটি ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য সমাজ আর তার মুখপত্র ‘শিখা’কে ঘিরে গড়ে ওঠে।
এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আবুল হুসেন, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল ফজল, আবদুল কাদির প্রমুখ। তাঁরা যুক্তি ও মুক্তচিন্তার পক্ষে লিখতেন, তাই এই গোষ্ঠীকে শিখা গোষ্ঠীও বলা হয়।
এস ওয়াজেদ আলি ছিলেন কলকাতাকেন্দ্রিক প্রাবন্ধিক ও কথাসাহিত্যিক, ‘ভবিষ্যতের বাঙালী’ ও ‘গুলদস্তা’র লেখক। তিনি এই গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন না।
ফাঁদ হলো এস ওয়াজেদ আলিও একই যুগের উদারপন্থী মুসলমান লেখক। তাই চিন্তার মিল দেখে অনেকে তাঁকেও শিখা গোষ্ঠীর মনে করেন।
মনে রাখুন: শিখা গোষ্ঠী: আবুল হুসেন, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল ফজল, আবদুল কাদির।
১৬৩. নিচের কোন কাব্য কাজী নজরুল ইসলামের উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার ধারক? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কবিষের বাঁশী
- খঅগ্নি-বীণা
- গসিন্ধু-হিন্দোল
- ঘচক্রবাক
সঠিক উত্তর: খ. অগ্নি-বীণা
প্রশ্নটি নজরুলের কোন কাব্যে হিন্দু ও মুসলিম দুই ঐতিহ্য পাশাপাশি এসেছে, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নি-বীণা’, প্রকাশিত ১৯২২ সালে।
অগ্নি-বীণার কবিতায় একদিকে হিন্দু পুরাণের অনুষঙ্গ: রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী। অন্যদিকে ইসলামি ঐতিহ্য: মোহররম, কোরবানী, আর তুরস্কের বীরদের নিয়ে কামাল পাশা ও আনোয়ার। দুই ঐতিহ্যকে সমান মর্যাদায় ব্যবহার করাই তাঁর উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার প্রমাণ।
এ কাব্যেই আছে বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ ও ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতা।
ফাঁদ হলো বিষের বাঁশী। এটিও বিদ্রোহী সুরের কাব্য এবং ব্রিটিশ সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করেছিল, কিন্তু দুই ঐতিহ্যের মিলনের জন্য এটি পরিচিত নয়।
মনে রাখুন: আগমনী আর মোহররম এক বইয়ে: অগ্নি-বীণা।
১৬৪. নিচের কোনটি বিশ শতকের পত্রিকা? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কশনিবারের চিঠি
- খবঙ্গদর্শন
- গতত্ত্ববোধিনী
- ঘসংবাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর: ক. শনিবারের চিঠি
প্রশ্নটা চায় কোন পত্রিকা বিশ শতকে, মানে ১৯০১ বা তার পরে প্রকাশিত। বাকি তিনটি উনিশ শতকের নামকরা পত্রিকা, তাই প্রত্যেকটার প্রকাশকাল জানলেই উত্তর পরিষ্কার।
সংবাদ প্রভাকর ১৮৩১ সালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের হাতে শুরু; পরে এটি বাংলার প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র হয়। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৮৪৩ সালে, ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র, সম্পাদক অক্ষয়কুমার দত্ত। বঙ্গদর্শন ১৮৭২ সালে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায়।
শনিবারের চিঠি প্রকাশ শুরু হয় ১৯২৪ সালে, আর সজনীকান্ত দাসের সম্পাদনায় এটি ব্যঙ্গ ও সমালোচনার পত্রিকা হিসেবে বিখ্যাত হয়। তাই এটিই বিশ শতকের পত্রিকা।
বঙ্গদর্শন নামটা রবীন্দ্রনাথের নব পর্যায়ের বঙ্গদর্শনের কারণে, যা ১৯০১ সালে শুরু, অনেককে বিভ্রান্ত করে। তবে মূল বঙ্গদর্শন বঙ্কিমের, উনিশ শতকের।
মনে রাখুন: সাল ১৮ দিয়ে শুরু হলে উনিশ শতক, ১৯ দিয়ে শুরু হলে বিশ শতক; শতকের নাম সালের প্রথম দুই অঙ্কের চেয়ে এক বেশি।
১৬৫. নিচের কোনটি উপন্যাস নয়? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কদিবারাত্রির কাব্য
- খশেষের কবিতা
- গপল্লী-সমাজ
- ঘকবিতার কথা
সঠিক উত্তর: ঘ. কবিতার কথা
প্রশ্নটি চারটি গ্রন্থের মধ্যে যেটি উপন্যাস নয় সেটি খুঁজছে। ‘কবিতার কথা’ জীবনানন্দ দাশের প্রবন্ধগ্রন্থ, যেখানে তিনি কবিতা ও কবির স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বাকি তিনটি উপন্যাস। ‘দিবারাত্রির কাব্য’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস। ‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস, যার নায়ক অমিত আর নায়িকা লাবণ্য। ‘পল্লী-সমাজ’ শরৎচন্দ্রের উপন্যাস।
এখানে কৌশল হলো নামে ‘কাব্য’ বা ‘কবিতা’ থাকলেই বইটি কাব্য বা কবিতা বিষয়ক নয়। দিবারাত্রির কাব্য আর শেষের কবিতা দুটোই উপন্যাস।
উল্টো দিকে কবিতার কথা নামটি শুনলে কাব্যগ্রন্থ মনে হয়, কিন্তু এটি প্রবন্ধ।
মনে রাখুন: নামে কাব্য বা কবিতা থাকলেই কাব্যগ্রন্থ নয়: দিবারাত্রির কাব্য আর শেষের কবিতা উপন্যাস।
১৬৬. ‘বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য’ গ্রন্থ কে রচনা করেছেন? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কদীনেশচন্দ্র সেন
- খগোপাল হালদার
- গআহমদ শরীফ
- ঘসুকুমার সেন
সঠিক উত্তর: গ. আহমদ শরীফ
প্রশ্নটি ‘বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য’ গ্রন্থের লেখক জানতে চেয়েছে। গ্রন্থটি ড. আহমদ শরীফের, দুই খণ্ডে লেখা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
আহমদ শরীফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, মধ্যযুগের সাহিত্য গবেষক ও প্রগতিশীল চিন্তাবিদ। মধ্যযুগের বহু পুঁথি সম্পাদনা তাঁর বড় অবদান।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস লিখেছেন আরও অনেকে, তাই নামগুলো আলাদা করে মনে রাখুন। দীনেশচন্দ্র সেন লিখেছেন ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’, সুকুমার সেন ‘বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস’, গোপাল হালদার ‘বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা’।
ফাঁদ হলো নামগুলোর প্রায় একই শব্দ: বাঙালি, বাংলা, সাহিত্য। শিরোনামের সামান্য পার্থক্যই উত্তর ঠিক করে।
মনে রাখুন: বাঙালি ও বাঙলা: আহমদ শরীফ; বঙ্গভাষা: দীনেশ; ইতিহাস: সুকুমার; রূপরেখা: গোপাল।
১৬৭. ‘খোকা’ ও ‘রঞ্জু’ মাহমুদুল হক-এর কোন উপন্যাসের চরিত্র? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ককালো বরফ
- খখেলাঘর
- গঅনুর পাঠশালা
- ঘজীবন আমার বোন
সঠিক উত্তর: ঘ. জীবন আমার বোন
প্রশ্নটা মাহমুদুল হকের উপন্যাস ও চরিত্র চেনা যাচাই করছে। খোকা আর তার ছোট বোন রঞ্জু মাহমুদুল হকের ‘জীবন আমার বোন’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।
উপন্যাসটির পটভূমি ১৯৭১ সালের অস্থির মার্চের ঢাকা। খোকা এক দ্বিধাগ্রস্ত যুবক, আর বোন রঞ্জুকে ঘিরে তার ভালোবাসা ও উদ্বেগ উপন্যাসের কেন্দ্রে।
শিরোনামেই ‘বোন’ শব্দটা আছে, আর রঞ্জু খোকার বোন; এই মিলটা মনে রাখলেই উত্তর সহজ।
বাকি তিনটি বিকল্পও মাহমুদুল হকের উপন্যাস, তাই লেখক চিনে লাভ নেই; চরিত্র চিনতে হবে। এটাই এই প্রশ্নের ফাঁদ।
মনে রাখুন: শিরোনামে ‘বোন’, আর রঞ্জু খোকার বোন।
১৬৮. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখা নাটক কোনটি? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ককবর
- খবহিপীর
- গপায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
- ঘওরা কদম আলী
সঠিক উত্তর: খ. বহিপীর
প্রশ্নটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখা নাটক চিনতে চেয়েছে। ‘বহিপীর’ তাঁর বিখ্যাত নাটক, যেখানে পীরের ভণ্ডামি আর কুসংস্কারের বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদ দেখানো হয়েছে।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ মূলত ঔপন্যাসিক: লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো। নাটক হিসেবে বহিপীরের পাশাপাশি তরঙ্গভঙ্গ ও সুড়ঙ্গও তাঁর লেখা।
বাকি তিনটি নাটক অন্যদের। ‘কবর’ মুনীর চৌধুরীর, ভাষা আন্দোলন নিয়ে কারাগারে লেখা। ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাটক, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। ‘ওরা কদম আলী’ মামুনুর রশীদের।
লালসালু আর বহিপীর দুটিতেই পীরপ্রথার সমালোচনা, তাই এই মিল মনে রাখলে উত্তর সহজ হয়।
মনে রাখুন: লালসালুর লেখকই বহিপীরের নাট্যকার; দুটিতেই পীরপ্রথার সমালোচনা।
১৬৯. মীর মশাররফ হোসেনের ‘বিষাদসিন্ধু’ একটি – (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কমহাকাব্য
- খইতিহাস গ্রন্থ
- গউপন্যাস
- ঘইতিহাস-আশ্রিত জীবনীগ্রন্থ
সঠিক উত্তর: গ. উপন্যাস
প্রশ্নটি ‘বিষাদ-সিন্ধু’ কোন ধরনের রচনা তা জানতে চেয়েছে। এটি মীর মশাররফ হোসেনের ইতিহাস-আশ্রিত উপন্যাস, যার বিষয় কারবালার বিষাদময় ঘটনা।
উপন্যাসটি তিন পর্বে প্রকাশিত হয়: মহরম পর্ব ১৮৮৫, উদ্ধার পর্ব ১৮৮৭ আর এজিদবধ পর্ব ১৮৯১। পরে তিনটি একসঙ্গে এক খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
ঘটনা ইতিহাস থেকে নেওয়া হলেও লেখক কল্পনা, আবেগ আর নাটকীয়তা মিশিয়ে কাহিনি সাজিয়েছেন। ইতিহাস হুবহু লেখা হয়নি বলেই এটি ইতিহাস গ্রন্থ নয়, উপন্যাস।
ফাঁদ হলো মহাকাব্য। বিষয়টি বীরত্ব ও ট্র্যাজেডির, আর নামেও সিন্ধুর বিশালতা আছে; কিন্তু বইটি গদ্যে লেখা, তাই মহাকাব্য নয়।
মনে রাখুন: বিষাদ-সিন্ধু: কারবালার কাহিনি, তিন পর্ব, গদ্যে লেখা উপন্যাস।
১৭০. ‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাসের যুবক-শিক্ষকের নাম- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কআবদুল কাদের
- খখতিব মিয়া
- গআক্কাস আলী
- ঘআরেফ আলী
সঠিক উত্তর: ঘ. আরেফ আলী
প্রশ্নটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাসের চরিত্র নিয়ে। উপন্যাসের যুবক-শিক্ষকের নাম আরেফ আলী।
এক জ্যোৎস্না রাতে আরেফ আলী বাঁশঝাড়ে একটি যুবতী নারীর মৃতদেহ দেখে, আর জানতে পারে এর সঙ্গে জড়িত বড়বাড়ির কাদের। সত্য প্রকাশ করবে কি না, এই নৈতিক দ্বন্দ্বই উপন্যাসের কেন্দ্র। এটি বাংলা সাহিত্যে মনস্তাত্ত্বিক বা অস্তিত্ববাদী উপন্যাসের দৃষ্টান্ত।
ফাঁদ হলো আবদুল কাদের। কাদের উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, কিন্তু সে শিক্ষক নয়, বড়বাড়ির লোক এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
আক্কাস আলী নামটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর আরেক উপন্যাস ‘লালসালু’র, যেখানে সে গ্রামে স্কুল চাওয়া শিক্ষিত যুবক।
মনে রাখুন: চাঁদের অমাবস্যা: শিক্ষক আরেফ, অপরাধী কাদের। লালসালু: মজিদ, জমিলা, আক্কাস।
১৭১. ‘মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান।’ – পংক্তিটির রচয়িতা- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কবিদ্যাপতি
- খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গগোবিন্দদাস
- ঘকৃষ্ণদাস কবিরাজ
সঠিক উত্তর: খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রশ্নের পঙ্ক্তিটি দেখতে মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদের মতো, কিন্তু এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। কিশোর বয়সে তিনি ‘ভানুসিংহ’ ছদ্মনামে ব্রজবুলি ভাষায় কিছু পদ লেখেন, যা ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ নামে ১৮৮৪ সালে বই হয়ে বের হয়।
পদগুলো বিদ্যাপতির ঢঙে লেখা, তাই শুনতে প্রাচীন মনে হয়। ‘মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান’ এই সংকলনের বিখ্যাত পদ, যেখানে মৃত্যুকে প্রিয়তম শ্যামের মতো আপন বলা হয়েছে।
বিকল্পের অন্যরা প্রকৃত মধ্যযুগের কবি। বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষার কবি; তাঁর পদের অনুকরণেই বাংলায় ব্রজবুলিতে পদ লেখার ধারা গড়ে ওঠে। গোবিন্দদাস বিদ্যাপতির অনুসারী, তাঁকে দ্বিতীয় বিদ্যাপতি বলা হয়। কৃষ্ণদাস কবিরাজ ‘চৈতন্যচরিতামৃত’র লেখক।
ফাঁদ হলো বিদ্যাপতি, কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠিক তাঁর অনুকরণেই পদগুলো লিখেছিলেন।
মনে রাখুন: ব্রজবুলির পদে ‘মরণ’, ‘ভানু’ বা আধুনিক অনুভব দেখলে রবীন্দ্রনাথের ভানুসিংহ পদাবলী ভাবুন।
১৭২. বিধবার প্রেম নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শেষ প্রশ্ন’
- খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি’
- গকাজী নজরুল ইসলামের ‘কুহেলিকা’
- ঘবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুণ্ডলা’
সঠিক উত্তর: খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি’
রবীন্দ্রনাথের চোখের বালি, ১৯০৩ সালে প্রকাশিত, বিধবার প্রেম নিয়ে লেখা সবচেয়ে পরিচিত উপন্যাস। এর কেন্দ্রে তরুণ বিধবা বিনোদিনী, আর মহেন্দ্র, আশালতা ও বিহারীর সঙ্গে তার জটিল সম্পর্ক।
উপন্যাসটি চরিত্রের মনের ভেতরের দ্বন্দ্ব খুঁটিয়ে দেখায়, তাই একে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস বলা হয়। সেকালের সমাজে বিধবার প্রেম ছিল নিষিদ্ধ বিষয়, আর সেই নিষেধের টানাপোড়েনই এর শক্তি।
অন্য উপন্যাসগুলোর বিষয় আলাদা। শরৎচন্দ্রের শেষ প্রশ্নের কেন্দ্রে প্রথাবিরোধী আধুনিক নারী কমল ও তার যুক্তিতর্ক; নজরুলের কুহেলিকা বিপ্লবী রাজনীতির পটভূমিতে লেখা; বঙ্কিমের কপালকুণ্ডলা কাপালিকের কাছে বড় হওয়া এক মেয়ে আর নবকুমারের কাহিনি।
ফাঁদ হলো শেষ প্রশ্ন, কারণ শরৎচন্দ্র সমাজে অবহেলিত নারীদের নিয়ে বহু লিখেছেন। কিন্তু বিধবার প্রেমের কেন্দ্রীয় কাহিনি বললে প্রথমেই আসে চোখের বালির বিনোদিনী।
মনে রাখুন: বিধবা চরিত্র মনে রাখুন: চোখের বালির বিনোদিনী, বিষবৃক্ষের কুন্দনন্দিনী, কৃষ্ণকান্তের উইলের রোহিণী।
১৭৩. জেলে জীবন কেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কগঙ্গা
- খপুতুলনাচের ইতিকথা
- গহাঁসুলী বাঁকের উপকথা
- ঘগৃহদাহ
সঠিক উত্তর: ক. গঙ্গা
সমরেশ বসুর গঙ্গা উপন্যাস গঙ্গার জেলেদের জীবন নিয়ে লেখা। মাছ ধরতে নদী আর মোহনায় পাড়ি, প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই আর জেলেপাড়ার সুখ-দুঃখ এর মূল বিষয়।
জেলেজীবন নিয়ে আরও দুটি বিখ্যাত উপন্যাস মনে রাখুন: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝি আর অদ্বৈত মল্লবর্মণের তিতাস একটি নদীর নাম। পরীক্ষায় এগুলোও প্রায়ই আসে।
বাকি উপন্যাসগুলো অন্য জীবনের কথা বলে। মানিকের পুতুলনাচের ইতিকথা গ্রামের ডাক্তার শশীর কাহিনি; তারাশঙ্করের হাঁসুলী বাঁকের উপকথা কাহার সম্প্রদায়ের জীবন নিয়ে; শরৎচন্দ্রের গৃহদাহ অচলা, মহিম আর সুরেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন।
ফাঁদ হলো পুতুলনাচের ইতিকথা, কারণ এর লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ই পদ্মানদীর মাঝির লেখক। লেখক মিললেও উপন্যাস আলাদা।
মনে রাখুন: জেলেজীবনের উপন্যাস: গঙ্গা, পদ্মানদীর মাঝি, তিতাস একটি নদীর নাম।
১৭৪. “ডিঙি টেনে বের করতে হবে”। – কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ককর্মবাচ্য
- খভাববাচ্য
- গযৌগিক
- ঘকর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর: খ. ভাববাচ্য
বাচ্য ঠিক করতে দেখতে হয়, বাক্যে কর্তা, কর্ম আর ক্রিয়ার মধ্যে কোনটি প্রধান। ডিঙি টেনে বের করতে হবে বাক্যে কাজটি কে করবে, সেই কর্তা নেই; জোর পড়েছে করতে হবে, অর্থাৎ কাজটির প্রয়োজনীয়তার ওপর। ক্রিয়ার ভাবই প্রধান বলে প্রচলিত উত্তর ভাববাচ্য।
ভাববাচ্যে কর্তা সাধারণত উহ্য থাকে বা ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি নিয়ে বসে, আর ক্রিয়া হয় হবে, যাবে, যাক ধরনের। যেমন আমাকে এখন যেতে হবে, এবার খাওয়া যাক।
কর্মবাচ্যে কর্ম প্রধান হয়ে কর্তার জায়গায় বসে, আর কর্তা থাকলে দ্বারা বা কর্তৃক নিয়ে আসে, যেমন চোর পুলিশ কর্তৃক ধৃত হলো। কর্মকর্তৃবাচ্যে কর্মই কর্তার মতো কাজ করে, যেমন বাঁশি বাজে। আর যৌগিক বাক্যের গঠনের নাম, বাচ্যের নয়।
সতর্কতা: বাক্যে কর্ম ডিঙি আছে বলে অনেকে কর্মবাচ্য বেছে নেন, এটিই ফাঁদ। কর্মবাচ্য হলে বাক্যটি হতো ডিঙিটি টেনে বের করা হবে, যেখানে কর্মই প্রধান; আর করতে হবে ধরনের কর্তাহীন গঠন ভাববাচ্যের চিহ্ন।
মনে রাখুন: হবে, যাবে, যাক ধরনের কর্তাহীন ক্রিয়া দেখলে ভাববাচ্য ভাবুন।
১৭৫. বাংলা সাহিত্যে “কালকূট” নামে পরিচিত কোন লেখক? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কসমরেশ মজুমদার
- খশওকত ওসমান
- গসমরেশ বসু
- ঘআলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর: গ. সমরেশ বসু
কালকূট সমরেশ বসুর ছদ্মনাম। এই নামে তিনি লেখেন অমৃত কুম্ভের সন্ধানে, কুম্ভমেলা ঘিরে ভ্রমণধর্মী রচনা। তাঁর আরেক ছদ্মনাম ভ্রমর।
কালকূট শব্দের অর্থ তীব্র বিষ; পুরাণে সমুদ্রমন্থনে উঠে আসা বিষ, যা শিব পান করেন। অমৃতের সন্ধানে লেখা বইয়ের লেখকের নাম কালকূট, এই বৈপরীত্যটা মনে রাখলে ভুল হবে না।
ফাঁদ হলো সমরেশ মজুমদার, কারণ দুজনের প্রথম নাম একই। সমরেশ মজুমদার উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ উপন্যাসের লেখক; কালবেলা আর কালকূটের কাল শব্দও বিভ্রান্তি বাড়ায়।
শওকত ওসমান নিজেই একটি লেখক নাম, তাঁর আসল নাম শেখ আজিজুর রহমান। আলাউদ্দিন আল আজাদ তেইশ নম্বর তৈলচিত্রের লেখক; কালকূট নামের সঙ্গে তাঁর যোগ নেই।
মনে রাখুন: কালকূট ও ভ্রমর: সমরেশ বসু। বীরবল: প্রমথ চৌধুরী। ভানুসিংহ: রবীন্দ্রনাথ।
১৭৬. “পরানের গহীন ভিতর” কাব্যের কবি কে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কঅসীম সাহা
- খঅরুণ বসু
- গআবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
- ঘসৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর: ঘ. সৈয়দ শামসুল হক
পরানের গহীন ভিতর সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যগ্রন্থ, প্রকাশ ১৯৮০ সালে। এর কবিতাগুলো আঞ্চলিক মুখের ভাষায় লেখা, আর গঠনে সনেটধর্মী, চৌদ্দ চরণের।
সৈয়দ শামসুল হক কবিতা, উপন্যাস, নাটক, গল্প, প্রায় সব শাখায় সফল, তাই তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। তাঁর বিখ্যাত কাব্যনাটক নূরলদীনের সারাজীবন ও পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি; আঞ্চলিক ভাষার এই সনেটগুচ্ছের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত নয়।
কৌশল: শিরোনামে পরান আর গহীন এমন আঞ্চলিক শব্দ দেখলেই সৈয়দ শামসুল হকের এই পরীক্ষামূলক কাব্যের কথা ভাবুন।
মনে রাখুন: সৈয়দ শামসুল হক: পরানের গহীন ভিতর, নূরলদীনের সারাজীবন, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়; সব্যসাচী লেখক।
১৭৭. “এবার আমার একটি বিচিত্র অভিজ্ঞতা হলো” – এ বাক্য কোন ধরনের? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কঅনুজ্ঞাবাচক
- খনির্দেশাত্মক
- গবিস্ময়বোধক
- ঘপ্রশ্নবোধক
সঠিক উত্তর: খ. নির্দেশাত্মক
প্রশ্নটি অর্থ অনুসারে বাক্যের শ্রেণি চিনতে বলছে। অর্থভেদে বাক্য পাঁচ রকম: নির্দেশাত্মক বা বিবৃতিমূলক, প্রশ্নবোধক, অনুজ্ঞাবাচক, ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক এবং বিস্ময়বোধক।
এবার আমার একটি বিচিত্র অভিজ্ঞতা হলো, এই বাক্যে বক্তা কেবল একটি ঘটনার খবর দিচ্ছেন। এখানে কিছু জানতে চাওয়া হয়নি, কাউকে আদেশ বা অনুরোধ করা হয়নি, কোনো ইচ্ছাও প্রকাশ পায়নি।
কোনো তথ্য বা ঘটনা সাধারণভাবে জানালে সেটি নির্দেশাত্মক বাক্য। বাক্যটি হ্যাঁ-বোধক বিবৃতি, তাই এটি নির্দেশাত্মক বাক্যের অস্তিবাচক রূপ।
ফাঁদ হলো বিচিত্র শব্দটি। শব্দটি অবাক হওয়ার মতো কিছু বোঝালেও বাক্যে কী আশ্চর্য বা আহা জাতীয় আবেগের উচ্ছ্বাস নেই, তাই বিস্ময়বোধক বিকল্পটি ঠিক নয়।
মনে রাখুন: প্রশ্ন, আদেশ, ইচ্ছা বা আবেগ কোনোটিই না থাকলে বাক্যটি নির্দেশাত্মক; বাকিগুলো একে একে বাদ দিন।
১৭৮. ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখা কবিতা কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কহুলিয়া
- খতোমাকে অভিবাদন প্রিয়া
- গসোনালি কাবিন
- ঘস্মৃতিস্তম্ভ
সঠিক উত্তর: ঘ. স্মৃতিস্তম্ভ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন কবিতা বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখা। উত্তর আলাউদ্দিন আল আজাদের স্মৃতিস্তম্ভ।
বায়ান্নর ফেব্রুয়ারিতে শহিদদের স্মরণে গড়া প্রথম শহিদ মিনার পুলিশ ভেঙে দিলে এই কবিতা লেখা হয়। এর বিখ্যাত চরণ: স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কী বন্ধু, আমরা এখনো চার কোটি পরিবার খাড়া রয়েছি তো। মিনার ভাঙলেও মানুষের মনের স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙা যায় না, এই ভাবটাই কবিতার প্রাণ।
পাশের তথ্যটিও মনে রাখুন: ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা মাহবুব উল আলম চৌধুরীর কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি।
বাকি তিনটিও বিখ্যাত রচনা বলে বিভ্রান্তি হয়। হুলিয়া নির্মলেন্দু গুণের কবিতা, যার নায়ক পুলিশের হুলিয়া মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো এক রাজনৈতিক কর্মী। সোনালি কাবিন আল মাহমুদের সনেটগুচ্ছ, আর তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা শহীদ কাদরীর কাব্যগ্রন্থ। বিকল্পে ছাপা তোমাকে অভিবাদন প্রিয়া নামটি প্রশ্নপত্রেই এভাবে আছে; শহীদ কাদরীর কাব্যগ্রন্থের আসল নাম তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা।
মনে রাখুন: ভাষা আন্দোলনের কবিতায় দুটি নাম জোড়ায় মনে রাখুন: প্রথম কবিতা মাহবুব উল আলম চৌধুরীর, আর শহিদ মিনার ভাঙার জবাব আলাউদ্দিন আল আজাদের স্মৃতিস্তম্ভ।
১৭৯. ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্বকে বাক্যে যথাযথভাবে ব্যবহার করার বিধানের নামই- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- করসতত্ত্ব
- খরূপতত্ত্ব
- গবাক্যতত্ত্ব
- ঘক্রিয়ার কাল
সঠিক উত্তর: গ. বাক্যতত্ত্ব
প্রশ্নটি বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য ভাগ চিনতে বলছে। ব্যাকরণের প্রধান চারটি ভাগ: ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব এবং অর্থতত্ত্ব।
ধ্বনিতত্ত্বে ধ্বনি, বর্ণ ও সন্ধি আলোচিত হয়। শব্দতত্ত্বে শব্দ কীভাবে গড়ে ওঠে, যেমন প্রত্যয়, সমাস, বিভক্তি। আর এই ধ্বনি ও শব্দকে বাক্যে ঠিক ক্রমে, ঠিকভাবে বসানোর নিয়ম শেখায় বাক্যতত্ত্ব, যাকে বাক্যপ্রকরণও বলে।
প্রশ্নে ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্বের নাম আগেই বলে দেওয়া আছে; এরপর যে ধাপ বাকি থাকে, অর্থাৎ বাক্যে প্রয়োগ, সেটিই বাক্যতত্ত্ব।
ফাঁদ হলো রূপতত্ত্ব বিকল্পটি। রূপতত্ত্ব আসলে শব্দতত্ত্বেরই আরেক নাম, যা প্রশ্নে উপাদান হিসেবে আছে, বাক্যে প্রয়োগের বিধান নয়।
মনে রাখুন: ক্রমটা মনে রাখুন: ধ্বনি থেকে শব্দ, শব্দ থেকে বাক্য, বাক্য থেকে অর্থ। প্রশ্নে যে ধাপ বাদ পড়েছে সেটিই উত্তর।
১৮০. কোন বানানটি শুদ্ধ? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কমনোকষ্ট
- খমনঃকষ্ট
- গমণকষ্ট
- ঘমনকস্ট
সঠিক উত্তর: খ. মনঃকষ্ট
প্রশ্নটি বিসর্গ সন্ধির নিয়ম দিয়ে শুদ্ধ বানান চিনতে বলছে। শব্দটির মূল হলো মনঃ যোগ কষ্ট, মানে মনের কষ্ট।
নিয়মটা হলো: অ-কারের পরের বিসর্গের পর অঘোষ ধ্বনি ক, খ, প, ফ এলে অনেক শব্দে বিসর্গ অটুট থাকে। তাই মনঃ যোগ কষ্ট হয় মনঃকষ্ট। একইভাবে শিরঃপীড়া, অধঃপতন, মনঃপূত।
অন্যদিকে বিসর্গের পর ঘোষ ধ্বনি এলে অঃ বদলে ও হয়: মনঃ আর যোগ মিলে হয় মনোযোগ, মনঃ আর রম মিলে হয় মনোরম। ক অঘোষ ধ্বনি, তাই এখানে ও হবে না।
ফাঁদ হলো মনোকষ্ট বিকল্পটি। মনোযোগ, মনোরম দেখে অভ্যস্ত চোখ এটাকেই ঠিক ভাবে, কিন্তু ক-এর আগে সেই নিয়ম খাটে না। আর তৎসম শব্দে ট-এর আগে মূর্ধন্য ষ বসে, তাই কষ্ট।
মনে রাখুন: বিসর্গের পর ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গ রেখে দিন: মনঃকষ্ট, শিরঃপীড়া, অধঃপতন। বর্গের তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম বর্ণ বা য র ল হ থাকলে ও করুন: মনোযোগ, মনোরম।